শনিবার ,১৩ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 447

যেভাবে অভিনেতা থেকে রাশিয়ার ১ নাম্বার টার্গেট জেলেনস্কি

ভলোদিমির জেলেনস্কি উজ্জ্বল আলোর নিচে দাঁড়িয়ে ইউক্রেনীয় জনগণকে একটি বার্তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

তিনি বলেন, ইউক্রেন আজ একতাবদ্ধ, আর এটিই আমাদের বিজয়। বক্তৃতাটি ছিল কাল্পনিক। এই কথাটি জেলেনস্কি অভিনীত তার এক ভাগ্যহীন স্কুলশিক্ষককে নিয়ে ‘সার্ভেন্ট অব দ্য পিপল’-এর সমাপনী দৃশ্য থেকে এসেছে। যে শোতে দেশের প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন দুর্নীতির ঘটনা ভাইরাল হওয়ার পর নিজেই প্রেসিডেন্ট হন।

সেই সিরিজ শুধু জেলেনস্কিকে তারকা বানিয়ে দেয়নি, এটি অবশেষে তার বাস্তব জীবনের রাষ্ট্রপতি প্রচারের জন্য স্প্রিংবোর্ড হিসেবে কাজ করে। ২০১৯-এর এপ্রিলে ওই শোর সমাপ্তির এক মাসের মধ্যে, কৌতুক অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ এবং শেষে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন জেলেনস্কি।

জেলেনস্কির দুর্ভাগ্য যে, শুক্রবার আবারও একটি উজ্জ্বল আলোর নিচে জেলেনস্কিকে দাঁড়াতে হয়েছে। কিন্তু সেদিন আর এই দিনের মধ্যে আজ অনেক তফাৎ। বৃহস্পতিবার রাশিয়ান বাহিনী ইউক্রেন আক্রমণ করার পর শোর চূড়ান্ত মুহূর্তগুলো এমন হতে পারে তিনি তা আর কখনও অনুভব করেননি।

শুক্রবার সকালে টিভিতে এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, আমাদের সৈন্যরা খুব তীক্ষ্ণতার সঙ্গে দেশকে রক্ষার জন্য লড়ে যাচ্ছেন। এটি এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহৃর্ত। আমাদের দেশের ভাগ্য নির্ধারিত হচ্ছে।

রাশিয়ার পুরোদমে হামলা বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হয়। রাশিয়ার সৈন্যরা জল, স্থল ও আকাশপথে ইউক্রেনে হামলা চালাচ্ছেন। এই হামলা দেখে মনে হচ্ছে— পুতিনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ইউক্রেন এবং এটির রাজধানী দখল করা।

শুক্রবার জেলেনস্কি পুতিনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার জন্য পুতিনকে কল করেন।

তিনি বলেন, ইউক্রেনের সব জায়গায় যুদ্ধ চলছে। চলুন এই যুদ্ধ ও মৃত্যু বন্ধ করতে আমরা আলোচনার টেবিলে বসি।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তির প্রতিবেদন অনুসারে, শুক্রবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের সঙ্গে মিনস্কে কথা বলার জন্য প্রস্তুত ছিল।

জেলেনস্কির এক উপদেষ্টা সিএনএনকে বলেন, কিয়েভ এখন সেই প্রস্তাবে প্রস্তুত আছে।

ইউক্রেনের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার এখনও টিকে আছে। কিন্তু পুতিন শুক্রবার এটি পরিষ্কার করে বলেছেন যে, তিনি ইউক্রেনকে একটি বৈধ সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দেখেন না।

পুতিন ইউক্রেনের জনগণকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, তোমরা জেলেনস্কিকে উৎখাত কর। তোমরা ক্ষমতা নিজের হাতে নাও। আর তাতেই তোমাদের সঙ্গে যে কোনো চুক্তিতে আসা সহজ হবে। যেখানে মাদকাসক্ত এবং নব্য-নাৎসিদের এই গ্যাং, যারা কিয়েভে বসতি স্থাপন করেছে এবং সমগ্র ইউক্রেনীয় জনগণকে জিম্মি করেছে তাদের সঙ্গে চুক্তিতে আসা খুবই ভয়াবহ।

পুতিন এবং তার সরকার বারবার ভিত্তিহীন ও ভুল দাবি করেছে যে, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ইউক্রেনীয় সরকার একটি ‘ফ্যাসিবাদী বা ‘নাৎসি’ শাসন। জেলেনস্কি ইহুদি এবং তার পরিবারের সদস্যরা হলোকাস্টে নিহত হয়েছিল।

পুতিনের মন্তব্য ইউক্রেনে কোনো ধরনের অভ্যুত্থানে সহায়তা করবে না। এই হামলার পর কিয়েভের অনেক বাসিন্দা শহর ছেড়ে চলে গেছে। আর যারা রয়ে গেছে, তারা পুতিনকে সমর্থন করার সম্ভাবনা কম। কারণ ইউক্রেনের শেষ রাশিয়াপন্থি নেতাকে ২০১৪ সালে একটি বিদ্রোহে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল দেশটির জনগণ।

আর এসব কারণে পুতিন ইউক্রেনের ক্ষমতায় জেলেনস্কির সরকারকে দেখতে চায় না। তাই জেলেনস্কি ক্রেমলিনের এক নাম্বার টার্গেটে পরিণত হয়েছে।

পালিয়ে না যাওয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে দফায় দফায় হামলা চালাচ্ছে রুশ বাহিনী। আত্মসমর্পণ ও আক্রমণের মুখে কিয়েভে অবস্থান করছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। আক্রমণের মুখে প্রাণ হারানোর শঙ্কা থাকলেও দেশ ছেড়ে পালাননি তিনি।

ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপদে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও দেশের মানুষকে শত্রুর মুখে ছেড়ে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জেলেনস্কি। একই সঙ্গে রুশ বাহিনীর মোকাবিলায় সামরিক পোশাক পরে রাস্তায় নেমেছেন তিনি। তার এমন নেতৃত্ব ও সাহসিকতার প্রশংসা হচ্ছে চারদিকে।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে কিয়েভের রাস্তায় ছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী, চিফ অব স্টাফসহ ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা।

ভিডিওবার্তায় জেলেনস্কি বলেন, আজ রাতে শত্রুরা আমাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাঙতে বিশ্বাসঘাতকের মতো জঘন্য ও অমানবিক পথে হলেও তাদের সব শক্তি ব্যবহার করবে। আজ রাতে শত্রুরা আমাদের ওপর আক্রমণ করবে। আমাদের সবাইকে বুঝতে হবে আমরা কীসের মুখোমুখি হচ্ছি। এই রাতটা আমাদের সহ্য করতে হবে।

কিয়েভ এবং খারকিভসহ ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি শহরকে রাশিয়ান সেনারা তাদের প্রধান টার্গেট বানিয়েছে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, কিয়েভকে রক্ষার জন্য বিশেষ প্রচেষ্টার প্রয়োজন। আমরা রাজধানী হাতছাড়া করতে পারি না।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে এটিকে অন্যতম বড় হামলা বলে ধারনা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলছে, ইউক্রেনে আনুমানিক এক লাখ বাসিন্দা ইতোমধ্যে তাদের ঘরবাড়ি ছেড়েছে। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে ৫০ লাখ পর্যন্ত মানুষ ইউক্রেনে ঘরছাড়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।

দেশ ছেড়ে পালাতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান জেলেনস্কির

রাশিয়ার হামলায় টালমাটাল অবস্থা ইউক্রেনের। এমন অবস্থায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে দেশ ছেড়ে পালানোর জন্য সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন।

তবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছেন জেলেনস্কি। যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত অফিসের এক ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা পালানোর প্রস্তাব প্রদানকারী এবং জেলেনস্কির মধ্যে এই কথোপকথনের কথা জানান। খবর বার্তাসংস্থা এপি।

যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া এমন প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রকে বলেন, আমার দেশে যুদ্ধ চলছে। আমার এখন সামরিক সহায়তা দরকার; দেশ ছেড়ে পালানোর সহায়তা নয়।

তবে জেলেনস্কির এমন উত্তরে পালানোর প্রস্তাবদাতা মার্কিনী জেলেনস্কিকে অতি উৎসাহী বলে আখ্যা দিয়েছেন।

এদিকে হামলার দ্বিতীয় দিন শুক্রবার মধ্যরাতে রাজধানী কিয়েভের চারদিক ঘিরে ফেলেছে রুশ সেনারা।এ সময় মুহুর্মুহু বিস্ফোরণে কেঁপে উঠে গোটা কিয়েভ। শনিবার ভোরে কিয়েভের একটি সেনাঘাঁটিতে রাশিয়া হামলা শুরু করেছে।

এদিকে কিয়েভের কাছে একটি বিমানঘাঁটি দখল করে নেওয়ার দাবি করেছে রাশিয়া।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, তাদের সেনাবাহিনী কিয়েভের কাছে কিয়েভ হস্তমেল বিমানঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে।

কিয়েভের পেরেমহি অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত ইউক্রেনের একটি সেনাঘাঁটিতেও শনিবার মধ্যরাত থেকে তুমুল যুদ্ধ চলছে রুশ বাহিনীর সঙ্গে।

বাজেট প্রণয়নে তথ্য ও স্বচ্ছতার অভাব

দেশের জাতীয় বাজেট প্রণয়নে তথ্য-উপাত্তে ঘাটতি রয়েছে। এক্ষেত্রে কোথাও কোথাও আইনের লঙ্ঘন করা হচ্ছে। রাজস্ব আদায়ের ব্যাপারে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে। এসব কারণে বাজেটে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।

এছাড়াও প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ আয়োজিত সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সিপিডির সম্মানিত ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সিপিডির চেয়ারম্যান ড. রেহমান সোবহান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান সাবের হোসেন চৌধুরী, পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, আইন ও বিচারসংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত সচিব রনজিত কুমার চক্রবর্তী এবং এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটিটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্স ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সরকারের আর্থিক খাতের তথ্য-উপাত্ত সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। যথাসময়ে কোনো তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায় না। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বাজেটে কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা জানা যায় না।

এতে বলা হয়, রাজস্ব আয়ের পরিসংখ্যান নিয়ে অর্থ বিভাগ ও এনবিআরের মধ্যে গরমিল রয়েছে। ব্যাংক ঋণের তথ্য নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি আছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে আইএমইডির (সরকারের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ) দেওয়া তথ্যের সঙ্গে অর্থ বিভাগের তথ্যে মিল নেই। তিনি বলেন, অডিট রিপোর্ট ঠিকমতো প্রকাশ হয় না।

বাজেটে যে বরাদ্দ দেওয়া হয় তার তথ্য জানা গেলেও প্রকৃত খরচ জানা যায় না। তথ্য-উপাত্তের ঘাটতি হলে সরকারের নীতি গ্রহণে অসুবিধা হয় বলে মনে করেন জনপ্রতিনিধিরা। জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।

ড. রেহমান সোবহান বলেন, পলিসির সুফল পেতে গুণগত মানসম্পন্ন ডেটা জরুরি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সরকারি খাতের বাইরে থেকে ডেটা নিতে হয়। ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ডেটা পাওয়া যায় না। এতে জনগণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’ জিডিপির প্রবৃদ্ধির অর্ধবার্ষিক হিসাব প্রকাশের পরামর্শ দেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। বলেন, ‘এটা করা হলে আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং জিডিপির হিসাব নিয়ে যে বিতর্ক দেখা দেয়, এর অবসান ঘটবে।’ সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, বাজেটকে আরও স্বচ্ছ হতে হবে এবং বাজেট প্রণয়নে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, ‘শুধু বাজেট প্রণয়ন করলেই হবে না, এমপিদের দায়িত্ব হচ্ছে বাস্তবায়ন কতটুকু হয়েছে, তা পর্যবেক্ষণ করা।’ আর্থিক খাতে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তের ঘাটতির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘তথ্য-উপাত্ত হালনাগাদ না হলে এবং সহজভাবে সরবরাহ না করা গেলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নীতিনির্ধারকদের সমস্যা হবে। এজন্য তথ্য-উপাত্ত কীভাবে সহজভাবে সরবরাহ করা যায়, তা নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। আব্দুস শহীদ বলেন, ‘তথ্য-উপাত্ত একটি বড় ইস্যু এবং চ্যালেঞ্জও বটে। পর্যাপ্ত ডেটা না থাকলে কোনো কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না। এর অভাবে বাজেট প্রণয়ন ব্যাহত হবে।

শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘সরকারি আয়-ব্যয়ের ডেটা উন্মুক্ত না। এখানে যথেষ্ট অস্বচ্ছতার ঘাটতি আছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমার নির্বাচনি এলাকায় যত গরিব লোক আছে, বাস্তবে তার চেয়ে বেশি। ‘গত সাড়ে তিন বছরে কেউ আমাকে বলেনি, আপনার এলাকায় বাজেট কত, কত খরচ হলো।’ জাতীয় পার্টির নেতা বলেন, ‘বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে ৩০০ এমপির তেমন কোনো ভূমিকা থাকে না। আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। বাজেট তৈরিতে কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি।’ তিনি বলেন, ‘সংবিধানে বলা আছে, জনপ্রতিনিধিদের সম্মতি ছাড়া কোনো করারোপ করা যায় না। অথচ এটা নিয়ে সংসদে কোনো আলোচনা হয় না।

কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘উন্নয়ন বেশি করতে চাইলে তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ সহজ করতে হবে।’ সাবেক অতিরিক্ত সচিব রণজিৎ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘আর্থিক খাতের প্রায় সবক্ষেত্রেই অটোমেশন হচ্ছে। এর ফলে আশা করা যাচ্ছে তথ্য সরবরাহ আরও সহজলভ্য হবে।’ তিনি বলেন, ‘ইতিবাচক দিক হচ্ছে বাজেট সিস্টেমে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এতে বাজেট আরও স্বচ্ছ হবে।

লেনদেন করলে সাজা হবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানেরও

জাল টাকা লেনদেন ও সরবরাহের দায়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানেরও সাজা হবে। এ ধরনের অপরাধ প্রমাণে নেওয়া হবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা, দেওয়া হবে আর্থিক দণ্ড। ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারেন্সি বিভাগ। আর ব্যক্তিপর্যায়ে প্রস্তুত, দেশ ও বিদেশে সরবরাহ, বহন ও পাচারের দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। পাশাপাশি জাল টাকা প্রস্তুত সংক্রান্ত ফোনালাপ ও টেলিফোন রের্কড ফাঁস হলে আদালতে তা সাক্ষ্যপ্রমাণ হিসাবে গ্রহণযোগ্য হবে।

এসব বিধান রেখে একটি ‘খসড়া বিল’ চূড়ান্ত করা হয়েছে। যা পাশের জন্য শিগগিরই যাচ্ছে জাতীয় সংসদে। সেখানে এটি পাশের পর চূড়ান্ত আইন হিসাবে কার্যকর হবে। এর আগে আইনটি প্রণয়নের ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনসহ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

খসড়াতে বলা হয়-কোনো ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা মুদ্রা লেনদেন ও সরবরাহ কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান জাল মুদ্রা সরবরাহ করলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি বিভাগ অভিযোগ দায়ের করবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ ও জরিমানা আরোপ করা হবে। তবে জরিমানা বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ১৪ কার্য দিবসের মাথায় অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান পুনর্বিবেচনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কাছে আবেদন করতে পারবে। এক্ষেত্রে পর্ষদের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

খসড়া বিলে উল্লেখ করা হয়, জাল টাকা প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গর্ভনরকে প্রধান করে জাল মুদ্রা প্রতিরোধসংক্রান্ত জাতীয় কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটি একটি সেল গঠন করবে। সেই সেলের প্রধান হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। পাশাপাশি ডিপার্টমেন্ট অব কারেন্সি ম্যানেজমেন্টের অধীনে একটি তথ্য ভাণ্ডারও গড়ে তোলা হবে। এটি ব্যবহার হবে জাল টাকা প্রতিরোধসংক্রান্ত কাজে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তথ্য ভাণ্ডার ব্যবহার করতে পারবে। সেখানে জাল মুদ্রা বাহক, প্রস্তুতকারী, ব্যবহারকারী ও উপকরণের তথ্য থাকবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য জানতে পারলে তথ্য ভাণ্ডারে জানাতে পারবে। তবে এ সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য প্রয়োজনে জাতীয় কমিটি এবং সেলকে সরবারহ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সূত্র আরও জানায়, আইন প্রণয়নের পর জাল মুদ্রা প্রস্তুতে ব্যবহারিত কাগজ, রাসায়নিক দ্রব্য, কালি, যন্ত্রপাতিসহ যে কোনো উপকরণ, উৎপাদন, ক্রয়-বিক্রয়, সরবরাহ, আমদানি ও রপ্তানি নিষিদ্ধ করে গ্যাজেট জারি করবে সরকার।

অপরাধের ধরনের বলা হয়, কোন ব্যক্তি জেনে মুদ্রা জালকরণের যে কোনো অংশ সম্পাদন, ক্রয়-বিক্রয়, ব্যবহার ও আসল মুদ্রা বলে লেনদেন করলে আইনের আওতায় পড়বে। এছাড়া জাল মুদ্রা প্রস্তুতের কোনো যন্ত্রপাতি ক্রয়-বিক্রয়, উৎপাদন সামগ্রী প্রস্তুত, আমদানি-রপ্তানি, নিজের দখলে রাখা হলে তা অপরাধ হবে।

পাশাপাশি জাল নোট বিদেশে এবং বিদেশ থেকে দেশে পাচার, সরবরাহ ও পরিবহণ, তৈরিসংক্রান্ত ফাইল, অডিও, ভিডিও ক্লিপ সংরক্ষণের দায়ে অপরাধী হবেন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অপরাধীর যাবজ্জীবন সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত বা এক কোটি টাকার অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে। অনাদায়ে অতিরিক্ত ৫ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের বাতিলকৃত বিকৃত মুদ্রা বাজারজাতকরণ বা লেনদেন করলে ১২ বছরের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড ভোগ করতে হবে। অর্থ অনাদায়ে আরও ৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। জেনেশুনে জাল ও আসল মুদ্রাসংক্রান্ত কোনো গুজব ছড়ানো হলে ১০ বছরের সশ্রম বা বিনাশ্রম এবং ১০ লাখ টাকা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত, অনাদায়ে আরও ৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া পুরোনো কোনো প্রকার মুদ্রার মুনাফা অর্জন, প্রতারণা বা অন্য যে কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে দেশি বা বিদেশি মুদ্রা কেনাবেচা করা যাবে না। করলে অনধিক ৫ বছরের সশ্রম বা বিনাশ্রম এবং ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ দণ্ড, অনাদায়ে আরও ৩ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ থেকে হালনাগাদ জালনোট সংক্রান্ত প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মামলা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ মামলাই ২০১৫ সালের আগে দায়েরকৃত। ২০১৫ সালের পর গত ৬ বছরে মামলা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩০০। জালনোটের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে একটি ব্যাংকের চার কর্মকর্তাসহ দশজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এর আগে জাল নোটবিরোধী অভিযানে পাঁচ বছরে গ্রেফতার হয়েছে চক্রের ছয় হাজারের বেশি সদস্য। যাদের অধিকাংশই জামিনে মুক্ত।

জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে মাঠে নামছে বিএনপি

জনসম্পৃক্তমূলক কর্মসূচি নিয়ে এবার মাঠে নামছে বিএনপি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ঘোষিত ১১ দিনের কর্মসূচি সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

এ ইস্যুতে সব বিভাগীয় শহর, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যন্ত প্রথমবারের মতো বিক্ষোভ সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করবে। ইতোমধ্যে তা সফল করতে ৮১টি সাংগঠনিক জেলায় কেন্দ্রীয় নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা দফায় দফায় সংশ্লিষ্ট জেলার নেতাদের নিয়ে বৈঠক করছেন। বিএনপি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

দলটির একাধিক নীতিনির্ধারক জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। প্রত্যেকটি জিনিসপত্রের দাম এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মূল্য বৃদ্ধি তো রয়েছেই। যে কারণে বিএনপির মতো একটি বড় দলের দায়িত্ব রয়েছে এসবের প্রতিবাদ করার। কর্মসূচির মাধ্যমে বিএনপির আমল বর্তমান আওয়ামী লীগের আমলের দ্রব্যমূল্যের চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের এক দফা দাবিতে সামনে কর্মসূচি আসছে। এর আগে বিএনপি জনসম্পৃক্তমূলক এসব কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠে থাকবে। পরে আবারও জেলায় জেলায় সমাবেশের কর্মসূচি দেওয়ার চিন্তা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য চাল-ডাল-তেলসহ পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারের কোথাও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। বাজারের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট তৈরি করা হয়েছে। তারা কৃত্রিমভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। সরকারের চরম দুর্নীতির প্রভাব বাজারে গিয়ে পড়ছে এবং জনগণকে তার মাশুল দিতে হচ্ছে। বিএনপির মতো একটি দায়িত্বশীল দল তো বসে থাকতে পারে না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে এসব কর্মসূচি নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে দেশবাসীকে সম্পৃক্ত করতে যাচ্ছি।

বিএনপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী এই ইস্যুতে আজ ঢাকা মহানগরে সমাবেশ করবে বিএনপি। বিকাল ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই সমাবেশ হবে। এতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

এছাড়া আগামী সোমবার ১১টি মহানগরে একযোগে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে দলটি। সিলেট মহানগরের সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন ড. খন্দকার মোশররফ হোসেন, ময়মনসিংহ মহানগরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চট্টগ্রামে মির্জা আব্বাস, বরিশালে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, রাজশাহীতে নজরুল ইসলাম খান, খুলনায় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গাজীপুরে সেলিমা রহমান, কুমিল্লায় ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ফরিদপুরে আব্দুল্লাহ আল নোমান, রংপুরে মো. শাহজাহান ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরে মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ। ২ মার্চ সারা দেশের জেলা পর্যায়ে ও ৫ মার্চ উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে। এছাড়া ১২ মার্চ সারা দেশে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে হাট-বাজারে ‘হাটসভা’, ‘পথসভা’ ও লিফলেট বিতরণের কর্মসূচি রয়েছে। এসব কর্মসূচি সফল করতে সব সাংগঠনিক জেলায় কেন্দ্রীয় নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা হলেন-ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত টাঙ্গাইলে অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, মানিকগঞ্জে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মুন্সীগঞ্জে মনিরুল হক চৌধুরী, ঢাকায় অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, গাজীপুরে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নরসিংদীতে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও নারায়ণগঞ্জে আমান উল্লাহ আমান। চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্গত ফেনীতে শওকত মাহমুদ, নোয়াখালীতে আব্দুস সালাম, লক্ষ্মীপুরে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণে মো. শাহজাহান, কক্সবাজারে মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ, খাগড়াছড়িতে ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, রাঙামাটিতে লুৎফর রহমান কাজল ও বান্দরবানে মাহবুবের রহমান শামীম। খুলনা বিভাগের অন্তর্গত মেহেরপুরে ডা. রফিকুল ইসলাম, কুষ্টিয়ায় সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি, চুয়াডাঙ্গায় আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, ঝিনাইদহে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, যশোরে ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, মাগুরায় মীর সরফত আলী সপু, নড়াইলে অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, বাগেরহাটে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, খুলনায় জয়নুল আবদীন ফারুক ও সাতক্ষীরায় অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ। রংপুর জেলার অন্তর্গত পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে ড. আসাদুজ্জামান রিপন, দিনাজপুরে এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সৈয়দপুর ও নীলফামারীতে আবুল খায়ের ভুঁইয়া, রংপুরে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, কুড়িগ্রামে হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু ও গাইবান্ধাতে আজিজুল বারী হেলাল। রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত বগুড়াতে নজরুল ইসলাম খান, চাঁপাইনবাবগঞ্জে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নওগাঁয় এবিএম মোশাররফ হোসেন, রাজশাহীতে ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, নাটোরে মশিউর রহমান, সিরাজগঞ্জে অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার, পাবনায় হাবিবুর রহমান ও জয়পুরহাটে শিরিন সুলতানা।

সিলেট বিভাগের অন্তর্গত সুনামগঞ্জে অধ্যাপক জয়নাল আবদীন ভিপি, সিলেটে ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, মৌলভীবাজারে মীর মো. নাসির উদ্দিন ও হবিগঞ্জে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। বরিশাল বিভাগের অন্তর্গত বরগুনায় কর্নেল (অব.) এমএ লতিফ খান, পটুয়াখালীতে হাবিব উন নবী খান সোহেল, ভোলায় আব্দুল হাই সিকদার, বরিশাল উত্তর ও দক্ষিণে আব্দুল আউয়াল মিন্টু, ঝালকাঠিতে অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার ও পিরোজপুরে অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন। ফরিদপুর জেলার অন্তর্গত রাজবাড়ীতে অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী, মাদারীপুরে শ্যামা ওবায়েদ ও শরীয়তপুরে ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহম্মেদ অসিম। তবে এ বিভাগের ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ জেলায় এখনো কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। ময়মনসিংহ বিভাগের অন্তর্গত জামালপুরে হারুন অর রশিদ, ময়মনসিংহ উত্তর ও দক্ষিণে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নেত্রকোনায় সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্স ও কিশোরগঞ্জে অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। এ বিভাগের শেরপুরে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।

গত বৃহস্পতিবার দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে এবং উপজেলা পর্যায়ে ন্যায্যমূল্যে পর্যাপ্ত দ্রব্যসামগ্রী বিক্রির দাবিতে সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ১১ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। কর্মসূচি হলো-বিএনপির উদ্যোগে আজ রাজধানীতে (মহানগর উত্তর-দক্ষিণের উদ্যোগে), ২৮ ফেব্রুয়ারি বিভাগীয় সদর ও মহানগরে, ২ মার্চ জেলা পর্যায়ে এবং ৫ মার্চ উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ হবে। ৬ মার্চ ছাত্রদল, ৮ মার্চ যুবদল, ৯ মার্চ স্বেচ্ছাসেবক দল, ১০ মার্চ কৃষক দল, ১৪ মার্চ মহিলা দল ও ১৫ মার্চ তাঁতী দলের উদ্যোগে সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ হবে। এছাড়া ১২ মার্চ বিএনপির উদ্যোগে সারা দেশে ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে হাট-বাজারে হাটসভা-পথসভা ও লিফলেট বিতরণ করা হবে।

শীর্ষ চার পদের তিনটিতেই ভারপ্রাপ্ত, গতিহীন সংগঠন

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছে এক দশক আগে ২০১২ সালে। রেওয়াজ অনুযায়ী জাতীয় কংগ্রেসের আগেই উত্তর ও দক্ষিণের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু ২০১৯ সালে সর্বশেষ কংগ্রেস শেষ হওয়ার দুই বছরের বেশি সময় পার হলেও এখনো সম্মেলন হয়নি এই দুই শাখার। ফলে আসছে না নতুন নেতৃত্ব।

যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শীর্ষ চার পদের তিনটিতেই ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে দীর্ঘদিন। ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্ব রুটিন ওয়ার্কের বাইরে তেমন কোনো কাজ করেন না। সে কারণে সংগঠনের গতিশীলতাও নেই। বেহাল অবস্থা ঢাকা মহানগরের থানা-ওয়ার্ড কমিটিগুলোরও। ফলে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ এ দুই শাখা।

সংশ্লিষ্টদের দাবি-ক্যাসিনোকাণ্ডে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও নগরের শীর্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নেতার ফেঁসে যাওয়ায় সবকিছুই ঝুলে যায়। পরে করোনাসহ নানা কারণে এই সংগঠন দুটির আর সম্মেলন হয়নি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

সংগঠনের নেতাকর্মীদের চাওয়া সংগঠনকে গতিশীল করতে এবং ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে উত্তর-দক্ষিণে দ্রুত সম্মেলনের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের নেতাদের দায়িত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ক্যাসিনো, মাদক ও টেন্ডারবাজিসহ নানা অপকর্মে সম্পৃক্ত বিতর্কিত কেউ যাতে সংগঠনের কমিটিতে ঠাঁই না পান-সে জন্যও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

জানতে চাইলে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল শুক্রবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, সম্মেলন করাটা জরুরি। কিন্তু করোনার কারণে আসলে হয়ে উঠেনি। করোনার সময় আমরা তো মানবিক কাজেই বেশি ব্যস্ত ছিলাম। আপনারা দেখেছেন আমরা জেলা সম্মেলনগুলো শুরু করেছি। আমাদের নেত্রীর (আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার) নির্দেশনা পেলেই আমরা ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবলীগের সম্মেলন করব।

২০১২ সালের ১৪ জুলাই যুবলীগের ষষ্ঠ জাতীয় কংগ্রেসের আগে সে বছরের ৩ জুলাই ঢাকা দক্ষিণ এবং ৮ জুলাই উত্তরের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তখন উত্তরে মাইনুল হোসেন খান নিখিল সভাপতি ও ইসমাইল হোসেন সাধারণ সম্পাদক এবং দক্ষিণে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট সভাপতি ও ওয়াহিদুল আলম আরিফ সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান।

এরপর ২০১৯ সালের ২৩ নভেম্বর যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ ফজলে শামস পরশকে চেয়ারম্যান ও ঢাকা উত্তর শাখার সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কিন্তু তখন জাতীয় কংগ্রেসের আগে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি।

২০১৩ সালে মিল্কী হত্যার পর আত্মগোপনে যান ওয়াহিদুল ইসলাম আরিফ। পরে দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান এইচএম রেজাউল করিম রেজা। ক্যাসিনোকাণ্ডে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট গ্রেফতার হলে মাইনউদ্দিন রানাকে দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। অন্যদিকে উত্তরের সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিল কেন্দ্রীয় যুবলীগে পদ পাওয়ায় জাকির হোসেন বাবুল ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান।

যুবলীগ নেতারা বলছেন, কেন্দ্রীয় কংগ্রেসের (সম্মেলন) আগে মহানগর সম্মেলন হয়। কিন্তু ক্যাসিনোকাণ্ডসহ নানান বিতর্কে এবার সেটি হয়নি। ফলে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি, শুদ্ধি অভিযান ও শীর্ষ পদে ভারপ্রাপ্তের কারণে নগর যুবলীগের সাংগঠনিক কাজে ভাটা পড়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে তারা শুধু রুটিন ওয়ার্ক করছেন। এর বাইরে কমিটি গঠন, ভাঙা বা অন্য কোনো সাংগঠনিক কাজে তারা নেই। যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণে ২৪টি থানা এবং ৭৫টি ওয়ার্ড এবং উত্তরে ২৭টি থানা এবং ৬৫টি ওয়ার্ড রয়েছে। এগুলোর বেশিরভাগই মেয়াদোত্তীর্ণ।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইনুদ্দিন রানা যুগান্তরকে বলেন, সম্মেলনের বিষয়ে কেন্দ্র থেকে আমরা এখনো কোনো নির্দেশনা পাইনি। দীর্ঘ দিন সম্মেলন না হওয়া এবং শীর্ষ পদে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলায় সংগঠন গতি হারাচ্ছে কী-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা তো হচ্ছেই। আমরা এখন বলা চলে শুধু দিবসভিক্তিক কর্মসূচি বা রুটিন ওয়ার্ক করে যাচ্ছি।

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, আমরা এখনো ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্মেলনের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পাইনি। তবে আমরা থানা-ওয়ার্ডগুলোর সম্মেলনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। যেগুলোর সম্মেলন বাকি আছে, সেগুলোর সম্মেলন করছি। কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা পেলে ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতিও শুরু করবো।

এদিকে দিনক্ষণ ঠিক না হলেও ঢাকা মহানগর যুবলীগের পদপ্রত্যাশীরা নিজেদের উপস্থাপন করছেন বিভিন্ন মাধ্যমে। সংগঠনটিকে আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা। তবে ভেতরে ভেতরে দৌড়ঝাঁপ করলেও প্রকাশ্যে এ নিয়ে তারাও কথা বলেন না। দায়িত্বে থাকা নেতারাও সম্মেলনে উদ্যোগী নন। সবাই ওপরের নির্দেশনা পেলে কাজ করার পক্ষে।

যুবলীগের পদপ্রত্যাশী নেতারা বলছেন-তারা যুবলীগের ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় এবং সংগঠনকে সুসংগঠিত করতে সৎ, শিক্ষিত, ত্যাগী ও ছাত্রলীগ করে আসা সাবেক নেতাদের নতুন নেতৃত্বে নিয়ে আসার পক্ষে।

ব্যাংক আমানতের এত টাকা গেল কোথায়

করোনার সময়ে দেশ-বিদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যখন স্থবির ছিল তখন ব্যাংকে আমানত প্রবাহ বেড়েছিল অস্বাভাবিক গতিতে। করোনার প্রকোপ কমায় দেশ-বিদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

এই অবস্থায় ব্যাংকে আমানত প্রবৃদ্ধি আগের চেয়ে বাড়ার কথা। কিন্তু ব্যাংকে প্রবৃদ্ধি না বেড়ে অস্বাভাবিক গতিতে কমতে শুরু করেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে আমানতের প্রবৃদ্ধি কমেছে ৪৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ বা ৫১ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে আমানত প্রবাহ বেড়েছিল ৫১ শতাংশের বেশি।

আমানতের প্রবৃদ্ধির হার বাড়া বা কমার এ গতিকে দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ ও গবেষকরা অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি বাড়লে মানুষের আয় বাড়ে। আয়ের একটি অংশ সঞ্চয় করে। ফলে ব্যাংকে আমানত প্রবাহও বাড়ে। কিন্তু এখন ঘটছে উলটো ঘটনা। আমানত প্রবাহ না বেড়ে বরং কমছে। এটি অস্বাভাবিক। যে সময়ে আমানত কমার কথা তখন কেন বেড়েছে, এখন বাড়ার কথা, কেন কমছে?

গ্রাহকদের এসব টাকা কোথায় যাচ্ছে? প্রতিষ্ঠানিক খাতে বিনিয়োগ হলে সেটি ঘুরেফিরে ব্যাংকেই আসত। কিন্তু ব্যাংকে আসছে না। তার মানে এসব অর্থ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে চলে যাচ্ছে। হুন্ডির মাধ্যমে দেশ থেকে পাচার হচ্ছে কিনা সেটাও দেখার বিষয়? এ বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা উচিত।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গবেষকরা বলেছেন, করোনার কারণে ২০২০ সালে মানুষের চলাচল যেমন কম ছিল, তেমনি টাকার চলাচল ছিল স্তিমিত। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে ছিল স্থবিরতা। যে কারণে গ্রাহকদের টাকা ছিল ব্যাংকমুখী। করোনার প্রভাব কমার কারণে এখন মানুষের চলাচল বেড়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বিনিয়োগ হচ্ছে। এসব কারণে টাকা এখন ব্যাংক থেকে বের হচ্ছে। এছাড়া মুনাফার হার কম হওয়ায় মানুষ ব্যাংকে টাকা না রেখে বিভিন্ন স্থানে লগ্নি করছে। এসব কারণে আমানত প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে কমেছে। করোনার প্রভাব চলে গেলে এ অস্বাভাবিকতা স্বাভাবিক হতে কমপক্ষে ১ থেকে ২ বছর সময় লাগবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আমানতের প্রবৃদ্ধি কমলেও ব্যাংকগুলোতে অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকা। গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তার স্বার্থে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখার কথা ২ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু রাখা আছে ৪ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা।

গত অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ব্যাংকিং খাতে আমানত বেড়েছিল ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫১ শতাংশের বেশি। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে বেড়েছে ৫৮ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি কমেছে ৪৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে আমানত কম বেড়েছে ৫১ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা। আগে আমানত বেড়েছে গড়ে ৯ থেকে ১৫ শতাংশ বা তারও বেশি। ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও আমানত বাড়ত ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। সেখানে বেড়েছে মাত্র সাড়ে ৫৮ হাজার কোটি টাকা। সর্বনিম্ন প্রত্যাশার চেয়ে সাড়ে ৬৮ হাজার কোটি টাকা কম বেড়েছে। এসব টাকা ব্যাংকেই আসার কথা। কিন্তু ব্যাংকে না এসে কোথায় গেল।

এদিকে ব্যাংকে আমানত কম আসার কারণ হিসাবে রেমিট্যান্সের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, গত অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারির তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে বেড়েছিল প্রায় ৩৫ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে রেমিট্যান্স কমেছে ২৯৭ কোটি ডলার। স্থানীয় মুদ্রায় ২৫ হাজারর ৫৪২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই টাকাও আমানত হিসাবে যোগ হতো। কিন্তু রেমিট্যান্স কমায় ওই অর্থ আমানতের হিসাবে আসেনি।

করোনার কারণে ব্যবসায় মন্দা থাকায় উদ্যোক্তারা টাকা খরচ করতে পারেনি। ফলে গত অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরে সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবে চলতি আমানত বেড়েছিল সাড়ে ৩ হাজার শতাংশ। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বিনিয়োগ কিছুটা বেড়েছে। ফলে ওই হিসাবে আমানত বাড়ার পরিবর্তে কমেছে ৮২ শতাংশ। তবে মোট আমানতের মধ্যে চলতি আমানত মাত্র ২০ শতাংশ। বাকি ৮০ শতাংশই মেয়াদি আমানত। এ কারণে চলতি আমানত বাড়া বা কমা খুব বেশি মোট আমানতকে প্রভাবিত করে না।

মেয়াদি আমানত গত অর্থবছরের আলোচ্য সময়ে বেড়েছিল ৩৪ শতাংশের বেশি। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে কমেছে ৪২ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা প্রশ্ন তুলেছেন, করোনার সময়ে মানুষের আয় কম ছিল। ওই সময়ে ব্যাংকের সঞ্চয় ভেঙে খরচ করার কথা। কিন্তু তা না করে সে সময়ে মানুষ আরও বেশি সঞ্চয় করেছেন। এটা কি করে হয়? এখন আয় কিছুটা বেড়েছে। আর সঞ্চয় তুলে নিয়ে খরচ করছেন। এটা কিভাবে সম্ভব?

ব্যাংকে আমানত কমলে সেগুলো যায় শেয়ারবাজার বা সঞ্চয়পত্রে। কিন্তু দুই জায়গায় টাকার প্রবাহ কমেছে। গত অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল ২০ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বিক্রি হয়েছে ৯ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা। এ খাতে বিনিয়োগ কম হয়েছে ১০ হাজার ৮৯৭ কোটি টাকা। শেয়ারবাজারে মন্দা অব্যাহত রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে তাহলে আমানতের টাকা গেল কোথায়?

গবেষকরা বলেছেন, ব্যাংকিং খাতের ওই তথ্য-উপাত্ত দুই ধরনের বার্তা দিচ্ছে। এক. ব্যাংক খাতের সেবা নিচ্ছে শুধু সচ্ছলরাই, অসচ্ছলরা ব্যাংকে আসতে পারছে না। মানুষ দুঃসময়ে সঞ্চয় করে, সুসময়ে সঞ্চয় ভাঙে। দুই. পরিস্থিতি ক্রমেই উন্নতি হওয়ায় টাকা ব্যাংকের বাইরে চলে যাচ্ছে। টাকা দেশে থাকলে কোনো না কোনো একটি পর্যায়ে ব্যাংকে আসতই। কিন্তু তা আসছে না। ফলে টাকা হুন্ডির মাধ্যমে দেশের বাইরে পাচার হয়ে যাচ্ছে। করোনায় বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ বন্ধ থাকায় টাকা ব্যাংকে ঢুকেছে। এখন সব খোলায় টাকা ব্যাংক থেকে বেরিয়ে তার গন্তব্যে বা পাচার হয়ে যাচ্ছে।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, আমানত হচ্ছে ব্যাংকের রক্ত সঞ্চালনের মতো। দীর্ঘ সময় ধরে আমানত কমতে থাকলে ব্যাংকগুলোতে তারল্যে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। সে বিষয়ে এখনই সতর্ক হতে হবে। আমানত বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে হবে। আমানতকারীরা ব্যাংক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে যে কি পরিস্থিতি হয় কয়েক দফায় দেশের ব্যাংক খাত অনুভব করেছে। পরিস্থিতি যাতে সেদিকে না যায় সে বিষয়ে নজর দিতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আমানত কমার পাশাপাশি বৈদেশিক সম্পদও কমছে। করোনার সময়ে গত অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরে নিট বৈদেশিক সম্পদ বেড়েছিল ৬০ হাজার কোটি টাকা। বৃদ্ধির হার ছিল সাড়ে ৩ হাজার শতাংশ। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে বৈদেশিক সম্পদ বাড়ার পরিবর্তে কমেছে ১৩ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ১২২ শতাংশ নেতিবাচক। অথচ এ সম্পদ এখন বাড়ার কথা। রেমিট্যান্স কমা ও আমদানি বাড়ায় এতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ভাবে দেশ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে।

সূত্র জানায়, করোনার সময়ে খোলা বাজারে ডলারের দাম ছিল তলানিতে। নভেম্বরে তা বেড়ে সর্বোচ্চ ৯৫ টাকায় উঠেছিল। এখন কিছুটা কমেছে। ওই সময়ে ব্যাংকে দাম ছিল ৮৭ থেকে ৯০ টাকা। ব্যাংকের চেয়ে খোলা বাজারে প্রতি ডলারের দাম ৫ থেকে ৮ টাকা বেশি ছিল। যা অতীতে কখনো হয়নি। ব্যাংক থেকে সাধারণত ১-২ টাকা বেশি থাকে খোলা বাজারে। কখনও ব্যাংকের চেয়ে কম থাকে। সাধারণত চাহিদা বেশি থাকলেই খোলা বাজারে ডলারের দাম বাড়ে। করোনার পরে হঠাৎ করে খোলা বাজারে ডলারের দাম কেন এত বাড়ল তা খতিয়ে দেখা দরকার বলে অনেকে মনে করেন। ভ্রমণ, শিক্ষা বা চিকিৎসা খাতেই ডলার যাচ্ছে। নাকি অন্য কাজেও পাচার হচ্ছে।

মহামারি বা দুর্যোগের সময় মানুষ ব্যাংক থেকে টাকা তুলে হাতে রাখে। স্বাভাবিক সময়ে ব্যাংকে রাখে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যাচ্ছে উলটো চিত্র। অর্থাৎ গত অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরে ব্যাংক থেকে মানুষের হাতে আসা টাকার প্রবাহ কমেছিল ৩০৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়েছে ১২৬ শতাংশ। অর্থাৎ মহামারির সময়ের চেয়ে এখন মানুষের হাতে টাকা বেশি।

আমানত প্রবাহ বাড়ায়, ব্যাংক থেকে মানুষ টাকা কম তোলায়, রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকার জোগান বাড়ানোর কারণে করোনার মন্দায়ও ব্যাংক খাতে টাকার প্রবাহ বেড়েছিল। কিন্তু চাহিদা না থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে উদ্যোগ নিয়েও ঋণ প্রবাহ বাড়ানো সম্ভভ হয়নি। ফলে গত অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরে ব্যাংকে টাকার প্রবাহ বেড়েছিল ৪০ শতাংশের বেশি। কিন্তু ঋণ প্রবাহ কমেছিল সাড়ে ৪১ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের ওই সময়ে টাকার প্রবাহ কমেছে ৪৩ শতাংশ। এদিকে ঋণ প্রবাহ বেড়েছে ৬৫ শতাংশ। আমানত ও মানুষের হাতে টাকা চলে যাওয়ার হার বাড়ায় ব্যাংকে কমেছে টাকার প্রবাহ। অন্যদিকে করোনার পরে সব খাতে ঋণের চাহিদা বেড়েছে। ফলে বিতরণও বাড়ছে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংক খাতে ঋণ ও আমানতের মধ্যে সব সময়ই একটি ভারসাম্য রাখতে হয়। ঋণ বৃদ্ধির চেয়ে আমানত বাড়তে হয় বেশি। কেননা ব্যাংক ১০০ টাকা আমানত নিয়ে পুরো টাকাই বিনিয়োগ করতে পারে না। ১৬ টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখতে হয়। বাকি ৮৪ টাকা বিনিয়োগ করতে পারে। এখন যদি আমানতের চেয়ে ঋণ বেশি বাড়ে এবং এটি দীর্ঘ সময় চলে তাহলে তারল্য সংকট আবার বেড়ে যাবে। এ জন্য আমানত কেন কেমছে, তা যেমন দেখা উচিত। তেমনি ঋণের টাকা কোথায় যাচ্ছে সেদিকেও নজর দেওয়া দরকার।

গত অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারিতে রপ্তানি আয় কমেছিল ১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে বেড়েছে ৩০ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৬৮৮ কোটি ডলার। টাকার অঙ্কে ৪৬ হাজার ৭৮৪ কোটি টাকা। এ অর্থ ব্যাংকে তারল্যের জোগান বাড়িয়েছে। কিন্তু রপ্তানির এ অর্থ আমদানিতে ব্যয় হয়ে গেছে। উলটো রেমিট্যান্স থেকে আরও অর্থ নিয়ে আমদানি ব্যয় মেটাতে হয়েছে।

গত অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরে আমদানিতে খরচ হয়েছিল ২ হাজার ৭২৭ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে খরচ হয়েছে ৪ হাজার ২১২ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের চেয়ে এবার বেশি খরচ হয়েছে ১ হাজার ৪৮৫ কোটি ডলার। এ খাতে ব্যয় বেড়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। রপ্তানিতে যে টাকা বেশি এসেছে তার চেয়ে বেশি খরচ বেড়েছে ৮০ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা। যা রেমিট্যান্স থেকে জোগান দেওয়া হয়েছে।

দেশে ১ কোটি মানুষের টিকা দেওয়া হবে আজ

দেশে এক কোটি মানুষকে করোনাভাইরাসের প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া হবে আজ। টিকা পেতে কোনো ধরনের নিবন্ধন কিংবা কাগজপত্র লাগবে না।

জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, তারাও নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে টিকা নিতে পারবেন। ২৮ হাজার বুথে টিকা দেওয়া হবে। এসব বুথে টিকা দেওয়ার কাজে নিযুক্ত থাকবেন স্থাস্থ্য বিভাগের কর্মীদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকেরাসহ মোট এক লাখ ৪২ হাজার জন।

দেশের প্রত্যেকটি ইউনিয়নে নির্ধারিত টিকাকেন্দ্রের বাইরেও পাঁচটি করে ভ্রাম্যমাণ দল থাকবে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের প্রতিটি অঞ্চলে ৩০ থেকে ৫০টি করে বুথে টিকা দেওয়া হবে। লোকজনকে টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে মাইকিং, গণবিজ্ঞপ্তিসহ বিশেষ প্রচার চালিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে করোনার গণটিকাদান শুরু হয় ২০২১ বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি। করোনাভাইরাসের টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছেন ১০ কোটি নয় লাখ ১১ হাজারের বেশি মানুষ, যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের মত।

তাদের মধ্যে সাত কোটি ১৪ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ দ্বিতীয় ডোজ এবং ২৬ লাখ ৯৪ হাজারের বেশি মানুষ তৃতীয় বা বুস্টার ডোজ পেয়েছেন।

এর মধ্যে গতবছরের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে ৭৬ লাখ ডোজের বেশি টিকা দেওয়া হয়েছিল এক দিনে।

প্রবাসীদের সুখবর দিল কাতার

করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুর দিকে প্রবাসীদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করেছিল কাতার সরকার।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় এখন থেকে ছুটি কাটিয়ে কাতারে ফেরা প্রবাসীদের আর হোটেল ও মোটেলে কোয়ারান্টিনে থাকতে হবে না।

এ ছাড়া কাতারে ফেরার আগে পিসিআর টেস্টও করতে হবে না বলে সুখবর দিয়েছে দেশটির সরকার।

এতে বাংলাদেশ থেকে ছুটি কাটিয়ে যেসব শ্রমিক কাতারে আসবেন, তারা এখন থেকে পিসিআর টেস্ট ও কোয়ারেন্টিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন।

করোনার ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ নেওয়া শ্রমিকদের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য করে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি কাতার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দিয়েছে।

নতুন এ কোভিড-১৯ ভ্রমণ নীতিমালা এবং কাতারে ফিরে আসার এ নিয়ম আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা থেকে কার্যকর হবে।
কাতারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানায়, যারা কাতার থেকে টিকা নিয়ে দেশে গেছেন অথবা বাংলাদেশ থেকে টিকা নিয়ে কাতারে আসবেন, তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে র‍্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট করাতে হবে।

এ ছাড়া যারা করোনা টিকা নেননি বা করোনায় কখনো আক্রান্তও হননি, তাদের বেলায় কাতারে আসার আগে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পিসিআর টেস্ট করাতে হবে এবং তাদের পাঁচ দিনের হোটেল কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে এবং শেষের দিন র‍্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট করাতে হবে।

এদিকে যারা ভিজিট ভিসায় বাংলাদেশ থেকে কাতারে আসবেন, তারা যদি করোনা টিকা না নিয়ে থাকেন, তা হলে কাতারে আসার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পিসিআর টেস্ট করাতে হবে এবং একদিনের হোটেল কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে এবং র‍্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট করাতে হবে।