বৃহস্পতিবার ,৭ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 650

আ.লীগের দলীয় ও বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থীদের সহিংসতা

জেলার সুজানগরে নির্বাচনকে সামনে রেখে ধারাবাহিক সহিংসতার মুখে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন দুই থানার পুলিশ। প্রায় প্রতিদিনই আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। সোমবার রাত পর্যন্ত বিভিন্ন ইউনিয়নে সহিংসতায় গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের জেরে এসব এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্বের জেরে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সব ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী নামানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের একাংশের নেতারা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সুজানগর উপজেলার ১০ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ১২ জন বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী মাঠে আছেন। স্বতন্ত্র নামের এসব বিদ্রোহী প্রার্থী দলের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিভিন্ন পদে আছেন এবং দল থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ করেও তাদেরকে মাঠ থেকে সরানো যায়নি। ৩১ অক্টোবর উপজেলা কমিটির বর্ধিত সভায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও বিদ্রোহী প্রার্থীরা মাঠে আছেন এবং প্রায় প্রতিদিনই উপজেলার কোনো না কোনো ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীর সমর্থক ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এসব সংঘর্ষে আগ্নেয়াস্ত্রেরও ব্যবহার হচ্ছে। সোমবার রাতে ভায়না ইউনিয়নের চলনা বাজারে সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত দুজন নৌকা প্রার্থীর সমর্থককে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রোববার রাতে উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী-সমর্থকদের সঙ্গে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী-সমর্থকদের সংঘর্ষে তিনজন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। এ সময় নৌকা প্রতীক পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় গুলিবিদ্ধদের মধ্যে ওই গ্রামের মিলন খানের ছেলে মোতালেব হোসেনকে (৩৮) পাবনা সদর হাসপাতালে এবং আব্দুল মজিদের ছেলে সাগর হোসেন (৩২) ও মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে ফজলুল হককে (৫৫) সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। একইদিন হাটখালী ইউনিয়নে নৌকা অফিস ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে ঘোড়া প্রতীকের বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজনের বিরুদ্ধে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই ইউনিয়নের স্বগতা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ৬ নভেম্বর সাগরকান্দি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক ও বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় বাড়িঘর লুটপাট, দোকান ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরসহ গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। এর আগের দিন ভায়না এবং হাটখালী ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী ও বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এদিকে তাঁতীবন্ধ ইউনিয়নের বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রউফ শেখ (উপজেলায় একমাত্র বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী) অভিযোগ করে বলেন, সোমবার সকালে পোড়াডাঙ্গা বাজারে তার ভাতিজা ও চার নিকট আত্মীয়কে মারধর করেছে নৌকা প্রতীকে মতিন মৃধার লোকজন। এ ছাড়া তাকে কোনো প্রকার প্রচার চালাতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। এভাবে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকায় উত্তেজনা বা সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সুজানগর ও আমিনপুর থানার পুলিশকে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। আমিনপুর থানার অধীনে সুজানগরের ৩টি ইউনিয়ন এবং সুজানগর থানার অধীনে ৭টি ইউনিয়ন রয়েছে।

আমিনপুর থানার ওসি রওশন আলী বলেন, পরিস্থিতি এখনো পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। তবু সব সময় তটস্থ থাকতে হয়। পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান বিপিএম বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বদ্ধপরিকর। এদিকে সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব ও কোন্দলের জেরে সব ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে নামানো হয়েছে বলে দলের একাংশ অভিযোগ করেন। ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় উপজেলার রানীনগর ইউনিয়নের ভাটিকয়া বাজারে একটি মাইক্রোবাস থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে আমিনপুর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় আমিনপুর থানায় ৪ জনের নামে মামলা হয়েছে। এর আগে পুলিশ মাইক্রোবাসের চালক মো. হাবিবুল্লাহকে গ্রেফতার ও মাইক্রোবাসটি জব্দ করে। আমিনপুর থানার ওসি রওশন আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে একটি শটগান লাইসেন্স করা এবং সেটির মালিক সুজানগর পৌর এলাকার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন তোফা। অন্যটি ওয়ান শুটারগান এবং সেটি অবৈধ। মাইক্রোবাসের চালকের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ জানায়, সুজানগর পৌরসভার কাউন্সিলর জায়েদুল হক জনি (৩৫) জব্দ করা মাইক্রোবাসে অস্ত্র দুটি বহন করছিল। জনি মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন তোফার ছেলে। সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাবের অভিযোগ, ২য় ধাপের নির্বাচনে সুজানগরের ১০টি ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শাহিনুজ্জামান শাহিনের নিজস্ব লোক মনোনয়ন না পাওয়ায় দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে প্রতি ইউনিয়নে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী দিয়েছেন। তিনি এসব ইউনিয়নে নৌকার ভোটারদের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টির পাঁয়তারায় তার লোকজন দিয়ে এসব অস্ত্র ব্যবহার করছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুজ্জামান শাহিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব বিদ্রোহী প্রার্থী আমার নয়, বরং আব্দুল ওহাবেরই সমর্থক। কেননা, তারা আমার সঙ্গে কখনো রাজনীতি করেনি।

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে সভা : সর্বশেষ মঙ্গলবার বিকালে সুজানগরে রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) জিয়াউল হক সব প্রার্থী এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন। যুগান্তরের সুজানগর প্রতিনিধি জানান, বৈঠকে যে কোনো উপায়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে পাবনার জেলা প্রশাসক বিশ্বাস রাসেল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মাসুদ আলম, জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুবুর সরহমান, সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশন আলীসহ সুজানগর ও আমিনপুর থানার ওসি উপস্থিত ছিলেন।

ফ্রান্সের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্মতিপত্র সই

ব্যবসা, বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদারে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ ও ফ্রান্স। এই উদ্দেশ্য পূরণে উভয়পক্ষ প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি লেটার অব ইনটেন্ট সই করেছে।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্যারিসে এলিসি প্রাসাদে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকের পর প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সম্মতিপত্রে সই করেছে।

বৈঠকের পরে এক যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, দুই দেশের অংশীদারিত্বে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয় আরও দৃঢ় করতে উভয় পক্ষ আগ্রহী।

সূত্রে জানা গেছে, দুই দেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতার যে সম্মতিপত্র সই করেছে, তাতে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর দক্ষতা বাড়ানোর জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রযুক্তি বিনিময়ের মতো বিষয়গুলো যুক্ত থাকছে।

যৌথ ঘোষণায় দুই দেশ তাদের এই সম্পর্কের একটি কৌশলগত দিক নির্দেশনা দেওয়ার লক্ষ্যে সহযোগিতার সব বিষয়ে নিয়মিতভাবে রাজনৈতিক আলোচনা আয়োজনের ওপর জোর দিয়েছে।

দুই পক্ষ রাজনীতি, কূটনীতি, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিনিময়সহ নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ও ফ্রান্স সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে সহযোগিতায় জোর দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট (বিজি-২১০৬) মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ২০ মিনিটে চার্লস দ্যা গল বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

প্রেস সচিব জানান, বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার মোহাম্মদ তালহা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান স্বাগত জানিয়েছেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারি বাসভবন এলিসি প্যালেসে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রেসিডেন্ট।

ইহসানুল করিম জানান, প্রধানমন্ত্রীকে সেখানে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং প্রেসিডেন্টের গার্ড রেজিমেন্ট তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির আশঙ্কা

আগামী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং এর কাছাকাছি এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। খবর বাসসের।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং এর আশপাশের এলাকায় একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হতে পারে। পশ্চিমা লঘুচাপের বাড়তি অংশ হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ ও এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে। দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর থেকে আগত অপর একটি লঘুচাপের বাড়তি অংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।

তেঁতুলিয়ায় মঙ্গলবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। তাপমাত্রা কম থাকায় উত্তরাঞ্চলে শীতের আমেজ দেখা দিয়েছে।

ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

গত সোমবার কক্সবাজারে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

পরবর্তী তিন দিনে আবহাওয়ার অবস্থা বলা হয়েছে, এ সময় রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে।

শান্তিনগরে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ১৯২তম শাখার শুভ উদ্বোধন

রাজধানীর শান্তিনগরে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ১৯২তম শাখার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। ৯ নভেম্বর, মঙ্গলবার ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ লাবু প্রধান অতিথি হিসেবে শাখাটি উদ্বোধন করেন। এসময় রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান বদিউর রহমান, পরিচালক আলহাজ্ব আব্দুল মালেক মোল্লা ও আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ফরমান আর. চৌধুরী। অনুষ্ঠানে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এস. এম. জাফর, শাব্বির আহমেদ, মোঃ শফিকুর
রহমান, সৈয়দ মাসুদুল বারী, মোঃ মাহ্ধসঢ়;মুদুর রহমান, মোহাম্মদ নাদিম, আবেদ আহাম্মদ খানসহ ব্যাংকের ঊর্র্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও অংশগ্রহণ করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভর্নর খতিব ড. মুফতি মাওলানা কাফীলুদ্দিন সরকার সালেহী, প্রগ্রেসিভ প্রোপারটিস লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহসিন আহমেদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শরফউদ্দিন এবং আন নূর জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল গানী। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোঃ হাবীব উল্লাহ্।

এসময় বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার বিপুল সংখ্যক গ্রাহক- শুভানুধ্যায়ীর সমাগম ঘটে। নতুন শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ রেজাউল হক উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ লাবু বলেন, শুধু আর্থিক লাভের জন্য এ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মানুষকে সুদের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করার মহান উদ্দেশ্য নিয়ে ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক। তিনি নতুন শাখাসহ ব্যাংকের সকল শাখায় শরীয়াহ্ সম্মতভাবে সর্বোচ্চ গ্রাহকসেবার নিশ্চয়তা দেন। ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ফরমান আর চৌধুরী বলেন, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে হালালভাবে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব। দেশের ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা এরই মধ্যে তা প্রমানে সফল হয়েছে। সর্বাধুনিক সকল ব্যাংকিং পরিষেবা নিয়ে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক এই এলাকার উন্নয়নে সহযোগী হবে, ইনশাহ-আল্লাহ।

ফ্রান্সে জেল হত্যা দিবস পালন

জেলা হত্যা দিবস বাঙালি জাতির জন্য এক কালো অধ্যায়। যে কালো অধ্যায়কে প্রতিটি স্বাধীনতাকামী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নাগরিক শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। ঠিক তেমনি বুধবার সন্ধ্যায় ফ্রান্সের প্যারিস নগরে লা-শাপেল এলাকায় ফ্রান্স আওয়ামী লীগ শাখা কর্তৃক জাতীয় চার নেতাকে গভীর শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে জেলহত্যা দিবস পালন করা হয়।

ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ কাশেমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন কয়েছের পরিচালনায় উপস্থিত আওয়ামী পরিবারের নেতা-কর্মীরা জাতীয় চার নেতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
বাঙালি জাতির অগ্রযাত্রাকে রুখতে জেলখানায় জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজ উদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে নীলনকশার মাধ্যমে হত্যা করা হয়।
৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাষ্ট্রীয় সফরে ফ্রান্স আগমন উপলক্ষে তাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য ফ্রান্স আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ফ্রান্স প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে বলে নেতারা জানান।

নবুয়তের উদ্দেশ্য ও সমাজনীতি

শাহ ওলিউল্লাহ দেহলবির চিন্তাদর্শনের মৌলিক অবকাঠামোর দিকে যদি চোখ বুলাই, তার চিরায়ত গ্রন্থ ‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা’ যদি অধ্যয়ন করি, তাহলে এই বিষয়টি পুরোপুরি স্পষ্ট হয়ে যায় যে— শাহ সাহেবের দৃষ্টিতে নবী-রসুলদের শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ যেভাবে আত্মিক বিকাশ ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে ব্যক্তিকে আল্লাহওয়ালা (রব্বানি) হতে প্রেরণা দেয়, ঠিক সেভাবেই সমাজ ও সভ্যতা উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দান করে।

শাহ সাহেবের মতে নবুয়তের উদ্দেশ্য ব্যক্তির অষ্টপ্রহরের জীবন— ইবাদত-বন্দেগি থেকে শুরু করে জাগতিক কারবার, সংস্কৃতি ও অবসরও ইসলামি নীতির অধীন। এবং নবুয়তের উদ্দেশ্য ‘দুনিয়ায় কল্যাণ’ ও ‘আখেরাতে কল্যাণ’ দুটোই নিজের মধ্যে শামিল করে, দুই ক্ষেত্রেই চলে তার কার্যপ্রক্রিয়া।

নবুয়তের এই সংজ্ঞা যদি আপনাদের বোঝাতে পারি তাহলে নিশ্চয় ইবনে খালদুনের নবুয়তের সংজ্ঞার ‘অযথোচিত’ হওয়ার বিষয়টি সাফ সাফ নজরে আসবে।

ইবনে খালদুনের মতে নবুয়তের প্রয়োজন কেবল আখেরাতের জীবনে সাফল্য লাভের জন্য। জাগতিক নিয়মকানুনে, অর্থাৎ রাষ্ট্রনীতি, সমাজনীতি, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নবুয়তের প্রয়োজন নেই।

নবুয়ত প্রসঙ্গে ইবনে খালদুনের এই মতদর্শন আরবীয় সমাজ ও রাষ্ট্রনীতিতে ভয়াবহ রকমের প্রভাব ফেলেছে। আরবরা ইবনে খালদুনের প্রভাববলয় অতিক্রম করে অন্যকোনো মতদর্শন বা দার্শনিকের দ্বারস্থ হতে পারেনি।

আর ঘটনাচক্রে ইবনে খালদুনের নবুয়ত প্রসঙ্গে মতদর্শন যেহেতু স্রেফ পরকালীন জীবনের জন্যে সীমাবদ্ধ, ইহকালীন ক্ষেত্রে নবী-রসুলদের প্রয়োজনীয়তা অনুপস্থিত— তাই সুনিশ্চিতভাবে তার এই মতদর্শন মানুষকে নবী-রসুলদের আর্থসামাজিক দিকনির্দেশনার অনুসরণ থেকে নিরুৎসাহিত করে, এবং স্পষ্টতই কোনো জাতি ও সমাজের জন্য এর ফলাফল ভালো কিছু বয়ে আনে না।

ফলে যা হবার তা-ই হয়েছে, নবুয়তকে কেবল পরকালীন নির্দেশনা ভাবার ফলে আজকের আরবরা জাগতিক নিয়মকানুনে খুব সহজেই ইউরোপীয় পণ্ডিতদের প্রোপাগান্ডার শিকার হয়েছে।

অন্যদিকে শাহ ওলিউল্লাহ দেহলবির নবুয়ত প্রসঙ্গে মতদর্শন অধ্যয়নে যেকোনো ব্যক্তি এই ধরনের প্রোপাগান্ডায় শিকার হওয়ার মুসিবত থেকে সবসময় নিরাপদ থাকবে।

শাহ সাহেব মানুষের ‘সর্বপ্রধান’ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের (মন বা মস্তিষ্ক) সঙ্গে ‘অপেক্ষাকৃত কম প্রধান’ অঙ্গপ্রত্যঙ্গও (পেট ও যৌনাঙ্গ) জুড়ে দিয়েছেন। এই ‘অপেক্ষাকৃত কম প্রধান’ অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে জীবনের বুনিয়াদ আখ্যা দিয়ে শাহ সাহেব একটি গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক প্রশ্নের সমাধান দিয়েছেন।

সাধারণত অধিবিদ্যা ও দর্শনের আলোচনা শুরু হয় মানুষের মাস্তিষ্কিক ক্ষেত্র থেকে, যদিও মানুষের জীবনযাপনে অর্থনীতির ক্ষেত্রকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়, কিন্তু উচ্চতর ভাবনার জগতে অর্থনীতির অনুপ্রবেশকে মোটেও স্বাগত জানানো হয় না।

মানুষের জীবনকে এইভাবে ‘মস্তিষ্ককেন্দ্রিক’ দেখার ফলে আমাদের রাজনীতি একেবারে অন্তসারশূন্য হয়ে পড়েছে। আমাদের এখানে পণ্ডিতশ্রেণির লোকেদের বেশি থেকে বেশি বুদ্ধিবৃত্তির গুণসম্পন্ন ভাবা হয়, এবং অরাজনৈতিক মনোভাবকে উচ্চতর গুণ ভাবা হয়।

সুতরাং তাদের মতে রাজনীতি— যা নাগরিকদের জীবনের প্রাত্যহিক কাজকর্ম জুড়ে আছে, তা ‘ছোটখাটো’ ও ‘কম গুরুত্বপূর্ণ’ জিনিস।

এর বিপরীতে গিয়ে শাহ ওলিউল্লাহ দেহলবি ‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগায়’ বেশ কয়েক জায়গায় বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তার মতে মানুষের আত্মিক ও মানসিক বিকাশ খুব বেশি পরিমাণে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলার ওপর নির্ভর।

এক জায়গায় তিনি বলেন: ‘মানুষের স্বাভাবিক জীবনের সব ছন্দ ওই সময় বেগতিক ও বরবাদ হয়ে যায়, যখন কোনো জালেম সমাজে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৈষম্যতা সৃষ্টি করে জনজীবন অতিষ্ঠ করে তোলে, আর মানুষ গরু-গাধার মতো স্রেফ দুই লুকমা খাবারের জন্য সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে যায়। যখন মানুষের ওপর এহেন মুসিবত আসে, তখন আল্লাহ সেই মুসিবত থেকে উদ্ধার করতে কোনো না কোনো উপায় বের করে দেন। তিনি তার নৈকট্যপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মনে বার্তা পাঠান। ফেরাউনের ডুবে মরা, সিজার ও কিসরার ধ্বংস এই মূলনীতির ওপর নবুয়তের জন্য আবশ্যকীয় নির্দেশনা হিসেবে গণ্য হবে।’ (হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা, বাবু ইকামাতিল ইরতিফাকাত ও ইসলাহির রুসুম)

যদি মানুষের জীবনকে পেট ও পিঠের প্রয়োজন থেকে শুরু করে বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ পর্যন্ত একই ধারা হিসেবে মেনে নেওয়া হয়, তাহলে যেই দর্শন তৈরি হবে তাকে পরিপূর্ণ বলা সম্ভব।

এইজন্য মানুষের জন্য সামগ্রিকভাবে এমন এক অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণ করা জরুরি, যা তার সামগ্রিক প্রয়োজনীয়তা পূরণ নিশ্চিত করবে।

সুতরাং যখন মানুষ জৈবিক চাহিদা থেকে নিশ্চিন্ত হবে, তার কাছে ভাত-কাপড়ের ফিকির করার বাইরেও সময় থাকবে, তখনই গিয়ে উচ্চস্তরের মাস্তিষ্কিক কাজে মনোনিবেশ করার ফুরসত পাবে। যেই চিন্তাদর্শন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভারসাম্যতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তাকে একটি পরিপূর্ণ জীবনদর্শন বলা ভুল হবে না।

মানুষ যখন অর্থনৈতিক অন্যায্যতার দুরবস্থায় পড়ে, তো আল্লাহ তাআলা কখনো নবী-রসুলদের নির্দেশ পাঠিয়ে আবার কখনো আল্লাহর প্রিয় বান্দা এবং দার্শনিকদের মনে বার্তা পাঠিয়ে সেখান থেকে মানুষদের উদ্ধার করেন।

তারপর যখন অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়, মানুষ বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্রে প্রথম কদম ফেলার সুযোগ পায়, এভাবে একসময় চূড়ান্ত বিকাশের মঞ্জিলে পৌঁছে। এই দুনিয়ায় যদি মানুষ আত্মিক বিকাশের মওকা পেয়ে তা কাজে লাগাতে পারে, তাহলে মৃত্যুর পরে কবরে ও হাশরের ময়দানে তারা মুসিবত থেকে নাজাত পায়।

আসল কথা হলো মৃত্যু পরবর্তী জগতে জান্নাতের নাজ-নেয়ামতে যে স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন কাটাবে, তা পার্থিব জীবনে আত্মিক বিকাশেরই ফল। দুনিয়ায় আল্লাহর খলিফা হওয়ার হুকুম তামিলের সুন্দরতর পরিণতিই ঘটবে সেখানে।

এই দুনিয়া হলো পরীক্ষাকেন্দ্র। এখান থেকে উত্তীর্ণ হতে পারলে পরবর্তী পর্যায়ে উন্নীত হতে পারবে। মানুষ প্রথমে রুহের জগতে ছিল, সেখান থেকে এই দুনিয়ায় এসে পৌঁছেছে, তো এখানে যদি কামিয়াবি হাসিল করে তাহলে তৃতীয় ধাপে গিয়ে ‘আল্লাহর দর্শনলাভের’ পরম আরাধ্য সৌভাগ্য হাসিল করবে।

খেয়াল করে দেখুন, মানুষের জীবনের শুরু থেকে শেষ অবধি এমন কোনো পর্যায় নেই যেখানে দর্শনের শৃঙ্খল ছিন্ন হয়ে পড়ে।

আর শাহ ওলিউল্লাহ দেহলবির চিন্তাদর্শন এতবেশি অর্থপূর্ণ, বহুমাত্রিক, বিশ্বব্যাপী এবং সার্বজনীন যে, তা মানুষের জীবনের প্রথমদিনের প্রয়োজনীয়তা (যাকে আমরা প্রাণীর জীবনরক্ষার আবশ্যকীয় শর্ত হিসেবে মানি) থেকে শুরু করে মানব জীবনে আত্মিক ও মানসিক বিকাশের যতগুলো পর্যায় আছে— সবগুলোকে শামিল করে নেয়।

যদি এই চিন্তাদর্শনের ভিত্তি নবুয়তকে মেনে নেওয়া হয়, এবং নবী-রসুলের অনুপস্থিতিতে তাদের অনুসৃতপন্থায় সৎকর্মশীল উত্তরাধিকার ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ যদি সেই কাজ আঞ্জাম দেয়, তাহলে নবুয়তের শিক্ষা কত বেশি ফিতরতি বা প্রাকৃতিক হয়ে যায়।

আর নবুয়ত প্রসঙ্গে যে বিভ্রান্তিকর ধারণা জনমানসে ছড়িয়ে গেছে— নবুয়তের উদ্দেশ্য কেবল পরকালীন জীবন— এই ধারণার মূলোৎপাটন করে নবুয়তের প্রকৃত অর্থ ‘দুনিয়ায় কল্যাণ’ ও ‘আখেরাতের কল্যাণ’-এর বিশ্বাস মানুষের মনে গাঁথা যাবে।

এই হলো শাহ ওলিউল্লাহ দেহলবির প্রজ্ঞা ও চিন্তাদর্শনের মূলকেন্দ্র— এতক্ষণ যেই বিষয়ে বললাম।

সূত্র: মন ও মননের কথা/ মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সিন্ধি

অস্ত্রোপচারের পর পাইলস হওয়ার আশংকা কতটুকু

পায়ুপথের রোগগুলোর মধ্যে পাইলস অন্যতম। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান-মাদকের অভ্যাসসহ নানা কারণে এই রোগ দেখা দিতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে নিয়মমাফিক চললে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। কিন্তু জটিলতা বেড়ে গেলে পাইলসের অস্ত্রোপচার করতে হয়। অনেক সময় অস্ত্রোপচারের পরও সমস্যা থেকে পুরোপুরি পরিত্রাণ পাওয়া যায় না।

পাইলসের উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে— মলদ্বারে মাংসপিণ্ড ফুলে ওঠা, যা কখনও কখনও মলদ্বারের বাইরে ঝুলে পড়ে এবং হাত দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দিতে হয়। পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া, এ রক্ত সাধারণত টাটকা লাল হয়।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ইডেন মাল্টিকেয়ার হাসপাতালের বৃহদান্ত ও পায়ুপথ সার্জারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. একেএম ফজলুল হক।

পায়ুপথে ক্যান্সার হলেও অনেক সময় রক্ত যায়। এক্ষেত্রে নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক না। মলদ্বারের ভেতর বিশেষ ধরনের পরীক্ষা যেমন— সিগময়ডস্কপি বা কোলনস্কপি ছাড়া কারও পক্ষে সঠিক রোগ নির্ণয় করা সম্ভব নয়।
আধুনিক প্রযুক্তির ফলে অপারেশন ছাড়াই বেশিরভাগ পাইলস রোগীর চিকিৎসা সম্ভব। এ পদ্ধতির নাম হচ্ছে রিং লাইগেশন পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে চিকিৎসার ফলে এখন ৮০-৯০ ভাগ পাইলস রোগী অপারেশন ছাড়াই ভালো হচ্ছেন।

প্রায়ই আমরা একটি বিব্রতকর সমস্যার সম্মুখীন হই। সেটি হচ্ছে রোগীরা জিজ্ঞাসা করেন যে, শুনেছি পাইলস অস্ত্রোপচার করলে আবার হয়। তাই আর অপারেশন করে লাভ কী? এক কথায় এর উত্তর দেওয়া যায় না।
রোগীদের এ প্রশ্নর উত্তর দেওয়ার আগে আমাদের চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাস পর্যালোচনা করা দরকার। রেকটাম ও মলদ্বারের অনেক রোগ আগের যুগে অপারেশন করে ভালো করা দুষ্কর ছিল।

পাইলস বা ফিস্টুলা অপারেশন করলে আবার হওয়াই ছিল নিয়ম। এ প্রসঙ্গে আমি আমেরিকান সার্জন অধ্যাপক ডা. মারভিল এল করম্যানের লেখা ‘কোলন অ্যান্ড রেকটাল সার্জারি’ নামক টেক্সট বই থেকে একটি উদ্ধৃতি দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে এবং এ জাতীয় সার্জারির অতীত প্রেক্ষাপটে বুঝতে সুবিধা হবে।

অধ্যাপক ডা. করম্যান তার বইয়ে লেখেন যে, বিগত দুই হাজার বছর ধরে মলদ্বারে ফিস্টুলার ওপর অসংখ্য বই ও বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা প্রমাণ করে যে, এটি একটি বিশেষ সমস্যা এবং ফিস্টুলার অপারেশনে ব্যর্থতার জন্য সার্জনদের যত বদনাম হয়েছে অন্য কোনো অপারেশনে আজ পর্যন্ত তা হয়নি।

এ কারণে ১৮৩৫ সালে ডা. স্যালমন লন্ডনের কেন্দ্রে একটি আলাদা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন যার নাম দেওয়া হয় সেন্ট মার্কস হসপিটাল ফর দ্য ডিজিজেস অব কোলন অ্যান্ড রেকটাম।

যে হাসপাতালের উদ্দেশ্য ছিল বৃহদন্ত্র ও পায়ুপথের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করা এবং এ জাতীয় বিশেষজ্ঞ সার্জন তৈরি করা। যারা এ জাতীয় রোগগুলো বিশেষজ্ঞ হিসেবে নৈপুণ্যের সঙ্গে চিকিৎসা করবেন যাতে আবার হওয়ার বদনাম থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যায়।

মলদ্বারে সাধারণত হয় এমন তিনটি রোগ হচ্ছে পাইলস, এনাল ফিশার ও ফিস্টুলা। কিন্তু সাধারণ রোগীরা সব কটি রোগকেই পাইলস বলে মনে করেন। তাই এসব রোগের চিকিৎসার পর যখন কোনো সমস্যা হয় তখন তারা পাইলস আবার হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে যাকে পাইলস বা হেমোরয়েড বলে সেটি অস্ত্রোপচারের পর আবার হওয়ার আশঙ্কা শতকরা মাত্র ২ ভাগ। বেশিরভাগ রোগী যারা পাইলস আবারও হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা এটি বলতে সাধারণত বোঝান মলদ্বারে বাড়তি ত্বক বা মাংসপিণ্ড অথবা চুলকানি হয়েছে এটিকেও কেউ কেউ আবার পাইলস হয়েছে বলে ধরে নেন।

এ সমস্যাগুলো দ্বারা পাইলস আবার হয়েছে বোঝায় না। মলদ্বারের চুলকানি বিভিন্ন রোগের একটি লক্ষণ মাত্র।
খুবই কম অর্থাৎ শতকরা ২ ভাগ ক্ষেত্রে হলেও পাইলস আবার হতে পারে। ব্যাপারটি কি করে ঘটে তা বোঝাতে বিস্তারিত ব্যাখ্যার প্রয়োজন। এ ব্যাপারটি ঘটার পেছনে অপারেশনের একটি কৌশলগত কারণ রয়েছে।
অস্ত্রোপচারের সময় যে শিরাগুলো স্বাভাবিক বলে মনে হয়েছিল পরবর্তী সময়ে মলদ্বারে চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় অথবা কোলেটারাল রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে কয়েক বছর পর এগুলো পাইলস আকারে দেখা দিতে পারে। তাছাড়া পাইলস যখন খুব বড় হয় তখন মনে হয় মলদ্বারের চতুর্দিকের সব এলাকায় পাইলস ছড়িয়ে পড়ে।

তখন একজন সার্জনের মনে হয় সব স্ফীত অংশই কেটে ফেলে দিতে হবে নইলে পাইলস থেকে যাবে। যদি এভাবে সবকিছু কেটে ফেলে দেওয়া হয় তাহলে মলদ্বার সংকুচিত হয়ে মলত্যাগে বাধা সৃষ্টি হবে।
এ ক্ষেত্রে সঠিক কৌশলটি হচ্ছে— দুটি পাইলসের মাঝখানে আমাদের বাধ্যতামূলকভাবে কিছু ঝিল্লি ও ত্বক সংরক্ষণ করতে হবে। যেহেতু এর তলদেশে পাইলসের শিরাগুলো বিস্তৃত থাকে তাই ঝিল্লির তলদেশ থেকে সতর্কতার সঙ্গে এ শিরাগুলোকে কেটে নিয়ে আসতে হবে।

এ কৌশল অবলম্বন করলে পাইলসের শিরাগুলো যেমন সম্পূর্ণরূপে অপসারণ করা সম্ভব, তেমনি দুটি পাইলসের মধ্যবর্তী ঝিল্লি এবং ত্বকও সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, যাতে মলদ্বার সংকুচিত হওয়ার সম্ভাবনাও থাকবে না।
যা হোক অস্ত্রোপচারের পর অল্প কিছু ক্ষেত্রে যখন আবারও পাইলস দেখা দেয়, তখন এগুলোর উপসর্গ ততটা তীব্র হয় না। এটিকে তখন বিনা অপারেশনে রিং লাইগেশন পদ্ধতিতে চিকিৎসা করা সম্ভব। সাধারণত আবার অপারেশনের প্রয়োজন হয় না।

লাখ টাকা বেতনে জনবল নেবে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট

জনবল নিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি)। আন্তর্জাতিক এ প্রতিষ্ঠানটি তাদের বাংলাদেশ অফিসে দুটি পদে লোক নিয়োগ দেবে।  যোগ্যতা অনুযায়ী এতে আবেদন করা যাবে অনলাইনে।

পদ সংখ্যা: অনির্দিষ্ট
যোগ্যতা: যে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কৃষিবিজ্ঞান বিভাগ থেকে চার বছর মেয়াদী স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। জেনেটিক্স ও ব্রিডিংয়ে পিএইচডি থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বেতন: ৫৮,৮৮৩/- থেকে ১,০১,১৬৭/-

বিজ্ঞপ্তি দেখুন এখানে

পদের নাম: অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট (ব্রিডিং)
পদ সংখ্যা: অনির্দিষ্ট
যোগ্যতা: যে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কৃষিবিজ্ঞান বিভাগ থেকে চার বছর মেয়াদী স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। জেনেটিক্স ও ব্রিডিংয়ে পিএইচডি থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
অভিজ্ঞতা: ৮ বছর কাজের অভিজ্ঞতা অথবা কৃষিবিজ্ঞান বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রিসহ ৫ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
বেতন: ৭০,৬৬৭/- থেকে ১,৩০,৮৩৩/-
বিজ্ঞপ্তি দেখুন এখানে

ফুল টাইম কাজের এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হবে ঢাকায়।  এতে নারী-পুরুষ উভয়েই আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের প্রক্রিয়া: আগ্রহী প্রার্থীরা ওই প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন, https://www.irri.org/jobs

আবেদনের শেষ তারিখ: ১৮ নভেম্বর ২০২১

প্রাইম ব্যাংকে জনবল নিয়োগ

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড জনবল নিতে একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এতে কনজিউমার ব্যাংকিং ডিভিশনে ‘রিলেশনশিপ ম্যানেজার’ পদে লোক নেবে প্রতিষ্ঠানটি। যোগ্যতা অনুযায়ী প্রার্থীরা আবেদন করা যাবে অনলাইনে।

পদের নাম: রিলেশনশিপ ম্যানেজার
পদ সংখ্যা: অনির্দিষ্ট
যোগ্যতা: যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম স্নাতক পাস।
অভিজ্ঞতা: সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অন্তত ৩ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ব্যাংকিং নিয়ম কানুন সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।
কর্মস্থল: ঢাকা ও চট্টগ্রাম
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
চাকরির ধরন: ফুল টাইম

আবেদনের ঠিকানা— https://hotjobs.bdjobs.com/jobs/primebank/primebank86.htm

আবেদনের শেষ তারিখ: ২৩ নভেম্বর ২০২১

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু আজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার।

জীববিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ডি’ ইউনিটের মধ্য দিয়ে এ ভর্তিযুদ্ধ শুরু হচ্ছে, চলবে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত।

জাবির জনসংযোগ অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এ বছর এক হাজার ৮৮৯টি আসনের বিপরীতে তিন লাখ আট হাজার ৬০৬ জন আবেদনকারী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন। প্রতি আসনের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৬৩ জন। ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে প্রতিদিন সকাল ৯টায়।

সব ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ৬০ নম্বরের এমসিকিউ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। এ ৬০ নম্বর ৮০ নম্বরে রূপান্তর করে ফলাফল প্রকাশ করা হবে। পরীক্ষার সময় ৪০ মিনিট। তবে ওএমআর পূরণের জন্য আলাদাভাবে পাঁচ মিনিট সময় দেওয়া হবে।

ভর্তি পরীক্ষার বিস্তারিত তথ্য www.juniv-admission.org ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে।