শুক্রবার ,৮ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 595

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সমাধানের প্রাকৃতিক উপায়

এসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিক সমস্যা আজকাল নিত্তনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়ম মেনে খাবার না খাওয়া, অতিরিক্ত ঝাল মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া, মানসিক চাপ ও মদ্যপানের কারণে এই রোগ হয়ে থাকে। এছাড়া বাইরের খাবার খাওয়া ও অতিমাত্রায় ফাস্টফুডে আসক্তির কারণে গ্যাস্টিক সমস্যা বাড়ছে।

গ্যাস্টিকের লক্ষণ:
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হলে খিদে কম পায়, পেটে গ্যাস হয়, বুক জ্বালা করে ও পেটের মাঝখানে চিনচিন ব্যথা, বুক ও পেটে চাপ অনুভূত, হজমে অসুবিধা এবং বমি হতে পারে।

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা বেশি হলে সবাই কম বেশি চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খেয়ে থাকেন হয়তো। বিশেষজ্ঞের মতে, ওমিপ্রাজলজাতীয় গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ বছরের পর বছর খাওয়া বিপজ্জনক। এতে পাকস্থলীর পিএইচ পরিবর্তিত হয়ে যায়, ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে, রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে।

তবে আপনি জানেন কি- ঘরোয়া কিছু উপায়ে এই গ্যাস্ট্রিক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়?

অনেকেরই দেখা যায় সকালের খাবার দুপুরে, দুপুরের খাবার বিকালে বা রাতে, রাতের খাবার অনেক দেরিতে বা গভীর রাতে অর্থাৎ সঠিক নিয়ম মেনে খাবার না খাওয়ার ফলে এসিডিটি বা গ্যাসের সমস্যা তৈরি হয়। সেজন্য অবশ্যই নিয়মিত প্রতিবেলার খাবার গ্রহণ করতে হবে।

একবারে পেট ভরে খাবার খাবেন না, ইসলাম ধর্মেও কিন্তু আছে পাকস্থলি পুরো ভরে না খাওয়া, পাকস্থলি তিন ভাগের এক ভাগ খাবার দিয়ে পূর্ণ করতে হবে, বাকি দুইভাগের একভাগ থাকবে পানি আর একভাগ খালি থাকবে। এই নিয়মটি যদি আমরা মেনে চলার চেষ্টা করি তাহলে কিন্তু আমরা এসিডিটি বা গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারি।

একবারে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ না করে অল্প অল্প করে বারবার খাবার গ্রহণ করুন।

এক দিনে তিনবার প্রধান খাবার গ্রহণের মধ্যে ২-৩ বার স্ন্যাকসজাতীয় হালকা খাবার রাখুন।

অতিরিক্ত তেল বা চর্বিজাতীয় খাবার, ভাজাপোড়া খাবার, অতিরিক্ত ঝালজাতীয় খাবার এছাড়াও কারো কারো শাকজাতীয় খাবার খেলে আবার কারো কারো দুধ খেলে দেখা যায় এসিডিটি বা গ্যাসের সমস্যা। তাই চিহ্নিত করুন আপনার কোন খাবারটি খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হচ্ছে; খাদ্যতালিকা থেকে সেটি বর্জন করার চেষ্টা করুন।

কার্বোনেটেডজাতীয় পানীয় যেমন নানা প্রকার সফট ড্রিংকস পান করা থেকে বিরত থাকুন।

সব সময় চেষ্টা করবেন খাবার চিবিয়ে খাওয়ার। এতে খাবার সঠিকভাবে হজম হবে, সঠিক পুষ্টি পাবেন এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।

খাবার খাওয়া শেষে বসে না থেকে ১৫ থেকে ২০ মিনিট হাঁটা চলাফেরা করুন। তাতে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

লেখক: পুষ্টিবিদ নাহিদা আহমেদ
গুলশান ডায়াবেটিক কেয়ার

হলের দায়িত্বে থাকতে নারাজ প্রভোস্টরা

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রনেতাদের চাপ অনেক। যার কারণে হলের সিট বণ্টন সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব হয় না। এছাড়া হল পরিচালনা কমিটি এবং ডাইনিং ম্যানেজার দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হয় ক্ষমতাসীনদের।

এসব কথা না শুনলে বিপাকে পড়তে হয় হলের প্রভোস্টদের। শুধু তাই নয়, ছাত্রনেতাদের মতের বাইরে গেলেই হলে নানান সমস্যা পোহাতে হয়। এসব কারণে হলে কাজ করার সুষ্ঠু পরিবেশ নেই বলে যুগান্তরকে জানিয়েছেন একাধিক হলের প্রভোস্ট। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত দুটি হলের প্রভোস্ট তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির জন্য ভিসি বরাবর আবেদন করেছেন। এছাড়া আরও চারটি হলের প্রভোস্টরাও পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এর আগে ৩০ নভেম্বর ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগ এবং লালন শাহ হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মো. সেলিম হোসেন মারা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, হলের ডাইনিং ম্যানেজার নিয়োগের বিষয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের চাপ ছিল। এরপর তাকে একটি কক্ষের মধ্যে ছাত্ররা মানসিক নিপীড়ন করে। পরবর্তীতে বাড়ি যাওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ১ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. কল্যাণ কুমার হালদার তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে ভিসির নিকট আবেদন করেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, প্রয়াত সেলিম তার বন্ধু ছিলেন। হলের অনেক বিষয়ে তার সঙ্গে আলোচনা হতো। তার মৃত্যুর পর আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি। যার কারণে পদত্যাগ করি।

এদিকে মঙ্গলবার ফজলুল হক হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মো. হাবিবুর রহমানের অব্যাহতির বিষয়ে নিশ্চিত করেছে কুয়েট কর্তৃপক্ষ। প্রয়াত শিক্ষক মৃত্যুর ঘটনায় সাময়িক বহিষ্কার হওয়ায় কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান হলের ২০২ নম্বর কক্ষে থাকতেন। হাবিবুর রহমান যুগান্তরকে জানান, আমি মৌখিকভাবে অনেক আগে থেকে হলের দায়িত্ব থেকে সরে যেতে চেয়েছিলাম। সম্প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর আমার পরিবার থেকে চাপ দিচ্ছিল। যার কারণে আমি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে হলের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছি।

খানজাহান আলী হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মো. সুলতান মাহমুদ যুগান্তরকে জানান, আমিও অব্যাহতি চাইব। এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগে হল যেভাবে পরিচালনা করা যেত এখন আর সেভাবে যায় না।

ডা. এমএ রশীদ হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. সজল কুমার অধিকারী বলেন, হল সমন্বয় কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল আগামী ৭ দিনের মধ্যে হলের পরিবেশ ঠিক করতে হবে। তা না হলে গণপদত্যাগ করা হবে। আমি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। রোকেয়া হলের প্রভোস্ট ডা. আবুল বাশার মো. মামুন জামাল যুগান্তরকে জানান, মহিলা হোস্টেলে তেমন চাপ নেই। তবে সার্বিক দিক বিবেচনা করে যে অপ্রীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তাতে করে আমরা যে কোনো সিদ্ধান্ত নেব। প্রভোস্ট, সহকারী প্রভোস্ট সবাই পরিস্থিতির অপেক্ষায় আছি। পদত্যাগ সময় এলে করব।

অমর একুশে হলের প্রভোস্ট প্রফেসর এএনএম এনামুল কবির বলেন, লালন শাহ হলের ঘটনায় তদন্ত চলছে। প্রকৃত ঘটনা উঠে এলে এবং হলের পরিবেশ ঠিক না হলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

কুয়েটের ভারপ্রাপ্ত ছাত্র কল্যাণ (পরিচালক) প্রফেসর ড. ঈসমাইল সাইফুল্লাহ যুগান্তরকে জানান, সেলিম স্যারের মৃত্যুর পর আমরা হলের সব প্রভোস্ট ও সহকারী প্রভোস্টদের নিয়ে হল সমন্বয় কমিটির মিটিং করেছিলাম। সেখানে হলের ম্যানেজার নির্বাচন ও সিট বণ্টন নিয়ে যে জটিলতা হয় সেটা উঠে আসে। সবার দাবি, অতিদ্রুত বিষয়গুলোর সুরাহা করা। নয়তো তারা কেউই হলের দায়িত্বে থাকবে না। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত আমরা ভিসিকে এখনও জানাইনি। এর আগেই দুইজন প্রভোস্ট দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে পদত্যাগ করেছেন।

জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা ও মিডিয়ার মুখপাত্র রবিউল ইসলাম সোহাগ যুগান্তরকে বলেন, হাবিবুর রহমান স্যারের অব্যাহতিপত্র ৫ ডিসেম্বর ডিসপ্যাচ শাখায় দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত দুটি হলের প্রভোস্ট অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন। তবে কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

সাময়িক বহিষ্কার হওয়ায় কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান জানান, হলের বিষয়ে কোনো শিক্ষককেই তারা কখনই কোনো চাপ দেয় না। তারা অনেক ক্ষেত্রে দলীয় কর্মীদের জন্য অনুরোধ করে। শিক্ষকদের চাপ দেওয়ার মতো কোনো প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না।

স্থানীয়দের হামলায় ইবির ৫ শিক্ষার্থী আহত, ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

স্থানীয়দের হামলায় মেসে অবস্থান করা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৫ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী আনন্দনগর এলাকায় ‘রবিউল’ মেসে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এদিকে এ ঘটনায় প্রক্টরিয়াল বডির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও দায়িত্ব অবহেলার দায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রক্টরদের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও ভিসির বাস ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা।

এসময় শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে এবং তাকে স্থায়ী বরখাস্তের দাবি জানান।

সাবেক প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন ও সহকারী প্রক্টর শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষণা ও আশ্বস্ত করলে রাত সোয়া ২টার দিকে অবস্থান কর্মসূচি তুলে নেয়।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শাখা কর্মকর্তা ও ওই এলাকার বাসিন্দা জাহিদুল ইসলামের সাথে মেসের শিক্ষার্থীদের কথা কাটাকাটি হয়। পরে সাড়ে ৮টার দিকে ১০-১২ জন স্থানীয়দের সাথে নিয়ে মেসের দরজা ভেঙ্গে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করেন। এতে একজন গুরুতর জখমসহ চার শিক্ষার্থী আহত হন।

আহতরা হলেন- আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী কামাল উদ্দিন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সুলতান মাহমুদ সুজন, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের রিদয় আহমেদ, সমাজ কল্যাণ বিভাগের মাজহারুল ইসলাম নাইম এবং পরিবেশ বিজ্ঞান ও ভূগোল বিভাগের জুয়েল রানা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মারধরের পর তাদেরকে মেসে আটকে রাখেন হামলাকারীরা। পরে অন্য সহপাঠীরা গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ঘটনা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে আবাসিক হল ও আশেপাশে মেসে থাকা প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা ঘটনার প্রতিবাদ করলে স্থানীয় রেন্টু ও রাজু ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে একত্রিত হতে বলে। এতে এলাকার শতাধিক লোক দেশিয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের উপর চড়াও হয়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় সিনিয়র শিক্ষার্থীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

ভূক্তভোগীরা জানান, সোমবার রাতে মেসে খাওয়া দাওয়ার আয়োজন হয়। এসময় মেসে উচ্চ শব্দ হয় বলে অভিযোগ করতে আসেন পাশের বাসিন্দা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম। অভিযোগের এক পর্যায়ে তিনি- তোদের এলাকা ছাড়া করব, তোদের দেখে নিবো’সহ নানাভাবে হুমকি দেন। এর প্রতিবাদ করলে কথাকাটি হয়। পরে সেই কর্মকর্তা গিয়ে স্থানীয় লোকজন নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়। ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টরিয়াল বডির সাথে যোগাযোগ করা হলেও আমরা কোন সহযোগিতা পাইনি।

এ বিষয়ে ইবির সহকরী রেজিস্ট্রার ও অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে কে বা কারা এসে তাদের উপরে হামলা করেছে এই দায়ভার আমি নিব কি করে? যে কেউ আমার নাম বলতে পারে। প্রকৃত ঘটনা ভিন্ন।’

এ বিষয়ে প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘ঘটনা শোনার পর ওখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।’

ক্যাটরিনার বিয়েতে যাচ্ছে সালমানের গোটা পরিবার!

ক্যাটরিনা কাইফ ও ভিকি কৌশলের ভক্ত-অনুরাগীদের প্রতীক্ষার অবসার ঘটতে চলেছে আজ। বর্তমান সময়ে বলিউডের সবচেয়ে আকাঙিক্ষত জুটি সাত পাকে বাঁধা পড়তে চলেছেন। আজ তাদের হলুদ সন্ধ্যা, কাল বিয়ে। ভারতের জনপ্রিয় সব গণমাধ্যম এই খবর দিয়েছে।

ভারত সব বিশ্বের প্রায় সব বিনোদনভিত্তিক গণমাধ্যমে ক্যাট-ভিকির বিয়ে নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে তুমুল হইচই চলছে। সবাই বলছে, ইতোমধ্যে বিয়ের সব আয়োজন হয়ে গেছে। আজ জয়পুরে একটি অভিজাত রিসোর্টে তাদের গায়ে হলুদ। করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের কারণে বিয়ের অতিথি তালিকায় কাটছাট করা হয়েছে। এ কারণে ক্যাটরিনার বহু শুভাকাঙক্ষী ও বন্ধুরা বিয়েতে আমন্ত্রণ পাননি। মাত্র ১২০ জন আমন্ত্রিত।

বলিউডপাড়ায় কানাঘুষা চলছে ক্যাটরিনার ‘সাবেক প্রেমিক’ সালমান খান বিয়েতে যাচ্ছে কিনা সেটি নিয়ে।

ভারতের প্রভাবশালী বিনোদনভিত্তিক গণমাধ্যম বলিউড হাঙ্গামা ও জিনিউজের মঙ্গলবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সালমানের গোটা পরিবারকে দাওয়াত করা হয়েছে। তার পরিবারের প্রায় সবাই ক্যাটরিনার বিয়েতে যেতে পারেন।

দুই পরিবারের একটি ঘনিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সালমানের বোনেরা ক্যাটরিনার খুবই ঘনিষ্ঠ। তারা স্বপরিবারে বলিউড নায়িকার বিয়েতে যাবেন। ক্যাটরিনার চাওয়া ছিল সালমানের বাবা সেলিম খান ও মা হেলেন বিয়েতে গিয়ে তাকে আশির্বাদ করবেন। কিন্তু বয়স ও করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলে সালমানের বাবা-মায়ের বিয়েতে যাওয়া সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।

সালমান বিয়েতে যাবেন কিনা সেটি এখনও কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি। সাবেক প্রেমিকাকে অন্যের সঙ্গে দেখতে সালমান মানসিকভাবে প্রস্তুত কিনা সেটি কে বলতে পারবে?

সুশান্ত, তোমায় আজীবন মিস করব: সারা

বলিউডের উঠতি তারকা সুশান্ত সিং রাজপুত মারা গেছেন গত বছরের জুন মাসে। নিজের ফ্ল্যাটে আত্মহত্যা করেন এ অভিনেতা।

মৃত্যুর দেড় বছর পর সুশান্তকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে সারা একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

সারার প্রথম ছবি ছিল ‘কেদারনাথ’। ছবিতে সুশান্তের সঙ্গে অভিনয় করেন তিনি। ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়া ছবিটি বক্স অফিসে ভালোই ব্যবসা করেছিল।

গত মঙ্গলবার তিন বছর পূর্ণ হলো ‘কেদারনাথ’ সিনেমার। ছবির কিছু অংশ থেকে একটি ভিডিও তৈরি করে পোস্ট করেছেন সারা। পাশাপাশি সুশান্তের উদ্দেশে একটি মন খারাপের বার্তাও লিখেছেন তিনি।

সারা লিখেছেন, তিন বছর আগে আজকের দিনেই আমার স্বপ্ন সত্যি হয়েছিল। আমি একজন অভিনেত্রী হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছিলাম। আমার প্রথম ছবি মুক্তি পেয়েছিল। আমি শব্দে প্রকাশ করতে পারব না, এই ছবিটি আমার কাছে কতটা স্পেশাল। আমি আজ মনসুরকে (সুশান্ত) খুব মিস করছি। তার সাপোর্ট, নিঃস্বার্থ সাহায্য, গাইডেন্স এবং উপদেশের জন্যই ছবিটি এত সহজে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। সুশান্ত তোমায় আজীবন মিস করব।

কেদারনাথ ছবির শুটিংয়ের সময় থেকেই দুজনের প্রেম নিয়ে গুঞ্জন ছিল। এর পর রিয়া চক্রবর্তীর সঙ্গে সুশান্তের প্রেম শুরু হলে সারা-সুশান্ত প্রেমের কথা ধামাচাপা পড়ে যায়।

সুশান্তের মৃত্যুর রহস্যজট খুলতে ফের উঠে আসে সাইফকন্যার নাম। দুজনের প্রেম নিয়ে নানা গুঞ্জন চলে। কথা শোনা যায় তাদের প্রেমের ভাঙন নিয়েও।

এর পর সুশান্তের মৃত্যুর তদন্তের সূত্র ধরে বলিউডের মাদকসংশ্লিষ্টতা প্রকাশ্যে আসে। ভারতের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর (এনসিবি) কাছে সুশান্তের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন সারা।

তিনি স্বীকার করেন, সুশান্তের সঙ্গে তার প্রেম ছিল। কেদারনাথ ছবির সেট থেকে তাদের প্রেমের শুরু। একসময় সুশান্তের সঙ্গে তিনি থাকাও শুরু করে দিয়েছিলেন।

সুশান্তের সঙ্গে থাইল্যান্ড সফরের কথাও স্বীকার করেছেন সারা। এমনকি সুশান্তের সঙ্গে নিয়মিত পার্টিতে অংশগ্রহণ করতেন।

তবে সুশান্তের সঙ্গে প্রেমটা তার বেশি দিন টেকেনি। কারণ হিসেবে সারা জানিয়েছেন, সুশান্ত তাদের সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন না। সুশান্ত খুবই চাপ সৃষ্টি করতেন। এমনকি তাকে সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করতে চাইতেন। তার সঙ্গে নায়ক হিসেবে নেওয়ার জন্য নির্মাতাদের রাজি করাতে চাপ প্রয়োগ করতেন সুশান্ত।

এনসিবির জিজ্ঞাসাবাদে মাদক নেওয়ার কথা স্বীকার না করলেও সারার দাবি, সুশান্তের সঙ্গে তিনি শুধু ধূমপান করতেন।

৩ উইকেট হারিয়ে কাঁপছে বাংলাদেশ

ঢাকা টেস্টের পঞ্চম দিনে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে তিন উইকেট হারিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ।

এখন ব্যাটিংয়ে আছেন মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হাসান শান্ত।

ঢাকা টেস্টের প্রথম তিন দিনই ছিল বৃষ্টি। তিন দিনে অন্তত ৯০ ওভার করে ২৭০ ওভার খেলা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু খেলা হয়েছে সর্বসাকুল্যে ৬৩.৩ ওভার।

মঙ্গলবার চতুর্থ দিনে ফের ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৫ ওভার খেলে ২ উইকেট হারিয়ে ১১২ রান তুলে ৩০০/৪ রানে ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তান।

জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে সময়ের ব্যবধানে উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সেদিন ২০.৪ ওভারে ৭১ রানে ৭ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

ঢাকা টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে পরাজয় এড়াতে হলে বুধবার শেষ দিনে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে হবে টাইগারদের।

এমন পরিস্থিতিতে সকালে মাঠে নেমে ৮৭ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

ঢাকা টেস্টে সাজিদ খানের রেকর্ড

ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে একাই ধসিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানের অফ স্পিনার সাজিদ খান, নিয়েছেন ৮ উইকেট। এতে তিনি স্থান পেয়েছেন পাকিস্তানের হয়ে সম্মানজনক একটি রেকর্ডবুকে।

৮ উইকেট নিয়ে সাজিদ খান জায়গা করে নিয়েছেন পাকিস্তানের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা বোলারদের পাশে।

এক ইনিংসে পাকিস্তানি বোলারদের বেস্ট বোলিং ফিগারের তালিকায় সাজিদের অবস্থান এখন চার নম্বরে।

এ তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন আব্দুল কাদির। ৫৬ রান দিয়ে তিনি নিয়েছিলেন ৯ উইকেট। এর পর রয়েছেন সরফরাজ নেওয়াজ। তারও শিকার ৯ উইকেট। তবে তিনি রান দিয়েছিলেন ৮৬।

এর পর রয়েছেন ইয়াসির শাহ। তার শিকার ৮ উইকেট। এ উইকেট শিকার তাকে খরচ করতে হয়েছিল ৪১ রান।

৪২ রান খরচে ৮ উইকেট শিকার করা সাজিদ খান রয়েছেন চার নম্বরে।

ক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, এক ইনিংসে ৮ উইকেট নেওয়া সাজিদ খান এখন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সেরা বোলিং ফিগারের মালিক।

ঢাকা টেস্টের প্রথম তিন দিনই ছিল বৃষ্টি। প্রথম দিন খেলা বন্ধ হওয়ার পর বল মাঠে গড়ায় চতুর্থ দিন। মঙ্গলবার চতুর্থ দিনে ফের ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৫ ওভার খেলে ২ উইকেট হারিয়ে ১১২ রান তুলে ৩০০/৪ রানে ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তান।

জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে সময়ের ব্যবধানে উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সাজিদের ঘূর্ণিতে ৮৭ রানের বেশি করা হয়নি মুমিনুল হকের দলের।

দাফনের ৫ বছর পর কবর খুঁড়ে তোলা হলো সাংবাদিকের লাশ

বগুড়ার নন্দীগ্রামে দাফনের পাঁচ বছর পর কবর থেকে সাংবাদিক শফিউল আলম বিপুলের (৩৮) লাশ উত্তোলন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশ উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের বর্ষণ গ্রামে পারিবারিক কবরস্থান থেকে তার লাশ উত্তোলনের পর মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক সকালের আনন্দ পত্রিকার নন্দীগ্রাম উপজেলা প্রতিনিধি শফিউল আলম বিপুল উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের বর্ষণ গ্রামের মোকছেদ আলীর ছেলে।

গত ২০১৬ সালের ১৮ জুন বিকালে বরিন্দা পাগরাপাড়া এলাকায় বিপুলের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। তিনি এক আসামির মোটরসাইকেলে নন্দীগ্রামে ফিরছিলেন। বিপুল সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন বলে পুলিশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

এদিকে সাংবাদিক বিপুলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে, এমন অভিযোগ এনে ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম গত বছরের ৬ ডিসেম্বর বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আটজনের নামে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে গত ৯ সেপ্টেম্বর মামলাটি নন্দীগ্রাম থানায় রেকর্ডভুক্ত হয়েছে।

এতে আসামি করা হয়, বর্ষণ গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে আমিনুল ইসলাম জুয়েল (৩৫), আব্দুল মান্নান (৩৮), নছির উদ্দিনের ছেলে মোজাম্মেল হক (৫৫), আব্দুল মজিদ (৫০), আব্দুল মজিদের ছেলে মানিক উদ্দিন (২৭), ইসমাইল হোসেনের ছেলে খোকন হোসেন (৪৫), কোলদীঘি গ্রামের আব্দুল জোব্বারের ছেলে সাইদুল ইসলাম (৪৫) ও বরেন্দ্র পাকুরিয়াপাড়া গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে আবু সাঈদ (৩৫)।

এদিকে বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বিপুলের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন। এর পর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রূপম দাসের উপস্থিতি তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহ্ সুলতান হুমায়ন পারিবারিক কবরস্থান থেকে বিপুলের মরদেহ উত্তোলন করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নিহত সাংবাদিক শফিউল আলম বিপুলের ছোট ভাই কামরুল হাসান বলেন, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে তার ভাইকে হত্যা করেছে। ঘটনার দিন ভাইয়ের (বিপুল) মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা জুয়েল মাথায় আঘাত করেন। এর পর ওই হত্যার ঘটনাটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বলে প্রচার করা হয়েছিল। তিনি তার ভাইয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

নন্দীগ্রাম থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, আদালতের নির্দেশে কবর থেকে হাড়গোড় উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

নোবিপ্রবি শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় সেই ট্রাকচালক গ্রেফতার

নোয়াখালীর সদর উপজেলার সোনাপুর বাসস্ট্যান্ডে ট্রাকচাপায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থী অজয় মজুমদার (২২) নিহতের ঘটনায় অভিযুক্ত চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় দুর্ঘটনাকবলিত ওই ট্রাকটি জব্দ করা হয়।

মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার সেতুভাঙা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেফতার ট্রাকচালকের নাম মো. মামুন হোসেন (৫০)। তিনি চুয়াডাঙ্গার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাতগাড়ী এলাকার মৃত জাবেদ আলীর ছেলে।

এর আগে দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে সহপাঠীর মৃত্যুর ঘটনায় সোনাপুর জিরো পয়েন্টে বিক্ষোভ করেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা সহপাঠী মো. মামুন হোসেনের মৃত্যুর প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দ্রুত বিচার দাবি করে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

নোয়াখালী পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় সড়ক আইনে মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে সোনাপুর বাসস্ট্যান্ডে বাস থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাকচাপায় নোবিপ্রবি শিক্ষার্থী অজয়ের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মাইজদী শহরের গুডহিল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অজয় মজুমদার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ ব্যাচের ইনফরমেশন সায়েন্স ও লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র এবং সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের বাদল চন্দ্র মজুমদারের ছেলে।

শিরশ্ছেদ করে বোনের কাটা মাথা নিয়ে সেলফি!

পরিবারের অমতে এক ছেলেকে বিয়ে করায় ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের আওরাঙ্গাবাদ জেলায় অন্তঃসত্ত্বা বড় বোনকে শিরশ্ছেদ করে হত্যা করেছে এক কিশোর। পরে বোনের কাটা মাথা নিয়ে সেলফিও তুলেছে ওই কিশোর।

স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, ১৯ বছর বয়সি ওই তরুণী পরিবারের অমতে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেছিলেন। সোমবার বোনকে শিরশ্ছেদ করে হত্যা করা কিশোরকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। খবর এনডিটিভি ও বিবিসির।

কিশোরের বয়স ১৮ বছরের নিচে বলে তার আইনজীবী জানানোর পর তাকে কিশোরদের জন্য একটি রিমান্ড হোমে পাঠানো হয়েছে। তবে একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, তারা আদালতে এই দাবিকে চ্যালেঞ্জ করবেন। কারণ তাদের হাতে একটি সনদপত্র এসেছে, যেটি থেকে দেখা যাচ্ছে সে প্রাপ্তবয়স্ক। তাদের মাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

তরুণী যখন ভাই ও তার মায়ের জন্য চা বানাচ্ছিলেন, তখন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর হামলা করা হয়। ওই কিশোর এবং তরুণীর মা পুলিশের কাছে নিজেরাই ধরা দিয়েছেন।

পুলিশ বলেছে, কিশোর ও তার মা মাথা কাটা তরুণীর সঙ্গে একটি সেলফিও তুলেছে।

নিহত তরুণীর পরিবারের অমতে গত জুন মাসে বাড়ি থেকে পালিয়ে তার প্রেমিককে বিয়ে করেন। ওই তরুণ একই জাতের হলেও পরিবারের আপত্তির কারণ ছিল— ছেলেটির পরিবার তাদের থেকেও বেশি দরিদ্র।

বিয়ের পর তরুণী তার পরিবারের সঙ্গে বিশেষ যোগাযোগ রাখতেন না, কিন্তু হত্যার ঘটনার এক সপ্তাহ আগে তরুণীর মা মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে যান। পুলিশ বলছে, তার মা জানতে পারেন তার মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, ভারতে পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে প্রেম বা বিয়ে করার কারণে প্রতি বছর শত শত হত্যার ঘটনা ঘটে।

এ ধরনের হত্যাকে প্রায়ই আখ্যা দেওয়া হয় ‘অনার কিলিং’ বা পরিবারের সম্মান রক্ষায় হত্যা বলে। ভারতীয় সমাজের নানা স্তরে এই পারিবারিক সম্মান এবং চিরাচরিত প্রথার শিকড় গভীরভাবে প্রোথিত হয়ে রয়েছে।

মার্চ মাসে ভারতেরউত্তরপ্রদেশের পুলিশ মেয়ের শিরশ্ছেদ করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ ওই ব্যক্তির একটি ভিডিও প্রকাশ করে,যেখানে তাকে বলতে শোনা যায়— তার মেয়ে এমন একজনের সঙ্গে প্রেম করছিল, যে প্রেম পরিবার সমর্থন করেনি। সে কারণেই তিনি তাকে হত্যা করেছেন।