রবিবার ,১৭ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 536

রুশ সেনারা কাজাখস্তান ছাড়বে না, আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের

তিন দশকের মধ্যে মধ্যএশিয়ার দেশ কাজাখস্তানে সবচেয়ে বড় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হচ্ছে। চলমান সহিংস পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটিতে রুশ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র।

শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এ প্রশ্ন তুলে বলেন, কাজাখস্তান কর্তৃপক্ষ নিজেরাই এ পরিস্থিতির সামাল দিতে পারত।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম জোমার্ট তোকায়েভ রুশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চান।রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন প্রায় আড়াই হাজার সেনা ইতিমধ্যে কাজাখস্তানে পৌঁছেছে।

কাজাখস্তানে গত শনিবার এলপিজির দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়ানো হয়। এর প্রতিবাদে রোববার দেশটির তেলসমৃদ্ধ প্রদেশ মানজিস্তাউয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে এই বিক্ষোভ আলমাতিসহ দেশটির অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ২৬ জন বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর ১৮ জন সদস্য নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম জোমার্ট কোনো ধরনের সতর্কসংকেত ছাড়াই নিরাপত্তা বাহিনীকে গুলি চালাতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, তার অনুরোধে রাশিয়া ও প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে শান্তিরক্ষী বাহিনীকে পাঠানো হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তারা অস্থায়ীভাবে কাজাখস্তানে অবস্থান করবে। সেনা পাঠানোর জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘বিশেষ ধন্যবাদ’ জানিয়েছেন কাসিম।

রুশ কর্তৃপক্ষ বলছে, সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রভুক্ত পাঁচ দেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার সামরিক জোটের (কালেকটিভ সিকিউরিটি ট্রিটি অর্গানাইজেশন-সিএসটিও) আওতায় সাময়িকভাবে সেনা মোতায়েন করেছে তারা।

তবে রুশ সেনারা আদৌ কাজাখস্তান ছাড়বে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, সাম্প্রতিক ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, রুশ সেনারা একবার কোথাও ঢুকলে মাঝেমধ্যে তাদের সেখান থেকে বের করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যথাযথভাবে বিক্ষোভ সামাল দেওয়ার সক্ষমতা কাজাখ সরকারের নিজেরই ছিল। আর তেমনটা করা হলে বিক্ষোভকারীদের অধিকারের প্রতি সম্মান জানানোর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলাও বজায় থাকত।

কাজাখস্তান কেন রুশ সেনাদের সহযোগিতা চাইল, তা নিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে ব্লিঙ্কেন বলেন, কেন তারা অন্য দেশের সহযোগিতার প্রয়োজন বোধ করল, তা পরিষ্কার নয়। আমরা এ ব্যাপারে আরও জানার চেষ্টা করছি।

‘ইরানের সামরিক মহড়ার পর ইসরাইলের হুমকি বন্ধ’

ইরান সামরিক মহড়া চালিয়ে নিজের শক্তিমত্তা প্রদর্শনের পর ইসরাইল হুমকি-ধমকি দেওয়া বন্ধ করেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির মুখপাত্র রামেজান শারিফ।

তিনি বলেন, সম্প্রতি দক্ষিণ ইরানে সামরিক মহড়া চালানোর আগে ইহুদিবাদীরা তেহরানের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে বাগাড়ম্বর করে আসছিল। কিন্তু মহড়ার পর থেকে তাদের হুমকি-ধমকি এখন বন্ধ রয়েছে।

সম্প্রতি আরবি নিউজ চ্যানেল আল-আলমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র এসব মন্তব্য করেন বলে ইরনার খবরে বলা হয়েছে।

রামেজান শারিফ বলেন, ওই সামরিক মহড়ার আগে ইসরাইলি কর্মকর্তারা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক শক্তিমত্তা দেখানোর চেষ্টা করেন। এমনকি তারা ভিয়েনায় ইরানের পরমাণু সমঝোতা পুনরুজ্জীবনের চলমান আলোচনার বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন।

আইআরজিসির মুখপাত্র এসব হুমকি নাকচ করে বলেন, ইসরাইলি সেনা কর্মকর্তারাই স্বীকার করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলা চালানোর শক্তি তেলআবিবের নেই।

গতমাসের শেষদিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে পারস্য উপসাগর উপকূলে পাঁচদিনব্যাপী বড় ধরনের সামরিক মহড়া চালায় ইরান। মহড়ায় বেশ কিছু স্বল্প ও মধ্যম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হয়। এ সময় ইরানি সেনা কর্মকর্তারা তাদের দেশের বিরুদ্ধে হুমকি দেয়া থেকে বিরত থাকার জন্য তেল আবিবের প্রতি আহ্বান জানান।

ঋণখেলাপিদের আগ্রাসী থাবা

স্বাধীনতার ৫০ বছরে ব্যাংক খাতের অনেক উন্নতি হয়েছে। সেবা পৌঁছে গেছে মানুষের দোরগোড়ায়। বেড়েছে আমানত ও ঋণ বিতরণ। সেবায়ও এসেছে বহুমাত্রিকতা। সব মিলে অর্থনৈতিক বিকাশে রাখছে অনন্য অবদান। করোনার গ্রাস থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ব্যাংকিং খাতের অবদানও অসামান্য।

 

এতকিছুর মধ্যেও খাতটিকে তীব্র সমালোচনার মুখে ফেলেছে ঋণখেলাপিদের দৌরাত্ম্য। তাদের আগ্রাসী থাবায় জর্জরিত ব্যাংক খাত। দীর্ঘ সময়ে ঋণখেলাপির সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে খেলাপি ঋণ। গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা।

এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। যা বিতরণ করা মোট ঋণের ৮ দশমিক ১২ শতাংশ। এর মধ্যে আদায় অযোগ্য ঋণ ৯০ হাজার কোটি টাকা। যা মোট খেলাপি ঋণের ৮৯ শতাংশ।

ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণের সংজ্ঞা প্রণীত না হওয়ায় স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে ঋণ শ্রেণিকরণ প্রক্রিয়া যথাযথভাবে হয়নি। ১৯৮৬ সালে এ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন হয়। এর পর থেকে ঋণ একটি নির্দিষ্ট সময়ে আদায় না হলে তা খেলাপি হিসাবে গণ্য হয়। পরে এ নীতিমালা আরও সংস্কারের মাধ্যমে আধুনিকরণ করা হয়েছে। এর আওতায় এখন আদায় পরিশোধ না হলে খেলাপি হিসাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

স্বাধীনতার আগে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ১২টি ব্যাংক ছিল। এগুলোকে একীভূত করে ১৯৭২ সালে প্রণীত ব্যাংক জাতীয়করণ অধ্যাদেশ বলে সরকারিকরণের মাধ্যমে ছয়টি ব্যাংক গঠন করা হয়। এগুলো হচ্ছে-সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, উত্তরা ও পূবালী ব্যাংক। বর্তমানে ব্যাংকের সংখ্যা বেড়ে ৬০টি হয়েছে। এখন প্রায় সব ব্যাংকেই খেলাপি ঋণের থাবা বসেছে। এমন কি নতুন প্রজন্মের ব্যাংকগুলোও খেলাপি ঋণের করাল গ্রাসে চলে যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঋণখেলাপিদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৫২৮ জনে। ২০২০ সালের একই সময়ে ছিল ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৯৮২ জন। গত এক বছরে ঋণখেলাপির সংখ্যা বেড়েছে ২৫ হাজার ৫৪৬ জন। ২০১৮ সালের জুনে এ সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার ৬৫৮ জন। আলোচ্য দুই বছর তিন মাসে ঋণখেলাপির সংখ্যা বেড়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৩২৪ জন। এর মধ্যে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে দুই ধরনের ঋণখেলাপিই রয়েছেন। বিশেষ করে বড় ঋণের পাশাপাশি এখন ছোট ঋণও খেলাপি হচ্ছে। এছাড়া অনেক খেলাপির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে না। অস্তিত্ববিহীন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ঋণ বিদেশে পাচার করে দেওয়ায় খেলাপি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলসহ (আইএমএফ) এ খাতের বিশেষজ্ঞরা বরাবরই বলে আসছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণের প্রকৃত তথ্য আড়াল করছে। বাস্তবে খেলাপি ঋণ আরও বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী কোনো ঋণ পরিশোধের সময় উত্তীর্ণ হয়ে গেলে সেগুলো বিশেষ হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। কিস্তি পরিশোধের সময়সীমা উত্তীর্ণ হওয়ার ছয় থেকে নয় মাসের মধ্যে পরিশোধিত না হলে তা খেলাপি হিসাবে চিহ্নিত করা হয়।

আইএমএফ ও বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষ হিসাবে থাকা ঋণও খেলাপি হিসাবে ধরা উচিত। কেননা এগুলোও ছয় থেকে নয় মাসের মধ্যে খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ হিসাবে রয়েছে ৪৭ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা। এছাড়া অবলোপন করা আছে ৪৩ হাজার কোটি টাকা। আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে আটকে আছে ৮০ হাজার কোটি টাকার ঋণকে খেলাপি হিসাবে দেখানো সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ বিবেচনায় নবায়ন করা ঋণের মধ্যে ২১ হাজার কোটি টাকা আবারও খেলাপির পর্যায়ে চলে গেছে। এগুলোও খেলাপি হিসাবে গণ্য করার মতো। কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক এটি করে না। এসব মিলে প্রকৃত খেলাপি ঋণ দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৯২ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের প্রায় ২৪ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ব্যাংকিং খাতকে প্রতিযোগিতা করতে হলে মান ও সুশাসনে আরও উন্নত করতে হবে। কমাতে হবে প্রকৃত খেলাপি ঋণ। রাজনৈতিক বা প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। দেশের ব্যাংকিং খাত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতা পেলে বৈদেশিক লেনদেনে তৃতীয় পক্ষের গ্যারান্টি লাগবে না। তখন ব্যবসা খরচও কমে যাবে।

২০১৯ সালের ২৪ জুন আদালতে দেওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমানে খেলাপি ও অকার্যকর ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরাসরি খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৮০ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে বিভিন্ন আদালত স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। যাতে এসব ঋণ খেলাপি করা না হয় এবং ৩০ হাজার কোটি টাকা অবলোপন করা হয়েছে।

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির জন্য ঋণ বিতরণের অনিয়ম, দুর্নীতি, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, সুশাসনের অভাবকে দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেছেন, পাকিস্তান আমলেই ব্যাংকগুলোতে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি জেঁকে বসেছিল। ঋণের সিংহভাগই কেন্দ্রীভূত ছিল। স্বাধীনতার পর এ অবস্থার উন্নতি হয়নি। বরং অবনতি হয়েছে। ব্যাংকের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে সেবার পরিধি। একই সঙ্গে বেড়েছে অনিয়ম ও দুর্নীতিও। এসব মিলে বেড়ে গেছে খেলাপি ঋণ।

এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, করোনায় দেওয়া ছাড় প্রত্যাহার করলে খেলাপি ঋণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাবে। অর্থাৎ নতুন বছরে এ চিত্র দেখা যাবে। করোনার ছাড়ের কারণে এখন খেলাপি ঋণ বেশ কিছুটা কম।

প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৯০ সালে খেলাপি ঋণ ছিল ৪ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা। যা ছিল মোট ঋণের ২৬ দশমিক ২৪ শতাংশ। ১৯৯৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ হাজার ৯৪২ কোটি টাকায়। যা ছিল মোট ঋণের ৩২ শতাংশ। আলোচ্য ৫ বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি অর্থাৎ ৫ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে বৃদ্ধির হার ১১৪ শতাংশ।

১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সময়ে খেলাপি বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। ২০০০ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ বেড়ে ২২ হাজার ৮৯১ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। যা ছিল মোট ঋণের ৩৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১২ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা। বৃদ্ধির হার ১৩০ দশমিক ২৫ শতাংশ।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ে খেলাপি ঋণ কমেছে। ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ কমে ১৭ হাজার ৫১১ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। যা ছিল মোট ঋণের ১৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে খেলাপি ঋণ কমেছে ৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে কমার হার ২৩ দশমিক ৫০ শতাংশ।

বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সময়ে খেলাপি ঋণ আবার বেড়েছে। ২০০৬ সালে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ২০ হাজার ৯৮ কোটি টাকায়। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে এ ঋণ বেড়েছে ২ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা। বৃদ্ধির হার ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত খেলাপি ঋণ বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। ২০১৪ সালে এ ঋণ বেড়ে প্রথমবারের মতো ৫০ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। আলোচ্য সময়ে বেড়েছে ২৭ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। বৃদ্ধির হার ১২৩ দশমিক ১০ শতাংশ।

এর মধ্যে ২০১১ সালে খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা। ২০১২ সালে তা বেড়ে ৪২ হাজার ৭২৫ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। আন্তর্জাতিক মন্দায় ওই বছরে খেলাপি ঋণ প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছিল।

২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। ২০১৯ সালের জুনে তা বেড়ে প্রথমবারের মতো লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। ওই সময়ে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকায়। জুনে তা কমে ৯৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকায় নামে। আলোচ্য সময়ে এ ঋণ বেড়েছে ৪৪ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা। বৃদ্ধির হার ৮৮ দশমিক ০৮ শতাংশ।

২০২০ সালের ডিসেম্বরে কমলেও ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তা আবার বেড়ে লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে ১ লাখ ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। আলোচ্য পৌনে ২ বছরে বেড়েছে ৬ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। বৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ২৩ শতাংশ

মহৎ উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা

পরিবেশ সুরক্ষা সারচার্জ আদায়ে একরকম উদাসীন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআর-বহির্ভূত রাজস্ব হওয়ার কারণেই মূলত এটি আদায়ে তেমন আগ্রহ নেই ভ্যাট কর্মকর্তাদের-এমন মন্তব্য সংশ্লিষ্টদের। তাদের আশঙ্কা-এতে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় সরকারের এ মহৎ উদ্যোগ ভেস্তে যেতে পারে।

 

হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের (সিজিএ) কার্যালয়ের আইবাস প্লাস প্লাস ডেটাবেজের তথ্যমতে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে পরিবেশ সুরক্ষা সারচার্জ আদায় হয়েছে মাত্র ১ কোটি ৪ লাখ ১৩ হাজার টাকা।

২০১৮-১৯-এ হয়েছে ৯৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জমা পড়েছে ৯৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা জমা হয়েছে। এ টাকা জমা দেওয়া হয়েছে সিলেট, বগুড়া, রংপুর ও ঢাকা ভ্যাট কমিশনারেট থেকে।

একাধিক ভ্যাট কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরিবেশ সুরক্ষা সারচার্জ এনবিআর-বহির্ভূত কর হওয়ায় এটি আদায়ে আগ্রহ কম থাকে। কারণ একজন কর্মকর্তার সাফল্য হিসাবে শুধু তার ওপর অর্পিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকেই ধরা হয়। এর বাইরে অন্য কর্মকাণ্ড আমলে নেওয়া হয় না। শুধু রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা আদায়ের ওপর ভর করে কর্মকর্তাদের পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হয়। যেহেতু পরিবেশ সারচার্জ এনবিআর-এর রাজস্ব আদায়ের মধ্যে পড়ে না তাই এ নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। প্রতিষ্ঠানগুলো স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে যা জমা দেয়, তাই জমা নেওয়া হয়। এ বিষয়ে আলাদা মনিটরিং করা হয় না।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পরিবেশ সুরক্ষা সারচার্জের কাছাকাছি সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি উন্নয়ন সারচার্জ ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ আরোপ করা হয়। মোবাইল ফোনে কথা বলা, এসএমএস ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর তথ্যপ্রযুক্তি উন্নয়ন সারচার্জ আদায় করা হয়। আর স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ আদায় করা হয় সিগারেট কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে। এ দুটি সারচার্জ নিয়মমাফিক আদায় করা হলেও পরিবেশ সুরক্ষা সারচার্জ আদায়ে ভ্যাট অফিসগুলো একেবারেই উদাসীন। প্রতিমাসে এনবিআর-এ পরিবেশ সারচার্জ আদায়ের তথ্য পাঠানোর নিয়ম থাকলেও ভ্যাট অফিসগুলো তা মানছে না।

এনবিআর-এর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, ২০১৫ সালের পর পরিবেশ দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা হালনাগাদ করা হয়নি। এর মধ্যে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান তালিকা থেকে বের হওয়ার আবেদন করেছে। যেহেতু তালিকা পরিবেশ অধিদপ্তর করেছে, তাই এনবিআর-এর এক্ষেত্রে করার কিছু নেই।

সারা দেশের ভ্যাট আদায় কার্যক্রম মনিটরিং করে এনবিআর-এর মূসক বাস্তবায়ন শাখা। এ অনুবিভাগের সদস্য আব্দুল মান্নান শিকদারের কাছে পরিবেশ সুরক্ষা সারচার্জ আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ২২ ডিসেম্বর যুগান্তরকে বলেন, ‘এ বিষয়ে জেনে জানাতে হবে।’

একই সঙ্গে তিনি মূসক নীতি শাখায় এ ব্যাপারে কথা বলার পরামর্শ দেন। এরপর মূসক নীতি অনুবিভাগের সদস্য মাসুদ সাদিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ২০১৫ সালের পর পরিবেশ সুরক্ষা সারচার্জের তালিকা হালনাগাদ করা হয়নি। এটা পরিবেশ অধিদপ্তরের কাজ।

২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে পরিবেশ সুরক্ষা সারচার্জ আরোপ করা হয়। মূলত দেশীয় শিল্পের যেসব খাত পরিবেশ দূষণের ক্ষেত্রে অতিমাত্রায় সংবেদনশীল, সেসব শিল্পমালিককে বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনে উৎসাহিত করা এবং পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করার অংশ হিসাবে পরিবেশহানিকর শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত সব ধরনের পণ্যের ওপর মূল্যভিত্তিক ১ শতাংশ হারে সারচার্জ আরোপ করা হয়। এ পদক্ষেপটি ওই সময়ে পরিবেশবাদী সব সংগঠনের প্রশংসা পায়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের ৩০ জুন এবং পরে ২০১৭ সালে সারচার্জ আদায় বিধিমালা জারি করা হয়। এরপর পরিবেশ দূষণকারী প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতে পরিবেশ অধিদপ্তর ও এনবিআর-এর মধ্যে বহু চিঠি চালাচালি হয়। পরে ২০১৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পরিবেশ দূষণকারী ৭৫৭টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয়।

হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯-১০ অর্থবছরের সারচার্জ আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪ লাখ টাকা টাকা। অর্থাৎ দূষণকারী ৭৫৭টি প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভার ১০৪ কোটি টাকা। সে হিসাবে গড়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর টার্নওভার দাঁড়ায় মাত্র ১৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। আর অজ্ঞাত কারণে সারচার্জের বিষয়ে নিশ্চুপ পরিবেশ অধিদপ্তর। প্রতিবছর দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা হালনাগাদ করার কথা থাকলেও ২০১৫ সালের পর আর নতুন তালিকা তৈরি করা হয়নি। এমনকি এ সারচার্জের অর্থের বিষয়ে সরকারকে কোনো সুপারিশও করেনি।

পরিবেশ আন্দোলনকর্মীরা বলছেন, পরিবেশ সুরক্ষা সারচার্জ নিয়মমাফিক আদায় না করায় প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের শুধরাচ্ছে না। পরিবেশ অধিদপ্তর নামকাওয়াস্তে বছরে দু-একটি অভিযান চালালেও আর্থিক দণ্ড খুবই সামান্য দেওয়া হয়। তাই প্রতিষ্ঠানটি পরিবেশ দূষণ করেই যাচ্ছে। এছাড়া ২০১৭ সালে পরিবেশ দূষণকারী ৭৫৭টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়, সেখানেও গলদ আছে। প্রতিবছরই এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত।

তাদের মতে, পরিবেশ দূষণ বন্ধে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় বছর যেসব প্রতিষ্ঠান সারচার্জ দেবে তারা তৃতীয় বছর দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকায় থাকলে জেল-জরিমানা এমনকি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার মতো উদ্যোগ নিলে দূষণ অনেক কমে আসবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) মহাসচিব শরীফ জামিল বলেন, এনবিআর-বহির্ভূত কর হওয়ায় পরিবেশ সুরক্ষা সারচার্জ আদায়ে এনবিআর-এর ঢিলামি আছে। এক্ষেত্রে এনবিআর-এর আরও তৎপর হওয়া উচিত। শুধু এনবিআর নয়, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ অন্যসব মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরও তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে না। জলবায়ুর অভিঘাত মোকাবিলায় এদিকে সংশ্লিষ্ট সবার নজর দেওয়া উচিত।

সংলাপের নামে আবারও ক্ষমতা থাকার কৌশলে সরকার: ফখরুল

রাষ্ট্রপতির সংলাপের নামে সরকার আবারও ক্ষমতায় থাকার নানা কলাকৌশল শুরু করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সংলাপ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে শনিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আবারও বিভিন্ন রকম কলাকৌশল শুরু করেছে। রাষ্ট্রপতি সংলাপ ডেকেছেন। কীসের সংলাপ?
‘এই সংলাপ ইতোমধ্যে বেশ কিছু রাজনৈতিক দল বর্জন করেছে। তারা পরিষ্কার করে বলে দিয়েছে যে, এই সংলাপে লাভ হবে না, অর্থহীন সংলাপ। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কিছুই করার নাই যদি নির্বাচনকালীন সময়ে সরকার নিরপেক্ষ না হয়।’

বর্তমান সংকট উত্তরণে দলের অবস্থান তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, সংকট উত্তরণে আমাদের স্পষ্ট কথা– সবার আগে গণতন্ত্রের প্রতীক, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন এবং পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা দিন। তারপর একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করে জনগণের ভোটের ক্ষমতাকে ফিরিয়ে দিন।

‘এটাই হচ্ছে একমাত্র পথ। এর বাইরে আর কোনো পথ নেই।’

নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে এই সমাবেশ হয়।

নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের আহবায়ক সেলিমা রহমানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব নিপুণ রায় চৌধুরী, সদস্য আমীরুল ইসলাম আলীম ও মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজের পরিচালনায় সমাবেশে বিএনপির আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, মশিউর রহমান, মজিবর রহমান সারোয়ার, ফজলুল হক মিলন, শিরিন সুলতানা, মীর সরফত আলী সপু, ডা. রফিকুল ইসলাম, সেলিম ভুঁইয়া, আবদুস সালাম আজাদ, দেওয়ান মো. সালাহউদ্দিন, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনডিপির আবু তাহের, মহানগর উত্তরের আমিনুল হক, যুবদলের সাইফুল আলম নিরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, মহিলা দলের সুলতানা আহমেদ, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বিএনপির তিন মেয়র প্রার্থী বহিষ্কার

নাটোর ও বাগাতিপাড়া পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির তিন মেয়র প্রার্থীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শনিবার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক ও সদস্য সচিব রহিম নেওয়াজ স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়- দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বর্তমান কমিশনের অধীনে নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হওয়ায় কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃতরা হলেন- নাটোর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও নাটোর পৌর বিএনপির সভাপতি শেখ এমদাদুল হক আল মামুন, বাগাতিপাড়া পৌরসভার মেয়র প্রার্থী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক ভিপি মো. শরিফুল ইসলাম লেলিন ও বাগাতিপাড়া পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আমিরুল ইসলাম জামাল।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক বলেন, কেন্দ্রের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী এই তিন নেতাকে দল থেকে অব্যাহতি দিয়ে কেন্দ্রে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

গুরুতর অভিযোগ নিয়ে ঢাকায় ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী

নোয়াখালির সোনাইমুড়ী উপজেলার বারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ফলাফল পাল্টে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন চশমা প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইয়েদ আহমদ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ফলাফল বাতিল, ভোট পুণঃগণনা করতে লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।

শনিবার দুপুরে আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে সাইয়েদ আহমদ যুগান্তরকে বলেন, ৫ জানুয়ারি পঞ্চম ধাপের অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত ফলাফলের কাগজ অনুযায়ী তিনি ২৮৯ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতীক ছিল চশমা। তার মোট প্রাপ্ত ভোট ৪ হাজার ৮৭১ ভোট। আর প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার প্রার্থী মো.সামছুল আলম পান ৪ হাজার ৫৮২ ভোট। পরে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব করেন। একপর্যায়ে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর করা ফলাফল পরিবর্তন করে ঘষা মাজা করে এক কেন্দ্রের দুটি ফলাফল পত্র তৈরি আমাকে ১১ ভোটে পরাজিত ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, আমি স্থানীয়ভাবে ঘোষিত ফলাফলে ২৮৯ ভোটে বেশি পেয়ে নির্বাচিত হই। এই ফলাফলের কাগজে ১০টি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সিল ও স্বাক্ষর রয়েছে। আমি আমার পোলিং এজেন্টদের মাধ্যমে রাত আটটার সময় এই ফলাফল হাতে পাই। রাত সাড়ে আটটার সময় রিটানিং কর্মকর্তার কাছে ওই ফলাফল সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বেআইনিভাবে প্রভাবশালীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আম্বরনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক এ বি এম নোমান ও রিটার্নিং কর্মকর্তা সোনাইমুড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. বরকত উল্যাহ এর যোগসাজশে কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের সকল প্রার্থীর ভোটকে ঘষামাজা করে পরিবর্তন করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো. সামছুল আলমের নৌকা প্রতীককে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, ফলাফল পাল্টে দেওয়ার বিষয়ে রিটানিং কর্মকর্তার কাছে তাৎক্ষণিক অভিযোগ করে কোন সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি। উল্টো রিটানিং কর্মকর্তা নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণায় দৃঢ়তা দেখিয়ে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। ভুক্তভোগী প্রার্থী রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘোষিত ফলাফল বাতিলের দাবি জানান এবং আইনি প্রক্রিয়ায় সেটা মোকাবিলা করবেন বলেও মন্তব্য করেন।

আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে সাইয়েদ আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, এমন প্রকাশ্য কারচুপির ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আমি আমার কর্মী ভোটারদের শান্ত থাকতে আহ্বান জানিয়েছি। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সব জায়গায় প্রমাণসহ অভিযোগ করেছি। জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটাতে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি চলছে।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা বরকত উল্লাহ মোবাইলে যুগান্তরকে বলেন, কেন্দ্র থেকে প্রিজাইডিং অফিসার যে রেজাল্ট শিট দিয়েছেন সেটা দেখেই ফলাফল ঘোষণা করেছি। রেজাল্ট শিটে কাটাকাটি বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, সেখানে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার অনুস্বাক্ষর ছিল। মূলত প্রিজাইডিং অফিসার আমাকে যে রেজাল্ট শিট দিয়েছেন আমি সেটাই ঘোষণা করেছি।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসার এ বি এম নোমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রভাবশালীদের মদদে বেপরোয়া ‘রিয়াদ গ্যাং’

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে স্কুলপড়ুয়া গারো সম্প্রদায়ের দুই কিশোরীকে গণধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি সোলায়মান হোসেন রিয়াদ (২১) একটি বাহিনী বা গ্যাং গড়ে তুলেছিল ১০-১৩ জনের। তারা চলাফেরা করে কিশোর গ্যাং স্টাইলে। তাদের বয়স ১৯ থেকে ২১ বছর। স্থানীয় প্রভাবশালীদের মদদ থাকায় বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে ফেবার (সহায়তা) পেত রিয়াদ ও তার বাহিনীর সদস্যরা।

রিয়াদ বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে আগেও অনেক অভিযোগ ছিল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে অভিযোগ নিষ্পত্তি হতো। রিয়াদের বাবা সাবেক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। এসব কারণে বারবারই পার পেয়ে যায় রিয়াদ।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও থেকে গতকাল (৭ জানুয়ারি) রাতে রিয়াদকে গ্রেফতারের পর শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

র‌্যাব বলছে, বাবা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হওয়ার সুবাদে রিয়াদ সুবিধা পেয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গত ২৭ ডিসেম্বর রাতে গারো সম্প্রদায়ের একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে দুই কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় তাদের হত্যার ভয় দেখানো হয়। তাদের সঙ্গে থাকা ১০ বছরের শিশু পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় মামলা হয় ৩০ ডিসেম্বর।

খন্দকার আল মঈন বলেন, লোকলজ্জার ভয় এবং প্রাণনাশের হুমকির কারণে কিশোরীদের পরিবার মামলা করতে দেরি করেছিল।

রিয়াদ এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত জানিয়ে মঈন বলেন, ইভটিজিং, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে রিয়াদের বিরুদ্ধে। এর আগেও সে ধর্ষণ করেছে।

রিয়াদের বাবা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছিলেন জানিয়ে এই র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, বাবা জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুবাদে রিয়াদ সুবিধা পেতে পারে।

র‌্যাব জানায়, ঘটনাস্থলে ১০ জন উপস্থিত থাকলেও ছয়জন ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত। বাকি চারজন পাহারা দিচ্ছিল। মূলহোতা রিয়াদের শিক্ষাগত যোগ্যতা তেমন নেই। শিশু বয়সে তিন বছর মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছিল। গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত অন্যান্যরা পলাতক বলে র‌্যাব কর্মকর্তা আল মঈন জানান। তবে ইতোমধ্যে ডিবি পুলিশের হাতে আরও পাঁচজন গ্রেফতার হয়েছেন। তিনি বলেন, জড়িতদের পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়েছে, যেন তারা এদের আইনের হাতে সোপর্দ করেন।

র‌্যাব আরও জানায়, রিয়াদ ও তার সহযোগীদের অত্যাচারে এলাকার স্কুলপড়ুয়া মেয়েরা অতিষ্ঠ। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করারও অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। রিয়াদের নামে হালুয়াঘাট থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মাদক চোরাচালান মামলা চলমান রয়েছে। ইতোপূর্বে সে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় এবং কারাভোগ করে। তার সহযোগী এজাহারনামীয় অন্যান্য আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে এলাকায় মাদক কারবারি এবং গ্রুপভিত্তিক বিভিন্ন চুরি, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গণধর্ষণের শিকার হওয়া এক কিশোরীর বাবা গত ৩০ ডিসেম্বর বাদী হয়ে হালুয়াঘাট থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় ১০ জনকে আসামি করা হয়। মামলার পর আসামিদের গ্রেফতার করতে স্থানীয় বাসিন্দারা একাধিকবার মানববন্ধন ও প্রতিবাদ করেন। তারা আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।

এবার বাংলা ভার্সনে হোয়াটসঅ্যাপ

মেটার মালিকানাধীন ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফরম হোয়াটসঅ্যাপ ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে ব্যবহারকারীদের জন্য। প্রযুক্তি বাজারে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করতে নিজেদের আরও বেশি আপডেট করতেই ব্যস্ত প্রতিষ্ঠানটি। এবার তারই ধারাবাহিকতায় ভাষা পরিবর্তনের সুযোগ করে দিল হোয়াটসঅ্যাপ। প্রথমে ফেসবুক এ সুবিধা চালু করলেও এবার হোয়াটসঅ্যাপেও সেই সুবিধা পাবেন ব্যবহারকারীরা। দুটি উপায়ে ভাষা পরিবর্তন করতে পারবেন। প্রথমটি হলো পুরো স্মার্টফোনের ভাষা পরিবর্তন করে এবং দ্বিতীয়টি কেবলমাত্র হোয়াটসঅ্যাপের ভাষা পরিবর্তন করে। চলুন দেখে নেওয়া যাক কীভাবে কাজটি করবেন-

>পুরো স্মার্টফোনের ভাষা পরিবর্তন করতে হলে প্রথমে অ্যান্ড্রোয়েট ফোনের Settings ওপেন করুন? System > Language & input ? Languages। Add a language-এ ট্যাপ করে আপনার পছন্দের ভাষা নির্বাচন করুন।

আইফোনের ক্ষেত্রে প্রথমে আইফোনের Settings-এ যান >General ? Language & Region ? iPhone Language। পছন্দসই ভাষাটি চয়ন করুন এবং Change to (language)-এ ট্যাপ করুন।

শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপের ভাষা পরিবর্তন করে

>WhatsApp Settings ওপেন করুন। > Chats-এ ট্যাপ করুন? App Language >পছন্দসই ভাষা সিলেক্ট করুন।

কাল্পনিক বিতর্ক বিজ্ঞান-দর্শন-সাহিত্য

আদিম গুহাবাসী মানুষ থেকে আজকের জ্ঞানে-গুণে উন্নত সভ্য মানুষ, যাদের দৃষ্টি পৌঁছে গেছে অতি সূক্ষ্ম পরমাণুর অভ্যন্তর থেকে কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরের নতুন নতুন গ্যালাক্সির সন্ধানে; নিজের পরিচয়টুকু ছিল যাদের কাছে অস্পষ্ট তারাই আজ খুঁজে চলেছে সৃষ্টির মহাতত্ত্ব। আর এ থেকেই তৈরি হলো সাহিত্য, দর্শন, বিজ্ঞান।

বিশিষ্ট মার্কিন পদার্থ বিজ্ঞানী ড. খন্দকার রেজাউল করিম বিজ্ঞানের অধ্যাপক হয়েও বিজ্ঞানের সঙ্গে দর্শন ও সাহিত্যের চমৎকার সমন্বয় ঘটিয়েছেন তার ‘কাল্পনিক বিতর্ক’ বইটিতে; যা গতানুগতিক ধারার লেখার থেকে বেশ ব্যতিক্রম। ফলে পাঠক এ বই পাঠে ভিন্ন এক উৎকৃষ্ট স্বাদের সাক্ষাৎ পাবেন বৈকি। লেখক বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন দেশের বড় বড় বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক, দার্শনিকদের জড়ো করেছেন কাল্পনিক এক চমৎকার বিতর্কে, যাদের মধ্যে আছেন-ডেমোক্রিটাস, প্লেটো, অ্যারিস্টটল, ওমর খৈয়াম, গ্যালিলিও, নিউটন, লালন, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, রবার্ট ফ্রস্ট, আইন্সটাইন, জীবনানন্দ দাশসহ অনেকই।

বইটিতে রয়েছে ডেমোক্রিটাসের সময় থেকে আজ পর্যন্ত বিজ্ঞানের জগতে যা যা ঘটেছে, সেই সঙ্গে বিজ্ঞানীদের জীবনে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সারসংক্ষেপ। প্রচুর শ্রম আর মেধা খরচায় লেখক দর্শন, বিজ্ঞান, সাহিত্যের যে অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন তা অভূতপূর্ব। ১৬৮ পৃষ্ঠায় পদার্থবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে কোন জটিল সমীকরণ ছাড়া, সঙ্গত কারণেই পাঠ্যবইয়ের সাহায্যকারী হিসাবে বইটি পঠিত হতে পারে দ্বিধাহীনভাবে। বইটিতে জগদ্বিখ্যাত লেখক-বিজ্ঞানী-দার্শনিকদের সঙ্গে লেখক নিজে কাল্পনিক বিতর্কে জড়িয়ে সাহিত্য ও দর্শনের চমকপ্রদ উপস্থাপনায় কাঠখোট্টা বিজ্ঞানকে করেছেন আকর্ষণীয়। যেমন-

“রবীন্দ্রনাথ : আমারই চেতনার রঙে পান্না হলো সবুজ, /চুনি উঠল রাঙা হয়ে / আমি চোখ মেললুম আকাশে, / জ্বলে উঠল আলো/ পুবে পশ্চিমে। /গোলাপের দিকে চেয়ে বললুম ‘সুন্দর’ / সুন্দর হলো সে।

আইনস্টাইন : তোমার কবিতাটি সুন্দর, তবে তোমার সঙ্গে আমি একমত নই। পান্না এবং চুনি কয়েকটি বিশেষ তরঙ্গদৈর্ঘের আলো প্রতিফলন করে, তোমার চেতনার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। কাচের গ্লাস ভর্তি পানিতে একটি লোহার রড রেখে পাশ থেকে দেখলে রডটি বাঁকা মনে হবে। তোমার পঞ্চইন্দ্রিয় এবং তোমার চেতনা তোমাকে মিথ্যা খবর দিচ্ছে।…তুমি তো জানো আমি তোমার মতোই ঈশ্বরে বিশ্বাস করি।… তুমি এবং আমি না জন্মালেও ঈশ্বর সত্য এবং সুন্দর হতেন।

নিউটন : সত্য এবং সুন্দর! দুটি অর্থহীন শব্দ। যা মাপা যায় না তার কোনো অর্থ নেই। এখানে আলোর প্রতিফলন এবং প্রতিসরণের কারণেই রডটিকে বাঁকা লাগছে। সবকিছু মেপে বুঝিয়ে দেওয়া যায় যে রডটি বাঁকেনি।… তোমাদের দুজনের মতো আমিও ঈশ্বর বিশ্বাসীর দলে, তবে বিজ্ঞানের জগতে বিশ্বাস শব্দটিকে টেনে না আনাই ভালো। আমার প্রিন্সিপিয়া বইটিতে ঈশ্বর শব্দটি ব্যবহার করার প্রয়োজন একবারও হয়নি।

বোর : চিরন্তন সত্য এবং সুন্দর বলতে কিছুই নেই।…

প্লেটো : ধরা যাক এক গুহার ভেতর এক ধরনের প্রাণী বাস করে। জন্ম থেকে ওরা ওখানেই বন্দি হয়ে আছে। সূর্যের আলোয় গুহার গায়ে ওদের ছায়া পড়ে। গুহার বাইরে তাকানো বারণ। ওই ছায়া দেখেই ওরা সূর্যের সত্যিটা জানতে চায়। এ অভিশপ্ত প্রাণীদের নাম মানুষ। বিজ্ঞানীদের দল এবং ওদের যন্ত্রপাতির সাধ্য নেই গুহার বাইরের সত্য খবর সংগ্রহ করার।

লেখক : তোমাদের লেখা পড়ে জীবনের সিংহভাগ পার করেছি। মূর্খ লোকেরও চেঁচানোর অধিকার আছে। সেই অধিকারে এ যুগের হালচাল কিছু শোনাই। ১৯৬০ সালের দিকে লেসার আলো আবিষ্কারের পর আইনস্টাইনের কোয়ান্টাম বাস্তবতার এক্সপেরিমেন্টগুলো সহেজই করা গেছে। কোয়ান্টাম জড়াজড়ি (quantum entanglement) একেবারে সত্যি ঘটনা। প্লেটোর গুহায় বন্দি হয়েও আমি বাইরের জগতের সঙ্গে যুক্ত।…”

আত্মাকে চেনার উপলব্ধি থেকে সৃষ্টি হয়েছে দর্শন, সাহিত্য, বিজ্ঞান। আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এ উপলব্ধি থেকে বিকাশ লাভ করেছে, আর তা হলো ধর্ম। তবে দুর্ভাগ্যবশত ধর্ম আর বিজ্ঞান চিরকালই উল্টো স্রোতে প্রবাহিত হয়েছে। কিন্তু তাতে বেচারা ধর্ম বা বিজ্ঞান কাউকেই দোষ দেওয়া যায় না। কারণ ধর্ম মোড়লরা বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার পথে যতটা বাধা দিতে সক্ষম হয়েছে ততটা বোধহয় আর কেউ পারেনি। তাই ধর্ম আর বিজ্ঞানের বন্ধুত্বও হয়তো কখনোই হয়নি। ধর্ম মোড়লদের অন্ধত্ব আর স্বার্থপরতার বলি হতে হয়েছে অনেক প্রতিভাময় বিজ্ঞানীদের। ‘কাল্পনিক বিতর্ক’ বইটিতে লেখক বিজ্ঞানীদের নিজের মুখ দিয়ে বলিয়ে নিয়েছেন তাদের দুর্দশার ইতিহাস। গ্যালিলিও বলছেন, ‘মনে পড়ছে অনেকদিন আগে এক রোববার গির্জায় গিয়েছিলাম। আমি তখন পাডুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। পাদরি সাহেব ভাষণ দিচ্ছিলেন, স্বর্গে যাওয়ার উপায় বাতলে দিচ্ছিলেন, খুব ভালো ভালো সব কথা। সেটাইতো ভালো, ‘The Bible shows the way to go to

heaven, not the way the heavens go.’। ধর্মের চাঁইরা দ্বিতীয় দায়িত্ব ঘাড়ে নিলেই যত গণ্ডগোল বাধে! ‘আমি খেপে যাই যখন ধর্মপুস্তকের দোহাই দিয়ে ওরা বিজ্ঞানের গলায় ফাঁস লাগাতে চায়, অথচ নিজেরা যুক্তিতর্কের ঊর্ধ্বে বসে থাকে’। ‘উল্লেখ্য, গ্যালিলিওকে জীবনের শেষ দশ বছর কারাগারে বন্দি হয়ে কাটাতে হয়েছে এ কথা বলার অপরাধে যে পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে। শুধু গ্যালিলিও নয়, ধর্মের চাঁইদের সঙ্গে লড়াইয়ে পরাজিত হয়ে ব্রুনোকে আগুনে পুড়ে মরতে হয়, যিনি ছিলেন একাধারে কবি, দার্শনিক এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানী। আরেক জ্যোতির্বিজ্ঞানী হাইপেশিয়াকে বিবস্ত্র করে পাথর ছুড়ে হত্যা করা হয়, বিজ্ঞানী কেপলারের মাকে ডাইনি অপবাদ দিয়ে করা হয় কারারুদ্ধ। এখন দিন বদলেছে, তবে ধর্মের মোড়লরা এখনো থামেনি, শুধু দায়িত্বটুকু হাতবদল হয়েছে।

ওমর খৈয়ামকে উদ্দেশ করে লেখক বলছেন, “খৈয়াম, মুসলমানদের স্বর্ণযুগ শেষ হয়ে গেছে,‘ওরা এখন বিবি তালাকের ফতোয়া খোঁজে কুরআন কেতাব পড়ি।’

তোমাদের সময় ছিল খ্রিষ্টানদের অন্ধকার যুগ, এখন চলছে মুসলমানদের অন্ধকার যুগ। অন্ধকার যুগের খ্রিষ্টানরা জ্ঞানী লোকদের খুন করত, স্বাধীনচেতা মেয়েদের ডাইনি বলে পুড়িয়ে মারত, এখন মুসলমানরা ওইসব কাজের ভার নিয়েছে!” কিন্তু সত্য তো লুকিয়ে থাকে না, বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রাও থামেনি। বইয়ের প্রথম অধ্যায়েই ডেমোক্রিটাস প্লেটোকে তাচ্ছিল্য করে বলছেন, ‘যত খুশি হেসে নাও। ভবিষ্যৎই বলে দেবে কে শেষ হাসি হাসবে, তুমি না আমি!’

গ্রিক দার্শনিক এবং বিজ্ঞানী ডেমোক্রিটাসকে বলা হয় পরমাণু তত্ত্বের জন্মদাতা। অপরদিকে প্লেটোও ছিলেন একাধারে দার্শনিক ও বিজ্ঞানী। তবে দর্শনশাস্ত্রের এ মহারথী বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে যা যা ধারণা দিয়েছেন, দুর্ভাগ্যবশত তার প্রায় সবই ছিল ভুল। ডেমোক্রিটাস, প্লেটোর যুগ পেরিয়ে গেছে দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় হয়েছে। প্রশ্ন কি তবু ফুরায়? মানুষ আরও কতদূর যাবে কে জানে… তাই লেখক যখন প্রশ্ন করলেন-‘তোমরা এতগুলো পণ্ডিত এখানে জড়ো হয়েছ, কেউ কি আমাকে বোঝাতে পার ইলেকট্রনের চক্কর কী?’ বিজ্ঞানী ডিরাক তখন উত্তর দিলেন-‘আমার সমীকরণে এই চক্কর কোথা থেকে এসে জুড়ে বসেছে, ল্যাবে ওটাকে মাপা গেছে। দেখো হে ছোকরা, বেশি প্রশ্ন করো না। মুখ বন্ধ করে অঙ্ক করতে থাকো!’

মুখ কি তবু বন্ধ হয়? চন্দ্রবিজয়ের গল্প এখন পুরোনো হয়ে গেছে, দৃষ্টি এখন শুধু কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরের গ্যালাক্সিতে থেমে নেই, মানুষের অবিনশ্বর কৌতূহলী সত্ত্বা হয়তো একদিন পেয়ে যাবে এক মহাবিশ্ব পেরিয়ে অন্য এক মহাবিশ্বের সন্ধান। বিজ্ঞান, দর্শন, সাহিত্যের প্রতি যাদের আগ্রহ আছে তাদের জন্য সংগ্রহে রাখার মতো একটি চমৎকার বই, সংগ্রহমূল্য ৩৩৫ টাকা।

কাল্পনিক বিতর্ক

বিজ্ঞান-দর্শন-সাহিত্য। লেখক খন্দকার রেজাউল করিম

প্রচ্ছদ দেওয়ান আতিকুর রহমান

প্রকাশক সৃজন, পরিবেশক ঐতিহ্য