সোমবার ,১৮ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 518

ঢাবির ফুটপাতে মিলল নবজাতকের লাশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় ফুটপাত থেকে এক নবজাতকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাবির শেখ রাসেল টাওয়ারের সামনে ফুটপাত থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
মেয়ে নবজাতকটির বয়স আনুমানিক একদিন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুদীপ কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, কে বা কারা মেয়ে নবজাতকটিকে ফুটপাতে ফেলে রেখে গেছে। স্থানীয়রা খবর দেওয়ার পর পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নির্ধারিত তারিখে হচ্ছে না বইমেলা

অমর একুশে বইমেলা আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত তারিখে তা আর হচ্ছে না।

রোববার সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ যুগান্তরকে বলেন, বইমেলা ২ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের আগ্রাসী ধরন ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়া এবং করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সরকারি সব ধরনের নির্দেশনা মেনে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে দুই সপ্তাহ স্থগিত হওয়ায় বইমেলা আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চিরায়ত নিয়মে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকে বইমেলা শুরুর বিষয়ে মতামত ছিল প্রকাশকদের। তবে তারা ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের তাগিদ দিয়েছিলেন।

ইতোমধ্যে মেলার দুই অংশ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমিতে কাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।

এর আগে গত রোববার অমর একুশে বইমেলা-২০২২ আয়োজন প্রসঙ্গে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা যুগান্তরকে বলেছিলেন, সরকারের সব নির্দেশনা মেনে অমর একুশে গ্রন্থমেলা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সরকারি কোনো নিষেধাজ্ঞা এলে সে অনুযায়ী সব জায়গায় আলোচনা করে, যেটি সবার জন্য মঙ্গলজনক সেটিই করা হবে।

মহাবিশ্বের চরম বিস্ময় পবিত্র কুরআন

পবিত্র কুরআন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর নাজিল হওয়া ঐশীগ্রন্থ। আল-কুরআনের ঐশীগ্রন্থ হওয়ার প্রমাণ মেলে নানাভাবে।

সৃষ্টির সূচনা থেকেই কুরআন মজিদ যে লাওহে-মাহফুজে সুরক্ষিত ছিল, তার উল্লেখ এ গ্রন্থেই রয়েছে, ‘বরং তা সেই কুরআন যা লাওহে মাহফুজে সুরক্ষিত রয়েছে’ (সূরা বুরুজ, আয়াত ২১-২২)।

এরপর দুই পর্যায়ে তা নাজিল হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে সম্পূর্ণ কুরআন একই সঙ্গে এক লাইলাতুল কদরে পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা নিকটতম আসমান ‘বাইতুল মামুরে’ নাজিল হয়েছিল। এটি বাইতুল-ইজ্জত নামেও পরিচিত, যা কাবা শরিফ বরাবর প্রথম আসমানে অবস্থিত ফেরেশতাদের ইবাদত ঘর।

এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে ২২ বছর ৫ মাস ১৪ দিনে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দিলে আল্লাহ পাকের বিশেষ দূত ফেরেশতা জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে তা নাজিল করা হয় (আল-এতকান, ১ম খণ্ড, পৃ. ৪১)।

সহিহ বর্ণনায় জানা যায়, দ্বিতীয় পর্যায়ের অবতরণ ও শুরু হয়েছিল লাইলাতুল কদরে।

সংখ্যাতত্ত্বে এই ঐশীগ্রন্থ মহাবিশ্বের এক চরম বিস্ময়! কুরআন শরিফের মোট ১১৪টি সূরায় জান্নাত ও জাহান্নামের ওয়াদার আয়াত ১০০০টি, ভীতিপ্রদর্শক আয়াত ১০০০টি, আদেশসূচক আয়াত ১০০০টি, নিষেধসূচক আয়াত ১০০০টি, উদাহরণ সংবলিত আয়াত ১০০০টি, ঘটনা সংবলিত আয়াত ১০০০টি, হালাল নির্দেশক আয়াত ২৫০টির মতো, হারাম নির্দেশক আয়াত ২৫০টি, তাসবিহ সংবলিত আয়াত ১০০টি এবং নানা প্রসঙ্গে আয়াত ৬৬টি।

পবিত্র এই গ্রন্থে অনেকবার একের সঙ্গে অন্যের তুলনা করা হয়েছে। এই তুলনীয় নাম বা বস্তু দুটিকে আল্লাহতায়ালা সমান সংখ্যাতেই উল্লেখ করেছেন।

এখানে ‘তিনি বললেন’ এবং ‘তারা বলল’ শব্দ দুটি এসেছে ৩৩২ বার করে। ‘আব্দ (গোলামি)’ ও ‘আবিদ (গোলাম)’ কথা দুটি এসেছে ১৫২ বার করে। ‘জীবন’ ও ‘মৃত্যু’ ১৪৫ বার, ‘দুনিয়া’ ও ‘আখেরাত’ ১১৫ বার, ‘কষ্ট’ ও ‘ধৈর্য’ ১০২ বার, ‘শয়তান’ ও ‘ফেরেশতা’ ৮৮ বার, ‘বেহেশত’ ও ‘দোজখ’ ৭৭ বার, ‘বিপর্যয়’ ও ‘কৃতজ্ঞতা’ ৭৫ বার, ‘চন্দ্র’ ও ‘সূর্য’ ৩৩ বার, ‘জাকাত’ ও ‘জাকাত প্রদানের ফলে বরকত’ ৩২ বার, ‘ঈমান’ ও ‘কুফর’ ২৫ বার, ‘পবিত্র’ ও ‘অপবিত্র’ সাতবার, ‘গরম’ ও ‘ঠাণ্ডা’ পাঁচবার করে এসেছে।

কুরআনে ‘সাত আসমান’ (সাব্য়া সামাওয়াত) কথাটি সাতবার রয়েছে; আসমানগুলোর সৃষ্টি (খালাকাস সামাওয়াত) কথাটিও সাতবার এসেছে। সাতটি আসমান আছে বলেই হয়তো আসমান প্রসঙ্গে এমন সংখ্যা। আল্লাহু আকবার, আল্লাহ ভালো জানেন।

পায়ুপথে ক্যান্সার বুঝবেন কীভাবে, কী করবেন?

মলদ্বারে বহু জটিল রোগ হয়ে থাকে। কোষ্ঠকাঠিন্য, পাইলস ও ফিস্টুলার সঙ্গে আমরা সমধিক পরিচিত। মলদ্বার দিয়ে রক্ত গেলে আমরা ধরে নিই পাইলস কিংবা ফিস্টুলা হয়েছে।

কিন্তু অনেক সময় মলদ্বারের ক্যান্সার থেকেও এ রকম রক্ত যেতে পারে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মলদ্বারে ক্যান্সারের লক্ষণ ও চিকিৎসা নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ইডেন মাল্টিকেয়ার হাসপাতালের বৃহদান্ত ও পায়ুপথ সার্জারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. একেএম ফজলুল হক।

পায়ুপথে ক্যান্সার হলে বিভিন্ন রকম উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন- পায়খানার সঙ্গে রক্ত ও মিউকাস বা আম যাওয়া, কিছুদিন পাতলা পায়খানা এবং এরপর কিছুদিন কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া, মলদ্বারে ব্যথা হওয়া, মল ত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন, খুব সকালে পায়খানার বেগ হওয়া, মল ত্যাগের পর আরও মল রয়ে গেছে এরূপ অনুভূতি হওয়া ইত্যাদি।

যন্ত্র দিয়ে মলদ্বারের ভেতর পর্যবেক্ষণ করা যেমন- প্রকটস্কপি, সিগময়ডস্কপি, কোলনস্কপি, বেরিয়াম এনেমা পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যান্সার শনাক্ত করা হয়। পরীক্ষার মাধ্যমে এসব রোগ আগেভাগে ধরতে পারলে চিকিৎসা সহজ ও কার্যকরী হয়।
অনেক লোকের ধারণা ক্যান্সার অপারেশন না করাই ভালো। অস্ত্রোপচার করলে আরও ছড়িয়ে যায় এবং ক্ষতি হয়। এখন পর্যন্ত সারা পৃথিবীতে বিভিন্ন অঙ্গের ক্যান্সারের, যেমন পরিপাকতন্ত্র, লিভার, অস্থি, মগজ, চর্ম, ফুসফুস- প্রধান চিকিৎসাই হচ্ছে অপারেশন। বিভিন্ন অঙ্গের ক্যান্সার হলে অপারেশনের সময় কতদূর পর্যন্ত কাটতে হবে এবং কী কী অঙ্গ এর অন্তর্ভুক্ত করতে হবে তার নীতিমালা নির্ধারণ করা আছে। যাকে ক্যান্সার সার্জারির ভাষায় বলা হয় অনকোলজিক্যাল প্রিন্সিপালস অব সার্জারি। শুধু ক্যান্সার আক্রান্ত টিস্যু টুকু কেটে ফেলে দিলেই ক্যান্সার অপারেশন যথার্থ হয় না।

ক্যান্সার যে পথ ধরে ছড়িয়ে পড়ে সেই অংশও মূল ক্যান্সারের সঙ্গে কেটে ফেলে দিতে হবে। এর পরেও যদি সন্দেহ থাকে যে ক্যান্সার কোষ সম্ভবতঃ আরও দূরে বিস্তৃতি লাভ করেছে কিন্তু সেই অঙ্গটি কেটে ফেলে দেওয়া সম্ভব নয় তাহলে ক্ষেত্রভেদে কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এগুলোর চিকিৎসার জন্য মেডিকেল অনকোলজিস্ট ও রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট রয়েছে।

রেকটাম ক্যান্সার হলে এর প্রধান চিকিৎসা হচ্ছে জলদি অপারেশন করে ফেলা। এমনকি যদি রোগী আর মাত্র কয়েক মাস বেঁচে থাকবেন বলে মনে হয় তবুও অপারেশন করা উচিত। এতে জীবন ধারণের গুণগত উন্নতি হয়। রোগীর ভোগান্তি অনেকটা লাঘব হয়।

কান্সার চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ দিক হল- এ অপারেশনের পরে পেটে কলোস্টমি করে ব্যাগ লাগাতে হবে কিনা। রেকটামের খুব গভীরে ক্যান্সার হলে পেটে মলত্যাগের ব্যাগ লাগানোর সাধারণত প্রয়োজন হয় না। কিন্তু রেকটামের নিচের দিকে অর্থাৎ মলদ্বারের খুব কাছাকাছি ক্যান্সার হলে পেটে কলোস্টমি করা বা ব্যাগ লাগানোর সম্ভাবনা বেড়ে যায় এবং কখনও কখনও অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে।

এ ব্যাপারে কৌশলগত সমস্যাটি হচ্ছে ক্যান্সারে আক্রান্ত রেকটামের অংশটুকু কেটে ফেলার পর পরিপাকতন্ত্রের দুটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। উপরে থাকে বৃহদান্ত্র এবং নিচে থাকে রেকটাম ও মলদ্বারের অবশিষ্টাংশ। পেলভিস বা তলপেটের গঠনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পরিপাকতন্ত্রের দুটি অংশ হাত দিয়ে সেলাই করে জোড়া দেয়া অনেক সময় সম্ভব হয় না।

এজন্য বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের স্ট্যাপলিং যন্ত্র বানিয়েছেন যেমন গোলাকার স্ট্যাপলার, লিনিয়ার স্ট্যাপলার, রোটিকুলেটর ইত্যাদি। এসব যন্ত্রের সাহায্যে হাত দিয়ে সেলাই সম্ভব নয় এমনসব ক্ষেত্রে রেকটাম ও বৃহদান্ত্র জোড়া দেয়া সম্ভব। ফলে পেটে স্থায়ীভাবে কলোস্টমি করে ব্যাগ লাগানো দরকার হয় না।

আন্দোলনে উত্তাল শাবি, এবার উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি

পুলিশের লাঠিপেটা, রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনায় শিক্ষকসহ শতাধিক ছাত্রছাত্রী আহত হওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আজও বিক্ষোভ করছেন। তাদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস (শাবিপ্রবি)।

সোমবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। এবার উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করছেন তারা। এ সময় শিক্ষার্থীরা হল ছাড়বেন না বলে ঘোষণা দেন।

সকাল থেকেই ‘যেই ভিসি গ্রেনেড ছুড়ে, সেই ভিসির পদত্যাগ চাই; যেই ভিসি ছাত্র মারে, সেই ভিসি চাই না; যেই ভিসি গুলি ছুড়ে, সেই ভিসির পদত্যাগ চাই; শিক্ষার্থীর ওপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই; সাস্টিয়ান সাস্টিয়ান এক হও এক হও, ক্যাম্পাস কারও বাপের না, হল আমরা ছাড়ব না’ ইত্যাদি স্লোগানে ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের এক দফা এক দাবি— যেই ভিসি আমাদের ওপর হামলা চালাতে পারে, সেই উপাচার্যকে আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখতে চাই না। যতক্ষণ পর্যন্ত উপাচার্য পদত্যাগ না করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব। আমাদের শিক্ষার্থীর ওপর হামলার প্রতিবাদে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

তারা বলেন, হল ছেড়ে দেওয়ার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, আমরা তা প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হল ত্যাগ করব না। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে জানতে প্রক্টর ড. আলমগীর কবীরের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যস্ত পাওয়া যায়।

এর আগে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলাকালে রোববার রাত ১১টার পর পুলিশ ক্যাম্পাস ত্যাগ করে। এর র শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। এর পর সোমবার সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে হয়ে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন।

শাবির ঘটনা তদন্তে ৮ সদস্যের কমিটি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) চলমান আন্দোলন এবং পুলিশের হামলায় শিক্ষার্থী আহতের ঘটনা তদন্তে আট সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম তদন্ত কমিটি গঠনের তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, রোববার রাতে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়। এতে ফিজিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রাশেদ তালুকদারকে সভাপতি ও রেজিস্ট্রার মো. ইশফাকুল হোসেনকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদের ডিন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতিকে কমিটির সদস্য করা হয়েছে।

এদিকে সোমবার সকাল থেকেই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলা চালানোর প্রতিবাদে এবং ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস।

এ সময় শিক্ষার্থীরা হল না ছাড়ার ঘোষণা দেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে রোববার দুপুরে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। পরে সন্ধ্যায় তাকে উদ্ধার করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচ পুলিশ সদস্য, ১০ শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ১৫ শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ তার বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। উপাচার্য জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের কাল সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে হল ত্যাগ করতে হবে।
এ ছাড়া বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। তার স্থলে নতুন প্রাধ্যক্ষ হিসেবে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নাজিয়া চৌধুরীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ক্যাম্পাস বন্ধের প্রতিবাদে রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা ‘সাস্টিয়ান সাস্টিয়ান, এক হও এক হও’, ‘প্রশাসনের প্রহসন, মানি না মানব না’, ‘পরীক্ষা কেন বন্ধ, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘হল কেন বন্ধ, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কেন বন্ধ, প্রশাসন জবাব চাই’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে শাহপরান হল ও সৈয়দ মুজতবা আলী হল থেকেও শিক্ষার্থীরা মিছিল সহকারে তাদের সঙ্গে যোগ দেন। পরে তারা হল থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের দিকে চলে যান।

ফের করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসাদুজ্জামান নূর

আবারও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর।

বর্তমানে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাকে।

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে যোগদানের জন্য সম্প্রতি করোনা পরীক্ষা করান বর্ষীয়ান এ অভিনেতা ও সংসদ সদস্য।

রোববার তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পরদিনই সকালে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আপাতত তার শারীরিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘করোনা আসাদুজ্জামান নূরের শারীরিক পরিস্থিতি ভালো। ভয়ের কিছু নেই এরপরও ঝুঁকি না নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।’

এর আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন আসাদুজ্জামান নূর। সেসময়েও হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাকে। কদিন চিকিৎসা শেষে করোনামুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরেন।

না চাইলেও নির্বাচনে থাকতে হচ্ছে পরীমনিকে

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সদস্য পদে প্রার্থী হয়েছিলেন পরীমনি। কাঞ্চন-নিপুণ পরিষদ থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ঢাকাই সিনেমার আলোচিত এই নায়িকা।

কারণ হিসেবে জানিয়েছিলেন, অনাগত সন্তানের জন্য কোনো ঝুঁকি নিতে চান না। নির্বাচনের আগেই ভারতে যেতে চান চিকিৎসার্থে।

কিন্তু কোনো কারণই ধোপে টিকল না। নির্বাচনে অংশ নিতেই হচ্ছে ঢাকাই ছবির এই আলোচিত অভিনেত্রীকে। তিনি না থাকলেও ব্যালট পেপারে তার নাম ঠিকই থাকছে।

কারণ শনিবার বেলা দুইটা পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা ছিল। এই সময়ের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন করেনি পরীমনি। বিকালে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

বিষয়টি নিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কমিশনার অভিনেতা পীরজাদা হারুন বলেছেন, এখন আর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার সুযোগ নেই। পরীমনি চাইলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নাও করতে পারেন তবে ব্যালট ব্যাপারে নাম থাকবে।

রোববার বিকালে প্রকাশিত মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীদের তালিকায় পরীমনির নাম রয়েছে।

৪৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, তাদের প্রত্যেককেই দেওয়া হয়েছে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি।

এর আগে শনিবার দুপুরে সাংবাদিকদের পরীমনি বলেছিলেন, তার অনাগত সন্তানের জন্মের আগে তিনি কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চান না। চিকিৎসক তাকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে বলেছেন। তার স্বামী রাজও চায় না পরী এ অবস্থায় নির্বাচনে অংশ নিক। তাই নির্বাচন না করাটাই তার জন্য উত্তম।

বিধি অনুযায়ী পরীমনিকে নির্বাচনে অংশ নিতেই হবে বলে জানিয়েছেন অভিনেতা সাইমন সাদিক।

তিনি বলেন, পরীমনি যখন আমাকে ফোন দিয়ে বলেন যে, তিনি অসুস্থ, তাই তাকে কলকাতা যেতে হবে চিকিৎসার জন্য। সে জন্য এ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে চান। তখনই আমি শিল্পী সমিতির নির্বাচন কমিশনারের কাছে এসে বলি; কিন্তু তখন আর সময় ছিল না প্রত্যাহার করার। তাই প্রত্যাহার হয়নি।

প্রসঙ্গত, এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে দুটি প্যানেল। একটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে থাকছেন যথাক্রমে বরেণ্য চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন ও নায়িকা নিপুণ। অন্যটিতে আছেন গত দুই মেয়াদে দায়িত্বে থাকা মিশা সওদাগর ও জায়েদ খান।

গত মঙ্গলবার রাতে ইলিয়াস কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেলে কার্যকরী সদস্য পদে প্রার্থী হিসেবে সই করেন পরীমনি।

ফ্রান্সে সুখী নন মেসিপত্নী

কোপা আমেরিকা জয়ের উৎসব শেষে অঝোরে কাঁদতে হয়েছিল লিওনেল মেসিকে। শতচেষ্টা করেও প্রিয় ক্লাব বার্সেলোনায় থাকতে পারেননি তিনি।

চোখের চলে বুক ভাসিয়ে অনেকটা আকস্মিকভাবেই প্যারিস সেইন্ট জার্মেইতে (পিএসজি) যোগ দেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার।

পিএসজিতে এখনও নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি মেসি। ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানে মাত্র একবারই গোলের দেখা পেয়েছেন তিনি।

পিএসজিতে বার্সার মেসিকে না পেয়ে অনেকেই ভাবছেন, ফ্রান্সে সুখে নেই মেসি। ফরাসি কন্ডিশনে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছেন না আর্জেন্টাইন সুপারস্টার।

এমন ভাবনাকে আরও ত্বরান্বিত করল একটি তথ্য। যখন জানা গেল, মেসির স্ত্রী ও সন্তানরাও ফ্রান্সে এখনও মানিয়ে নিতে পারেননি নিজেদের।

এল ন্যাশনাল ও ইংলিশ দৈনিক মিরর জানিয়েছে, মেসির সহধর্মিণী আন্তেনেল্লো রোকুজ্জো প্যারিসে সুখী নন। তিনি বার্সেলোনায় ফিরে যেতে চান। বিষয়টি নিয়ে নাকি ইতোমধ্যে স্বামী মেসির কাছে আবদার করেছেন।

শুধু রোকুজ্জোই নন; মেসির তিন সন্তানও মানিয়ে নিতে পারছে না প্যারিসে। বিশেষ করে মাতৃভাষা স্প্যানিশ ছেড়ে ফরাসি ভাষা শিখতে হচ্ছে তাদের। এ ভাষা বলতে এখনও অভ্যস্ত হয়ে উঠেনি তারা। তা ছাড়া বার্সেলোনার আবহাওয়াকে ও বন্ধুদের মিস করছে মেসির সন্তানরা।

প্যারিসের বৃষ্টি, বাতাস ও আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছেন না মেসির পরিবারের কেউ-ই। তাই মেসির স্ত্রী ও সন্তানরা পাকাপাকিভাবেই স্পেনে ফিরতে চান। কাতালানের রাজধানীর ক্যাসেলডিফেলে অবস্থিত মেসির বাড়িতে ফিরতে চান তারা। সেখানের প্রতিবেশীদের সংস্পর্শ পেতে চান।

এদিকে বার্সেলোনা থেকেও মেসিকে ফিরে পাওয়ার একটা আকুতি দেখা যাচ্ছে। কারণ বার্তেমেউ, লাপোর্তা, কোম্যানের কেউ-ই নেই এখনকার বার্সেলোনায়।

বার্সার নতুন কোচ হিসেবে যোগ দিয়েছেন মেসির এক সময়ের সতীর্থ জাভি হার্নান্দেজ। ক্লাবটিতে ফুটবলার হিসেবেই ফিরেছেন মেসির আরেক বন্ধু দানি আলভেজ।

মিররের দাবি, জাভি ও আলভেজ দুজনই চাইছেন মেসি যেন বার্সায় ফিরে আসেন।

যদিও মেসির বার্সেলোনায় ফেরাটা একেবারেই সহজ নয়। মেসিকে চালিয়ে নেওয়ার মতো আর্থিক সচ্ছলতাও নেই ক্লাবটির। আর তা হলেও বেশ জটিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই মেসিকে পেতে হবে কাতালানদের।

যে কারণে বিপিএলে নেই ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম

এবারের বিপিএল শুরু থেকেই কিছুটা এলোমেলো। এক বছরের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্বাচন করা হয়েছে। প্লেয়ার্স ড্রাফটের ঠিক আগের দিন ঢাকার ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা বদলে যায়। বিসিবি নিজেই ঢাকার দায়িত্ব নেয়।

এদিকে করোনার প্রভাবে বিপিএলে এখনও ডিআরএস (ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম) নিশ্চিত করতে পারেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ভালো বিদেশি আম্পায়ারও পাওয়া যায়নি এখনও। দর্শকও নেই এবার। ধারাভাষ্যকারদের ক্ষেত্রেও বেশি ‘ফোকাস’ রাখা হচ্ছে স্থানীয়দের দিকেই।

ডিআরএসের অভাবটাই বেশি পোড়াচ্ছে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের। কারণ ডিআরএস না থাকা মানে নিশ্চিতভাবেই বিতর্কের অবকাশ রেখে দেওয়া। এদিকে বিদেশি আম্পায়ার কিংবা মানসম্পন্ন বিদেশি আম্পায়ার না পাওয়া গেলে সেই পরিস্থিতি আরও নাজুক হবে, সংশয় নেই।

জানা গেছে, ডিআরএসের প্রয়োগ ও বিদেশি আম্পায়ারের জন্য আইসিসির সাহায্য চেয়েছিল বিসিবি। যদিও এখনো সমাধান মেলেনি।

ওমিক্রনের সংক্রমণের কারণে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়াতেই ডিআরএস রাখা যাচ্ছে না বলে দাবি বিপিএল গর্ভনিং কাউন্সিলের।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে রোববার বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে কথা হয় সাংবাদিকদের।

তিনি বলেন, ‘এই চ্যালেঞ্জগুলো হচ্ছে— বর্তমান পরিস্থিতির কারণে। আমি ব্যক্তিগতভাবে আইসিসির সঙ্গেও কথা বলেছি। কারণ আইসিসিরও একটা সোর্স আছে। আইসিসির বিভিন্ন ইভেন্টে যারা কাজ করেন, তাদের সঙ্গেও আমরা কথা বলেছি।’

উল্লেখ্য, ডিআরএসের সোর্স সারাবিশ্বে একটাই— হক-আই কোম্পানি। ওমিক্রনের কারণে তাদের লোকবল কম বলে জানান নিজামউদ্দিন চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখছেন প্রচুর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হচ্ছে। হক-আই আমাদের যা বলেছে— ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ম্যানপাওয়ার কাজ করছে। প্রযুক্তি আছে; কিন্তু লোকবল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে। তাদের মোট কর্মীর অর্ধেক কাজ করছেন। ফলে বণ্টন নিয়ে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। তার পরও তারা বলেছে, যেহেতু আমরা সরাসরি যোগাযোগ করছি, যদি কেউ আসতে পারে, তাদের ব্যবস্থা করা যায় কিনা। সেভাবেই যোগাযোগ রাখছি।’

আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে পর্দা উঠবে বিপিএলের অষ্টম আসরের। আসরের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ফেব্রুয়ারির ১৮।