শনিবার ,১৬ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 546

৮ লক্ষণে বুঝবেন ফুসফুসে ক্যান্সার

আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হচ্ছে ফুসফুস। আর শ্বাস নিতে কাজ করে এমন গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গটির সবচেয়ে ভয়াবহ সংক্রমণ হচ্ছে ক্যান্সার।

বর্তমান বিশ্বে ফুসফুসের ক্যান্সার সবচেয়ে বেশি মারাত্মক হয়ে উঠেছে বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা ফুসফুসে ক্যান্সারের লক্ষণগুলো না বুঝেই অবহেলা করেন। আবার ফুসফুসের ক্যান্সার উপসর্গ সবসময় প্রাথমিক পর্যায়ে দেখা নাও দিতে পারে। কিন্তু ফুসফুসের ক্যান্সার যত তাড়াতাড়ি আপনি বুঝতে পারবেন, এটির চিকিৎসাও তত তাড়াতাড়ি করা সহজ হবে। তাই আজ জেনে নিন যে ৮ লক্ষণে বুঝবেন ফুসফুসে ক্যান্সার—

১. বেশিরভাগ সময় কাশি হওয়া
অনেকেই কাশির সমস্যাকে অবহেলা করে থাকেন। কিন্তু এটিও হতে পারে ফুসফুসে ক্যান্সারের একটি লক্ষণ। আপনার যদি বেশিরভাগ সময়ে কাশি হয়ে থাকে তবে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

২. কাশির শব্দে পরিবর্তন বা কাশির সময় বুকে ব্যথা
অনেকদিন কাশি হওয়ার পরে কাশির শব্দে পরিবর্তন আসতে পারে এবং কাশির সময় বুকে ব্যথা হতে পারে। এমনটা হলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ এটিও হতে পারে ফুসফুসে ক্যান্সারের একটি লক্ষণ।

৩. কোনো কাজ করতে গিয়ে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া
আপনি আগে যেসব কাজগুলো কোনো সমস্যা ছাড়াই করতেন, সেগুলো করতে গিয়ে এমন মনে হতে পরে যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এরকম সমস্যা দেখা দিলে তা হতে পারে ফুসফুসে ক্যান্সারের একটি লক্ষণ।

৪. কফে রক্ত আসা
অনেক সময় কাশির সঙ্গে কফ উঠে তাতে রক্ত আসতে দেখা দিতে পারে ফুসফুসে ক্যান্সার হয়ে থাকলে।

৫. বুকে বা কাঁধে ব্যাথা
ফুসফুসে ক্যান্সারের আরেকটি লক্ষণ হচ্ছে বুকে বা কাঁধে ব্যাথা দেখা দেওয়া।

৬. বুকের সংক্রমণ
কিছুদিন পরপরেই বুকে সংক্রমণ দেখা দেওয়া বা একবার বুকের সংক্রমণ হলে তা অনেক দিনেও ভালো না হওয়া ফুসফুসে ক্যান্সারের একটি লক্ষণ হতে পারে।

৭. ক্ষুধা কমে যাওয়া ও ওজন কমে যাওয়া
ফুসফুসে ক্যান্সারের কারণে ক্ষুধা অনেক কমে যেতে পারে এবং ওজন কমে যেতে পারে।

৮. ক্লান্তিবোধ
ফুসফুসে ক্যান্সার হয়ে থাকলে তার একটি লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে ক্লান্তিবোধ। এতে সবসময় আপনার ক্লান্তিবোধ দেখা দিতে পারে।

এসব লক্ষণ দেখা আপনার শরীরে দেখা দিয়ে থাকলে অবহেলা না করে দ্রুতই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

তথ্যসূত্র: ক্যান্সার রিসার্চ ডট ওআরজি

শূন্য থাকবে পাঁচ লাখ আসন

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় রেকর্ড পাশ সত্ত্বেও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে অন্তত ৫ লাখ আসন শূন্য থাকবে। পাশ করা শিক্ষার্থীর তুলনায় এ স্তরে কলেজ, মাদ্রাসা, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসন বেশি আছে। মূলত এ কারণেই আসন খালি থাকবে। এরপরও ভর্তি সংকট তৈরির আশঙ্কা আছে। কেননা, দেশে নামকরা ও ভালোমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কম। আর এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীরা বেশি ভিড় করে থাকে। ফলে চিহ্নিত কিছু প্রতিষ্ঠান ভর্তিচাপে পড়বে। বিপরীত দিকে অখ্যাত এবং নামসর্বস্ব কলেজ ও মাদ্রাসা যথারীতি শিক্ষার্থী সংকটে থাকবে।

 

এসএসসি পরীক্ষার ফলপ্রকাশের পর বৃহস্পতিবার রাতেই আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি থেকে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রমের রোডম্যাপ জারি করা হয়েছে। সে অনুযায়ী ৮ জানুয়ারি থেকে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে। ২ মাস ধরে ভর্তি কার্যক্রম শেষে ২ মার্চ একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে। অন্যদিকে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোতেও ৮ জানুয়ারি থেকে আবেদন নেওয়ার চিন্তা চলছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে ভর্তি নীতিমালাসহ এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে লেখাপড়া হয় এমন কলেজ ও মাদ্রাসা আছে ৮৮৬৪টি। অন্যদিকে সরকারি ও বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট আছে সাড়ে ৫০০। কলেজ ও মাদ্রাসায় আসন আছে ২৪ লাখ ৪০ হাজার ২৪৯টি। আর পলিটেকনিকে আছে ১ লাখ ৬৯ হাজার। সবমিলে এ স্তরে আসনসংখ্যা ২৬ লাখ ৯ হাজার ২৪৯টি। বিপরীত দিকে এসএসসি, দাখিল এবং এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনালে মোট পাশ করেছে ২০ লাখ ৯৬ হাজার ৫৪৬ জন। এর মধ্যে এসএসসিতে ১৬ লাখ ৮৬ হাজার ২১১ জন, দাখিলে ২ লাখ ৭২ হাজার ৭২২ জন আর কারিগরি শাখা থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৩ জন পাশ করেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে ৯ হাজার কলেজ, মাদ্রাসা ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থাকলেও শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে হাতেগোনা আড়াইশ প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে ২০০-এর মতো কলেজ ও মাদ্রাসা এবং ৪৯টি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। এছাড়া প্রায় ৫০০ বেসরকারি পলিটেকনিক থাকলেও ডজনখানেক প্রতিষ্ঠান আকৃষ্ট করার ক্ষমতা রাখে। এসব প্রতিষ্ঠানে আসন আছে সর্বোচ্চ এক লাখ। কিন্তু এবার এসএসসির সর্বোচ্চ সাফল্য হিসাবে চিহ্নিত জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ৮৩ হাজার ৩৪০ শিক্ষার্থী। এছাড়া জিপিএ-৫ এর নিচে কিন্তু জিপিএ-৩.৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী আছে আরও ১০ লাখ ১ হাজার ৫১৩ জন। এসব শিক্ষার্থীকেও ভালোমানের প্রতিষ্ঠানের দিকে ছুটতে দেখা যায়। ফলে ভর্তি নিয়ে এক ধরনের তুমুল প্রতিযোগিতা অপেক্ষা করছে। আর এ থেকেই অনেকের মধ্যে টেনশন ভর করেছে। যে কারণে ফল হাতে পাওয়ার পরদিনই অনেককে খোঁজখবরের পাশাপাশি চেষ্টা-তদবিরও শুরু করতে দেখা গেছে।

এদিকে ফল প্রকাশের রাতেই ভর্তির আলোচনা সামনে এনেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড। তারা ভর্তি নীতিমালা জারি করেছে। সে অনুযায়ী, ৮ জানুয়ারি অনলাইনে আবেদন শুরু হবে। টানা ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হবে। পরে তিন ধাপে মেধা তালিকা প্রকাশ করা হবে। এবার শুধু অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে। এরআগে এসএমএসেও আবেদন নেওয়া হতো। এবার ভর্তির ওয়েবসাইট xiclassadmission.gov.bd তে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে শিক্ষার্থীরা সর্বনিম্ন পাঁচটি ও সর্বোচ্চ ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচন করবে। ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে যারা এসএসসি পাশ করেছে তারা আবেদন করতে পারবে। তবে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএসসি পাশ করা শিক্ষার্থীরা ২২ বছর বয়সেও আবেদন করতে পারবে। আর যেসব শিক্ষার্থী এসএসসি ও দাখিলের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করবে তারা ১৫ জানুয়ারির মধ্যে আবেদন করলেও ফল পরিবর্তনকারীরা ২২ ও ২৩ জানুয়ারি আবেদন করতে পারবে। ২৪ জানুয়ারি পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হবে। আর ২৯ জানুয়ারি প্রথম দফায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে।

এতে আরও বলা হয়, ৩০ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের সিলেকশন নিশ্চয়ন করতে হবে। সিলেকশন নিশ্চয়ন না করলে তাকে পুনরায় ফিসহ আবেদন করতে হবে। ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদন নেওয়া হবে। পছন্দক্রম অনুযায়ী প্রথম মাইগ্রেশনের ফল এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফল প্রকাশ করা হবে ১০ ফেব্রুয়ারি। ১১-১২ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সিলেকশন নিশ্চয়ন করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে সিলেকশন নিশ্চয়ন না করলে আবেদন বাতিল হবে। ১৩ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় পর্যায়ের আবেদন নিয়ে পছন্দক্রম অনুযায়ী দ্বিতীয় মাইগ্রেশনের ফল এবং তৃতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফল প্রকাশ করা হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি। ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সিলেকশন নিশ্চয়ন করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে সিলেকশন নিশ্চয়ন না করলে আবেদন বাতিল হবে।

আবেদন ও নির্বাচন পর্ব শেষে ১৯ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হবে। এবার আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা। নীতিমালায় ঢাকা ও জেলা পর্যায়ে বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে ভর্তি ফিসহ সব ব্যয় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার ক্ষেত্রে বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে ৫ হাজার টাকা, ঢাকা মহানগরের বাইরে ৩ হাজার, জেলা পর্যায়ে ২ হাজার আর উপজেলা ও মফস্বলে ১ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করা যাবে। নির্ধারিত ফির বেশি অর্থ আদায় করা যাবে না। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সেশনচার্জ ও ভর্তি ফি গ্রহণ করা যাবে। উন্নয়ন ফি আদায় করা যাবে না।

লটারিতে সুযোগ পেলে ভর্তি বাধ্যতামূলক

তিন স্তরের (মহানগর, বিভাগ ও জেলা) সরকারি-বেসরকারি হাইস্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে হযবরল অবস্থা তৈরি হয়েছে। কোথাও বেশি বয়সের ধুয়া তুলে লটারিতে নির্বাচিতদের ভর্তি করানো হচ্ছে না। কোথাও আবার মৌখিক পরীক্ষার নামে ছাঁটাই করা হচ্ছে। এর ফলে লটারিতে চান্স পাওয়ার পরও কেউ কেউ ভর্তি থেকে বাদ পড়ছে। ভুক্তভোগীদের অনেকে যুগান্তরের কাছে এসব বিষয়ে তথ্যবহুল অভিযোগ করেছেন।

 

অপরদিকে রাজধানী ও রাজধানীর বাইরে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পায়নি। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আয়োজনে অনলাইনে আবেদনকারীদের মধ্যেই এমন শিক্ষার্থী আছে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ। অবশ্য এসব শিক্ষার্থীকে এখন সরাসরি ভর্তির সুযোগ দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ভর্তির এই সংকট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাউশি পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, ‘ভর্তির নামে যুদ্ধাবস্থা দূর করার জন্য সরকার লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির উদ্যোগ নিয়েছে। তাই লটারির বাইরে মূল্যায়ন বা অন্য কোনোভাবে পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি কিংবা ছাঁটাইয়ের সুযোগ নেই। লটারিতে সুযোগ পেলে ভর্তি বাধ্যতামূলক। কিন্তু যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লটারিতে চান্স পাওয়ার পরও ভর্তি না করার অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে অভিভাবকরা লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মোদ্দা কথা কেউ ভর্তিবঞ্চিত থাকবে না। যারা লটারিতে চান্স পায়নি কিংবা অনলাইনে আবেদন করতে পারেনি-তাদের সরাসরি ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে। আসন শূন্য থাকা সাপেক্ষে এই ভর্তি প্রক্রিয়ার বিষয়টি স্ব স্ব স্কুল সরকারি কমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন করবে।’

ভর্তিতে দুর্নীতি বন্ধে এবার প্রথমবারের মতো বেসরকারি হাইস্কুলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় লটারিতে শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় জেলা সদর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু কিছু প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ছাড় দিয়েছে। অর্থাৎ লটারি না করেও নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি করাতে পারবে। এ ধরনের স্কুলের মধ্যে বিভিন্ন চার্চ পরিচালিত প্রতিষ্ঠানসহ ঢাকার রেসিডেন্সিয়াল ও উত্তরা মডেল কলেজের মতো প্রতিষ্ঠান আছে। যদিও অভিভাবকদের দাবি অনুযায়ী এসব স্কুলে যেহেতু ভর্তি নিয়ে বেশি তদবির হয়, তাই এখানে লটারিতে ভর্তি রাখা জরুরি ছিল।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ছিল, মাউশির কমিটির অধীনে এবং কেবল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। কিন্তু সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও স্বতন্ত্র ভর্তির অনুমতি পাওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করেছে। এক্ষেত্রে কোনোটি লটারির আগে, আবার কোনোটি লটারির পরে মৌখিক পরীক্ষা নিয়েছে। এমন একটি প্রতিষ্ঠান রাজধানীর রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল ও কলেজ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক যুগান্তরকে জানান, এই প্রতিষ্ঠানটি এবার কেন্দ্রীয় ভর্তি প্রক্রিয়ায় আসেনি। নিজেরা আবেদন নিয়ে গত শনিবার তৃতীয় শ্রেণির লটারি আয়োজন করে। রোববার থেকে শিক্ষার্থীর কাগজপত্র যাচাই করে ভর্তি নেওয়ার কথা। কিন্তু ঘোষণার বাইরে মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে ভর্তিবঞ্চিত করা হয় অনেককে। ওই অভিভাবক আরও বলেন, তার সন্তানও আছে বঞ্চিতদের ওই তালিকায়। তার সন্তানের ভর্তির তারিখ ছিল সোমবার। তাদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বসে থাকতে হয়। সারাদিন না খেয়ে থাকায় সন্ধ্যায় ছেলে দুর্বল হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় সে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলতে পারেনি। পরে দেখে তার ছেলেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ লটারিতে নির্বাচিত কাউকে বাদ দেওয়ার কথা নয়।

এ প্রসঙ্গে বক্তব্য নিতে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামীমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে মাউশির পরিচালক অধ্যাপক মো. বেলাল হোসাইন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি আলাদা ভর্তির অনুমতি পেলেও কোনো ধরনের পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ নেই। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জানা গেছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানেও লটারিতে নির্বাচিতদের ভর্তিতে জটিলতা হয়েছিল। জামালপুর জিলা স্কুলে লটারিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও বয়সের জটিলতার কারণে শিক্ষার্থী ভর্তি না করার অভিযোগ উঠেছিল। এরপর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আন্দোলন করেন। পরে অবশ্য মাউশি নির্দেশনা জারি করে যে, কেবল প্রথম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে ৬ বছর বা এর বেশি বয়স হতে হবে। তবে এর কম হলে হলে ভর্তি করা হবে না। আর অন্য শ্রেণিতে বয়সের কোনো বিধিনিষেধ নেই।

মাউশি সূত্র জানায়, এবার ৪০৫টি সরকারি এবং ২৯৬২টি বেসরকারি স্কুলে সরকারিভাবে অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম চলছে। এগুলোর মধ্যে সরকারিতে ৮০ হাজার ১৭টি এবং বেসরকারিতে ৯ লাখ ৪০ হাজার ৮৭৬টি আসন রয়েছে। ৮০ হাজার আসনের বিপরীতে আবেদন পড়ে ৫ লাখ ৩৮ হাজার ১৫৩টি। আবেদনকারী বেশি থাকা সত্ত্বেও ৪ হাজার ৪৮ আসনে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া যায়নি। অপরদিকে বেসরকারি আসনের তুলনায় আবেদন কম পড়লেও সবাইকে ভর্তির সুপারিশ করা হয়নি। আবেদনকারীর মধ্যে ২ লাখ ৭৬ হাজার ৬৪১ জন লটারিতে চান্স পেয়েছে। মোট আবেদন করেছে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৭০৭ জন। সুপারিশ বঞ্চিত আছে ৯২ হাজারের বেশি। ফলে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও বেসরকারিতেও ভর্তি নিয়ে এক ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মোট আবেদন করে ৯ লাখ ৬ হাজার ৮৬০ জন। তাদের মধ্যে ৩ লাখ ৫৩ হাজার ভর্তির সুপারিশ পেয়েছে। বাকি সাড়ে ৫ লাখেরই ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তারা এখন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে এক রকম হন্যে হয়ে ভর্তি করাতে বিভিন্ন স্কুল খুঁজছে। বিশেষ করে প্রথম শ্রেণিতে আবেদনকারীরা বেশি অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

রাজধানীর মতিঝিলের বাসিন্দা মেহেদী হাসান রাসেল বলেন, ‘তার দুই ছেলে ভর্তির জন্য আবেদন করেছেন। ছোটটি প্রথম শ্রেণিতে আর বড়টি ষষ্ঠ শ্রেণিতে। কিন্তু ফলাফলে দুই ছেলেই অপেক্ষমাণ তালিকায় আছে। তবে বড়টি নিয়ে ঝামেলা নেই। তাকে হয়তো আগের স্কুলে রাখা যাবে। কিন্তু ছোটটি নিয়ে তিনি বিপদে পড়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘লটারি প্রক্রিয়া না থাকলে তিনি তার ছেলেকে হয়তো পছন্দের ভালো স্কুলে ভর্তি করাতে পারতেন।’

এদিকে মাউশির উপপরিচালক আজিজ উদ্দিন যুগান্তরকে জানিয়েছেন, ‘ভর্তির জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক আসন আছে। যদিও সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসন কম। কিন্তু বেসরকারিতে সাড়ে ৯ লাখ আসন আছে। লটারির মাধ্যমে পৌনে ৩ লাখকে সুপারিশ করা হয়েছে। সুতরাং শূন্য আসনে এখন স্কুল না পাওয়া, এমনকি অনলাইনে আবেদন না করা প্রার্থীরা ভর্তি হতে পারবে। এজন্য এখন সরাসরি ভর্তি করার অনুমতি স্কুলগুলোকে দেওয়া হবে।

মাউশি পরিচালক বেলাল হোসাইন বলেন, ‘মূলত জানুয়ারি মাস ধরেই শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম চলবে। যারা লটারিতে এসেছে কিংবা আসেনি- সবার জন্য নির্দেশনা দেওয়া আছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে যে ৪ হাজার আসন শূন্য আছে সেখানে স্কুলগুলোর চাহিদার ভিত্তিতে দ্বিতীয় তালিকায় শিক্ষার্থী দেওয়া হবে। আর নানান কারণে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যেও কেউ কোথাও ভর্তি না হওয়ায় আসন শূন্য হলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ভর্তি করানো হবে। এরপরও আসন খালি থাকলে দ্বিতীয় অপেক্ষমাণ তালিকা দেওয়া হবে।’

জ্যাকুলিনের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল: সুকেশ

বলিউডের হার্টথ্রুব নায়িকা জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের সঙ্গে বিতর্কিত ব্যবসায়ী সুকেশ চন্দ্রশেখরের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন চলছে। সম্প্রতি এই দুজনের একটি ঘনিষ্ঠ ভিডিও ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়ার পর গুঞ্জন আরও ডালপালা মেলে।

ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরক্টেরেটকে (ইডি) জিজ্ঞাসাবাদে জ্যাকুলিন স্বীকার করেছেন তিনি সুকেশের কাছ থেকে দামি উপহার গ্রহণ করেছেন। এই ধনকুবেরের কাছ থেকে অভিজাত প্রসাধন সামগ্রী, বিদেশি বিড়াল ও ঘোড়াসহ কয়েক কোটি টাকার উপহার নেওয়ার অভিযোগে জ্যাকুলিনকে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এমতাবস্থায় সুকেশের সঙ্গে জ্যাকুলিনের সত্যিকারের সম্পর্কটা কী?-সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তার ভক্তদের মনে। জ্যাকুলিন অবশ্য সুকেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে অস্বীকার করেছেন।

তবে সুকেশের দাবি, জ্যাকুলিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। সুকেশের পক্ষ থেকে তার আইনজীবী শনিবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, জ্যাকুলিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণেই তাকে দামি উপহার দিয়েছেন। তবে সুকেশের দাবি, জ্যাকুলিন নির্দোষ। প্রতারণা ও অর্থপাচার মামলায় তার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই।

‘তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল। আর এ কারণেই আমি তাকে পছন্দের উপহার সামগ্রী দিয়েছি। আমার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে যেসব লেনদেন হয়েছে, যেসব উপহার আমি দিয়েছি সেটি বৈধ ছিল কিনা সেটি আদালত বিচার করবে। জ্যাকুলিন এসবের সঙ্গে জড়িত নয়।’

করোনায় আক্রান্ত সৃজিত আইসোলেশনে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় তারকা জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের পর করোনায় আক্রান্ত সৃজিত মুখোপাধ্যায়।

নতুন বছরের প্রথম দিনই টালিউডের এক সুরকার ও পরিচালক করোনায় আক্রান্ত হলেন। টুইট করে বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করেছেন সৃজিত। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

শনিবার টুইট করে সৃজিত জানান, করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনি আইসোলেশনে আছেন। গত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যারা তার সংস্পর্শে এসেছেন, তাদের করোনা পরীক্ষা করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

গত ছয় দিনে দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যায় ১০ গুণ বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। তারই প্রভাব পড়েছে টলিউডেও। করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন একের পর এক তারকা।

উডাং কুংফুতে স্বর্ণপদক পেলেন হাফেজ নাসির

বঙ্গবন্ধু জাতীয় শাওলীন ও উডাং কুংফু প্রতিযোগিতায় দেশের ১৮ জেলার ৬৫ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অধিকার করে স্বর্ণপদক পেয়েছেন কাশিয়ানীর কুরআনের হাফেজ মো. আলীমুজ্জামান নাসির (২৪)।

বাংলাদেশ শাওলীন ও উডাং কুংফু ফেডারেশনের আয়োজনে কিশোরগঞ্জে ২৭-২৮ ডিসেম্বর দুই দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের ১৮ জেলার ৬৫ প্রতিযোগী অংশ নেন।

গত ২৮ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জের নেহাল গ্রিনপার্কে পৌর মেয়র মাহমুদ পারভেজ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে স্বর্ণপদক জয়ী মো. আলীমুজ্জামান নাসিরের হাতে পদক তুলে দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আলী সিদ্দিকী, বাংলাদেশ শাওলীন অ্যান্ড উডাং কুংফু অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইফফাত আরা, সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল করিম, জেলা ক্রীড়া অফিসার আল আমিন, নেহাল গ্রিন পার্কের পরিচালক ওসমান গণি, বাংলাদেশ কুশু অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দীন প্রমুখ।

মো. আলীমুজ্জামান নাসির গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার খায়েরহাট গ্রামে পান্নু শিকদারের ছেলে। মা রেবেকা বেগম গৃহিণী। তিনি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার মালা মুহাম্মাদীয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা থেকে ২০১৪ সালে হেফজ শেষ সম্পন্ন করেন। এর পর তিনি ঢাকার দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী জামিয়া ইসলামীয়া দারুল উলুম মাদানিয়া মাদ্রাসায় জামাত বিভাগে অধ্যয়নের পাশাপাশি ঢাকার মেজবাহ মার্শাল আর্ট একাডেমিতে অনুশীলন করেন।

স্বর্ণপদক জয়ী আলীমুজ্জামান নাসির বলেন, এ অর্জন আমার প্রিয় শিক্ষক মেজবাহ উদ্দীনের। যিনি আমাকে নিজের সন্তানের মতো শিক্ষা দিয়েছেন। যার অনুপ্রেরণা ও সার্বিক সহযোগিতায় আজ আমি প্রথম হতে পেরেছি। আমি তার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।

কাশিয়ানী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ আলী খোকন বলেন, আলীমুজ্জামান নাসির ৬৫ প্রতিযোগীকে হারিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে স্বর্ণপদক লাভ করেছেন। তার এ অর্জন ও সাফল্য আমাদের অনেক বড় প্রাপ্তি। নাসির কাশিয়ানী তথা গোপালগঞ্জ জেলাবাসীর মুখ উজ্জ্বল করেছেন। নাসির আমাদের গর্ব। আমি তার জীবনের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।

যে কারণে সহঅধিনায়ক করা হলো বুমরাহকে

হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে নেই ভারত দলের অধিনায়ক রোহিত শর্মা।

এ সিরিজের নেতৃত্বের ভার পড়েছে লোকেশ রাহুলের কাঁধে।

রাহুলের অধিনায়কত্ব নিয়ে চমক ছিল না ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে।

তবে পেসার জাসপ্রিত বুমরাহকে দলের সহঅধিনায়ক করায় অনেকেই ভ্রু কুঁচকেছেন। বিষয়টি নিয়ে আপত্তিও তুলেছেন কেউ কেউ।

ভারতীয় বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ঋষভ পন্ত কিংবা শ্রেয়াস আইয়ারকে সহঅধিনায়ক করা উচিত ছিল। আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের অধিনায়কত্ব করার অভিজ্ঞতা তাদের রয়েছে।

২০১৬ সাল থেকে জাতীয় দলের হয়ে খেলা পেসার বুমরাহ এ পদের জন্য কতটুকু যোগ্য?

সেই প্রশ্নে বুমরাহকে যোগ্য মনে করেন ভারতীয় বোর্ডের সাবেক নির্বাচক এমএসকে প্রসাদ।

বুমরাহের সহ-অধিনায়ক হওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন তিনি।

ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রসাদ বলেন, ‘জাসপ্রিত বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন একজন তরুণ ক্রিকেটার। একজন পেসার সব ফরম্যাটে ভালো করলে তাকে সহঅধিনায়ক করলে সমস্যা কোথায়? তাছাড়া কোনো খেলোয়াড়কে সুযোগ দেওয়া না হলে সে তার যোগ্যতা জানাতে পারে না। ’

ঋষভ ও শ্রেয়াসকে সহঅধিনায়ক না করার যুক্তি হিসেবে প্রসাদ বলেন, ‘আমার ওদের (সহ-অধিনায়ক) হিসেবে নির্বাচন কারণ হল আইয়ার সদ্য চোট সারিয়ে ফিরেছে। আর ঋষভের সাদা বলের ক্রিকেটে আরও বেশি পরিমাণে ধারাবাহিকতা দেখানোর প্রয়োজন। আমার মনে হয় যেহেতু অন্তত ২০২৩ অবধি রোহিত অধিনায়ক থাকবেন এবং রাহুল তার সহকারী, পন্ত বা আইয়ারকে এই সময়ের মধ্যে সহঅধিনায়কত্ব দেওয়ার অর্থ হল ওরা যে লিডারশিপ গ্রুপের অংশ, তার পূর্বাভাস দেওয়া, যেটা হয়তো সত্যি নয়।’

টেকনাফে অস্ত্রসহ যুবক আটক

কক্সবাজারে টেকনাফে বিশেষ অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ এক যুবককে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। আটককৃত যুবকের নাম মোহাম্মদ শামীম (১৯)।

শনিবার রাতে হোয়াইক্যং ইউনিয়ানের জিমংখালী জামে মসজিদ গেইটেরের সামনে টেকনাফ টু কক্সবাজার পাকা রাস্তার উপরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

মোহাম্মদ শামীম হোয়াইক্যং ইউনিয়ানের নয়াবাজার এলাকার নুর হোসেনের ছেলে।

রোববার দিবাগত রাতে গণমাধ্যম কে এ তথ্য নিশ্চিত করেন কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিডিয়া কর্মকর্তা আবু সালাম চৌধুরী।

র‌্যাব জানায়, রাতে মোটরসাইকেল যোগে শামীম নামের এক যুবক অস্ত্র বহন করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ সিপিসি-১ কোম্পানি কামান্ডার লে. মাহাবুবুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে এক দল র‌্যাবের সদস্য জিমংখালী মসজিদের সামনে অবস্থান করে। যুবক শাশীম র‌্যাবের অবস্থান বুঝতে পেরে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধাওয়া করে আটক করেন। পরে তাকে তল্লাশি করলে তার কাছ থেকে একটি অস্ত্র পাওয়া যায়।

আটক যুবককে আইনি প্রক্রিয়া শেষ টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

ছাগল খেতে এসে ঢাকায় ধরা পড়ল সুন্দরবনের বাঘ

ঢাকার ধামরাই উপজেলার লোকালয়ে ছাগল খেতে আসা ক্ষুধার্ত সুন্দরবনের এক রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে উদ্ধার করেছেন স্থানীয় জনতা।

রোববার সকাল পর্যন্ত বাঘটি উপজেলার নবগ্রাম চরপাড়া মো. আব্দুল হালিমের তত্বাবধানে রয়েছে।

এর আগে শুক্রবার রাতে বাঘটি উদ্ধার করা হয় উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের নবগ্রাম এলাকা থেকে।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, বেনাপোল, হিলি ও পার্বতীপুর সীমান্ত পথে বাঘটি পাচারের আগে পাচারকারীদের অগোচরে এলাকার জঙ্গল, কলাবাগান কিংবা কবরস্থানের ঝোঁপঝাড়ে আশ্রয় নেয়। এর পর ক্ষুধার যন্ত্রণা সইতে না পেরে বাঘটি লোকালয়ে আসে। শুক্রবার কৃষক মো. আব্দুল হালিমের বাড়ির একটি ছাগল ধরে নিয়ে আমবাগানের ভেতর খাচ্ছিল ওই বাঘটি। এ সময় পথচারীরা শব্দ শুনতে পেয়ে ভয়ে আঁতকে ওঠে। পরে এলাকাবাসী লাঠিসোটা আর মোটা সুতার জাল নিয়ে বাঘটিকে ঘেরাও করে আটক করে।

এলাকাবাসীর মাঝে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত উৎসুক জনতা বাঘটি দেখতে আসে।এতে জনমনে বেশ আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের ধারণা এলাকার ঝোঁপঝাড়, কবরস্থান কিংবা কলাবাগানের ভেতর আরও বাঘ বা শাবক ছানা লুকিয়ে থাকতে পারে।

রোববার বিকালে আব্দুল হালিম জানান, শুক্রবার দিনগত রাত ১১টার দিকে আমার বাড়ির উঠানে থাকা একটি বড় ছাগল ধরে নিয়ে যায়। আমরা ধারণা করেছিলাম হয়তো কোনো শিয়াল কুকুর ধরে নিয়ে গেছে ছাগলটি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কোথাও ছাগলটি পাইনি। পরে গ্রামবাসীর আনাগোনা ও হইহুল্লোড় শুনে এগিয়ে গিয়ে দেখি ওই বাঘটিই আমার ছাগলটি ধরে নিয়ে খেয়ে ফেলেছে। বাঘের পাশেই পড়ে আছে ছাগলটির মাথা। এ বাঘটি চিড়িয়াখানায় দেওয়া হবে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান বলেন, বাঘটি লোকালয়ে ছাগল খাওয়ার জন্য এসে জনতার হাতে ধরা পড়ে। এ ব্যাপারে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এলেই বাঘটি হস্তান্তর করা হবে।

কাশ্মীরের সাবেক ৩ মুখ্যমন্ত্রী গৃহবন্দি

জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক তিন মুখ্যমন্ত্রীকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। ফারুক আবদুল্লাহ, মেহবুবা মুফতি এবং ওমর আবদুল্লাহর শ্রীনগরের বাড়ি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। খবর এনডিটিভি ও ইন্ডিয়া টুডের।

সাবেক এই তিন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে নিরাপত্তা বাহিনীর ট্রাক দাঁড় করিয়ে রেখেছে পুলিশ। কাউকে বাড়িতে ঢুকতে কিংবা বের হতে দেওয়া হচ্ছে না।

জম্মু ও কাশ্মীরের নির্বাচনী আসন বণ্টনের সীমানার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্ধারণসংক্রান্ত কমিশন। কমিশন কাশ্মীরের একটি আসনের বিপরীতে জম্মু প্রদেশের জন্য ছয়টি অতিরিক্ত আসনের প্রস্তাব করেছে, যা সাবেক রাজ্যের উভয় প্রদেশের জনসংখ্যার অনুপাতের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।

বিরোধীরা এ প্রস্তাবকে লজ্জাজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের অভিযোগ— প্রস্তাবিত এ আসন বণ্টন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে একজনের একটি ভোট- এই অধিকারের পরিপন্থী। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ নেতৃত্বাধীন গুপকার জোট। এর পরই সাবেক তিন মুখ্যমন্ত্রীকে গৃহবন্দি করা হয়।

ওমর আবদুল্লাহ গৃহবন্দির কথা নিশ্চিত করে টুইট করেছেন।

শনিবার নিজের বাসার সামনে পুলিশের গাড়ির ছবি টুইটারে দিয়েছেন। কীভাবে তাকে, তার বাবাকে এবং তার বোনদের বাড়িতে বন্দি করে রাখা হয়েছে সেটি দেখিয়েছেন ওমর আবদুল্লাহ।

তিনি টুইটারে লেখেন, শুভ সকাল এবং ইংরেজি নতুন বছরের শুভেচ্ছা। নতুন বছরের শুরুর দিনেও জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশ বাড়ির সামনে ট্রাক দাঁড় করিয়ে রেখেছে। আমাদের বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছে না। ন্যূনতম গণতান্ত্রিক অধিকারটুকুও অনুশীলন করতে দিচ্ছে না। আমাদের বিক্ষোভ করতে দিচ্ছে না।

 

Talk about a lawless police state, the police have even locked the internal gate connecting my father’s home to my sister’s. Yet our leaders have the cheek to tell the world that India is the largest democracy, hah!! pic.twitter.com/flNICRGk58

— Omar Abdullah (@OmarAbdullah) January 1, 2022
২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারতের সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫-ক অনুচ্ছেদ দুটি বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীরকে দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করে কেন্দ্রীয় সরকার। ফলে ভারতের অন্য রাজ্যের বাসিন্দাদের কাশ্মীরে সম্পত্তি কেনার ওপর বিধিনিষেধ উঠে যায়।

পাশাপাশি অন্য রাজ্যে বসবাসরত ভারতীয়দের কাশ্মীরে সরকারি চাকরি পাওয়া কিংবা স্থায়ীভাবে বসবাসের বিধিনিষেধও বাতিল হয়ে যায়। কাশ্মীরিরা ভারত সরকারের এই আইন মানছে না। শুরু থেকেই তারা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। প্রতিবাদ করায় ওই সময়ও এই তিন মুখ্যমন্ত্রীসহ বহু রাজনীতিবিদকে গৃহবন্দি করেছিল সরকার।