রবিবার ,১৪ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 444

মাদারীপুরে ট্রাকচাপায় মা-মেয়ে নিহত

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় ট্রাকচাপায় মা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন।

সোমবার সকাল ১০টার দিকে মাদারীপুর-শিবচর আঞ্চলিক সড়কে যাদুয়ারচর এলাকায় এ দুঘর্টনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- শিবচর উপজেলার বহেরাতলা উত্তর ইউনিয়নের যাদুয়ারচর গ্রামের হারুণ ফরাজীর স্ত্রী জিয়াসমিন বেগম (৩৬) ও তার মেয়ে মাহফুজা আক্তার (৭)।

স্থানীয়রা বলেন, সকাল ১০টার দিকে ভ্যানে শিবচর শহরের দিকে যাচ্ছিলেন জিয়াসমিন বেগম ও তার মেয়ে। এসময় মাদারীপুরগামী একটি ট্রাক তাদের পিছন থেকে চাপা দেয়।

এতে ঘটনাস্থলেই ভ্যানের নিচে পড়ে মেয়ে মাহফুজা আক্তার মারা যায়। গুরুতর আহত মা, ভ্যানচালক ও আরেক যাত্রীকে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে মা জিয়াসমিন বেগমও মারা যান।

শিবচর থানার ওসি মো. মিরাজ হোসেন জানান, ট্রাকটি ভ্যানকে চাপা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা ধাওয়া করলেও ট্রাকটি আটক করা যায়নি। তবে পুলিশের একাধিক টিম নামানো হয়েছে। দ্রুতই তাদের আটক করা যাবে। নিহতের পরিবার থানায় মামলা দিলে আমলে নেয়া হবে।

ইউক্রেনের আরেকটি শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে রুশ সেনারা

ইউক্রেনে হামলার চতুর্থ দিনে রোববার আরও একটি শহরের সব প্রশাসনিক ভবনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে রাশিয়া।

বেরডিয়ানস্ক শহরের মেয়র নিজেই স্বীকার করেছেন, তার শহর রুশ সেনারা দখল করে নিয়েছে। খবর আনাদোলুর।

শহরটির মেয়র অলেকসানদর সিভিডলো এক ভিডিওবার্তায় বলেছেন, ভারি সামরিক যানের বিশাল বহর নিয়ে রুশ বাহিনী তার শহরে ঢুকে পড়েছে।

শহরে ঢুকেই রুশ বাহিনী দাবি করেছে, তারা শহরটির সব প্রশাসনিক ভবনের দায়িত্ব নিয়েছেন।

তারা ইউক্রেনীয়দের সতর্ক করে বলেন, আজ রাত হবে আপনাদের জন্য ভয়নক কঠিন এক রাত। ভালো চান তো কেউ বাসা থেকে বের হবেন না।

বেরডিয়ানস্ক শহরটি ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় একটি বন্দরনগরী। এক লাখেরও বেশি মানুষের বসবাস এ শহরটিতে।

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেবে না ব্রাজিল

ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর আক্রমণের পঞ্চম দিন আজ । বৃহস্পতিবার নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেনাবাহিনীকে ইউক্রেনে ‘বিশেষ অভিযান’ পরিচালনার নির্দেশ দেন।

ইউক্রেনে রাশিয়ার এই সামরিক অভিযান ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বিভিন্ন দেশ ছাড়াও এসব দেশের মিত্রদের অনেকেই রাশিয়ার ওপর বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না ব্রাজিল। খবর সিএনএনের।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে হামলার কারণে রাশিয়ার ওপর কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপে রাজি নয় লাতিন আমেরিকার দেশটি। এ ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে চায় ব্রাজিল।

শুধু তাই নয়, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কঠোর সমালোচনাও করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেইর বোলসোনারো।

জেলেনস্কিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ইউক্রেনীয় জাতি তাদের ভাগ্যের বিষয়ে একজন কমেডিয়ানের ওপর বিশ্বাস করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ব্রাজিলের কৃষি রাশিয়ার সারের ওপর নির্ভরশীল। এমতাবস্থায় ইউক্রেন ইস্যুতে যে কোনো পদক্ষেপ নিতে গিয়ে ব্রাজিলের কৃষি খাত ভীষণ ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইউক্রেনের রাশিয়ার সামরিক অভিযানে সম্ভাব্য গণহত্যার বিষয়ে প্রশ্ন করলে, বোলসোনারো বলেন, এটিকে ‘গণহত্যা হিসেবে আখ্যা দেওয়া অতিরঞ্জন ছাড়াই আর কিছুই নয়’।

পূর্ব ইউক্রেনের লুহানস্ক এবং দোনেস্কের মস্কোপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চলগুলোকে স্বাধীন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য রাশিয়ার পদক্ষেপের পক্ষেই মত দেন তিনি।

খেলাপি কমাতে রূপালী ব্যাংকে নতুন ঋণ পদ্ধতি

খেলাপি ঋণ কমাতে উদ্ভাবনী ব্যাংকিংয়ের দিকে হাঁটছে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ তিন স্তরের একটি ঋণ-মডেল উদ্ভাবন করেছেন। এটি বাস্তবায়ন হলে ঋণঝুঁকি অনেকটা কমে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। লাগাম টানা যাবে ব্যাংকের খেলাপির হারে। রূপালীর এমডি এই ঋণ মডেলের নাম দিয়েছেন ‘থ্রি টায়ার লেন্ডিং সিস্টেম’।

যুগান্তরের সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে রূপালী ব্যাংকের এমডি বলেন, খেলাপি ঋণ ব্যাংকব্যবস্থার একটি চ্যালেঞ্জ। এটি সামলাতে ঋণব্যবস্থায় পরিবর্তন দরকার। সেটির পরিবর্তন নিয়ে কাজ করছে রূপালী ব্যাংক। থ্রি টায়ার ঋণ পদ্ধতি নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। এই পদ্ধতিতে কাঁচামাল সরবরাহকারী, উৎপাদক ও বাজারজাতকারীদের একই ছাতার নিছে নিয়ে আসা হবে। সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করে একটি প্যাকেজের মাধ্যমে তিন খাতেই ঋণ সরবরাহ করা হবে। ফলে শিল্পোদ্যোক্তা বা বৃহৎ ঋণ গ্রহীতার ওপর চাপ কমে যাবে। এতে কেউ সহজে খেলাপি হবে না। ফলে ব্যাংকের ঋণেও ঝুঁকি কমবে।

শুধু থ্রি টায়ার লেন্ডিং সিস্টেম নয়, আরও অনেক উদ্ভাবনী ব্যাংকিং করছে রূপালী ব্যাংক। এর মধ্যে রয়েছে শূন্য সুদে কৃষিঋণ, দুগ্ধঋণ প্রভৃতি। উদ্ভাবনীয় ব্যাংকিং সম্পর্কে ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, রূপালী ব্যাংক নাগরিক ও দেশের মাটির প্রতি দায়বদ্ধ। দেশের মানুষের জন্য কাজ করে চলেছে নিরন্তরভাবে। সেই দায়বদ্ধতা থেকে এ দেশের খেটে খাওয়া কৃষকের পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে ব্যাংকটি। আমাদের স্লোগান ছিল ‘মুজিববর্ষে শুভদিন, শূন্য সুদে কৃষিঋণ’। গত দুই বছরে করোনা মহামারির মধ্যে কৃষি ব্যাংক না হয়েও কৃষকের পাশে সবচেয়ে বেশি সহায়ক শক্তি হিসেবে ছিল রূপালী ব্যাংক।

তিনি বলেন, একজন কৃষক যে পণ্য উৎপাদন করে তার সঠিক দাম পায় না। আবার কৃষিভিত্তিক যে শিল্পগুলো আছে তাদের বেশি দামেই পণ্য কিনতে হয়। কোনো পরিশ্রম না করেই বিশাল মুনাফা লুটে নেয় মধ্যস্বত্বভোগীরা। তাদের হাত থেকে কৃষক ও শিল্পোদ্যোক্তাদের রক্ষা করতে আমরা সরাসরি ঋণ দিচ্ছি। কারখানাকে ঋণ দিচ্ছি কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্য দামে পণ্য কেনার জন্য। এতে কৃষক লাভবান হচ্ছে, শিল্পোদ্যোক্তারও প্রফিট (মুনাফা) মার্জিন বাড়ছে।

অভিজ্ঞ এই ব্যাংকার বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের সময় যখন আমচাষিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন তখন তাদের ঋণ দিয়েছে রূপালী ব্যাংক। আমের জুস উৎপাদনকারী কারখানাগুলোকে ঋণ দেওয়া হয়েছে চাষিদের কাছ থেকে নগদ দামে আম সংগ্রহ করার জন্য। এতে দেশের আমচাষিরা ক্ষতি কাটিয়ে উঠে প্রাণ ফিরে পেয়েছেন। এ ছাড়া দেশকে আদায় স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে পার্বত্য এলাকায় আদা-হলুদ চাষিদের স্বল্প সুদে ঋণ দিয়েছে রূপালী। কৃষক আদা কোথায় বিক্রি করবে সেটাও আমরা সহায়তা করেছি। কৃষক সরাসরি বিক্রি করতে পারছে তাদের পণ্য। এই ঋণপণ্যের জন্য আমাদের স্লোগান ‘দেশের পাহাড় জাগল বলে বাংলাদেশ আজ ধন্য, আদা-হলুদ করবে আবাদ সারা দেশের জন্য।’

রূপালী ব্যাংকের এমডি বলেন, মহামারির মধ্যে মিল্ক ভিটার মাধ্যমে গরু খামারিদের আমরা ঋণ দিয়েছি। তাদের উৎপাদিত দুধ যাতে মিল্ক ভিটার কাছে সরাসরি বিক্রি করতে পারে সেজন্য আমরা ভূমিকা রেখেছি। তাছাড়া তারা অবিক্রীত দুধ ফেলে না দিয়ে যাতে ঘি বানাতে পারে সেজন্য ঋণ দিয়েছি। এতে করোনাকালে দুগ্ধ খামারিরা পথে বসার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। দুধের উৎপাদন বাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে কাজ করে যাচ্ছেন সেই কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে রূপালী ব্যাংকও সহযাত্রী হয়ে খামারিদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এই ঋণের জন্য স্লোগান ছিল, ‘করোনাকালে দুধ না ফেলে ঘি বানান, দুগ্ধ খাতে জাগুক প্রাণ’।

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ সংস্কৃতির জন্য আমাদের জাতিসত্তার ঋণ-অভ্যাসকে দায়ী করে তিনি বলেন, আমরা অভ্যাসগতভাবেই ঋণ পরিশোধ করতে চাই না। মুদি দোকান থেকে বাকি, বন্ধুর কাছ থেকে বা আত্মীয়ের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে শোধ করতে চাই না। এই যে ঋণ নিয়ে শোধ না করার একটা প্রবণতা এ কারণেই আমাদের অধিকাংশ গ্রাহক ঋণ শোধ করতে চায় না বা শোধ করতে সক্ষম হয় না। তাই খেলাপি সহনীয় মাত্রায় নামিয়ে আনতে হলে আমাদের সর্বক্ষেত্রেই ঋণ নিয়ে শোধ না করার প্রবণতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এজন্য শিক্ষাবিদ, মনোবিদ, সমাজবিদ, রাজনীতিকসহ যারা মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন তাদের এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের এখন ১৪৪টি শাখা পুরোপুরি খেলাপিমুক্ত। নির্দেশ দিয়েছি সব শাখাতে আমানতের ন্যূনতম ৭০ শতাংশ ঋণ দিতে হবে। একই সঙ্গে খেলাপি মুক্ত থাকতে হবে। যারা ঋণের লক্ষ্য পূরণ করে আবার খেলাপিমুক্ত থাকতে পারবেন তাদের আমরা ডায়মন্ড, সিলভার ও ব্রোঞ্জ ক্যাটাগরিতে ভাগ করে পুরস্কৃত করছি। ব্যাংকের কাজ আরও সহজ করতে সাইবার সিস্টেম নিয়েও আমরা সবচেয়ে বেশি কাজ করেছি। সাইবার সিস্টেম নিয়ে কাজ করা ব্যাংকগুলোর মধ্যে আমরা শ্রেষ্ঠ ব্যাংক হিসাবে পুরস্কৃত। গ্রাহকদের আমানত রক্ষার জন্য অত্যাধুনিক সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা ইনস্টল করেছি। ভবিষ্যতে রূপালী ব্যাংক হবে শ্রেষ্ঠ আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

‘নতুন ইসিতে আমাদের প্রস্তাবিত নাম বাদ পড়লেও আমরা সন্তুষ্ট’

নবগঠিত নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) স্বাগত জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, একাদশ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল- দ্বাদশ নির্বাচনের আগেই সংবিধানের আলোকে আইনের মাধ্যমে ইসি গঠন করা হবে। এর ফলে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন-২০২২’ প্রণয়ন করা হয়। এ আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ইসি গঠন করেছেন।

তিনি বলেন, আমাদের প্রস্তাবিত নাম বাদ পড়লেও সংবিধান অনুযায়ী ইসি গঠিত হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

নবগঠিত কমিশনকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশনের সব কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছে। গঠিত নির্বাচন কমিশনের প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে। এ কমিশনের অধীনে আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। এটা জনগণেরও প্রত্যাশা।

‘আমরা আশা করি, নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন। দেশের মানুষ যাতে ভোটের মাধ্যমে তাদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে পারে সে বিষয়টি তারা সুনিশ্চিত করবেন। নতুন কমিশনে যারা দায়িত্ব পেয়েছেন তারা প্রত্যেকেই কর্মজীবনে দক্ষতা, সততা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে অযৌক্তিক ও বিতর্কিত মন্তব্যের মাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত না হয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। চলমান গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিতে এ কমিশন কাজ করবে। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে তারা দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সার্চ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। এ কমিশন ইতোমধ্যে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। আগামী নির্বাচনগুলো এ কমিশনের অধীনে যাতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয় সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আশা করি- বিএনপিসহ অন্য সব রাজনৈতিক দল সে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করবে। গণতন্ত্রের রীতিনীতি অনুসরণ করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করবে।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে অন্য সব রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজ সাধুবাদ জানালেও বিএনপি নেতারা চিরাচরিতভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, নেতিবাচক ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য অব্যাহত রেখেছেন। বিএনপি নেতারা বলছেন- নির্বাচন কমিশন নিয়ে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। তারা এটি মানেন না। প্রকৃতপক্ষে বিএনপির প্রতি জনগণের কোনো প্রকার আগ্রহ নেই এবং তারা সম্পূর্ণ জনবিচ্ছিন্ন ও হতাশাগ্রস্ত রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। এ রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের ফলেই বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ভয় পায়।

গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা নতুন ইসির বড় চ্যালেঞ্জ: ইনু

নবগঠিত নির্বাচন কমিশনকে স্বাগত জানিয়ে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, আগামীতে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া এ কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মুখ দেখে, দল দেখে নয়, সরাসরি আইন ও সংবিধান দেখে আপনারা কাজ করবেন। সেটাই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

রোববার সকালে নিজের নির্বাচনি এলাকা কুষ্টিয়ার মিরপুরে তালবাড়িয়া এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে ইনু এসব কথা বলেন।

বিএনপির উদ্দেশে এই সংসদ সদস্য বলেন, সংলাপে আসেননি, কোনো প্রস্তাব দেননি, অথচ আপনারা নির্বাচন কমিশন নিয়ে প্রশ্ন করছেন। বিএনপির এজেন্ডা সরকার উৎখাতের।

সুতরাং নির্বাচন কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার তাদের নেই।

নদীভাঙন নিয়ে ইনু বলেন, অসময়ে পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙন চলছে। এ ভাঙন থামানো না গেলে দেশের উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে যোগাযোগের কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী জাতীয় মহাসড়কটি নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। তিনি দ্রুত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।

এ সময় স্থানীয় জাসদ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

একদিনে ১ কোটি ২০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

একদিনে ১ কোটি ২০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এর মধ্য দিয়ে লক্ষ্যমাত্রার বেশি মানুষকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হলো বলে মন্তব্য তার।

রোববার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৪২তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়া চার হাজার চিকিৎসকের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে জাহিদ মালেক একথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শনিবার সব মিলেয়ে আমরা এক কোটি ২০ লাখ মানুষকে টিকা দিতে পেরেছি। এর মধ্যে এক কোটি ১১ লাখ লোককে দেওয়া হয়েছে প্রথম ডোজ। বাকিদের দ্বিতীয় ডোজ। মোট জনসংখ্যার ৭৩ শতাংশ মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও ব‌লেন, গত পাঁচ বছ‌রে ১৫ হাজার চি‌কিৎসক ও ২০ নার্স নি‌য়োগ দেওয়া হ‌য়ে‌ছে। এনথিওল‌জিস্ট ও ল‌্যাব টেক‌নেশিয়ান নি‌য়োগ দেওয়া হ‌বে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্তিত ছিলেন স্বাস্থ্যসচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খোরশীদ আলম অতিরিক্ত মহাপরিচালক আহমেদুল কবীর প্রমুখ।

কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন সিইসি ও চার কমিশনার

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন।

সোমবার সকাল ১০টার দিকে তারা কর্মস্থলে যান। এ সময় পাঁচজনকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন কর্মকর্তারা।

বেলা ১১টা তাদের একটি মিটিং করার কথা রয়েছে।

এর আগে রোববার বিকালে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী সুপ্রিমকোর্টের জাজেস লাউঞ্জে তাদের শপথ পাঠ করান।

হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন অপর চার নির্বাচন কমিশনার হলেন— অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ বেগম রাশিদা সুলতানা, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবীব খান, অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর ও আনিছুর রহমান।

এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকালে সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী হাবিবুল আউয়ালকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) করে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নিয়োগ সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাদের নিয়োগ দিয়েছেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

এর মধ্য দিয়ে কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বে ১৩তম নির্বাচন কমিশন গঠিত হলো। নির্বাচন কমিশন আইনের অধীনে গঠিত এটিই প্রথম কমিশন।

নির্বাচন কমিশন শপথ নেওয়ার পর যেদিন প্রথম চেয়ারে বসেন, সেদিন থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর তাদের দায়িত্বকাল।

সূর্যালোক থেকে ভিটামিন ডি পেতে কী করবেন?

শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ভিটাামিন ডি। এই ভিটামিনের ঘাটতিতে নানা জটিলতা দেখা দেয়। হাড়ক্ষয়, অস্টিওপরোসিস, প্রজনন সমস্যা, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম এগুলো ভিটামিন ডি’র ঘাটতির কারণে হয়ে থাকে।

শীতপ্রধান দেশগুলোর মানুষের শরীরে ভিটামিন ডি’র ঘাটতি বেশি থাকার আশঙ্কা আছে। বাংলাদেশের মতো নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের মানুষের দেহে ভিটামিন ডি’র ঘাটতি প্রধানত অসচেতনতা প্রসূত।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম।

দেহের মোট চাহিদার ৮০ শতাংশ ভিটামিন ডি আসে সূর্যালোক থেকে। ২০ শতাংশের কম আমরা পেতে পারি খাদ্য উপাদান থেকে, যেমন- স্যালমন মাছ, পোনা মাছ, সামান্য কিছু থাকে মাগুড়-মলা মাছে, দুধ-ডিমে। ভিটামিন ডি পেতে হলে আমাদের সূর্যালোকের ওপরই নির্ভরশীল হতে হবে।

যেভাবে সূর্যালোক থেকে ভিটামিন ডি পেতে পারি

দিনের মধ্যভাগের সূর্যালোক বিশেষ করে গরমকালে সবচেয়ে উপযোগী হতে পারে। দুপুরের কাছাকাছি সময়ে সূর্য যখন সবচেয়ে ওপরের দিকে থাকে, তখন সূর্যরশ্মিতে যে অতি বেগুনি রশ্মি থাকে তা ভিটামিন তৈরিতে বেশি উপযোগী। অন্যদিকে সূর্য পূর্ব-পশ্চিম আকাশে হেলে থাকলে তাতে যে অতি বেগুনি রশ্মি থাকে তা পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি তৈরি করতে পারে না। শীতকালের কম আর্দ্র ও কুয়াশাচ্ছন্ন দিনগুলোয় অথবা শীতপ্রধান দেশে অধিকাংশ সময় সূর্যালোকে যে অতি বেগুনি রশ্মি থাকে, তা ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

কতক্ষণ ধরে রোদ পোহাতে হবে তা নির্ভর করবে আপনি পৃথিবীর কোন জায়গায় অবস্থান করছেন। বাংলাদেশের মানুষের জন্য গবেষণাভিত্তিক তথ্য না থাকলেও পৃথিবীর অন্য দেশের গবেষণার সঙ্গে তুলনা করে প্রতিদিন নিয়মিত প্রায় ৩০ মিনিট রোদ পোহানো প্রয়োজন হতে পারে বলে ধরে নেয়া যায়।

এ সময় শরীরের কমপক্ষে ১৮ শতাংশে রোদ লাগতে দিতে হবে। দুপুরের কাছাকাছি সময় মানে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত রোদে যাওয়ার উপযুক্ত সময় হতে পারে। আর বছরের গরমের সময়টুকু অর্থাৎ এপ্রিল-সেপ্টেম্বর, রোদ থেকে ভিটামিন ডি পাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় হবে।

ত্বকের রং সূর্যালোক থেকে ভিটামিন ডি তৈরিতে প্রভাব খাটাই। ত্বকের রং যত গাঢ় হয় (বেশি মেলানিন থাকে), তা সূর্যালোক থেকে অতি বেগুনি রশ্মি প্রবেশে ততবেশি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। অর্থাৎ গায়ের রং যত কালো তাকে ততবেশি সময় রোদে থাকতে হবে।

অনেক খেলোয়ার ও বেশ কিছু নারী ত্বকে সানস্ক্রিন/সানব্লক ব্যবহার করে। এগুলো সূর্যালোক থেকে ভিটামিন ডি পেতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।

যতটা সম্ভব বেশি সময় শরীরের বেশি অংশে সূর্যালোক লাগানোর চেষ্টা করবেন যাতে ভিটামিন ডি’র চাহিদা মেটানোর সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

ডুয়েটে অনুষ্ঠিত হলো প্রোগ্রামিং কনটেস্ট

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) ডিজিটাল বাংলাদেশ ব্র্যান্ডিংকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ইন্ট্রা ডুয়েট প্রোগ্রামিং কনটেস্ট’। কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডুয়েট কম্পিউটার সোসাইটি তৃতীয়বারের মতো এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

শনিবার সকালে ডুয়েটের ভার্চুয়াল ক্লাস রুমে এ প্রোগ্রামের উদ্বোধন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া প্রোগ্রামিং কনটেস্ট ডুয়েটের চারটি ল্যাবে, প্রজেক্ট এক্সভিশনটি পুরাতন একাডেমিক ভবনে এবং আইসিটি অলিম্পিয়াড কনটেস্টটি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভবনে অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডুয়েটের ভিসি প্রফেসর ড. মো. হাবিবুর রহমান। এ সময় ছাত্রকল্যাণ দফতরের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. নজরুল ইসলাম ছাড়াও বিভাগের অন্যান্য প্রফেসররা উপস্থিত ছিলেন।

এতে সভাপতিত্ব করেন সিএসই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. ওবায়দুর রহমান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং ডুয়েট কম্পিউটার সোসাইটির মডারেটর মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। দিনব্যাপী বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে আয়োজিত ইন্ট্রা ডুয়েট প্রোগ্রামিং কনটেস্ট উদ্বোধনের পর একসঙ্গে প্রোগ্রামিং কনটেস্ট এবং প্রজেক্ট এক্সভিশন অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর দুপুরের পর আইসিটি অলিম্পিয়াডের মধ্যদিয়ে শেষ হয় চলমান প্রতিযোগিতা। প্রজেক্ট এক্সভিশনের দশটি টিম, প্রোগ্রামিং কনটেস্টে ৮১ জন, আইসিটি অলিম্পিয়াডে ১২০ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন।