শনিবার ,১৫ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 386

রমজানে ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করল সৌদি জোট

আগামী ২ এপ্রিল থেকে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হতে পারে পবিত্র রমজান। রমজানে ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।

মঙ্গলবার এক ঘোষণায় বুধবার থেকেই সামরিক অভিযান বন্ধ রাখা হবে বলে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। রমজানে যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে জাতিসংঘের আহ্বানের পর এ ঘোষণা দিল সৌদি জোট। খবর আলজাজিরার।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে এবং দারিদ্র্যপীড়িত দেশটিতে সৃষ্ট ভয়াবহ মানবিক সংকট প্রশমনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ও ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে জাতিসংঘ। দুপক্ষ ২০১৫ সাল থেকে এ যুদ্ধ চালিয়ে আসছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তিন বছরের শান্তি প্রচেষ্টায় এ যুদ্ধবিরতি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সাত বছর ধরে চলা এ সংঘাত অবসানে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। এ যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। অনাহারের মুখে পড়েছেন লাখ লাখ ইয়েমেনি।

জোটের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তুর্কি আল-মালকির দেওয়া বিবৃতি উদ্ধৃত করে সৌদির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ বলেছে, বুধবার সকাল ৬টা থেকে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দিচ্ছে জয়েন্ট ফোর্সেস কমান্ড অব দ্য কোয়ালিশন। ইয়েমেন সংকটের অবসান এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সমাধানে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার মধ্যেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

হুতি নিয়ন্ত্রিত হোদেইদাহ বন্দরে জ্বালানিবাহী জাহাজ ভেড়ানো এবং সানা বিমানবন্দর থেকে কিছুসংখ্যক বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর অনুমোদন দেওয়ার বিনিময়ে রমজানে সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয় জাতিসংঘ। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এ কথা জানিয়েছে। আগামী ২ এপ্রিল রমজান শুরু হতে পারে।

নতুন এডিপিতে অর্থ বরাদ্দে কড়াকড়ি

আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য নতুন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) তৈরির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এবার প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে কড়াকড়িসহ ৫২টি নির্দেশনা দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। ১০ মার্চ এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে সংস্থাটি।

তবে এসব নির্দেশনা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো মানবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, প্রতি বছর এমন নির্দেশনা দেওয়া হলেও এর কতটুকু বাস্তবায়ন হয়- সেটার কোনো মূল্যায়ন করা হয়নি। এসব নির্দেশনা না মানলে শাস্তি অথবা মানলে পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় কর্মকর্তাদের মধ্যে শৈথিল্য দেখা যায়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী রোববার যুগান্তরকে বলেন, আমরা শুধু নির্দেশনা দিয়ে ক্ষান্ত হয়নি। প্রথমবারের মতো বাজেট তৈরির সঙ্গে যুক্ত ৫৮টি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ধারাবাহিক (সিরিজ) বৈঠক করেছি। তাদের বলেছি- এসব নির্দেশনা মানতেই হবে। একইসঙ্গে তদারকি বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্দেশনা দিয়ে আমরা দায়িত্ব শেষ করেছি-বিষয়টি এমন নয়।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, এমন বৈঠক কতটা ফলপ্রসূ হবে সেটি প্রশ্নসাপেক্ষ। কেননা নির্দেশনা জারির সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে বৈঠক করে তাগিদ দেওয়ার বিষয়টি। কিন্তু আচরণ পরিবর্তনে এ ধরনের তাগিদ কতটা কার্যকর হবে সেটি নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে। তিনি বলেন, নির্দেশনা না মানলে কে দায়ী থাকবেন এবং কী ধরনের শাস্তি ভোগ করবেন-সে ব্যাপারে নীতিমালা জারি করা হলে গেম চেঞ্জের মতো সম্ভাবনা থাকত।

পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগ থেকে জারি করা পরিপত্রে বলা হয়-উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি করে দারিদ্র্য হার কমানোর জন্য সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এসব পরিকল্পনার লক্ষ্য-জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটানো। ২০২১-৪১ সাল পর্যন্ত প্রেক্ষিত পরিকল্পনা, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া বর্তমান সরকার শহরের সুবিধা গ্রামে পৌঁছে দিতে কাজ করছে। একইসঙ্গে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সঙ্গে সমন্বয় করে উন্নয়ন নীতি-কৌশল তৈরি করা হয়েছে। এসব বাস্তবায়নের লক্ষ্য অর্জনের প্রধান মাধ্যম হলো এডিপি। ২০২২-২৩ অর্থবছরের এডিপি তৈরির সময় খাতওয়ারী বরাদ্দ বিভাজন, অনুমোদিত প্রকল্প, বরাদ্দহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প যুক্ত করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।

নিজস্ব অর্থায়নপুষ্ট প্রকল্প, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) প্রকল্প এডিপি অন্তর্ভুক্তি এবং বরাদ্দ প্রস্তাব পাঠানো ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে এডিপির আকার ও অর্থনৈতিক সেক্টর/সাব সেক্টর/প্রকল্পওয়ারী বরাদ্দ বিভাজন এবং অনুমোদনের ক্ষেত্রে পাঁচটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এডিপি তৈরির জন্য ১১টি সাধারণ নির্দেশনা রয়েছে। এডিপিতে বরাদ্দহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে ২০টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এডিপিতে প্রকল্পভিত্তিক অর্থবরাদ্দের ক্ষেত্রে ১৬টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের দেওয়া উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নির্দেশনা হলো-প্রকল্পভিত্তিক অর্থবরাদ্দের ক্ষেত্রে যেনতেন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া যাবে না। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ, বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট, ২০২২-২৩ অর্থবছরে সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত এবং অধিক গুরুত্বপূর্ণ (ফার্স্টট্র্যাক) প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শুধু অনুমোদিত ও এএমএসে (এডিপি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) অন্তর্ভুক্ত প্রকল্প এডিপিতে বরাদ্দসহ অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করা যাবে।

অনুমোদনের আদেশ ও প্রশাসনিক আদেশ জারি হয়নি-এমন নতুন অনুমোদিত প্রকল্প এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। চলতি উন্নয়ন প্রকল্পের সময়ানুগ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় স্থানীয় মুদ্রায় বরাদ্দ নিশ্চিত করার পরই কেবল অপরিহার্য নতুন অনুমোদিত প্রকল্পের জন্য স্থানীয় মুদ্রায় বরাদ্দ প্রস্তাব করতে হবে। এছাড়া আগামী অর্থবছরে এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত অননুমোদিত নতুন প্রকল্প যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। এরপর অর্থায়নের জন্য নতুন প্রকল্প বরাদ্দ (থোক) এ নতুন প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয়ের ৫ শতাংশ অর্থের সংস্থান রাখতে হবে।

আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা-চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত তালিকাভুক্ত কোনো প্রকল্প আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের এডিপিতে অন্তুর্ভুক্তির প্রস্তাব করা যাবে না। সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও কাক্সিক্ষত সুফল পেতে এডিপিতে নতুন প্রকল্প গ্রহণের চেয়ে চলমান প্রকল্প যথাসময়ে শেষ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। আগামী ৩০ জুন মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে-এমন প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির কার্যক্রম দ্রুত করতে হবে। মেয়াদ বৃদ্ধি ছাড়া এসব প্রকল্পে আগামী এডিপিতে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করা যাবে না। এডিপিতে বরাদ্দহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকা যোগ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প প্রস্তাব করতে হবে।

আমৃত্যু পেনশন সুবিধা

আমৃত্যু পেনশন সুবিধার বিধান রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে ‘জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ আইন ২০২২’-এর খসড়া। এতে অংশ নিতে পারবে ১৮-৫০ বছর বয়সের বাংলাদেশি নাগরিকরা। তারা বিদেশে থাকলেও এ সুযোগ নিতে পারবে। দুস্থ নাগরিকদের মাসিক চাঁদার একটি অংশ অনুদান হিসাবে দেবে সরকার।

এ আইনের অধীনে কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর নির্বাহী চেয়ারম্যান হবেন অর্থমন্ত্রী। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের অর্থ দিয়ে গঠন করা হবে পৃথক তহবিল। যার অর্থ লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করা হবে। এছাড়া পেনশনের অর্থ সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে ইলেক্ট্রনিক ট্রান্সফারের মাধ্যমে। অর্থ মন্ত্রণালয় খসড়াটির ওপর মতামত চেয়েছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ খসড়া আইনে বলা হয়, সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীরা এখানে অংশ নিতে পারবে না। এতে বেসরকারি পর্যায়ের লোকজন অংশ নিতে পারবে। প্রাথমিকভাবে স্বেচ্ছায় সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তি হওয়া যাবে। একজন অংশগ্রহণকারী ধারাবাহিকভাবে ১০ বছর চাঁদা দেওয়ার পর মাসিক পেনশন পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন। চাঁদাদাতার বয়স ৬০ বছর পূর্ণ হলে পেনশন তহবিলে পুঞ্জীভূত মুনাফাসহ জমার বিপরীতে পেনশন দেওয়া হবে। প্রতি চাঁদাদাতার জন্য একটি পৃথক ও স্বতন্ত্র পেনশন হিসাব থাকবে।

চাকরিরত চাঁদাদাতারা কাজের জায়গা পরিবর্তন করলে পূর্ববর্তী হিসাব নতুন কর্মস্থলের বিপরীতে স্থানান্তরিত হবে। নতুনভাবে হিসাব খুলতে হবে না। এই কর্তৃপক্ষ মাসিক সর্বনিম্ন চাঁদার হার নির্ধারিত করবে। মাসিক এবং ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে চাঁদা দেওয়া যাবে, প্রয়োজনে অগ্রিম ও কিস্তিতে জমার সুযোগ থাকবে। মাসিক চাঁদা দিতে দেরি হলে, বিলম্ব ফিসহ বকেয়া চাঁদা দেওয়ার মাধ্যমে পেনশন হিসাব সচল রাখা যাবে। চাঁদাদাতারা আজীবন অর্থাৎ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পেনশন সুবিধা ভোগ করবেন।

তবে পেনশনে থাকাকালীন ৭৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কেউ মারা গেলে তার নমিনি অবশিষ্ট সময়ের জন্য (মূল পেনশনারের বয়স ৭৫ বছর পর্যন্ত) মাসিক পেনশন প্রাপ্য হবেন। কিন্তু কমপক্ষে ১০ বছর চাঁদা দেওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করলে জমাকৃত অর্থ মুনাফাসহ তার নমিনিকে ফেরত দেওয়া হবে।

পেনশন তহবিলে জমাকৃত অর্থ কোনো পর্যায়ে এককালীন উত্তোলনের সুযোগ থাকবে না। তবে চাঁদাদাতার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জমাকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ঋণ হিসাবে উত্তোলন করা যাবে। বিপরীতে ধার্যকৃত ফিসহ পরিশোধ করতে হবে। তবে পেনশনের চাঁদা কর রেয়াতমুক্ত থাকবে। মাসিক পেনশন বাবদ প্রাপ্ত অর্থও আয়করমুক্ত থাকবে।

এই আইন কার্যকরের পর জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ নামে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর প্রধান কার্যালয় ঢাকায় হবে। প্রয়োজনে দেশের যে কোনো স্থানে শাখা কার্যালয় স্থাপন করতে পারবে। একজন নির্বাহী চেয়ারম্যান ও চারজন সদস্য থাকবে পেনশন কর্তৃপক্ষের। সরকার নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিযুক্ত করবেন। তবে এর ব্যয় নির্বাহ করবে সরকার।

কর্তৃপক্ষের কার‌্যাবলি : কর্তৃপক্ষ সর্বজনীন পেনশন পদ্ধতি চালু, ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি চাঁদাদাতাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করবে। এছাড়া এই স্কিম গ্রহণ, স্কিমে প্রবেশ যোগ্যতা, শর্ত নির্ধারণ, অনুমোদন, পরিচালনা, তত্ত্বাবধান এবং পেনশন তহবিলের পুঞ্জীভূত জমার বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা করবে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে আহরণকৃত চাঁদার অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।

এতে আরও বলা হয়, চাঁদাদাতাদের অভিযোগ নিষ্পত্তি ও প্রতিকারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রবিধান প্রণয়ন, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ফি বা অন্যান্য চার্জ নির্ধারণ করবে। এই কর্তৃপক্ষ সরকারের অনুমতি নিয়ে নিজ নামে ঋণ গ্রহণ করতে পারবে।

পেনশন গভর্নিং বোর্ড : এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন অর্থমন্ত্রী। সদস্য হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, সমাজ কল্যাণ সচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক সচিব, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সচিব, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান, এফবিসিসিআই সভাপতি, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি, উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ সভাপতি এবং নির্বাহী চেয়ারম্যান এর সদস্য সচিব হবেন।

সর্বজনীন পেনশন তহবিল : পেনশন তহবিলের অর্থ সরকারি সিকিউরিটি, কম ঝুঁকিপূর্ণ অন্যান্য সিকিউরিটিজ, লাভজনক অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের জন্য গাইডলাইন অনুমোদন দেবেন। এছাড়া জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের একটি তহবিল থাকবে। সেখানে সরকারের অনুদান, আদায়যোগ্য চার্জ, ঋণের অর্থ জমা হবে। তহবিলের অর্থ কর্তৃপক্ষের নামে কোনো তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখা হবে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের একজন সদস্যকে সভাপতি এবং এ বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সদস্য করে পেনশন তহবিল ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে।

পেনশন বিতরণ পরিকাঠামো : কর্তৃপক্ষ ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার প্রক্রিয়ায় মাসিক পেনশন পেনশনারের কাছে নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছানো নিশ্চিত করবে। এ লক্ষ্যে একটি কেন্দ্রীভূত ও স্বয়ংক্রিয় পেনশন বিতরণ পরিকাঠামো গঠন করা হবে।

তারা দিনের আলোয় রাতের অন্ধকার দেখতে পায়: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ইতিহাস থেকে যারা বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল, তারাই আজ ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।

তিনি বুধবার সকালে রাজধানীর পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে হাসুমনি পাঠশালা আয়োজিত ‘জয় বাংলা আর্ট ক্যাম্প’ ও ‘পিতার ভাবনায় সোনার বাংলা’ চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

হাসুমনি পাঠশালার সভাপতি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য মারুফা আক্তার পপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর ই আলম চৌধুরী লিটন ও শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
বাংলাদেশের উন্নয়ন, অর্জনে যারা অপবাদ দেয়, তারা চোখে দেখে না উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, তারা দিনের আলোয় রাতের অন্ধকার দেখতে পায়।

পরে ওবায়দুল কাদের হাসুমনি পাঠশালা শিল্পীদের বিভিন্ন চিত্রকর্ম ঘুরে দেখেন।

এর আগে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর ই আলম চৌধুরী লিটন বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

আওয়ামী লীগের শাসন ব্যবস্থা নিয়ে যা বললেন জোনায়েদ সাকী

ক্ষমতা পাওয়ার আওয়ামী লীগ বুঝিয়ে দিয়েছে তারা গণতন্ত্র ধারণ করে না বলে মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী।

তিনি বলেন, ক্ষমতা হস্তান্তরের শান্তিপূর্ণ পথ তো রাখতে হবে। আপনি যদি সব পথ বন্ধ করে দিতে থাকেন, পুরোটাকে একটা ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট শাসনে জমিদারিতে পরিণত করেন তখন নানা অগণতান্ত্রিক শক্তির পথ রচনা হয়। ফলে আওয়ামী লীগের শাসন ইটস সেলফ বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক শাসনের। যে গণতন্ত্রের কথা বলে তারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলেন, গৌরবের অধিকারী হলেন। কিন্তু ক্ষমতার পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা বুঝিয়ে দিলেন তারা আসলে গণতন্ত্র ধারণ করেন না।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার জেএসডি আয়োজিত ‘আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ : বাস্তবতা ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন- নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের (একাংশ) নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম প্রমুখ।

জুনায়েদ সাকী বলেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিই হলো বিভিন্ন দল কাজ করবে। কিন্তু বিভিন্ন দল কাজ করবে এটা স্বীকার করার মতো নূন্যতম গণতান্ত্রিকবোধ তাদের নেই। আওয়ামী লীগ যে সত্যিকারার্থে গণতান্ত্রিক দল নয় তার প্রমাণ হচ্ছে, আওয়ামী লীগ যে ঘোষণা দিয়ে ১৯৫৬ সালে যখন কেন্দ্রীয় সরকার করল সেই ঘোষণা থেকে সরে গেল। ফলে দল ভেঙে গেল। আবার ১৯৭২ সালে ক্ষমতা পাওয়ার পর তারা দেখিয়ে দিলেন তারা আসলে গণতান্ত্রিক চিন্তা চেতনা ধারণ করেন না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ভেতর থেকেই জাসদ সৃষ্টি হলো। ছাত্রলীগের উজ্জ্বল গুরুত্বপূর্ণ অংশ জাসদ আকারে বেরিয়ে আসলো। সেই জাসদকেও একটা ন্যূনতম কাঠামোর মধ্যে যে রাজনৈতিক স্পেস পাওয়ার কথা তা করতে দিলেন না। নানাভাবে তাদের ওপর অত্যাচার চললো। আর এর পরিণত হলো তারা (আওয়ামী লীগ) নিজেরাও টিকে থাকতে পারলেন না।

জোনায়েদ সাকী বলেন, ৭৫ সালের ঘটনা অত্যন্ত মর্মাহত, অত্যন্ত ঘৃণ্য। এই ধরনের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড সমাজের মধ্যে সবসময় বিপজ্জনক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। নানাভাবে আরও জটিলতর করে। অসুবিধার মধ্যে ফেলে। কোনো অগ্রগতি হয় না। কিন্তু যেটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সেটা হচ্ছে-ক্ষমতা হস্তান্তরের শান্তিপূর্ণ পথ তো রাখতে হবে। আপনি যদি সব পথ বন্ধ করে দিতে থাকেন, পুরোটাকে একটা ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট শাসনে জমিদারিতে পরিণত করেন তখন নানা অগণতান্ত্রিক শক্তির পথ রচনা হয়। ফলে আওয়ামী লীগের শাসন ইটস সেলফ বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক শাসনের। সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপের ক্ষেত্র তৈরি করেছে।

জোনায়েদ সাকী আরও বলেন, আমরা ৭৫-এর হত্যাকে নিন্দা করি। কিন্তু কীভাবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা সামরিক হস্তক্ষেপের প্রেক্ষাপট তৈরি হলো সেই প্রশ্নও আমাদের পরিষ্কার করা উচিত।

৪০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হতে পারে আজ

৪০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল আজ প্রকাশ করা হতে পারে।

সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

২০১৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ৪০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। আবেদন গ্রহণ শুরু হয় ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে।

এ বিসিএসে এক হাজার ৯০৩ জন ক্যাডার নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল পিএসসি।

ক্যাডার অনুসারে প্রশাসনে ২০০, পুলিশে ৭২, পররাষ্ট্রে ২৫, করে ২৪, শুল্ক আবগারিতে ৩২ এবং শিক্ষা ক্যাডারে প্রায় ৮০০ জন নিয়োগ দেওয়ার কথা এ বিসিএসে।

‘গরিবের ডাক্তার’ বুলবুল হত্যায় তিনজন গ্রেফতার

রাজধানীর মিরপুরে গরিবের ডাক্তার হিসেবে পরিচিত আহমেদ মাহী বুলবুলকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের এক বার্তায় বলা হয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে কিছু আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে কখন কোথা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হল বা তাদের পরিচয় কী, সেসব বিষয়ে কোনো তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ কমিশনার আ স ম মাহাতাব উদ্দিন জানান, সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

গত রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে শেওড়াপাড়ায় মেট্রোরেলের ২৭৮ নম্বর পিলারের কাছে ছুরিকাহত হন বুলবুল। তাকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড এবং বিল্ডিং টেকনোলজি এন্ড আইডিয়াজ লিমিটেড (বিটিআই) এর মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবি) এবং বিল্ডিং টেকনোলজি এন্ড আইডিয়াজ
লিমিটেড (বিটিআই) এর মধ্যে সম্প্রতি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি
স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, গ্রাহকদের জন্য আকর্ষনীয় মূল্য ও সুবিধায় গৃহ ঋণ প্রদান করা
হবে।

ইউসিবি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও জনাব আরিফ কাদরী এবং বিটিআই এর ব্যবস্থাপনা
পরিচালক জনাব এফ আর খান স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন ইউসিবি’র অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব নাবিল
মুস্তাফিজুর রহমান; ইউসিবি’র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সেক্রেটারি জনাব এটিএম
তাহমিদুজ্জামান এফসিএস; ইউসিবি’র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব আবুল কালাম আজাদ;
বিটিআই এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জনাব মোঃ আবু নাসির; বিটিআই এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর
জনাব মোহম্মদ শামসুল আমিন সহ উভিওয় প্রতিষ্ঠানের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

ক্যাপশনঃ ইউসিবি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও জনাব আরিফ কাদরী এবং বিটিআই এর
ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব এফ আর খান স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর
করছেন। অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন ইউসিবি’র অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক
জনাব নাবিল মুস্তাফিজুর রহমান; ইউসিবি’র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সেক্রেটারি
জনাব এটিএম তাহমিদুজ্জামান এফসিএস; ইউসিবি’র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব আবুল
কালাম আজাদ; বিটিআই এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জনাব মোঃ আবু নাসির; বিটিআই এর
এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জনাব মোহম্মদ শামসুল আমিন সহ উভিওয় প্রতিষ্ঠানের উর্দ্ধতন
কর্মকর্তাবৃন্দ।

সংসার সুখী হয় রাগ নিয়ন্ত্রণের গুণে

ইরফান আহমদ নেহায়েত বদমেজাজি মানুষ। যখনই ঘরে আসে, পুরো ঘর নিস্তব্ধ হয়ে যায়। তার মা, বোন, ছোট ভাই— সবাই তাকে ভয় পায়, না-জানি কখন কাকে ধমক দিয়ে বসে।

খাওয়াদাওয়ার সময় কোনো কিছু তার মনমতো না হলে একদম পাগলের মতো হয়ে যায়, থালাবাসন ছুঁড়ে মারে। প্রতিদিনই তার এধরনের খারাপ কিছু না কিছু ঘটেই, ফলে ঘরের পরিবেশ একদম নষ্ট হয়ে গেছে, কারও মনেই শান্তি নাই।

একদিন ইরফান সাহেব তার স্ত্রীর সঙ্গে বসেছিলেন। আজ কোনো কারণে তার মন খুব ভালো। তার হাসিখুশি মুখ দেখে স্ত্রী বললেন, ‘জানেন, আপনার কাছে কোনোদিন কোনো কিছু চাইনি।’

ইরফান সাহেব বললেন, ‘হ্যাঁগো বউ, আসলেই তুমি নিজের জন্য কোনোদিন কিছু চাওনি।’ স্ত্রী বললেন, ‘আজকে যদি আমি কিছু চাই, দিবেন?’ ইরফান সাহেব বললেন, ‘কেন দিব না, তুমি যা চাইবে তা-ই দিব। তুমি হৃদয় চাও, তা-ও বের করে তোমার হাতে দিব।’

স্ত্রী বললেন, ‘না, তার প্রয়োজন পড়বে না। আপনি দিতে পারবেন না।’ ইরফান সাহেব আবেগে বললেন, ‘তুমি চেয়েই দেখো না, তারপর দেখো আমি দিতে পারি কি পারি না।’ তারপর স্ত্রী বললেন, ‘আমি আপনার কাছে আর কিচ্ছু না, শুধু একটা জিনিসই চাই— আপনি রাগ করা ছেড়ে দিন।’

ইরফান সাহেব এই বাক্য শুনে একদম থ হয়ে গেলেন। তিনি ওই সময়ই ওয়াদা করলেন, ‘আজ থেকে আমি রাগ করা ছেড়ে দিলাম।’

এরপর দশ বৎসর পার হয়ে গেছে। ইরফান সাহেব এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক মানুষ। তিনি ঘরের সবার সাথে হাসি-হাসি মুখে কথা বলেন। সবাইকে ভালোবাসেন। বিভিন্ন কাজে তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নেন। খাবারের টেবিলে যা-ই দেওয়া হয়, অভিযোগ ছাড়াই খেয়ে নেন। তিনি তার মতের বিপরীত কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেন, তারপর কোনো সিদ্ধান্তে যান।

এই পরিবর্তন ইরফান সাহেবকে লাভবান করে তোলে। এখন তার শরীর-স্বাস্থ্য আগের তুলনায় অনেক ভালো। আগের চেয়ে এখন কাজকর্মেও বেশি মনোযোগ দিতে পারেন। বাহিরের মানুষের সাথেও তার আচরণ ভালো, ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে তিনি ভালো মুনাফা লাভ করছেন।

রাতের বেলায় তার খুব আরামে ঘুম হয়, অথচ আগে ভালো ঘুম হতো না, অস্থির অস্থির লাগত। শুধুমাত্র একটি বদস্বভাব দূর করার কারণে তার গোটা জীবন সুখময় হয়ে উঠে।

আল্লাহর রাসুল (সা.) একবার সাহাবিদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমাদের মধ্যে কাকে তোমরা অধিক শক্তিশালী মনে করো?’ তারা উত্তর দিলেন, ‘যে ব্যক্তি কুস্তিতে অন্যকে হারিয়ে দিতে পারে।’

আল্লাহর রাসুল (সা.) বললেন, ‘সে প্রকৃত বীর নয় যে কাউকে কুস্তিতে হারিয়ে দেয়; বরং সে-ই প্রকৃত বীর যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়।’ ( সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৫৬৮৪)

বার্সেলোনার শান্তা কলোমায় বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে পিঠা উৎসব

খোলা আকাশের নিচে উৎসবমুখর পরিবেশে স্পেনের বার্সেলোনার শান্তা কলোমার বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে রোববার স্থানীয় কানজাম মাঠে আনন্দঘন পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। শফিকুল ইসলাম স্বপনের পরিচালনায় সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মোখলেছুর রহমান নাছিম, খুরশিদ আলম বাদল, মোহাম্মদ মুস্তাফা,মোশারফ হোসেন,মনির হোসেন, নাঈমা নাহারসহ বেশ কয়েকজন।

বরাবরের মতো এবারো মুখরোচক বিভিন্ন স্বাদের পিঠার সমাহার চোখে পড়ার মতো। ভাপা পিঠা, ফুলি পিঠা, মুখ সুন্দরী, পোয়া পিঠা, পাইছ পাখন, পাটিসাপটাসহ বিভিন্ন স্বাদের পিঠা উৎসবে স্থান পায়। মধ্যাহ্ন ভোজ সমাপ্তির পর ক্রমান্বয়ে খেলাধুলা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, কেরাত প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তিসহ বিভিন্ন প্রকার চিত্তাকর্ষক এবং শিক্ষণীয় আনন্দের আয়োজন করা হয়।

কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব শফিউল আলম স্বপন ও খুরশিদ আলম বাদল বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারো আমরা চেষ্টা করেছি পিঠা উৎসবের মধ্য দিয়ে বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বিদেশের মাটিতে সবাইকে নিয়ে প্রাণবন্ত করে তুলতে। নেতারা আগামীতে আরো সুন্দর প্রাণবন্ত অনুষ্ঠান উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। শেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার প্রদান করা হয়।