সোমবার ,১৮ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 512

রোগীর সঙ্গে ডাক্তারের দেখা হয়নি, তবুও ফি ৮ হাজার টাকা!

রোগীর সঙ্গে চিকিৎসকের দেখাই হয়নি। শুধুমাত্র হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর বিষয়ে মোবাইল ফোনে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এ জন্যই সেবাগ্রহীতার পরিবারকে গুনতে হয়েছে ৮ হাজার টাকা। এমন অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজারের বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক তানজিন শারমিনের বিরুদ্ধে।

সূত্র জানায়, ১৪ জানুয়ারি সকাল ৭টায় কক্সবাজারের বেসরকারি জেনারেল হাসপাতালে প্রসব বেদনা নিয়ে ভর্তি হন ইশরাত জাহান সুমি (২৯)। ভর্তির ২০ মিনিট পরই চিকিৎসকের কোনো সহযোগিতা ছাড়াই ফুটফুটে সন্তানের জন্ম দেন সুমি। ভর্তির পর হাসতালের পক্ষ থেকে পরামর্শ নিতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয় প্রসূতি চিকিৎসক তানজিন শারমিনের সঙ্গে। আর এ মোবাইল ফোনে যোগাযোগের জন্যই সেবাগ্রহীতার পরিবারকে গুনতে হয়েছে ৮ হাজার টাকা!

এ বিষয়ে সেবাগ্রহীতার ভাই আবদুল আলিম বলেন, ১৪ জানুয়ারি মাত্র ৫ ঘণ্টা আমার বোন ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। সেদিন বেলা সাড়ে ১১টায় ছাড়পত্রের জন্য ক্যাশ কাউন্টারে বিল জমা দিতে গেলে ১৪ হাজার ১০০ টাকা বিল দেখে হতভম্ব হয়ে যাই।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের দেওয়া বিল-ভাউচার অনুযায়ী ভর্তি ফি ১ হাজার টাকা, ব্যবস্থাপত্রের জন্য ৫০০ টাকা, ডা. তানজিনা শারমিনের বিল ৮ হাজার ও হাসপাতাল বিল ৪ হাজার ৬০০ টাকা ধরা হয়েছে।

আব্দুল আলিম বলেন, আমার বোনের সন্তান প্রসবের সময় ওই চিকিৎসক ঢাকায় ছিলেন। তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করেছেন বলে শুনেছি। এ মোবাইল ফোনের যোগাযোগের জন্যই ৮ হাজার টাকা গুনতে হয়েছে আমাদের।

এ ঘটনার পর আব্দুল আলিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর অনেকেই জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভূতুড়ে বিলের টাকা পরিশোধের অভিযোগ তুলেছেন। বেশিরভাগ সেবাগ্রহীতাই প্রসূতি চিকিৎসক তানজিম শারমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।

একই অভিযোগ ওই হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেওয়া জান্নাতুল ফেরদৌস নামের এক সেবাগ্রহীতার। জানা যায়, গত বছরের ৩০ এপ্রিল ডেলিভারির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ টাকার একটি ভুতুড়ে বিল পরিশোধ করতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।

জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, প্রসব বেদনা উঠলে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির জন্য পরামর্শ দেন ডাক্তার তানজিনা শারমিন। পরে স্বাভাবিকভাবে বাচ্চার জন্ম হয়; কিন্তু বিল দিতে গিয়ে বাধে বিপত্তি। বিল হাতে নিয়ে দেখা যায় নরমাল ডেলিভারি করার পরেও ডাক্তার তানজিনা শারমিনের ফি ধরা হয় ১০ হাজার টাকা।

তিনি আরও বলেন, মাত্র ৮ ঘণ্টার জন্য হাসপাতাল বিল ধরা হয় সাড়ে ৪ হাজার টাকা। বিলের বিষয়ে আপত্তি জানালে কোনো ধরনের সহযোগিতা না করে পুরো বিল নিয়ে নেন কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. তানজিন শারমিন বলেন, আমার কাছে অনেক রোগীই আসেন। এসব বিষয় আমার এখন স্মরণে নেই। এ প্রসঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. সুনয়ন বড়ুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এ সময় তিনি অভিযোগ শুনেই ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কেটে দেন।

হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. জিএম কাদেরী বলেন, ডাক্তারের সুপারিশে যারা আমাদের হাসপাতালে ভর্তি হয়; তারা মূলত ওই চিকিৎসকের রোগী, আমাদের নয়। সেক্ষেত্রে ডাক্তারের ফি নেওয়ার বিষয়ে আমাদের করার কিছু নেই।

তিনি আরও বলেন, আমি চেয়ারম্যান হিসেবে সবসময় সেখানে যাই না। মাঝে মধ্যে গিয়ে হিসাব দেখি। এক্ষেত্রে যদি ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেন তবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আমি কক্সবাজারের সচেতন নাগরিক হিসেবে চাই সব চিকিৎসকের ফি সিভিল সার্জন কিংবা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে দিক। সেক্ষেত্রে আর এমন ঘটনা ঘটবে না।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মাহাবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবুও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। ভুক্তভোগী পরিবার যদি একটি অভিযোগ করেন সেক্ষেত্রে আরও কঠিনতম ব্যবস্থা নেব।

আমিরাতকে গোয়েন্দা তথ্য ও নিরাপত্তা দিতে চায় ইসরাইল

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ভয়াবহ হামলার পর দেশটিকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা এবং নিরাপত্তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইসরাইল।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর এ সংক্রান্ত একটি চিঠি মঙ্গলবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। পাকিস্তান অবজারভারের।

আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির বিমানবন্দরে গত সোমবার ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালায় হুতি বিদ্রোহীরা। এতে ২ জন পাকিস্তানি এবং একজন ভারতীয় প্রাণ হারিয়েছেন।

হুতি সমর্থিত ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন, আমিরাতে চালানো ওই বড় ধরনের হামলায় ড্রোনের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও চালানো হয়েছে।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেত এক টুইটবার্তায় আবুধাবি বিমানবন্দরে ওই হামলার নিন্দা জানিয়ে এটিকে সন্তাসী হামলা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ মো. বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানকে সোমবার একটি শোকবার্তা পাঠিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী।

এতে ইসরাইল বলেছে— আমরা আমিরাতের পাশে আছি। এ ধরনের হামলা থেকে আমিরাতের জনগণকে বাঁচাতে প্রয়োজনে আমরা গোয়েন্দা তথ্য এবং নিরাপত্তা দিয়ে সহায়তা করব।

 

ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো হোটেলে রূপান্তর করবে সৌদি!

সৌদি আরবে সারা বছর পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান।

শুধুমাত্র তেল রপ্তানির ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমানোর জন্য চেস্টা চালাচ্ছেন সালমান।তিনি চান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটকরা সৌদিতে আসুক। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে।

আর এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এবার দেশটির কিছু ঐতিহাসিক প্রাসাদকে বুটিক হোটেলে রূপান্তরিত করতে উদ্যোগ নিয়েছেন ক্রাউন প্রিন্স সালমান।

সৌদির পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড জানিয়েছে, বুটিক গ্রুপ ঐতিহাসিক প্রাসাদগুলোকে হোটেলে রূপান্তর করবে।

পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের গভর্নর ইয়াসির আল রুমায়ন এ ব্যপারে জানান, ক্রাউন প্রিন্সের গঠিত বুটিক গ্রুপ সৌদি আরবের বিশেষ স্থাপনাগুলো খুঁজে বের করে সেগুলো উন্নত করার কাজ করবে।

তিনি আরো জানান, এই স্থাপনাগুলো দেশটির অর্থনৈতিক উন্নতি ও তেল রপ্তানির বাইরে জিডিপি বাড়াতে সহায়তা করবে।
সৌদি আরব ভিশন ২০৩০ নিয়ে আগাচ্ছে। এই ভিশনের লক্ষ্যই হলো তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পর্যটন খাত থেকে আয় করা।

সূত্র: আল আরাবিয়া

নতুন ব্যাংকারদের সর্বনিম্ন বেতন ২৮ হাজার টাকা

ব্যাংক খাতে মেধাবীদের আকর্ষণ করতে এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন বেতন-ভাতা বেঁধে দিয়েছে। এখন থেকে ব্যাংকের নিচের পদগুলোতে নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষানবিশ কর্মকর্তাদের ন্যূনতম বেতন-ভাতা হবে ২৮ হাজার টাকা। শিক্ষানবিশকাল শেষ হলে প্রারম্ভিক মূল বেতনসহ ন্যূনতম মোট বেতন-ভাতা হবে ৩৯ হাজার টাকা।

 

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই সার্কুলারটি আগামী মার্চ থেকে কার্যকর হবে। এর মধ্যে ব্যাংকগুলোকে নিয়োগের ক্ষেত্রে নিজস্ব নীতিমালা পরিবর্তন করার নির্দেশ দিয়েছে।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নীতিমালা কার্যকর থাকবে। সার্কুলারে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তাদের দেওয়া নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পারলে অদক্ষতার অজুহাতে কোনো কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। এছাড়া নিচের স্তর ও ওপরের স্তরের মধ্যকার বেতন-ভাতা সমন্বয় করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এ নীতিমালা সরকারি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না।

এছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব নীতিমালা কার্যকর হবে। সার্কুলারে এই বিষয়টি পর্ষদ সভায় উপস্থাপন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এমডির নেতৃত্বে বিষয়টি পরিপালন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকগুলোতে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে একেবারে কম বেতন নির্ধারণ করা হতো। এছাড়া একই পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বেতনের হেরফের হতো।

এতে স্বজনপ্রীতি হতো। এতে ব্যাংকের নতুন কর্মীদের মনোবল নষ্ট হতো। যা ব্যাংকিং খাত বিকাশের অন্তরায় ছিল। এসব সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ব্যাংকের নিচের স্তরে কর্মকর্তা ও অন্যান্য পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন বেতন-ভাতা বেঁধে দিল। কোনো ব্যাংক এর কম দিতে পারবে না। তবে বেশি দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না।

সার্কুলারে বলা হয়, ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একনিষ্ঠতা, নৈতিকতা, মনোবল ও কর্মস্পৃহা অটুট রাখার লক্ষ্যে তাদের যথাযথ বেতন-ভাতাদি প্রদান করা আবশ্যক। কিন্তু সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে যে, কতিপয় ব্যাংকে এন্ট্রি লেভেলের কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতাদি যথাযথভাবে নির্ধারণ না করে ইচ্ছামাফিক নির্ধারণ করা হচ্ছে।

যা একই ব্যাংকের অন্যান্য উচ্চ পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের বিদ্যমান বেতন-ভাতাদির তুলনায় খুবই কম। উচ্চ এবং নিম্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদির মধ্যে এত অস্বাভাবিক পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সার্কুলারে বলা হয়, ব্যাংকের এন্ট্রি পর্যায়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্যাশ অফিসার অথবা সমপর্যায়ের কর্মকর্তা যে নামেই অভিহিত হোক না কেন, শুরুতে এসব কর্মকর্তার শিক্ষানবিশকালে ন্যূনতম বেতন-ভাতাদি হবে ২৮ হাজার টাকা। শিক্ষানবিশকাল শেষে কর্মকর্তাদের প্রারম্ভিক মূল বেতনসহ ন্যূনতম সর্বমোট বেতন-ভাতাদি হবে ৩৯ হাজার টাকা।

নতুন নির্ধারিত বেতন-ভাতাদি কার্যকর করার পর একই পদে আগে থেকে কর্মরত কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতাদি আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি করতে হবে। তাদের বেতন ভাতাদি কম হবে না। প্র্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অব্যবহিত নিম্ন পদে কর্মরত কর্মকর্তার বেতন-ভাতাদির সঙ্গে ব্যাংকে সর্বনিম্ন পদে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদির পার্থক্য যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করতে হবে।

অনুরূপভাবে অন্য সব স্তরের কর্মকর্তাদের জন্যও আনুপাতিক হারে বেতন-ভাতাদি নির্ধারণ করতে হবে। কোনো কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বেতন-ভাতাদি কোনো অবস্থাতেই বর্তমান বেতন-ভাতাদির চেয়ে কম হবে না। তবে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ইনক্রিমেন্ট দিয়ে বেতন-ভাতাদি সমন্বয় করতে হবে।

এতে আরও বলা হয়, কর্মকর্তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ বা বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কোনোক্রমেই আমানত সংগ্রহের লক্ষ্য অর্জনের শর্ত আরোপ করা যাবে না। শুধু নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করতে না পারা বা অদক্ষতার অজুহাতে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের প্রাপ্য পদোন্নতি থেকেও বঞ্চিত করা যাবে না।

একই সঙ্গে এই ধরনের অজুহাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করা যাবে না। সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণিত কোনো অভিযোগ না থাকলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করা বা পদত্যাগে বাধ্য করা যাবে না।

কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন বেতনও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে আলোচ্য সার্কুলারে। এতে বলা হয়, ব্যাংকের মেসেঞ্জার, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী, অফিস সহায়ক অথবা সমজাতীয় পদ বা সর্বনিম্ন যে কোনো পদের কর্মচারীদের ন্যূনতম প্রারম্ভিক বেতন-ভাতাদি হবে ২৪ হাজার টাকা।

চুক্তিভিত্তিক বা দৈনিক ভিত্তিতে বা আউটসোর্সিং বা অন্য কোনো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যদি কর্মচারীদের নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়, সেক্ষেত্রে স্থায়ীদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন-ভাতাদি নির্ধারণ করতে হবে। এখানেও ইচ্ছামাফিক বেতন-ভাতা নির্ধারণ করা যাবে না।

ভালো নেই গ্রামের মানুষ

শহরের তুলনায় গ্রামের মানুষের সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। নেই ভালো চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যবস্থা। অন্যান্য সেবার প্রসারও কম। ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার নজির গ্রামের মানুষেরই বেশি।

 

শহরের তুলনায় গ্রামে মূল্যস্ফীতির হার বেশি। এমন কি খাদ্য মূল্যস্ফীতির হারও বেশি। গ্রাম থেকে টাকা এনে শহরের ঋণের জোগান বাড়ানো হচ্ছে। অথচ গ্রামে ঋণ প্রবাহ কম। কিন্তু আমানতের প্রবৃদ্ধির হার বেশি।

গ্রামে কর্মোপযোগী মানুষ বেশি থাকলেও স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টির হার কম। যোগাযোগ কাঠামোতেও রয়েছে দুর্বলতা। তাদের সুযোগগুলো কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কমদামে পণ্য বিক্রিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

অথচ নিরুপায় হয়ে তার প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী বেশি দামে কিনছেন। এসব ক্ষেত্রে তারা অসহায়, তাদের কিছুই করার নেই। সব মিলে গ্রামের মানুষ ভালো নেই। যে কারণে উচ্চ শিক্ষা, ভালো চাকরি, ব্যবসা, চিকিৎসার সন্ধানে গ্রাম থেকে শহরে ছুটে আসছেন একটু সামর্থ্যবান পরিবারের সদস্যরা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যে দেখা যায়, বাংলাদেশের মোট আয়তন ১ লাখ ৪৮ হাজার বর্গ কিলোমিটার। এর মধ্যে গ্রাম বা পল্লি এলাকা ১ লাখ ৩৩ হাজার বর্গকিলোমিটার এবং শহুরে এলাকা ১৪ হাজার ৭৫৭ বর্গ কিলোমিটার।

শহরের আয়তনের চেয়ে গ্রামের আয়তন ১ লাখ ১৪ হাজার ২৪৩ বর্গকিলোমিটার বেশি। অর্থাৎ ৮ গুণ বা ৮০০ শতাংশ বেশি। শহরের চেয়ে গ্রামে জনসংখ্যাও বেশি। এ হিসাবে গ্রামের উন্নয়নই দ্রুত ও বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে এমনটা হচ্ছে না।

সেবা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন বেশি হচ্ছে শহরকেন্দ্রিক। এর সুবিধাও পাচ্ছেন শহরের মানুষ। গ্রামকেন্দ্রিক যেসব উন্নয়ন হচ্ছে সেগুলোর অনেক সুবিধা পাচ্ছেন না তারা। এতে বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রামের মানুষ।

২০১৮ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল ‘আমার গ্রাম আমার শহর’র আওতায় শহরের সব সুবিধা গ্রামে পৌঁছে দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে একাধিক প্রকল্প নেওয়া হয়। কিন্তু শহরের সব সুবিধা গ্রামে পৌঁছেনি।

আর যেগুলো পৌঁছেছে তার সেবার মানও শহরের মতো ভালো নয়। যদিও পরিকল্পনা কমিশনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার অনেকদূর এগিয়ে গেছে।

এর আওতায় উন্নত রাস্তাঘাট, যোগাযোগ অবকাঠামো, সুপেয় পানির নিশ্চয়তা, প্রতিটি গ্রামে কমিউিনিটি স্পেস ও বিনোদনের ব্যবস্থা সমন্বিত কাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়নে নির্মাণ করা হয়েছে ডিজিটাল কেন্দ্র। যেখান থেকে গ্রামের মানুষ তথ্যপ্রযুক্তির সেবা পাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হলেও শহরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা আগের চেয়ে বেশি সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ঢাকার আশপাশের উপজেলাগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ কঠিন। দীর্ঘ যানজট ও ট্রেন সার্ভিসের অপ্রতুলতাই এর কারণ।

শহরের মানুষের খাদ্যের জোগান আসে গ্রাম থেকে। অর্থাৎ গ্রামের মানুষ খাদ্য উৎপাদনের পর শহরে সরবরাহ করেন। খাদ্যের জোগানদাতা হিসাবে গ্রামের মানুষেরই বেশি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে এমনটা হচ্ছে না।

তারা বরং অবহেলিত ও বঞ্চিত। ফলে কোনো পরিবার একটু সক্ষমতা অর্জন করলেই শিক্ষার জন্য সন্তানদের শহরে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এমনকি সপরিবারে শহরে চলে আসার নজিরও আছে ভূরিভূরি। ভালো চিকিৎসার জন্য শহরের কোনো বিকল্পই নেই।

গ্রামে চাল, ডাল, শাকসবজি, মাস-মাংস উৎপাদন হচ্ছে। অর্থনীতির নিয়মে পণ্য যেখানে উৎপাদন হয় সেখানে সরবরাহ বেশি থাকে। যে কারণে দামও কম থাকে। এ কারণে গ্রামে মূল্যস্ফীতির হার কম থাকার কথা। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার আরও কম থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে উলটাটা। শহরের চেয়ে গ্রামে মূল্যস্ফীতির হার বেশি।

বিবিএসের ডিসেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, শহরের চেয়ে গ্রামে মূল্যস্ফীতির হার বাড়ছে । গ্রামে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ৬ দশমিক ২৭ শতাংশ, শহরে এ হার ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ। অর্থাৎ শহরের চেয়ে গ্রামে মূল্যস্ফীতির হার শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি।

এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার গ্রামে ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ। শহরে ৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। অর্থাৎ শহরের চেয়ে গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ১ দশমিক ৫২ শতাংশ বেশি। শহরের তুলনায় গ্রামের মানুষের আয় কম। আবার মূল্যস্ফীতিজনিত টাকা ক্ষয়ের দিক থেকে গ্রামই এগিয়ে।

এ অবস্থাকে এক ধরনের বঞ্চনা হিসাবে উল্লেখ করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, গ্রামে খাদ্যের উৎপাদন হলেও সরবরাহ সংকট রয়েছে।

উৎপাদিত খাদ্য উপকরণ কৃষক বিক্রি করে দিলে একটি গ্রুপের হাতে চলে যাচ্ছে। তারা তখন বেশি দামে বিক্রি করছে। এছাড়া শহরে নায্যমূল্যে খাদ্যসামগ্রী বিক্রি হলেও গ্রামে এমনটি হয় না। যে কারণে গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বেশি। আর খাদ্যের দাম বেশি হওয়ার কারণেই গ্রামে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার বেশি হচ্ছে।

এর সমাধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্রামে সব ধরনের খাদ্য উপকরণের সরবরাহ বাড়াতে হবে। ছোট ছোট শিল্প স্থাপনে উৎসাহিত করে টেকসই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার মানও বাড়াতে হবে। তাহলে মানুষ শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা কমবে।

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রামে খাদ্যসহ অন্যান্য উপকরণ সরবরাহের ক্ষেত্রে খরচ বেশি হচ্ছে। এ কারণে শহরের চেয়ে গ্রামে কিছু পণ্যের দাম বেশি। এতে মূল্যস্ফীতির হারে চাপ পড়ছে।

কৃষি অর্থনীতি নিয়ে কাজ করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক গবেষণা পরিচালক ড. আসাদুজ্জামান। তার এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পণ্য উৎপাদন করেও কৃষক ধরে রাখতে পারেন না।

সঙ্গে সঙ্গে তা বিক্রি করে আগের ধারদেনা শোধ করেন। ফলে উৎপাদিত পণ্য ধান-চাল চলে যাচ্ছে একটি গ্রুপের হাতে। এ ধান বা চাল যখন কৃষক তার নিজের প্রয়োজনে কেনেন তখন বেশি দামে কিনতে হয়।

শাকসবজি যেগুলো উৎপাদন হয়, তার বেশিরভাগই চলে আসে শহরে। ফলে গ্রামের হাটবাজারে এসব পণ্যের দাম একেবারে উৎপাদনস্থলে কম হলেও একটু দূরে গেলেই দাম বেড়ে যায়। শহরতলি বিশেষ করে উপজেলাগুলোতে শহর থেকে শাকসবজি জোগান দেওয়া হয়। যে কারণে গ্রামে এসব পণ্যের দাম বেশি।

এতে আরও বলা হয়, পাইকারি পর্যায়ে দাম অনেক কম থাকে। কেননা উৎপাদনের সব গ্রামের মানুষ ভোগ করতে পারেন না। বাধ্য হয়ে শহরে পাঠাতে হয়। শহরে পাঠানোর জন্য পাইকাররা সিন্ডিকেট করে দাম কমাতে ভূমিকা রাখে।

ফলে কৃষক উৎপাদিত পণ্যের নায্যমূল্য পাচ্ছে না। উৎপাদিত পণ্য কৃষকের হাতের বাইরে এলেই দাম কয়েক দফা বেড়ে যায়। অথচ কৃষক উৎপাদিত পণ্যের নায্যমূল্য পাচ্ছেন না।

সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় খামারিরা দুধের দাম না পেয়ে রাস্তায় ফেলে প্রতিবাদ করার নজিরও রয়েছে। বিক্রি করতে না পেরে গ্রামের পাইকারি বাজারে সবজি ফেলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

নরসিংদীর বৃহত্তর পাইকারি সবজির বাজার বারুইচ্যায় গ্রাম থেকে সবজি নিয়ে এসে অনেকে বিক্রি করতে পারেন না পাইকারের অভাবে। সেগুলো ফেলে যাচ্ছেন। উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সমন্বয় না থাকায় এমনটি হচ্ছে বলে মনে করেন কৃষি অর্থনীতিবিদরা।

উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দেনা শোধ করতে ফসল ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কৃষককে তা বিক্রি করতে হয়। যে কারণে কৃষক যখন আবার চাহিদা অনুযায়ী তারই উৎপাদিত পণ্য কিনতে যান তখন বাড়তি দাম দিতে হয়।

এতে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যায়। ফসল উৎপাদন করে পণ্যের বিপণন ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে গ্রামের মানুষ কম দামে পণ্য পান না। একই কারণে শহরে প্রতি লিটার ডিজেল সরকারি নির্ধারিত মূল্য ৮০ টাকা করে বিক্রি হলেও গ্রামে বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা বেশি দামে ১০০ টাকা লিটার। এভাবে অনেক পণ্য গ্রামে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

এছাড়া শহর থেকেও গ্রামে অনেক পণ্যের জোগান বেশি। সেগুলো শহরের চেয়ে গ্রামে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানী থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে কালীগঞ্জ উপজেলা সদর। এখানে ব্রয়লার মুরগি, ডিম, সবজি, মাছ এগুলোর বড় চালান যাচ্ছে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে। পণ্যের পরিবহণ ও অন্যান্য খরচ বাবদ এর দাম বেড়ে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, গ্রামের মানুষ সব সময়ই একটু পিছিয়ে থাকেন।

বিশ্বব্যাপীই এ চিত্র। এজন্য শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য গ্রাম থেকে শহরে আসেন মানুষ। যে কারণে শহরের পরিধি বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, কৃষকের জন্য আরও অনেক কিছু করার আছে। সে ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে।

সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে খানার আয়-ব্যয়ের জরিপের ভিত্তিতে দারিদ্র্যের একটি নতুন মানচিত্র করা হয়। ২০২০ সালের নভেম্বরে এর কাজ শেষ হয়েছে। সে অনুযায়ী উন্নয়ন কম হয়েছে এমন বিভাগগুলোতে দারিদ্র্যের হার বেশি।

এর মধ্যে মোট দারিদ্র্যের সবচেয়ে বেশি রংপুর বিভাগে। এ বিভাগে দারিদ্র্যের হার ৪৭ দশমিক ২৩ শতাংশ। অর্থাৎ মোট দারিদ্র্যের প্রায় অর্ধেক। ময়মনসিংহে ৩২ দশমিক ৭৭ শতাংশ, রাজশাহীতে ২৮ দশমিক ৯৩, খুলনায় ২৭ দশমিক ৪৮ এবং বরিশালে ২৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্য।

চট্টগ্রাম, সিলেট ও ঢাকা এ তিন বিভাগের প্রতিটিতে এ হার গড়ে ২০ শতাংশের নিচে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, শহরের চেয়ে গ্রামে দারিদ্র্যের হার বেশি। অতি দারিদ্র্যের হার গ্রামে আরও বেশি।

দেশের মোট দারিদ্র্যের ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ শহরে এবং গ্রামে ২৬ দশমিক ৪ শতাংশের বাস। তবে আশার কথা হচ্ছে, শহরের চেয়ে গ্রামে দারিদ্র্য বেশি হারে কমছে। গ্রামে কমছে ৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং শহরে কমছে ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, গ্রামে দারিদ্র্য কমাতে হলে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে।

এজন্য কৃষিভিত্তিক শিল্পে গুরুত্ব দিতে হবে বেশি। যেখানে যে শিল্পের কাঁচামাল পাওয়া সে শিল্প স্থাপনে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে হবে। গত বছরের আগস্টের জরিপ (বিবিএসর) অনুযায়ী শহরের চেয়ে গ্রামের মানুষের নানা ধরনের জটিল রোগে বেশি আক্রান্ত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

এর মধ্যে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় ভোগেন গ্রামের ৯ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ, শহরে এ হার ৮ শতাংশ। উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন গ্রামের ৩ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ, শহরে এ হার ২ দশমিক ৭ শতাংশ। ক্যানসারের মতো মরণব্যাধিগুলোও গ্রামে হচ্ছে বেশি।

এর মধ্যে লিভার ক্যানসার ও ব্লাড ক্যানসার শহরের চেয়ে গ্রামে বেশি। গ্রামের ৩ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন। শহরে এ হার ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। ব্লাড ক্যানসারে ভোগেন গ্রামের ২ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ। শহরে এ হার ২ দশমিক ১ শতাংশ। প্যারালাইসিস ও সাধারণ জ্বরও শহরের চেয়ে গ্রামে বেশি হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, এটি নতুন তথ্য। এ বিষয়ে গবেষণা দরকার। এটি হতে পারে গ্রামে আর্সেনিকের প্রভাব বেশি। এছাড়া রান্নার ধোঁয়া, ধানের নাড়ার আগুন এগুলো ক্যানসার ও শ্বাসযন্ত্রের রোগ বাড়াতে পারে। তবে এই তথ্যের আলোকে জরুরিভিত্তিতে গবেষণা দরকার। কারণ গ্রামের মানুষ এসব রোগে বেশি আক্রান্ত হওয়ার কথা নয়।

বিবিএসের গত বছরের আগস্টে প্রকাশিত জরিপ অনুযায়ী গ্রামে পাকা ও আধা পাকা ঘর ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ, অন্যান্য ৬৬ দশমিক ৭ শতাংশ। বিদ্যুৎ ব্যবহারেও শহরের চেয়ে গ্রামের মানুষ পিছিয়ে।

২০২০ সালের তথ্যানুযায়ী গ্রামের ৯৪ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। শহরের বিদ্যুৎ ব্যবহারের হার ৯৭ দশমিক ৮ শতাংশ।

২০১৬ সালে গ্রামের ৬৫ দশমিক ৯ শতাংশ বাড়িতে স্যানিটারি টয়লেট ব্যবহৃত হতো। ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ দশমিক ৫ শতাংশ। একই সময়ে শহরে ৮৬ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯১ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে পর্যন্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, মোট আমানতের ৭৮ শতাংশ শহরের, ২২ শতাংশ গ্রামের। এর বিপরীতে মোট ঋণের ৯০ শতাংশ দেওয়া হয় শহরে, গ্রামে ১০ শতাংশ।

গত বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরে শহরে আমানত বেড়েছে ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ, একই সময়ে গ্রামে বেড়েছে ২ দশমিক ৪৮ শতাংশ। শহরের চেয়ে গ্রামে আমনতের জোগান বাড়ছে। অথচ ঋণের জোগান কম।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, গ্রামে ব্যবসা-বাণিজ্য কম বলে ঋণের চাহিদাও কম। হাটবাজার, শিল্প এলাকাগুলোকে অর্থনৈতিক পাওয়ার হাউজ হিসাবে গড়ে তুললে ছোট ছোট ঋণের চাহিদা বাড়বে।

এতে গ্রামের উন্নয়ন হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়-ব্যাংকের শাখার ৫১ শতাংশ শহরে, গ্রামে ৪৯ শতাংশ। সরকারি ব্যাংকের ১৬ শতাংশ শহরে, গ্রামে ১৯ শতাংশ শাখা। সেরকারি ব্যাংকের ৩১ শতাংশ শহরে, গ্রামে ১৮ শতাংশ।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের বিকাশ হচ্ছে গ্রামে। মোট এজেন্টের মধ্যে ১৪ শতাংশ শহরে, ৮৬ শতাংশ গ্রামে। হিসাবধারীদের মধ্যে ১৪ শতাংশ শহরে ও গ্রামে ৮৬ শতাংশ। ফলে গ্রামে ব্যাংকিং সেবার প্রসার ঘটছে।

বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মোট শ্রম শক্তির ৪০ দশমিক ৬ শতাংশই কৃষিতে জড়িত। কৃষির প্রায় পুরোটাই গ্রামে। সেবা ও শিল্প খাতের একটি অংশও গ্রামে রয়েছে। ফলে শ্রমশক্তির বড় অংশই গ্রামে।

শহরের মানুষের মাসিক গড় আয় ২২ হাজার ৬০০ টাকা, গ্রামের মানুষের ১৩ হাজার ৩৯৮ টাকা। শহরের মানুষের চেয়ে গ্রামের মানুষের আয় ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ কম। মাসিক গড় ব্যয় গ্রামের মানুষের ১৪ হাজার ১৫৬ টাকা এবং শহরের মানুষের ১৯ হাজার ৬৯৭ টাকা।

এ হিসাবে গ্রামের মানুষের ব্যয় কম ২৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। বিশ্লেষণে দেখা যায়, গ্রামের মানুষের আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি। ফলে তারা ঋণগ্রস্ত থাকেন। শহরের মানুষের যেমন আয়ও বেশি, তেমনি ব্যয়ও বেশি। কিন্তু শহরের মানুষের গড়ে আয়ের তুলনায় ব্যয় কম। ফলে তারা সঞ্চয়ী হন।

বিপিএলে প্রথম চারদিনে কোন দল খেলবে কার বিপক্ষে

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে পর্দা উঠছে ৬ ফ্র্যাঞ্চাইজির টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)।

করোনার ঊর্ধ্বগতির কারণে এবারও দর্শকবিহীন স্টেডিয়ামে চলবে এ টুর্নামেন্ট।

এবারের টুর্নামেন্টে ছয় দলের মধ্যে খুলনা ও কুমিল্লা শক্তিশালী বলে মনে করা হচ্ছে। তবে চমকে দিতে পারে চট্টগ্রাম। এদিকে বরিশালকে ভরসা দিচ্ছেন সাকিব। অন্যদিকে বিদেশিদের নিয়ে ভারসাম্য ধরে রেখেছে সিলেট।

একনজরে জেনে নিই বিপিএলে ৪ দিনের প্রথম চারদিনের সূচি:

২১ জানুয়ারি : চট্টগ্রাম ও বরিশাল

খুলনা ও ঢাকা

২২ জানুয়ারি : কুমিল্লা ও সিলেট

চট্টগ্রাম ও ঢাকা

২৪ জানুয়ারি : বরিশাল ও ঢাকা

চট্টগ্রাম ও খুলনা

২৫ জানুয়ারি : সিলেট ও ঢাকা

কুমিল্লা ও বরিশাল

সব ম্যাচ ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন প্রথম ম্যাচ বেলা ১২টা ৩০ ও দ্বিতীয় ম্যাচ সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে। শুক্রবার প্রথম ম্যাচ বেলা ১টা ৩০ ও দ্বিতীয় ম্যাচ ৬টা ৩০ মিনিটে।

ফখরুলের বাসার সবাই করোনা থেকে মুক্ত

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তার বাসার সবাই করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত হয়েছেন।

শুক্রবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি যুগান্তরকে বলেন, বৃহস্পতিবার মির্জা ফখরুল ও তার পরিবারের সবার করোনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে।

জানা গেছে, মির্জা ফখরুলের শারীরিক অবস্থা কিছুটা দুর্বল। এ কারণে চিকিৎসকরা তাকে কিছু দিন বিশ্রামে থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন।

১১ জানুয়ারি করোনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পজিটিভ আসে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগমের। এর পর তার বাসায় অবস্থানরত কন্যা, ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রী এবং কাজের লোকসহ সবাই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন।

র‌্যাবের প্রতি অবিচার হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

র‌্যাব যারা তৈরি করেছে তারাই এখন সমালোচনা করছে। দুষ্কৃতকারীরা যদি আক্রমণ করে তবে পুলিশ আত্মরক্ষায় ব্যবস্থা নেবে। বিশ্বের সব দেশেই এনকাউন্টার (বন্দুকযুদ্ধ) হয়।

 

বৃহস্পতিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পৃথিবীতে এমন কোনো দেশ নেই যেখানে পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের এনকাউন্টার হয় না।

যখন সন্ত্রাসীরা অস্ত্র তুলে কথা বলে, তখনই এ সমস্ত ফায়ারিং-এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটে। এগুলোর সবই যদি র‌্যাবের ঘাড়ে দিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে আমি মনে করি এটা অবিচার হচ্ছে।

র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন থেকে র‌্যাবকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে মন্ত্রী বলেন, র‌্যাব যে ভালো কাজ করছে সেগুলো তাদের চোখে পড়ে না।

র‌্যাব জঙ্গি দমন করছে, মাদক কারবারিদের ধরছে, সীমান্তে অপরাধ দমনেও কাজ করছে। সুন্দরবনকে আমরা দস্যুমুক্ত করেছি। ৯৯৯ সেবা দিচ্ছি। এতে নাগরিকরা উপকৃত হচ্ছেন।

র‌্যাবের সৃষ্টি রাজনৈতিক কারণে হয়েছিল কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সে বিচারের ভার আপনাদের ওপর ছেড়ে দিলাম। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু পুলিশ বাহিনীকে যেখানে দেখতে চেয়েছিলেন, আমরা এ বাহিনীকে সেই মর্যাদায় নিয়ে যেতে পেরেছি।

তারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি সব সময় বলে আসছি, যদি পেছনের দিকে তাকান, র‌্যাব কখন তৈরি হয়েছিল… যারা র‌্যাব তৈরি করেছিল তারাই এখন র‌্যাবকে অপছন্দ করছে, নানা ধরনের অপপ্রচার করছে।

তিনি বলেন, র‌্যাব যে ভালো কাজ করছে সেগুলো তারা তুলে ধরছে না। র‌্যাব যে মাদকের বিরুদ্ধে, ভেজাল দ্রব্য নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করছে, সুন্দরবন দস্যুমুক্ত করল, চরমপন্থিদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাচ্ছে, তারা সব সময় জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনের জন্য কাজ করছে-সেসব কথা তারা কখনো তুলে ধরে না। তারা নানা ধরনের মানবাধিকারের কথা বলে।

প্রায় দুই মাস আগে হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ (এইচআরডব্লিউ) ১২টি মানবাধিকার সংস্থা জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যাঁ পিয়েরে ল্যাকরোইক্সকে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে র‌্যাবকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

চিঠিটি বৃহস্পতিবার হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ওয়েবসাইটে চিঠির কথা প্রকাশ করা হয়। এর আগে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে র‌্যাবের সাবেক-বর্তমান ৭ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশটি।

এদিকে জেলা প্রশাসকদের তরফ থেকে জুয়া আইনে শাস্তি বাড়ানোর আবেদন জানানো হয়। এ প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আইনটি ব্রিটিশ আমলে করা। কবে, কোথায়, কে করেছিল জানি না। তবে এ আইনে শাস্তি বাড়াতে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বয় করছে। এটা হালনাগাদ করতে বলেছি।

লাগামহীন ছোলা ডাল ও তেলের দাম

প্রতিবছরের মতো এবারও রমজান ঘিরে একাধিক সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কারসাজি করে তারা রোজা শুরুর দুই মাস আগেই পরিকল্পিতভাবে পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে।

 

বৃহস্পতিবার রাজধানীর খুচরা বাজারের পণ্যের দাম বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গেল দুই সপ্তাহে রোজায় অতিব্যবহৃত পণ্য-ছোলা, মসুর ডাল, মুগডাল ও ভোজ্যতেলের দাম দ্বিতীয় দফায় বাড়ানো হয়েছে। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে ভোজ্যতেলের দাম না বাড়াতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

ফলে রোজা শুরুর আগেই পণ্য কিনতে ভোক্তাদের রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠছে। তবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার যুগান্তরকে জানান, ইতোমধ্যে বাজার তদারকি শুরু হয়েছে। অনিয়ম পেলে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েক বছর ধরে রোজা শুরুর দুই মাস আগেই অসাধুরা ভোক্তার পকেট কাটা শুরু করে। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় বাজার নিয়ন্ত্রণে তদারকি কার্যক্রম জোরদার করলে অসাধুরা পণ্যের দাম কিছুটা কমায়। তবে কারসাজি করে যে টাকা বাড়ানো হয়, এর চার ভাগের এক ভাগ কমানো হয়। এতে সরকার ক্রেডিট নিলেও এই বাড়ানো-কমানো খেলায় অসাধুরাই জয়ী হয়। তাই এখন থেকেই বাজার তদারকি করে দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। পাশাপাশি অনিয়মের সঙ্গে যুক্তদের চিহ্নিত হরে আইনের আওতায় আনতে হবে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজার মূল্য তালিকায় এসব পণ্যের দাম বাড়ার চিত্র দেখা গেছে। টিসিবি বলছে, রাজধানীর খুচরা বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিকেজি ছোলার দাম বেড়েছে ৫ টাকা। মুগডাল ও মসুর ডাল কেজিপ্রতি ৫ টাকা বেড়েছে। এছাড়া ভোজ্যতেলের মধ্যে খোলা সয়াবিন প্রতিলিটারে ৩-৫ টাকা বেড়েছে। পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। সঙ্গে খোলা পাম অয়েল লিটারে ২ টাকা বেড়েছে।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে নিষেধ করলেও এই নির্দেশ তারা মানছে না। ব্যবসায়ীদের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের পর প্রথমবার ৬ জানুয়ারির বৈঠকে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে না বলে সিদ্ধান্ত দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তারপরও সে সময় রাজধানীর খুচরা বাজারে একদিনের ব্যবধানে লিটারে ২ থেকে ৫ টাকা বাড়তি দরে ভোজ্যতেল বিক্রি হয়েছে। সর্বশেষ বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, আগামী ১৫ দিনে তেলের দাম বাড়ানো যাবে না। কিন্তু একদিনের ব্যবধানে বৃহস্পতিবার লিটারে সর্বোচ্চ ৫ টাকা বেড়েছে ভোজ্যতেলে। ফলে ক্রেতাকে বাড়তি দরেই তেল কিনতে হচ্ছে।

রাজধানীর খুচরা বাজারে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার প্রতিলিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ১৪৫-১৪৮ টাকা। যা সাত দিন আগে ১৪০-১৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন এক সপ্তাহ আগে সর্বনিু ৭০০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন ৭১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর সর্বোচ্চ বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা।

বৃস্পতিবার রাজধানীর খুচরা বাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোজা যত ঘনিয়ে আসছে অসাধুরা ছোলার দাম বাড়াচ্ছে। ১০ জানুয়ারি প্রথম দফায় কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে খুচরা বাজারে প্রতিকেজি ছোলা ৭৫ টাকায় বিক্রি হয়। এরপর বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় পণ্যটির দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে খুচরা বাজারে প্রতিকেজি ছোলা এখন ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার প্রতিকেজি মুগডাল বিক্রি হয়েছে ১২০-১৪০ টাকা। যা সাত দিন আগে ১১৫-১৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মসুর ডালের মধ্যে প্রতিকেজি মাঝারি আকারের দানা বিক্রি হয়েছে ১০৫-১১০ টাকায়, যা সাত দিন আগে ছিল ১০০-১০৫ টাকা। বড় দানার প্রতিকেজি মসুর ডাল ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগে ৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ছোট দানার মসুর ডাল প্রতিকেজি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগে ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

রাজধানীর নয়াবাজারে পণ্য কিনতে আসা মো. শামীম যুগান্তরকে বলেন, করোনা পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে। এর মধ্যে চাল থেকে শুরু করে বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে লক্ষ করছি অসাধু বিক্রেতারা রোজা শুরুর দুই থেকে তিন মাস আগ থেকেই পণ্যের দাম বাড়াতে থাকে। এবারও সেটাই করছে। যারা বাজার তদারকির সঙ্গে যুক্ত, তারা এখনো নির্বিকার। কিছুই করছে না। তারা ভালোভাবে তদারকি করলে প্রতিবছর ক্রেতাদের এমন ভোগান্তিতে পড়তে হয় না।

এ বিষয়ে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান যুগান্তরকে বলেন, বরাবর দেখা গেছে ব্যবসায়ীরা রমজান আসার আগেই পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। এ কারণে মনিটরিংও আগেভাগেই করতে হবে। কঠোর তদারকির মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার যুগান্তরকে বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ও অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দিকনির্দেশনায় রমজান উপলক্ষ্যে বাজার তদারকি শুরু হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে কোন পণ্য কী দামে কেনা ও বিক্রি কত, তা ইতোমধ্যে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, এবার রমজান ঘিরে কারসাজি করলে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। দরকার হলে প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দেওয়া হবে। এছাড়া জরিমানাসহ জেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

ইতালিতে স্পন্সরে শ্রমিক নেওয়ার গেজেট প্রকাশ

ইতালিতে ৬৯ হাজার ৭০০ শ্রমিক নেওয়ার গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। ১৭ জানুয়ারী অফিসিয়াল গেজেট প্রকাশ করা হয়।

এর আগে ১২ জানুয়ারি সকাল নয়টা থেকে আবেদন জমা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে ভিন্ন ভিন্ন সেক্টরে ভিন্ন তারিখে আবেদন জমা নেওয়া হবে। এরমধ্যে ২৭ জানুয়ারি নন সিজনাল এবং ১ ফেব্রুয়ারিতে সিজনাল। এভাবে একটানা ১৭ মার্চ পর্যন্ত আবেদন জমা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে দুটি ক্যাটাগরি রয়েছে নন-সিজনাল ভিসায় যারা আসবে তারা দুই বছরের ষ্টে-পারমিট পাবে আর যারা সিজনাল ভিসায় আসবে তারা নয় মাসের বৈধতা পাবে।

জানা গেছে, এবছর ২০২২ সাধারন স্পন্সর বাংলাদেশিদের জন্য আবেদন করা অনেক কঠিন হবে। এর অন্যতম কারন হলো- যেসব ক্ষেত্রে নন সিজনাল স্পন্সর দিয়েছে এসব সেক্টরে বাংলাদেশি তেমন কোন মালিকানা নেই। যেমন কনস্ট্রাকশন,ভারী পরিবহন,পর্যটন এবং বড় হোটেল ব্যবসায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা তেমন একটা আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি।

ফলে নন সিজনাল স্পন্সরে আসা কঠিন হয়ে পড়বে। এ সেক্টরে ২৭ হাজার ৭০০ শ্রমিক আসতে পারবে বিভিন্ন দেশ থেকে, এরমধ্যে,১৭ হাজার নির্দিষ্টভাবে আলবেনিয়া,আলজেরিয়া,বাংলাদেশ,বসনিয়া-হার্জেগোভিনা,কোরিয়া (রিপাবলিকা ডি কোরিয়া), কোস্টা ডি আভোরিও,এগিট্টো,এল সালভাদর, ইটিওপিয়া, ফিলিপাইন,গাম্বিয়া, ঘানা, জিয়াপ্পোন, গুয়াতেমালা, ভারত, কসোভো, মালি, মারোক্কো, মরিশাস,মোল্দোভা,মন্টিনিগ্রো,নাইজার,নাইজেরিয়া,পাকিস্তান,রিপাবলিকা ডি ম্যাসেডোনিয়া দেলনর্ড, সেনেগাল,সার্বিয়া,শ্রীলংকা,সুদান,তিউনিসিয়া, ইউক্রেইনা রয়েছে।

অন্যদিকে সিজনাল ভিসায় ৩১ দেশ থেকে ৪২ হাজার শ্রমিক আসতে পারবে বাংলাদেশসহ। এ সেক্টরে বেশ সুযোগ রয়েছে। তবে ২০২০ সালের সিজনাল ভিসা এখনও তেমন একটা বের হতে দেখা যায়নি। সেক্ষেত্রে এবছর জমা দেবার পর কতটা স্পন্সর বের হবে এ নিয়ে আশংকা রয়েছে বিভিন্ন মহলে।

এব্যাপারে আইন পরামর্শক ও জাসদের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনিচুজ্জামান আনিস বলেন, ইতালিতে ২৭ জানুয়ারী ঘোষিত নন সিজনাল (স্পন্সর) ভিসার আবেদন গত বছরগুলোর ন্যায় উম্মুক্ত নয়। এবার এখানে শুধুমাত্র তিন ক্যাটাগরিতে জমা দিতে পারবে। কনস্ট্রাকশন,ভারী যানবাহনের চালক, বড় আবাসিক হোটেল ও পর্যটনে ক্ষেত্রে লোক আবেদন করতে পারবে।

এখানে উল্লেখিত ক্যাটাগরির মালিকদের সাথে বাংলাদেশি প্রবাসিদের তেমন সম্পর্ক নেই বললেই চলে। সে কারনে স্পন্সরে আবেদন করা অনেকটা কঠিন হয়ে পড়েছে। সেক্ষেত্রে কৃষিকাজের সিজিওনাল ভিসার আবেদন করা অনেকটা সহজ। ভালো মালিক পেলে ৪/৫ মাসের ভিতর নুল্লাঅস্তা(ভিসা) পাওয়া সম্ভব।