দুই বস্তা চিনি ও ১শ’ গ্রাম সরিষা ফুলের মধু দিয়ে ৪শ’ কেজি মধু বানানোর এক প্রতারকের সন্ধান মিলেছে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সিংগা এলাকায়।
২০ মন ভেজাল মধু বিপণনের উদ্দেশ্যে মজুদ করার অভিযোগে বৃহস্পতিবার প্রতারক কামাল হোসেনকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা ও ১ বছরের জেল দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত।
কামাল হোসেন শ্যামনগর উপজেলার দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে। তিনি কলারোয়ার সিংগা এলাকায় ভেজাল মধু বানাতেন।
জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান জানান, ‘কামাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে কলারোয়ার সিংগা গ্রামে বাসা ভাড়া নিয়ে ভেজাল মধু বানাতেন। চিনি ও মধুর সাথে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে তিনি ভেজাল মধু বানাতেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বৃহস্পতিবার দুপুরে সিংগা এলাকায় অভিযান চালিয়ে কামাল হোসেনকে হাতেনাতে আটক করে। তার কাছ থেকে জব্দ করা হয় ২০ মনেরও বেশি ভেজাল মধু। পরে তাকে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুলী বিশ্বাসের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত ২০১৫ সালের খাদ্য আইনের ২৫ ধারায় তাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেন ও ১ বছরের বিনাশ্রম জেল দেন। এসময় ওই ভাড়া বাড়ি থেকে কৃত্রিম মধু তৈরির সরঞ্জামসহ জব্দকৃত ভেজাল মধু কেরোসিন ঢেলে জালিয়ে বিনষ্ট করা হয়।’
মোখলেছুর রহমান আরো জানান, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কামাল হোসেন স্বীকার করেছেন যে, অল্প পরিমাণ সরিষার মধুতে বিশাল পরিমাণ চিনি ও অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে খুবই লাভজনক এ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তিনি এসব ভেজাল মধু সাতক্ষীরা, ঢাকা ও চট্রগ্রামে জননী ক্যুরিয়ার সার্ভিসে পাঠাতেন।’
করোনার সময় সরকার জনগণের মাঝে ৩৪ কোটি টিকা দিয়েছেন। যেটি অনেক দেশেরর সম্ভব হয়নি। যখন অনেক দেশ টিকা পায়নি তখন সরকার জনগণের জন্য টিকার ব্যবস্থা করেছেন। তাই করোনার সময় অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশে লোক মারা গেছে অনেক কম। যেখানে বাইরের দেশে লক্ষ লক্ষ লোক মারা গেছে তখন গত আড়াই বছরে আমাদের দেশে মারা গেছে মাত্র ৩৪ হাজার। এটাই সরকারের সফলতা। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের নবনির্মিত বহির্বিভাগ ভবন উদ্বোধনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহেদ মালেক একথা বলেন।
তিনি বলেন, কক্সবাজার সদর হাসপাতাল ৫০০ শয্যায় উন্নীত হবে। ‘নির্মিত হবে পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল’। বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালটির নবনির্মিত বহির্বিভাগ ভবনের উদ্বোধনকালে তিনি এ ঘোষণা দেন।
এসময় মন্ত্রী বলেন, এখানে রোহিঙ্গাদেরও একটা বাড়তি চাপ আছে। সব মিলিয়ে কক্সবাজারের স্বাস্থ্যসেবা উন্নত হওয়া দরকার। এর পরিধি বৃদ্ধি হওয়া দরকার। আমি আড়িইশো শয্যার হাসপাতাল ঘুরে ঘুরে দেখেছি। সেখানে অনেক রোগী। ফ্লোরে অনেক রোগী থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ অবস্থার পরিবর্তন আমরা করতে চাই।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আরও বলেন, জাতিসংঘের শরনার্থী বিষয়ক সংস্থার অর্থায়নে (৩ কোটি টাকা ব্যয়ে) নির্মিত তিন তলা বিশিষ্ট এ ভবনে রয়েছে আধুনিক চিকিৎসার নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা।
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মুঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব হাবিবুর রহমান খান, অতিরিক্ত শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার সামছুদ্দৌজা, ইউএনএইচসিআর-এর এর কক্সবাজার অঞ্চলের প্রধান ইয়োকো আকাসাকা, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, সিভিল সার্জন ডাঃ মাহবুবুর রহমান, কক্সবাজার সদর হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ও বিএমএ কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি ডাঃ পু চ নু, বিএমএ কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মাহবুবুর রহমান। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডাঃ আশিকুর রহমান।
বিদায়ি বছরে ব্যাংক খাত থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে ৩ লাখ ২ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। যা আগের বছর ছিল ২ লাখ ২১ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা।
সে হিসাবে বছরের ব্যবধানে সরকারের ব্যাংক ঋণ বেড়েছে ৮১ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। আর চলতি অর্থবছরের শুরুতে সরকারের ব্যাংক ঋণস্থিতি ছিল ২ লাখ ৭০ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা।
সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসেই (জুলাই-ডিসেম্বর) ঋণ বেড়েছে ৩২ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা।
যদিও আগের অর্থবছরের একই সময়ে ঋণের অঙ্ক ছিল ২ লাখ ২ হাজার ১১৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছর এবং অর্থবছর-সব হিসাবেই ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার অঙ্ক অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।
বাড়তি ঋণের পুরোটাই নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে। তবে এ সময় বাণিজ্যিক ব্যাংকের পুরোনো ঋণ আংশিক পরিশোধ করেছে সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক টাকা ছেপেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সে টাকা থেকে ঋণ নিচ্ছে সরকার। এতে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাবে। ফলে বাড়বে মূল্যস্ফীতিও। সাধারণ মানুষের কষ্টের সীমা থাকবে না।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা ছাপিয়ে সরকার ঋণ নিচ্ছে। এতে মূল্যস্ফীতি এবং মুদ্রাস্ফীতি উভয় বাড়বে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিদায়ি বছরে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা। যা আগের বছর ছিল মাত্র ১৪ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা।
সে হিসাবে বছরের ব্যবধানে সরকারের ব্যাংক ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯২৯ কোটি টাকা। আর চলতি অর্থবছরের শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংকে সরকারের ঋণস্থিতি ছিল ৫৫ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা।
সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসেই (জুলাই-ডিসেম্বর) ঋণ বেড়েছে ৬৫ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। যদিও আগের অর্থবছরের একই সময়ে ঋণের অঙ্ক ছিল মাত্র ২৪ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছর এবং অর্থবছর-সব হিসাবেই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার অঙ্ক অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণত সরকার বাজেট বাস্তবায়নে অর্থবছরের শেষদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ধার নিয়ে থাকে। আবার পরের অর্থবছরের শুরুতে আয় বাড়লে সে ধার পরিশোধ করে। কিন্তু চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই ধার নেওয়া বাড়িয়েছে সরকার। কারণ, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন আর সরকারের ব্যয়ের সঙ্গে আয় কম হওয়া।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, গত অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বরে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো ঋণ গ্রহণ করেনি। উলটো আগের ঋণ থেকে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করেছিল। অথচ চলতি অর্থবছরের একই সময়ে ঋণ বেড়েছে সাড়ে ৬৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
জানা গেছে, উন্নয়ন কাজের ব্যয় বা বাজেট বাস্তবায়নের জন্য যে কোনো সময় ট্রেজারি বন্ড বা ট্রেজারি বিল ইস্যু করতে পারে সরকার। এর বিপরীতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে অর্থ ধার নিয়ে তার ব্যয় নির্বাহ করে থাকে। কিন্তু ঋণের বিপরীতে বাজারভিত্তিক সুদের হার না থাকা ও ব্যাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকটের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দিকে ঝুঁকেছে সরকার।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় সরকারের ব্যয় বেড়েছে। অপরদিকে ঋণের বিপরীতে বাজারভিত্তিক সুদহার না থাকায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি সরকারকে ঋণ বাড়িয়ে না দেয় তাহলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সরকারের ট্রেজারি বিল ও বন্ড কেনার দিকে মনোযোগী হবে। এতে দেশের ঋণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগে সুদহার প্রায় ৯ শতাংশ বা তার বেশি এবং এতে কোনো ঝুঁকিও থাকে না। অপরদিকে ঋণ বিতরণ ও উত্তোলনে ব্যাংকগুলোকে ঝুঁকি নিতে হয়। তাই ব্যাংকগুলোকে যদি অধিক পরিমাণে বিল ও বন্ড কেনার সুযোগ দেওয়া হয় তাহলে তারা শূন্য ঝুঁকির বিল আর বন্ডই কিনবে। অপরদিকে ঋণ বিতরণ কমিয়ে দেবে। এতে দেশের শিল্প খাত ক্ষতির মুখে পড়বে।
এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ বাড়ালেও সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ধারের অঙ্ক কমানোর চেষ্টা করছে। অর্থাৎ বাণিজ্যিক ব্যাংকের তারল্য সংকট কাটাতে ব্যাংকগুলোর পুরোনো ঋণ পরিশোধে মনোযোগ দিয়েছে সরকার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের অঙ্ক ছিল ২ লাখ ৬ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা। এক বছর পর ২০২২ সালে যা ১ লাখ ৮০ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকায় নেমে আসে। সে হিসাবে বছরের ব্যবধানে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ কমেছে ২৫ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা। আর চলতি অর্থবছরের শুরুতে ঋণের অঙ্ক ছিল ২ লাখ ১৪ হাজার ৩১৯ কোটি টাকা। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। সে হিসাবে অর্থ বছরের প্রথম ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ পরিশোধ করেছে ৩৬ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে যে সাড়ে ৬৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে তা থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ৩৬ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে সরকার।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

উপমহাদেশের খ্যাতনামা সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা ও নন্দিত নায়ক আলমগীর বাস্তবে জুটি বাঁধলেও এবার দীর্ঘ বিরতির পরে পর্দায় জুটি বেঁধেছেন। তাদের সংসার জীবনের প্রেম-ভালোবাসার চিহ্ন অনস্ক্রিনে কখনও দেখা যায়নি। এবার ক্যামেরার সামনে দেখা গেল তারা ভালোবাসার ফুল গোলাপ বিনিময় করছেন।
২৮ বছর আগে ‘শিল্পী’ সিনেমার মাধ্যমে তারা জুটি বাঁধেন। সেখান থেকেই প্রেম ও বিয়ের সূত্রপাত। এরপর কখনও একসঙ্গে কোনো সিনেমা বা বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেননি। এবার তারা একসঙ্গে প্রথমবার অভিনয় করেছেন বিজ্ঞাপনচিত্রে।
মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) বিএফডিসির ১ ও ৯ নম্বর ফ্লোরে বিজ্ঞাপনটির দৃশ্যধারণ করা হয়। এতে অংশ নিয়েছেন আলমগীর-রুনা লায়লা দুজনেই। তাদের সঙ্গে অভিনয় করেছেন আঁখি আলমগীর, ফেরদৌস আহমেদ ও শিশুশিল্পী সিমরিন লুবাবা।
বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করছেন অনন্য মামুন। উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে তিনি বললেন, ‘সত্যি বলতে এক ফ্রেমে এমন গুণী শিল্পীদের পাওয়া আমার জন্য অনেক বড় সৌভাগ্যের ব্যাপার। এর জন্য আমি ক্লায়েন্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে কৃতজ্ঞ। তারা পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়াতে এত বড় কাজটি সম্ভব হয়েছে।’
জানা গেছে, এটি একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির বিজ্ঞাপন। এর চিত্রায়ণে ছিলেন হায়দরাবাদের ভেঙ্কটেশ। সম্পাদনা শেষে শিগগিরই এটি প্রচারে আসবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ
The post বিজ্ঞাপনচিত্রে রুনা লায়লা -আলমগীর appeared first on বিজনেস বাংলাদেশ.
মাটির ওপরের নরম অংশটিকে বলা হয় (টপ-সয়েল) উর্বরা শক্তিই ফসলি জমির প্রাণ। জমির প্রাণ খ্যাত এ অংশ কেটে নিয়ে পোড়ানো হচ্ছে ইটভাটায়। যা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেও রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।
জানা গেছে, মাটির উপরিভাগ টপ সয়েলেই থাকে জমির উর্বরা শক্তি। যে জমির উর্বরা শক্তি বেশি, তার উৎপাদন ক্ষমতাও তত বেশি। চাষাবাদের সময় জমিতে প্রয়োগ করা জৈব ও রাসায়নিক সারের একটা বড় অংশ ফসল উঠলেও জমিতে থেকে যায়। যা পরবর্তী ফসল বোনার সময় বেশ কাজে লাগে। ফসলি জমির ওপরের অংশ কেটে নিলে ওই জমি শক্তিহীন হয়ে প্রাণহীন হয়ে পড়ে। ফলে পরবর্তী কয়েক বছর ওই জমির উৎপাদন ক্ষমতা অনেকটা কমে যায়, এবং উচ্চমূল্যে চাষাবাদ করেও আশানুরূপ ফসল না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা।

শুকনো মৌসুমে এসব জমির ওপরের অংশের দুই/তিন ফুট পর্যন্ত মাটি প্রায় প্রতিনিয়তই কেটে নেওয়া হচ্ছে। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী এসব জমির মাটি খুঁড়ে তুলে নিয়ে ইটভাটায় বিক্রি করছেন। এ ক্ষেত্রে জমির মালিককে জৈব সার কেনা বাবদ সামান্য কিছু অর্থ সহায়তা দিচ্ছে। এসব ব্যবসায়ী উঁচু জমি টার্গেট করে কৃষকদের ভুলভাল বুঝিয়ে রাজি করাচ্ছেন। তারা কৃষকদের বলছেন, উঁচু জমিতে পানি বেশি লাগে, তাই জমি নিচু করা দরকার। এসব ভুল তথ্য দিয়ে জমি খুঁড়তে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। মাটি ব্যবসায়ীরা এ বছর যে জমির মাটি তুলে নিয়ে গভীর করছেন, পরের বছর তার পাশের জমির মালিকদেরও লোভ দেখাচ্ছেন। কারণ সর্বদাই নিচু জমিতে নেমে যায় পানি ও পলি। এ ফাঁদে পা দিতে বাধ্য হচ্ছেন পার্শ্ববর্তী জমির মালিকরাও। এভাবেই ফসলি জমির প্রাণ কেটে নিয়ে প্রতিনিয়ত ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে।

কৃষকরা তাদের চটকদার কথায় রাজি হয়ে জমি খুঁড়ে মাটি দিচ্ছেন ইটভাটায়। ভাটার মালিকরা এসব মাটি নিয়ে তৈরি করছেন ইট। ভাটার মালিকরা এভাবে লাভবান হলেও অল্প কিছু নগদ টাকার লোভে জমির দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চাষিরা। উৎপাদন কমে যাচ্ছে।
প্রায়ই এসব বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করছে জেলা প্রশাসন। কিন্তু তাতেও কাজ হচ্ছে না। জরিমানা গুণেও তারা চালিয়ে যাচ্ছেন এ ব্যবসা। ফলে জেলার উঁচু জমিগুলো প্রতিনিয়ত নিচু হয়ে যাচ্ছে। জেলার সব ইটভাটায় এসব ফসলি জমির উর্বরা অংশ দেখা যায়। তবে এসব মাটি কারো কাছ থেকে জোর করে নেওয়া হয় না বলে জানান ভাটার মালিকরা। তারা বলছেন, জমির মালিকরাই টাকার বিনিময়ে মাটি বিক্রি করছেন। ইট তৈরির জন্য কাঁচামাল হিসেবে এসব মাটি কিনে নেন তারা।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ হামিদুর রহমান বলেন, জমির ওপরের ছয় থেকে আট ইঞ্চি গভীর পর্যন্ত মাটির উর্বরা শক্তি থাকে। কোনো কারণে এ অংশ উঠে গেলে ওই জমির উর্বরা শক্তি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উৎপাদনও ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। টপ সয়েল তুলে ফেললে জমি পুনরায় স্বাভাবিক হতে অন্তত পাঁচ/সাত বছর চাষাবাদ করতে হয়। এ দীর্ঘ সময়ে উৎপাদন কমে গিয়ে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ কারণে ফসলি জমির মাটি না তুলতে প্রতিনিয়ত কৃষকদের নিয়ে সচেতনতা মূলক সভা-সমাবেশ করা হচ্ছে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্ল্যাহ এ বিষয়ে বলেন, কৃষকদের ফসলি জমির মাটি বিক্রি করতে নিষেধ করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে, করা হচ্ছে জরিমানাও। তারপরও অনেক কৃষক অবাধে কিছু টাকার লোভে জমির উর্বরা শক্তিকে নষ্ট করছে। কৃষকদের মাঝে সঠিক ভাবে সচেতনতামূলক সভা সমাবেশ করে এটা রোধ করতে হবে এবং সেই সাথে অনুমোদনবিহীন ইট ভাটা বন্ধ করে দেওয়া হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণের সাথে কুড়িগ্রামের নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহঃবার ১২ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সভার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন দাসের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রব্বানী সরকার, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরিফুর রহমান, ফুলবাড়ী থানার ওসি ফজলুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমান শেখ, সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী পোদ্দার রতন, ফুলবাড়ী ডিগ্রী কলেজের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজার রহমান মাস্টার, ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ, ফুলবাড়ী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম রিজু, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মজিবর রহমান, বিশিষ্ট শিল্পপতি উপজেলা আ’লীগের সহসভাপতি ওয়াহেদ আলী, ফুলবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি এমদাদুল হক, মাহবুব হোসেন লিটু,প্রমূখ। সভাটি সঞ্চালনা করেন ফুলবাড়ী ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক জাকারিয়া মিঞা। নবাগত জেলা প্রশাসক এসময় ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্পর্কে অবগত হন। উন্নয়ন কার্যক্রম তরান্বিত করার লক্ষ্যে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি সকলকে আশ্বস্ত করেন।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব