রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বমন্দায় ইউরোপ-আমেরিকার ক্রেতারা পণ্য কেনা কমিয়ে দিলেও আলো হয়ে দাঁড়ায় অপ্রচলিত বাজার। ১৭টি নতুন দেশে অন্তত চার হাজার মিলিয়ন ডলার পোশাক রফতানি হয়েছে, গার্মেন্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এমনটা জানা গেছে।
রফতানিকারকরা বলছেন, প্রচলিত বাজার তথা ইউরোপ ও আমেরিকার বাইরে নতুন বাজারগুলো থেকে বাড়তি অর্ডার আসায় সার্বিকভাবে রফতানি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। আর এই পোশাক রফতানির ওপর ভর করে দেশের অর্থনীতিও জোর কদমে এগিয়ে চলেছে।
পোশাক কারখানার মালিকরা বলছেন, আগে কারখানায় ইউরোপ-আমেরিকান বায়ারদের পণ্য তৈরি হতো। ইউক্রেন-রাশিয়া সংকট শুরুর পর অর্ডার কমে যায়। তবে ২০২২ সালে ভারত-জাপান কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মতো অপ্রচলিত বাজারে রফতানি করে ভালো আয় পাচ্ছেন তারা।
বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে সর্বশেষ যে পূর্বাভাস দিয়েছে, সেখানেও ভারত ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় ভালো অর্থনীতির দেশের তালিকায় সবার ওপরে রেখেছে বাংলাদেশকে।
বিশ্বব্যাংক বলছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের ৫ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। যদিও পাকিস্তানে ২০২২-২৩ অর্থবছরে হবে ২ শতাংশ; ২০২৩-২৪ অর্থবছরে হতে পারে ৩ দশমিক ২ শতাংশ। ভুটানে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৪ দশমিক ১ শতাংশ, নেপালে ৫ দশমিক ১ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ নেগেটিভ (মাইনাস) প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
সংস্থাটি মনে করে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ভারতে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে; ২০২৩-২৪ অর্থবছরে হবে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ।
সর্বোচ্চ রফতানি আয় ডিসেম্বরে
চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ২৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে তৈরি পোশাক পণ্যের দাম ছিল ২৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ রফতানি আয়ের নতুন রেকর্ড অর্জনে সহায়তা করেছে তৈরি পোশাক খাত। একই সঙ্গে তা নভেম্বরে হওয়া রেকর্ডকেও ভেঙেছে। ডিসেম্বরে ৯ শতাংশের কিছু বেশি প্রবৃদ্ধি নিয়ে রফতানি হয়েছে ৫ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, যা একক মাসের হিসাবে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ।
পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি উচ্চ মূল্যের পোশাক অপেক্ষাকৃত বেশি হারে রফতানি হওয়া এবং চীনসহ প্রধান প্রতিযোগীদের তুলনায় বড় বাজারগুলো থেকে বেশি হারে রফতানি আদেশ পাওয়া ডিসেম্বরে রেকর্ড রফতানির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, সদ্য বিদায়ী বছরে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ থেকে ৪৫ হাজার ৭০৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের গার্মেন্টস পণ্য রফতানি হয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৩৫ হাজার ৮১১ মিলিয়ন ডলার। শুধু নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে আয় ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।
তথ্য বলছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে ১২ হাজার ৬৬০ মিলিয়ন ডলার নিটওয়্যার এবং ১০ হাজার ৩৪০ ডলারের ওভেন পণ্য রফতানি হয়েছে।
বাংলাদেশের রফতানি খাতে এখন পর্যন্ত একক আধিপত্য ধরে রেখেছে তৈরি পোশাক খাত।
পরিসংখ্যান যা বলছে
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি ১৬ দশমিক ৬১ শতাংশ বেড়ে ১১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৯ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার।
এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএর পরিচালক মো. মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নে আমাদের প্রধান রফতানি বাজারগুলোর দিকে লক্ষ করি, তাহলে দেখতে পাই জার্মানিতে আমাদের রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। চলতি ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে স্পেন এবং ফ্রান্সে আমাদের রফতানি যথাক্রমে ১৭ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং ৩৩ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার এবং ১ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।’
অন্যদিকে, উল্লেখিত সময়ের মধ্যে পোল্যান্ডে আমাদের রফতানি ১৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের তৈরি পোশাক রফতানি ২০২২-২৩ সালের জুলাই-ডিসেম্বরে ৪ দশমিক ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যার প্রবৃদ্ধি গত বছরের একই সময়েরে তুলনায় মাত্র ১ দশমিক ১১ শতাংশ। একই সময়ে যুক্তরাজ্য ও কানাডায় রফতানি যথাক্রমে ১১ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং ২৮ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়ে ২ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার এবং ৭৭৪ দশমিক ১৬ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।’
বিজিএমইএর পরিচালক বলেন, ‘প্রচলিত বাজারগুলো ছাড়াও অপ্রচলিত বাজারে আমাদের পোশাক রফতানি আগের বছরের একই সময়ের মধ্যে ৩২ দশমিক ১৯ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ৪ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে জাপানে রফতানি ৪২ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়ে ৭৫৪ দশমিক ৭২ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ভারতেও আমাদের রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে ৫০ শতাংশ বেড়েছে, যার পরিমাণ ৫৪৮ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন ডলার।’
পরিসংখ্যানে প্রধান দেশগুলোতে তৈরি পোশাক রফতানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও চলতি অর্থবছরের আগের মাসগুলোর তুলনায় প্রবৃদ্ধি কমেছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে আগামী মাসে প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেতে পারে। বিজিএমইএর সংকলন অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে রফতানি হওয়া পোশাকের অপ্রচলিত বাজার আটটি। ভারত, রাশিয়া, জাপানসহ বাজারগুলোর মধ্যে আছে অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, চিলি, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব
রাষ্ট্রপতি পদে বসার যোগ্যতা আমার নেই বলে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার, ১২ জানুয়ারি সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আপনার নাম শোনা যাচ্ছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ওই পদে বসার যোগ্যতা আমার নেই।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপির আন্দোলন নিয়ে আমরা সতর্ক থাকব। তারা যাতে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে ব্যাপারে আমরা নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করিনি। আমরা রাজপথে আছি। রাজপথ আমরা ছাড়ব না। জনগণের জানমাল রক্ষার দায়িত্ব পালন করব। গতকাল বিএনপির বৈঠক অনেক বড় হয়েছে। আমাদের আলোচনা সভাও বড় সমাবেশে রূপ নিয়েছে।
বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, পরের নির্বাচনে আমাদের নেতৃত্ব দেবেন শেখ হাসিনা। কিন্তু তাদের নেতা কে? গত নির্বাচনে তারা কামাল হোসেনের নেতৃত্বে নির্বাচন করেছে। গতকাল কোনো সহিংস পরিস্থিতি কোথাও হয়নি। ফরিদপুরে তাদের মিটিং থেকে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুড়েছে। বিষয়টি বেশি দূর গড়ায়নি। তারা শোভাযাত্রা করলে আমরা শান্তি সমাবেশ করবো।
জামায়াত নিষিদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটা আদালতের বিষয়। এ বিষয়ে আমরা সক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্ত নিইনি। আদালতের বিষয় দলীয় ভূমিকা যুক্তিসঙ্গত হবে না। তবে জামায়াত ছাড়া বিএনপি শক্তিহীন। বিএনপি-জামায়াত একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব
তাপমাত্রা ছয় ডিগ্রির ঘরে নেমে এলেও বাড়তে পারে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস । বৃহস্পতিবার,১২ জানুয়ারি এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বিহার ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।
শুক্রবার, ১৩ জানুয়ারি সকাল পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে এবং এটি কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এছাড়া টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, বরিশাল এবং ভোলা জেলাসহ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরণের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা কিছু এলাকা থেকে প্রশমিত হতে পারে। বৃহস্পতিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়, ৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বাপেক্স) ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের ১০ জেলায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান করবে । আর এই জরিপ কাজে ব্যয় হবে ২৬৬ কোটি টাকা। প্রকল্পটির অনুমোদন হলে আগামী অক্টোবর থেকে কাজ শুরু করবে প্রতিষ্ঠানটি।
সম্প্রতি ভোলার বোরহানউদ্দিনেন শাহবাজপুর গ্যাস ক্ষেত্র পরিদর্শনে এসে বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলী জানান, ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বরগুনা, পিরোজপুর, বরিশাল, ঝালকাঠি, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরিয়তপুর, ফরিদপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী, বাগেরহাট ও পটুয়াখালীতে তেল-গ্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি জানান, এসব জেলার প্রায় ৯ হাজার কিলোমিটার এলাকায় ভূ-কম্পন জরিপ বা সিসমিক সার্ভে করা হবে হবে। আগামী বছরের অক্টোবর মাস থেকে এ সার্ভে করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্যে ২৬৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন হলেই কাজ শুরু হবে। আশা করা যায়, এসব জেলায় বিপুল পরিমাণ গ্যাসের সন্ধান মিলবে।
ভোলার বোরহানউদ্দিনে ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে গ্যাসের সন্ধান মেলে। গত ২৯ বছরে পর্যায়ক্রমে ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ করে আরও গ্যাসের সন্ধান পেয়ে আটটি কূপ খনন করে বাপেক্স। আট কূপে বর্তমানে ১ দশমিক ৫ টিসিএফ গ্যাস মজুদ রয়েছে বলে জানান বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আলী।
তিনি বলেন, দ্বীপজেলায় গ্যাসের মজুদ আরও বাড়তে পারে। ভূ-কম্পনের মাধ্যমে সার্ভে করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভোলার আটটি কূপ থেকে প্রতিদিন দুইশ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন সম্ভব। জেলার চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। বর্তমানে উত্তোলনের সক্ষমতা রয়েছে ৯১ থেকে ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
বাপেক্সের এই কর্মকর্তা জানান, ভোলায় এ বছরের জুনের মধ্যে ইলিশা নামে আরেকটি কুপ খনন করা হবে। সেখানে বিপুল পরিমাণ গ্যাসের মজুদ রয়েছে। ভোলার চরফ্যাশন, মনপুরা থেকে নিঝুম দ্বীপ পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এলাকায় ব্লক-৬ এর আওতায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান করা হবে। এ ছাড়া ব্লক ৭ ও ৯ এর আওতায় বাকি ৯ জেলায় গ্যাস অনুসন্ধান করবে বাপেক্স।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব
আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় বিদেশি মুসুল্লী যারা আসেন তাদেরকে এয়ারপোর্টে আয়োজকরা রিসিভ করে থাকেন। বিদেশি মুসুল্লীরা যাতে স্বাচ্ছ্যন্দে আসতে পারেন সেজন্য ইমিগ্রেশন থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে। ইমিগ্রেশনে যেন কোনো জটিলতার সম্মুখীন হতে না হয়, আসার পথে তাদের ট্রাফিক ব্যবস্থা যাতে সুগম হয় সেজন্য আমরা ব্যবস্থা রেখেছি। তাদের সহায়তার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষিত টুরিস্ট পুলিশ নিয়োজিত থাকবে।
বুধবার বেলা ১১টায় টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠ পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন। আইজিপি বলেন, সাধারণ মানুষের ইজতেমা মাঠে প্রবেশের সুবিধার্থে আমরা ম্যাপ তৈরি করে দিয়েছি। বিভিন্ন পয়েন্টেও আমরা তাদের জন্য বিভিন্ন প্রকারের নির্দেশনা টাঙিয়ে দিয়েছি। এছাড়াও বিভিন্ন পরিকল্পনা করে কোন বিভাগের গাড়ি কোথায় পার্কিং করা থাকবে, কোন রাস্তা কখন খোলা বা বন্ধ খাকবে সেই নির্দেশনা দিয়েছি। পকেটমারসহ নানা অপরাধ কার্যকলাপ রুখতে আমাদের পেট্টোল টিম কাজ করবে। আমরা ওয়াচ টাওয়ার ও সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করব।
সাদা পোশাক ও পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত থাকবে। গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুুলিশ বিভাগ ১৪টি কন্ট্রোলরুম তৈরি করেছে। র্যাবের কন্ট্রোল রুম থাকবে, ডিএমপি তার এলাকায় কন্ট্রোল রুম খুলবে, এসবি, এটিও, সিআইডি, নৌপুলিশ, অবজারভারভেশন টিম থাকবে, র্যাবের হেলিকপ্টার টহল থাকবে। ডগ স্কোয়াড টিম, মোবাইল পেট্টোল টিম, বোম ডিস্পোজাল টিম থাকবে। মোনাজাতের দিন সুষ্ঠুভাবে আখেরি মোনাজাত ও জুমার নামাজ যাতে মুসুল্লীরা সুষ্ঠুভাবে অংশ নিতে পারে সেজন্য সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। আমরা সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাই আপনারা নির্ভয়ে ইজতেমায় অংশ নিতে পারেন। ইজতেমা স্থলে যে ৯১টি খিত্তায় বিভক্ত, খিত্তাভিক্তিক আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ানের (র্যাব) পাশাপাশি ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশ, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, সিআইডি, নৌপুলিশ, এন্টিট্যারিজম ইউনিট, রেলওয়ে পুলিশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে। এর সঙ্গে সরকারের অন্যান্য বিভাগও সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
আমরা একই সঙ্গে সবাই মিলে একযোগে কাজ করছি, যাতে মুসুল্লীরা শান্তিপূর্ণভাবে এই আয়োজনে শরীক হতে পারেন। এর জন্যই আমরা সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছি। আমাদের আশা ইতোপূর্বে আমরা যেভাবে সফল হয়েছি, এর ধারাবাহিকতায় এবারও আমরা এই আয়োজন সফল করব। ইতোধ্যেই আমাদের ফোর্স আসা শুরু হয়েছে, আগামীকাল থেকে পুরোপুরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ শুরু হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজিপি ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রধান হাবিবুর রহমান, গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার দেলোয়ার হোসেন ও গাজীপুর পুলিশ সুপার কাজী শফিকুল আলম প্রমুখ।
পাঁচ দিন পর অপহৃত প্রধান শিক্ষক নুরল আমিনকে (৫০) উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অপহরণকারী চক্রের দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে নিজ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
এর আগে শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) ভোরে নিজ বাড়ি থেকে প্রধান শিক্ষক নুরল আমিনকে অপহরণ করা হয়।
উদ্ধারকৃত নুরল আমিন আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের দোলাপাড়া গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে। তিনি দোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ভেলার পাড়া বেলুয়া বাজার এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে আব্দুল বারি (৪৩) ও নেত্রকোণার পুর্বধলা উপজেলার নারানদিয়া ইউনিয়নের ভূগী গ্রামের সিদ্দুকুর রহমানের ছেলে শফিকুল ইসলাম।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিনের মতো গত শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন প্রধান শিক্ষক নুরল আমিন। ভোররাতে কালো গ্লাসের দুইটি মাইক্রোতে করে কয়েকজন এসে গেটে নক করেন। এসময় ঘুমন্ত থাকায় কেউ গেট খুলেনি। পরে প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে দরজা ভেঙে প্রথমে নুর আমিনের ছোট ভাই রুহুল আমিনের ঘরে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে পুলিশের লোক পরিচয় দিয়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে বের করে। তার চিৎকার শুনে নুরল আমিন বের হলে তার ভাইকে ছেড়ে দিয়ে নুরল আমিনকে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তুলে।
এসময় তার চাচা আবু তালেব ও ছোট ভাই রুহুল আমিন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের কুপিয়ে নুরল আমিনকে নিয়ে চলে যায় অপহরণকারীরা। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে আদিতমারী হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় পরদিন অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় একটি অপহরণের মামলা দায়ের করেন অপহৃত শিক্ষকের ছেলে আব্দুর রউফ। মামলাটি আমলে নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অপহৃত শিক্ষকের অবস্থান নিশ্চিত করে পুলিশ।
এসপি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) রাত ৩টার দিকে ঢাকার তেঁজগাও এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বাসা থেকে শিক্ষক নুরল আমিনকে উদ্ধার করা হয়। এসময় ওই বাসায় থাকা অপহরণকারী সন্দেহে আব্দুল বারি ও শফিউল আলম নামে দুইজনকে আটক করে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
উদ্ধারকৃত শিক্ষক নুরল আমিন শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সুস্থ হলে তাকে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। অপহরণকারীরা পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃতরা পেশাদার অপরাধী কি না সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।