শনিবার ,১৬ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 564

করোনায় অবস্থান সুদৃঢ় কতিপয় ব্যবসায়ীর

করোনার সময়ে কতিপয় ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন বড় গোষ্ঠীর অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে। এদের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ আগের চেয়ে আরও কমেছে। আর করোনা মোকাবিলায় সরকার যে প্রণোদনা দিয়েছে, ওই অর্থ ফিরে পাওয়া অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

 

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে সিপিডির নিজস্ব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন সংস্থাটির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এবং সিনিয়র রিসার্স ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। সংস্থাটির মতে, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) যে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে, তা অলৌকিকভাবে হিসাব করা হয়েছে। এ সময়ে ডিজেলের দাম কমানোর সুপারিশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৪ শতাংশ এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। যা বাস্তবতার সঙ্গে বিরাট ফারাক। সিপিডির মূল প্রবন্ধে বলা হয়, এখন পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে রাজস্ব আহরণ করছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে বাকি সময়ে ৩০ শতাংশ হারে রাজস্ব আদায় করতে হবে। এটা খুবই কষ্টকর। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে শুল্ক ও ভ্যাট মিলিয়ে পরোক্ষ করের ক্ষেত্রে ৩২ শতাংশের বেশি হারে আদায় করতে হবে। অন্যদিকে আয়করের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে ২৭ শতাংশ হারে কর আসতে হবে। রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে যে পদক্ষেপ রয়েছে, সেখানে কর আহরণ বৃদ্ধি করার খুব বেশি সুযোগ রয়েছে তেমনটা নয়। রাজস্ব আহরণে যদি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হয়, তাহলে বাজেট বাস্তবায়ন বড় হুমকির মুখে পড়ে যাবে। সিপিডির মূল প্রবন্ধে আরও বলা হয়েছে, এডিপি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গত বছরের তুলনায় বেশি হলে কোভিড পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় কম। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতের বাস্তবায়ন মাত্র ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। এমনিতেই এডিপি বাস্তবায়ন কম হয় সেখানে অতিমারির সময় স্বাস্থ্য খাতের এমন এডিপি বাস্তবায়ন খুবই নগণ্য। সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে যদিও আর্থিক ভারসাম্যে একটা উদ্বৃত্ত ছিল, কিন্তু সামগ্রিক ব্যালেন্সে নেতিবাচক ভারসাম্য লক্ষ্য করছি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর একটা চাপ পড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৪ শতাংশ এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। যা বাস্তবতার সঙ্গে বিরাট ফারাক। সিপিডির মূল প্রবন্ধে বলা হয়, এখন পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে রাজস্ব আহরণ করছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে বাকি সময়ে ৩০ শতাংশ হারে রাজস্ব আদায় করতে হবে। এটা খুবই কষ্টকর। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে শুল্ক ও ভ্যাট মিলিয়ে পরোক্ষ করের ক্ষেত্রে ৩২ শতাংশের বেশি হারে আদায় করতে হবে। অন্যদিকে আয়করের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে ২৭ শতাংশ হারে কর আসতে হবে। রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে যে পদক্ষেপ রয়েছে, সেখানে কর আহরণ বৃদ্ধি করার খুব বেশি সুযোগ রয়েছে তেমনটা নয়। রাজস্ব আহরণে যদি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হয়, তাহলে বাজেট বাস্তবায়ন বড় হুমকির মুখে পড়ে যাবে। সিপিডির মূল প্রবন্ধে আরও বলা হয়েছে, এডিপি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গত বছরের তুলনায় বেশি হলে কোভিড পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় কম। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতের বাস্তবায়ন মাত্র ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। এমনিতেই এডিপি বাস্তবায়ন কম হয় সেখানে অতিমারির সময় স্বাস্থ্য খাতের এমন এডিপি বাস্তবায়ন খুবই নগণ্য। সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে যদিও আর্থিক ভারসাম্যে একটা উদ্বৃত্ত ছিল, কিন্তু সামগ্রিক ব্যালেন্সে নেতিবাচক ভারসাম্য লক্ষ্য করছি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর একটা চাপ পড়ছে।

সিপিডি বলেছে, সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের টাকা বড় বড় উদ্যোক্তা পেয়েছেন। ঋণখেলাপিরাও পেয়েছেন। প্রণোদনা প্যাকেজের টাকা যাদের পাওয়ার কথা, তাদের কাছে টাকা পৌঁছায়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ক্ষতিগ্রস্তরা প্রণোদনার টাকা পাবেন।

কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তের সংজ্ঞা কী? নীতিতে দুর্বলতা থাকায় প্রণোদনার টাকা সঠিক জায়গায় যায়নি। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে আগামী অর্থবছরের বাজেটে প্রান্তিক মানুষের ওপর বেশি জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি। সিপিডির পক্ষ থেকেও প্রান্তিক মানুষকে নগদ আট হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ লাখ পরিবার বাছাই করা হলেও সবাইকে নগদ টাকা দেওয়া যায়নি। সুবিধাভোগীর তালিকা বাছাই প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা জানি সারের জন্য ৯ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি হিসাবে রাখা হয়েছে। কিন্তু এখন যেভাবে দাম বেড়েছে, তাতে ২২ হাজার থেকে ২৩ হাজার কোটি টাকার মতো প্রয়োজন হবে। কিভাবে সমন্বয় করবে সরকার? আবার গ্যাসের দামও বাড়ছে। যেভাবে রাজস্ব আহরণ হচ্ছে, তা দিয়ে মূল্য সমন্বয় করে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, বিদেশি বড় অর্থায়ন আসছে, এটা সত্য। তবে এটা কিন্তু বাজেটের সহায়তা নয়, প্রকল্পের সহায়তা। যেহেতু এটা বাজেটের সহায়তা নয়, তাই এটা দিয়ে ভর্তুকি সমন্বয় সম্ভব নয়। তিনি বলেন, পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই প্রণোদনা হিসাবে নগদ টাকা দিয়েছে। ফাহমিদা খাতুন বলেন, আমরা এখনো করোনা থেকে পরিত্রাণ পাইনি। অসংখ্য মানুষ করোনায় দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে। তাদের নগদ টাকা দিতে হবে। তিনি বলেন, প্রতি পরিবারে চারজন সদস্য ধরে এক মাসে খরচ আসে ৭ হাজার ২৯৭ টাকা। যদিও সরকার থেকে দেওয়া হয়েছে আড়াই হাজার টাকা করে। নগদ টাকা আরও বেশি সময় ধরে দেওয়া উচিত বলে মনে করেন ফাহমিদা খাতুন। তারমতে, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। কিন্তু সরকারি সংস্থা বিবিএসের তথ্যে দাম বাড়ার কোনো প্রতিফলন নেই। কারণ হতে পারে, বিবিএস যেসব পণ্যের ওপর ভিত্তি করে ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) করে থাকে, সেটি অনেক পুরোনো। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে মানুষের ভোগে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। তাই সময় এসেছে, ভোক্তা মূল্যসূচক করার জন্য নতুন পণ্যের বাস্কেট করতে হবে। কারণ, বাজারে বর্তমানে নিত্যপণ্যের দামের সঙ্গে বিবিএসের তথ্যে বেশ ফারাক দেখা যাচ্ছে।

ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, করোনা পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার টেকসই হচ্ছে না। টেকসই না হওয়ার কারণ হলো, নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের। সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলোও স্বস্তিতে নেই। করোনা মহামারির আগেও এসব সমস্যা ছিল। এখন তা বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, চালের কী পরিমাণ চাহিদা, তার মূল্যায়ন করা দরকার। দেশে চালের ব্যবহার বাড়ছে। চালের ভোগ কত? তার সঠিক তথ্য নেই। তিনি বলেন, আগের চেয়ে চালের চাহিদা বেড়েছে। চালের বাণিজ্যিক ব্যবহারও বাড়ছে। ভোগের বাইরেও চালের ব্যবহার বাড়ছে। এসব বিষয় হিসাবে আনা দরকার। ঘাটতি টানাপড়েনের সুযোগে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করে যাচ্ছেন। কতিপয় গোষ্ঠী চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। কিন্তু বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বেড়েছে বাজেট বাস্তবায়ন চাঙ্গা হচ্ছে অর্থনীতি

করোনা মহামারির ধকল কাটিয়ে ধীরে ধীরে চাঙ্গা হচ্ছে দেশের অর্থনীতি। চলতি অর্থবছরের (২০২১-২২) প্রথম ৫ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) বেড়েছে বাজেট বাস্তবায়ন হার।

 

বেড়েছে রাজস্ব আদায়ও। কমে আসছে ঘাটতি বাজেটের অঙ্ক। তবে ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ খাতের ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে এ সময় বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার।

তুলনামূলক কম ঋণ নিয়েছে সঞ্চয়পত্র থেকে। তবে একই সময়ে বিদেশি ঋণের প্রাপ্যতাও কমেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট ভারসাম্য ও অর্থায়নসংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, বছরের শুরুতে সরকারের টাকা খরচ অপেক্ষাকৃত বেশি হওয়ার কারণেই অর্থনীতিতে যে গতি ফিরছে, তারই ইঙ্গিত বহন করছে।

চলতি অর্থবছরে জিডিপির (গ্রস ডমেস্টিক প্রডাক্ট বা মোট দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য কয়েকটি নিয়ামক উল্লেখ করা হয়েছে অর্থ বিভাগের প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়, রাজস্ব আদায় গতি বাড়ছে। এডিপি বাস্তবায়ন হারও ভালো।

আমদানি-রপ্তানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে। তবে ওমিক্রনের কারণে ইউরোপের পরিস্থিতি কিছুটা খারাপ হলেও আমদানি ও রপ্তানি বাজার চীন, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা ভালো। ফলে প্রবৃদ্ধি অর্জনে এসব নিয়ামক হিসাবে কাজ করবে। বছর শেষে প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২ শতাংশ অর্জন সম্ভব হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাবেক সিনিয়র অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, চলতি বাজেট বাস্তবায়নের সূচকে যে চিত্র দেখা যাচ্ছে এটি অর্থনীতির জন্য ভালো। কারণ বছরের শেষ দিকে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি পায়। এবার শুরুতে বেড়েছে। আবার রাজস্ব আদায়ও ভালো। যে কারণে সরকার টাকা খরচের অঙ্ক বাড়াতে পারছে। তবে সতর্ক থাকতে হবে মূল্যস্ফীতি নিয়ে। যে কোনো মূল্যে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। দেশে অনেক দরিদ্র মানুষ রয়েছেন।

যাদের কোনো সঞ্চয় নেই। ফলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেলে চরম দুর্ভোগে তারা পড়বেন। তিনি আরও বলেন, সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে সীমারেখা দেওয়ায় ও সুদ হার কমানোর কারণে মানুষ আবার ব্যাংকে টাকা রাখছেন। সেখানে তারল্যও বেড়েছে। যে কারণে ব্যাংক থেকে বেশি ধার করা হচ্ছে।

সূত্রমতে, জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বাজেট থেকে টাকা খরচ করা হয় ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা। গত বছর একই সময়ে ব্যয় হয় ১ লাখ ২৪ হাজার ১৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ এ সময় খরচ বেড়েছে ৮ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা।

এদিকে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফেরায় রাজস্ব খাতেও আদায় গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। গত ৫ মাসে মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা। যা আগের বছরের একই সময় ছিল ১ লাখ ১১ হাজার ৬৫ কোটি টাকা।

সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে খরচ ভালো হচ্ছে। পুরোদমে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু এবং রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির কারণে এডিপিতে বেশি টাকা ব্যয় করতে পারছে সরকার। জুলাই-নভেম্বর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয় হয়েছে ৪৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। যা গত বছরে একই সময়ে ৩৮ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা এডিপির ব্যয় হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, করোনার কারণে মন্ত্রণালয়গুলো ৭৫ শতাংশ এডিপির অর্থ ব্যয় করার অনুমতি ছিল। বাকি ২৫ শতাংশের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। এখন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় এডিপির শতভাগ অর্থ ব্যয় করতে পারছে। যে কারণে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি ও ব্যয় দুটো বেড়েছে।

এ বছর বাজেট ঘাটতি বিগত কয়েক বছরের তুলনায় বেশি। এর মূল কারণ করোনা মোকাবিলায় চিকিৎসা খাত, টিকা ক্রয়, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যয় অনেক বেড়েছে। সে তুলনায় আয় বা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা খুব বেশি বাড়েনি। ফলে ৬ দশমিক ১ শতাংশের বড় ধরনের ঘাটতি নিয়ে বাজেট ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তবে অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৩২০ কোটি টাকা। যা গত বছর একই সময়ে ছিল ১২ হাজার ২০৭ কোটি টাকা।

এই ঘাটতি মেটাতে এখন সবচেয়ে বেশি ঋণ করা হচ্ছে ব্যাংকিং খাত থেকে। গত বছর এ সময় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হয় ১২ হাজার ৩৫ কোটি টাকা। অথচ এ বছর সেটি ১৯ হাজার ৭৬২ কোটি টাকায় পৌঁছে গেছে। ঋণ নেওয়া অপর খাত সঞ্চয়পত্র থেকে নেওয়া হয়েছে ১৪ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকার। যা গত বছর নেওয়া হয়েছিল ১৯ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বছরের শুরুতে ঋণের বিপরীতে সরকার ৬৮ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা সুদ বাবদ পরিশোধের জন্য রাখা হয়েছে। কিন্তু এখন ঋণের সুদ খাতের ব্যয় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ নিয়ে চিন্তিত অর্থ মন্ত্রণালয়। ফলে সুদ ব্যয় কমাতে ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং খাত থেকে বেশি ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ বিভাগ। কারণ সঞ্চয়পত্র থেকে কম সুদ হার ব্যাংক ঋণে। এদিকে বৈদেশিক ঋণ প্রাপ্যতা কমেছে। করোনার কারণে অনেক দেশ আগের মতো ঋণ সহায়তা দিচ্ছে না। কারণ করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি দেশ নিজস্ব অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ব্যস্ত। যে কারণে বৈদেশিক ঋণ কম পাওয়া যাচ্ছে। জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বিদেশ থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ হলো ১ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। যা আগের বছরে একই সময়ে ছিল ৪ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা।

চলতি বাজেটে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৫ দশমিক ৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও এটি শেষ পর্যন্ত ৫ দশমিক ৬ শতাংশে উঠতে পারে-এমন আশঙ্কা করছে অর্থ বিভাগ।

‘আমি সরকার দলীয় প্রার্থী হয়েও কোণঠাসা অবস্থায় আছি’

আমি সরকার দলীয় প্রার্থী হয়েও কোণঠাসা অবস্থায় আছি বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী। বুধবার রাতে শহরের দেওভোগস্থ বাসভবন ‘চুনকা কুঠিরে’ নারায়ণগঞ্জ খেলাঘর আসরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আইভী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমার মার্কা কিন্তু ওই আইভীই। যদিও আমার মার্কা ছিল মোমবাতি, মার্কা ছিল দোয়াত-কলম, মার্কা ছিল নৌকা, এখনো নৌকা কিন্তু আমি আপনাদের আইভী।

মেয়র আইভী বলেন, ২০১৬ সালের নির্বাচনেও আমি দেখেছি তখন সাখাওয়াত ভাই (বিএনপির সাবেক মেয়র প্রার্থী) সুবিধা পেয়েছিলেন। এবারো আমার চেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন তৈমুর আলম খন্দকার কাকা। আমি তাকে অনুরোধ করবো কারো প্ররোচনায় প্রভাবিত না হয়ে ভোট চাইতে। আপনার ভোট আপনি চান, আমার ভোট আমি চাই। দুইজন যে যার মতো ভোট চাইবো।

তিনি বলেন, আমি সরকার দলীয় প্রার্থী হয়েও কোণঠাসা অবস্থায় আছি।

আইভী বলেন, আমি কখনোই পক্ষপাতিত্ব করে কাজ করিনি। আমি কখনওই দেখিনি কে কোন দল মতের বা কে কোন ধর্মের। আমি কোনদিন দেখিনি কে কোন দল করে। আমি সব সময়ই চেয়ারে বসে মানুষের সেবা করেছি।

তিনি বলেন, আমাকে সর্বস্তরের মানুষ পছন্দ করে। এ শহরের মানুষ আমার দ্বারা কখনো নির্যাতিত হবে না। শহরে কেউ খুন করবে, চাঁদাবাজি করবে আমি চুপ করে বসে থাকবো- এমনটা আমি না। নির্বাচন ঘিরে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। আমরা জানি শহরবাসী জানে কারা এসব করছে। সুতরাং আমাদের এসব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে। অনেকেই বলেন ট্যাক্স বাড়িয়ে দিয়েছি। এটা মিথ্যা কথা। ট্যাক্স বরং কম দিচ্ছে নগরবাসী। আর এ ট্যাক্সের টাকায় আমি নগর ভবন করেছি যাতে মানুষ বলতে পারে এটা তাদের টাকায় করা।

তিনি আরও বলেন, ষড়যন্ত্র না হলে এতদিনে শীতলক্ষ্যা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর হয়ে যেত। এক সময়ে অনেকেই আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলত। কিন্তু এগুলো টিকেনি। কারণ আমি কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত না। আমি নিঃস্বার্থভাবে সবার সেবা করেছি। তাই আমার দাবি আছে ভোট চাওয়ার। আমাকে আবার সুযোগ দিবেন, বঞ্চিত করবেন না।

আওয়ামী লীগের ৫৮ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার

নওগাঁ, হবিগঞ্জ, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরসহ বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের ৫৮ নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপে ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী এবং দলের বিপক্ষে কাজ করায় তাদের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

 

নওগাঁ : নওগাঁর সাপাহারে আওয়ামী লীগের ছয় নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা হলেন- সাপাহার ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকবর আলী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ক্রীড়া সম্পাদক মেহেদী হাসান সরকার, আইহাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউজ্জামান টিটু মাস্টার, পাতারী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুকুল হোসেন, শিরন্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম আলতাফ মাস্টার ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মোহাম্মদ আনারুল ইসলাম চৌধুরী।

হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জের মাধবপুর, চুনারুঘাট ও বানিয়াচং উপজেলার আওয়ামী লীগের ২৫ জন নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতদের মধ্যে মাধবপুর উপজেলায় ১৩ জন, চুনারুঘাটে সাতজন ও বানিয়াচংয়ে পাঁচজন রয়েছেন। বহিষ্কতরা হচ্ছেন- মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক আহমেদ, বহরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান আরিফ ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মিছবাউর বার লিপু, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান দুলাল ও বহরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, জগদীশপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুদ খান, সাবেক সভাপতি নাছির উদ্দিন খান ও নোয়াপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল মনু, বুল্লা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান ও আওয়ামী লীগ নেতা বশির মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন আহাম্মদ এবং বাঘাসুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মিছবাহ উদ্দীন তালুকদার সোয়েব। চুনারুঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা তাজুল ইসলাম, সহ-সভাপতি আব্দুল লতিফ, উপজেলা যুবলীগের সদস্য মুহিতুর রহমান রুমন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাসছুজ্জামান শামীম, শানখলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম চৌধুরী এখলাছ, সাটিয়াজুড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদ এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক আনিছ আলী। বানিয়াচং উপজেলা বহিষ্কার করা হয় ১নং বানিয়াচং উত্তর-পূর্ব ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা এমএম হাফিজুর রহমান, দৌলতপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মঞ্জু দাস, উপজেলা যুবলীগের সদস্য মাসুদ আহমেদ কুরাইশী মক্কী, পুকড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা নাছির উদ্দিন, সুজাতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বাছির মিয়া।

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) : টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সরকারদলীয় ছয় নেতাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা হলেন- আনাইতারা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম, মহেড়া ইউনিয়নে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. বাদশা মিয়া, বাঁশতৈল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের (প্রস্তাবিত কমিটি) সদস্য মো. হেলাল দেওয়ান, সাংগঠনিক সম্পাদক (প্রস্তাবিত কমিটি) মো. লাল মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শামছুল আলম।

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) : হবিগঞ্জের মাধবপুরে ১৩ আওয়ামী লীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা হলেন- মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর আওয়ামী লীগ সভাপতি ফারুক আহম্মেদ পারুল, বহরা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান, সদস্য এহতেশাম উল বার চৌধুরী লিপু, আদাঐর ইউনিয়নের উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি হাবিবুর রহমান, যুবলীগ নেতা আশিকুর রহমান দুলাল, জগদীশপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুক খান, সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন খান, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিল মনু, বুল্লা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান, কৃষক লীগ নেতা বশির মিয়া, ছাতিয়াইন ইউনিয়নের উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থসম্পাদক শহিদ উদ্দিন আহমেদ ও বাঘাসুরা ইউনিয়নের মিজবাহ উদ্দিন তালুকদার সোয়েব।

রাজবাড়ী : রাজবাড়ী সদর উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন পরিষদের আট বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা হলেন- মিজানপুর ইউনিয়নের কবির উদ্দিন শিকদার বাবলু (সাবেক চেয়ারম্যান), আলীপুর ইউনিয়নের আবু বক্কর সিদ্দিক, মূলঘর ইউনিয়নের এসএ হিরু, সুলতানপুর ইউনিয়নের আব্দুর রাজ্জাক মিয়া (বর্তমান চেয়ারম্যান), বসন্তপুর ইউনিয়নের জাকির হোসেন সরদার (সাবেক চেয়ারম্যান) ও মির্জা বদিউজ্জামান বাবু (বর্তমান চেয়ারম্যান), খানগঞ্জ ইউনিয়নের আতাহার হোসেন তকদির (বর্তমান চেয়ারম্যান) ও রামকান্তপুর ইউনিয়নের আব্দুর রহিম মোল্লা (সাবেক চেয়ারম্যান)।

যে ২২ হাসপাতালে ফ্রি চিকিৎসাসেবা পাবেন মুক্তিযোদ্ধারা

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা দিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নবায়ন করা হয়েছে। এ সমঝোতা স্মারক আগামী পাঁচ বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ওই মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সচিব খাজা মিয়া এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পক্ষে সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া বৃহস্পতিবার সমঝোতা স্মারকে সই করেন। এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ২০১৮ সালে তিন বছরের জন্য এ দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছিল। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা এসব হাসপাতাল থেকে পাবেন। এর মধ্যে চিকিৎসা পরামর্শ, বিভিন্ন টেস্ট, ওষুধ, বেড, পথ্য এবং নার্সিং সেবাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২০১৫ সালের নীতিমালায় সংশোধনী এনে এ বছর সরকারি হাটবাজারগুলোর ইজারালব্ধ আয়ের চার শতাংশ অর্থ ব্যয় নীতিমালা জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, মন্ত্রণালয় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালসহ, মেডিকেল কলেজ ও ২২টি বিশেষায়িত হাসপাতালে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিনা মূল্যে ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা দিতে পারবে।

যে ২২ বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা পাবেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা, সেগুলো হলো:

ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর), জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতাল, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল।

এছাড়াও খুলনার শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল, গোপালগঞ্জের শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় হৃদ্‌রোগ ফাউন্ডেশন, ঢাকা এবং বারডেম জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা।

সূত্র: ডক্টর টিভি

উন্নয়ন সহযোগী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মালদ্বীপকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশটির সরকারি ও বেসরকারি খাতকে পারস্পরিক সুবিধার জন্য তিনি উন্নয়ন অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।

 

বৃহস্পতিবার মালদ্বীপের পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি বলেন, আমি আশা করি আমাদের দুই দেশের উষ্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুসংহত হবে।

বিশ্বের কোনো দেশ বিচ্ছিন্নভাবে উন্নতি করতে পারে না উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি সবাইকে শিখিয়েছে যে-আমরা পরস্পর নির্ভরশীল এবং একটি উন্নত, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বিশ্বের স্বার্থে আমাদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের ভ্রাতৃপ্রতিম প্রতিবেশীদের সঙ্গে সহযোগিতার নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছি, যেমনটি আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বলে গেছেন। মালদ্বীপের পার্লামেন্ট ‘পিপলস মজলিসে’ শেখ হাসিনা বলেন, আপনাদের উন্নয়নের যাত্রা, এলডিসি থেকে মধ্যম আয়ের দেশে আপনাদের সফল উত্তরণ প্রত্যক্ষ করে আমরা বিশেষভাবে উৎসাহিত হয়েছি এবং আমরা আশা করি, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ পরিপূরকগুলোকে কাজে লাগাবে।

তিনি বলেন, এ সুন্দর দেশের গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র, রাজনীতি ও নীতির এ আবাসস্থলে মজলিসের বিশিষ্ট সদস্যদের মাঝে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ পেয়ে আমি গভীরভাবে সম্মানিত। একটি ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের পার্লামেন্টে উপস্থিত হতে পেরে আমি আনন্দিত। তিনি আরও বলেন, মালদ্বীপের সঙ্গে আমাদের ঐতিহাসিক যোগসূত্র, বহুবিধ মিল, একই ধরনের চ্যালেঞ্জ এবং সমৃদ্ধির একটি যৌথ দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করে থাকি।

২০২১ সালটি বাংলাদেশ-মালদ্বীপ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি যুগান্তকারী বছর উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, যেখানে উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছে।

আশা করি দুই দেশের আগামী ৫০ বছরের যাত্রা আরও ফলপ্রসূ হবে এবং জনগণের জীবনে অর্থবহ পরিবর্তন আনবে। তিনি বলেন, আমি মালদ্বীপের জনগণ এবং এর অগ্রগামী নেতাদের জন্য সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করছি।

ভাষণে তিনি জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। যিনি তার (বঙ্গবন্ধু) সারাজীবন দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত শোষণ, বঞ্চনাহীন সমাজ বিনির্মাণে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে গেছেন। মার্চে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ যোগদান করায় তাকে শেখ হাসিনা ধন্যবাদ জানান।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তির পথ সহজ ছিল না। জাতির পিতা বাংলার মানুষের সুখের জন্য সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ২৪ বছরের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে তিনি প্রায় ১৩ বছর জেলে কাটিয়েছেন। জাতির পিতা ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশে ফিরে আসার পর তার জনগণের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির পুনর্গঠন ও পুনর্নির্মাণ শুরু করে মাত্র সাড়ে তিন বছরে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত সদ্যোজাত দেশকে স্বল্পোন্নত দেশের পর্যায়ে উন্নীত করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে, জাতির পিতাকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, আমি ও আমার ছোট বোন (শেখ রেহানা) সে সময় বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যাই এবং পরবর্তীকালে ছয় বছর প্রবাস জীবনে থাকতে বাধ্য হই। বাংলাদেশে ফিরে এসেও কারাবাস, একাধিক গুপ্তহত্যার চেষ্টা এবং অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এটা আমার সবচেয়ে বড় তৃপ্তি যে আজ বাংলাদেশ গণতন্ত্র ও বহুত্ববাদ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রশংসা অর্জন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু দেশের আর্থ-সামাজিক মুক্তির পথের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।

তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে এবং এ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দর্শন দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে, আমি ভাগ করে নিতে পেরে আনন্দিত যে, বাংলাদেশ গত এক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। আগের কয়েক বছরে গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের বেশি ছিল, মহামারির ঠিক আগে, আমাদের জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ। তিনি বলেন, আর্থ-সামাজিক সূচক বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়ন, মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্য, আয়ুষ্কাল, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার, স্যানিটেশন, পানীয় জল, প্রাথমিক শিক্ষা এবং সাক্ষরতা প্রভৃতি ক্ষেত্রে গত এক দশকে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধন করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের উন্নয়ন যাত্রার ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর করা হয়েছে। এরপর এখন লক্ষ্য হলো-২০৩১ সালের মধ্যে এসডিজির সব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে জ্ঞানভিত্তিক উন্নত দেশে পরিণত করা। তিনি আরও বলেন, ২১০০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ ও স্থিতিস্থাপক ডেল্টায় পরিণত করা।

তিনি বলেন, আপনারা হয়তো অবগত আছেন যে-জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এ বছর ২৪ নভেম্বর এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন ৪১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এবং বিশ্বের ৩৪টি বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে স্থান করে নিয়েছে।’

উন্নয়ন তার নিজস্ব চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এলডিসি হিসাবে আমরা যে সুবিধাগুলো উপভোগ করতাম তা প্রত্যাহারের পর আমরা যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হব তা মোকাবিলা করার জন্য, আমাদের ফোকাস হবে অর্থনীতির বৈচিত্র্যকরণ এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানের দিকে। তিনি বলেন, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে একটি প্রযুক্তিচালিত সমাজ এবং উদ্ভাবন-নেতৃত্বাধীন প্রবৃদ্ধিতে রূপান্তর করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

মালদ্বীপের পার্লামেন্ট ‘পিপলস মজলিসে’ শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান দেশটির স্পিকার মোহাম্মদ নাশিদ। স্পিকারের সঙ্গে তিনি বৈঠক করেন এবং সেখানকার দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

মালদ্বীপের পার্লামেন্টের স্পিকার তার বক্তৃতায় বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশের নেতৃত্বদানে শেখ হাসিনার ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ইস্যুগুলোতে সম্মত করাতে শেখ হাসিনাকে পাঁচ চুক্তি প্রণেতার অন্যতম হিসাবে বিবিসি রিপোর্টের কথাও উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রীকে স্পিকার একটি নৌকার চিত্রকর্ম উপহার দেন।

লঞ্চে ভয়াবহ আগুন: হাসপাতালে শিশু মারজিয়ার মৃত্যু

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ মারজিয়া আক্তার নামের এক শিশু মারা গেছে।

শুক্রবার দুপুরে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বলে ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাজমুল আলম নবীন জানিয়েছেন।

৭১ জনকে আহত ও দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বছরের শেষদিন বগুড়ায় মুক্তি পাবে ‘চিরঞ্জীব মুজিব’

বছরের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘চিরঞ্জীব মুজিব’ মুক্তি পাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা নিবেদিত চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাবে বগুড়ার মধুবন সিনেপ্লেক্সে। পর্যায়ক্রম দেশের সিনেমা হল বা সিনেপ্লেক্সে এটি প্রদর্শন করা হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য দেন চলচ্চিত্রটির পরিচালক এবং প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার নজরুল ইসলাম।

সভায় জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক, পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, মধুবন সিনেপ্লেক্সের মালিক আরএম ইউনুস রুবেল, সারিয়াকান্দি পৌর মেয়র মতিউর রহমান মতি, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ডাবলু, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি আলমগীর বাদশা, সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার রহমান শান্ত, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি নাইমুর রাজ্জাক তিতাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

‘চিরঞ্জীব মুজিব’ চলচ্চিত্রের পরিচালক নজরুল ইসলাম জানান, পাঁচ বছর নিরলস পরিশ্রম করে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অংশ তুলে ধরা হয়েছে। এ চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাপট ১৯৪৯ থেকে ১৯৫২ সাল। রাজনৈতিক নেতা থেকে নানা সংগ্রাম আর চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু’ হয়ে ওঠার সময়গুলো চিত্রায়ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নতুন প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধু এবং বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর বগুড়ার মধুবন সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পাচ্ছে ‘চিরঞ্জীব মুজিব’। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সিনেমা হল বা সিনেপ্লেক্সে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মতবিনিময় শেষে উপস্থিত রাজনীতিক ও সংবাদ কর্মীরা চলচ্চিত্রটির ট্রেইলার উপভোগ করেন। চলচ্চিত্রে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন আহমেদ রুবেল। বেগম ফজিলাতুন্নেছা রেণুর চরিত্র রূপায়ন করেছেন পূর্ণিমা এবং বঙ্গবন্ধুর বাবা ও মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেন খায়রুল আলম সবুজ এবং দিলারা জামান।

১৫ বছরের ছোট প্রেমিকের সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুললেন সুস্মিতা

সপ্তাহ খানেক ধরেই বলিউডের বাতাসে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল কাশ্মীরী প্রেমিক রোমান শলের সঙ্গে নাকি বিচ্ছেদ হয়ে গেছে সুস্মিতা সেনের। যদিও এ নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন ‍এই বঙ্গ সুন্দরী। তবে এবার এ নিয়ে কোনো লুকাছাপা না করে সরাসরিই বিচ্ছেদের ঘোষণা দিলেন সুস্মিতা স্বয়ং। নিজের ইনস্টাগ্রামে বৃহস্পতিবার রোমানের সঙ্গে একটি যুগল ছবি দিয়েই বিচ্ছেদের ঘোষণা দিলেন এই নায়িকা।

রোমান শলের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে সুস্মিতা লিখেছেন, আমরা বন্ধুত্ব দিয়েই শুরু করেছিলাম। বন্ধুই রয়েছি। সম্পর্কটা অনেক আগেই শেষ হয়ে গেল। তবে ভালবাসা রয়ে গেছে!!

হ্যাশট্যাগে উল্লেখ করে দিলেন, আর কোনো ভনিতা নয়। বাঁচো আর বাঁচতে দাও। তবে স্মৃতির পাতায় যে রোমানের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো রয়ে যাবে, সেকথাও জানিয়েছেন এই নায়িকা।

রোমান-সুস্মিতার প্রেম কাহিনির সূত্রপাত ইনস্টাগ্রামের সৌজন্যে। রোমান কাশ্মীরের ছেলে। বড় হয়েছেন নৈনিতালে। দেরাদুনে ইঞ্জিনিয়ারিং এর পড়াশুনো শেষ করে হঠাৎ করেই মডেলিং শুরু করেন। পাঁচ-ছয় বছর মডেলিং করার পর মুম্বাইতে পাড়ি দেন। মুম্বাইতে থাকতে থাকতে ইনস্টাগ্রাম মেসেজের সৌজন্যে সুস্মিতার সঙ্গে তার পরিচয়। সুস্মিতাকে এই সোশ্যাল মিডিয়ায় ম্যাসেজ পাঠিয়েছিলেন তার চেয়ে বয়সে ১৫ বছরের ছোট রোমান।

তারপর সেই আলাপ থেকে বন্ধুত্ব, তারপর প্রেম! ২০১৮ সালের জুলাই মাস থেকে শুরু হয় এই অসম প্রেমের। এক সময় রোমান সুস্মিতার সঙ্গে এসেই থাকতে শুরু করেন।

সম্প্রতি গুজব উঠে, রোমান আর সুস্মিতার বাড়িতে থাকছেন না। এছাড়া দুই জনের মধ্যে সম্পর্ক এমন পর্যায় এসে পৌঁছেছিল যে, সপ্তাহ খানেক আগে সোশ্যাল মিডিয়াতেও একে-অপরকে আনফলো করে দিয়েছেন। সেই থেকে তাদের বিচ্ছেদের গুঞ্জন ওঠে। অবশ্য সেই গুঞ্জনকেই সত্যি করে বৃহস্পতিবার বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন সুস্মিতা।

প্রমীলা ফুটবলারদের পর দেশের মুখ উজ্জ্বল করলেন জিদান

ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুরের নারী ফুটবলারদের ইতিহাস সবারই জানা। বৃহস্পতিবার কমলাপুর স্টেডিয়ামে বিজয়ী বাংলাদেশ নারী ফুটবল অনূর্ধ্ব-১৯ দলেও ছিল কলসিন্দুরের ৪ জন খেলোয়াড়।

ফুটবলের পাশাপাশি এবার অ্যাথলেটিক্সেও কলসিন্দুর এলাকার সারজিল হাসান জিদান খান বাংলাদেশের হয়ে স্বর্ণ জিতেছেন। গত ৬ ডিসেম্বর নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান গেমসে জুনিয়র অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় ৪০০ মিটার দৌড়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে স্বর্ণ জিতেছেন সারজিল হাসান জিদান খান।

দেশের হয়ে শিরোপা জেতায় ধোবাউড়া উপজেলার মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে সারজিল হাসানের প্রশংসা করা হচ্ছে। সারজিল হাসানের জন্ম ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর গ্রামের পার্শ্ববর্তী রনসিংহপুর গ্রামে।

ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা নিয়ে বেশ আগ্রহ ছিল। ধোবাউড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা শেষ করে সপ্তম শ্রেণিতে বিকেএসপিতে ভর্তি হন জিদান।

এর আগে ময়মনসিংহ আলহেরা ক্লাবে প্রথমে ক্রিকেট অনুশীলন করলেও তার অসাধারণ গতির জন্য বিকেএসপির অ্যাথলেটিক্স ক্যাম্পে ডাক পড়ে। সারা দেশের ৪০ জনকে নিয়ে গড়া ক্যাম্পে যে ৪ জন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয় তাদের একজন জিদান। পরে বিকেএসপিতে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা শুরু করে।

জিদান এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। ২০১৯ সালে ভারতে একটি আমন্ত্রণমূলক খেলায় ২০০ মিটার স্প্লিন্টে রৌপ্য জিতেছিলেন। এ বছর বাংলাদেশের হয়ে স্বর্ণ জিতেছেন জিদান।

এ ব্যাপারে সারজিল হাসান জিদান খান জানান, তার লক্ষ্য আরও স্বর্ণ জিতে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করা।

সারজিল হাসান জিদান খানের বাবা স্থানীয় একটি দাখিল মাদ্রাসার সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, আমার ছেলে দেশের হয়ে স্বর্ণ জিতেছে এজন্য আমি অনেক খুশি। তাকে উৎসাহ এবং সহযোগিতা করলে দেশের সুনাম বয়ে আনবে বলে আমি মনে করি।