সোমবার ,১৮ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 511

ত্বক ও চুলের যত্নে হলুদের ৬ ব্যবহার

হলুদের উপকারের কথা বলে শেষ করা যাবে না। রান্নায় প্রাকৃতিক এই উপাদান ছাড়া চলেই না। আবার ত্বক ও চুলের যত্নেও হলুদের ব্যবহার অনন্য।

যুগ যুগ ধরেই আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাশাস্ত্রে ব্যবহার হয়ে আসছে হলুদ। বর্তমানে রূপচর্চার অন্যতম উপাদান হিসেবেও ব্যবহার করা হয় হলুদ।

১. ত্বক উজ্জ্বল করে
ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা পেতে হলুদ অনেক উপকারী। আমরা অনেক আগে থেকেই দেখে আসছি, বিয়ের আগে গায়েহলুদের একটি অনুষ্ঠান করা হয়ে থাকে। আর এটি করা হয়ে থাকে হলুদের উপকারী দিকের কারণেই।

হলুদে থাকা কারকিউমিন নামক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রদাহবিরোধী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ত্বককে উজ্জ্বল করে, ত্বকের রঙ উন্নত এবং নিস্তেজ চেহারাকে পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়তা করে।

২. ডার্ক সার্কেল কমায়
অনেকেরই চোখের নিচে কালো দাগ হয়ে যায়, যাকে আমরা ডার্ক সার্কেল বলে থাকি। হলুদ ডার্ক সার্কেল দূর করতে অনেক কার্যকরী হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার লসঅ্যাঞ্জেলেসে কোর্টনি চিউসানো স্কিনকেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা কোর্টনি চিউসানো এ বিষয়ে বলেন, হলুদ একটি প্রমাণিত প্রদাহবিরোধী ও লাইটেনিং এজেন্ট। তাই এটি ধরনের উদ্বেগ দূর করে ডার্ক সার্কেল দূর করতে কার্যকরী।

৩. ব্রণের বিরুদ্ধে লড়ে
ব্রণের সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াই করতে অনেক কার্যকরী হলুদ। এ ছাড়া এটি আপনার স্কিন টোনার হিসেবেও কাজ করতে পারে। আর ব্রণের দাগ কমাতে হলুদ ও মধু মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে ২০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিলে উপকার পাওয়া যায়।

চিউসানো আরও বলেন, হলুদ ব্যাক্টেরিয়াকে ছড়ানো থেকে বিরত রাখার মাধ্যমে ব্রণের উপকার করে। এটি কেবল একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক ছাড়াও এটি প্রদাহবিরোধী, যা দাগের লালভাব ও ফোলাভাব দূর করে।

৪. বার্ধক্যের ছাপ দূর করে
হলুদে এমন উপাদান রয়েছে, যা চেহারায় বার্ধক্যের ছাপ দূর করে। এ ছাড়া এটি সূর্যের ক্ষতিকারক ঝুঁকি থেকেও রক্ষা করে। এর জন্য নিয়মিত এক চামচ হলুদ ও এক চামচ মধু মিশিয়ে নিয়ে ১০ মিনিট ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। এর পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিলেই পাবেন উপকার।

৫. খুশকি দূর করে
চুলের খুশকি দূর করতে এবং মাথার ত্বকের বিভিন্ন চুলকানি সমস্যা দূর করতে উপকারী হলুদ। এতে থাকা অ্যান্টিসেপটিক এবং প্রদাহবিরোধী গুণগুলো খুশকি দূর করতে এবং মাথার ত্বকের সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে সহায়তা করে।
এর জন্য আধাচামচ হলুদের গুঁড়ার সঙ্গে ৪ চামচ নারিকেল তেল মিশিয়ে শুকনো চুলে মেখে রেখে দিতে হবে ৩০ মিনিট। পরে শ্যাম্পু করে নিলেই মিলবে উপকার। সপ্তাহে একদিন করতে হবে এটি।

৬. চুলের বৃদ্ধিতে
হলুদ যেমন ত্বকের ক্ষত মেরামতে সহায়তা করে, তেমনিভাবে এটি চুলের ক্ষত মেরামত করে চুল বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে। প্রাকৃতিক চুলের বিশেষজ্ঞ এবং প্রত্যয়িত ট্রাইকোলজিস্ট টিফানি অ্যান্ডারসন বলেছেন, মাথার ত্বকের সংক্রমণ এবং খুশকি থেকে হওয়া চুল পড়ার সমস্যা রোধ করার ক্ষমতা রয়েছে হলুদে।
এর জন্য অলিভ অয়েল ও হলুদ মিশিয়ে নিয়ে মাথায় মেখে রেখে দিন ১৫ মিনিট। এর পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেললেই মিলবে উপকার।

তথ্যসূত্র: দি হেলদি ডটকম

যে ৭ জুসে মিলবে উজ্জ্বল ত্বক

খাবারের প্রভাব সম্পূর্ণটাই আমাদের শরীরের ওপরে পড়ে। আর সেই প্রভাব প্রকাশ পায় শরীরের অভ্যন্তরে ও বাইরেও। তাই সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর চেহারা পেতে বিভিন্ন খাবারকেই চিকিৎসা হিসেবে বেছে নেওয়ার জুড়ি নেই।

স্বাভাবিকভাবেই আমাদের নিয়মিত খাবারের তালিকায় প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদান হিসেবে ফল ও সবজি রাখা উচিত। আর পুষ্টি পাওয়ার সবচেয়ে সহজ ও সর্বোত্তম উপায় হচ্ছে জুস বানিয়ে পান করা।

আমরা সবাই চাই উজ্জ্বল ত্বক পেতে। এর জন্য বিভিন্ন পণ্যও ব্যবহার করে থাকেন অনেকেই। কিন্তু এসব পণ্যের নানান ক্ষতিকারক দিক বিবেচনা করেন কি? সেটি না করে থাকলে আপনার বেছে নেওয়া উচিত প্রকৃতিক উপায় যার কোনো ক্ষতিকারক দিক নেই। আর সেটি যদি সুস্বাদু হয়, তা হলে তো কথাই নেই।

তাই আজ জানুন এমন কিছু সুস্বাদু জুস সম্পর্কে যেগুলো খেলে মিলবে উজ্জ্বল ত্বক—

১. বিটরুট জুস
ত্বক ও স্বস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী একটি সবজি হচ্ছে বিটরুট। এটি ত্বক উজ্জ্বল করে এবং ত্বকের দাগ দূর করে। এ ছাড়া বিটরুটের জুসে ভিটামিন এ, সি, কে, ফলিক অ্যাসিড, ম্যাগনেসিয়াম, তামা, জিংকের মতো উপাদানের পাশাপাশি এতে প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আর বিটরুটে থাকা আয়রন ও পটাশিয়াম উপাদান রক্তকে বিশুদ্ধ করে ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।

২. গাজরের জুস
গাজরে থাকা ভিটামিন এ আমাদের চোখের জন্য উপকারী হওয়ার পাশাপাশি এটি ব্রণ ও সূর্যের ক্ষতি থেকেও রক্ষা করে। এ ছাড়া গাজরে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বক উজ্জ্বল করার পাশাপাশি শরীরের ফ্রি র‌্যাডিকেলের বিরুদ্ধে লড়াই করে বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়।

৩. টমেটো জুস
ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে ও উজ্জ্বল করতে অনেক উপকারী টমেটোর জুস। এতে থাকা ভিটামিন সি, এ এবং লাইকোপেন নামের উপাদান ত্বকের জারণ সুরক্ষা প্রদান করে। এ কারণে এটি ত্বককে উজ্জ্বল করার পাশাপাশি বিবর্ণতা, দাগ ও ব্রণ কমায়।

৪. কমলার জুস
কমলার রস আপনার ত্বকের শুষ্কতা, ঝলসানো ভাব এবং ফাটা ভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে। আর এতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড ইলাস্টিন এবং কোলাজেন গঠনে সহায়তা করে ত্বককে উজ্জ্বল রাখে ও অকাল বার্ধক্য নিয়ন্ত্রণ করে।

৫. অ্যালোভেরা জুস
ত্বকের জন্য উপকারী উপাদানের মধ্যে অন্যতম পরিচিত একটি উপাদান হচ্ছে অ্যালোভেরা। অ্যালোভেরার রসে থাকা খনিজ এবং পুষ্টি উপাদান আপনার ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে পারে। এ ছাড়া এতে থাকা গিবেরেলিন এবং অক্সিন নামক হরমোন আপনার ত্বককে সুস্থ করতে সহায়তা করে।

৬. শসার জুস
শসার রস আপনার ত্বককে হাইড্রেট ও পুষ্ট রাখার পাশাপাশি ত্বক থেকে টকসিন বের করে দেয়। আর এতে থাকা সিলিকা আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে প্রাকৃতিক রঙ বাড়িয়ে তুলতেও অনেক কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

৭. ডালিমের জুস
ডালিমের রস ভিটামিন সি ও কে সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি ত্বকের কোষ ভালো রাখতে এবং বার্ধক্য প্রক্রিয়া ধীর করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এতে রক্ত পরিশোধক বৈশিষ্ট্য থাকার কারণে এটি আপনার ত্বককে একটি প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা প্রদান করতে পারে। পাশাপাশি এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং পিউনিকিক অ্যাসিড আপনার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং ত্বককে হাইড্রেটেড রাখে।

তথ্যসূত্র: ফাস্টক্রাই প্যারেন্টিং ডটকম

বারবার প্রস্রাবের চাপ হয় কেন?

শরীরের বর্জ্য কিডনি ও মূত্রতন্ত্রের মাধ্যমে বেরিয়ে আসে। এই কার্যটিতে ব্যাঘাত ঘটলে জীবন বিষিয়ে যায়। প্রস্রাবে সমস্যা দেখা দিলে নিদারুণ যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়।

একজন স্বাভাবিক মানুষ দিনে ৪-৫ বার প্রস্রাব করে থাকেন। কারও কারও আবার ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হয়।

বারবার প্রস্রাবের চাপ হওয়ার কারণ নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ইউরোলোজির অধ্যাপক ডা. সোহরাব হোসেন সৌরভ।

শরীরে পানি ও লবণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কিডনি ও মূত্রতন্ত্র বিশেষ অবদান রাখে। বর্জ্য নিঃসরণে মূত্রতন্ত্রের অপর্যাপ্ত ক্ষমতা বা অক্ষমতায় এসব বর্জ্য শরীরে জমা হয়ে আমাদের শরীরের সুস্থ আবহকে বিঘ্নিত করে।

একজন মানুষ ২৪ ঘণ্টায় সাধারণত ২ দশমিক ৫ থেকে তিন লিটার পানি বা পানীয় পান করে থাকেন। কিডনির কাজ করার ক্ষমতা স্বাভাবিক থাকলে, পারিপার্শ্বিক আবহাওয়ার খুব বড় তারতম্য না হলে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৫০০ সিসি প্রস্রাব কিডনি তৈরি করে থাকে।

আমাদের শরীর থেকে কিছু পানি ঘাম আকারে, কিছু পানি শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে, কিছু পানি মলের সঙ্গে বের হয়ে যায়। যেহেতু আমাদের প্রস্রাবের থলির স্বাভাবিক ধারণক্ষমতা ৩০০ সিসি, তাই স্বাভাবিকভাবে একজন মানুষ ২৪ ঘণ্টায় পাঁচবার প্রস্রাব করে থাকে। সাধারণত দিনে চারবার আর রাতে একবার।

তবে নানাবিধ স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক কারণে বারবার প্রস্রাবের প্রবণতা দেখা দিতে পারে, আবার কমেও যেতে পারে। যদি আমরা অতিরিক্ত পানি বা তরলজাতীয় খাবার খাই, তবে প্রস্রাবের পরিমাণ বেশি হয়, বারবার প্রস্রাব হয়। বারবার প্রস্রাব হয় ডায়াবেটিসের কারণে।

অন্যদিকে পুরুষের ক্ষেত্রে বয়োবৃদ্ধির সঙ্গে বয়সজনিত স্বাভাবিক পরিবর্তন হিসেবেই বৃদ্ধি ঘটে প্রোস্টেট গ্রন্থির। প্রোস্টেট গ্রন্থি প্রস্রাব প্রবাহে বাধার সৃষ্টি করে। ফলে প্রস্রাবের থলি সবসময় সম্পূর্ণ খালি হয় না। আর বৃদ্ধি পাওয়া প্রোস্টেট সৃষ্টি করে প্রস্রাবের থলির মুখে এক ধরনের অস্বস্তি। বয়োবৃদ্ধির কারণে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার প্রস্রাবের থলিরই ধারণক্ষমতা কমে যায়। বারবার প্রস্রাব করার প্রবণতা বেড়ে যায়।

যেসব লক্ষণে বুঝবেন শিশুর কৃমি, কী করবেন?

কৃমি সব বয়সি মানুষেরই হয়ে থাকে। শিশুদের কৃমি হলে তারা তা বুঝে না, প্রকাশও করতে পারে না। শিশুর খাদ্যে অরুচি, পাতলা পায়খানা, বমি বমি ভাব, পায়খানার রাস্তায় চুলকানি হলে বুঝতে হবে তার কৃমি হয়েছে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী।

বিভিন্ন প্রকার কৃমির মধ্যে গোলকৃমি, ফিতা কৃমি ও গুঁড়া কৃমির প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। কখনও কখনও গোলকৃমি শিশুর নাক-মুখ দিয়েও বেরিয়ে আসে।

এটি শিশুর শ্বাসনালিতেও প্রবেশ করতে পারে। এছাড়া এটি শিশুর অন্ত্রে বা পিত্তনালিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে। ফিতা কৃমি শিশুর অন্ত্রে লেগে থেকে রক্তপাত ঘটায়। এতে শিশু ধীরে ধীরে রক্তশূন্য হয়ে পড়ে। পায়খানার রাস্তায় চুলকানির জন্য গুঁড়া কৃমি দায়ী।

কৃমির কারণে শিশু অপুষ্টিতে আক্রান্ত হয়। কৃমি অন্ত্রে রক্তপাত ঘটিয়ে একদিকে শিশুকে রক্তশূন্য করে আবার অন্ত্রে পুষ্টি উপাদানের পরিপাক ও শোষণে বাধার সৃষ্টি করে ডায়রিয়া ঘটায়।

এভাবে দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণের ফলে শিশুর খাদ্যে অরুচি হয় এবং সে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।

অস্বাস্থ্যকর টয়লেট ব্যবস্থা, অপরিষ্কার ঘরবাড়ি, দূষিত পানির ব্যবহার, টয়লেট শেষে ভালোভাবে হাত না ধোয়া, খাবার তৈরি বা খাওয়ার আগে হাত পরিষ্কার না করা, হাতের নখ বড় রাখা, দাঁত দিয়ে নখ কাটা ইত্যাদির মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ায়।

চিকিৎসা

কৃমির চিকিৎসায় সাধারণত Albendayole বা Mebendayole অথবা Pyrental pamoate দেওয়া হয়। আমাদের দেশে বছরে দু’বার জাতীয় টিকা দিবস পোলিও টিকার পাশাপাশি এক বছর থেকে পাঁচ বছরের শিশুদের কৃমিনাশক ওষুধ (Albendyaole) খাওয়ানো হয়।

প্রতিরোধ

* গৃহস্থালির কাজে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করতে হবে।

* স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

* খাবারের আগে বা টয়লেটের পরে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

* শিশুদের হাতের নখ বড় রাখা যাবে না এবং দাঁত দিয়ে নখ কাটার অভ্যাস পরিহার করতে হবে।

* সময়মতো কৃমিনাশক ওষুধ গ্রহণ করতে হবে।

* মানুষের অপরিশোধিত মল জমির সার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের দাবি জবি ছাত্রদলের

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের দাবিও করেছে শাখা ছাত্রদলের শীর্ষপদপ্রত্যাশী একটি অংশ। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কর্মসূচির অংশ হিসেবে কর্মসূচিটি পালন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জানান, দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বাসস্ট্যান্ডের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। এরপর শাঁখারী বাজার মোড়, ঢাকা জেলা জজ আদালত এবং ঢাকা মহানগর আদালতের সামনের সড়ক দিয়ে এসে রায় সাহেব বাজার মোড়ে শেষ হয়।

মিছিলে নেতৃত্ব দানকারী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক প্রার্থী মেহেদী হাসান হিমেল জানান, দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ এখন সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। শাবিপ্রবির ঘটনা অন্যতম দৃষ্টান্ত।

এসময় কর্মসূচিতে অংশ নেন ছাত্রনেতা সাইফুল হক, নাহিদ চৌধুরী, রফিকুল ইসলাম, নাছিম উদ্দিন, ওয়াহিদুজ্জামান তুহিন, শাহরিয়ার হোসেন, জামাল সাগর, নূরনবী, জাহিদ, তৌহিদ চৌধুরী, হাসিব, রাকিব হাসান, শরিফ, মনির হোসেন প্রমুখ।

এদিকে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনরত সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন সিলেটের বিএনপি নেতারা।

বিকালে মহানগর বিএনপির আহবায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকীর নেতৃত্বে সংহতি প্রকাশ করতে যান নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মিফতাহ সিদ্দিকী, যুগ্ম আহবায়ক এমদাদ হোসেন, সালেহ আহমদ খসরু, রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ কয়েকজন। তারা সেখানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন।

এদিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে সিলেট নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করে মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রদল। বৃহস্পতিবার নগরীর সুবিদবাজার এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

বিক্ষোভ মিছিলে বক্তব্য রাখেন- কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক মোক্তার আহমদ মোক্তার, সদস্য সচিব মকসুদুল করিম, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক কামরান উদ্দিন অপু, নাজিব আহমদ ও বেলাল আহমদ, ফাহিম আহমদ শাকিল, কাজী ইমরান তালুকদার, ইমামুল হক হোসেন, মো. সুহেল আহমদ ও সদস্য মো. রায়হান আহমেদ, জিবরান আহমদ ও ফাহিম উদ্দিন।

এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি রাত থেকে সিরাজুন্নেছা ছাত্রী হলের প্রভোস্টের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে ছাত্রীরা আন্দোলন শুরু করেন। এর এক পর্যায় ১৬ জানুয়ারি দাবি আদায়ে ছাত্রীরা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে। এরপর পুলিশ উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। শিক্ষার্থীরাও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

পুলিশি পাহারায় বাসভবনে উপাচার্য, তীব্র শীতে বাইরে অনশনরত শিক্ষার্থীরা

কিছুক্ষণ পর পর থেমে থেমে বাজছে অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন। অর্থাৎ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এক এক করে শিক্ষার্থীদের। শুক্রবার ভোর পর্যন্ত আট শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে হাসপাতালে। এমনই চিত্র দেখা যাচ্ছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

এদিকে পুলিশের পাহারায় নিজ বাসভবনে আছেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ আর হিম শীতের রাতে বাইরে তার পদত্যাগ দাবিতে অবস্থান করছেন অনশনরত শিক্ষার্থীরা। তবে শিক্ষার্থীরা অনশনে বসার প্রায় ৩৭ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অনশন ভাঙেননি কোনো শিক্ষার্থী।

এদিকে অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনেকে। এর মধ্যে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আট শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে হাসপাতালে। তাদের অবস্থাও গুরুতর বলে জানিয়েছেন সেসব হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত আট শিক্ষার্থীকে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শমতে কিছুক্ষণ পর পর অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ভর্তি করা হয় সেসব হাসপাতালে।

জানা যায়, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয়, জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজে এক এবং মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে একজন ভর্তি রয়েছেন।

অনশনরতদের মধ্যে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার মধ্যে আটজন হাসপাতালে এবং চৌদ্দজন শিক্ষার্থীকে আন্দোলনস্থলেই স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। এদিকে ওই শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে অ্যাম্বুলেন্স।

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২নং ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. আশরাফুল বলেন, তাদের অবস্থা ক্রমশই খারাপের দিকে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আগে থেকেই এজমা বা এমন শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছেন, তাদের একটু সমস্যা হচ্ছে। বেশি সময় অতিবাহিত হলে হয়তো তাদের জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

অনশনরত শিক্ষার্থীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে মেডিকেল টিমের সদস্য মো. নাজমুল হাসান বলেন, এখানে অনশনরত শিক্ষার্থীদের অবস্থা ক্রমশই খারাপের দিকে যাচ্ছে। এদের অনেক শিক্ষার্থীর অবস্থা গুরুতর। তবে এ সংখ্যাটা আরও বাড়তে পাবে বলে আশংকা করছি। তারা ৩০ ঘণ্টার ওপর কেউ কিছু খায়নি। তারা সবাই পানি স্বল্পতায় ভুগছেন।

এদিকে অনশনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবো। এতে যদি আমাদের মৃত্যুও হয় তাহলেও আমরা এ স্থান থেকে সরবো না।

অনশনরত শিক্ষার্থী জান্নাতুল নাঈম নিশাতকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলে তিনি বলেন, আমি হাসপাতালে যাবো না, আমি তো বলেই এলাম আমরণ অনশন করতে এসেছি। হাসপাতালে কেন যাবো? আন্দোলনে এসেছি না?

শাহেদ-তানহার অভিনয়ে মুগ্ধ দর্শক

মীর সাব্বির পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘রাত জাগা ফুল’২১ জানুয়ারি থেকে চতুর্থ সপ্তাহেও বেশ কয়েকটি সিনেমা হলে চলবে। সরকারি অনুদানে মীর সাব্বিরের কাহিনী, সংলাপ, চিত্রনাট্য, গীত রচনা ও পরিচালনায় ‘রাত জাগা ফুল’সিনেমাটি এরই মধ্যে দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

তবে এ সিনেমার গল্প যে দুটি চরিত্রকে ঘিরে মূলত এগিয়ে গেছে তারা হলেন- শাহেদ শাহারিয়ার ও তানিন তানহা। সিনেমাতে দুজনের অভিষেক হয়েছে ‘রাত জাগা ফুল’দিয়ে। নতুন হিসেবে দুজনের অনবদ্য অভিনয় দর্শককে মুগ্ধ করেছে।

শাহেদ শাহারিয়ার মিলন চরিত্রে এবং তানিন তানহা ফুলি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তাদের দুজন প্রসঙ্গে মীর সাব্বির বলেন, দুজনের অভিনয়ই আমার কাছে ভীষণ ভালো লেগেছে। নির্মাতা হিসেবে তাদের দুজনের অভিনয়ে আমি তৃপ্ত।

তানিন তানহার চোখ কথা বলে। এটা অনেক বড় পজিটিভ বিষয়। শাহেদের ভেতর এক ধরনের সরলতা আছে। তাকে প্রপারলি গাইড করা গেলে সে অনেক বড় অভিনেতা হিসেবে দাঁড়াতে পারবে। তানিন তানহা ভালোলাগার মতোই একজন শিল্পী, অভিনেত্রী।

তানিন তানহা বলেন, গল্পটা মূলত আমাকে অর্থাৎ ফুলিকে ঘিরেই। সিনেমাটি মুক্তির পর অনেক অনেক প্রশংসা পাচ্ছি। বলা যায় প্রায় প্রতিদিনিই অনেক ইমোশনাল হচ্ছি। আমার আম্মুকে নিয়ে সিনেমাটি দেখতে গিয়েছিলাম। আম্মু আমাকে একটি কথাই বলেছিলেন যে, তুমি এমন সিনেমা আরও করবা।

শাহেদ শাহারিয়ার বলেন, যেহেতু এটা আমার প্রথম সিনেমা তাই এ সিনেমার সঙ্গে অনেক আবেগ ভালোবাসা জড়িয়ে আছে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা।

উল্লেখ্য, শাহেদ শাহারিয়ার ও তানিন তানহা দুজনই সালাহ উদ্দিন লাভলুর ‘সোনার পাখি রূপার পাখি’ধারাবাহিকে অভিনয় করেছিলেন। ২০১৪ সালের লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টারের শীর্ষ দশে ছিলেন তানিন তানহা। সেরা নাচিয়ে সিজন টুতে (২০১৩-২০১৪) টপ টেনে ছিলেন শাহেদ শাহারিয়ার। এদিকে তানিন তানহার মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ‘অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া’ও ‘প্রিয়াংকা’সিনেমা দুটি।

স্টার জলসার নতুন ধারাবাহিকে বাবুল সুপ্রিয়

১৪ বছর পর ছোটপর্দায় আসছেন ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বর্তমান তৃণমূল নেতা বাবুল সুপ্রিয়। বড় পর্দায় নায়ক হয়েছিলেন তরুণ মজুমদারের ‘চাঁদের বাড়ি’-তে। ২০০৭ সালের সেই চলচ্চিত্রে তার নায়িকা ছিলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। ঠিক ১৪ বছর পর তাকে অভিনয়ে ফিরিয়ে আনছেন তৃণমূলের বিধায়ক ও তারকা নির্মাতা রাজ চক্রবর্তী। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

খবরে বলা হয়, স্টার জলসায় একটি নতুন ধারাবাহিক প্রযোজনা করতে চলেছেন বিধায়ক-পরিচালক। সেখানেই বয়স্ক নায়কের ভূমিকায় দেখা যাবে তাকে।

বাবুল থাকবেন আর গান থাকবে না, হয় নাকি? সেই দায়িত্ব সম্ভবত পালন করবেন জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। পরিচালনার দায়িত্বে কে থাকবেন? সে সব এখনও কিছুই ঠিক হয়নি।

আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, তবে ধারাবাহিকের কাহিনি-চিত্রনাট্য লেখার জন্য নাকি মুম্বাই থেকে উড়িয়ে আনা হচ্ছে জনপ্রিয় লেখক-চিত্রনাট্যকারকে।

আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়, টেলি পাড়া বলছে, বুধবার ধারাবাহিকের প্রাথমিক লুক সেট হয়ে গিয়েছে। ৫১ বছরের বাবুল নির্দিষ্ট সময়ে স্টুডিয়োয় এসে রূপটান নিয়ে শট দিয়েছেন। আরও জানা গিয়েছে, অসমবয়সী প্রেম এই ধারাবাহিকের পটভূমিকায়। প্রায় একই বিষয় নিয়ে ১৯৭৪-এ বড় পর্দার জন্য পীযূষ বসু বানিয়েছিলেন ‘বিকেলে ভোরের ফুল’। ছবির কাহিনিকার কালজয়ী সাহিত্যিক সমরেশ বসু। মুখ্য অভিনেতা উত্তমকুমার, সুমিত্রা মুখোপাধ্যায়। ২০১৭ সালে একই নামের একটি ধারাবাহিক জি বাংলায় জনপ্রিয় হয়েছিল। ধারাবাহিক ‘বিকেলে ভোরের ফুল’-এ অভিনয় করেছিলেন অমিতাভ ভট্টাচার্য, সুদীপ্তা চক্রবর্তী।

বাবুল নায়ক হলে বিপরীতে দেখা যাবে কাকে? খবর, তৃণমূল নেতার পাশাপাশি বুধবার লুক টেস্ট দিয়েছেন ধারাবাহিক ‘সাঁঝের বাতি’র ‘চারু’ ওরফে দেবচন্দ্রিমা সিংহ রায়ও। সব ঠিক থাকলে তাঁকেই দেখা যাবে নায়িকার চরিত্রে।

করোনাকালে দর্শক ছাড়া বিপিএল

পেশাদারিত্বের ছোঁয়া ছিল না কখনই। দশ বছর পরও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) শূন্য কাঠামোয় দাঁড়িয়ে। পরিচর্যা ছাড়াই ফল পেতে চায় বিসিবি। এবার করোনা পরিস্থিতি আরও কঠিন সময়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল হয়েছে আগেই। পরে দর্শক ছাড়া খেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়।

 

অধিকাংশ দেশে খেলা থাকায় এবং পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) একই সময়ে শুরু হতে যাওয়ায় বিদেশি তারকা ক্রিকেটারের সংখ্যাও এবার কম। বিপিএল শুরুর আগেই ক্রিকেটাররা করোনায় আক্রান্ত। ডিআরএস নেই। ভালো বিদেশি আম্পায়ারও পায়নি বিসিবি। এত কিছুর পরও ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আয়োজন বিপিএল।

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুটি ম্যাচ দিয়ে আজ বসছে বিপিএলের অষ্টম আসর। বেলা দেড়টায় প্রথম ম্যাচে মেহেদী হাসান মিরাজের চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের প্রতিপক্ষ সাকিব আল হাসানের ফরচুন বরিশাল। সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে মুখোমুখি হবে মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহর যথাক্রমে খুলনা টাইগার্স ও মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা।

করোনার হুমকির মুখেও মিরপুর একাডেমি মাঠে গাদাগাদি করে অনুশীলন সারতে হচ্ছে টুর্নামেন্টের ছয় দলকে। অধিকাংশের টিকা থাকার কারণে বিষয়টি হালকাভাবে দেখছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

তিনটি ভেন্যু ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে ম্যাচগুলো হবে। মিরপুরের উইকেট নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। টি ২০ মানের উইকেট কমই পাওয়া যায় মিরপুরে। রান কম হওয়ায় টি ২০ ম্যাচের উত্তেজনাও কম থাকে।

এবারও বড় স্কোরের আশা করা কঠিন। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেরদিন মিরপুরে বেশ আমেজি ভাব তৈরি হলো। ক্রিকেটার, আয়োজক, সাংবাদিক, উৎসুক দর্শক মিলে কিছুটা আমেজের আবহ ছিল।

চট্টগ্রামের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বরিশাল অধিনায়ক সাকিবের ধারণা, সব দলই প্রায় একই অবস্থানে। কাল ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে সাকিব বলেন, ‘টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কে এগিয়ে, বলা মুশকিল। বাকি পাঁচ দলের সঙ্গে একই রকম মনে হচ্ছে আমাদের। প্রথম ২/১টা ম্যাচ গেলে হয়তো কাটাছেঁড়া করা যাবে। এখন মনে হচ্ছে সব দলই ভারসাম্যপূর্ণ। তবে টুর্নামেন্ট শুরু হলে আসলটা বেরিয়ে আসবে।’ চট্টগ্রামের নেতৃত্ব দেবেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

তিনি বলেন, ‘টি ২০ কৌশলের খেলা। এখানে ছোট-বড় বলে কেউ নেই। যারা ভালো করবে তারাই জিতবে।’

খুলনাকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মুশফিকুর রহিম। প্রথমদিনেই ভায়রা ভাইয়ের মুখোমুখি হবেন তিনি। মুশফিক বলেন, ‘অন্তত ১০টি ম্যাচ তো খেলার সুযোগ পাব। চেষ্টা করব যাতে ১২-১৩টা ম্যাচ খেলা যায়।

যতবার সম্ভব যেন ব্যাট উপরে ওঠানো যায়। চেষ্টা করব সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে। ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলতে চাই। যাতে দল ভালো করে। ব্যক্তিগত লক্ষ্যের চেয়ে দলীয় লক্ষ্য যেন অর্জন করতে পারি।’ মাহমুদউল্লাহ প্রথম ম্যাচে মাশরাফিকে না পেয়ে কিছুটা হতাশ। তিনিও জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে চান।

মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘অধিনায়কের দায়িত্ব আমাকে ভালো খেলতে অনুপ্রাণিত করে। আমাদের দলটা তারকাবহুল। খ্যাতি বেশি থাকলে তা প্রমাণেরও বিষয় থাকে। এগুলো চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিচ্ছি। আমাদের ভালো করার সামর্থ্য আছে।’

বিবিএস ক্যাবলস বঙ্গবন্ধু বিপিএলের টাইটেল স্পন্সর। পাওয়ার্ড বাই ওয়ালটন। দলগুলোর অনুশীলন শেষে সন্ধ্যায় এক হোটেলে ছয় অধিনায়কের উপস্থিতিতে হয়েছে ট্রফি উন্মোচন।

এবার বিপিএলে করোনার হুমকি দলগুলোকে বেশি ভয়ে রেখেছে। করোনা হলে প্রায় দশদিন মাঠের বাইরে থাকতে হবে ক্রিকেটারদের। তবে প্রথম করোনা পজিটিভ হওয়ার দশদিন পর পরীক্ষা ছাড়া খেলতে পারবেন ওই ক্রিকেটার। ওই সময়ে করোনা পজিটিভ থাকলেও সমস্যা নেই। তবে বড় তারকারা করোনা আক্রান্ত হলে টুর্নামেন্ট জৌলুস হারাতে পারে।

বেশি গতি দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে দুই স্কুলশিক্ষার্থী নিহত

বেশি গতি দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে সেতুর পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুই স্কুলশিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের হবিগঞ্জ সেতুর উত্তরপাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এবং রাত ৯টার দিকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন মৃত্যু হয়।

নিহত দুই শিক্ষার্থীর হলেন— মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের চাষার গ্রামের জহির ফরাজীর ছেলে জনি ফরাজী (১৭) ও একই গ্রামের লোকমান ফরাজীর ছেলে নাঈম ফরাজী (১৮)। তারা দুজনই জালালপুর আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পরিবার ও এলাকাবাসী বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে একটি মোটরসাইকেযোগে হবিগঞ্জ সেতুর দক্ষিণপাড় থেকে উত্তরপাড়ে যাচ্ছিল জনি ও নাঈম। এ সময় মোটরসাইকেলের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় সেতুর পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে গুরুতর আহত হন। এতে মোটরসাইকেলের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে।

রাত ১১টার দিকে সদর হাসপাতালে নাঈম ফরাজীর মৃত্যু হয়। এর কিছুক্ষণ পরে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে জনি ফরাজী মারা যায়।

সদর থানার ওসি কামরুল ইসলাম মিঞা আরও বলেন, ‘রাতে অতিরিক্ত গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর ফলে দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিহতের পরিবার তাদের লাশ নিয়ে গেছেন। প্রত্যেকের পরিবারের উচিত উঠতি বয়সি ছেলেমেয়েদের মোটরসাইকেল চালানোর বিষয় সাবধান করে দেওয়ার।’