বুধবার ,১০ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 508

অ্যাকটিভিশন ব্লিজার্ড মাইক্রোসফটের ঘরে

জনপ্রিয় গেমের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাকটিভিশন ব্লিজার্ড কিনছে মাইক্রোসফট। গেম খেলতে পছন্দ করেন কিন্তু ক্যান্ডি ক্র্যাশের বাঁ কল অব ডিউটির নাম শুনেননি এমনটা পাওয়া যায় না। এ দুই গেমসহ বেশ জনপ্রিয় গেম নির্মাতা কোম্পানি অ্যাকটিভিশন ব্লিজার্ড।

জানা গেছে, মেটাভার্সের দৌড়ে নিজেদের এগিয়ে নিতে অ্যাকটিভিশন ব্লিজার্ডকে কিনতে সফটওয়্যার জায়ান্টটিকে ৬ হাজার ৮৭০ কোটি ডলার খরচ করতে হবে। ৪৬ বছরের ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে বেশি অর্থের বিনিময়ে কোনো প্রতিষ্ঠান কিনতে যাচ্ছে মাইক্রাসফট। আগামী বছরের মধ্যে অ্যাকিটভিশন ব্লিজার্ডের ৯৫ শতাংশ শেয়ার কিনবে মাইক্রোসফট। তবে বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ববি কোটিক দায়িত্ব হারাচ্ছেন না। তিনি মাইক্রোসফটের গেমিং বিভাগের প্রধান নির্বাহী ফিল স্পেন্সারের নেতৃত্বে অ্যাকটিভিশন ব্লিজার্ড পরিচালনা করবেন। উল্লেখ্য, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী প্রতি মাসে প্রায় ৪০ কোটি মানুষ নিয়মিত অ্যাকটিভিশন ব্লিজার্ডের গেম খেলে থাকেন। শিগ্গির তারা মাইক্রোসফটের গ্রাহকে পরিণত হবেন।

রান্নাঘরে আগুন লাগলে কী করবেন?

বাংলাদেশে সবেচেয়ে বেশি আগুন লাগে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে তারপর ২য় সর্বোচ্চ কারণ হলো এই চুলার আগুন বা রান্না করতে গিয়ে আগুন লাগিয়ে ফেলা।

এ বিষয়ে সচেতনতার জন্য ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার তালহা বিন জসিম।

তার দেওয়া ওই স্ট্যাটাসটি যুগান্তর পাঠকদের জন্য তোলে ধরা হলো-

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের এর ২০২০ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী চুলার আগুন থেকেই ৩৫৬৪টি আগুনের সূত্রপাত হয়। যা শতকরা ১৬.৯১ শতাংশ। সারাদেশে এই আগুন থেকে ক্ষতি হয়েছে ৩০ কোটি ৯৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকার সম্পদ। কিন্তু এই চুলার আগুন কিছু পূর্ব সতর্কতা ও সচেতন হলেই বিশাল পরিমাণে কমিয়ে আনা যায়। তাই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে গ্রাম ও শহরে এই রান্নাঘরে আগুনের কারণ ও ধরণ ভিন্ন ভিন্ন। বিশ্বে রান্নাঘরের ভোজ্য তেলের আগুনের গুরুত্ব এতোটাই বেশি যে এটাকে আগুনের শ্রেণিবিভাগে (এফ শ্রেণি) অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে। এর জন্য আলাদা ফায়ার এক্সটিংগুইসারও (ওয়েট কেমিকেল) তৈরি করা হয়েছে। আমার লেখায় চেষ্টা করবো গ্রাম ও শহরের দুইরকম রান্নাঘরের আগুনের ঘটনার প্রতিকারে কি ব্যবস্থা নেয়া যায় তা নিয়ে আলোচনা করা।

শরীরের পোশাক: রান্না করার সময় অবশ্যই ফিটিং পোশাক পড়ুন। বেশি ঢিলে পোশাক পড়লে অসাবধানতায় পোশাক আগুনের সাথে লেগে অথবা কাপড় গরম হতে হতে এক সময় পোশাকে আগুন ধরে যেতে পারে। তাই রান্না ঘরে ফিটিং পোশাক পড়ুন।

রান্নার স্থান সবসময় পরিষ্কার রাখা: চুলার আশে পাশে সবসময় পরিষ্কার রাখুন। যেসব দাহ্যবস্তু কম তাপে আগুন লেগে যায় তা দূরে রাখুন। চুলার পাশে এলোমেলোভাবে নোংরা জিনিসপত্রসহ রান্নার সরঞ্জাম রাখবেন না। যত ধরনের কাঠের রান্না করার সরঞ্জাম আছে তা স্টোভ/ বার্নারের কাছ থেকে ১ মিটার/৩ ফুট দূরে রাখুন। এমনকি চুলা, বার্নার, স্টোভ রান্না করার পরপরই পরিষ্কার করে রাখুন। বাজারের ব্যাগ, রান্না করার হ্যান্ড গ্লোভস, তোয়ালে, প্লাস্টিক, কাগজ, খাবারের সাথে নিয়ে আসা প্যাকেট এরকম সবকিছু পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন। এছাড়া রান্নাঘর যেনো বদ্ধ না হয়ে প্রচুর পরিমাণে বাতাস চলাচল করতে পারে তা নিশ্চিত করুন। রান্না শুরুর আগে ও করার সময় অ্যাডজাস্ট ফ্যান চালু রাখুন।

রান্নাঘর স্টোর নয়: গ্রাম কিংবা শহরের চিত্র একইরকম। রান্নাঘরকে স্টোর রুম করা হয়। এতে করে আগুন লাগার ঝুঁকি থেকে যায়। এখনকার রান্না ঘরে জিনিষপত্র রাখার জন্য আলাদা তাক থাকে সেখানে স্টোর করা হয়। রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছাড়া স্টোর না করাই ভালো। এছাড়া গ্রামে রান্না ঘরগুলো উপরে টিন চারপাশে পাটখরি দিয়ে তৈরি করা হয়। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে চুলা পাটখরির বেড়ার খুব কাছে বানানোর কারণে প্রায়ই বেড়ায় আগুন লেগে যায়। এছাড়া চুলার কাছেই রান্না করার খড়িগুলো রাখা হয়। এমনও হয় কাচা খড়িগুলো চুলার কাছে রেখে শুকানো হয় যা আগুনের সূত্রপাত করে। এছাড়া দেখা গেছে খড়িগুলো রান্নাঘরের উপরের মাচায় রাখা হয়। দিনে দিনে তাপ পেতে পেতে একসময় এখানে আগুন লাগে। এছাড়া রান্না করতে গিয়ে আগুনের ফুলকি উপরে উঠে খড়িতে আগুন লাগারও ঘটনা ঘটেছে।

সচেতন অবস্থায় রান্না: ঘুম ঘুম ভাব বা অ্যালকোহল পান করে রান্না করবেন না। সতর্ক অবস্থায় রান্না করুন। কোন ওষুধ নেয়ার কারণে ঘুম ঘুম লাগলে রান্না করতে যাবেন না। ক্লান্তি নিয়েও রান্না করবেন না।

রান্নাঘরেই থাকুন: যতক্ষণ রান্না করবেন ততক্ষণই রান্না ঘরে থাকুন। এমন দূরত্বে যাবেন না তাতে দুর্ঘটনা ঘটলে বুঝতে পারবেন না। যদি কোথাও যেতে হয় তাহলে স্টোভ/চুলা বন্ধ করে যান। কোনভাবেই চুলায় রান্না বসিয়ে অন্য ঘরে কোন কাজ করবেন না। এখন পর্যন্ত রান্নাঘরে রান্না বসিয়ে অন্য কোথাও যাওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি আগুনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। এরকমও হয়েছে পানি গরম করতে দিয়ে অন্য কাজে ব্যস্ত হওয়ায় পানি গরমের কথা মনে নেই। এদিকে তাপে পানি শুকিয়ে পাতিল ওভার হিটেট হয়ে আগুন লেগেছে। রান্না বসিয়ে শিশুদের পড়ানো, টিভি দেখা, মোবাইলে কথা বলার কারণে আগুন লাগার মতো ঘটনা ঘটেছে। গরম কালে রান্না করতে গিয়ে গরম লাগায় অন্য ঘরে গিয়ে ফ্যানের বাতাস নিতে গিয়েও চুলার আগুনের ঘটনা ঘটেছে। অভিজ্ঞতায় দেখেছি রান্নাঘরের চুলা থেকে পিঠা নিয়ে ঘরের ভিতর রেখে আসতে গিয়ে এরই মধ্যে আগুন লেগে গেছে। আরও দেখা গেছে রান্না বসিয়ে গোসল করতে যাওয়া, ঘরের পাশের মাঠে গরু ছাগল আনতে যাওয়া, শিশুদের খোঁজখবর নিতে গিয়ে আগুন লাগার মতো ঘটনা ঘটেছে। আবার এরকমও হয়েছে মা চুলার কাছে শিশুকে বসিয়ে রেখে অন্য কাজে গিয়েছে এদিকে শিশু আগুন লাগিয়ে ফেলেছে। তাই যতক্ষণ রান্না করবেন ততক্ষণ সতর্ক থাকুন এবং রান্না ঘরেই থাকুন। কোথাও যেতে হলে চুলা বন্ধ করে যান।

প্যান বা কড়াইতে আগুন: যদি প্যান বা কড়াইতে আগুন লেগে যায় যায়। মাথা ঠান্ডা রাখুন। ঢাকনা দিয়ে প্যান/কড়াই ঢেকে দিন। যতক্ষণ না পাতিল ঠাণ্ডা না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত ঢেকেই রাখুন। কোনভাবেই প্যান বা কড়াই বার্নার/চুলা থেকে টান দিয়ে ফেলে দেয়া বা সরাবেন না। এতে আগুন চারপাশে ছড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

প্যান/কড়াইতে তেলে আগুন লাগলে: যদি কড়াইতে তেলের জন্য আগুন লাগে কোনভাবেই পানি দিবেন না। তাহলে আগুন আরো বেড়ে যাবে। তেলের আগুনে পানি দেয়ার ভুলটাই বেশি পরিমাণে করা হয়। এটা না করে প্রথমেই ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন তারপর বার্নার বন্ধ করে দিন বা চুলা থেকে খড়ি সরিয়ে ফেলুন। এছাড়া কড়াইতে বেকিং সোডা দিতে পারলে আগুন নিভে যাবে। যদি আগুন একটু বড় হয়ে যায় তাহলে ভিজা কোন কম্বল দিয়ে পুরো বার্নার বা চুলাটাকে ঢেকে দিন। বর্তমানে বাজারে ফায়ার ব্লাংকেট পাওয়া যায় তা কিনে রাখতে পারেন। আগুনের উপর ঢেকে দিলে আগুন নিভে যাবে। তবে আগুন আরো বড় হয়ে গেলে দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে আসুন। ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিন। তেল অতিরিক্ত তাপে কখনই রান্না করবেন না। তেলে অতিরিক্ত তাপ দিলে প্রথমে ধোয়া তারপর ধপ করে আগুন ধরে যায়।

কী রান্না করছেন খেয়াল রাখুন: কী রান্না করছেন তা খেয়াল রাখুন। মাঝেমাঝে তা চেক করুন। ওভার হিটসহ অন্যান্য বিষয় খেয়াল করুন। আপনি সচেতন না থাকলে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। শহর কিংবা গ্রামে দেখা যায় আড্ডা দিতে দিতে রান্না করে। এতে মনযোগ/ সচেতনতায় ঘাটতি তৈরি হয় এবং দুর্ঘটনা ঘটে। মনে রাখবেন আগুন লাগলে শুধু আপনারই ক্ষতি হচ্ছে না আপনার প্রতিবেশীরও ক্ষতি হচ্ছে যার দায়ভার তার ছিল না।

ওভেনে আগুন: ওভেনে অবশ্যই ডিরেক্ট লাইন ব্যবহার করুন। এক্সটেনশন লাইন ব্যবহার করলে ওভারলোড হয়ে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে যেতে পারে। ওভেনে আগুন লাগলে প্রথমেই ওভেনের ইলেকট্রিসিটি লাইন বন্ধ করে দিন। কোনভাবেই দরজা খুলবেন না যতক্ষণ না আগুন নিভে না যায়। এরপর সার্ভিস না করা পর্যন্ত কোনভাবেই আবার চালু করবেন না। মাইক্রোওভেনে কখনই অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল বা মেটাল অবজেক্ট ব্যবহার করবেন না। যখন খাবার ওভেন থেকে বের করবেন অবশ্যই সাবধানে বের করবেন। তা না হলে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

গ্রিল করার সময়: হোটেল বা যেখানেই গ্রিল করবেন অবশ্যই সচেতনভাবে কাজ করুন। যদি গ্যাস দিয়ে গ্রিল করেন তাহলে প্রথমেই দেখে নিন সিলিন্ডারে কোন লিক আছে কিনা। বারান্দায় কখনও গ্রিল করবেন না। কোন খোলা এলাকায় করবেন। তবে আশেপাশে কোন কিছুতে আগুন লেগে যেতে পারে এমন দাহ্যবস্তু দূরে রাখুন। এমন স্থানে গ্রিল করবেন না যেখানে বাচ্চারা খেলাধুলা করছে বা এমন জায়গায় যেখানে মানুষের আনাগোনা খুব বেশি। যেমন খেলার মাঠ, বাজার, রাস্তার পাশে। কয়লা/কাঠ ব্যবহার করলে অবশ্যই অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে। রান্না করার পর খুব ভালোভাবে আগুন নির্বাপণ করে রাখতে হবে। যতক্ষণ গ্রিল করবেন ততক্ষণই সচেতন থাকবেন।
শিশু/পালিত পশু পাখি দূরে রাখুন: শিশুদের রান্না ঘর থেকে দূরে রাখুন। কমপক্ষে ৩ ফুট দূরে রাখুন। রান্না করার সময় বা গরম পানি বা গরম অন্য কিছু বহন করার সময় শিশুদের কোলে রাখবেন না। এছাড়া শিশুদের জানান কোনটি গরম, কোন কাজে ঝুঁকি রয়েছে। এরকম হয়েছে শিশুকে চুলার কাছে রেখে পরিবারের সদস্য অন্য কাজে গিয়েছে এদিকে শিশু চুলা থেকে খড়ি নিয়ে অন্য কিছুতে লাগিয়ে দিয়েছে। শুধু এই শিশুদের আগুন নিয়ে খেলার কারণে ২০২০ সালে ৭২০টি আগুনের ঘটনা ঘটে। এতে ৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকার সম্পদ ক্ষতি হয়।

ফুডকোর্ট/ হোটেলের রান্না ঘরে আগুন: বেশিরভাগে হোটেল/ফুডকোর্টে আগুন লেগেছে এই রান্নাঘর থেকে। দেখা গেছে হোটেল/ফুডকোর্টের রান্নাঘরটি থাকে একরকম স্টোরের মতো। রান্নাঘর থাকতে হবে একেবারে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। চুলা/বার্নারের কাছে কোন দাহ্যবস্তু রাখা যাবে না। স্টোর কাম রান্নাঘর করা যাবে না। ফুডকোর্টের প্রতিটি দোকানেই থাকে গ্যাস সিলিন্ডার। এই গ্যাস সিলিন্ডার কেনার সময় অবশ্যই সিলিন্ডারের মেয়াদ দেখে কিনতে হবে। গ্যাসলাইনের পাইপে কোন লিকেজ আছে কিনা তা চেক করতে হবে। তা না হলে এক একটি দোকান হবে এক একটি গ্যাস বোমা। এছাড়া যতক্ষণ রান্না করবেন ততক্ষণই সতর্ক থাকতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় হোটেলগুলোতে গ্যাসের চুলা একটু কমিয়ে পানি গরম করা হয় আর এটা দিন রাত চলতে থাকে। এটা করা যাবে না এতে আগুন লাগার ঝুঁকি থেকে যায় প্রবল। গ্রামের হোটেলগুলোতে দেখা গেছে রাতে কাচা খড়ি/কাঠ শুকানোর জন্য চুলার উপরে রেখে দোকান বন্ধ করে চলে যায়। এরপর এখান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এব্যাপারে খুবই সাবধান হতে হবে খড়ি শুকানোর এ কাজ করা যাবে না। হোটেল/ফুড কোর্টে বেশিরভাগ আগুন লাগে তেলের আগুন থেকে। কড়াইতে খুব তাপে তেল গরম করতেই আগুনের সূত্রপাত হয়। রান্নাঘরে অবশ্যই ডিসিপি ও ভোজ্য তেলের আগুনের জন্য ওয়েট কেমিকেল ফায়ার এক্সটিংগুইসার রাখা প্রয়োজন।

গ্যাসের চুলা ব্যবহারের সাবধানতা: এখন গ্রাম কি শহর প্রায় বাসাতে গ্যাস সিলিন্ডার বা গ্যাসের লাইন নিয়ে রান্না করা হয়। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে গ্যাস অতিরিক্ত বাড়িয়ে তারপর বার্নারে আগুন দেয়া হয়। এতে হুট করেই বড় আগুনের সূত্রপাত হয়। এজন্য কম বাড়িয়ে তারপর আগুন দিন। এব্যাপারে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া দেখা যায় শীতের সময় গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রেখে ভিজে কাপড় শুকানো হয় যা কোনভাবেই করা যাবে না। গ্যাসের চুলাতে আগুন লাগার বড় একটি কারণ এই কাজটি। আরও দেখা গেছে কোন একটি পদ রান্না শেষ হলে অন্য একটি রান্নার মাঝের সময়ে গ্যাসের চুলাটি কমিয়ে জ্বালিয়ে রাখে। অনেক সময় একটি ম্যাচের কাঠি ব্যবহারের অনিচ্ছা ও অলসতা থেকেই চুলা জ্বলতেই থাকে। এরপরে অসাবধানতার কারণে আগুনের ঘটনা ঘটে।

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে আগুন: অনেক সময় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের ও অপরের রান্না ঘরে আগুন দেয়ার মতো ঘটনা ঘটে। যা কাম্য নয়। এব্যাপারে আমাদের সচেতন হওয়া উচিত।

উত্তপ্ত ছাই/কয়লা: গ্রামে দেখা গেছে মাটির চুলা কয়লা বা ছাইয়ে ভরে গেলে তা তুলে চুলার পাশেই রাখা হয় যা আগুন লাগার কারণ হিসেবে দেখা গেছে। এরকম হয়েছে যে, উত্তপ্ত ছাই রেখেছে ছোট শিশুরা সেখান থেকে আগুন নিয়ে অন্য কিছুতে লাগিয়ে দিয়েছে। ২০২০ সালে সারাদেশে এই উত্তপ্ত ছাইয়ের কারণে ৫৪৫ টি আগুনের সূত্রপাত হয়। ক্ষতি হয় ৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকার সম্পদ।

চিমনির স্ফুলিঙ্গ: অনেক সময় রান্না ঘরের চিমনির স্ফুলিংগ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। সারাদেশে গত ২০২০ সালে চিমনির স্ফুলিংগ থেকে ৩৩ টি আগুনের সূত্রপাত হয়। ক্ষতি হয় ২৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকার সম্পদ। এ ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকতে হবে।

রান্না ঘরে ঢুকে নাক ব্যবহার: সৃষ্টিকর্তা আমাদের অসাধারণ একটি উপহার দিয়েছেন সেটা হলো আমাদের নাক। চুলার আগুন প্রতিরোধে এই নাকটি ব্যবহার করতে হবে। দীর্ঘদিন পর ঘরে ঢুকে বা রান্না ঘরে ঢুকে যদি গ্যাসের গন্ধ পান কোনভাবেই বৈদ্যুতিক সুইচ ব্যবহার করবেন না। বা গ্যাসের চুলায় আগুন দিবেন না। সবসময় সবার আগে ঘরে/রান্না ঘরের দরজা, জানালা খুলে দিন। বাতাস চলাচল করুন কমপক্ষে ৫ মিনিট। দীর্ঘদিন পর ঘরে ঢুকে জানালা দরজা খুলে দেয়াটা অভ্যাসে পরিনত করুন।

আগুন বড় হলে: আগুন বড় হয়ে গেলে দ্রুত রান্না ঘরের দরজা বা ফ্লাটের দরজা বন্ধ করে বের হয়ে আসুন। ফায়ার সার্ভিসকে কল করুন। ভবনের অন্যান্যদের জানান যে আগুন লেগেছে যাতে সবাই বের হয়ে আসতে পারে। বের হওয়ার সময় মূল্যবান জিনিসপত্র নেয়ার চেস্টা করবেন না। এতে বের হতে দেরি হয়ে যেতে পারে।

গায়ে আগুন লেগে গেলে: কোনভাবেই দৌড়াদৌড়ি করবেন না। শুয়ে পড়ুন, দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে গড়াগড়ি করতে থাকেন যতক্ষণ না আগুন নিভে না যায়। যদি আপনি দেখেন কারো গায় আগুন লেগেছে, ভিজে কোন কম্বল দিয়ে তাকে মুড়িয়ে দিন। যদি শরীরের কোন অংশ পুড়ে যায় তাহলে ৩-৪ মিনিট ঠান্ডা পানি ঢালুন। ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

কিচেন ফায়ার সাপ্রেশন সিস্টেম: বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশের কারণে পুরো কিচেন ও শুধু বার্নারের চারপাশে আগুন নির্বাপনের যন্ত্র কিনতে পাওয়া যায়। যা নির্দিস্ট তাপমাত্রা পেলেই অটোমেটিক আগুনের উপর ওয়েট কেমিকেল ছিটিয়ে আগুন নির্বাপন করে। এটি আগুন নির্বাপনের ব্যয়বহুল ব্যবস্থাপনা তবে অধিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এছাড়া স্মোক ডিটেক্টর ব্যবহার করা যেতে পারে।

এস্কেপ প্লান: কখনও যদি রান্নাঘরে/ঘরে আগুন লেগে যায় আর যদি ঘর থেকে বের হয়ে আসতে হয় তাহলে কিভাবে দ্রুত কোন পথ দিয়ে বের হয়ে আসবেন তা আগেই ঠিক করা রাখবেন। পরিবারের সব সদস্যদের নিয়ে এই বের হওয়ার কাজটি দিনে/রাতে মাঝে মাঝে প্রাকটিস করুন। এছাড়া পরিবারের সবাইকে ফায়ার এক্সটিংগুইসার ব্যবহার করার প্রশিক্ষণ দিন। পরিবারের বয়স্ক লোকদের কিভাবে বের করবেন, কে কি কি কাজ করবে তা ঠিক করে দিন। মাঝে মাঝে তা নিয়ে আলোচনা করুন।

সচেতনতাই পারে এই রান্নাঘরের বা রান্না করতে গিয়ে আগুনের ঘটনা কমিয়ে আনতে। এছাড়া যেকোন দুর্ঘটনায় কল করুন ফায়ার সার্ভিস কে। আবারও বলছি আপনার অসচেতনার জন্য অপরের জীবন ও সম্পদের ক্ষতি হতে পারে যার দায়ভার তার ছিল না।

রক্তনালির ফিস্টুলা অস্ত্রোপচার ও ডায়ালাইসিস কখন করাবেন?

শরীরে কিডনির কাজ হচ্ছে ছাকনির মতো। এটি রক্তের সঙ্গে মিশে থাকা শরীরের সব দূষিত বর্জ্য পদার্থগুলো ছেকে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়। কিডনি তার কাজ ঠিকমতো না করলে এসব বর্জ্য রক্তে জমা হয় এবং রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পৌঁছে তাদের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে বিঘ্ন সৃষ্টি করে।
এ অবস্থাকে বলে ‘ইউরেমিয়া’ (Uremia)। ইউরেমিয়ার বিভিন্ন উপসর্গ আছে, যেমন— দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা, রক্তশূন্যতা, বমি বমি ভাব ইত্যাদি। এ থেকে রোগী হঠাৎ অজ্ঞান পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। সুস্থ কিডনি ছাড়া সুস্থ শরীর সম্ভব নয়।

ডায়ালাইসিস কী
কৃত্রিম উপায়ে রক্ত পরিশোধনের একটি ব্যবস্থার নাম ডায়ালাইসিস। কিডনি যখন ঠিকমতো কাজ করে না তখন বিকল্প হিসেবে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। ডায়ালাইসিসের একাধিক প্রকারভেদ রয়েছে, তবে এদের মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা হলো হেমোডায়ালাইসিস। এ পদ্ধতিতে শরীরের রক্তকে বাইরে নিয়ে আসা হয় ও যন্ত্রের মাধ্যমে পরিশোধন করে পুনরায় শরীরের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।

ফিস্টুলা কী
ফিস্টুলা হলো অপারেশনের মাধ্যমে তৈরি রক্তনালির এমন একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে শরীরের সব রক্তকে পর্যায়ক্রমে বাইরে নিয়ে আসা ও পরিশোধনের পর আবার শরীরের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়। ফিস্টুলাতে একটি ধমনি বা আর্টারির সঙ্গে চামড়ার নিচের একটি শিরা বা ভেইনকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হয়। এতে ধমনির উচ্চ চাপের রক্ত চামড়ার নিচের ওই শিরার ভেতরে প্রবেশ করে। রক্তের চাপে তখন ওই শিরাটি ফুলে মোটা ও এর দেয়াল পুরু হতে থাকে। একে বলে ‘ম্যাচিউরেশন’।
একটা নির্দিষ্ট সময় পরে ফিস্টুলা ম্যাচিওর করলে এটি ডায়ালাইসিসের জন্য ব্যবহারযোগ্য হয়। তখন চামড়ার নিচের ফুলে ওঠা ওই শিরাতে মোটা সুঁচ ফুটিয়ে রক্ত বাইরে আনা ও পরিশোধনের পর ভেতরে ঢোকানোর কাজটি করা হয়।
প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে। হেমোডায়ালাইসিসের সময় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই রক্তকে শরীরের বাইরে নিয়ে এসে পরিশোধন করা সম্ভব হয়।

ফিস্টুলার স্থান ও প্রকারভেদ
সাধারণত একজন ডানহাতি ব্যক্তির জন্য বাম হাতের কব্জির সামান্য ওপরে সামনের জায়গাটিকে ফিস্টুলা অপারেশনের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। কারণ এ স্থানে তৈরি ফিস্টুলা ব্যবহার করা সবচেয়ে সুবিধাজনক। এখানে ব্যবহৃত ধমনির নাম রেডিয়াল ধমনি ও শিরার নাম কেফালিক ভেইন। রক্তনালির নামানুযায়ী এই ফিস্টুলাকে ‘রেডিও-কেফালিক ফিস্টুলা নামে অভিহিত করা হয়।
অবশ্য আবিষ্কারকদের নামানুযায়ী একে কখনও কখনও ’ব্রেসিয়া-কিমিনো’ ফিস্টুলাও বলা হয়ে থাকে। ফিস্টুলার জন্য সাধারণভাবে ব্যবহৃত দ্বিতীয় স্থানটি হলো কনুইয়ের একটু উপরে সামনের দিকে। এই স্থানে দুই ধরনের ফিস্টুলা তৈরি করা সম্ভব। প্রথমত এবং তুলনামূলকভাবে সহজ ফিস্টুলাটির নাম ব্রাকিও-কেফালিক ফিস্টুলা। এখানে ব্যবহৃত ধমনির নাম ব্রাকিয়াল ধমনি ও শিরার নাম কেফালিক ভেইন। এখানে দ্বিতীয় আর যে ফিস্টুলাটি করা হয় তার নাম ‘ব্রাকিও-ব্যাজিলিক’ ফিস্টুলা। এ ক্ষেত্রে কেফালিক ভেইনের অনুপযোগিতার কারণে বাহুর ভেতরের দিকের ব্যাজিলিক ভেইনকে ফিস্টুলা তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়। এ ক্ষেত্রে ব্যাজিলিক ভেইনকে তার নিজস্ব গতিপথ থেকে তুলে এনে বাহুর সামনের দিকে চামড়ার নিচ দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়। তাই একে ‘ব্রাকিও-ব্যাজিলিক ট্রান্সপজিশন ফিস্টুলা’ ও বলা হয়ে থাকে। অনেক সময় শরীরের নিজস্ব কোনো শিরাই ফিস্টুলা তৈরির কাজে ব্যবহার উপযোগী থাকে না। সে ক্ষেত্রে কৃত্রিম রক্তনালি ব্যবহার করে ফিস্টুলা তৈরি করা সম্ভব।

রক্তনালির ফিস্টুলার অস্ত্রোপচার এবং ডায়ালাইসিস নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক (ভাস্কুলার সার্জারি) ডা. আবুল হাসান মুহম্মদ বাশার।

ফিস্টুলা তৈরির অপারেশনটি অতি সূক্ষ্ম একটি কাজ। বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত একজন দক্ষ রক্তনালির বিশেষজ্ঞ সার্জন বা ভাস্কুলার সার্জনের পক্ষেই কেবল কাজটি সুচারুভাবে করা সম্ভব। সাধারণত ফিস্টুলা অপারেশনের জন্য রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় না এবং অপারেশন শেষে রোগী বাড়ি চলে যেতে পারেন। অপারেশনের জায়গাটুকুকে স্থানীয়ভাবে অবশ করা হয় এবং রোগী সচেতন অবস্থায় থাকেন। তবে ট্রান্সপজিশন ফিস্টুলা বা কৃত্রিম রক্তনালি ব্যবহার করে ফিস্টুলা অপারেশনের ক্ষেত্রে পুরো হাত অবশ করে নেওয়ার প্রয়োজন হয়। বিশেষ ক্ষেত্রে অবশ্য রোগীকে অজ্ঞান করে অপারেশন করারও প্রয়োজন হতে পারে।
ফিস্টুলা অপারেশন সফল হলে অপারেশনে ব্যবহৃত শিরাটির ওপরে এক ধরনের আওয়াজ তৈরি হয়। ঝিরঝির ধরনের এ শব্দটি সাধারণত হাত দিয়ে চামড়ার ওপরে অনুভব করা যায়। একে ‘থ্রিল’ বলে। হাতে অনুভব করা না গেলেও এটি স্টেথোস্কোপ দিয়ে কানে শোনা সম্ভব।

ফিস্টুলা সংক্রান্ত জটিলতা
একটি অপারেশনে যেসব জটিলতা হওয়া সম্ভব, তার সবই ফিস্টুলার ক্ষেত্রে হতে পারে। সাধারণভাবে এগুলোর বেশিরভাগ হলো ক্ষতস্থানে জীবাণু সংক্রমণজনিত বিষয়; যেমন— ক্ষত না শুকানো, পুঁজ, পানি ঝরতে থাকা ইত্যাদি। কিন্তু ফিস্টুলা যেহেতু রক্তনালির বিষয় যেখানে উচ্চ চাপে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে, তাই এ ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ ধরনের জটিলতার কথা মাথায় রাখতে হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে— রক্তক্ষরণ, কখনও কখনও রক্ত জমাট হয়ে চাকা তৈরি হতে পারে, যাকে বলে হেমাটোমা।

অ্যানিউরিজম ও সিউডোঅ্যানিউরিজম দীর্ঘদিন ব্যবহৃত হচ্ছে এমন ফিস্টুলা অনেক সময় রক্তের চাপে ফুলে মোটা হয়ে আঁকাবাঁকা হয়ে যায়। একে অ্যানিউরিজম বলে। আবার অনেক সময় রক্তনালি জোড়া লাগানোর জায়গা আলগা হয়ে যাওয়ার কারণে অপারেশনের জায়গাটি ফুলে গিয়ে হৃৎপিণ্ডের ছন্দের সঙ্গে লাফাতে থাকে। একে সিউডোঅ্যানিউরিজম বলে। এটি কেবল অপারেশনের জায়গাতে নয়, ফিস্টুলার যে জায়গাতে সুঁচ ফুটিয়ে ডায়ালাইসিস করা হয়, সেখানেও হতে পারে।

নোটিশ ছাড়া পরীক্ষা স্থগিত, শিক্ষার্থীদের নীলক্ষেত অবরোধ

কোনো নোটিশ ছাড়াই পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে রাজধানীর নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।

শনিবার সকালে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। শিক্ষার্থীরা জানান, কেন্দ্রে এসে তারা জানতে পারেন, পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে৷ আজই তাদের শেষ পরীক্ষা ছিল।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ২০১৮ সালে দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা ২০২২ সালে শেষ হচ্ছে। গত ২১ নভেম্বর পরীক্ষা শুরু হয়ে আজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছে।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে কেন্দ্রে আসার পর জানতে পেরেছি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। এমন অসম আচরণ শুধুমাত্র সাত কলেজের প্রতিই করা হচ্ছে। আমরা এমনিতেই ভয়াবহ সেশনজটে আছি। আজ শেষ পরীক্ষা থাকলেও কেন্দ্রে এসে জানতে পারি পরীক্ষা স্থগিত৷ আমাদের সঙ্গে এমন প্রহসন কেন করা হচ্ছে।

সাত কলেজের ডিগ্রির এসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষা ইডেন কলেজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

এ বিষয় ঢাকা কলেজ শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক ও সেভেন কলেজ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ড. আবদুল কুদ্দুস সিকদার জানান, আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন মৌখিকভাবে পরীক্ষা বন্ধ করা হয়েছে, কোনো প্রকার নোটিশ দেওয়া হয়নি। এমন আচরণ আমরাও প্রত্যাশা করি না। দূরদূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে এসেছে। তাছাড়া আজ তাদের শেষ পরীক্ষা ছিল।

বিষয়টি নিয়ে সাত কলেজের সমন্বয়কের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

হাসপাতাল থেকে ফিরে আবারও অনশনে শিক্ষার্থীরা

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে অনশনরতদের মধ্যে ১৪ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে এসে আবারও অনশনে বসেছেন।

অসুস্থ ১৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে কাজল দাস ও আব্দুল্লাহ আর রাফি শুক্রবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে ফিরে অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনশন শুরু করেন। কাজল দাস জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে এবং আব্দুল্লাহ আর রাফি এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিল।

আব্দুল্লাহ আর রাফির স্বাস্থ্যের বিষয়ে ওসমানী মেডিকেলের চিকিৎসক মো. জাহিদ আহমেদ জানান, দীর্ঘ সময় না খাওয়ার কারণে এ সমস্যা হচ্ছে। এভাবে না খেয়ে থাকলে শারীরিক সমস্যা আরও বাড়বে।

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় ফের অনশনে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গে রাফি বলেন, শরীর একটু স্বাভাবিক বোধ করায় আমি আবার এসেছি। আমার সঙ্গের এরা এখানে শীতের মধ্যে কষ্ট করছে, আমি যতক্ষণ স্বাভাবিক আছি ততক্ষণ এখানে থাকতে চাই। উপাচার্যের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তারা অনশন ভাঙবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

এদিকে অনশনে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ১১ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ১২ শিক্ষার্থীকে অনশনস্থলেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে এ পর্যন্ত ১১ শিক্ষার্থীকে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে কিছুক্ষণ পর পর অ্যাম্বুলেন্সযোগে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ভর্তি করা হয় বিভিন্ন হাসপাতালে। এর মধ্যে একজনের অবস্থা কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তিনি আবার আন্দোলনস্থলে ফিরে এসেছেন।

জানা যায়, অনশনরতদের মধ্যে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে ১১ জন হাসপাতালে এবং ১২ শিক্ষার্থীকে আন্দোলনস্থলেই স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। এদিকে শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে অ্যাম্বুলেন্সও।

মেডিকেল টিমের সদস্য মো. নাজমুল হাসান বলেন, এখানে অনশনরত শিক্ষার্থীদের অবস্থা ক্রমশই খারাপের দিকে যাচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থীর অবস্থা গুরুতর। তবে এ সংখ্যাটা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করছি। তারা ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় কিছু খায়নি। তারা সবাই পানি স্বল্পতায় ভুগছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সাত সদস্যের একটি মেডিকেল টিম এসে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সহায়তা দিচ্ছে। এ ছাড়া সবসময় একটি মেডিকেল টিম শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছে।

হঠাৎ বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়ে যা বললেন পরীমনি

২০২১ সালের ১৭ অক্টোবর অভিনেতা শরিফুল রাজের সঙ্গে বিয়েরবন্ধনে আবদ্ধ হন পরীমনি। এখন ঢালিউডের জনপ্রিয় এ নায়িকা সন্তানসম্ভবা।

তারকা দম্পতির অনাগত সন্তানের খবর নিয়ে যখন ভক্ত-শুভাকাঙক্ষীরা ব্যস্ত তখন নতুন খবর ভেসে এল।

নায়িকা পরীমনি আবারও বিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন! পাত্র সেই রাজ-ই। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করছেন তারা।

শুক্রবার ঘটা করে হয়ে গেল এ যুগলের গায়েহলুদ অনুষ্ঠান, যেখানে উপস্থিত ছিলেন দুই নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম ও চয়নিকা চৌধুরী। আরও ছিলেন অভিনেতা ডিএ তায়েব, রেদওয়ান রনি ও মাহবুবা শাহরিন।

প্রশ্ন উঠেছে, পাত্র যখন রাজ-ই, ফের কেন ঘটা করেই এই হলুদসন্ধা? ফের কেন বিয়ের আয়োজন?

জবাবে গণমাধ্যমকে পরীমনি বলেছেন, সেদিন আমাদের বিয়েটা অনেকটা পুতুলের বিয়ের মতো হয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। আমার আর রাজের পরিবারের সদস্যদের অনেকেই তো জানতেনই না। তাই এবার আনুষ্ঠানিকভাবে অনেকটা ঘরোয়া আয়োজনেই আবার আমাদের বর-কনে সাজতে হচ্ছে। গতকাল গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানও করেছি।

করোনার কারণে অবশ্য এই আনুষ্ঠানিক বিয়েটাও জমকালো হচ্ছে না। ঘরোয়াভাবে খুব সাধারণ বিয়ের আয়োজন হবে আজ। খুব বেশি অতিথী থাকছেন না। দুই পরিবার মিলে ২০ থেকে ২৫ জনের মতো লোক থাকছেন এতে।

রাজ-পরীর গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানও ছিল প্রায় অনাড়ম্বর। ঘরোয়াভাবে মাত্র ৪-৫ জনের উপস্থিতিতে এ আয়োজন সারা হয়।

অনুষ্ঠানের বেশ কয়েকটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী লিখেছেন, পরী আর রাজের হলুদ ছোঁয়া খুব সাধারণ ছিল। হলুদ কাঞ্জিভরম শাড়িতে কী সুন্দর লাগছিল! পুরোটাই ওদের পরিবারের লোকজন। খুব খুব আনন্দ আর নির্মল খুশির বন্যা ছিল। নির্মাতাদের মধ্যে ছিলেন সেলিম গিয়াসউদ্দিন, রেদওয়ান রনি আর আমি। ছিলেন ডিএ তায়েব, মাহবুবা শাহরিন আর টুনটুন। সবার ভালোবাসা আর আশীর্বাদে হাসি আর খুশিতে ভরে উঠুক তাদের (রাজ-পরী) আগামী দিনগুলো। আশেপাশের প্রিয় মানুষগুলো ভালো থাকলে মন ভরে যায়। ধন্যবাদ আমাকে সম্মানিত করার জন্যে।

হলুদসন্ধ্যার পাঁচটি ছবি ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেছেন পরীমনি নিজেও। যেখানে রাজ-পরীমনিকে হলুদ রঙের বসনে দেখা গেছে। ক্যাপশনে ভালোবাসার চিহ্ন দিয়ে পরীমনি হ্যাসট্যাগ দিয়েছেন রাজপরী।

প্রিয়াঙ্কা-দীপিকাকে পেছনে ফেলে শীর্ষে ক্যাটরিনা

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, দীপিকা পাড়ুকোন, কঙ্গনা রানাওয়াত, কারিনা কাপুরের মতো তারকাদের পেছনে ফেলে শীর্ষ ভারতীয় অভিনেত্রীর স্থান দখল করে নিয়েছেন ক্যাটরিনা কাইফ।

সম্প্রতি বলিউডের শীর্ষ তারকা নির্ধারণে একটি জরিপ চালায় ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে। ‘মুড অফ দ্য নেশন’ শিরোনামের এই জরিপে ক্যাটরিনা কাইফ সবার উপরে।

অভিনয় ও বিয়ে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই খবরের শিরোনামে বলিউড তারকা ক্যাটরিনা কাইফ। এরপরও এই বলিউড সেনসেশন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, দীপিকা পাডুকোন, কঙ্গনা রানাওয়াত, কারিনার মতো তারকাদের পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে এসেছেন।

‘মুড অফ দ্য নেশন’ শীর্ষক জরিপে ক্যাটরিনা ৭.২% ভোট পেয়ে শীর্ষস্থান অর্জন করেছেন। ৬.৮% ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন দীপিকা পাডুকোন, ৬.৩% ভোট পেয়ে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া তৃতীয়, ৩.৬% ভোট পেয়ে তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে কঙ্গনা রানাওয়াত এবং ৪.৯% ভোট পেয়ে পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছেন কারিনা কাপুর।

উল্লেখ্য, ক্যাটরিনা কাইফের ২০২১ সালের দ্বিতীয়ার্ধটি পেশাদার এবং ব্যক্তিগতভাবে চমৎকার কেটেছে। এ সময় মুক্তি পাওয়া ব্লকবাস্টার হিট ‘সূর্যবংশী’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। যা বক্স অফিসে মহামারি পরবর্তী রেকর্ড ভেঙে দেয় এবং থিয়েটার ব্যবসাকে পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়তা করে। এছাড়া অভিনেতা ভিকি কৌশলের সঙ্গে তার প্রেম-বিয়ের বিষয়টি ছিল তুমুল আলোচনায়।

ঢাকার চেয়েও বড় ঝড় তুলে ম্যাচ জিতে নিল খুলনা

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে শুক্রবার দ্বিতীয় ম্যাচে মিনিস্টার ঢাকাকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে খুলনা টাইগার্স। ম্যাচটিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ঝড় তুলে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮৩ রান করে ঢাকা। কিন্তু তাদের চেয়েও বড় ঝড় তুলে ১৯ ওভার খেলে ৫ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নিয়েছে মুশফিকুর রহিমের খুলনা।

ঢাকার মোহাম্মদ শেহজাদের ২৭ বলে ৪২, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ২০ বলে ৩৯ ও তামিম ইকবালের ৪২ বলে ৫০ রানের সুবাদে ১৮৩ রানের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা দাঁড় করায়। বোলিংয়ে খুলনার হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট তুলে নিয়েছিলেন কামরুল ইসলাম রাব্বি।

কিন্তু জবাবে খুলনার আন্দ্রে ফ্লেচার ২৩ বলে ৪৫, রনি তালুকদার ৪২ বলে ৬১ ও থিসারা পেরেরা ১৮ বলে ৩৬ রানের ঝড়ো ইনিংসে এক ওভার আগেই ম্যাচ জিতে খুলনার টাইগাররা।

খুলনার হয়ে সবচেয় বড় ঝড়টা তুলেন রনি তালুকদার। তিনি ওয়ান ডাউনে খেলতে নেমেই রানের সংখ্যা মাথায় রেখে খেলতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত তিনি থামেন ৬১ রান করে।

ঢাকার হয়ে সবচেয়ে বেশি রান দিয়েছেন রুবেল। তিনি মাত্র তিন ওভার বল করেই ৪২ রান খরচ করে ফেলেন। বিনিময়ে কোনো উইকেট পাননি।

ঢাকার হয়ে দুইটি করে উইকেট তুলে নেন আন্দ্রে রাসেল ও এবাদত হোসেন। তবে রাসেল চার ওভারে ৪২ রান দিয়ে ফেলেন। এবাদত ২৭ রান দিয়ে দুইটি উইকেট পান।

দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে পাত্তাই পেল না ভারত

ভারতের করা রানের পাহাড়ও টপকে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা। হেসেখেলেই পার করল ২৮৮ রানের টার্গেট। তাও কিনা ১১ বল ও ৩ উইকেট হাতে রেখেই।

এক কথায় ২৮৭ রান করেও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে পাত্তাই পেল না ভারত।

এমন দুর্দান্ত জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ১ ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত করল প্রোটিয়ারা।

প্রথম ম্যাচে ৩১ রানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হেরেছিল ভারত।

দ্বিতীয় ম্যাচে শনিবার পার্লের বোল্যান্ড পার্কে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ২৮৭ রান সংগ্রহ করে ভারত। লোকেশ রাহুল করেন ৫৫ রান এবং ঋষভ পন্ত করেন ৮৫ রান।

জবাবে ব্যাট হাতে নেমে ভারতীয় বেলারদের তুলোধুনো করেন দক্ষিণ আফ্রিকান ওপেনার কুইন্টন ডি কক। ৭ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় ৬৬ বল খেলে ৭৮ রান করেন। পরে শার্দুল ঠাকুরের পেসে আউট হন কক।

একটু রয়েসয়ে খেললেও আরেক ওপেনার জানেমান মালান ১০৮ বল খেলে করেন ৯১ রান। যেখানে ৮টি বাউন্ডারি এবং ১টি ছক্কার মার রয়েছে। তাকে সেঞ্চুরি বঞ্চিত করেন জাসপ্রিত বুমরাহ। সরাসরি বোল্ড করে দেন।

এর পর অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা ৩৫ রানে আউট হলেও জয়ের ভিত গড়ে দিয়ে যান এই তিন ব্যাটার।

বাকি কাজটা সারেন এইডেন মারক্রাম ও রশি ফন ডার ডুসেন। দুজনেই ৩৭ রানে অপরাজিত থেকে ৪৮.১ ওভারে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন দলকে।

তথ্যসূত্র: ক্রিকইনফো।

মসজিদে সিজদারত মুসল্লির মৃত্যু

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় মসজিদে সিজদারত অবস্থায় আনজের আলী (৭০) নামের এক মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার পদ্মার চরের কালিদাসখালী জামে মসজিদে এশার নামাজ পড়া অবস্থায় তিনি মারা যান।

আনজের আলী ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বালুঘন্ড গ্রামের মৃত ইয়াসিন আলী ব্যাপারির ছেলে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আনজের আলীর স্ত্রীর বড় ভাই আবু বাক্কার আলী ব্যাপারি অসুস্থতার কারণে গত বৃহস্পতিবার মারা যান। এই মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে চকরাজাপুর ইউনিয়নের কালিদাসখালী পদ্মার চরে যান আনজের আলী। বিকালে ওই আত্মীয়কে দাফন করা হয়। পরে আনজের আলী ওই আত্মীয়র বাড়িতে থেকে যান।

এশার নামাজের সময় হলে তিনি মসজিদে যান। এশার চার রাকাত ফরজ নামাজ চলাকালীন সময় হঠাৎ তিনি মৃত্যুর কলে ঢলে পড়েন।
এশার নামাজের দায়িত্বে থাকা ইমাম আবদুল কুদ্দুস বলেন, আনজের আলী এশার নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে আসেন। এশার চার রাকাত ফরজ নামাজের তৃতীয় রাকাতে তিনি আর উঠে দাঁড়াননি। নামাজের সালাম শেষে দেখি তিনি মারা গেছেন।

এ বিষয়ে চকরাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, আনজের আলী প্রায় ২৫ বছর আগে ওই পদ্মার চরে বসবাস করতেন।

নদী ভাঙনের কারণে তিনি নবাবগঞ্জ উপজেলার বালুঘন্ড গ্রামে চলে যান। আত্মীয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে দাফন কাজে আসেন। কিন্তু তিনিই পরে নামাজরত অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।