বুধবার ,১০ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 502

অসুস্থ বাবার ইচ্ছায় গোপনে বিয়ে করেছিলেন শাহরুখ-প্রিয়াংকা!

সারোগেসির মাধ্যমে কন্যাসন্তানের মা-বাবা হয়েছেন প্রিয়াংকা চোপড়া এবং নিক জোনাস। ইনস্টাগ্রামে প্রিয়াংকা নিজেই জানিয়েছেন সন্তানের খবর।

তাদের বিয়ে ভাঙার জল্পনায় আপাতত ইতি হলো। প্রিয়াংকার সঙ্গে অনেকের সম্পর্কের গুঞ্জন ছিল। কিন্তু সবচেয়ে বেশি যাকে নিয়ে আলোচনা শোনা যায় তার নাম বলিউড কিং শাহরুখ খান।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— বলিউডে তার ক্যারিয়ারের শুরুতেই নাকি শাহরুখের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন প্রিয়াংকা।

শোনা যায়, শাহরুখের সঙ্গে কাজ করার আগে থেকেই নাকি তার প্রতি টান ছিল প্রিয়াংকার। যদিও প্রকাশ্যে এ নিয়ে কোনো কথা বলেননি এই অভিনেত্রী।

প্রিয়াংকার সঙ্গে ‘সম্পর্ক’ নিয়ে মুখ খোলেননি শাহরুখও। বরাবরই প্রিয়াংকাকে সহকর্মী বলে পরিচয় দিয়েছেন। একমাত্র প্রিয়াংকার কাছে তিনি শুধুই ‘কো-স্টার’ ছিলেন!

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে— ২০০৬ সালে প্রিয়াংকার সঙ্গে প্রথম বড়পর্দায় জুটি বাঁধেন শাহরুখ। সেটি ছিল ফারহান আখতারের ‘ডন’ সিনেমা। যদিও বলিউডের নানা পার্টিতেই তাদের আগে থেকেই পরিচয় ছিল।

তবে ফারহানের ‘ডন’-এর পর তার সিক্যুয়েলের সেটেই নাকি শাহরুখ এবং প্রিয়াংকা কাছাকাছি এসেছিলেন। সেটি ছিল ২০১১ সাল। ‘ডন-২’ ফিল্মের খাতিরে দুজনকে বিভিন্ন ফটোশুটে একসঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। তবে শুটিংয়ের বাইরেও নাকি তাদের একসঙ্গে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। সেসব ছবিও ধরা পড়েছে বলিউডের ক্যামেরায়।

‘ডন টু’-এর পর প্রিয়াংকার প্রতি শাহরুখের আচরণ নাকি পুরোপুরি বদলে গিয়েছিল। ইন্ডাস্ট্রির বহু পরিচালক-প্রযোজকের প্রিয়াংকাকে তাদের ফিল্মে নেওয়ার জন্য নাকি অনুরোধও করেছিলেন শাহরুখ।

একসময় আইপিএলে তার মালিক শাহরুখের পাশেও ঘন ঘন দেখা গিয়েছিল প্রিয়াংকাকে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের ম্যাচ থাকলেই দলকে উৎসাহ দিতে শাহরুখের কাছাকাছি তাকে দেখা যেত। এমনকি শাহরুখের বাড়ি ‘মন্নত’-এ প্রিয়াংকা প্রায় যেতেন বলে দেখা যেত। ফলে দুজনে যতই অস্বীকার করুন না কেন, তাদের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন ছড়াতে সময় লাগেনি।

বলিউডে গুঞ্জন আছে, শাহরুখের কথায় নাকি নিজের জন্মদিনের পার্টিতে প্রিয়াংকাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন করণ জোহর। অথচ সেই সময় করণের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে নাকি প্রিয়াংকা আদৌ ছিলেন না। সে পার্টিতে প্রিয়াংকাকে স্বাগত জানাতে তার গালে চুম্বন একে দিয়েছিলেন শাহরুখ। সে ছবিও ধরা পড়েছে ক্যামেরায়।

এসব দেখে নাকি রেগে গিয়েছিলেন শাহরুখপত্নী গৌরী। পার্টিতে কেন প্রিয়াংকার সঙ্গে বেশি সময় কাটান শাহরুখ? তা নিয়ে প্রকাশ্যেই নাকি স্বামী-স্ত্রী কথা কাটাকাটি শুরু করে দিয়েছিলেন।

আরও জানা যায়, প্রিয়াংকার সঙ্গে শাহরুখের সম্পর্কের কথা সামনাসামনি না বলেও এ নিয়ে তাদের মধ্যে কম জলঘোলা হয়নি।

অনেকে বলেন, গৌরীর কথাতেই নাকি করণ জোহরসহ বলিউডের একাংশ প্রিয়াংকাকে বয়কটও করেন।

ডন-২তে প্রিয়াংকার সঙ্গে জুটি বাঁধেননি শাহরুখ। এর পেছনেও নাকি গৌরীর হাত রয়েছে। এমনকি প্রিয়াংকার সঙ্গে ফের বড়পর্দায় দেখা গেলে বিবাহবিচ্ছেদের হুমকিও নাকি দিয়েছিলেন গৌরী। বলিউডের বাদশা নাকি নিজের ভাবমূর্তির খাতিরেই গৌরীর দাবি মেনে নিয়েছিলেন।

একসময় তো শাহরুখের সঙ্গে প্রিয়াংকার ‘সালুট’ নামে একটি বায়োপিক করার কথাও উঠেছিল। তবে সে ফিল্মে শাহরুখকে দেখেই নাকি পিছিয়ে যান প্রিয়াংকা।

বলিউড ছেড়ে হলিউডেও কম সাফল্য পাননি প্রিয়াংকা। ২০১৫ সালে কোয়েন্টিকো সিরিজের হাত ধরে তার যাত্রা শুরু। তার পর থেকে দুই-একটি বাদে হলিউডেই কাজ করছেন তিনি।

হলিউডে সাফল্যের ফাঁকেও শাহরুখের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে। শাহরুখের সঙ্গে তার বিশেষ সম্পর্কের কথা একসময় একটি চ্যাট শোয়ে কার্যত স্বীকার করে নেন প্রিয়াংকা। সেই সময় একটি জ্যাকেট দেখিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, তার সাবেক প্রেমিক তাকে সেটি উপহার দিয়েছেন। কী আশ্চর্য! ওই একই রকম জ্যাকেট তো তার আগে শাহরুখকেও পরতে দেখা গেছে।

বলিউডে আরও একটি গুঞ্জন রয়েছে। অনেকে বলেন, কানাডার টরন্টোয় গোপনে বিয়েও করে ফেলেছিলেন শাহরুখ ও প্রিয়াংকা। প্রিয়াংকার অসুস্থ বাবা নাকি চেয়েছিলেন নিজের মেয়ের বিয়ে দেখে যেতে। তবে সত্যি-মিথ্যে যাই হোক না কেন— ‘ডন-২’-এর পর প্রকাশ্যে দূরত্ব বজায় রেখেই চলেছেন দুই তারকা।

বিদায় লিসবন

আঠারোশ শতকের একটা গ্রামোফোন উলটে-পালটে দেখছিলাম, পাশেই বেশ কিছু দুর্লভ রেকর্ডস, মাইকেল জ্যাকসন থেকে ম্যাডোনা, গানস অ্যান্ড রোজেস থেকে নুসরাত ফতেহ আলি খাঁ, কে নেই সেখানে। আসলে এখন আমি দাঁড়িয়ে আছি তাগুস নদীর পার ঘেষে ক্যাথেড্রালের পিছনে চোর বাজার বা ফ্লি মার্কেটে যার কেতাবি নাম ফিয়েরা দ্যা লাডারা।

গতকাল ঘুরে এসেছি লিসবন থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরবর্তী শহর সিন্ত্রা থেকে, সেই সাথে উপরি পাওনা হিসেবে ইউরোপের সর্বপশ্চিমের বিন্দু কাবো দ্য রোকা আর সমুদ্রপাড়ের ভ্যাকেশন সেন্টার কাসকাইস থেকে। সেই সৌন্দর্যের রেশ নিয়ে ঘুম ভেঙেছিল বেশ দেরিতেই। যথারীতি কমপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্ট সেরে ব্যাগ গুছিয়ে মামা আর খালুর জন্য ওয়েট করতে লাগলাম। আজ এ হোটেল থেকে চেকআউট করে আমি বাঙালিপাড়ার কাছে একটা পেনসিওতে উঠবো।

যথারীতি তাদের আসতে দেরি হয়ে গেল। তাদের সহায়াতয়ায় লাগেজ স্থানান্তর করে পাশের এক ক্যাফেতে নাতা আর কফি খেয়ে নিলাম। খালুকে জিজ্ঞেস করলাম আজকে কী প্ল্যান। খালু জানালো আমার জন্য একটা চমক আছে। খালুর ওপর আস্থা আছে, আর খালুও আমার টেস্টটা জানেন, তাই আর বেশি ব্যাক্যব্যায় না করে খালুকে ফলো করতে লাগলাম। কালকে বেশ অনেকটা হাটতে হয়েছে, পাহাড় বেয়েও উঠতে হয়েছে, তাই শুরুতেই খালু নিশ্চিত হয়ে নিলেন আজ হাঁটার মতো অবস্থা আছে কিনা। তাকে আশ্বস্ত করলাম।

লিসবনের সিগনেচার কিছু সিঁড়ি পাড়ি দিয়ে কাই সো দ্রে আর আলফামাকে পেছনে রেখে পাথর বিছানো পথ ধরে এগিয়ে চললাম। সামনেই দেখা যাচ্ছিল সোউ জর্জ ক্যাসেল আর সি ক্যাথেড্রাল। তবে খালু দেখি সেদিকে না গিয়ে আরো সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন। সামনে এগিয়ে গিয়ে তো আমি লা জওয়াব। চলে এসছি চোর বাজার, ইয়ে মানে ফ্লি মার্কেট। চোর বাজার বললে কেমন কেমন শোনালেও আদতে এটি পুরাতন জিনিসপত্র বেচাকেনার স্থান। দিল্লির জামে মসজিদের পেছনে প্রতি শুক্রবারে বসে এই ধরনের বাজার যার নাম চোর বাজারি। তাই দুনিয়ার যেখানেই এই ধরনের পুরাতন জিনিসের বিকিকিনি হয়- তাই অনেকে চোর বাজার নাম দিয়ে ফেলে। আপনারা আবার আমাদের অনলাইন পুরাতন জিনিস বেচা কেনার হাট “রিসাইকেল বিন”কে চোর বাজার নাম দিয়ে ফেলেন না। সাও ভিনসেন্টে দ্যা ফোরা নামক চার্চের পেছনে ক্যাম্পো দ্য সান্টা ক্লারাতে প্রতি শনি আর মঙ্গলবারে বসে এই ফ্লি মার্কেট। এই মার্কেটের আদি ইতিহাস কিন্তু অনেক পুরানো। সেই ১২১২ সাল থেকে লিসবন নগরীর বিভিন্ন স্থানজুড়ে ছড়িয়ে ছিল এই ফ্লি মার্কেট। পরে এক জায়গায় করা হয়।

“ফিয়েরা দ্য লাদরা”র বাংলায় অনুবাদ করলে বলা যাবে “মহিলা চোরদের বাজার”। ঐতিহাসিকদেরমতে এই বাজার বহু পুরানো। ১২শ খ্রিস্টাব্দে এটার সূচনা। তবে “ফিয়েরা দ্য লাদরা” নামকরণ হয় ১৭শ খ্রিস্টাব্দে। কথিত আছে যে বছরের শেষ রাতে অন্তত কিছু একটা চুরি করতে না পারলে, সারা বছর রোজগারপাতি খারাপ যাবে- মহিলা চোরেদের জগতে এমন একটি প্রবাদ সেসময় খুবই চালু ছিল ।৩১ ডিসেম্বর রাত ছিল লিসবনের সব ধরনের চোরেদের হালখাতা করার রাত। মানে এই রাতটিতে কোথাও না কোথাও চুরি করে চোরেরা তাদের নতুন ‘চৌর্যাব্দ’ শুরু করতো । ডিসেম্বর জুড়ে সন্ধে থেকেই হরেক রকমের বাতির আলোয় ভেসে যায় লিসবন। সুতরাং সেই আলো আর জেগে থাকা অত মানুষের চোখ এড়িয়ে যে-চোর কোনও গেরস্তবাড়ি থেকে কিছু চুরি করে আনতে পারে, বোঝা যায়, সত্যিই সে ভাল বংশের চোর । আর এই ধারণাটি থেকেই সম্ভবত এই রাতে কিছু না কিছু চুরি করে মহিলা চোরেরা নতুন বছরের কর্মজীবন শুরু করতো। পরে বিক্রির জন্য নিয়ে আসতো এই খোলা বাজারে।কালের পরিক্রমায় এটা আজ পরিণত হয়েছে সাপ্তাহিক পুরোনো জিনিসের খোলা হাটে।

হোক না যতই বিশ্বায়ন, খোলাবাজার, সুপার মার্কেট, অনলাইন শপিং, ব্রেন্ডেড জিনিসের দিন। তবুও মানুষের পুরাতন জিনিসের প্রতি খুব আকর্ষণ। পুরোনো বইয়ের সোঁদা গন্ধে, কিংবা কোন এক পুরানো ছবির রঙের পোঁচে ডুবে যেতে সবারই মনে হয় খুব ভালো লাগে। এখানে মানুষের কাছে যেন অঢেল সময়। লন্ডনের মতো সময়ের আগে আগে অহেতুক দৌড়নোর চেষ্টা দেখি না। এক ধীর স্থির শান্তি বিরাজমান এই শহরের প্রানে, ছন্দে।শনিবার এখানে বাচ্চাদের ও চাকরিজীবীদের ছুটি থাকে। শুধু লিসবনে না গোটা ইউরোপজুড়ে শনিবার বা রোববার জায়গায় জায়গায় সারাদিনের হাট বসে। দিনটা যদি রৌদ্রদীপ্ত উজ্জ্বল হয়, ইউরোপিয়ান হাটের এই শান্ত বেচা কেনা, লেনদেন এক সুন্দর নিশিন্তির ছবি তুলে ধরে। আদতে ব্যাবহৃত জিনিসপত্রের বেচাকেনার স্থান হলেও জহুরীর চোখ থাকলে মিলে যেতে পারে অমূল্য রতন। ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম, বই, ম্যাগাজিন, ক্যাসেট প্লেয়ার, টিভি, সাইকেল, ফার্নিচার কি নেই সেখানে। আফ্রিকান মুখোশ, ছবি থেকে শুরু করে মরোক্কান নক্সা কাঁটা মাটির বাসন, ভারতবর্ষের শাড়ি, টুপি, ব্যাগ, জুতো, ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী সবই দেখি নিজের জায়গা করে নিয়েছে এই হাটে।

এক দোকানে কয়েকটা ম্যাগাজিনে চোখ আটকে গেল। প্লে বয় ম্যাগাজিনের নাম শুধু শুনেছি কিন্তু হাতে নিয়ে দেখা হয়নি। এখানে দেখি এক দোকানি পুরাতন প্লে বয়ের পসরা সাজিয়ে বসেছে। কিন্তু বিধি বাম, সাথে মুরব্বি থাকায় মনের দুঃখ মনেই চাপা দিয়ে সযতনে দোকানটা পাশ কাটিয়ে গেলাম। একটু সামনেই দেখি একটা দোকানে আর্মির জওয়ানদের ভিড়। উঁকি মেরে দেখি সেনাবাহিনীর ব্যবহারের বিভিন্ন জিনিস বিক্রি হচ্ছে সেখানে। এগুলো অবশ্য আনকোরা। একটা ব্যাগপ্যাক বেশ পছন্দ হয়ে যাওয়ায় আর দামের দিকে তাকালাম না। নিজের জন্য তো কিছুই কেনা হয় না। একটা ব্যাকপ্যাক অন্তত কিনি, এটলিস্ট ট্যুরের সময় কাজে দিবে।

সে ক্যাথেড্রালফ্লি মার্কেটের খুব কাছেই সে ক্যাথেড্রাল। তিন দিন আগে রাতের বেলায় ঘুরে গিয়েছিলাম। তবে আজ দিনের আলোয় আরেকবার ঘুরে দেখার লোভ সামলাতে পারলাম না। ইউরোপের অন্যতম পুরাতন আর বিখ্যাত চার্চ বলে কথা। সেই খ্রিস্টপূর্ব ১২০০ সাল থেকে, ফিনিশিয়ান, কার্থেজিয়ান, ভিসিগথ, আরব, ইহুদী এবং খ্রিস্টানদের হাত ধরে তাগুস নদীর ধারে গড়ে উঠেছিল যে শহর তার মূল ভিত্তি ছিল ক্যাসেল আর তার আশেপাশে নদীর কিনারা পর্যন্ত গড়ে উঠা ঘড়বাড়ি আর টেমপল। কালে কালে শহর আরো বিস্তৃত হয়েছে, কিন্তু শহরের মূল কেন্দ্র কিন্তু একই রকমই রয়ে গেছে। ১১৩৯ সালে যখন লিসবন প্রতিষ্ঠিত হয় তখনও কিন্তু আলফামা আর তার ক্যাসেলই ছিল এই শহরের প্রাণ।

সেই সময় লিসবন ছিল একটি আরব শহর। আরবদের শক্তিশালী দুর্গ আর তাকে ঘিরে গড়ে উঠা গোলকধাঁধাই ছিল আল-হাম-মা যা অপভ্রংশ হয়ে রূপ নিয়েছে আলফামায়। ১১৪৭ সালে যখন পর্তুগালের প্রথম রাজা ডম আলফানসো মুরিশ তথা মুসলমদের হটিয়ে দুর্গ জয় করেন, তখনি তিনি এখানে একটি মনুমেন্টাল ক্যাথেড্রাল নির্মানের আদেশ দেন। এই ক্যাথেড্রালের সামনেই আমরা এখন দাঁড়িয়ে, স্থানীয়দের কাছে যা সে ক্যাথেড্রাল নামে পরিচিত। পদুয়ায় স্থানতরের আগে এখানেই সেইন্ট এন্থনি অব লিসবনের ব্যাপটাইজেশন করা হয়েছিল ১১৯৫ সালে। ক্যাথেড্রালের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে এঁকে যতটা না ক্যাথেড্রালের মত মনে হচ্ছিল, তার চাইতে বেশি মনে হচ্ছিল কোন দুর্ভেদ্য দুর্গের মত। দুইপাশে দুই বিশাল খিলানের মাঝে আর্চওয়ে আর তার উপরে গোলাকার বেলজিয়ান গ্লাসের নকশা করা রঙিন জানালা। ইচ্ছে ছিল ভিতরে ঢুকে একটু ঘুরে দেখার, কিন্তু বিধি বাম, বড্ড অসময়ে চলে এসেছি, এ সময় পার্থনার কারনে ভিতরে প্রবেশ নিষেধ। কি আর করা আমার মনের দুঃখ বুঝতে পেরে খালু প্রস্তাব দিলেন পার্কা দ্য কমাওর্সিওতে আরেকটা চার্চ ঘুরে দেখার- যার নাম চার্চ অব দ্য লেডি অফ কন্সেপশন।

চার্চ অব দ্য লেডি অফ কন্সেপশন
সে ক্যাথেড্রালে ঢুকতে না পেরে আলফামার গলিপথ পেরিয়ে দ্রুতই নিচের দিকে নামতে লাগলাম। গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকবারই এই পথে উপরে উঠেছি, তাই রস্তাও বেশ চেনা হয়েছে। মূলত ঢাকার পর দিল্লি বাদে কোন শহরেই এতটা সময় কাটানো হয়নি। খুব দ্রুতই পাহাড়ের উপর থেকে নিচে নেমে এলাম। পার্ক দ্য কমার্সিওতে পৌঁছার ঠিক আগেই পেয়ে গেলাম এই অনিন্দ্য সুন্দর চার্চটা। গত কয়েক দিনে এখান দিয়ে বেশ কয়েকবারই অতিক্রম করে গেছি, এমনকি লিসবনে আসার প্রথম দিনে রাতের বেলায় ঢুঁও মেরেছিলাম। বন্ধ থাকায় রাতের বেলায় সেইভাবে লক্ষ্য করা হয়নি। চার্চে ঢোকার মুখটাই অসাধারণ কারুকাজ করা। নানা ধরনের পৌরাণিক চরিত্র খোদাই করা আছে গেটের পেটিওজুড়ে। ভারি কাঠের দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকে পড়লাম। ভিতরে খুব কম মানুষ রয়েছে। বেশিরভাগই প্রার্থনায় ব্যাস্ত। তাদের পার্থনায় ব্যাঘাত না ঘটিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলাম। সামনে দুই সারিতে বেঞ্চি পাতা, তার মাঝ দিয়ে ওয়াকওয়ে। দুই পাশে বেশ উঁচু বেদিতে মোমবাতি জ্বলছে। আর মাতা মেরি আর যিশুর বিভিন্ন মুর্তি অন্যরকম দ্যোতনা সৃষ্টি করেছে। ১০৮ কাসটম স্ট্রিত বা রুয়া দ্যা আলফানডেগায় অবস্থিত এই চার্চের আরেক নাম ইগ্রেজা দ্যা নসা সেনহরা দ্য কন্সিকাও ভেলহা। উচ্চারন করতেই তো দাত কপাটি লেগে যাবার জোগাড়। লিসবনের বিখ্যাত ভূকম্পের পর ১৭৫৫ সালে এই চার্চ পুনঃনির্মান করা হয়। চার্চে ঢোকার মুখে যে প্রবেশদ্বার তা কিন্তু এই চার্চের চাইতেও পুরানো। এই প্রবেশমুখ আসলে ভূমিকম্পের আগে এখানে যে চার্চ ছিল তারই ভগ্নাবশেষ। সেই চার্চের নাম ছিল আওয়ার লেডি অব মার্সি। চার্চের ভিতরের চ্যাপেল সোনালি রঙ্গে গিলটি করা আর তাকে আরো সুষমামন্ডিত করেছে আঠারোশ শতকের কিছু টাইলস আর ষোড়শ শতকের কিছু তৈলচিত্র। ঘুরে ঘুরে দেখে এখান থেকে বের হয়ে এলাম।

সবেমাত্র দুপুর গড়িয়ে বিকেলের দিকে সূর্য হেলে পড়েছে। হাতে অনেক সময় বাকি। কার্যত আমাদের আজকে আর কোন ঘোরাঘুরির প্ল্যান নেই। তবে আগে পেট শান্ত করতে হবে। এখান থেকে বাঙালিপাড়া যেহেতু খুব একটা দূরে নয়, তাই হাঁটতে হাঁটতে সেদিকেই রওনা দিলাম। পরিচিত এক দোকানে ইলিশ মাছ আর ছোট মাছের ঝোল সাথে করল্লা ভাজি আর ঘন ডাল দিয়ে পেট ভরে ভাত খেলাম। আহ কতদিন পর এমন তৃপ্তি করে ভাত খেলাম। দোকানের মালিক কাল সকালে নেহারি খাওয়ার দাওয়াত দিলেন। ভেবে দেখুন তো সাত সমুদ্র তেরো নদী পাড়ি দিয়ে লিসবনের মতো শহরে নেহারি দিয়ে তন্দুল রুটি খাচ্ছেন। ভাবতেও সুখ। তবে খাওয়া দাওয়ার পর একটু পাওয়ার ন্যাপ না নিলেই নয়। আজকে হেঁটেছিও অনেকটা পথ। তাই এ যাত্রা খালুকে ছুটি দিয়ে হোটেলর পানে রওনা দিতে চাইওলাম। যতই খালুকে বোঝাই আমি একলাই হোটেলে ফিরতে পারব, কিন্তু তিনি কিছুতেই ছাড়বেন না। একেবারে ছোট বাচ্চার মতো হাত ধরে হোটেলের রূমে পৌঁছে দিয়ে তারপর বিদায় নিলেন। কথা হলো সন্ধ্যার দিকে শুভ মামা এসে আমাকে নিয়ে আবার বের হবেন। সন্ধ্যায় খালুর একটা বিজনেস মিটিং আছে তাই তিনি আসতে পারবেন না, তবে কথা দিলেন ডিনার একসঙ্গেই করবেন। রুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়েই সোজা বিছানায়। কতক্ষণ ঘুমালাম তা জানি না।

২৫ শে এপ্রিল ব্রিজ
ঘুম ভাঙলো শুভ মামার ডাকাডাকিতে। দ্রুতই রেডি হয়ে বের হয়ে এলাম। মামাকে জিজ্ঞেস করায় জানালো আমাদের এখনকার গন্তব্য পন্তে ২৫ দ্য এব্রিল। নামটা পরিচিত ঠেকছিল। একটু চিন্তা করতেই মনে পড়লো বেলেমে সিটি ট্যুরের সময় আমাদের গাইডের মুখে শুনেছিলাম এই নাম। পন্তে মানে হচ্ছে ব্রিজ। তার মানে আমরা দেখতে যাচ্ছি ২৫ শে এপ্রিল ব্রিজ। আমার হোটেলের নিচেই মেট্রো স্টেশন। আর আমাদের যেহেতু ফ্রি পাস আছে তাই অন্য ট্রান্সপোর্ট ইউস করার চিন্তাও করি না। কয়েকটা ষ্টেশন পার হয়ে আমরা মেট্রো ত্যাগ করলাম। বাকিটা পথ হেঁটেই উঠলাম একটা ভিউ পয়েন্টে। এখান থেকে ২৫ শে এপ্রিল সেতু খুব ভালোভাবে দেখা যায়। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় ব্রিজে লাইটও জ্বলে উঠেছে। তাগুস নদীর তীরে দাঁড়িয়ে ভিউ পয়েন্ট থেকে দেখা এই ব্রিজের স্মৃতি আজীবনের মতো মনের খাতায় দাগ রেখে গেল।

অনেকে সান ফ্রান্সিসকো-ওকল্যান্ড বে ব্রিজের সাথে লিসবন সাসপেনশন সেতুর তুলনা করে থাকে। তবে আমার কাছে গোল্ডেন গেট ব্রিজের সাথেই অনেক মিল রয়েছে বলে মনে হলো। ২০১৯ সালে আমেরিকায় ভ্রমণের সময় সানফ্রানসিসকোতে সুযোগ হয়েছে এই ব্রিজ চাক্ষুস দেখার। তাই তখনই তুলনাটা ভালো করতে পেরেছি। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি দুইটি সেতুই একই কন্সট্রাকশন হাউস থেকে তৈরি। তাই স্ট্রাকচারে এত মিল। প্রায় ২.২ কিমি দীর্ঘ এই ২৫ শে এপ্রিল সাসপেনশন সেতুটি বিশ্বের অন্যতম লম্বা ব্রিজের মধ্যে একটি। ১৯৬৬ সালে নির্মিত, তার লালচে-কমলা রঙটি এটি সানফ্রান্সিসকোসের গোল্ডেন গেট ব্রিজের মতো দেখাচ্ছে। ২৫ এপ্রিল সেতুটি মূলত প্রথমে নামকরণ করা হয়েছিল পর্তুগালের ডানপন্থি স্বৈরশাসক, এন্টোনিও ডি অলিভিয়ার সালাজার এর নামে, যিনি ১৯৩২ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত শাসন করতেন। পর্তুগালের ১৯৭৪ সালের বিপ্লবের পর, বিপ্লবের সমর্থকের এই ব্রিজের নাম পরিবর্ত করে বর্তমান নামে রাখে। সালাজারের দলের প্রতি অনুগতরা এখনো সেতুটিকে সালাজর সেতু নামেই ডেকে থাকে এবং যারা তাদের রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে চায় তার শুধু ব্রিজ অন দ্য রিভার বলেই খালাস। বেশ কিছুটা সময় এখানে কাটিয়ে আবার ফিরতি পথ ধরলাম। খালুর সাথে রাতে এক তার্কিশ রেস্টুরেন্টে ডিনার করার কথা। তাই আর কালক্ষেপণ না করে মেট্রো স্টেশনের দিকে পা বাড়ালাম।

আফ্রিকান নেশনস কাপ: ভিড়ে চাপা পড়ে ৮ দর্শকের মৃত্যু

আফ্রিকান নেশনস কাপ ফুটবলে ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে সোমবার স্টেডিয়ামে ভিড়ের মধ্যে চাপা পড়ে অন্তত আটজন প্রাণ হারিয়েছেন।

ক্যামেরুনের ইয়াউন্ডে ওলেম্বে স্টেডিয়ামে খেলা শুরুর আগে এ ঘটনা ঘটে। মধ্য আফ্রিকার দেশটির জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যমের এ খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। খবর এনডিটিভির।

এ ঘটনায় অর্ধশতাধিক ফুটবল ভক্ত আহত হয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা ছবিগুলোতে স্টেডিয়ামের একটি প্রবেশপথে পিষ্ট হওয়া লোকজনকে চিৎকার করতে দেখা গেছে। তবে ছবিগুলো ওই ঘটনারই কিনা তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

এক বিবৃতিতে আফ্রিকার ফুটবলের নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ সিএএফ জানিয়েছে, ওই স্টেডিয়ামের ঘটনাটি তাদের দৃষ্টিগোচরে এসেছে।

আফ্রিকার সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই ফুটবল টুর্নামেন্টটির জন্য কয়েকটি নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণ করেছিল ক্যামেরুনের কর্তৃপক্ষ। কিন্তু টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ডে তেমন দর্শক না হওয়ায় কর্তৃপক্ষ এবার স্টেডিয়ামের গেট খুলে দিয়ে দর্শকদের বিনামূল্যে টিকিট দিয়েছে আর তাদের জন্য গণপরিবহণেরও ব্যবস্থা করেছে।

ঘটনাবহুল এ খেলায় ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া কমোরোস দ্বীপপুঞ্জকে ২-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠছে ক্যামেরুন।

সিলেটকে ১০১ রানের টার্গেট দিল ঢাকা

সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে ভয়াবহ ব্যাটিং ব্যর্থতায় মাত্র ১০০ রানে গুটিয়ে গেছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মিনিস্টার ঢাকা। প্রথম জয় পেতে আজ সিলেটের দরকার ১০১ রান।

নাজমুল ইসলাম অপুর স্পিন বিষে নীল হলে গেছে ঢাকার ব্যাটিং লাইনআপ। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে মাত্র ১৮ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়েছেন এই স্পিনার।

এর মধ্যে দুই উইকেটে ছিল আম্পায়ারের স্পষ্ট ভুল সিদ্ধান্ত। এছাড়া তাসকিন আহমেদের ঝুলিতে গেছে তিন উইকেট।

ইসিমের পর এবার আসছে আইসিম

ইন্টিগ্রেটেড সাবস্কাইবার আইডেন্টিটি মডিউল সংক্ষেপে আইসিম (iSIM) ফোনের প্রসেসরের মধ্যেই সংযুক্ত থাকবে। বেশ কিছুদিন থেকেই ইসিমের হিড়িক লক্ষ করা গিয়েছিল। যদিও ইসিম খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি। এর মধ্যেই আবার আইসিম প্রযুক্তির নাম শোনা যাচ্ছে। আজকের আয়োজনে আইসিম প্রযুক্তি কী, কীভাবে কাজ

করে এ প্রযুক্তি তারই বিস্তারিত লিখেছেন- ফয়সাল আহমাদ

শোনা যাচ্ছে আইসিম এনাবেল স্মার্টফোনে কোনো সিম কার্ড স্লট থাকবে না। আর থাকবে না বলেই সেই ফোনের ডিজাইন ভালো হবে, ব্যাটারি হবে আরও শক্তিশালী। আকার বা আয়তনের দিক থেকে সিম কার্ড পরিবর্তিত হলেও মূল ধারণা কিন্তু একই রয়েছে। মার্কেট থেকে এখনো ফিজিক্যাল সিম কার্ডের দৌরাত্ম্য কাটেনি। প্রথাগত ফিজিক্যাল সিম কার্ডের থেকে আকারে খুবই ছোট্ট ইসিম কার্ডের মাধ্যমে যে কোনো টেলিকম অপারেটরের কানেকশন ব্যবহার করা যায়। চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কোয়ালকম নতুন ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে। অপারেশনাল স্মার্টফোনে এ আইসিম প্রদর্শনের জন্য ভোডাফোন এবং থেলসের সঙ্গে জোটও বেঁধেছে সেমিকন্ডাক্টর প্রস্তুতকারক মার্কিন এ কোম্পানিটি।

কী এই আইসিম প্রযুক্তি?

আইসিম নতুন প্রযুক্তি হলেও এতে প্রথাগত সিম কার্ডের সব গুণাবলি থাকবে। কিন্তু তা ডিভাইসের প্রসেসরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। অর্থাৎ ফোনে কোনো সিম কার্ড স্লট থাকবে না কিন্তু আইসিম ফোনের ইন-বিল্ট প্রসেসর ইন্টিগ্রেট করা থাকবে। এ প্রযুক্তি এলে অনেকটাই ইসিমের মতো। অবশ্য আইসিম ডিভাইসের সঙ্গে অ্যামবেডেড থাকবে, যেটা ইসিমে ছিল না। জিএসএমএ স্পেসিফিকেশন্স মেনে চলে আইসিম, ডিভাইসের মূল প্রসেসরেই সিম ফাংশনালিটি অ্যামবেড করা রাখতে পারে এ প্রযুক্তি। কোয়ালকমের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আইসিম ব্যবহার করলে স্মার্টফোনের পারফরমেন্স আরও ভালো হবে, মেমোরি ক্যাপাসিটি আরও বাড়বে এবং সেই বৃহত্তর সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনও পাওয়া যাবে।

আইসিমের সুবিধা কী?

স্মার্টফোনের বাইরে গিয়েও একটা সিম কার্ডের ব্যবহার তুলে ধরা আইসিম প্রযুক্তির মূল উদ্দেশ্য। আইসিম প্রযুক্তি ল্যাপটপ থেকে শুরু করে আইওটি, ডিভাইস, স্মার্টওয়াচ, এমনকি ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি প্ল্যাটফরমেও ব্যবহার করা যেতে পারে। কোয়ালকম-জানিয়েছে, এর সুবিধা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম হতে পারে। উদাহরণ হিসাবে বলা যেতে পারে, ডিভাইসের ডিজাইন এবং পারফরমেন্স আগের থেকে আরও উন্নত হবে। কারণ এ প্রযুক্তি ডিভাইসে অনেকটাই জায়গা খালি করে দেবে। সিম কার্ড স্লট না থাকার ফলে স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলো ফোনের ডিজাইনে আরও পরিবর্তন আনতে পারবে। একটা ডিভাইসে সিম কার্ড না দিয়েই তার সব সুবিধা উপভোগ করতে দেবে এ আইসিম প্রযুক্তি।

আইসিমের প্রভাব বাজারে কবে আসবে?

আইসিম বিশ্বের কাছে একটা নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করবে, বিশেষ করে আইওটি ডিভাইসের ক্ষেত্রে। একজন মানুষ আইসিম কানেক্টেড ডিভাইস নিয়ে নিরাপদভাবে আইওটি নেটওয়ার্কে থেকে বিশ্বের যে কোনো জায়গায় ঘুরে বেড়াতে পারবেন। মেইনস্ট্রিমে ছড়িয়ে দিতে এ প্রযুক্তিকে আপন করে নিতে হবে টেলিকম সংস্থাগুলোকে। আইসিম কানেক্টেড ডিভাইস হাতে পেতে এখনো অনেকটাই দেরি, বেশ কিছু বছর লেগে যেতে পারে। প্রথমে প্রযুক্তিটি লঞ্চ হবে আর তার পরে তা দেওয়া হবে বিভিন্ন ডিভাইসে।

ভোডাফোনের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইউরোপে এ ডেমনস্ট্রেশন করা হয়েছিল। যে ডিভাইস ব্যবহৃত হয়েছিল, সেটি হলো স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফ্লিপ থ্রি ৫জি, যাতে কোয়ালকমেরই স্ন্যাপড্রাগন ৮৮৮ ৫জি প্রসেসর রয়েছে। সেই প্রসেসরের সঙ্গেই ইন্টিগ্রেট করা হয়েছিল আইসিম এবং থেলসের আইসিম অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহৃত হয়েছিল।

বাবার পরিচয় দিয়ে হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরি

হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল থেকে বাবার পরিচয় দিয়ে এক নবজাতককে চুরি করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নবজাতককে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন শিশুটির মা, বাবাসহ স্বজনরা।

মঙ্গলবার সকালে নবজাতকদের বিশেষ সেবা ইউনিট থেকে এ চুরির ঘটনা ঘটে।

ওই শিশুটির মা ফেরদাউস আক্তার ও বাবা দেলোয়ার হোসেন শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার মড়রা গ্রামের বাসিন্দা।

এর আগে ওই ইউনিটটি পরিচ্ছন্ন করার কথা বলে তার স্বজনদের বের করে দেন দায়িত্বরতরা। এ ঘটনায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সদর হাসপাতলের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আমিনুল হক সরকার জানান, নবজাতক চুরি যাওয়ার ঘটনাটি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যান। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সদর মডেল থানার এসআই মো. ইয়াকুব আলী জানান, খবর পেয়ে তারা তাৎক্ষণিক হাসপাতালে গেছেন। বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছেন তারা।

ওই নবজাতকের নানি সফিনা খাতুন ও ফুফু শামসুন্নাহার জানান, ভোর সাড়ে ৬টায় নবজাতকটি স্বাভাবিকভাবে ডেলিভারি হয়। এর পর তার কান্না থামছিল না। একপর্যায়ে তাকে নিয়ে নবজাতকদের বিশেষ সেবা ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে কিছু ওষুধ নিয়ে আসতে বলা হয়। ওষুধ নিয়ে যাওয়ার পর ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলে তাদের বের করে দেন দায়িত্বরতরা। পরে তারা ভেতরে ঢুকে দেখতে পান নবজাতকটি নেই।

দায়িত্বরতরা জানান, তার বাবা এসে দুধ খাওয়ানোর কথা বলে শিশুটিকে নিয়ে গেছে। অথচ এ সময় তার বাবা হাসপাতালে আসেননি।

নবজাতকটির বাবা দেলোয়ার হোসেন জানান, তিনি বাড়িতে ছিলেন। ছেলে হয়েছে খবর পেয়ে সকালে হাসপাতালে এসে জানতে পারেন তার সন্তান চুরি হয়ে গেছে। তিনি সন্তান ফেরত চেয়ে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন।

সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্তান জন্ম দিতে সদর আধুনিক হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি হন ফেরদাউস আক্তার। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টায় তিনি স্বাভাবিকভাবেই পুত্রসন্তান প্রসব করেন। এর পর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নবজাতকদের বিশেষ সেবা ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

সকাল ৯টার দিকে ইউনিটি পরিচ্ছন্ন করার কথা বলে ওই ইউনিটে ভর্তি সব নবজাতকের স্বজনদের বের করে দেন দায়িত্বরতরা। কিছুক্ষণ পর সেখানে প্রবেশ করে স্বজনরা দেখতে পান তোয়ালে পড়ে আছে। কিন্তু নবজাতক নেই। এ সময় তারা চিৎকার শুরু করলে দায়িত্বরতরা স্বজনদের জানান নবজাতকটির বাবা দুধ খাওয়ানোর কথা বলে তাকে নিয়ে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে বিষয়টি জানাজানি হলে হুলস্থুল পড়ে যায়।

বইমেলায় আসছে সাড়া জাগানো বই ‘মুসলিম সভ্যতার ১০০১ আবিষ্কার’

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২২ উপলক্ষে সুলতানস থেকে প্রকাশিত হচ্ছে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক থেকে মুদ্রিত প্রফেসর সেলিম টিএস আল-হাসসানি রচিত 1001 Inventions : The Enduring Legacy of Muslim Civilization নামক বিশ্ববিখ্যাত সাড়া জাগানো গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ গ্রন্থ ‘মুসলিম সভ্যতার ১০০১ আবিস্কার’।

বাংলা ভাষায় গ্রন্থটি অনুবাদ করেছেন বেস্টসেলার বই প্রোডাক্টিভ মুসলিমের অনুবাদক মিরাজ রহমান এবং ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ মো. আবুল বাশার।

গ্রন্থটির প্রতিটি লাইনে লাইনে উঠে এসেছে বিশ্ব সভ্যতা বির্নিমাণের নেপথ্যে মুসলিম সভ্যতার অবদানের চেপে রাখা ইতিহাস। ৩৭৬ পৃষ্ঠা বা ৪৭ ফর্মা বৃহৎ কলেবরের এ গ্রন্থটিতে মোট ৮ অধ্যায়ে শতাধিক বিষয়ভিত্তিক শিরোনামে অসংখ্য আবিস্কার ও উন্নয়নের নেপথ্য মুসলিম বিজ্ঞানীদের অবদান-ভূমিকার সত্য ইতিহাসগুলো সংকলিত হয়েছে।

এ ছাড়া মুসলিম সভ্যতার উন্নয়নের সময়কাল ও মুসলিম সভ্যতার প্রধান প্রধান অবদানের মানচিত্র শিরোনামের ২টি ব্যতিক্রমধর্মী টাইমলাইন সংযোজন করার পাশাপাশি সাড়ে ৯ ইঞ্চি বাই সাড়ে ৬ ইঞ্চি সাইজের বইটি যুক্ত করা হয়েছে অসংখ্য দূর্লভ ও বিরল হিস্ট্রিক্যাল ছবিও।

বইটি সম্পর্কে অনুবাদক মিরাজ রহমান বলেন,‘গোটা বিশ্বের ইতিহাস থেকে মুসলিম সভ্যতার অবদানমুখর একটি অধ্যায়কে মুছে ফেলে এবং সকল প্রকারের শিক্ষা পাঠ্যক্রম থেকে এ আলোচনাকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে মুসলিম বিজ্ঞানীদের অবদানমূখর যে সময়টিকে ‘ডার্ক এইজ’ বা অন্ধকার যুগ হিসেবে পরিচিত করানো হয়েছে,এ গ্রন্থে মূলত সে সময়টিকে ‘গোল্ডেন এইজ’ বা স্বর্ণযুগ হিসেবে প্রমাণ করা হয়েছে।’

বইবাজার.কম, রকমারি.কম, ওয়াফিলাইফ.কম ও বইফেরী.কমসহ দেশের বিভিন্ন অনলাইন বুকশপে বইটির প্রি-অর্ডার চলছে। ৭০০ টাকা মুদ্রিত মূল্যের বইটি প্রি-অর্ডার ক্রয় করা যাবে ৪৫% ছাড়ে মাত্র ৩৮৫ টাকায়।

এছাড়া প্রত্যেক প্রি-অর্ডারকারীকে উপহার হিসেবে প্রদান করা হবে রাসুলের (সা.) দরুদ আঁকা আকর্ষণীয় নোটবুক। সরাসরি সুলতানস থেকে বইটি কিনেতে চাইলে কল করতে পারেন ০১৮১০০১১১২৫ বা ২৬ নম্বরে।

বিশ্ব সভ্যতা বিনির্মাণের নেপথ্যে যারা মুসলিম সভ্যতার অবদানের ইতিহাস জানতে চান; আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান-তথ্য-প্রযুক্তি এবং উন্নয়ন-আবিষ্কারে মুসলিম বিজ্ঞানীদের ভূমিকার সঠিক ইতিহাস যারা পড়তে চান— এ গ্রন্থ তাদের জন্য।

কুড়িগ্রামে দুর্নীতির মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দুর্নীতির মামলায় এক ইউপি চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার রাতে পাথরডুবি ইউনিয়নে তার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার চেয়ারম্যানের নাম হুমায়ুন কবির মিঠু। তিনি উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান।

পুলিশ জানিয়েছে, ২০১৮ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোনা থাকায় তাকে আটক করা হয়েছে।

ওসি আলমগীর হোসেন চেয়ারম্যানকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অসুস্থ মালদ্বীপ প্রবাসীর পাশে দাঁড়াল বাংলাদেশি

পরিবারের সুখের আশায় ২০১৬ সালে মালদ্বীপে আসেন সাইফুল ইসলাম। মালদ্বীপে এসে কাজে যোগ দেন দ্বীপ রাষ্ট্রের কুলুধুফুশী আইল্যান্ডের একটি বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে।

মালদ্বীপে আসার তিন বছর অতিবাহিত হলে প্রথমবারের মতো দেশে যান সাইফুল ইসলাম। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলি উপজেলার শাহাজানপুর গ্রামের পাশুমিয়ার তৃতীয় পুত্র। তার পরিবারে স্ত্রী ও এক কন্যাসন্তান রয়েছে। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কিছুদিন ছুটি কাটিয়ে আবারও কর্মস্থলে ফিরেন। তবে ২০২০ সালে করোনাকালীন অবস্থায় হুট করে সাইফুল ইসলাম যে কোম্পানিতে কাজ করতেন সেটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে তার জীবনযাত্রা খুব কষ্টের মধ্যে পড়ে যায়।

এভাবে বছরখানেক কেটে যায় কিন্তু দেশে ছুটিতে যাওয়া হয় না তার। একদিকে অবৈধ অন্যদিকে চলে কষ্টের জীবন। অবৈধ হওয়াতে মাসিক কোনো বেতন না পাওয়ায় দৈনিক চুক্তিতে মাঝে মাঝে কাজ করতে হয় সাইফুল ইসলামকে। গত তিন চার বছর ধরে মালদ্বীপে তার বৈধ ভিসা না থাকায় লুকিয়ে কাজ করতে হয় এই প্রবাসীকে। তবে গত ছয় মাস আগে হঠাৎ অসুস্থ হলে কুলুধুফুশী আইল্যান্ডের হাসপাতলে ভর্তি করানো হয় তাকে। হাসপাতালে তার প্রাথমিক চিকিৎসা হয় এবং তার পেটের সমস্যা থাকাতে, চিকিৎসক এর পরামর্শ অনুযায়ী পেটের অপারেশন করা হয় কিন্তু পেটের সমস্যা সমাধান না হওয়াতে কুলুধুফুশী আইল্যান্ডের চিকিৎসক তাকে দ্বীপরাষ্ট্রের রাজধানী মালের আইজিএম হাসপাতালে পাঠান। মালদ্বীপের সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক সমস্ত ট্রিটমেন্ট শেষে বলা হয় তার পেটের সমস্যা ক্যান্সারে পরিণত হয়েছে। অসহায় সাইফুল ইসলামকে বাংলাদেশি বেশ কয়েকজনে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন নজরুল ইসলাম নামে এক প্রবাসী।

এদিকে উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দেশে যাওয়ার জন্য গত মাসে US-Bangla বিমানের টিকিটও নেওয়ার চেষ্টায় ছিলেন সাইফুল ইসলাম। পাসপোর্ট ও ভিসা না থাকার কারণে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। টিকিট আর পাসপোর্ট নিয়ে যখন জটিলতায় ভুগছেন তখন তার পাশে সাহায্যের হাত বাড়ান বিশিষ্ট ব্যবসায়িক Dhaka Traders-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর বাবুল হোসেন এবং FourL কোম্পানির ম্যনেজিং ডিরেক্টর হাদিউল ইসলাম। এই দুই বিশিষ্ট ব্যক্তির অর্থনৈতিক ও সার্বিক প্রচেষ্টায় সাইফুল ইসলামের মালদ্বীপের ইমিগ্রেশনসহ, টিকিট এবং মালদ্বীপস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সাহায্যে দ্রুত ট্রাভেলিং পাসপোর্ট এর কাজ সম্পন্ন হয়।

উল্লেখ্য, বর্তমানে সাইফুল ইসলাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মালদ্বীপের আইজিএম হাসপাতালে আছেন। মঙ্গলবার US-Bangla এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে মালদ্বীপ ছেড়ে যাবেন তিনি।

ভারি তুষারপাতে বন্ধ ইউরোপের ব্যস্ততম বিমানবন্দর

বিরল তুষারঝড়ে সোমবার ধসে পড়েছে ইস্তানবুল বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালের একাংশ।

ফলে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইউরোপের ব্যস্ততম বিমানবন্দরটি। খবর আলজাজিরার।

পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুষারঝড়ে বিধ্বস্ত অ্যাথেন্স। স্কুল-দোকান-বাজার বন্ধ হয়েছে আগেই। তার পর সোমবার থেকে বন্ধ হয়ে গেল মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা থেকে ইউরোপ ও এশিয়া যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ আকাশপথ।

ইস্তানবুল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০১৯ সালের পর এই প্রথমবার বন্ধ রাখতে হলো ইস্তানবুল বিমানবন্দর। এতে বেশ অসুবিধায় পড়েছেন যাত্রীরা।

গত বছর ৩ কোটি ৩৭ লাখ যাত্রী যাওয়া-আসা করেছেন এই বিমানবন্দর দিয়ে।

শীতের শুরুতে ইস্তানবুলবাসীর ভালোই কাটছিল। প্রথম তুষারপাতের আনন্দে মজে ছিলেন ছোট-বড় সবাই। বিপর্যয় শুরু হলো দিন কয়েক আগে।

ভয়ঙ্কর তুষারপাতে বিধ্বস্ত তুরস্কের বৃহত্তম শহর। পুরু বরফের আস্তরণে ঢাকা পড়েছে রাস্তাঘাট। রাস্তা, হাইওয়ে, পার্কিং-লট সব সাদা! তাড়াতাড়ি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে শপিংমলগুলো। এমনকি খাবারের ডেলিভারি সার্ভিসও বন্ধ।

ইতোমধ্যে ইস্তানবুল কর্তৃপক্ষ গাড়িচালকদের বিশেষভাবে সাবধান করা হয়েছে। আরোপ হয়েছে থ্রেস থেকে ইস্তানবুল প্রবেশের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ। আর তার মধ্যেই বন্ধ হয়ে গেল ইস্তানবুল বিমানন্দর।