রবিবার ,১৭ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 544

সাবেক প্রেমিকাদের সঙ্গে নাচলেন সালমান খান

নানা আয়োজনে ২০২১ সালকে বিদায় জানিয়ে ২০২২ সালকে বরণ করে নিয়েছেন বিশ্ববাসী। বলিউড অঙ্গনও তার বাইরে নয়। নিজেদের মতো করে ২০২২ সালকে স্বাগত জানিয়েছেন বি-টাউনের বাসিন্দারা।

বলিউড ভাইজান সালমান খানও নতুন বছর উপলক্ষ্যে আয়োজন করেছিলেন পার্টির। তার সেই পার্টিতে সাবেক ও ‘বর্তমান’ প্রেমিকার সঙ্গে নাচতে দেখা গেছে সালমানকে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

জানা গেছে, পার্টি জমাতে কোনো কিছুর কমতি রাখেননি ভাইজান। দেশ, বিদেশের তারকাদের পদচারণায় সালমানের পার্টি একেবারে জমে উঠেছিল।

নতুন বছরের শুরুটা কাছের মানুষজনের সঙ্গেই কাটিয়েছেন সালমান। নবি মুম্বাইয়ে পনভেলের ফার্ম হাউসে বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে পার্টি করেন তিনি। পার্টিতে বীণা কাক এবং তার মেয়ে অমৃতা কাক আমন্ত্রিত ছিলেন।

এছাড়া ভাইজানের বর্ষবরণের পার্টিতে হাজির ছিলেন তার সাবেক ও বর্তমান প্রেমিকারা।

একসময় সালমানের সঙ্গে সঙ্গীতা বিজলানির প্রেম নিয়ে চলছিল তুমুল আলোচনা। তবে প্রেম ভাঙার পরও সেই তিক্ততা মনে রাখেননি তারা। ছবির প্রিমিয়ার থেকে জন্মদিনের পার্টি, এমনকি বর্ষবরণের পার্টিতেও সালমানের সঙ্গে মেতে উঠতে দেখা গেছে সঙ্গীতাকে।

পার্টিতে সাবেক এবং বর্তমান প্রেমিকাদের সঙ্গে উদ্দাম নাচ করতে দেখা গেছে সালমানকে
পার্টিতে সাবেক এবং বর্তমান প্রেমিকাদের সঙ্গে উদ্দাম নাচ করতে দেখা গেছে সালমানকে

অন্যদিকে, পার্টিতেও উপস্থিত ছিলেন ইউলিয়া ভান্তুর। ইউলিয়া-সালমানের প্রেমের বিষয়টি দুজনের কেউই সরাসরি স্বীকার না করলেও বলিউড পাড়ায় এই বিষয়টি সর্বজনবিদিত।

নববর্ষের পার্টিতে সাবেক এবং বর্তমান প্রেমিকাদের সঙ্গে উদ্দাম নাচ করতে দেখা গেছে কালো টি-শার্ট এবং সাদা জ্যাকেট পরা সালমানকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার নাচের ভিডিও ভাইরালও হয়েছে।

সালমানের ৫৬তম জন্মদিনের কেক কাটার সময়েও পাশে ছিলেন সঙ্গীতা এবং ইউলিয়া।

শাবনুরের ছেলেও করোনায় আক্রান্ত

চিত্রনায়িকা শাবনুর করোনা আক্রান্ত হয়ে বর্তমান অস্ট্রেলিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এবার শাবনুরের ছেলে আইজানও করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। জানা গেছে, শাবনুরের ছেলে বাসাতে আইসোলেশনে আছে।

সূত্র জানিয়েছে, ছেলের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর শুনে উদগ্রীব হয়ে আছেন শাবনুর। গত ২৯ ডিসেম্বর ছিল আইজানের জন্মদিন। ওই সময় হাসপাতালে থাকায় ছেলের কাছে থাকতে পারেননি তিনি। এ নিয়েই মন খারাপ ছিল তার। এখন ছেলের করোনা হওয়ার খবর শুনে তিনি বেশ ভেঙে পড়েছেন। হাসপাতালে অবস্থান করা শাবনুর ছেলের জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

এদিকে করোনা আক্রান্ত শাবনুরের শারীরিক অবস্থার এখন কিছুটা উন্নতি হয়েছে। শিগগিরই তিনি সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরতে পারবেন।

গত ২৭ ডিসেম্বর পিঠের ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে যান শাবনুর। সেখানে তাকে করোনা পরীক্ষা করতে বলা হয়। আর সে পরীক্ষায় তিনি জানতে পারেন, প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। পরের দিন শ্বাসকষ্ট শুরু হলে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।

লিটন-মুমিনুল দৃঢ়তায় লিড নিল বাংলাদেশ

বে-ওভাল টেস্টের তৃতীয় দিনেও দাপট দেখাচ্ছেন টাইগার ব্যাটাররা। লিটন-মুমিনুলের দৃঢ়তায় ইতোমধ্যে লিড নিয়েছে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় দিন দলের হাল ধরেন মাহমুদুল হাসান জয় ও নাজমুল হাসান শান্ত। দুজনের ১০৪ রানের দারুণ এক জুটিতে ভর করে সমানে সমানে লড়াই চালিয়ে গেছেন টাইগাররা।

তৃতীয় দিনে কিউই পেসারদের ওপর দাপট দেখাচ্ছেন লিটন দাস ও অধিনায়ক মুমিনুল।
ইতোমধ্যে হাফসেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন দুজন। পঞ্চম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ১৪৭ রানের জুটি গড়ে এ মুহূর্তে ২২ রানের লিড নিয়েছে বাংলাদেশ।

এ রিপোর্ট লেখার সময় ১৫৭ বলে ৯ বাউন্ডারিতে লিটন অপরাজিত ৭৬ রানে। অপরপ্রান্তে ২৩৪ বলে১১ বাউন্ডারিতে মুমিনুল অপরাজিত ৮২ রানে।

তৃতীয় দিনের চা বিরতির আগেই ৩০০ রান পার করে দেন সফরকারীরা। মুমিনুল ও লিটনের সৌজন্যে দ্বিতীয় সেশনে রান উঠেছে ২৬ ওভারে ৮৭।

প্রথম সেশনে ২৬ ওভারে আসে ২ উইকেট হারিয়ে ৪৫ রান। আগের দিন ৭০ রানে অপরাজিত মাহমুদুল হাসান জয় মাত্র ৮ রান যোগ করেই বিদায় নেন। এরপর নতুন বলে ট্রেন্ট বোল্ট বোল্ড করে দেন মুশফিকুর রহিমকে।

৫৩ বলে ১২ রানের ইনিংস সমাপ্ত হয় তার।

এর পর ব্যাট হাতে নেমে শুরুতে ছন্দহীন ছিলেন মুমিনুল। ৮ রানে জীবন পান। ৯ রানে ক্যাচ দেন। কিন্তু নো বল হওয়ায় বেঁচে গিয়ে মুমিনুল সেশনটি শেষ করেছিলেন কোনোরকমে।

গোটা সেশনে ৭২ বলে মাত্র ৯ রান করেন। কিন্তু দ্বিতীয় সেশনে উইকেটে থিতু হয়ে দুর্দান্ত খেলছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। অন্যপ্রান্তে তাকে যোগ্য সঙ্গ দিচ্ছেন লিটন দাস।

শুরুতে খেই হারিয়ে ফেলা মুমিনুলের প্রথম ১০০ বলে বাউন্ডারি ছিল মাত্র ১টি। পরের ৩৮ বলের মধ্যে বাউন্ডারি হাঁকান ৭টি!

১৪৭ বলে হাফসেঞ্চুরিতে পা রাখেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, তার ক্যারিয়ারে যা সবচেয়ে ধীরগতির ফিফটি।

অন্যদিকে লিটনের ব্যাটিং ছিল একেবারেই উল্টো পথে। ওয়ানডে মেজাজে খেলে প্রথম ৪৫ বলে করেন ৪১ রান। সেখান থেকে ফিফটিতে পৌঁছান আরও ৪৮ বল খেলে!

সব মিলিয়ে এখন দেখার বিষয়— এই দুই ব্যাটার লিডকে কতদূর এগিয়ে নেন।

প্রথম ইনিংসে ৩২৮ রানে থামে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড।

মুমিনুলের পর লিটনের ফিফটি

নিউজিল্যান্ডে টেস্টে চমক দেখাচ্ছে বাংলাদেশ। বিদেশের মাটিতে টেস্টে এমন ‘পজিটিভ’ বাংলাদেশ দলকে শেষ কবে দেখা গেছে এটি মনে করা সময়ের ব্যাপার।

মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বে-ওভালে টেস্টে আগের দুদিনের দাপট তৃতীয় দিনেও ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডকে ৩২৮ রানে অলআউট করার পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিনশেষে ২ উইকেটে ১৭৫ রান তুলে। সোমবার তৃতীয় দিনেও দারুণ খেলছেন টাইগার ব্যাটাররা।

তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে ফিফটি তুলে নিয়েছেন অধিনায়ক মুমিনুল হক। মুমিনুলের পর ফিফটি করেন লিটন কুমার দাসও। মাহমুদুল হাসান জয়, নাজমুল হোসেন শান্তর পর লিটন-মুমিনুলের অর্ধশতকে নিউজিল্যান্ডের করা প্রথম ইনিংসের ৩২৮ রান অতিক্রমের দোরগোড়ায় টাইগাররা।

এই প্রতিবেদন লেখার সময় ৪ উইকেট হারানো সফরকারীদের সংগ্রহ ৩১৭ রান। লিটন ৫৫ এবং মুমিনুল ৬৭ রান নিয়ে ব্যাট করছেন।

মুমিনুল ১৭ ও লিটন দাস ১২ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনের খেলা শুরু করেন। সকালের খোলস বন্দি মুমিনুল মধ্যাহ্নবিরতি থেকে ফিরে আগ্রাসী ব্যাটিং করেন। লিটনও সমান তালে ব্যাট চালিয়েছেন। তার অর্ধশতক আসে অনেকটা ওয়ানডে স্টাইলে। যদিও ৪০-এর পর বেশ সময় নেন লিটন।

এই সেশনের জোড়া ফিফটির প্রথমটা আসে মুমিনুলের ব্যাট থেকে। তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে অনেকটাই খোলস বন্দি ছিলেন এ বাঁহাতি। ১৭ রান করতে খেলেন ৯৮টি বল। যেখানে বিরতির আগে মাত্র একটি বাউন্ডারি ছিল মুমিনুলের, সেখানে বিরতি কাটিয়ে ফিরে আরও ৭টি চারের মার তার ব্যাটে। ১৪৭ বলে ছুঁয়েছেন ব্যক্তিগত ৫০ রানের কোটা। পরের ৩৩ রান করতে খরচ করেন ৪৯ বল।

মুমিনুলের পর একই পথে হাঁটেন লিটন। সম্প্রতি টেস্টে ধারাবাহিক এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান পাকিস্তান সিরিজের পর নিউজিল্যান্ডে খেলতে নেমেও রানের দেখা পেয়েছেন। লিটনের ফিফটি আসে মাত্র ৯৩ বলে। যেখানে নান্দনিক শটে ৬টি চারের মার।

মুমিনুল-লিটনের জোড়া ফিফটির সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে দুজনে শতক ছাড়ানো অবিচ্ছেদ্য পার্টনারশিপে লিডের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ।

লিটনের ফিফটির পর শেষ হয় দ্বিতীয় সেশনের খেলা। এই সেশনে কোনো উইকেট না হারিয়ে বাংলাদেশ তুলেছে ৮৭ রান। প্রথম ইনিংসে নিউনিল্যান্ডের থেকে মুমিনুল হকের দল পিছিয়ে ২১ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (লাঞ্চ পর্যন্ত)

নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৩২৮

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ১২১ ওভারে ৩১৭/৪ (মাহমুদুল ৭৮, মুমিনুল ৭০*, মুশফিক ১২, লিটন ৬৫*; সাউদি ২৬-২-৭৭-০, বোল্ট ২০-৭-৪৪-১, জেমিসন ১৮-৮-৩৬-০, ওয়াগনার ২৩-৭-৪৩-৩, রবীন্দ্র ১৭-১-৪৭-০)

‘বড়ভাই’ সম্বোধন করে সালাম না দেওয়ায় কিশোরকে কুপিয়ে জখম

গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলে ‘বড়ভাই’ সম্বোধন করে সালাম না দেওয়ায় এক কিশোরকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। আহত কিশোরের নাম রাকিবুল হাসান শ্রাবণ (১৬)।

শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের পূবাইল মেট্রোপলিটন থানার মাজুখানে এ ঘটনা ঘটে।

আহত কিশোর ওই এলাকার বুলবুল আহমেদের ছেলে।

এ ঘটনা বিষয়ে শনিবার রাতে আহত রাকিবের বাবা বাদী হয়ে কিশোর গ্যাংলিডার সায়েমকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।

ঘটনা ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় একটি স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়ে রাকিবুল হাসান শ্রাবণ। তার সহপাঠী সায়েম তাকে ‘বড়ভাই’ সম্বোধন করে সালাম দিতে বলে প্রায়ই। সিনিয়র বড়ভাই সম্বোধন না করায় তাদের মাঝে বাকবিতণ্ডা হতো মাঝেমধ্যে। এরই জেরে রাকিবকে চরমভাবে শিক্ষা দিতে ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিনকে বেছে নেওয়া হয়। পরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওই দিন সন্ধ্যায় তার দলবলসহ আতর্কিত হামলা করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত ভেবে রেললাইনের ওপর রাকিবকে রেখে পালিয়ে যায়।

মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা পূবাইল থানার এসআই সাইফুল ইসলাম।

তিনি যুগান্তরকে জানান, বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘন মেঘে ঢাকা আকাশ, দিনাজপুরে তাপমাত্রা ১০. ৬

দিনাজপুরের হিলিতে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। ঘন মেঘে ঢাকা আকাশ। সকাল পর্যন্ত মেলেনি সূর্যের দেখা; সেই সঙ্গে বইছে উত্তরের হিমেল হাওয়া।

সোমবার সকাল ৬টায় দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

জানা যায়, শীত বেড়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে শহর ও গ্রামীণ জনপদে। বিশেষ করে এসব এলাকার শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। প্রতিদিন হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগে ভোগা মানুষের ভিড় বাড়ছে। শিশুরা ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।

দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন জানান, সোমবার সকাল ৬টায় দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০.৬ (দেশের ২য় সর্বনিম্ন) ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫-৭ কিলোমিটার, তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটি বাড়তে পারে।

স্বীকৃতি পেতে তালেবানকে নীতি পরিবর্তন করতে বললেন ব্লিনকেন

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে চাইলে তালেবানকে নীতি পরিবর্তন করতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন এই কথা বলেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই শীর্ষ কূটনীতিক বলেন, স্বীকৃতি পেতে হলে আফগানিস্তানের নতুন শাসকদের মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে হবে, চলা ফেরার স্বাধীনতা দিতে হবে, প্রতিহিংসা বন্ধ করতে এবং সন্ত্রাস প্রতিরোধ করতে হবে।

রোববার এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ব্লিনকেন এসব কথা বলার পাশাপাশি আফগানিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতিতে নগদ অর্থ সরবরাহেরও প্রতিশ্রুতি দেন।

পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন ব্লিনকেনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, আফগানিস্তানের ট্রাস্ট ফান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ২৮০ মিলিয়ন ডলার দিতে যাচ্ছে।

গত ১৫ আগস্ট পশ্চিমা–সমর্থিত সরকারকে সরিয়ে তালেবান বাহিনী আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে।

তালেবান ক্ষমতা দখল করার পর আমেরিকান ব্যাংকগুলোতে থাকা প্রায় ৯৫০ কোটি ডলার মূল্যের আফগান রিজার্ভ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আফগানিস্তানের ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে খরা ও সংঘাতের কারণে জর্জরিত আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের এসব নিষেধাজ্ঞা সংকটকে তীব্র করেছে।

বৃষ্টির সঙ্গে পড়ল মাছ

ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে, ‘ইটস রেইনিং ক্যাটস অ্যান্ড ডগস’। বাংলায় অনেকে একে মজা করে কুকুর-বিড়াল বৃষ্টি বলেন। অবশ্য সেই বৃষ্টিপাতের সঙ্গে কুকুর কিংবা বিড়ালের কোনো সম্পর্ক নেই। তাই কুকুর-বিড়াল বৃষ্টির কথা শুনলেও মাছ বৃষ্টির কথা নিশ্চয়ই অচেনাই ঠেকছে।

তবে এই অচেনা ঘটনা স্বচক্ষে দেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের টেক্সারকানা শহরের বাসিন্দারা। সেখানে বৃষ্টির সঙ্গে আকাশ থেকে মাছও পড়েছে বলে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

টেক্সারকানা শহরে গত বুধবার এই ঘটনা ঘটে বলে ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে।

টেক্সারকানা শহর কর্তৃপক্ষ তাদের ফেসবুকে বৃষ্টির সঙ্গে পড়া মাছের ছবিও পোস্ট করেছে। ছবির ক্যাপশনে এ ধরনের বৃষ্টিপাতের কারণ জানাতেও অবশ্য ভোলেনি কর্তৃপক্ষ।

ওই পোস্টে টেক্সারকানা শহর কর্তৃপক্ষ লিখেছেন, যখন ব্যাঙ, কাঁকড়া কিংবা ছোট মাছের মতো ক্ষুদ্র জলজ প্রাণী জলাশয় থেকে কোনোভাবে বাতাসের সাহায্যে ভৃপৃষ্ট থেকে উপরিভাগে চলে যায়। এরপর বৃষ্টির সঙ্গে এসব প্রাণী আবার ভূপৃষ্টেই ফিরে আসে।

ওই পোস্টে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের ঘটনা অস্বাভাবিক হলেও বিরল নয়। যার প্রমাণ টেক্সারকানারে কয়েক জায়গায় মিলেছে।

এদিকে, ওই পোস্টে নেটিজেনরা নানা রকম মন্তব্য করেছেন। এক নেটিজেন লিখেছেন, মাঝে মাঝে টাকার বৃষ্টি হলেও তো পারে?

আরেকজন মজা করে লিখেছেন, আশা করি কখনো সত্যিকার অর্থেই কুকুর-বিড়াল বৃষ্টি হবে না।

ওই ঘটনা প্রত্যক্ষ করা আরেক নেটিজেন লিখেছেন, আমরা ভেবেছিলাম গাড়ির ওপর শিলা পড়ছে। কিন্তু এটা তো স্বর্গ থেকে আসা মাছ!

মদ-বিয়ার আমদানি হচ্ছে পানির দরে

পরিমাণ কিংবা সর্বনিম্ন আমদানি মূল্য বেঁধে না দেওয়ায় ডিপ্লোমেটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউজগুলো পানির দরে অ্যালকোহলযুক্ত মদ ও বিয়ার আমদানি করছে। এর ফলে বাস্তবে কূটনৈতিক ও বিশেষ সুবিধাভোগী বিদেশি নাগরিকদের বছরে যে পরিমাণ মদ ও বিয়ারের চাহিদা রয়েছে তার চেয়ে বেশি পরিমাণ ঢুকছে দেশে। চাহিদার অতিরিক্ত মদ ও বিয়ার চলে যাচ্ছে খোলাবাজারে। এমনকি বাসাবাড়িতেও। বন্ডেড ওয়্যারহাউজগুলোর এসব কারসাজি জানার পর শুল্ক গোয়েন্দা ও চট্টগ্রাম কাস্টমস জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দেয়। সেখানে কারসাজি নিয়ন্ত্রণের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় ন্যূনতম মূল্য অথবা পরিমাণ বেঁধে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। তবে সাত মাস পার হলেও অদ্যাবধি প্রস্তাবটির বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

 

অ্যালকোহলমুক্ত এক লিটার বিয়ারের ন্যূনতম আমদানি মূল্য আড়াই ডলার নির্ধারণ করা আছে। অথচ ডিপ্লোমেটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউজগুলো অ্যালকোহলযুক্ত বিয়ার (৩৩০ মি.লি.র ক্যান) এক ডলারেরও কম দামে আমদানি করছে। শুধু তাই নয়, হুইস্কিজাতীয় মদ আমদানি করছে দেড় থেকে ২ ডলারে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি একটি ডিপ্লোমেটিক বন্ড ৩৫ হাজার ৫০০ লিটার বিয়ার, ১৩ হাজার লিটার হুইস্কি এবং প্রায় ১৪ হাজার লিটার ওয়াইনজাতীয় মদ আমদানি করে। বিয়ারের আমদানি মূল্য ঘোষণা দেওয়া হয় ৬৩ সেন্ট (এক ডলারের কম)। হুইস্কি ও ওয়াইনের মূল্য যথাক্রমে এক ডলার ৯১ সেন্ট ও এক ডলার ১২ সেন্ট। অথচ চলতি অর্থবছরের বাজেটে ন্যূনতম মূল্যের প্রজ্ঞাপনে অ্যালকোহলমুক্ত মদের ন্যূনতম আমদানি মূল্য আড়াই ডলার নির্ধারণ করে দেওয়া আছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার ফখরুল আলম বলেন, ‘ওই চালানটি আটক করা হয়েছিল। পরে আদালতের অন্তর্বর্তী আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সাময়িক শুল্কায়ন করা হয়েছে। এ ধরনের চালানের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বিকল্প চিন্তা-ভাবনা আছে।’

প্রসঙ্গত, আমদানি পণ্যের মূল্য বেঁধে দেওয়াকেই ন্যূনতম মূল্য বলা হয়। আমদানিকারক এই মূল্যের চেয়ে কম দামে পণ্য বিদেশ থেকে কিনলেও বাংলাদেশে বেঁধে দেওয়া মূল্যে পণ্যের অ্যাসেসমেন্ট করা হয়ে থাকে।

কাস্টমসের তথ্য মতে, গত এক বছরে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ১৪৭টি আমদানি চালানের মাধ্যমে ২২ লাখ ৪ হাজার ৯০৫ লিটার মদ-বিয়ার আমদানি হয়েছে। বিশেষ সুবিধাভোগী ব্যক্তি ও কূটনৈতিকদের কাছে বিক্রির শর্তেই কেবল ডিপ্লোমেটিক বন্ডগুলো শুল্কমুক্ত সুবিধায় এসব পণ্য আমদানি করতে পারে। সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে অবস্থানরত কূটনীতিকদের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। এ হিসাব ধরলে একজন ব্যক্তি বছরে প্রায় ১৫০০ লিটার মদ-বিয়ার পান করার কথা। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, ২০১৯ সালে মাথাপিছু সবচেয়ে বেশি বিশুদ্ধ অ্যালকোহল পানকারী দেশ হচ্ছে চেক রিপাবলিক ১৪ লিটারের কিছু বেশি। এরপরের অবস্থানে আছে যথাক্রমে লাটভিয়া ১৩ লিটার, মালদোভা ও জার্মানি ১২ লিটারের বেশি। আমেরিকার নাগরিকরা পান করে ১০ লিটারের কাছাকাছি। এতে প্রতীয়মান হয় যে, শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা মদ-বিয়ারের অপব্যবহার হচ্ছে।

সূত্রমতে, শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা মদ-বিয়ার খোলাবাজারে বিক্রি বন্ধে এনবিআর একটি সফটওয়্যার চালু করে। এ সফটওয়্যারে প্রতিটি ডিপ্লোমেটিক বন্ডকে মদ-বিয়ার আমদানির যাবতীয় তথ্য যেমন- বিল অব এন্ট্রি নম্বর, আমদানি করা পণ্যের ব্র্যান্ড ও নাম, পরিমাণ, সিআইএফ মূল্য এন্ট্রি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পণ্য বিক্রির সময় কূটনৈতিক বা বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তির পাশবুক অথবা কর অব্যাহতির সনদ নম্বর এবং পাসপোর্টের তথ্য যাচাই করে বরাদ্দ অনুযায়ী পণ্য বিক্রি এবং এক্স বন্ড নম্বর, বিক্রীত পণ্যের নাম, পরিমাণ সফটওয়্যারে এন্ট্রি দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু সাইবার নিরাপত্তার অজুহাতে সফটওয়্যার ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করে ডিপ্লোমেটিক বন্ডগুলো আদালতে রিট করে। রিট মামলাটি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মদ চুরির পথ খোলা রাখছে খোদ এনবিআরই। তবে সফটওয়্যার ছাড়াও অন্য পন্থায় মদ চুরির পথ বন্ধ করা সম্ভব। যেমন-বর্তমানে ডিপ্লোমেটিক বন্ডগুলোকে ডলারে আমদানি প্রাপ্যতা দেওয়া হয়। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো আন্ডার ইনভেসিংয়ের মাধ্যমে মদ-বিয়ার খালাস করছে। ধরা যাক, এক বোতল বিয়ারের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য এক ডলার। কিন্তু দেশের ডিপ্লোমেটিক বন্ডগুলো এক বোতল বিয়ার আমদানি করছে ৫০ সেন্টে। এভাবে এক ডলারে ২ বোতল বিয়ার খালাস নেওয়া হচ্ছে। এ কায়দায় এনবিআরের বেঁধে দেওয়া মূল্যের ভেতরে থেকেই বেশি পরিমাণ মদ এনে তা খোলাবাজারে বিক্রি করা সম্ভব। অ্যালকোহলমুক্ত বিয়ারের মতো অ্যালকোহলযুক্ত মদ-বিয়ারের ন্যূনতম আমদানি মূল্য আরোপের মাধ্যমে খুব সহজেই চুরি ঠেকানো সম্ভব। অথবা ডলারের পরিবর্তে ডিপ্লোমেটিক বন্ডগুলোকে লিটারে আমদানি প্রাপ্যতা দেওয়া হলেও অপব্যবহার অনেকাংশে কমে আসবে।

এ বিষয়ে এনবিআরের সাবেক সদস্য ফরিদ উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, ‘ডিপ্লোমেটিক বন্ডের অপব্যবহার বন্ধে এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কিছুই করেনি। প্রতিষ্ঠার শুরুতে যেখানে ছিল, এখনো সেখানেই আছে। বাংলাদেশে অবস্থানরত বিশেষ সুবিধাভোগী ব্যক্তি ও কূটনীতিকদের আপডেট তালিকা এনবিআর ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আছে কিনা সন্দেহ আছে। মূলত এ সুযোগই নিচ্ছে বন্ডগুলো। যে কূটনৈতিক কর্তব্য পালন শেষে নিজ দেশে ফেরত গেছেন তাদের পাশবুকে মদ-বিয়ার বিক্রি হয়। এই মদ-বিয়ার বিভিন্ন ক্লাব ও উচ্চবিত্তদের বাসাবাড়িতেও দেখা যায়। তিনি আরও বলেন, শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা মদ-বিয়ার বিক্রি করতে চাইলে পুরো প্রক্রিয়াটিকে ডিজিটালাইজ করতে হবে। তার আগে বাংলাদেশে অবস্থানরত কূটনৈতিক তালিকা হালনাগাদ করতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এনবিআর, চট্টগ্রাম কাস্টমস ও বন্ড কমিশনারেট এক্ষেত্রে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে।’

কোনো উদ্যোগই আলোর মুখ দেখছে না : গত ১৬ মে চট্টগ্রাম কাস্টমস মদ-বিয়ার আমদানিতে ডিপ্লোমেটিক বন্ডগুলোর আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে এনবিআরে চিঠি দেয়। এ অপতৎপরতা বন্ধে মদ-বিয়ার আমদানিতে ন্যূনতম মূল্য আরোপ অথবা ডলারের পরিবর্তে আমদানি প্রাপ্যতা লিটারে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি। একইভাবে ১৮ নভেম্বর ডিপ্লোমেটিক বন্ডগুলোকে শৃঙ্খলায় আনতে ও ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণে ভ্যাট গোয়েন্দা, শুল্ক মূল্যায়ন, চট্টগ্রাম কাস্টমস, ঢাকা কাস্টমস, ঢাকা বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা সব ভ্যাট কমিশনারেটের সমন্বয়ে সভা আহ্বানের প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ডিপ্লোমেটিক বন্ডের অর্থ পাচারের তদন্ত করতে শুল্ক গোয়েন্দা, শুল্ক মূল্যায়ন, বন্ড কমিশনারেট ও কাস্টমস হাউজের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু সেটিও আলোর মুখ দেখেনি।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার ফখরুল আলম যুগান্তরকে বলেন, শুল্কমুক্ত সুবিধায় মদ-বিয়ার আমদানিতে আন্ডার ইনভয়েসিং হয়। এটি বন্ধে এনবিআরকে দুটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এখন এনবিআর পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, ডিপ্লোমেটিক বন্ডগুলো ভিয়েনা কনভেনশনের দোহাই দিয়ে একের পর এক অপকর্ম করে যাচ্ছে। আইন-কানুনের কোনো তোয়াক্কাই করছে না। সম্প্রতি শুল্ক মূল্যায়ন ও নিরীক্ষা কমিশনারেট একটি প্রতিষ্ঠানের অডিটের কাজে হাত দেয়। এজন্য ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে মদ-বিয়ার আমদানির তথ্য চাওয়া হলে প্রতিষ্ঠানটি তথ্য দেয়নি। শুল্ক গোয়ন্দাও অপর একটি প্রতিষ্ঠানের অর্থ পাচারের অনুসন্ধান করছে। এজন্য তথ্য চাওয়া হলে দেয়নি ওই প্রতিষ্ঠান। এছাড়া ভ্যাট গোয়েন্দা স্থানীয় একটি বারের ভ্যাট ফাঁকির অনুসন্ধানের জন্য প্রতিষ্ঠানটির কাছে ভ্যাট রিটার্ন ও বার্ষিক অডিট রিপোর্ট চেয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি সহযোগিতা না করায় পরে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে প্রতিষ্ঠানটির অডিট রিপোর্ট ও ভ্যাট সার্কেল থেকে রিটার্ন সংগ্রহ করা হয়। শুধু কাস্টমস-আয়কর বিভাগ নয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকেও পাত্তা দেয় না। যেমন-মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, বন্ডেড ওয়্যারহাউজগুলো মদ আমদানির জন্য অনুমতি নিতে বাধ্য। কিন্তু তারা নিয়ম না মেনে মদ আমদানি করছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো বছরে কী পরিমাণ মদ-বিয়ার আমদানি করছে তার তথ্য অধিদপ্তরের কাছে নেই।

প্রসঙ্গত, ভিয়েনা কনভেনশন হচ্ছে-স্বাধীন দেশগুলোর কূটনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি। এ চুক্তির স্বাক্ষরকারী দেশগুলোতে অন্য দেশের কূটনীতিকরা বিশেষ সুবিধা ভোগ করে থাকে। যেমন কূটনীতিকরা শুল্কমুক্ত সুবিধায় নিত্যব্যবহার্য পণ্য এবং ব্যক্তিগত গাড়ি আমদানি করতে পারেন। বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া অপরাধমূলক কার্যক্রমের জন্য কূটনৈতিক ব্যক্তিরা বিচারের আওতাবহির্ভূত।

নিয়ন্ত্রণে নেই মূল্যস্ফীতি

রাজধানীর হাজারীবাগ ঝাউচরে চায়ের দোকানি আব্দুল আজিজ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন চাল ও মুদি দোকানে। চারজনের সংসারে সামান্য আয় দিয়ে চলতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি আঘাত হেনেছে তার আয়ের ওপর। ব্যয়ের সঙ্গে তাল দিতে না পারায় চালের দোকানে ৭ হাজার ও মুদি দোকানে সাড়ে তিন হাজার টাকা পাওনা দাঁড়িয়েছে।

 

একই এলাকার দিনমজুর শাহজাহান মাসে ১৫ হাজার টাকা আয় দিয়ে সাত সদস্যের সংসার চালাতে পারছেন না। তিন হাজার টাকা ঘর ভাড়া, বাচ্চার মাদ্রাসায় পড়ার খরচ আরও ৩ হাজার টাকা। এ ব্যয় নির্ধারিত। অবশিষ্ট ৯ হাজার টাকায় সাতজনের পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এজন্য তিনি ২ সন্তানের লালন-পালনের দায়িত্ব দিয়েছেন শ্বশুরালয়ে। তার মতে, আয়ের বড় অংশ চলে যাচ্ছে বাজারে। ফলে সবার জন্য ডাল-ভাত জোগাড় করাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি এসব নিম্নআয়ের মানুষকে বেগতিক অবস্থায় ফেলছে। এমনিতেই করোনার কশাঘাতে চাকরিহারা, বেকার, আয়-রোজগার কমে যাওয়া মানুষ খরচের টাকা জোগাড় করতে পারছে না। এর মধ্যে মূল্যস্ফীতির চাপ বড় ধরনের ভোগান্তিতে ফেলেছে অনেক পরিবারকে।

বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মূল্যস্ফীতি হচ্ছে দেশে। ফলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে মূল্যস্ফীতিকে ধরে রাখতে পারছে না সরকার। সার্বিক দিক পর্যালোচনা করে অর্থবছরের মাঝামাঝি এসে মূল্যস্ফীতির হার বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ নির্ধারণ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থবছরের শুরুতে এ হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। শেষ পর্যন্ত ওই ঘোষণার মধ্যে রাখা যাচ্ছে না। সংশোধিত মূল্যস্ফীতির হার দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আর্থিক মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হার সংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল বৈঠকে এর নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

যদিও শনিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘মূল্যস্ফীতি সারাবিশ্বেই আছে। গত ১৫ বছরে মূল্যস্ফীতির হার দেশে গড়ে ৫ থেকে সাড়ে ৫ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করেছে। এই সময়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ হার আরও বেশি ছিল। কাজেই আমি বলব, বাংলাদেশ একটি অসাধারণ দেশ। আমাদের এখানে মূল্যস্ফীতি নেই।’

জানতে চাইলে সাবেক সিনিয়র অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, বিশ্বব্যাপী পণ্য ও জ্বালানি তেলের মূল্য বেড়েছে। যে কারণে দেশে জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়াতে হয়েছে। এর প্রভাব গিয়ে পড়ছে পণ্য ও সেবা খাতে। এ বছর মূল্যস্ফীতি বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করছে। যে কোনো মূল্যে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এটি সম্ভব না হলে মুদ্রার বিনিময় হার, আমদানি ও রপ্তানি খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এজন্য নজর দিতে হবে মূল্যস্ফীতির দিকে।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমদানি বেড়ে যাওয়ায় ব্যালেন্স অব পেমেন্টে ঘাটতি বেড়েছে। এটি স্থিতিশীল না করা গেলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে না। এখন মূল্যস্ফীতি বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমেরিকায় ৪৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্যান্য দেশে দুই থেকে তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে বিরাজ করছে মূল্যস্ফীতি। বাংলাদেশে এটি সহনীয় পর্যায়ে আছে তা দেখানোর চেষ্টা চলছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ে সরকারের যে তথ্য তার সঙ্গে বাস্তবতার তফাত আছে। মূল্যস্ফীতি বাড়লে ধনীকে আরও ধনী করবে। এছাড়া সরকারের কিছু নীতি পরিবর্তন করতে হবে। ব্যাংকের সঞ্চয় সুদহার ৬ থেকে ৭ শতাংশ করতে হবে। তখন শিল্প ঋণের সুদ হার ডাবল ডিজিটে চলে যাবে। যা শিল্প খাতকে ধ্বংস করে দেবে।

করোনা কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসার পর বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী সবকিছুর চাহিদা বেড়ে গেছে। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চড়ছে মূল্যস্ফীতির পারদ। লাগাম টানতে পারছে না সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রও। ১৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে কানাডায়। জার্মানির মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ২৯ বছরের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। গত মাসে ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে। এ হার ১৯৯২ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ। অক্টোবরেও দেশটির মূল্যস্ফীতির হার ৪ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও বাড়ছে মূল্যস্ফীতির হার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, নভেম্বরে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। যা পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে আগের বছর একই মাসে ছিল ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ। আর অক্টোবরে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ৭০। খাদ্যে মূল্যস্ফীতি গেল নভেম্বরে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ হয়েছে। পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে তা ২০২০ সালের নভেম্বরের তুলনায় কম। ওই বছর নভেম্বরে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

নভেম্বর মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতির হার বেশি বেড়েছে। এ খাতে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৮৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা আগের বছর একই সময়ে ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ ছিল।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বেড়েছে। এটি সমন্বয় করতে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ানো হয়। এর ফলে পণ্য ও সেবা খাতের ব্যয় বেড়ে গেছে। যা মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিয়েছে। গত এক বছরে নিত্যপণ্যের বাজারে সরকারি হিসাবে দাম বেড়েছে চাল ৭৯ শতাংশ। খোলা আটা ২৪ দশমিক ১৪ শতাংশ, খোলা ময়দা ৩৭ দশমিক ৬৮, সয়াবিন ২৮ দশমিক ১১, পাম অয়েল ৩৮ ও মসুর ডাল ৩৯ দশমিক ২৬ শতাংশ।