শুক্রবার ,৮ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 618

তুরস্কের নীল মসজিদ ও আয়া সোফিয়ায় মুগ্ধ মিথিলা

তুরস্কের ঐতিহাসিক স্থাপনা নীল মসজিদ ও আয়া সোফিয়া দেখে মুগ্ধ হয়েছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা।

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওন থেকে ফেরার পথে বর্তমানে তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে অবস্থান করছেন তিনি। ইস্তাম্বুল শহর এবং শহরের বিভিন্ন ঐতিহাসিক মসজিদ ঘুরে দেখছেন জনপ্রিয় এ অভিনেত্রী।

তুরস্কের ঐতিহাসিক স্থাপনা নীল মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে সেলফিবন্দি হয়েছেন মিথিলা।

ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, মিথিলার মাথায় হিজাব। চোখে চশমা। ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক। তার পেছনে অনেক দর্শনার্থী। মুগ্ধতা প্রকাশ করে ক্যাপশনে মিথিলা লিখেন, ‘আয়া সোফিয়া ও নীল মসজিদ দেখে মুগ্ধ।’

সুলতান আহমেদ (দ্বিতীয় সুলতান) যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর নীল মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। নির্মাণের ৪০০ বছর পরও সৌন্দর্যের আলো ছড়াচ্ছে এটি।

মূলত কিছুদিন আগে পেশাগত কাজে আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওনে গিয়েছিলেন মিথিলা। সেখানে কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। সেখান থেকেই তুরস্কে গিয়েছেন। তারই ফাঁকে নিজের জন্য সময় বের করে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে দর্শনীয় স্থাপনা ঘুরে দেখছেন।

পাশাপাশি স্থানীয় খাবার চেকে দেখতেও ভুল করছেন তিনি। আর সেই অভিজ্ঞতা কিছুটা হলেও তার ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করলেন এই অভিনেত্রী।

আক্ষেপের রেকর্ডে সাকিবকে ছাড়িয়ে গেলেন মুশফিক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর তুমুল সমালোচনায় পড়েন জাতীয় দলের অন্যতম তারকা মুশফিকুর রহিম।

তবে চট্টগ্রাম টেস্টে নিজের জাত চেনালেন। খেললেন ৯১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস।

অবশ্য মাত্র ৯ রানের জন্য সেঞ্চুরি বঞ্চিত হওয়ার আক্ষেপ তো থাকবেই তার। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরো কয়েকটি আক্ষেপ।

চট্টগ্রাম টেস্টে মুশফিকের হাতছানি ছিল দুটি মাইলফলকের। খুব কাছে গিয়েও ধরা দিল না একটিও। উল্টো সঙ্গী হলো অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ড।

বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশিবার ‘নার্ভাস নাইন্টিজ’-এ আটকা পড়ার রেকর্ড এখন মি. ডিপেন্ডেবলের।

এছাড়া মাত্র ১ রানের জন্য তামিমকে ছোঁয়া হলো না তার। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে এ মুহূর্তে সর্বোচ্চ রান তামিমের, ৪৭৮৮ রান। আর সাগরিকায় ৯১ রানের ইনিংসের পর মুশফিকের এখন সংগ্রহ ৪৭৮৭ রান।

আগামী ইনিংসে মুশফিক অনায়াসেই তামিমকে টপকে যেতে পারবেন। তবে আজ ‘নার্ভাস নাইন্টিজ’ – এ আউট হয়ে হতাশার এক রেকর্ড গড়লেন মুশফিক।

এই নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নব্বই ছুঁয়েও মুশফিক সেঞ্চুরিতে যেতে পারলেন না ৪ বার। আর আন্তর্জাতিকে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ৮ বার। দুটিই বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ।

একটি রেকর্ডে তিনি স্পর্শ করেছেন সাকিব আল হাসানকে, আরেকটিতে ছাড়িয়েই গেছেন তাকে।

সাকিবও টেস্টে নব্বইয়ে আটকে গেছেন ৪ বার। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে তার এই অভিজ্ঞতা হয়েছে ৭ বার।

তামিম ইকবাল টেস্টে নব্বইয়ে থমকে গেছেন ৩ বার, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মোট ৬ বার।

প্রসঙ্গত, টেস্টে নব্বইয়ে সবচেয়ে বেশিবার আউট হওয়ার বিশ্বরেকর্ডের শীর্ষে আছেন তিন কিংবদন্তি – শচিন টেন্ডুলকার, রাহুল দ্রাবিড় ও স্টিভ ওয়াহ। তিনজনই এই স্বাদ পেয়েছেন ১০ বার করে। তিন সংস্করণ মিলিয়ে শীর্ষে টেন্ডুলকার, ২৮ বার।

রিভিউ না নেওয়ার মাশুল গুনছেন মুমিনুল

লিটন দাসের প্রথম সেঞ্চুরি ও মুশফিকুর রহিমের ৯১ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে ভর করে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ।

আশা করা হচ্ছিল বড় সংগ্রহ দাঁড় করাবে বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় দিনে হাসান আলির তোপে ৩৩০ রানে অলআউট বাংলাদেশ। হাসান একাই শিকার করেছেন ৫ উইকেট।

মুমিনুল হকদের ৩৩০ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত শুরু করেছে পাকিস্তান।

২৪ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭০ রান জমা করে ফেলেছেন দুই উদ্বোধনী ব্যাটার।

মেহেদী হাসান মিরাজের বলে বেরিয়ে ছক্কা মেরে ১২৭ বলে ৫০ রান পূরণ করে উদ্বোধনী জুটি। যদিও এই জুটি আরো আগেই ভাঙতে পারত বাংলাদেশ।

সেই সুযোগ এনে দিয়েছিলেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। তাইজুলের বল একটু ভেতরে ঢুকে শফিকের প‍্যাডে লাগে। কিস্তু ব‍্যাট না প‍্যাডে লেগেছে তা বোঝা কঠিন ছিল। রিভিউ নিতে পারতেন মুমিনুল। কিন্তু ঝুঁকি নিলেন না।

পরে রিপ্লেতে দেখা গেছে বল আগে লাগে প‍্যাডে। রিভিউ নিলে ফিরে যেতেন শফিক। সে সময় ৯ রানে ছিলেন তিনি।

বলা যায় মুমিনুলের ‌’অবিবেচক সিদ্ধান্তে’ জীবন পেলেন শফিক। সেই শফিক এখন ৮০ বল খেলে ২৭ রানে অপরাজিত। অর্থাৎ রিভিউ না নেওয়ার মাশুল গুনছেন মুমিনুল।

অন্যপ্রান্তে অবশ্য দাপুটে ব্যাটিং করে যাচ্ছেন আবিদ আলি। ৬ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ৮৪ বলে ফিফটি করেছেন।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাকিস্তানের সংগ্রহ ২৭ ওভার শেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭৫ রান।

‘ঘুস ছাড়া পুলিশে চাকরি হবে স্বপ্নেও ভাবিনি’

ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখতেন পুলিশ হবেন টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার কৃষকের মেয়ে তানিয়া খাতুন। তিনি উপজেলার বাংলা বাজার মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশ করেন। অন্যের কাছে শুনেছেন পুলিশে চাকরি নিতে অনেক টাকা লাগে। সামর্থ না থাকায় তার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়। তারপরও নিজ ইচ্ছে শক্তি থেকে ১০০ টাকা ব্যাংক চালান ও অনলাইন খরচ ৩০ টাকা দিয়ে আবেদন করেন। অবশেষে তার স্বপ্নপূরণ হয়। ঘুস ছাড়া পুলিশে চাকরি হবে এমনটা স্বপ্নেও ভাবেননি তানিয়া খাতুন।

শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ফলাফলে তিনি চাকরি পান। এরপরই এসব কথা জানান তানিয়া। এসময় তার মতো ১৩০ টাকা খরচ করে ১১ নারীসহ ৭৫ জন পুলিশে চাকরি পান।

জেলা পুলিশ লাইনস মাঠের গ্রিল শেডে ফলাফল ঘোষণা করেন পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার। এসময় উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) কাজী নুজহাত এদীব লুনা, গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম, মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিনহাজ উদ্দিন প্রমুখ।

তানিয়া খাতুন বলেন, স্বপ্ন ছিল পুলিশ হবো। চাকরি নিতে অনেক টাকা লাগে তাই ভয় পেতাম। ১০০ টাকায় পুলিশের চাকরি হবে কল্পনাও করিনি। চাকরি পাওয়ায় আল্লাহ তালার কাছে শুকরিয়া জানাই। বাংলাদেশ পুলিশের কাছে কৃতজ্ঞ কাউকে কোনো অর্থ দিতে হয়নি।

জেলা পুলিশ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় এ পরীক্ষায় অংশ নিতে সর্বমোট তিন হাজার নারী-পুরুষ আবেদন করেন। প্রথম দিন উচ্চতা ও প্রার্থীদের সনদ যাচাই করে ২২৪৭ থেকে ১১৪৮ জনকে শারিরীক সক্ষমতার জন্য উত্তীর্ণ করা হয়েছিলো। এদের মধ্যে ধাপে ধাপে পরীক্ষা দিয়ে ৭৬৩ জন উত্তীর্ণ হয়। এদের মধ্যে ৪৯৭ জনকে লিখিত পরীক্ষার জন্য রাখা হয়। এদের মধ্যে ১৬৫ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়।

১৬ থেকে ১৮ নভেম্বর পুলিশের ‘ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে’ শারিরীকভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। ১৯ নভেম্বর লিখিত পরীক্ষা হয়। ২৬ নভেম্বর দিনব্যাপী ১৬৫ জনের মৌখিক ও মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে ৭৫ জনকে নির্বাচন করা হয়।

টাঙ্গাইলে ১০০ টাকা ব্যাংক ড্রাফটে পুলিশে (ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে) চাকরি পেয়েছেন তারা। কোনো অর্থ ছাড়াই চাকরি পেয়ে তাদের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এসব চূড়ান্ত প্রার্থীর অভিভাবকরা কখনো বিশ্বাসই করতে পারেননি তাদের সন্তানদের টাকা ছাড়া পুলিশে চাকরি হবে। স্বচ্ছতা ও সততার এ বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার।

পরীক্ষায় প্রথম হওয়া সিরাজুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার আগে অনেকেই বলেছেন, দালাল ছাড়া পুলিশে চাকরি হবে না। তাদের ধারণা ভুল। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল দুর্নীতিমুক্ত পরীক্ষা হবে। ঠিক তাই হয়েছে, মাঠে না আসলে বুঝতাম না বর্তমান সময়ে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি হয়।

সাকিব আল হাসান শ্রাবণ বলেন, আমার বাবা কৃষি কাজ করায় আয় রোজগার কম। তারপরও ইচ্ছে ছিল পড়াশোনা করবো, মানুষের মতো মানুষ হয়ে পিতা মাতা দেশ ও জনগণের সেবা করবো। সেটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রচুর কষ্ট করেছি জীবনে। কষ্টের কারণেই আল্লাহ পাক মুখ তুলে তাকিয়েছেন। এতে পুলিশের আইজিপি ও টাঙ্গাইলের এসপিকে ধন্যবাদ জানাই। দেশের জন্য কাজ করতে চাই। সবার দোয়া ও সহযোগিতা চাই।

তাসলিমা রশিদ জানান, ব্যাংক চালান ১০০, ভ্যাট, অনলাইন ও এসএমএস চার্জ দিয়ে আরও ৩০ টাকা লেগেছে। সব মিলে ১৩০ টাকা খরচ করে পুলিশের চাকরি পেয়েছেন।

লিটন নামের এক অভিভাবক বলেন, আমি পেশায় ডোম। আমি কখনও চাইনি আমার ছেলেও এই পেশায় আসুক। বিনা টাকায় পুলিশে চাকরি হওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত।

পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, বিগত বছরে যে ধারাবাহিকতা ছিল, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির নির্দেশে সেই ধারাবাহিকতার পরিবর্তন এনেছি। নতুন পদ্ধতিতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কাউকে চালান ফি ছাড়া অন্য কোনো ফি দিয়ে চাকরি নিতে হয়নি। মেধা ও যোগ্যতায় চাকরি হয়েছে। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

নদীপাড়ে মিলল লাল কাপড়ে মোড়ানো নবজাতকের লাশ

পটুয়াখালীর গলাচিপায় রাবনাবাদ নদীর পাড়ের চর থেকে ওড়নায় মোড়ানো অজ্ঞাত এক নবজাতকের লাশ উদ্ধার করেছে গলাচিপা থানা পুলিশ।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পৌর শহরের খেঁয়াঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে ওই নবজাতকের লাশ উদ্ধার করা হয়। রাতের আঁধারে ওই নবজাতককে লাল কাপড়ে মুড়িয়ে রাবনাবাদ নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে লাল কাপড়ে মোড়ানো নবজাতকের লাশটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় খেয়া পারাপারকারী যাত্রীরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নবজাতকের লাশ করে থানায় নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে গলাচিপা থানার ওসি এম আর শওকত আনোয়ার জানান, বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই নবজাতকের লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ইসরাইলসহ ৫ দেশে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্ত

ইসরাইলসহ পাঁচ দেশ ও অঞ্চলে শনাক্ত হয়েছে করোনাভাইরাসের রূপান্তরিত নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন।

ইউরোপে সর্ব প্রথম করোনার এই ধরন শনাক্ত হয়েছে বেলজিয়ামে। এছাড়া ১৯৬৬ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করা আফ্রিকার ছোট দেশ বোতসোয়ানা এবং এশিয়ার দুই দেশ ইসরাইল ও হংকংয়েও সন্ধান মিলে এ ভ্যারিয়েন্টের।

ইতোমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের নতুন এই ধরনটি মূল ভাইরাস ও তার অন্য রূপান্তরিত ধরনগুলোর চেয়ে অনেক দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়তে বা মানুষকে আক্রান্ত করতে সক্ষম।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রাথমিক যেসব তথ্য পাওয়া গেছে সেসব পর্যালোচনা করে বোঝা যাচ্ছে- করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিরাও ওমিক্রনে আক্রান্ত হতে পারেন।

২৫ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত হয় বি.১.১৫২৯ নামের এই রূপান্তরিত ধরনটি, পরে গ্রিক বর্ণমালা অনুসারে যার নাম দেওয়া হয় ওমিক্রন। ইতোমধ্যে এই ধরনটি দক্ষিণ আফ্রিকার বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে।

যদি দ্রুত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা না হয়, সেক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে এটির ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণ প্রায় অসম্ভব হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

যুক্তরাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নতুন শনাক্ত হওয়া রূপান্তরিত ধরনটির স্পাইক প্রোটিন মূল করোনাভাইরাসের চেয়ে অনেকটাই ভিন্ন।

ফলে, মূল করোনাভাইরাস থেকে এর ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা অনেক বেশি- এমন শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়ার উপায় নেই।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা ও তার আশপাশের দেশগুলো থেকে ফ্লাইট আগমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

পাশাপাশি, যে ব্রিটিশ যাত্রীরা গত কয়েকদিনের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা বা তার পার্শ্ববর্তী কোনো দেশ থেকে যুক্তরাজ্যে ফিরেছেন, তাদের কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আফ্রিকান নতুন ভ্যারিয়েন্ট মোকাবিলায় আমরা সতর্ক: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সম্প্রতি আফ্রিকাসহ ইউরোপের কিছু দেশে ছড়িয়ে পড়া ওমিক্রন নামক করোনার নতুন একটি ভ্যারিয়েন্ট বিষয়ে দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অবগত রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাস গ্রহণ করা হচ্ছে।

শনিবার সকালে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিতব্য স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্মেলনে অংশ নিতে যাত্রাকালে এক অডিও বার্তায় এসব কথা বলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

এই ভাইরাসটি করোনার অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় কিছুটা বেশি এগ্রেসিভ হলেও বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এটি নিয়ে তৎপর রয়েছে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে মন্ত্রী তার বার্তায় নিশ্চিত করেন।

ভ্যারিয়েন্টটি নিয়ে অধিক আতঙ্কিত না হয়ে দেশবাসীকে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আফ্রিকান নতুন ভ্যারিয়েন্টের বিষয়ে আমরা অবহিত হয়েছি এবং এই ভাইরাসটি খুবই এগ্রেসিভ। সে কারণে আফ্রিকার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ এখন স্থগিত করা হচ্ছে।

সব এয়ারপোর্ট, ল্যান্ডপোর্টে বা দেশের সব প্রবেশপথে স্ক্রিনিং আরও জোরদার করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সারা দেশেই স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে ও মুখে মাস্ক পড়তে উদ্বুদ্ধ করতে সব জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।

সুইজারল্যান্ড সফরকালে বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশিদ আলমসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

ব্যাংকে চাকরিপ্রার্থীদের বয়সে ছাড় দেওয়ার নির্দেশ

করোনার কারণে ব্যাংকে নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে থাকায় চাকরিপ্রার্থীদের বয়সে ছাড় দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি (বিআরপিডি) বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে।

এই নির্দেশনাটি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক/প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের লক্ষ্যে যেসব ব্যাংক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারেনি, সেসব ব্যাংককে ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখ পর্যন্ত প্রকাশিতব্য বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ২৫ মার্চ ২০২০ তারিখে নির্ধারণপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হলো। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে গত ১৯ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়। তাতে বলা হয়, ‘যেসব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও তার অধীন অধিদপ্তর, দপ্তর এবং সংবিধিবদ্ধ, স্বায়ত্তশাসিত বা জাতীয়কৃত প্রতিষ্ঠান কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন শ্রেণির সরকারি চাকরিতে (বিসিএস ছাড়া) সরাসরি নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানকে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকাশিতব্য বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের বয়সসীমা গত বছরের ২৫ মার্চ নির্ধারণ করতে হবে। এতে বয়সে মোট ২১ মাস ছাড় পাচ্ছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। তবে বিসিএসের প্রার্থীরা এই ছাড় পাবেন না।

দেশের ভাবমূর্তির সঙ্গে বাড়বে চ্যালেঞ্জও

দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আনার সুযোগ বাড়বে।

একই সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ। রপ্তানিতে বাড়তি সুবিধা মিলবে না। কম সুদে ঋণ পাওয়া যাবে না। এসব ক্ষেত্রে প্রস্তুতি নিতে হবে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পরিপ্রেক্ষিতে তারা এ মন্তব্য করেন।

বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সুপারিশ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আগে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) এই সুপারিশ করেছিল।

আগামী ২০২৬ সাল থেকে এ সুপারিশ কার্যকর হবে। এখন থেকে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে ৫ বছর সময় পাবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কী ধরনের সুবিধা পাবে এবং কী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে তা নিয়ে যুগান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় তিন অর্থনীতিবিদ। তারা হলেন-সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মইনুল ইসলাম।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের এখন আর কোনো বাধা রইল না। এখন বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসবে। চলে যাবে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায়। স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় গেলে এখন পাওয়া যাচ্ছে এমন অনেক সুবিধা মিলবে না। সেগুলো মোকাবিলা করার জন্য বেশকিছু প্রস্তুতি দরকার। এজন্য ২০২৬ সাল পর্যন্ত সময় পাওয়া যাবে। এই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয়

প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। এজন্য সরকার ও রপ্তানিকারকদের ভূমিকা নিতে হবে সবচেয়ে বেশি।

্তিনি বলেন, এলডিসির তালিকা থেকে বের হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। বাংলাদেশ আর স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় থাকবে না। চলে যাবে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায়। বাংলাদেশের পরবর্তী লক্ষ্য হবে উন্নত দেশের মর্যাদা অর্জন করা। এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে নিরাপদবোধ করবে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নিতে হবে। তবে এজন্য অবকাঠামোর উন্নয়ন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন, দুর্নীতি রোধ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বা অন্যান্য ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দূর করে সার্বিকভাবে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা খরচ ও পরিবেশের যে সূচক রয়েছে তাতে আরও উন্নয়ন করতে হবে। এজন্য বেশ কিছু সংস্কার প্রয়োজন। যাতে দ্রুত ব্যবসা শুরু করা যায়। তিনি আরও বলেন, দেশে বিদেশি বিনিয়োগ এলে একদিকে শিল্প স্থাপন হবে। উৎপাদন বাড়বে। এতে কর্মসংস্থানও বাড়বে। আর কর্মসংস্থান বাড়লে দারিদ্র্যও পর্যায়ক্রমে কমবে।

যে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে সে সম্পর্কে ড. মির্জ্জা আজিজ বলেন, স্বল্পোন্নত দেশে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ রপ্তানি ও বৈদেশিক ঋণে অনেক সুবিধা পেত। সেগুলো পাওয়া যাবে না। এগুলোর বিকল্প ভাবতে হবে। রপ্তানিতে যেসব কর ছাড় ও জিএসপি সুবিধা পাওয়া যেত। এর বিপরীতে কম কর দিয়ে ইউরোপ আমেরিকাসহ অনেক দেশে রপ্তানি করা যেত। ২০২৬ সাল থেকে এগুলো করা যাবে না। কর কম থাকার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী দেশে এসে বিনিয়োগ করে রপ্তানি সুবিধা নিতেন। এখন এটি পাওয়া না গেলে রপ্তানি পণ্যের উৎপাদন খরচ কমাতে হবে। একই সঙ্গে দক্ষতা বাড়িয়ে ভালো মানের পণ্য উৎপাদনের পদক্ষেপ নিতে হবে। রপ্তানির নতুন নতুন বাজার অনুসন্ধান করতে হবে। তাহলে রপ্তানি খাতে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সহজ হবে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হওয়ার বাংলাদেশ একটি অফিসিয়াল চূড়ান্ত স্বীকৃতি পেল। এখন আর কোনো স্বীকৃতির জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। আগের ধারাবাহিকতায় এ স্বীকৃতি পেল। এ ধরনের পরিবর্তন এক ধরনের বিশ্ব স্বীকৃতি। জাতিসংঘের মতো বিশ্বসভায় এই স্বীকৃতির ফলে বাংলাদেশ নানাদিক থেকে লাভবান হবে, দেশের ইমেজ বাড়বে। একে কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগ বাড়ানো যাবে। এখন প্রয়োজন প্রস্তুতির।

তিনি বলেন, এলডিসি থেকে বাংলাদেশ যেসব সুবিধা পেত সেগুলো থেকে বঞ্চিত হবে। এর মধ্যে রপ্তানি খাতে জিএসপি সুবিধা পাওয়া যাবে না। এর বিকল্প হিসাবে রপ্তানির নতুন বাজার খুঁজতে হবে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি করে রপ্তানি বাড়াতে হবে। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে আরও সক্ষমতার পরিচয় দিতে হবে। দরকষাকষির জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। উদ্যোক্তাদের ক্রেতা ধরে রাখতে উদ্যোগী হতে হবে। এখন যে কর রেয়াত পাওয়া যায়, তার বিকল্প হিসাবে খরচ কমানোর বিষয়টি ভাবতে হবে। দক্ষতা বাড়িয়ে ভালো মানের পণ্য উৎপাদন করে সেগুলোর দাম বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্য কারখানার যেমন আধুনিকায়ন দরকার, তেমনি শ্রমিক কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে সব ধরনের অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়ানো জরুরি। চট্টগ্রাম বন্দরে যেসব সমস্যা হয় সেগুলো রোধ করা গেলেও অনেক খরচ কমানো সম্ভব।

তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হলে বাংলাদেশ আর সহজ শর্তে ঋণ পাবে না। তখন বেশি সুদে ও কঠিন শর্তে ঋণ নিতে হবে। তবে দেশের মান উন্নয়নের কারণে অনেক দেশ বা সংস্থা ঋণ দিতে আস্থা পাবে। বেশি সুদে ঋণ নিয়ে সেগুলোকে ব্যবহারের সর্বোত্তম পথ খুঁজে বের করতে হবে। যাতে ঋণের সদ্ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

বৈদেশিক অনুদান কমে গেলে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈদেশিক অনুদানের একটি বড় অংশই ব্যবহৃত হয় দারিদ্র্য বিমোচনে। এনজিওগুলো বৈদেশিক অনুদান নিয়ে দেশে দারিদ্র্য বিমোচন করে। বৈদেশিক অনুদান কমে গেলে এনজিওগুলো সংকটে পড়বে। তারা এখন যেভাবে দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করে সেক্ষেত্রে একটি ধাক্কা আসতে পারে। বেসরকারি সংস্থাগুলো বর্তমানে সরাসরি যেভাবে দারিদ্র্য বিমোচন করে, বৈদেশিক অনুদান না পেলে তখন হয়তো তারা সরাসরি অংশ নিতে পারবে না। বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে কতটুকু দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তারা দারিদ্র্য বিমোচনে যে কাজ করে তাতে বৈদেশিক অনুদানের পরিমাণ বেশি। এটি পাওয়া না গেলে এ খাতে দারিদ্র্য বিমোচন কাজ কমে যাবে। তখন ওইসব অনুদাননির্ভর সংস্থাগুলো বিপাকে পড়বে। সেসব এনজিওকে সরকার থেকে ফান্ড দিয়ে চালানো যাবে এমন সক্ষমতাও নেই। ফলে তারা সংকটে পড়বে। এমন পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করা হবে সে বিষয়টি এখনই চিন্তা-ভাবনা করা উচিত।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বের হলে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে। প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। নীতি সংস্কার করতে হবে। তা না হলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা যাবে না।

দক্ষতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে যেভাবে শিক্ষার মান কমছে, তাতে দক্ষ জনশক্তির একটি সংকট দেখা দেবে। দক্ষ জনশক্তি না মিললে সৃষ্ট পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে। এ ব্যাপারে শিক্ষার মান বাড়াতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও উন্নত করতে হবে। এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। গবেষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দক্ষতা বাড়াতে হলে গবেষণায় জোর দিতে হবে। দেশ এখনো গবেষণায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মইনুল ইসলাম বলেছেন, এই স্বীকৃতির ফলে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও বাড়বে। মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ, জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা-এই তিনটি সূচক দিয়ে একটি দেশ উন্নয়নশীল দেশ হতে পারবে কিনা তা বিচার করা হয়। তিনটি সূচকেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার মান অর্জন করেছে। যে কারণে এই স্বীকৃতি।

তিনি বলেন, ২০২৪ সাল থেকেই বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এজন্য যেসব প্রস্তুতির দরকার তা সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ আরও সময় চেয়েছে। এ কারণে আলোচ্য সুপারিশ কার্যকর করার মেয়াদ দুই বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী ২০২৬ সাল থেকে এটি কার্যকর হবে। অর্থাৎ ওই বছর থেকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে চলে যাবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে আরও ৫ বছর সময় পেল। যদিও আগে থেকে এ ব্যাপারে প্রস্তুতি নিয়ে আসছে। এখন প্রস্তুতির গতি আরও বাড়াতে হবে।

বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এ স্বীকৃতি একদিকে বিপুল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিল, অন্যদিকে বেশকিছু চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করাল বাংলাদেশকে। বর্তমানে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোতে বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা পাচ্ছে। অর্থাৎ উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশের তুলনায় কর দিয়ে বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানি করতে পারছে। ২০২৬ সালের পর থেকে এ সুবিধা আর পাবে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ সুবিধা ২০৩০ সালের শেষ দিক থেকে পাওয়া যাবে না। তখন বাড়তি কর দিয়ে পণ্য রপ্তানি করতে হবে। বাড়তি কর দিয়ে পণ্য রপ্তানি করলে পণ্যের দাম বাড়বে। এতে বাংলাদেশ বিদেশের বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়বে। এজন্য এখন থেকে যেসব দেশে বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানি করে ওইসব দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি করতে হবে। এর আওতায় মুক্ত বাণিজ্য বা অগ্রাধিকারভিত্তিক বাণিজ্য চালু করতে হবে। তখন এ সমস্যা কিছুটা হলেও সমাধান হবে।

তিনি বলেন, বাণিজ্য সুবিধা বন্ধ হলেও কোনো সমস্যা হবে বলে মনে করেন না। কারণ এ বিষয়ে বাংলাদেশ অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে আসছে। আরও ৫ বছর সময় পেল প্রস্তুতি নিতে। এর মধ্যে এর একটি সমাধান বের হয়ে আসবে।

অনুদান বন্ধ হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের মোট বাজেটের এখন বৈদেশিক অনুদানের হার ২ শতাংশের নিচে। এখন অনুদান না এলেও তেমন ক্ষতি নেই। এটি অন্যভাবে মিটিয়ে নেওয়া সম্ভব। এজন্য রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স বাড়াত হবে। উন্নয়নশীল দেশের কাতারে গেলে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করতে পারলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো সম্ভব হবে।

সহজ শর্তের ঋণের বিষয়ে তিনি বলেন, সহজ শর্তের ও কম সুদের ঋণ পাওয়া যাবে না ঠিকই। কিন্তু বাণিজ্যিক ঋণ পেতে কোনো সমস্যা হবে না। সহজ শর্তের ঋণের যেসব শর্ত থাকে সেগুলো এড়িয়ে বাণিজ্যিক ঋণ নিলে বেশি সমস্যা হবে না। এক্ষেত্রে ঋণের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। বাংলাদেশ এটি মোকাবিলা করতে পারবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদী।

তিনি বলেন, এর একটি বড় ধাক্কা আসতে পারে ওষুধ শিল্পে। কেননা বর্তমানে বাংলাদেশকে রয়্যালটি বা মেধাস্বত্ব ফি দিতে হয় না। যেসব ওষুধ দেশে তৈরি হচ্ছে এগুলোর মেধাস্বত্ব সবই বিদেশের। ফলে এসব ক্ষেত্রে রয়্যালটি দিতে হবে। বর্তমানে দেশের চাহিদার ৯৭ শতাংশই দেশে উৎপাদিত ওষুধ দিয়ে মেটানো হচ্ছে। রপ্তানিও বাড়ছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় পাবে। এর মধ্যে বড় ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।

‘জনমত’ গঠনই এখন মূল লক্ষ্য বিএনপির

দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে কর্মসূচি পালনে কৌশলে এগোচ্ছে বিএনপি। এ ইস্যুতে সারা দেশে ‘জনমত’ গঠনই দলটির এখন প্রধান লক্ষ্য। এজন্য মানববন্ধন, দোয়া, স্মারকলিপি ও বিক্ষোভ-সমাবেশের মতো ছোট কর্মসূচি দিয়ে মাঠে থাকতে চায়। এরপর কঠোর আন্দোলনের পরিকল্পনা দলটির। তবে এ মুহূর্তে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখে কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর জোর দিচ্ছেন নীতিনির্ধারকরা। একই সঙ্গে কোনো কিছুতে বিভ্রান্ত বা কারও ফাঁদে পা না দিতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

সূত্র আরও জানায়, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের বিষয়টিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। তাই সমঝোতার পথও খোলা রাখতে চাইছেন। যে কারণে এখনই বড় ধরনের কোনো কর্মসূচির বিপক্ষে নেতারা। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে চলমান ৮ দিনের কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য জনমত গঠন করা। যেখানে বিএনপির পক্ষ থেকে এককভাবে কর্মসূচি দেওয়া হয়নি। ছাত্রদল, যুবদল, শ্রমিকদল, মহিলা দল, জাসাসসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনও পৃথকভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে কর্মসূচিতে সারা দেশের তরুণ, যুবক, নারী, শ্রমিকসহ সব শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি বিএনপিপন্থি আইনজীবী ও পেশাজীবী সংগঠনও একই দাবিতে কর্মসূচি পালন করছে। শুক্রবার বিএনপির উদ্যোগে মসজিদে মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত এবং মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়ে প্রার্থনা কর্মসূচি পালন করা হয়। সামনে রয়েছে ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিভাগীয় সদরে সমাবেশ। দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দলীয় চেয়ারপারসনের চিকিৎসা নিয়ে সরকারের মনোভাব সম্পর্কে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পৌঁছানো যাবে। বিদেশেও দলীয় নেতাকর্মীরা বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবেন। এ নিয়ে ব্যাপক জনমত তৈরি হবে।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া। আমরা বারবার বলেছি, দেশের জনগণও এখন বিশ্বাস করেন- সরকারের ইচ্ছে নেই তিনি বেঁচে থাকুক। সে কারণে এখন পর্যন্ত তার বাইরে (বিদেশ) যাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। অথচ আজ দেশের ডান-বাম সব রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দাবি তুলেছেন খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার। সমাজে দেশনেত্রীর চিকিৎসা ইস্যুতে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলন ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই। আমাদের পক্ষ থেকে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, খালেদা জিয়াকে মেডিকেল বোর্ড দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার কথা বলেছেন। অথচ সরকার অনুমতি দিচ্ছে না। চিকিৎসা একজন মানুষের মৌলিক অধিকার। সে অধিকার থেকে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা এখনই কঠোর কর্মসূচি পালনের জন্য চাপ দিচ্ছেন। যা বিভিন্ন সাংগঠনিক জেলার নেতারা দলের নীতিনির্ধারকদেরও জানিয়েছেন। এ বিষয়ে কেন্দ্র থেকে তাদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানানো হয়েছে। শুক্রবার এক সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠানোর আন্দোলনে নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে হবে। আপনারা শক্ত কর্মসূচির কথা বলেন। শক্ত কর্মসূচি বলতে কোনো কর্মসূচি নেই। রাজপথে এটা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে এটি শক্ত করবেন না কি নরম করবেন, সেটা আপনাদের ওপর নির্ভর করবে। আর রাজনীতির ভাষায় কঠোর কর্মসূচি বলতে কোনো ডেফিনেশন নেই। দিনক্ষণ দেখে কখনো কোনো বিস্ফোরণ ঘটে না। জনগণের আন্দোলন রিমোট কন্ট্রোলে চলে না। জনগণের বিস্ফোরণের রিমোট কারও হাতে থাকে না। সেই কারণে বলছি, প্রস্তুত থাকুন, আর আমরাও প্রস্তুত থাকব।

১৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়া। বিএনপি নেতারা জানান, দেশি-বিদেশি চিকিৎসকরা বলেছেন, বাংলাদেশে তার চিকিৎসা আর সম্ভব নয়। সম্প্রতি খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার অনুমতি দিতে সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়। শনিবার এ ব্যাপারে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য তারা বিদেশ থেকে চিকিৎসক আনতে পারবেন। যত বড় চিকিৎসক তারা আনতে চান, আনতে পারেন। সেটায় সরকার কোনো বাধা দেবে না। কিন্তু এটাও তাদের মনে রাখতে হবে, দেশের আইনে যা আছে, তার বাইরে গিয়ে সরকার কোনো কিছু করবে না।

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা কর্মসূচি রয়েছে বিএনপির। এসব কর্মসূচির পর আবারও নতুন কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বিএনপি নেতারা জানান, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ছাড়া দেশের অধিকাংশ দল খালেদা জিয়াকে বিদেশে সুচিকিৎসার আহ্বান জানিয়েছে। চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এ নিয়ে দেশের জনগণ ক্ষুব্ধ। বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে শনিবার নয়াপল্টনে গণ অনশন কর্মসূচিতে জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, গণফোরামসহ ২০ দল ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও অংশ নেন। এছাড়া ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সব শরিক দল, বাসদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ ন্যাপ, এবি পার্টি, এনডিপি, নাগরিক অধিকারও বিবৃতি দিয়েছে। শনিবার ২০ দলীয় জোটের পাঁচটি দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে স্মরকলিপি দেয়। হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ নিয়েছেন মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর পরিবার, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া ও সদস্য সচিব ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ অনেকে। সবার দাবি, খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হোক।

বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, খালেদা জিয়া নেতাকর্মীদের কাছে আবেগের জায়গা। দেশনেত্রীকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবি সরকার না মানলে আন্দোলন তীব্র থেকে আরও তীব্রতর করা হবে। এ আন্দোলনের মাধ্যমেই সরকারের পতন হবে।