শনিবার ,১৬ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 547

করোনার তৃতীয় ঢেউয়েও লকডাউন দেবে না ভারত!

করোনার প্রথম ঢেউ ও কড়া লকডাউনের ধাক্কায় ভারতের অর্থনীতির ২৪ শতাংশ সঙ্কোচন হয়েছিল।

দ্বিতীয় ঢেউয়ের মরণকামড়ের সময় অর্থনীতির কথা ভেবেই ভারতজুড়ে লকডাউন দেয়নি কেন্দ্রীয় সরকার।

এবার তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কার মুখে শনিবার নতুন বছরের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, করোনার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কিন্তু এ ভাইরাস ভারতের গতি রুখতে পারবে না।

দেশটির প্রধানমন্ত্রীর এ মন্তব্যের পর সরকারের ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, তৃতীয় ঢেউ এলেও যে ফের পুরোপুরি লকডাউন হবে না, বছরের প্রথম দিনে তারই ইঙ্গিত মিলল।

মোদি বলেন, ভারত সব রকম সাবধানতা বজায় রেখে, সব রকম সতর্কতার সঙ্গে করোনার সঙ্গে লড়বে এবং নিজের জাতীয় স্বার্থও রক্ষা করবে।

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে গত কয়েক দিন ধরে নিয়মিতভাবে রাজ্যগুলোতে সতর্কবার্তা পাঠানো হচ্ছে এবং কী কী প্রস্তুতি নিতে হবে, তার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

দিল্লি, কলকাতাসহ বড় শহর ও একাধিক রাজ্যে ইতোমধ্যে শপিংমলসহ নানা ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।

করোনার প্রথম ধাক্কায় গত বছরের এপ্রিল-জুনে জিডিপির প্রায় ২৪ শতাংশ সঙ্কোচন হয়েছিল। তার পর জুলাই-সেপ্টেম্বরেও সেই সঙ্কোচন বজায় ছিল।

কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে রুটিরুজি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তার ছাপ বাজারের চাহিদা থেকে নতুন লগ্নির ওপরেও পড়বে।

সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করতে মোদি বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রকে আরও মজবুত করতে, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো বাড়াতে অনেক কাজ হয়েছে।

নতুন অক্সিজেন প্ল্যান্ট তৈরি হয়েছে। হাজার হাজার নতুন ভেন্টিলেটর আনা হয়েছে। হাসপাতাল, টেস্টিং ল্যাবের আধুনিকীকরণ হয়েছে।

সূচকের উত্থানে চলছে পুঁজিবাজারে লেনদেন

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার সূচকের উত্থানে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন চলছে।

 

ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

এদিন বেলা ১০টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত লেনদেনে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৬১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ৬ হাজার ৮১৮ পয়েন্টে। এ ছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ১৪৪১ পয়েন্ট ও ডিএসই-৩০ সূচক ২০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ২৫৫৩ পয়েন্টে।

এ পর্যন্ত লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ২৬১টি কোম্পানির শেয়ারের। দাম কমেছে ৩১টির এবং দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৪টির।

অপরদিকে একই সময়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সিএএসপিআই সূচক ৯৬ পয়েন্ট বেড়ে ১৯ হাজার ৭৬২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

পাঁচ দশকে বাংলাদেশ ব্যাংক

যে কোনো দেশের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আমাদের দেশের ক্ষেত্রেও তা-ই। এ দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা পালন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমানে দেশের অর্ধ শতকেরও বেশি সরকারি ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের একক নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলো বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী হলেন গভর্নর।

ব্যাংকটির বর্তমান গভর্নর হিসাবে ২০১৬ সালের ২৯ মার্চ থেকে দায়িত্ব পালন করছেন ফজলে কবির। তার আগে ১০ জন এ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশের শুরুতে ১৯৭২ সালের ১৮ জানুয়ারি এএন হামিদুল্লাহ বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম গভর্নর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অনেকেই মনে করেন, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী হিসাবে যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাদের যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। ব্যতিক্রম হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্ভবত একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যার প্রধান নির্বাহীদের প্রত্যেকেই যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তবে মনে রাখতে হবে, মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয় এবং তা স্বচ্ছতা বা সততার অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় না। কেবল গঠনমূলক সমালোচনার অন্তর্ভুক্ত করা যায়।

গত ২৯ ডিসেম্বর স্থানীয় একটি হোটেলে বণিক বার্তা আয়োজিত অর্থনেতিক সম্মেলনে আমাদের ৫০ বছরের অর্থনীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে আমন্ত্রিত বক্তারা আলোচনা করেন। সে আলোচনা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মপরিধি সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। এ প্রসঙ্গে আমাদের ফিরে যেতে হবে ১৯৭১-৭২ অর্থবছরে। সে সময়ে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ছিল মাত্র ৬৩০ কোটি ডলার। আর এখন জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কোটি ডলারে (তবে ভিন্ন সূত্র বলছে, ৩৫ হাজার কোটি ডলার)। ১৯৭২ সালে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল মাত্র ১৪ কোটি ডলার। বর্তমানে তার আকার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ কোটি ডলারে। যদি সে সময়কার জনসংখ্যাকে আমলে নিই তাহলে বলতে হবে, সাড়ে সাত কোটি মানুষের দেশ এখন ১৭ কোটি মানুষের। তারপরও দেখতে হবে ১৯৭২ সালে আমাদের মোট খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ কোটি মেট্রিক টন। এখন আমরা উৎপাদন করছি প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ মেট্রিক টন। নীতিনির্ধারকরা প্রত্যাশা করছেন, বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩৫ সালে বাংলাদেশ আজকের ৪১তম অবস্থান অতিক্রম করে ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে। আর সব কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মূলে থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আলোচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পাঁচ দশকের কর্মপরিধিকে ছয়টি পর্বে বিভক্ত করা হয়। প্রথম পর্বটি হলো ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল। স্বাধীন দেশ হিসাবে প্রয়োজন ছিল কৃষি ও শিল্প খাতের গতি ত্বরান্বিত করা। বাংলাদেশ ব্যাংক এ সময়ে এই দুটি খাতে ঋণ সরবরাহের ব্যবস্থা করে, যাতে করে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক জাতীয়করণ অধ্যাদেশ জারি করার পাশাপাশি কৃষি ব্যাংক ও শিল্প ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দ্রুততার সঙ্গে এ দুই খাতে ঋণ সরবরাহের কাজ শুরু করে। দ্বিতীয় পর্ব হিসাবে ধরা হয়েছে ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৯ সাল। এ পর্বটিকে বলা হয়েছে বাজারমুখী ব্যাংক ব্যবস্থা প্রণয়ন পর্ব। আজকে ব্যাংক ব্যবস্থায় বেসরকারি খাতের যে সরব উপস্থিতি এর শুরুটা ছিল এই পর্বে। আর্থিক খাতে কী ধরনের সংস্কার প্রয়োজন তা নিরূপণে এবং প্রাথমিক পর্যায়গুলো চিহ্নিত করার জন্য গঠন করা হয় মানি ব্যাংকিং ও ক্রেডিট কমিশন। এর পরের দশকটি ১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের তৃতীয় পর্ব। এই পুরো পর্বটিকে ধরা হয় আর্থিক খাত সংস্কারের কাল হিসাবে। এ সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সুদহারকে জনবান্ধব করা বা নিম্নমুখী করার কাজে হাত দেয়। কোন কোন খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তা চিহ্নিত করার কাজটি করা হয়। এ পর্বে গঠন করা হয় ব্যাংক রিফর্ম কমিটি। মোটামুটি সংস্কারের একটি বড় অংশ সম্পাদন করা হয় তৃতীয় পর্বে। চতুর্থ পর্ব হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সময়কে। এ পর্বে আর্থিক খাতের ব্যবস্থাপনাকে সুদৃঢ় করার কাজে মনোনিবেশ করা হয়। আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে অধিকতর দক্ষ করার জন্য বেশকিছু নতুন পলিসি নেওয়া হয় এ পর্বে। পঞ্চম পর্বটি ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত। এ সময়টাতেই বাংলাদেশের ব্যাংক ব্যবস্থা ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করে।

ষষ্ঠ বা শেষ পর্বটি ২০১৭ সালের পর থেকে, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ পর্বটিকে বলা হচ্ছে-আর্থিক খাতে জালিয়াতি প্রতিরোধ, গ্রাহক স্বার্থরক্ষা ও কোভিড মোকাবিলার পর্ব। চলমান কোভিড বিপর্যয় থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে সরকার যে চারটি নীতি-কৌশল ঘোষণা করেছে তার দুটি, অর্থাৎ স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা এবং বাজারে অর্থের সরবরাহ বৃদ্ধির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা পালন করছে। সব মিলে গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে সোশ্যালি রেসপন্সিবল ফাইনান্সিং (এসআরএফ), বাধ্যতামূলক কৃষি ঋণ, শস্যের বহুমুখীকরণ, আমদানির বিকল্প সংস্থান ও এসএমইর জন্য বিশেষ ঋণ, এসএমই ফিন্যান্স, গ্রিন ফাইন্যান্স, এজেন্ট ব্যাংকিং, মোবাইল ফাইন্যান্স, পেমেন্ট ব্যবস্থায় ডিজিটালাইজেশনসহ নানা উদাহরণ দেওয়া যায় এবং তা বাংলাদেশ ব্যাংক দাবি করতে পারে। আমরা সে কৃতিত্ব বাংলাদেশ ব্যাংককে দিতে কুণ্ঠিত নই এবং এ প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করি।

তারপরও বলার মতো কিছু নেতিবাচক দিকও আছে। আগেই বলেছি, শেষ পর্বটি বা চলমান পর্বটি হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করার পর ২০১৬ সালে এসে আমরা একটি বড় ধরনের অঘটনের শিকার হয়েছি। ওই বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৭০০ কোটি টাকা) হ্যাকাররা হ্যাক করে ফিলিপাইনে পাচার করে দেয়। এর জন্য এককভাবে কোনো ব্যক্তিকে দায়ী না করা হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক দায় এড়াতে পারে না। আমাদের দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে সমগ্র ব্যবস্থাপনাকে আরও বেশি শক্তিশালী করার প্রয়োজন আছে।

ব্যাংক খাতে বেআইনিভাবে ঋণ দেওয়া-নেওয়া বেড়েছে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি বিদ্যমান। এ বিষয়ে যুগান্তর বলছে, ব্যাংক খাতে অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত হয়। কিন্তু বিচার হয় না। এতে দুর্নীতি আরও বেড়ে যায়। একাধিক ব্যাংক এক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে চলে যাচ্ছে। বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই। ঋণ দেওয়ার একটা সীমা অছে। সে সীমা অতিক্রম করে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষে বাংলাদেশ ব্যাংকও সে ঋণে সায় দিচ্ছে। এছাড়া রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েও অনেকে ঋণ নেন। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বেআইনিভাবে ঋণ দেওয়ার কারণে খেলাপি ঋণ বেড়েছে, যার ফলে ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা দিনকে দিন কমে যাচ্ছে। এরই মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। অবলোপিত ঋণ আছে ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এর নজরদারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে নেপাল একটি উদাহরণ হতে পারে। ছোট্ট অর্থনীতির এ দেশটিতে কোনো ব্যক্তি খেলাপি হওয়ার পরদিন থেকেই পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করা হয়। আমরা এর ধারেকাছেও যেতে পারিনি। উপরন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক ২০০৯ ও ২০১৪ সালে ইচ্ছাকৃত শীর্ষ ১০ খেলাপি গ্রাহককে বিশেষ সুবিধা দিয়েছে। এর জন্য রাষ্ট্রকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। এর দায় বাংলাদেশ ব্যাংক এড়িয়ে যেতে পারে না। অর্থ পাচার রোধেও বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক, কাস্টমস ও সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ সম্মিলিতভাবে কাজ করলে অর্থ পাচার বন্ধ করা সম্ভব। যদিও এক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছার প্রয়োজন আছে। তারপরও ব্যাংক উদ্যোগী হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আর্থিক অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা। কেবল জিডিপি প্রবৃদ্ধি দিয়ে সফলতা পাওয়া যাবে না, যদি না আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম দূর করা যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধি কামনা করছি।

মুঈদ রহমান : অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ষষ্ঠ ধাপের ইউপি নির্বাচনে আ.লীগের প্রার্থী যারা

ষষ্ঠ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে মাদারীপুর জেলার রাজৈর ও সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ এবং পটুয়াখালী জেলার বাউফল পৌরসভার প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে দলটি। শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের মূলতবি সভায় এই প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ষষ্ঠ ধাপের ইউপি নির্বাচন আগামী ৩১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

রংপুর বিভাগ: পঞ্চগড়ের দেবীধস উজেলার দেবীগঞ্জ ইউপিতে আশরাফুল আলম, দেবীডুবায় পরেশ চন্দ্র রায় প্রধান,দিনাজপুরের দিনাজপুর সদর উপজেলার চেহেলগাজীতে কাশেম আলী, সুন্দরবনে অশোক কুমার রায়, ফাজিলপুরে অভিজিত বসাক, শেখপুরায় মমিনুল ইসলাম, শশরায় মোয়াজ্জেম হোসেন, আওলিয়াপুওে মোস্তফা কামাল, উথরাইলে আনিসুর রহমান, শংকরপুরে ইসহাক আলী, আস্করপুরে মোশারফ হোসেন, কমলপুরে আহাচান হাবিব সরকার। ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকিপুর সদের আলী, পালশায় কাজী মাকসুদুর রহমান চৌধুরী, সিংড়া আব্দুল মান্নান মন্ডল, ঘোড়াঘাটে আসাদুজ্জামান ভুট্টু। বিরল উপজেলার ধামইরে মসলেম উদ্দীন, শহরগ্রামে ওয়াহেদ আলী, ভান্ডারায় মামুনুর রশিদ মামুন, ধর্মপুওে শ্রী সাবুল চন্দ্র সরকার, মঙ্গলপুরে সেরাজুল ইসলাম, রানীপুকুরে আজাদ ইকবাল। বীরগঞ্জ উপজেলার নিজপাড়ায় নুরিয়াস সাঈদ মোঃ ফয়সাল, ভোগনগওে রাজিউর রহমান আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।

রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার মিঠিপুরে এস এম ফারুক আহ্মদ, বড় আলমপুরে মোদাব্বেরুল ইসলাম সাজু। কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার রাণীগঞ্জে মনজুরুল ইসলাম, থানাহাটে আব্দুর রাজ্জাক, রমনায় আজগার আলী, চিলমারীতে গয়ছল হক, অষ্টমীরচওে আবু তালেব। ভুরুঙ্গামারী উপজেলার ভুরুঙ্গামারীতে আব্দুর রাজ্জাক, পাথরডুবিতে মহিউদ্দিন আহ্ম্মেদ, শিলখুড়িতে আসাদুজ্জামান আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুরে আব্দুর গফুর মিয়া, নলডাঙ্গায় শাহরিয়ার ইসলাম, দামোদরপুরে রফিকুল ইসলাম মন্ডল, ধাপেরহাটে শফিকুল কবির মিন্টু, ইদিলপুরে শাহারুল ইসলাম, ভাতগ্রামে নাজমুল হাসান সুমন, খোর্দ্দকোমরপুরে সাজজাদ হোসেন তালুকদার, ফরিদপুরে নুর আজম মন্ডল মনোনয়ন পেয়েছেন।
রাজশাহী বিভাগ: বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার সারিয়াকান্দিতে সাহাম্মত করিম প্রামানিক, ভেলাবাড়ী গোলাম রব্বানী, বোহাইলে গোলাম মোস্তফা তরফদার, চন্দনবাইশায় মাহমুদুন নবী, ফুলবাড়ীতে আনোয়ারুত তারিক, হাটশেরপুরে মতিয়ার রহমান, কামালপুরে রাছেদুউজ্জামান, কাজলায় শাহ জাহান আলী, কর্ণিবাড়ীতে আনছার আলী, কুতুবপুরে আতাউর রহমান (মিঠু), নারচীতে আলতাফ হোসেন। সোনাতলা উপজেলার সোনাতলায় মাহবুবুল আলম, তেকানী চুকাইনগরে শামছুল হক, দিগদাইড়ে আলী তৈয়ব (শামীম), জোড়গাছায় আনারুল ইসলাম, মধুপুরে দবির হোসেন মন্ডল, পাকুল্লায় জুলফিকার রহমান, বালুয়ায় আব্দুল আজিজ মন্ডল। বগুড়া সদর উপজেলার ফাপোরে শফি মাহমুদ, রাজাপুরে আবু জাফর ফারাজী। গাবতলী উজেলার নেপালতলীতে শহীদুল ইসলাম বাবু, সুখান পুকুরে আলমগীর রহমান, সোনারায় মজিবুর রহমান মনোণয়ন পেয়েছেন। নওগাঁ জেলার নেয়ামতপুর উপজেলার পাঁড়ইলে সৈয়দ মুজিব, নিয়ামতপুরে বজলুর রহমান, ভাবিচায় ওবাইদুল হক, হাজীনগরে আব্দুর রাজ্জাক, রসুলপুরে মোত্তালিব, বাহাদুরপুরে মামুনুর রশিদ, শ্রীমন্তপুরে রফিকুল ইসলাম, চন্দননগর খালেকুজ্জামান মনোনয়ন পেয়েছেন।

ঢাকা বিভাগ: টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুরে রফিকুল ইসলাম, ধোপাকান্দি সিরাজুল ইসলাম, আলমনগর আব্দুল মোমেন, নগদাশিমলা হোসেন আলী, হাদিরা বিলকিছ জাহান। কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়ায় সরকার শামীম আহম্মদ, চরফরাদী আ. মান্নান, এগারসিন্দুর নূরু জ্জামান মিয়া, বুরুদিয়া মাহবুবুর রহমান, পাটুয়াভাঙ্গা সাহাব উদ্দিন, নারান্দী শফিকুল ইসলাম, হোসেন্দী মুহাম্মদ হাদিউল ইসলাম, চন্ডিপাশা মঈন উদ্দিন, সুখিয়া আ. হামিদ। কুলিয়ারচর উপজেলার রামদী ইউপিতে আলাল উদ্দিন মনোনয়ন পেয়েছেন। মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার শিবালয় ইউপিতে এম এইচ এফ শাহারিয়া, তেওতায় আবুল বাশার, উথলী আব্বাস আলী, শিমুলিয়া জহির উদ্দিন, মহাদেবপুর মোহাম্মদ মহিদুজ্জামান তড়িৎ, উলাইল আব্দুল মান্নান খান, আরুয়া আক্তারুজ্জামান খান মনোনয়ন পেয়েছেন।

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার শিকারীপাড়ায় আলীমোর রহমান খান পিয়ারা, জয়কৃষ্ণপুরে রেশমা আক্তার, বারুয়াখালীতে এম এ বারী বাবুল, নয়নশ্রীতে পলাশ চৌধুরী, শোল্লায় মিজানুর রহমান ভূইয়া, যন্ত্রাইলে এ. কে. এম. মনিরুজ্জামান, বান্দুরায় হুমায়ুন কবির, কলাকোপায় ইব্রাহীম খলিল, বক্সনগরে আ. ওয়াদুদ, বাহ্রায় সাফিল উদ্দিন মিয়া, কৈলাইলে বশির আহমেদ, আগলায় শিরিন চৌধুরী, গালিমপুর আজিজুর রহমান ভূইয়া, চূড়াইনে আব্দুল জলিল। দোহার উপজেলার নয়াবাড়ীতে তৈয়বুর রহমান, কুসুমহাটীতে আব্দুল কাদের, বিলাসপুরে রাশেদ চোকদার, নারিশায় আলমগীর হোসেন, মকসুদপুওে আঃ হান্নান খান এবং গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার রামশীলে শ্যামল কান্তি বিশ্বাস মনোনয়ন পেয়েছেন।

ময়মনসিংহ বিভাগ: জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার পিংনা ইউপিতে নজরুল ইসলাম। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পাররামরামপুরে আমিনুল ইসলাম। ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার ছনধরায় আবুল কালাম আজাদ, রামভদ্রপুর দুদু মিয়া, ভাইটকান্দি আলাউদ্দিন আহমদ, সিংহেশ্বর শাহা আলী, ফুলপুর আবুল কাশেম, পয়ারী এনামুল কবির, রহিমগঞ্জ আবু ছাইদ সরকার, রূপসী শাহ সুলতান চৌধুরী, বালিয়া দেলোআর মোজাহীদ, বওলা হারুন অর রশীদ। ভালুকা উপজেলার উথুরায় নুরুল ইসলাম, মেদুয়ারী জেসমিন নাহার রানী, ভরাডোবা শাহ আলম তরফদার, ধীতপুর লুৎফর রহমান খান, বিরুনিয়া রিদওয়ান সারোয়ার রব্বানী, ভালুকা শিহাব আমীন খান, মল্লিকবাড়ী মোহাম্মদ আকরাম হোসাইন, ডাকাতিয়া হারুনুর রশিদ, কাচিনা মোহাম্মদ মুশফিকুর রহমান, হবিরবাড়ী তোফায়েল আহাম্মেদ, রাজৈ নূরুল ইসলাম বাদশা। নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার মেন্দিপুরে লোকমান হেকিম, খালিয়াজুরী গোলাম আবু ইছহাক। পূর্বধোলা উপজেলার ধলামূলগাঁও ইউপিতে রেজুয়ানুর রহমান মনোনয়ন পেয়েছেন।
সিলেট বিভাগ: সিলেট জেলার ওসমানী নগর উপজেলার উমরপুরে গোলাম কিবরিয়া, সাদিপুর সাহেদ আহমেদ, পশ্চিম পৈলনপুর হান্নান মিয়া, বুরুঙ্গা বাজার আখলাকুর রহমান, গোয়ালাবাজার পীর মো. মজনু মিয়া, তাজপুর ফয়ছল হোসেন সুমন, দয়ামীর হিরন মিয়া, উছমানপুর ওয়ালি উল্লাহ বদরুল। বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজি ইউপিতে ফয়ছল আহমদ, খাজাঞ্চি আরশ আলী। দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোল্লারগাঁও ইউপিতে জবরুল ইসলাম জগলু, তেতলী আতিকুর রহমান, কামালবাজার আব্দুর রব। গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব আলীরগাঁও ইউপিতে মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, পশ্চিম আলীরগাঁও গোলাম কিবরিয়া হেলাল, মধ্য জাফলং ফারুক আহমদ। কোম্পানিগঞ্জ উপজলার ইসলামপুর (পশ্চিম) ইউপিতে আলকাছ আলী মনোনয়ন পেয়েছেন। হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার স্নান ঘাটে হারুন অর রশীদ, পুটিজুরি মুদ্দত আলী, সাতকাপন নারায়ন চন্দ্র পাল, বাহুবল সদর রিফাত ইসলাম মুরাদ, লামাতাসী সাইফুর রহমান জুয়েল, মিরপুর সাইফুদ্দিন, ভাদেশ্বর কামরুজ্জামান। শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার শায়েস্তাগঞ্জে আব্দুস সামাদ মনোনয়ন পেয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগ: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার বড়াইলে জাকির হোসেন, শিবপুর শাহীন সরকার, বিটঘরমেহেদী জাফর, কাইতলা (দক্ষিণ) শওকত আলী, বিদ্যাকুট জাকারুল হক, নাটঘর সাইফুল আলম, কৃষ্ণনগর মোহাম্মদ মাশুকুর রহমান। কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল ইকবাল বাহার, আকুবপুর বাবুল আহামেদ মোল্লা, আন্দিকুট ওমর ফারুক সরকার, পূর্বধইর (পূর্ব) শুকলাল দেবনাথ, পূর্বধইর (প.) শরীফুল ইসলাম, বাংগরা (পূর্ব) শফিকুল ইসলাম, বাংগরা (প.) রুহুল আমিন, চাপিতলা আবু মুছা আল কবির, কামাল্লা আবুল বাসার খান, যাত্রাপুর আবুল কালাম আজাদ, রামচন্দ্রপুর (দ.) লতিফ সরকার, রামচন্দ্রপুর (উ.) নাজমুল হক, নবীপুর (পূর্ব) জহিরুল ইসলাম, নবীপুর (প.) জাকির হোসেন, ধামঘর আ. কাদির, জাহাপুর এ কে এম সফিকুল ইসলাম, ছালিয়াকান্দি অলি উল্লাহ সরকার, দারোরা কামাল উদ্দিন খন্দকার, পাহাড়পুর আ. ছামাদ মাঝি, বাবুটিপাড়া জাকির হোসেন মুন্সী ও টনকী ইউপিতে আনিছুর রহমান মনোনয়ন পেয়েছেন।

মনোহরগঞ্জ উপজেলার বাইশগাঁওয়ে মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন, সরসপুর আবদুল মন্নান, হাসনাবাদ কামাল হোসেন, ঝলম (উ.) আবদুল মজিদ খান, ঝলম (দ.) আশিকুর রহমান হাওলাদার, মৈশাতুয়া মফিজুর রহমান, লক্ষণপুর মহিন উদ্দীন, খিলা আল-আমীন ভূঁইয়া, উত্তরহাওলা এম এ হান্নান, নাথেরপেটুয়া আবদুল মান্নান চৌধুরী ও বিপুলাসার ইউপিতে সাইদুর রহমান (দুলাল) মনোনয়ণ পেয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলার জুঁইদন্ডি ইউপিতে মোহাম্মদ ইদ্রিচ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। অন্যদিকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলায় রেজাউল করিম চৌধুরী এবং সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে নুরুল ইসলাম আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। পৌরসভা নির্বাচনে পটুয়াখালী জেলার বাউফলে জিয়াউল হক মনোনয়ন পেয়েছেন।

সপ্তম ধাপের ইউপি নির্বাচন: আ.লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ শুরু আজ

সপ্তম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আগ্রহী প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।

আজ রোববার থেকে ফরম বিক্রি শুরু হয়ে চলবে মঙ্গলবার পর্যন্ত।

আগ্রহী প্রার্থীরা প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে ফরম সংগ্রহ এবং জমা দিতে পারবেন।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে— সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের যথাযথ স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি মেনে এবং কোনো ধরনের লোকসমাগম ছাড়া প্রার্থী নিজে অথবা প্রার্থীর একজন যোগ্য প্রতিনিধির মাধ্যমে আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবেন।

আবেদনপত্র সংগ্রহের সময় অবশ্যই প্রার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সঙ্গে আনতে হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সপ্তম ধাপের ১৩৮ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে।

বইছে শৈত্যপ্রবাহ, তাপমাত্রা আরও কমতে পারে

দেশের আকাশ থেকে মেঘ সরে গেছে। তবে চলতি মাসে থার্মোমিটারের পারদ নামতে নামতে ৪ ডিগ্রির ঘরে ঠেকতে পারে! দেশের বেশিরভাগ এলাকায় রাতের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। শৈত্যপ্রবাহের এলাকাও বিস্তৃত হতে পারে। আগামী কয়েক দিন ধারাবাহিকভাবে শীত বাড়তে পারে।

বর্তমানে পঞ্চগড় ও মৌলভীবাজারের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ। এখন হালকা অবস্থায় থাকলেও এটি আরও বিস্তৃত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

আজ রোববার কুয়াশা আরও বাড়তে পারে। সেই সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শীতের অনুভূতি বেশি থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানায়, যশোর-চুয়াডাঙ্গাসহ আশপাশের জেলাগুলোতে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়ে যেতে পারে। আগামী কয়েক দিন উত্তরাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ ছড়াতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, চলতি মাসে দুই থেকে তিনটি হালকা ৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে মাঝারি ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও দুটি মাঝারি থেকে তীব্র ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে।

চলতি মাসে শীতের পাশাপাশি দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে বিশেষ করে নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে কুয়াশা বেশি বেড়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, রাজধানী ও চট্টগ্রামের আকাশে মেঘ বেশি থাকায় শীত খুব একটা অনুভূত হয়নি। শনিবার মেঘ সরে গিয়ে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। এ দুই শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা দেড় থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমেছে। আগামী কয়েক দিন শীতের তীব্রতা ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতেও বাড়তে থাকবে।

শনিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায়, ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে টেকনাফে, ২৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যথাক্রমে ২৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও ১৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এর আগে শুক্রবার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি এবং রাজারহাটে ৯ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। তাপমাত্রা কম থাকায় সেখানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬ দশমিক ৬, ময়মনসিংহে ১২ দশমিক ৫, চট্টগ্রামে ১৬ দশমিক ৬, সিলেটে ১৪ দশমিক ৪, রাজশাহী ১৩ দশমিক ৮, রংপুরে ১১ দশমিক ৬, খুলনায় ১৫ দশমিক ০ এবং বরিশালে ১৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

সংলাপে অংশ নেবে না সিপিবি গণফোরাম ও ইসলামী আন্দোলন

রাষ্ট্রপতির সংলাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আমন্ত্রণ পায়নি, তবে আমন্ত্রণ পেলেও সংলাপে অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে মোস্তফা মহসীন মন্টুর নেতৃত্বাধীন গণফোরামের একাংশও।

 

শনিবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সংলাপে না যাওয়ার ঘোষণা দেন দলটির আমির ও চরমোনাইর পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। এ সময় তিনি নির্বাচনের সময় অন্তর্বর্তী জাতীয় সরকার গঠনের দাবিও জানান।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসি গঠনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সংলাপ শুরু হয়েছে ২০ ডিসেম্বর। আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও সংলাপে যায়নি বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং বাম ঘরানার প্রভাবশালী রাঝনৈতিক দল সিপিবি সংলাপে যাবে না বলে ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে। এবার এ তালিকায় যুক্ত হলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও গণফোরামের একাংশ।

এদিকে সংলাপে অংশগ্রহণে অপরাগতা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দিয়েছে সিপিবি। শনিবার দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি বরাবর প্রেরিত চিঠিতে বলা হয়, ‘নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে দেশে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন থাকা একান্তভাবে প্রয়োজন। কিন্তু অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সেটাই যথেষ্ট নয়। কমিশনের মৌলিক গলদ দূর করতে না পারলে অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা যাবে না। এ মৌলিক বিবেচনা থেকে সিপিবি নির্বাচনের আমূল সংস্কারের জন্য সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বসহ ৫৩টি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের সুপারিশমালা ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে আপনার কাছে প্রদান করেছিল। এ অবস্থায় হুবহু একই আলোচ্যসূচিতে ও একই প্রকরণের আরেকটি সংলাপে যোগ দিয়ে সিপিবির নতুন কোনো কথা বলার নেই। সে কারণে সংলাপে যোগদানের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছি না।

ইসি গঠনে দ্রুত আইন প্রণয়নের দাবি তুলে ধরে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো চিঠিতে সিপিবির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করার জন্য সংবিধানসম্মতভাবে নির্বাচন কমিশন মনোনীত করা জরুরি। আপনার কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ, আপনি জাতীয় সংসদকে জরুরি বার্তা পাঠিয়ে আগামী মাসের ভেতরে নির্বাচন কমিশন আইন প্রণয়ন করে তা স্বাক্ষরের জন্য আপনার কাছে পাঠাতে বলুন। তাহলে নির্বাচন কমিশন মনোনয়নের আগে সে বিষয়ে পরামর্শ নেয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আপনার বৈঠকের প্রয়োজন পড়বে না।

নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চলমান সংলাপ একটি তামাশা মাত্র দাবি করে গণফোরামের একাংশের নেতারা বলেছেন, এই সংলাপের মাধ্যমে কাক্সিক্ষত নির্বাচন কমিশন গঠন করা সম্ভব হবে না। শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে দলটির নেতারা এ দাবি করেন।

দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী লিখিত বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ আজ বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করল। কিন্তু প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এ সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে কীভাবে সংবিধানবহির্ভূত সার্চ কমিটি গঠন করবেন। এটা সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদের (২) এর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ শুধু নয়, এতে সংবিধানকে উপেক্ষা এবং পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছে। এটা করার সাংবিধানিক ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির আছে কী? এ অংশের নবনির্বাচিত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মহসীন মন্টুসহ দলের নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমাদের প্রধান উপদেষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণপত্র পেয়েছেন। তবে তিনি সংলাপে যাবেন না বলে আমাদের জানিয়েছেন।

চরমোনাইয়ের পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনও সংলাপে যাবে না বলে জানিয়েছে। এ প্রসঙ্গে দলটির আমির বলেন, ২০১২ ও ২০১৭ সালের সংলাপে অংশ নিয়ে আমরা চরমভাবে হতাশ হয়েছি। ২০১২ সালের সংলাপে গঠিত ইসি ২০১৪ সালে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে একতরফা নির্বাচনের আয়োজন করেছে, যেখানে ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হয়েছেন। আর ২০১৭ সালের সংলাপের পর গঠিত কমিশন ১০১৮ সালে একটি চরম বিতর্কিত ও অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন করেছে, যাকে অনেকেই মধ্যরাতের নির্বাচন বলে আখ্যায়িত করেন।

বাংলা সাহিত্যে সিলেট

এ কথা সত্য যে সিলেটের জনগণ তাদের স্থানীয় ভাষার প্রতি খুবই অনুরক্ত। যেখানেই থাকুক এবং তাদের শিক্ষা সংস্কৃতি যে মানেরই হোক না কেন, নিজেদের মধ্যে কথোপকথনের সময় তারা সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে সাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সনাতন সিলেটি ভাষায় বিপ্লবের সৃষ্টি হয় এতদঞ্চলে অলিকুল শিরমনি জ্ঞানতাপস হজরত শাহজালাল মজররদ ইয়েমানীর আগমনের পর থেকে। ১৩০৩ খ্রিষ্টাব্দে শাহজালাল (র.) ৩৬০ জন অনুসারী নিয়ে সিলেট বিজয় করেন এ কথা আমরা সবাই কমবেশি জানি। তার সময় থেকে সিলেটি ভাষায় আরবি, ফার্সি, এবং উর্দু ভাষার মিশ্রণ লক্ষ করা যায়। আমরা অবশ্যই স্বীকার করব সিলেটের ভাষায় যে আভিজাত্য আছে, তার পরিমার্জন সাপেক্ষে বিস্তার ঘটানো দরকার।

ভাষা একটি সচল প্রক্রিয়া এবং যেখানে ভাষা মানুষের সব ভাব প্রকাশের প্রধান বাহন সেখানে সাহিত্য তার নিজস্ব অবয়বে আবির্ভূত হবে এটাই স্বাভাবিক। সিলেট জেলার মানুষ কিরূপ সাহিত্যপিপাসু তার একটি উদাহরণ এখানে উল্লেখ করতে চাই। আধুনিক বাংলা গদ্যের জনক প্রমথ চৌধুরী বলেছিলেন, প্রবাসী ও সবুজপত্রের গ্রাহক সংখ্যার দিক থেকে কলকাতার পরেই সিলেট জেলার স্থান। আর ১৩৫০ সালে সিলেটে আসা কথাশিল্পী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেছিলেন ‘এখান থেকে যে সাহিত্য প্রচেষ্টা চলছে তা গৌরবের বিষয়’। বাংলাসাহিত্যে মঙ্গলকাব্য একটি নিজস্ব আসন দখল করে আছে। কবি ভারতচন্দ্র রায়ের ‘অন্নদা মঙ্গল’ কাব্যের নাম সর্বাধিক উল্লেখ্য। সিলেটে মনসামঙ্গল কাব্যের সর্বাধিক জনপ্রিয় কবির নাম নারায়ণ দেব। তিনি বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার জলসুখা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ডক্টর আশুতোষ ভট্টাচার্য তার বাংলা মঙ্গল কাব্যের ইতিহাস গ্রন্থে নারায়ণ দেব সম্পর্কে বলেন, ‘নারায়ণ দেবের রচনায় স্বভাবস্ফূর্ত সরস কবিত্বের যেমন পরশ পাওয়া যায় তেমনি তাহাতে পাণ্ডিত্বের পরিচয় দুর্লভ নহে। নারায়ণ দেবের পর যার নাম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে হয় তিনি কবি ষষ্ঠীবর দত্ত। ‘ষষ্ঠীবর দত্ত বাহারী পোষাক পরিয়া মাথায় ঝালরদার পাগড়ী বাঁধিয়া নাচিয়া নাচিয়া তার রচিত পদ্মাপুরন গান পরিবেশন করতেন’ (শ্রীহট্ট প্রতিভা, লেখক নরেন্দ্র কুমার গুপ্ত চৌধূরী)। ষষ্ঠীবরের পদ্মপুরান কাব্যটি তিন খণ্ডে রচিত। দেবখন্ড, বাণিজ্যখন্ড ও স্বার্গারোহণ খন্ড। কবি রাধানাথ চৌধূরী সিলেট অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে তিনি মঙ্গল কাব্য রচনা করেন। এ ছাড়া মনসামঙ্গলের কবিদের মধ্যে কবি বল্লভ, কালা রায়, বর্ধমান দত্ত, গোপিনাথ দ্বিজ, মুরারী মিশ্র, হরিহর দত্ত ও রাধামাধব দত্ত’র নাম উল্লেখযোগ্য।

বৈষ্ণব সাহিত্যে সিলেটের অবদান অনস্বীকার্য। বৈষ্ণব সাহিত্যের প্রসঙ্গ এলেই মহাপ্রভূ শ্রীচৈতন্যের নাম চলে আসে। যেহেতু শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভূ সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ নামক গ্রামে তার মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করে বাল্যকাল কাটান, সেহেতু গোটা বৈষ্ণব সাহিত্য যেন এতদঞ্চলের মহিমা ঘোষণা করছে। দার্শনিক প্রেমরসে সিক্ত বৈষ্ণব সাহিত্য রচয়িতার মধ্যে সিলেটিদের সংখ্যা কম নয়। ‘চৈতন্য ভগবত’ গ্রন্থে বৃন্দাবন দাস নবদীপে প্রবাসী সিলেটি পণ্ডিতদের কয়েকজনের নাম এভাবে উল্লেখ করেন :

রত্নগর্ভ আচার্য বিখ্যাত তার নাম

প্রভুর পিতার সঙ্গে জন্ম এক গ্রাম।

তিন পুত্র আর কৃষ্ণপদ মকরন্দ/

কৃষ্ণানন্দ জীব যদুনাথ কবি চন্দ/

শ্রীবাস পণ্ডিত আর শ্রীরাম পণ্ডিত

শ্রীচন্দ্র শেখর দেব ত্রৈলোক পূজিত

ভবরোগ নাম বৈদ্য মুরারি নাম যার/

শ্রীহট্ট এসব বৈষ্ণের অবতার।

সিলেট অঞ্চলে কৃষ্ণলীলাকে উপজীব্য করে অষ্টাদশ শতাব্দীতে রামানন্দ মিশ্রের ‘রসতত্ব বিলাস’ গঙ্গারামের ‘গোপাল চরিত’ রাম দাসের ‘শ্রীকৃষ্ণ চরিত’ শিবানন্দের ‘শ্রীকৃষ্ণ বিজয়’ কাব্য গ্রন্থের সন্ধান পাওয়া গেছে।

সিলেটের মাটি ও মানুষের মতো এর সাহিত্য সাধনার ইতিহাস সুপ্রাচীনকালের। সিলেট জেলা গেজেটিয়ার সূত্রে জানা যায়, সিলেট অঞ্চলের প্রাচীনতম লেখকের নাম সঞ্জয় গৌর। তার রচনায় বত্রিশখানা গ্রন্থের সন্ধান পাওয়া গেছে। এগুলো সাধারণত : পুঁথি নামে পরিচিত। কিন্তু সঞ্জয় অমর হয়ে আছেন বাংলায় মহাভারত অনুবাদক হিসাবে। জানা যায় তিনি কাশিরামের পূর্বে মহাভারত অনুবাদ করেন। সঞ্জয় সম্পর্কে ডক্টর দীনেশচন্দ্র সেন বলেন, ‘কবিন্দ্র নহেন, সঞ্জয়ই মহাভারতের আদি অনুবাদক। সঞ্জয়ের রচনায় দ্রৌপদীর যুদ্ধ নামে একখানা স্বতন্ত্র পুঁথি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুঁথিশালায় সংরক্ষিত আছে। সঞ্জয়ের একখণ্ড সম্পূর্ণ মহাভারত সিলেট থেকে সংগৃহিত হয়ে শ্রীহট্ট ও কাছাড় অনুসন্ধান সমিতির অফিস শিলচরে রাখা হয়েছে। সিলেটের প্রাচীন শব্দের ভূরি ভূরি উদাহরণ তার অনূদিত মহাভারতে আছে।

বাংলাভাষা আর চর্যাপদ এ যেন একই মায়ের জঠরের সহোদর। নতুন ভাষার ইতিহাসে চর্যাপদ প্রথম গ্রন্থ হিসাবে বিবেচিত। ১৯০৭ সালে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল মিউজিয়াম থেকে চর্যাপদের কপি সংগ্রহ করেন। চর্যাপদ আবিষ্কৃত হওয়ার পর এর কবিকুল বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের লোক তা নিয়ে পণ্ডিত গবেষক সমালোচকদের মধ্যে অনুসন্ধান তৈরি হলে ব্যাপক গবেষণা শুরু হয়। অধ্যাপক আসাদ্দার আলী দীর্ঘদিন গবেষণা করে ‘সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় জালালাবাদ’ এবং ‘চর্যাপদে সিলেটি ভাষা’ গ্রন্থ দুটি রচনা করেন। তথ্য উপাত্য ও যুক্তি প্রমাণসহ অকাট্যভাবে চর্যাপদের কবিগণ সিলেটি ছিলেন তা প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি শুধু কথার কথা হিসাবেই আলোচনা করে ক্ষান্ত হননি, বরং চর্যাপদের কবিদের ভাষার সঙ্গে কোন কোন সিলেটি শব্দের মিল রয়েছে তা যুক্তি প্রমাণ ও দৃষ্টান্ত দিয়ে বুঝিয়ে দেন।

মধ্যযুগের বাংলাসাহিত্যে কবি সাহিত্যিকগণের মধ্যে সৈয়দ সুলতান, দৌলত কাজী, কোরেশী মাগন ঠাকুর, মোহাম্মদ কবীর, মোহাম্মদ ছগীর, সাধক কবি শেখ চন্দের অবদান সমগ্র বাংলাসাহিত্যের গর্ব। এসব কবি যে সিলেটেরই সন্তান ছিলেন তা নিশ্চিভাবে প্রমাণিত। বাংলার অন্যান্য অঞ্চলের কবি সাহিত্যিকরা যেখানে একমাত্র বাংলাভাষায় সাহিত্য সাধনা করে গেছেন সেখানে সিলেটি সাহিত্যিকরা বাংলার পাশাপাশি সংস্কৃত, নাগরী, ইংরেজি, সিলেটি নাগরী, আরবি, ফার্সি এবং উর্দুতে সাহিত্যচর্চা করে যোগ্যতার প্রমাণ রেখে গেছেন। আদিযুগ মধ্যযুগ ও কলিযুগের পর আধুনিক যুগে সিলেটের অসংখ্য কবি ও লেখক সাহিত্য সাধনা করে যাচ্ছেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শ্রী রবীন্দ্র কুমার সিদ্ধার্থ শাস্ত্রী তার ‘শ্রীভূমির সন্তানদের সংস্কৃত সাধনা’ শীর্ষক প্রবন্ধে ১০১ জন সিলেটবাসীর ৩৫৯ খানা সংস্কৃত গ্রন্থের নাম উল্লেখ করেছেন। এমনি ভাবে ফারসি, আরবি এবং উর্দু ভাষায়ও অসংখ্য কবি সাহিত্যিক নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন।

সিলেট অঞ্চলের কবি-সাহিত্যিকরা বাংলা সাহিত্যের সেবা করার সঙ্গে সঙ্গে নাগরী লিপির মাধ্যমে সিলেটি ভাষার চর্চাও অব্যাহত রেখেছেন। উল্লেখ্য, শুধু বাংলা নয়, আরবি, ফার্সি ও উর্দু সাহিত্যও সিলেটবাসীর অবদানে সমৃদ্ধ হয়েছে। নাগরী লিপি সম্পর্কে লিখতে গিয়ে অধ্যাপক আসাদ্দর আলী বলেন, ‘ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় খ্রিষ্টীয় চতুর্দশ শতাব্দীকে সিলেটে এ লিপির প্রচলনকাল বলে অনুমান করেন। আমাদের বিবেচনায় শুধু চতুর্দশ শতাব্দীতে নয়, চতুর্দশ শতাব্দীর প্রথমার্ধেই লিপিমালাটি জন্মলাভের পর এর মাধ্যমে মুসলমানদের সাহিত্য সাধনার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল। তবে ১৫৪৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত গোলাম হুছনের ‘তালিব হুছন’ নামের তত্ত্বগ্রন্থ ছাড়া এর আগে রচিত কোনো গ্রন্থের নিদর্শন এখন আর পাওয়া যাচ্ছে না। বেশিরভাগ মুসলমান ‘সিলটী নাগরী হরফ’-এর সাহায্যে সাহিত্য সাধনা করলেও বাংলা লিপিকে একদম বাদ দেননি। ভিন্ন ভিন্ন সূত্র থেকে এ পর্যন্ত ‘সিলটী নাগরী হরফ’-এ লেখা ১৪০ খানা গ্রন্থের সন্ধান পাওয়া গেছে। এটা কম সৌভাগ্যের ব্যাপার নয়। ‘সিলেটী নাগরী’ লিপি, ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে গবেষণার পর জনাব গোলাম কাদির ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন। এরপর ‘সিলেটী নাগরী’ লিপি নিয়ে পিএইচডি করেছেন কবি মোহাম্মদ সাদিক। তার গবেষণাকর্মটি ‘সিলেটী নাগরী: ফকিরি ধারার ফসল’ শিরোনামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে।

একই বাংলাভাষায় দুটি আলাদা আলাদা লিপির মাধ্যমে সাহিত্য সাধনার এমন নিদর্শন নজিরবিহীন। পৃথিবীর ইতিহাসে এমনটি আর কোথাও নেই। সিলেটের সন্তান চর্যাপদের কবিকুল, মধ্যযুগের কবিকুল এবং মরমি কবিদের বাদ দিলে ইতিহাসে বাংলা সাহিত্যের জন্য গর্ব করার মতো তেমন কিছু আর বাকি থাকে না।

আধুনিক যুগের লেখক সৈয়দ মুজতবা আলীকে দিয়ে শুরু করে উল্লেখযোগ্য সিলেটি কয়েকজন লেখকের নাম উল্লেখ করে লেখার ইতি টানতে চাই। যাদের নাম বাদ পড়বে তারা আগামীর জন্য অপেক্ষায় থাকবেন আশা করছি। একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি দিলওয়ার। তাকে আমরা সুরমা পারের কবি বলেই সম্বোধন করি। পাশাপাশি সৈয়দ মুর্তাজা আলী, সৈয়দ আশহর আলী চৌধুরী, হাছন রাজা, হাফিজ মোহাম্মদ হাতিম চৌধুরী, সহিফা বানু, আরকুম শাহ্, দুরবীণ শাহ্, আর্জুমন্দ আলী, একলিমুর রাজা, মোঃ আশরাফ হোসেন, মতিন উদদীন আহমদ, যতীন্দ্র মোহন ভট্টাচার্য, আব্দুল গফফার চৌধুরী, দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, মেহাম্মদ নুরুল হক, শাহেদ আলী, আকাদ্দস সিরাজুল ইসলাম, সৈয়দা হাবিবুন্নেছা খাতুন, প্রজেশ কুমার রায়, অশোক বিজয় রাহা, মোঃ মুসলিম চৌধুরী, ইসহাক রেজা চৌধুরী, আব্দুর রাজ্জাক, মিরজা আব্দুল হাই, চৌধুরী গোলাম আকবর, বেগম জেবু আহমদ, আফজাল চৌধুরী, মোফাজ্জল করিম, নৃপেন্দ্র লাল দাস, নন্দলাল শর্মা, ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, এ কে শেরাম, তুষার কর, আব্দুল হান্নান, আব্দুল হাসিব, নুরুজ্জামান মনি, হোসনে আরা হেনা, হীরা শামীম, লাভলী চৌধুরী, মোস্তাক আহমাদ দীন, ফজলুল হক, মুস্তাফিজ শফি, মোহাম্মদ শামছ উদ্দিন (আরণ্যক শামছ), মুহম্মদ ইমদাদ, ড. জফির সেতু, পুলিন রায়, অজিত রায় ভজন, ইমতিয়াজ সুলতান ইমরান, সুমন বণিক, পরিতোষ বাবলু, রানা সিংহ, শাহাদাত করিম, ময়নুর রহমান বাবুল, ফজলুর রহমান বাবুল, বসির আহমদ জুয়েল, রওনক চৌধুরী, সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী, জয়নাল আবেদীন জুয়েল, জাহেদ আহমদ, সৈয়দ আফসার, সৈয়দ মবনু, সেলিম আউয়াল, সালাম মসরুর, মুনিরা সিরাজ চৌধুরী, মঞ্জু রহমান লেবু, শ্যামসুন্দর দে, রাধেশ্যাম, আহমদ সায়েম, হোসেন রাজীব চৌধুরী, তুহিন চৌধুরী, সজল ছত্রী, রয়েল পাল, রাহুল চন্দ্র দাশ, হরিপদ চন্দ, তারেক মনোয়ার, হাবিবুর রহমান এনার, সৌমিত্র দেব টিটু, প্রণবকান্তি দেব, জওয়াহের হোসেন, মিহিরকান্তি চৌধুরী, শাহাদত বখত শাহেদ, খালেদ উদদীন, মামুন সুলতান প্রমুখ সিলেটি দেশে ও প্রবাসে অবস্থান করে বাংলাভাষায় সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন এবং করছেন। এদের সাহিত্য কীর্তি নিয়ে আরেক দিন আলোচনার ইচ্ছা রাখি। সিলেটের সমৃদ্ধ ছড়া সাহিত্য এবং মরমি সাহিত্য নিয়ে আলোচনা বাকি রয়ে গেল।

শতবর্ষে শতকণ্ঠে নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা

বাঙালি জাতির জাগরণের স্মারক ‘বিদ্রোহী’ কবিতা। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কবিতাটি লিখেছিলেন ১৯২১ সালে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে। কবির বয়স তখন বাইশ। কলকাতার ৩/৪-সি তালতলা লেনের বাড়িতে রাত জেগে এই কবিতাটি লিখেছিলেন তিনি। ধ্রুপদী এই কবিতাটি রচনার শতবর্ষ পূর্ণ হলো। আর জাতীয় কবির বিদ্রোহী কবিতাটি শতবর্ষের লগ্নে শতকণ্ঠে উচ্চারিত হলো বাংলা একাডেমির বটতলায় নজরুল মঞ্চে।

শীতের সকালে শুক্রবার আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা এবং অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানেন জাতীয় কবির দৌহিত্র খিলখিল কাজী। শতবর্ষে শতকণ্ঠে বিদ্রোহী কবিতাটি পাঠ অংশ নেন রাজধানীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একশ শিক্ষার্থী। যারা একেবারেই তরুণ, বিদ্রোহের তাড়নায় উজ্জীবিত, তাদের সবার বয়সই বাইশের কোঠায়। কবির সময়কাল মাথায় নিয়েই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্নের বাংলাদেশ’ এ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করে।

অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্র, এথিক থিয়েটার এবং প্রিজম অংশ নেয়। শতকণ্ঠে বিদ্রোহী কবিতা পাঠে অংশ নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ, জাহাঙ্গীর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন ধ্বনি, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি সাহিত্য ফোরাম, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি কালচারাল ক্লাব, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কালচারাল ক্লাব, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক সাহিত্য সংসদ, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য ফোরাম, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, সহজপাঠ উচ্চ বিদ্যালয়, কিষাণ থিয়েটার, কণ্ঠশীলন, আভিযাত্রিক স্কুল এবং শিল্পবাংলা।

ওমিক্রন ভয়ঙ্কর রকম ছোঁয়াচে: অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আতিক

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনে বিশ্বে রীতিমতো সংক্রমণের সুনামি বয়ে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১৬ লাখের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও রিউমাটোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আতিকুল হক বলেন, ‘এই ভাইরাসটা অনেক বেশি ছোঁয়াচে। ছোঁয়াচেপনা হিসাব করে যদি বলতে চাই, তাহলে বলবো- এটা ভয়ঙ্কর রকম বেশি ছোঁয়াচে। অনেক বেশি গুণ ছড়াচ্ছে, দ্রুত অল্পসময়ে সংস্পর্শেই ছড়িয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এর থেকে তীব্র কোভিড হওয়ার হার সম্ভবত কম এবং মৃত্যুর হারও সম্ভবত অনেক কম। এই কারণেই আমাদেরকে বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা থেকে খানিকটা আশ্বস্ত করা হচ্ছে যে, এটা থেকে সেই ব্যাপক মৃত্যুযজ্ঞ সৃষ্টি হয়তো নাও হতে পারে।’

তিনি বলেন, এই বিষয়টাতে কিছু উপাত্ত আছে কিন্তু খুবই সীমিত। আমি বলবো- একটা বিশাল সংখ্যা নিয়ে সিস্টেমেটিক্যালি চালানো যে গবেষণা, তার ফলাফল এখন পর্যন্ত (হাতে) খুবই কম। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বলা হয়েছিল, যেসব এলাকায় ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়েছে, সেসব এলাকায় বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রে এই কোভিড-১৯ ছিল মৃদু। যারা ভ্যাকসিন পেয়েছেন তাদের মধ্যে মৃদু, এমনকি যারা ভ্যাকসিন পাননি তাদের মধ্যে মৃদু।

অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আতিক বলেন, অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকার যে সরকারি তথ্য, তারা সেখানে তীব্র কোভিডে আক্রান্ত রোগীর বা মৃতের সংখ্যার উপাত্ত দেয়নি। যুক্তরাজ্য থেকে সম্প্রতি এই ওমিক্রনে আক্রান্তদের একটা উপাত্ত দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হচ্ছে- প্রায় দুই লাখ ওমিক্রন আক্রান্ত রোগীর তথ্য তাদের আছে। আক্রান্ত ২০ জন মারা গেছেন।

প্রখ্যাত এই মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও রিউমাটোলজিস্ট বলেন, ‘আমরা অনুমান করতে পারি, তার কেইস ফ্যাটালিটি রেইট যেটা (মানে যতজন সংক্রমিত তার মধ্যে কত শতাংশ মারা গেছে), সেই কেইস ফ্যাটালিটি রেইট ০.০১ শতাংশ। যেহেতু আগের কেইস ফ্যাটালিটি রেইট আরও বেশি ছিল ০.১ শতাংশ মানে প্রায় ১০ গুণ। তার তুলনায় এটাতে (ওমিক্রনে) মৃতের হারটা এখনো খুবই কম।’

তিনি বলেন, ইংল্যান্ড (যুক্তরাজ্য) থেকে আরও বলা হয়েছে যে, ওমিক্রনে যারা সংক্রমিত, তাদের হাসপাতালে ভর্তির হারটা অনেক কম।

তবে প্রখ্যাত এই মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও রিউমাটোলজিস্ট বলেন, ‘বিল গেটস একটা আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন যে, এমনও হতে পারে যে এই ভাইরাসগুলো তো মিউটেট করে। এই ওমিক্রন যদি ফের মিউটেট করে এবং মিউটেট করে তার ভিরুলেন্স তথা বিপদ ঘটানোর শক্তি যদি বেড়ে যায়, তাহলে এর থেকেও একটা বড় দুর্ঘটনা ঘটতেও পারে। তার মানে আমাদের সতর্ক থাকতেই হবে। এটা ঠিক যে, আমরা যখনই বাইরে যাব আমাদের মাস্ক পড়তে হবে, জটলা এড়িয়ে চলতে হবে এবং ভ্যাকসিনটাও নিতে হবে। এগুলো আমাদের অবশ্যই মেনে চলতে হবে।’

সূত্র: ডক্টর টিভি