শনিবার ,১৬ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 560

সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়লেন ওবায়দুল কাদের

সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

রোববার সকালে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

এদিন সকাল পৌনে ১০টায় মন্ত্রণালয়ে কাজে যোগ দেন ওবায়দুল কাদের। সেখান থেকে তিনি ভার্চুয়ালি দিনের নির্দিষ্ট কর্মসূচিতে অংশ নেন।

গত ১৪ ডিসেম্বর বুকে ব্যথা নিয়ে বিএসএমএমইউয়ে ভর্তি হয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের।

হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করায় মঞ্জুকে অব্যাহতি

দলীয় শৃঙ্খলা ফেরাতে হার্ডলাইনে বিএনপি। শনিবার কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) পদ থেকে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে অব্যাহতি দেওয়ার মাধ্যমে তৃণমূলকে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রভাবশালী এই নেতার বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কী- তা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মধ্যেও দেখা গেছে কৌতূহল। তবে দলটির নীতিনির্ধারকরা জানান, সম্প্রতি খুলনা জেলা ও মহানগর শাখার কমিটি ঘোষণার পর মঞ্জুর কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট হয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। দায়িত্বশীল পদে থেকে ওই কমিটির বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি মূলত হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। ব্যবস্থা নেওয়া না হলে দল পুনর্গঠনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ত।

 

তবে গুরুত্বপূর্ণ এই নেতাকে অব্যাহতি দেওয়া নিয়ে ভিন্ন মতও পাওয়া গেছে। কেন্দ্রীয় একজন সিনিয়র নেতা জানান, মঞ্জুকে সতর্ক করা যেত। কিন্তু তা না করে দলের শীর্ষনেতৃত্বকে ভুল বুঝিয়ে দলের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা দল থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। তার মতে, বিএনপির সমাবেশ কর্মসূচি চলাকালে তার মতো সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক নেতার অব্যাহতির মধ্য দিয়ে পুরো দল, এমনকি দেশের তৃণমূলে নেতিবাচক বার্তা পৌঁছেছে। এতে বিএনপিরই ক্ষতি হলো।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শনিবার বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, নজরুল ইসলামকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। চিঠি দিয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দেওয়া কমিটির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে সংবাদ সম্মেলন করায় মঞ্জুকে ১৩ ডিসেম্বর শোকজ করা হয়। তিন দিনের মধ্যে তিনি শোকজের জবাব দেন। ৫ পৃষ্ঠার জবাবেও সত্য গোপন করে ভুল তথ্য দিয়ে অযোগ্য লোকদের নেতৃত্বে বসানোর কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে যোগ্য ও ত্যাগীদের দিয়ে কমিটি পুনর্গঠনের অনুরোধ জানান। তার ওই জবাবে হাইকমান্ড সন্তুষ্ট না হওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা কেউ কথা বলতে রাজি হননি। দলটির একজন দায়িত্বশীল নেতা জানান, দলের হাইকমান্ডকে চ্যালেঞ্জ করে সংবাদ সম্মেলন করার বিষয়টি ভুল স্বীকার করে আবেদন করলে বিবেচনা করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে অব্যাহতি প্রত্যাহারও করতে পারেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম মঞ্জু যুগান্তরকে বলেন, পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে দল আমার প্রতি অবিচার করেছে। অগ্রহণযোগ্য নেতাদের নিয়ে কমিটি দেওয়া হয়েছে আমি সেটি ছোট আকারে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলাম। আমি তো অসত্য কিছু বলিনি। দুর্বৃত্তায়ন ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে এবং যারা অসৎ উদ্দেশ্যে দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে নিজেদের মতো করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে বলেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে জিয়াউর রহমানের দল সততা, নিষ্ঠা ও ভালো মানুষের দল হবে- একথাগুলোই বলেছি। আমার নিজের জন্য বা দলের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলিনি। হাইকমান্ডের বিরুদ্ধেও কোনো কিছু বলিনি। সত্য গোপন করে ভুল তথ্য দিয়ে অযোগ্য লোকদের নেতৃত্বে বসানোর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে বলেছি।

এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, কোথায় যাব। আমি বিএনপির লোক, এই দলেই থাকব। বিএনপির কর্মী আমি। দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে বিএনপি করি। জিয়াউর রহমানের আদর্শে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ও বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজনীতি করি। দলের এই দুঃসময়ে দল যেন সঠিক পথে থাকে, সঠিক ধারায় থাকে সেটাই চাই। কখনও শৃঙ্খলা ভঙ্গ করিনি। দলের সব কর্মসূচি সততা, নিষ্ঠার সঙ্গে বাস্তবায়ন করেছি। খুলনায় সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সাহসী পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছি।

৯ ডিসেম্বর খুলনা মহানগর ও জেলা শাখা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হয়। এ কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র মনিরুজ্জামান মনি বাদ পড়েন। নতুন কমিটিতে তাদের কোনো অনুসারীকেও রাখা হয়নি। এ ঘটনায় সেখানে নেতাকর্মীদের একটি অংশের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে কমিটি ঘোষণার দুই দিন পর খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে। ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের নিয়ে ওই সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু কমিটির বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে বলেন, ‘বিতর্কিত ও সুবিধাবাদী নেতৃত্ব রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিরোধী। যা খুলনার বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনে বিশ্বাসীরা প্রত্যাখ্যান করেছে। এই কমিটির প্রতি খুলনা বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীর কোনো সমর্থন নেই, আস্থা নেই ও বিশ্বাস নেই।’

নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক দলটির একাধিক নীতিনির্ধারক জানান, ২০১৮ সালে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সে সময় তার কর্মকাণ্ড নিয়ে দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ কেন্দ্রে অভিযোগ দিয়েছিলেন, তিনি জয়ের জন্য নির্বাচন করেননি। পরে এ নিয়ে তদন্ত করা হলে কিছু অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। সে থেকেই তার বিষয়ে অসন্তুষ্ট দলের হাইকমান্ড।

স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানান, খুলনা বিএনপির রাজনীতিতে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর ত্যাগ রয়েছে- যা দলের সবাই স্বীকার করেন। খুলনার কমিটি গঠনের আগে তা নিয়ে তাকে একাধিকবার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলার জন্য বলা হয়েছিল। তিনি বলেননি। কমিটি গঠনের পর তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক সম্পাদকের মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে সংবাদ সম্মেলন করা ঠিক হয়নি। বিএনপি একটি বড় দল। ত্যাগীদের বাদ দেওয়া হলে তা মহাসচিব ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে লিখিত জানালে সমাধান পেত। এ ঘটনায় তৃণমূলে বার্তা দেওয়া হয়েছে দলের শৃঙ্খলা নষ্ট করা হলে যেই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থায়ী কমিটির ওই সদস্য আরও জানান, জেলা কমিটির নেতৃত্ব স্থানীয় নেতাদের হাতেই দিতে চায় বিএনপি। সেক্ষেত্রে দুই পদে থাকা নেতারা শুধু কেন্দ্রের পদে থাকতে পারবেন। বেশ কয়েকটি জেলায় দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ পদ আঁকড়ে থাকা নেতাদের এবার বাদ দিয়ে নতুন কমিটি করা হচ্ছে। এটি করতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। কারণ ওইসব জেলায় নতুন নেতৃত্ব তৈরি হয়নি। তাই অনেক যাচাই-বাছাই করে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের নতুন কমিটিতে আনা হয়েছে। সেক্ষেত্রে কিছু ত্যাগী নেতা বাদ পড়তে পারেন। তাদের নামের তালিকা সংগ্রহ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন কমিটিতে তাদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

বিএনপির একাধিক সাংগঠনিক সম্পাদক জানান, সম্প্রতি ঘোষিত বরিশাল মহানগর কমিটি থেকে কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ারসহ তার অনুসারীদের বাদ দেওয়া হয়। সেখানে নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ ক্ষুব্ধ ছিলেন। কিন্তু তারা প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি পালন করেননি। একই অবস্থা রাজশাহী মহানগরেও। সেখানে নতুন কমিটি থেকে বাদ পড়েন প্রভাবশালী নেতা সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কমিটিতে স্থান পাননি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদের অনুসারীরা। এসব জেলায়ও একটি গ্রুপ নতুন কমিটির বিরুদ্ধে। কিন্তু কমিটিতে তাদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কেন্দ্রের আশ্বাস পেয়েছেন। সব জেলাকে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে, কমিটি গঠনের পর কোনো আপত্তি বা দাবি থাকলে তা মহাসচিব ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। এ নিয়ে দলে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক রিয়াজউদ্দিনকে শ্রদ্ধা

একুশে পদকপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, দ্য ফিন্যান্সিয়াল হেরাল্ডের সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদের মরদেহ জাতীয় প্রেসক্লাবে নেওয়া হয়েছে।

রোববার বেলা ১১টার দিকে তার লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স প্রেসক্লাব চত্বরে পৌঁছায়। এর পর সেখানে তার প্রথম জানাজা হয়।

জানাজায় অংশ নেন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলমসহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

জানাজা শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খানের নেতৃত্বে জাতীয় প্রেসক্লাবের নেতারা রিয়াজউদ্দিনের কফিনে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান।

এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তার কফিনে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রিয়াজউদ্দিনের লাশ নিয়ে যাওয়া হবে তার জন্মস্থান নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার গ্রামের বাড়িতে। সেখানে জোহর নামাজের পর তার দ্বিতীয় জানাজা হবে।

এর পর শেষ জানাজা হবে রাজধানীর বনানীর বাসভবনে। বাদ আসর সেখানে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে শায়িত করা হবে।

গত শনিবার রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারা যান একুশে পদকপ্রাপ্ত এ সাংবাদিক।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রিয়াজউদ্দিন আহমেদ ইউনাইটেড হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন।

দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস এবং দি নিউজ টুডে পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন রিয়াজউদ্দিন আহমেদ। এ ছাড়া তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি, অবিভক্ত ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন।

সাংবাদিকতায় গৌরবময় অবদানের জন্য ১৯৯৩ সালে রিয়াজউদ্দিন আহমেদ একুশে পদক লাভ করেন।

আ.লীগ নেতা হত্যাকাণ্ডে ১৩ জনের ফাঁসির আদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক হত্যা মামলায় ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া ৮ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রোববার দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এই রায় ঘোষণা করেন।

নিহত জহিরুল হক শহরের জগতবাজারের সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী ছিলেন।

২০১৬ সালের ১৪ নভেম্বর সন্ধ্যার পর সিএনজিচালিত রিকশায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া উত্তর পৌরতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে জহিরুল হক নিজ গ্রাম পয়াগে ফিরছিলেন।

ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে করে আসামিরা তার সিএনজি আটকে জহিরুলকে আক্রমণ করে মারাত্মক জখম করেন আসামিরা। সিএনজিচালক গোলাপ মিয়াও আঘাতপ্রাপ্ত হন। এ সময় মোটরসাইকেল দুটিসহ আসামি শিথিল ও ফারিয়াজকে আটক করে পুলিশে দেন স্থানীয়রা।

জহিরুল হক ওইদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই কবির হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ২১ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলার আসামিরা হলেন – বসু মিয়া, হাবিবুর রহমান, শহিবুর রহমান ওরফে শুক্কি, কবির মিয়া, সাচ্চু মিয়া, মোখলেছ মিয়া, রুহান ওরফে বোরহান, শিথীল আহমেদ ওরফে ফাহিম আহমেদ, রহমত উল্লাহ ফারিয়াজ।

যেভাবে হাফেজ হলেন ইংলিশ মিডিয়ামের ৩৮ শিক্ষার্থী

পবিত্র কুরআনের হিফজ সম্পন্ন করেছেন রাজধানীর একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ৩৮ জন শিক্ষার্থী।

করোনা মহামারির সুযোগ কাজে লাগিয়ে গত দুই বছরে তাদের অধিকাংশ ৩০ পারা কুরআন মুখস্ত করেছেন বলে জানা গেছে।

রাজধানীর লালমাটিয়ার ওয়েটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্কুলের শিক্ষকদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসব শিক্ষার্থী কুরআনের হাফেজ হয়েছেন। এদের মধ্যে ২৮ জন ছেলে এবং ১০ জন মেয়ে শিক্ষার্থী।

মূলত ক্যামব্রিজ পাঠক্রম অনুকরণে স্কুলটিতে আরবি ভাষা ও ইসলাম শিক্ষা সব ক্লাসের আবশ্যিক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। নিয়মিত ক্লাসের পাশাপাশি আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য কুরআন হিফজের ব্যবস্থা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ওয়েটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবদুল্লাহ জামান জানিয়েছেন, ক্লাসের স্বাভাবিক পড়াশোনা নিশ্চিত করে এর পাশাপাশি কুরআন হিফজের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রতিদিন ফজর নামাজের পর দুই ঘণ্টা এবং বার্ষিক বিভিন্ন ছুটির সময়কে কাজে লাগিয়েই কুরআন হিফজ শেষ করেছে এসব শিক্ষার্থী।

তিনি আরও বলেন, আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত কুরআন শিক্ষার ক্লাস চালু করি। নির্দিষ্ট সময় পর এই ক্লাসের হিফজে আগ্রহীদের জন্য হিফজ কোর্স চালু করা হয়। সাধারণত প্রতিদিন সকালে দুই ঘণ্টা, রমজান মাস ও শীতকালীন ছুটির সময়ে এই কোর্সের শিক্ষার্থীরা বেশি সময় হিফজে ব্যয় করে বলে জানান তিনি।

নারীদের ধর্ম প্রচারে ইসলাম কী বলে?

ইসলাম বিশ্বজনীন এক ‍চিরন্তন ও শাশ্বত পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। ইসলামে রয়েছে নারীর সম্মান, মর্যাদা ও সকল অধিকারের স্বীকৃতি।

ইসলাম নারীকে মানবসভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং মৌলিক অধিকার ও সামাজিক মর্যাদায় পুরুষের সমান অংশীদার মনে করে।

মানবসভ্যতার বিকাশে নারীর ভূমিকা সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মানবজাতি! আমি তোমাদেরকে একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি। পরে তোমাদের বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত হতে পারো।’ (সুরা: হুজরাত, আয়াত: ১৩)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘পুরুষ ও নারীদের মধ্যে যে ঈমানের সঙ্গে ভালো কাজ করবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি অণু পরিমাণ অবিচার করা হবে না।’ (সুরা: নিসা, আয়াত: ১২৪)

ইসলাম প্রচারে পুরুষদের মতো নারীদেরও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। দ্বীন তথা ইসলামের প্রচার-প্রসারে নারীদের যথাযথ ভূমিকা পালনের মাধ্যমে মানবজীবনে পূর্ণ দ্বীন বাস্তবায়ন এবং ইহকালীন ও পরকালীন সফলতা অর্জন সম্ভব।

এ প্রসঙ্গে হযরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই নারীরা হলো পুরুষদের সহোদরা।’

পবিত্র কোরআনে এমন একাধিক নারীর উল্লেখ রয়েছে, যারা মানব ইতিহাসের নানা অধ্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘(বহু) পুরুষ নারীর সমতুল্য নয়।’ (সুরা: আলে-ইমরান, আয়াত: ৩৬)

এই পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবিদের মধ্যে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও ছিল। ইসলামের দৃষ্টিতে নারীর জীবন এক মহিমান্বিত জীবন। ইসলাম ধর্ম প্রচার ও প্রসারে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে যেসব নারী জীবনের মায়া ত্যাগ করে সোনালি ইতিহাস গড়ে গেছেন, তাদের অনুসৃত পথেই বর্তমানের নারীদের চলতে হবে। সে পথে চলার জন্য সম্মিলিতভাবে সব নারীকে আহ্বান করতে হবে। তাহলেই নারী জীবনে পূর্ণতা আসবে।

তাই নারীদের প্রধানতম কর্তব্য হলো সমাজের বিভিন্ন মহলের নারীদের কাছে ইসলামের অমিয় বাণী পৌঁছানো, দ্বীনের আলো ছড়ানো।

দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে হলে দ্বীনকে প্রচারের মাধ্যমে মজবুত করতে হবে।হযরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নতকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে। মানুষের যাবতীয় কল্যাণ ও সফলতা আল্লাহর আদেশ পালন ও সুন্নতওয়ালা কাজের মধ্যে নিহিত।

ইতিহাস সাক্ষী, বহু নারী আল্লাহর রাস্তায় মেহনতের মাধ্যমে অলংকৃত করে গেছেন এই দ্বীনকে। যুগশ্রেষ্ঠ সেই নারীদের সংখ্যা কিন্তু কম নয়।

বলা হয় নারীর সাধনাই হলো মহান ব্যক্তিত্বের মূল ভিত্তি। নারী সাহাবিরা দৃঢ় মনোবল, ধৈর্য, আগ্রহ ও অসীম সাহসিকতার বলে ইসলাম ধর্মের খেদমতে অপূর্ব দৃঢ়তার পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন, যা ইতিহাসে বিরল।

ঐতিহাসিক মহীয়সী নারীরা হযরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন রক্ষার্থে প্রাণপণ যুদ্ধ করে শত্রুদের মোকাবিলা করেছিলেন।

ইসলামের দৃষ্টিতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেক মুসলিমের জন্য সাধ্যানুযায়ী দাওয়াতি কাজ করা তথা ইসলাম প্রচারে অবদান রাখা ফরজ। তবে সকলেই

অবশ্যই ইসলামি শরিয়তেরর গণ্ডীর মধ্যে থেকে তা করবে। ইসলামি শরিয়তের বিধান লঙ্ঘন করে দাওয়াতি কাজ করা বৈধ নয়।

যা হোক, আধুনিক যুগে পর্দা রক্ষা করে এবং শরিয়তের সীমারেখার মধ্যে থেকে নারীদেরও ইসলাম প্রচারে অংশ গ্রহণের পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে আলহামদুলিল্লাহ।

নিম্নে মহিলাদের দাওয়াতি কার্যক্রম করার দশটি পদ্ধতি ও ধারণা পেশ করা হল:

১. নিজ স্বামী/ সন্তান-সন্ততিকে ইসলামের সঠিক আদর্শ শিক্ষা দেয়া। সন্তানদেরকে ইসলামের আলোকে গড়ে তোলার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাওয়াতি কাজ আর নেই। একজন নারী তার সন্তানদের প্রথম শিক্ষক এবং মায়ের কোল সন্তানের প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

সুতরাং প্রতিটি মা যদি তার সন্তানকে ইসলামের আলোকে গড়ে তোলেন তাহলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চেয়ে এই শিক্ষা তার জীবনে সবচেয়ে বেশি কাজে লাগবে ইনশাআল্লাহ।

২. নিজ আবাস গৃহে পার্শ্ববর্তী মহিলাদেরকে ইসলাম শিখানোর ব্যবস্থা করা। যেমন: সাপ্তাহিক বা মাসিক দরসের ব্যবস্থা। তবে এ ক্ষেত্রে বাড়িতে আগন্তুক মহিলাদের জন্য পূর্ণ পর্দার বন্দোবস্ত করা জরুরি।

৩. স্বামী বা মাহরাম সহকারে দূরে কোথাও দাওয়াতি কাজের জন্য গমন করা। কিন্তু স্বামী বা মাহরাম ছাড়া দূর দূরান্তে দাওয়াতি কাজ করতে যাওয়া বৈধ নয়; অন্য মহিলাদের সাথে হলেও। যেমনটি বর্তমানে অনেক স্থানে দেখা যায়।

৪. মহিলা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত হলে ছাত্রীদের মাঝে দাওয়াতি কার্যক্রম করা।

৫. ঘরে বসে ইসলাম বিষয়ে লেখা ও তা বই/লিফলেট আকারে প্রকাশ করা এবং বিভিন্ন ম্যাগাজিন বা পত্রিকায় ছাপানোর জন্য পাঠানো।

৬. ঘরে বসে ওয়েবসাইট/ব্লগ পরিচালনা করা ও তাতে ইসলাম বিষয়ে লেখালেখি করা।

৭. ফেসবুক, টুইটার সহ বিভিন্ন সোশ্যাল নেটওয়ার্কে ইসলামের বাণী ছড়িয়ে দেয়া।

৮. নিজে বই-পুস্তক লেখার যোগ্যতা না রাখলে অর্থ দিয়ে কোন ভালো মানের আলেমের লেখা বই ছাপিয়ে সেগুলো বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা।

৯. মাদরাসা, স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি, ছাত্রী হোস্টেল, হসপিটাল বা নিজস্ব কর্মস্থলে ছাত্রী/মহিলা সহকর্মীদের মাঝে দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করা।

১০. মোবাইল, মেমোরি কার্ড বা ফ্লাশের মাধ্যমে সহীহ আকিদা নির্ভর আলিমদের বিভিন্ন লেকচার অন্যদের সাথে শেয়ার করা অথবা ভালো মানের বক্তৃতাগুলো বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে আপলোড করে সেগুলো ছড়িয়ে দেয়া।

তবে সর্বাবস্থায় মনে রাখতে হবে যে, দাওয়াতি কাজে এত বেশি মগ্ন থাকা উচিৎ নয় যে, স্বামী-সন্তানদের উপর অপরিহার্য হক আদায়ে গাফলতি সৃষ্টি হয়।

মহান রাব্বুল আ’লামীন এসব পূর্ণাঙ্গরুপে পালন করার তাওফিক সকলকে দান করুন। আমীন।

লেখক: শিক্ষার্থী,বাংলা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

পলা’র গল্প

অনেকটা বেকায়দা সময়ে মারা গেলেন জোহরা বেগম। ঠিক মাগরিবের নামাজের পর পর। একে তো গ্রাম, তার ওপর আবার শীতকাল। সন্ধ্যা হতেই চারদিকে অন্ধকার হয়ে যায়। সঙ্গে তীব্র শীত। পলা পড়ল ভীষণ বিপদে। ঘরে বলতে গেলে পলা একাই। বিধবা জোহরা বেগমের চার সন্তানের কেউ এখানে থাকে না। এখন এ মৃত বাড়িতে পলার এক মাত্র সঙ্গী হলো তুতু। তুতু ওর পোষা কুকুর। তুতুকে বসিয়ে রেখে পলা গেল প্রতিবেশীদের খবর দিতে। মায়ের মৃত্যু সংবাদ পেয়েই রওনা দিয়েছে জবা। জবা জোহরা বেগমের বড় মেয়ে। পাশের গ্রামেই জবার শ্বশুরবাড়ি। এত কাছে থাকে জবা। তবু বিধবা মাকে দেখতে আসার সময় হয় নাই এতদিন!

জোহরা বেগমের আরেক মেয়ে বকুল। থাকে জেলা শহরে। সে সাত দিনের পোয়াতি। যদিও বকুলের স্বামী তাকে যেতে বলেছিল! কিন্তু বকুল বাজখাই গলায় প্রতিবাদ করেছে-এ অবস্থায় আমি কীভাবে যাই মরা বাড়িতে? যদি বাচ্চার অমঙ্গল হয়? এই বলে কাঁদতে থাকে বকুল। বকুলের স্বামী আর দেবর আসবে মাটি দিতে। জোহরা বেগমের ছোট মেয়ে পারুল। ইঞ্জিনিয়ার স্বামীর সঙ্গে সে সিরাজগঞ্জ থাকে। এখন ডিসেম্বর মাস তাই সামনে ছেলেদের বার্ষিক পরীক্ষা। অনিচ্ছা সত্ত্বেও স্বামীসহ রওনা দিয়েছে পারুল। দিনাজপুরে আসতে আসতে তার অনেক রাত হবে। সবাইকে ফোন দিয়ে পলা শেষে ফোন দেয় ছোটনকে। জোহরা বেগমের আদরের ছেলে ছোটন। ছোটন ঢাকায় থাকে। অনেক বড় চাকরি করে ছোটন।

-তুমি রাইতের ট্রেন ধইরা চইলা আসো ছোটন। না হইলে ছোট আম্মারে মাটি দিতে পারবা না। এই বলে ঝরঝর করে কেঁদেছিল পলা। এরপর আর একটিবারের জন্য কাঁদেনি পলা। আসলে কান্নার সুযোগটাই বা পেল কোথায় সে? এক হাতে সবকিছু করছে পলা। দাফন, কাফন, জানাজা আয়োজন সবকিছু। তাই মরা বাড়ির মরা কান্নায় গতি আসে না। অবশেষে জবা আসাতে কিছুটা রক্ষা। জবা মেয়েলি কান্নায় মরা বাড়ির পরিবেশ ভারী করে রাখল।

পলা একটা হ্যাজাক বাতি ভাড়া করে উঠানে ঝুলিয়ে দিল। হ্যাজাকের আলোতে আলোকিত হলো জোহরা বেগমের বসতবাটি। বাড়ির দুই দিকে প্রাচীরের মতো টানা বাংলাঘর। পেছনে রান্নাঘর। দেউড়িতে দুটি অশ্বথগাছ ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। বাড়ির সামনে একটা পুরোনো খানকাঘর।

খানকাঘরে মুসল্লিরা জড়ো হয়েছে। বড় হুজুর পলাকে বললেন,

-কখন দাফন করবা ঠিক করলা কিছু পলা? আরও রাত করলে কবর দেওয়ার মতো মুসল্লি পাওয়া যাবে না।

-ছোট আম্মার শেষ ইচ্ছা ছিল ছোটনকে দেখবে। ছোটন আসার আগে লাশ দাফন করি কেমনে হুজুর? মাঝরাতের ট্রেনে ছোটন আসবে।

-সবই আল্লাহর ইচ্ছা। কাল বাদ ফজর মুর্দার মাটি হবে।

হুজুরের এক ঘোষণায় খানকাঘর খালি হয়ে গেল। বাড়ির ভেতরে যে প্রতিবেশী দুই-একজন মহিলা ছিলেন তারাও চলে গেলেন। জোহরা বেগমের খাটিয়াটি রাখা হয়েছে বাংলাঘরের বারান্দায়। পলা, জবা আর শেফালির স্বামী থাকল লাশ পাহারায়। কিছুক্ষণ আগে জবাও চলে গেল কোনো এক অজুহাতে। জবা চলে যেতেই মরা বাড়ির মরা কান্না একেবারে থেমে গেল। সারা বাড়ি নিশ্চুপ নির্জন। একটু আগে স্টেশনের ঘড়িতে রাত বারোটার বেল বাজল। ঢং ঢং ঢং।

এখন বারান্দায় লাশ নিয়ে বসে আছে পলা আর বকুলের স্বামী। বকুলের স্বামীর চোখ ঘুমে ঢুলুঢুলু করছে। বকুলের দেবরকে বাংলাঘরে শুতে দেওয়া হয়েছে। বকুলের স্বামীকেও পলা বলেছিল শুয়ে পড়তে। বকুলের স্বামী বলেছিল

-লাশ বাইরে রেখে কিসের ঘুম পলা ভাই? দেখতে দেখতেই সকাল হয়ে যাবে। কিন্তু কিছুক্ষণ আগে পলা একটু জোরাজুরি করতেই বাংলাঘরে গিয়ে শুয়ে পড়েছে বকুলের স্বামী। পলা এখন একা। সবাই চলে যাওয়াতে পলার অবশ্য খারাপ লাগছে না। একটু পর দেউড়িতে কিসের যেন শব্দ শুনতে পায় পলা। গলা খাঁকারি দিয়ে পলা বলে-ছোটন আইলা?

না, ছোটনের কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। তার পরিবর্তে তুতুর ঘেও ঘেও শব্দ কানে আসে। দেওড়ি পেরিয়ে দুটি জ্বলজ্বলে চোখ এগিয়ে এসে আশ্রয় নেয় পলার কোলে। পলা পুরোনো কাশ্মীরী শালটা জড়িয়ে দেয় তুতুর গায়ে। এ অনাহুত দুটি প্রাণী আজ এ বাড়ির আপনার চেয়েও আপন হয়ে উঠেছে। তুতু পলার পাশে বসে লেজ নাড়াতে থাকে। কি এক অব্যক্ত কথার তাড়নায় কুঁইকুঁই করতে থাকে তুতু। রান্নাঘর থেকে খড়ের বিচালি এনে আগুন জ্বালায় পলা। আগুনের ওম নিতে থেকে ওরা দুটি প্রাণী। নীলগঞ্জে এবার যেন শীত অনেক বেশি পড়েছে! সেবারো অনেক শীত পড়েছিল। যেদিন পলা এ বাড়িতে এসেছিল। খালি পায়ে কাঁপতে কাঁপতে কখন যে এ বাড়ির চৌহদ্দিতে পা দিয়েছিল পলা, আজো তা মনে করতে পারে না।

সকালে যখন জোহরা বেগম ওকে পেলেন তখন ওর হাত ভর্তি ছিল কুড়ানো শিউলি ফুল। পা খালি। নাক ভর্তি সিনকি।

সঙ্গে ছিল একটি কুকুর ছানা। তুতুর দাদার দাদা হবে হয়তো!

জোহরা বেগম পলাকে জিজ্ঞেস করলেন,

-এই ছেলে তুই কে রে? কই থাইকা আইলি? নাম কী তোর?

পলা পিটপিট করে শুধু তাকিয়ে ছিল জোহরা বেগমের দিকে। আর বলেছিল..

-আম্মা, আম্মা। আম্মার কাছে যাব।

বাজা বৌ জোহরা বেগম একটানে বুকে তুলে নিয়েছিলেন।

সেদিন থেকে আজ অবধি পলা এ বাড়িতেই রয়ে গেল।

পালক ছেলে বলে নাম হলো পলা। এরপর বছর ছয় ঘুরতেই বাজা জোহরা বেগম মা হলেন। একে একে ঘরে এলো তিন মেয়ে আর এক ছেলে। ততদিনে জোহরা বেগমের আদরে পলা তার নিজের মায়ের কথা ভুলে গেছে। জোহরা বেগমের ছেলেমেয়েরা বড় হতে থাকে। একদিন হুট করে মারা যায় জোহরা বেগমের স্বামী। সংসারের জোয়াল এসে পলার কাঁধে অনিবার্যভাবে আশ্রয় নেয়। আর সংসার পাতা হয় না পলার।

পলার প্রতি এহেন অবিচারে জোহরা বেগমের বুক কাঁপে। কোনো এক নির্জন বিকালে হয়তো পলা বসে থাকে জোহরা বেগমের শিয়রের কাছে। জোহরা বেগম বলেন,

-তুই আমাকে মাফ করে দিস পলা। আমি তোর প্রতি অবিচার করেছি।

-ছি ছোট আম্মা।

-আমি তরে দশ কানি জমি লিখে দিলাম পলা। আমি তরে বিয়া দিমু। এই জমিতে তুই নতুন সংসার পাতবি।

-আমি জমি দিয়ে কী করব ছোট আম্মা? আপনি তো আছেন। আমার আর কিছু লাগবে না ছোট আম্মা।

-তোর আম্মা কি আমার চেয়েও তরে বেশি সোহাগ করত রে পলা?

পলা এ কথার কোনো উত্তর খুঁজে দেখেনি। তবু বিষণ্ন কোনো সন্ধ্যায় পলার চোখে নিজের মায়ের মুখটা যেন ভেসে ওঠে। নোলকপড়া গাঁয়ের বধূ শুধু পলাকে ডেকে যায়। সে গাঁয়ের ঠিকানা পলা জানে না। শুধু জানে সেই গ্রামে সকালে সূর্য উঠে, পাখি ডাকে। আর নোলকপড়া বধূটা পলাকে সোহাগ করে কোলে তুলে নেয়। যার বুকজুড়ে আছে সর্ষে ফুলের হলুদ ঘ্রাণ। সে নোলক দুলিয়ে পলাকে ডাকে… আয়-আয় আয়। কিন্তু পলা যেতে পারে না জোহরা বেগমের মায়া ছিঁড়ে।

হুম, আজ রাতেও পলা জোহরা বেগমকে রেখে শুতে যেতে পারেনি। জোহরা বেগমের লাশ নিয়ে বারান্দায় বসে থাকে সে। একটু পরে খানকাঘরের সামনে বড় মাইক্রোবাস এসে দাঁড়ায়। ঘেউ ঘেউ করে বাইরে বেরিয়ে আসে তুতু। পারুল এসে নামে বাড়িতে। মায়ের মুখ দেখে কাঁদতে থাকে পারুল। পারুলের কান্নায় এ মাঝরাতে কেমন একটা ঘোর লাগে পলার। তবে এক সময় পারুলের হিসেবি কান্নাও শেষ হয়ে যায়। চোখ মুছে বলে, তোমাদের জামাই উপজেলার ডাকবাংলো বুকিং করেছে। আজ রাতে তোমাদের জামাই দুই বাচ্চা নিয়ে ওখানেই থাকবে। পলা নিচু স্বরে বলে, তুমিও যাও পারুল।

-কিন্তু?

-কিন্তু আর কী পারুল? আমি আছি তো!

এই বলে পলা ওদেরকে আবার গাড়িতে তুলে দিল।

ভেতর বাড়িতে এসে হ্যাজাকের গ্যাস পাম্প করে পলা আবার বসল খাটিয়ার পাশে। বসে বসে তন্দ্রার মতো হলো পলার। পলা যেন দাঁড়িয়ে আছে ছাতিমগাছটার নিচে। হাতে কুড়ানো শিউলি ফুল। সঙ্গে একটা কুকুর ছানা। আম্মা আম্মা করে সমানে কেঁদে চলছে পলা। নোলকপড়া গ্রাম্য মহিলাটা যেন একটানে বুকে তুলে নিতে চায় পলাকে। আয়-আয়-আয়…

এ সময় হুইসেলের শব্দে তন্দ্রা কাটে পলার। শেষ রাতের ট্রেন এসে লাগে স্টেশনে। পলার বুকটা হু হু করে ওঠে।

আরও কিছুক্ষণ পর খানকাঘরের পেছনে রিকশার টুংটাং শব্দ শোনা যায়।

-ছোটন এলি?

খানকাঘরের সামনে একটা রিকশা দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু হ্যারিকেনের টিমটিমে আলোয় আরোহীকে চিনতে পারে না পলা।

-আপনি কে?

-আমি মাসুদ আলী। জহীরুল ইসলাম স্যার আমাকে পাঠিয়েছেন।

-কে? জহীরুল? আমাদের ছোটন?

-জ্বি। আসলে, স্যার একটা জরুরি কাজের জন্য আসতে পারেননি।

-কী বললেন! ছোটন আসে নাই?

-না। এই খামটা রাখেন। বিশ হাজার টাকা আছে।

-টাকা?

-স্যার দিয়েছেন খালাম্মার কুলখানির জন্য। তিনি বলেছেন সময় পেলেই কবর জিয়ারত করতে আসবেন।

পলার চোখে আবার পানি এলো। নিজেকে সামলে নিল সে। টাকাগুলো ফিরিয়ে দিয়ে লোকটাকে বাংলাঘরে শুতে দিল।

আবার লাশের পাশে এসে বসে পলা। কিছুক্ষণ পর ফজরের আজান হলো। জানাজা শেষে কবর দেওয়া হলো জোহরা বেগমকে। সবাই কবরে মাটি দিয়ে চলে গেল। জোহরা বেগম তার রক্তের কারও হাতের মাটি পেলেন না। মাটি শেষে দেউড়ির শিউলি তলায় এসে দাঁড়ায় পলা। আনমনে শিউলি ফুলে মুঠি ভরে ফেলে সে। লেজ নাড়তে নাড়তে পাশে এসে দাঁড়ায় তুতু। এ যেন সেই সকাল। সেই ভোর। সেই শিউলি ফুল হাতে ছোট্ট পলা। শুধু মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে পলার জীবনের অনেকটা সময়। কিন্তু আজ পলাকে কোলে তুলে নেওয়ার জন্য জোহরা বেগম নেই! শুধু নোলকপড়া গ্রামের বধূটা সুদূর থেকে যেন ডেকে যায় পলাকে,

…আয়-আয়-আয়

বিজয়ের ৫০ বছরে তাজিংডং বিজয়

স্থানীয় আদিবাসীদের ভাষায় ‘তাজিং’ শব্দের অর্থ বড় এবং ‘ডং’ শব্দের অর্থ পাহাড়। এই দুটি শব্দ থেকে তাজিংডং পর্বতের নামকরণ হয়েছে। সরকারিভাবে তাজিংডং পাহাড়কে বিজয় নামে ডাকা হয় এবং এটাকেই দেশের সর্বোচ্চ পর্বত বলে অফিশিয়ালি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যদিও অনেকে সাকা হাফংকে সর্বোচ্চ পর্বত বলে মনে করেন।

তাজিংডং বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বান্দরবানের রুমা উপজেলার রেমাক্রী পাংশা ইউনিয়নে সাইচল পর্বতসারিতে অবস্থিত। এটি রুমা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে হলেও থানচি থেকেই যাওয়াই সুবিধাজনক। তাজিংডং পর্বতের উচ্চতা ১ হাজার ২৮০ মিটার বা ৪২০০ ফুট। তবে অনেকের মতে এর উচ্চতা আরও কম।

এই বছর দেশ স্বাধীন হওয়ার ৫০ বছর হবে এবং সেই সঙ্গে টানা তিন দিন ছুটি পাওয়া যাবে ভেবে বেশ আগে থেকেই পরিকল্পনা করি তাজিংডং বিজয় করার জন্য। এছাড়াও অন্য আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল, সেটা হলো আমার ইউটিউউব চ্যানেল ‘গো উইথ আশরাফুল আলম’ এর জন্য কন্টেন্ট বানাব। যেই ভাবা সেই কাজ। ১৫ ডিসেম্বর বুধবার অফিসের পাঠ চুকিয়ে রাতের বাসে রওনা দিই বান্দরবনের উদ্দেশ্য কিন্তু কপাল খারাপ! তিন দিনের টানা ছুটিতে রাস্তার বেশ যানজটের কবলে পড়ে যাই। সকাল ছয়টার মধ্যে বান্দরবন পৌঁছানোর কথা থাকলেও পৌঁছায় দুপুর দেড়টায়। এর মধ্যে আবার একবার গাড়ি নস্ট হয়ে গিয়ে বেশ যন্ত্রণা পোহাতে হয়েছিল।

সকালের নাস্তা কিংবা দুপুরের খাবার যাই বলি না কেন সেটা সেরে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে থানচি পৌঁছাতে পৌঁছাতে সন্ধ্যা। সব ঘুছিয়ে যখন রওনা দিব তখন রাত আটটা বাজে। সামনে আমাদের প্রায় আট ঘণ্টা ট্রেকিং করতে হবে যেটা আমাদের জন্য তখন প্রায় অসম্ভব ছিল কেননা আগের দিন অফিস করে সারারাত বাস এবং চান্দের গাড়ির জার্নি করে আমরা বেশ কাহিল। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম নতুন হওয়া তমাতুংগির রাস্তা ধরে ১৩ কিলোমিটার যাব চান্দের গাড়িতে এতে করে আমাদের চার ঘণ্টা ট্রেকিং কমবে। যেই ভাবা সেই কাজ। আমরা আমাদের টিম লিডার টিজিবি’র মামুন ভাইয়ের নেতৃত্বে এগিয়ে গেলাম। ১৩ কিলো নেমে যখন ট্রেকিং শুরু করলাম তখন বেশ ভালোই লাগছিল। চারিদিকে চাঁদের আলোর মাঝে আমরা একদল তরুণ তরুণী প্রকৃতির অপার্থিব সৌন্দর্যের মাঝে হারিয়ে গিয়েছিলাম। বেশ কিছুক্ষণ হাঁটার পর দেখা পেলাম আদিবাসীদের গ্রাম কাইটং পাড়ার। সেখানে বেশ খানিকটা বিশ্রাম নিয়ে আবার যাত্রা শুরু।

হঠাৎ সামনে প্রায় ৭০ ডিগ্রি খাড়া পাহাড় দেখে চোখ কপালে উঠল! এখন এটা পাড়ি দিতে হবে যেটা আবার প্রায় ২০০ ফিট লম্বা। খাড়া পাহাড় বেয়ে যখন উঠছিলাম তখন মনে হচ্ছিল কেন যে আসতে গেলাম! আর কখনই এভাবে ট্রেকিং করতে বের হব না কিন্তু উঠার পর যখন একটু বিশ্রামের জন্য থেমেছিলাম তখন মনে হয়েছিল প্রকৃতি এত সুন্দর, এত সুন্দর যেটা আসলে পাহাড়ে না আসলে কখনই বুজা যাবে না। এটা আসলে অনুভব করে নিতে হয়। এই জন্যই হয় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের তার কবিতায় লিখেছিলেন- ‘অনেকদিন থেকেই আমার একটা পাহাড় কেনার শখ, কিন্তু পাহাড় কে বিক্রি করে তা জানি না, যদি তার দেখা পেতাম, দামের জন্য আটকাতো না’।

বেশ খানিকটা চড়াই উতরাই পেরিয়ে যখন তাজিংডংয়ের বেজ ক্যাম্পখ্যাত ‘শেরকর পাড়া’য় পৌঁছালাম তখন রাত বারোটা বেজে বিশ মিনিট। এরপর শান্তির আহার কেননা আসার পথে শুধু মাত্র খেজুর এবং বাদামই ছিল সম্ভল। অবশ্য এর বেশি খাওয়া যেত না, খেলে হাঁটতে অনেক কষ্ট করতে হত। রাতের খাবার সেরে চাঁদের আলোয় ক্যাম্প ফায়ারের সামনে গিটার হাতে আমাদের দলের সদস্যরা যখন গান বাজনা করেছিল তখন সেটা হয়ে উঠেছিল জীবনের অন্যতম সেরা একটি রাত।

সকাল ১১:৩৮, ১৭ ডিসেম্বর ২০২১। বাংলাদেশের অফিসিয়ালি সর্বোচ্চ চূড়া তাজিংডং বিজয় করতে পেরেছি। তবে এর আগে অবশ্য শেরকর পাড়া থেকে ঘণ্টা দুয়েক ট্রেকিং করে আসতে হয়েছে। তাজিংডংয়ের চুড়ায় উঠে যে অনুভূতি হয়েছিল সেটা কখনো কাউকে বলে বোঝানো যাবে না! ভিতর থেকে শুধু মনে হচ্ছিল কিছু একটা জয় করে ফেলেছি। আরও বারবার মনে পড়ছিল চাইলেই যে কোন কিছু জয় করে ফেলা সম্ভব। আসলে আমাদের দৈন্দদিন জীবনে এমন অনেক ব্যাপার থাকে যেগুলো নিয়ে আমরা বেশ চিন্তায় পড়ি কিন্তু তাজিংডং জয় করার পর আমার কাছে মনে হয়েছে শুধু মনোবল অটুট থাকলেই যেকোন কিছু জয় করা সম্ভব। আর মনোবল চাঙ্গা করতে হলে এইরকম ট্রেকিং মাঝে মধ্যে করেতেই হবে!

তাজিংডং বিজয় করার পর এই দিনটাও আমরা শেরকর পাড়ায় থেকে যাই। আদিবাসীদের ঘরে থেকে তাদের জুম চাষের লাল চাল, আলুর ভর্তা এবং পাহাড়ি খাবার খেয়ে তাদের জীবনটাকে কাছে থেকে বোঝার চেষ্টা করি। এই পাড়ার মানুষজন আমাদের কাছে খাবার এবং খাকার জন্য নিয়েছিল নামমাত্র মূল্য যেটা সব মিলিয়ে দিনে জনপ্রতি পাঁচশ টাকার মতো তবে লম্বা ছুটির কারনে বান্দরবন থেকে থানছি যাওয়া আসার চান্দের গাড়ি যেখানে আট-নয় হাজার টাকা নেয় সেটা আমাদের কাছ থেক নিয়েছিল চৌদ্দ হাজার করে। এ ছাড়া থানছি থেকে ১৩ কিলো পর্যন্ত শুধু মাত্র যাওয়া নিয়েছে দুই হাজার তিনশত টাকা করে। গাইডের খরচ নিয়েছে তিন হাজার করে। আমরা বড় টিম হওয়ায় তিনজন গাইড নিয়েছিলাম যদিও কতজন নিতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা ছিল না।

একটা বিষয় আমার কাছে বেশ কষ্ট লেগেছে সেটা হল কেউ অসুস্থ হলে এখানে চিকিৎসা দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। আর আদিবাসীদের পড়ালেখার বন্দোবস্তও অপ্রতুল যদিও পার্বত্য উন্নয় বোর্ড বেশ চেষ্টা করছে। এত দুর্গম পাড়ায় এসে বেশ উৎসাহ পেয়েছি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বাচ্চাদের পড়াশোনার আগ্রহ দেখে।

এবার ফেরার পালা। যান্ত্রিক নগরে ফিরে যেতে হবে জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে। পরদিন অর্থাৎ ১৭ ডিসেম্বর সকাল সকাল আমরা বেরিয়ে পড়ি। প্রায় আট ঘণ্টার ট্রেকিংয়ে আমরা কখন চড়াই কখন উতরাই পেরোই। তবে এই দিনের ট্রেকিং বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। যদিও আমাদের তেমনটা কষ্ট হয়নি আগের দুই দিনের কারণে। ঝিরিপথ, জুমঘর এবং বেশকিছু ভ্যালির মতো জায়গা যখন পার হচ্ছিলাম তখন মনে হচ্ছিল এই পাহাড়ের মাঝে হারিয়ে গেলে মন্দ হতো না। অন্তত জীবনটা প্রকৃতির মাঝে উপভোগ করতে পারতাম!

লেখক: পর্যটক ও ‘গো ইউথ আশরাফুল আলম’ নামে ইউটিউব চ্যানেলের কন্টেন্ট ক্রিয়েটর

বিজয় দিবস ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘সাস্ট ক্লাব লিমিটেড’ এর আয়োজনে ফুটসাল প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগ।

শুক্রবার দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম. এ মান্নান এমপি ও বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল ইসলাম চৌধুরী (নাদেল)।

ঢাকার খিলক্ষেতে অনুষ্ঠিত ইনডোরে এ ফুটসাল টুর্নামেন্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ টি বিভাগ অংশ নেয়।

টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করেন গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর আলমগীর হোসেন।

সাস্ট ক্লাবের সহ-সভাপতি ও উপ-সচিব আজিজুল ইসলাম শামীমের সঞ্চালনায় পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন ক্লাবের সভাপতি মো.জাকির হসেন এবং বিশেষ অতিথির হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন জয়নাল হোসেন মিলন।

কনসার্টে ছাত্রলীগ নেত্রীকে মারধর করলেন নেতানেত্রীরা!

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) কৃষি অনুষদের ৭৫ ব্যাচের র্যা গ-ডে উপলক্ষে অনুষ্ঠিত কনসার্টে ‘চেয়ারে বসা’ কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জিনাত আরা জেরিন নিজ দলের নেতানেত্রীদের দ্বারা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ করেছেন। ঘটনার পর ভুক্তভোগী জেরিন অসুস্থ হলে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার রাতের এ ঘটনায় অভিযুক্তরা অভিযোগকে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলছেন।

শুক্রবার বিকাল ৪টায় ছাত্রলীগ নেত্রীকে লাঞ্ছনার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও মানববন্ধনস্থলে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে মানববন্ধন হয়নি। একই সময়ে ছাত্রীদের আবাসিক হলগুলো এক ঘণ্টা বন্ধ করে রাখা হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

অভিযোগ সম্পর্কে জেরিন বলেন, গতকাল র্যা গ-ডে কনসার্ট চলাকালে কনসার্টস্থলে আয়েশা আক্তার আঁখি ম্যাডাম আসলে তার বসার জন্য আমি কৃষকরত্ন শেখ হাসিনা হলের সভাপতি সাবেরী আনোয়ারকে তার চেয়ারটা দিতে বলি। চেয়ার চাওয়াতে সে আমার ওপর রাগান্বিত হয়। আমি তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করে চলে আসি।

কিছুক্ষণ পর সাবেরী, বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সভাপতি আসিফা আক্তার জামিয়া, শেরেবাংলা হলের সভাপতি উজ্জ্বল হোসেন, শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক উপ-সম্পাদক আকাইদ আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক রেদোয়ানুর রহমান ও আসাদুজ্জামান রিদওয়ান এসে আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং সাবেরী ও উজ্জ্বল আমাকে মারধর করেন। তারা আমাকে হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. হারুন-উর-রশিদ কৃষকরত্ন শেখ হাসিনা হলে এসে সাবেরী এবং জেরিনের মধ্যে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করলেও জেরিন প্রশাসনের কাছে এর বিচার চায় বলে প্রক্টরকে সাফ জানিয়ে দেন। এ সময় প্রক্টর তাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। পরে রাতে ভুক্তভোগী জেরিন অসুস্থ হলে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সবার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তার সঙ্গে এ ধরনের কোনো আচরণ করা হয়নি, জাস্ট হলের সভাপতিকে কেন চেয়ার থেকে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে তার কারণ জানতে চাওয়া হয়। বরং সেই উল্টো আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে।

এ বিষয়ে মূল অভিযুক্ত শাখা ছাত্রলীগের কৃষকরত্ন শেখ হাসিনা হল সভাপতি সাবেরী আনোয়ার বলেন, এটা মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং পূর্বপরিকল্পিত একটি ঘটনা।

বিকালে ১ ঘণ্টা ছাত্রীদের আবাসিক হলের মূল গেট বন্ধ থাকা প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রভোস্টরা জানান, গেট বন্ধ রাখার বিষয়টি জানি না।

সার্বিক বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. হারুন-উর-রশিদ জানান, লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তসাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।