শনিবার ,১৫ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 382

বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে ২ শীর্ষ কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করলেন জেলেনস্কি

বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে ইউক্রেনের দুই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

বৃহস্পতিবার রাতে দুই কর্মকর্তাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে এক ভিডিওবার্তায় এ ঘোষণা দেন তিনি। খবর আলজাজিরার।

জেলেনস্কি বলেন, আজ অ্যান্টি-হিরোদের ব্যাপারে আরেকটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। সব বিশ্বাসঘাতককে মোকাবিলার সময় আমার নেই। তবে ধীরে ধীরে তাদের সবাইকে শাস্তি দেওয়া হবে।

এ সময় ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা সেবা বাহিনীর শীর্ষ ওই দুই কর্মকর্তার বরখাস্তের বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, যারা ইউক্রেনের জনগণের প্রতি আনুগত্যের সামরিক শপথ ভঙ্গ করবে, তারা অবশ্যই উচ্চ সামরিক পদ থেকে বঞ্চিত হবে।

তিনি বলেন, এলোমেলো জেনারেলদের পথ আর আমাদের পথ এক নয়।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তারা হলেন— আন্দ্রেই নাউমভ এবং সের্হি ক্রিভোরুচকো।

উল্লেখ্য, ইউক্রেনের লুহানস্ক ও দোনেস্ক অঞ্চলকে গত ২১ ফেব্রুয়ারি আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় রাশিয়া। এর পর ওই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। এরই মধ্যে শুক্রবার ৩৭তম দিনে গড়িয়েছে রাশিয়ার অভিযান। এ সময়ে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি নগরী দখলে নিয়েছে রুশ বাহিনী। তবে নিজেদের সক্ষমতা অনুযায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টাও করে যাচ্ছে ইউক্রেন।

সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স।

চেরনোবিল ছেড়েছেন রুশ সেনারা

২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে রাশিয়া। এরই মধ্যে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি নগরী নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন রুশ সেনারা। এতে দেশটির বিভিন্ন নগরীতে হতাহত হয়েছেন বহু মানুষ।

এমন পরিস্থিতির মাঝেই ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা বলেছে, চেরনোবিলের কর্মীরা জানিয়েছেন— বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভূখণ্ডে আর কোনো বহিরাগত নেই।

এদিকে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রুশ বাহিনী চেরনোবিল বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করেছে। পাশাপাশি সেনাদের সরিয়ে নিয়েছে রাশিয়া।

জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, তারা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে তাদের প্রথম সহায়তা পাঠাবে।

উল্লেখ্য, রাশিয়ান সেনারা ইউক্রেন অভিযানের শুরুতে চেরনোবিল দখলে নেয়। তবে সম্প্রতি রাশিয়া বলেছে, উত্তর ইউক্রেনে তাদের কার্যক্রম কমিয়ে দেবে এবং পূর্ব ডনবাস অঞ্চলে তারা তৎপরতা চালাবে। আর চেরনোবিল কিয়েভের উত্তরে অবস্থিত।

রাজধানীতে যানজট নিয়ে সংসদে ক্ষোভ

রাজধানী ঢাকায় যানজট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে জাতীয় সংসদে। বিরোধী দল জাতীয় পার্টির এমপি পীর ফজলুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, প্রতিদিন মানুষকে যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এতে একদিকে অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে মানুষের কর্মক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ঢাকা শহর অকার্যকর শহরে পরিণত হবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

জাতীয় পার্টির এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘ঢাকা এখন শব্দদূষণে এক নম্বরে, বায়ুদূষণেও এগিয়ে। ঢাকায় যারা বসবাস করেন, যানজটের কারণে তারা সকালে বের হলে দুপুরে কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছাতে পারবেন কি না- তার নিশ্চয়তা নেই।’

এ সময় বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের একটি প্রতিবেদনের উদ্বৃতি দেন পীর ফজলুর রহমান। বলেন, ‘যানজটের কারণে বছরে ৮৭ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।’

‘উন্নয়নকাজে কোনো সমন্বয় নেই। এক সংস্থা রাস্তা তৈরি করে আবার কিছুদিনের মধ্যে অন্য সংস্থা রাস্তা কাটে। কোন বাস কোথায় থামবে, তার কোনো ঠিক নেই। রাস্তা বন্ধ রেখে তারা যাত্রী তোলে।’

ঢাকায় যানজট নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া এবং প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের দাবি জানান বিরোধীদলীয় এই সংসদ সদস্য।

‘যারা বোরকা পরে হাইকোর্টে হাজির হয় তারা নাকি সরকার পতন ঘটাবে’

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির বক্তব্য হল খালি কলসি বেশি বাজার মতো। তারা কখন কী বলে তারা নিজেই জানে না। যারা জামিন নেওয়ার জন্য পুরুষ হয়েও মহিলাদের বোরকা পরে হাইকোর্টে হাজির হয় তারা নাকি সরকার পতন ঘটাবে। আমরা গত কয়েক বছর আগে দেখেছি বিএনপি নেতারা বোরকা পরে হাইকোর্টের জামিন নিতে গিয়েছিল। এই লজ্জা বিএনপি কোথায় রাখবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নওগাঁ শহরের নওজোয়ান মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি বলে বেড়াচ্ছে নিরপেক্ষ সরকার না হলে তারা নির্বাচনে আসবে না। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী আর কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না। নির্বাচন সরকারের অধীনে হয় না। নির্বাচন হয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে। নির্বাচন কমিশনার স্বাধীন। সুতরাং স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি নির্বাচনে আসবে কি আসবে না সেটি তাদের বিষয়।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করে নাই। তারা অংশগ্রহণ না করে ভেবেছিল ধাক্কা দিয়ে সরকার ফেলে দিবেন। বরং সরকার আরও শক্তিশালী হয়েছিল। আমাদের সরকার সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। তাই আগামী নির্বাচনের ট্রেনে উঠবে কি উঠবে না সেটি বিএনপির সিদ্ধান্তের ব্যাপার। নির্বাচনের ট্রেন কারো জন্য অপেক্ষা করবে না।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার ১ কোটি মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছে। টিসিবির পণ্য শৃঙ্খলাভাবে লাইনে স্বল্পমূল্যে পণ্য কিনলে এতে তো কারো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু কয়েকটি পত্র-পত্রিকায় দেখলাম টিসিবির পণ্যের জন্য লাইন নিয়ে কথা বলে। তাদের কথায় মনে হয় প্রধানমন্ত্রী এক কোটি পরিবারকে স্বল্পমূল্যে পণ্য বিক্রি করার ব্যবস্থা করায় তারা সম্ভবত খুশি হয়নি। জনগণের মধ্যে স্বস্তি নেমে আসাতে বিএনপিসহ কিছু মানুষের অস্থিরতা বেড়ে গেছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রথম দেশ হিসেবে শতভাগ বিদ্যুতায়িত দেশ; যা ভারত, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, নেপাল ও ছোট জনসংখ্যার দেশ ভুটানও করতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শতভাগ বিদ্যুতায়িত দেশ এখন বাংলাদেশ। দেশ যখন বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত তখন বিএনপি চেহারা মলিন হয়ে গেছে। কারণ দেশের মানুষের ভালো চায়না বিএনপি। তারা বুঝতে পেরেছে আগামী নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি হতে চলেছে।

এ সময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য মন্ত্রী বলেন, যারা দলের নাম ভাঙিয়ে দলের জন্য বদনাম কুরায়, যারা নিজেদের চামড়া রক্ষার জন্য দল করে তাদের যদি আমরা বর্জন করি আগামী নির্বাচনও আমাদের বিজয় হবে।

এর আগে সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মালেকের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক সাধন চন্দ্র মজুমদারের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান, আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, কার্যকরী সদস্য মেরিনা জাহান কবিতা, শহীদুজ্জামান সরকার এমপি, ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন এমপি, ছলিম উদ্দিন তরফদার এমপি, আনোয়ার হোসেন হেলাল এমপি প্রমুখ।

পরে পুনরায় আব্দুল মালেককে সভাপতি ও সাধন চন্দ্র মজুমদারকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

একাধিক অস্ত্রের ব্যবহার, সিদ্ধান্ত কমলাপুরে বসে

রাজধানীর শাহজাহানপুরের ব্যস্ত সড়কে ফিল্মি স্টাইলে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু হত্যায় একাধিক অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে। হত্যার মাসখানেক আগে কমলাপুরের রূপালী ক্লাবে (রূপালী যুব উন্নয়ন সংস্থা) চার-ছয়জনের এক বৈঠকে কিলিং মিশন বাস্তবায়নের সর্বশেষ ও চূড়ান্ত বৈঠক হয়।

বোঁচা বাবু হত্যাকাণ্ড ও ওই মামলার আসামিদের বিচারিক প্রক্রিয়ায় ফেঁসে যাওয়ার ভয় টিপু খুনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি মতিঝিল এলাকার ক্রীড়া পরিষদ, হাটবাজার নিয়ন্ত্রণ, ইজারাসহ অবৈধ অর্থনৈতিক আয় এ হত্যার অন্যতম কারণ।

এতে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সম্পৃক্ততাও পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া শুটার মাসুমসহ অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রের মালিকের বিষয়েও মিলছে তথ্য। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ইতোমধ্যে অস্ত্রসহ একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্র যুগান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ডিবি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাজধানীর কমলাপুর থেকে একটি রিভলবারসহ দামাল নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে মতিঝিল থানায় একটি মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিউটি অফিসার এসআই ফরিদ আহমেদ।

রিভলবারটি পাকিস্তানে তৈরি। কিন্তু এ অস্ত্রটিই টিপু হত্যায় ব্যবহার হয়েছে কিনা তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি গোয়েন্দারা। তবে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি যে সূত্র থেকে এসেছে, হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রটিও একই জায়গা থেকে এসেছে-এটা মোটামুটি নিশ্চিত হয়েছেন তদন্তকারীরা।

আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তদন্তকারীরা আরও বলেছেন, এ ঘটনায় মূল শুটারের বাইরে সেখানে আরও কেউ ছিল। তাদের ধারণা, ঘটনাস্থলে একটি ‘ব্যাকআপ পার্টি’ রাখা হয়েছিল। সেখানেও ছিল ভাড়াটে শুটার।

যদি কোনো কারণে শুটার মাসুমের গুলি মিস হয়ে যায়, তাহলে অন্যরা যাতে কিলিং মিশন সম্পন্ন করতে পারে। তবে একজনের বিষয়ে অন্যরা সেভাবে জানতেন না। সবার মধ্যে সমন্বয় করেছেন মুসা। রাজধানীর গোপীবাগের বৈঠকে এসব নিয়ে আলোচনা হয়। পরবর্তীতে তা চূড়ান্ত হয় কমলাপুরে।

এদিকে গোয়েন্দা সূত্র জানায়, টিপু হত্যার সন্দেহভাজন নির্দেশদাতা মুসার অবস্থানের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি তারা। তবে শিগগিরই এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারবেন বলে আশা তাদের। মুসার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে এমন একজনকে গোয়েন্দাজালে আনার খুব কাছাকাছি রয়েছেন তারা।

পাশাপাশি শুটার মাসুম মোহাম্মদ আকাশের (৩৪) ঘনিষ্ঠ বন্ধু গোড়ান এলাকার ইন্টারনেট ব্যবসায়ী বাবুও রয়েছেন গোয়েন্দা নজরদারিতে। এছাড়া ভারতে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী ফ্রিডম মানিকের ক্যাশিয়ার ফারুক খানকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন গোয়েন্দারা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিবি) মতিঝিল গোয়েন্দা বিভাগের ডিসি রিফাত রহমান শামীম যুগান্তরকে বলেন, তদন্তে অগ্রগতি রয়েছে। একটি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২১ মার্চ রাত ১০টার দিকে শাহজাহানপুরের আমতলা এলাকায় টিপুকে খুনের মিশনে অংশ নেয় পেশাদার কিলার বাহিনী। এক থেকে দেড় মিনিটের অপারেশন শেষে পালিয়ে যায় কিলাররা।

১২ রাউন্ড গুলি ছোড়ে টিপুর দিকে। এর মধ্যে তার শরীরে সাত রাউন্ড গুলি লাগে। ঘটনাস্থলের আশপাশে কিলার বাহিনীর আরও কয়েক সদস্যের অবস্থান ছিল। প্রয়োজনে গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়াতে প্রস্তুত ছিল তারা।

সুচারু পরিকল্পনায় খুব কাছ থেকে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় গুলিতে নিহত হন কলেজছাত্রী সামিয়া আফরান জামাল প্রীতি। এ ঘটনায় ২৭ মার্চ শুটার মাসুম মোহাম্মদ আকাশকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। বর্তমানে তিনি সাত দিনের রিমান্ডে ডিবি হেফাজতে রয়েছেন।

বিচারের বাণী নীরবে কাঁদে

প্রায় ৯ বছর আগের কথা। ঈদ উদযাপনের শেষ প্রস্তুতিতে ব্যস্ত মানুষ। ঠিক তখন ফিল্মি স্টাইলে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয় যুবলীগ নেতা রিয়াজুল হক মিল্কীকে। দেশবাসীকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল নির্মম হত্যাকাণ্ডের সেই দৃশ্য।

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানের একটি শপিংমলের সামনে অস্ত্রধারী ঘাতক খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করেছিল। হত্যাকাণ্ডের সেই দৃশ্য গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ায় ঘটনাটি মানুষ ভুলেনি। কিন্তু প্রকাশ্যে ঘটে যাওয়া আলোচিত ওই হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষ হয়নি এখনো।

উলটো তদন্ত নিয়ে নানা নাটকীয়তার ফাঁকে আসামিদের কেউ দেশ ছেড়েছে। কেউ কেউ জামিনে বেরিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরছেন বীরদর্পে। আবার মামলার এজাহারভুক্ত আসামির কেউ কেউ অভিযোগপত্রের মাধ্যমে পার পেয়েছেন।

শুধু মিল্কী হত্যাকাণ্ড নয়, বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর প্রায় শতাধিক খুনের মামলার বিচারের ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। যেন বছরের পর বছর ধরে বিচারের বাণী কাঁদছে নীরবে-নিভৃতে। এর নেপথ্যে রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রভাব কাজ করেছে।

নানামুখী প্রভাবে বিলম্বিত হচ্ছে এসব মামলার তদন্ত ও বিচার কাজ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে আস্থাহীনতা ঘনীভূত হলে হয়তো রাজধানীতে গুলিতে নিহত কলেজছাত্রী সামিয়া আফনান প্রীতির বাবার মতো বিচার না চাওয়ার দিকে ঝুঁকবে মানুষ।

২৪ মার্চ মেয়ে হারানোর পর তার (প্রীতি) বাবা আক্ষেপের সুরে বলেছিলেন, ‘বিচার চাই না, আল্লাহর কাছে বিচার দিয়ে রাখলাম। কার শাস্তি চাইব। বিচার নাই, বিচার কার কাছে চাইব।’

পুলিশ, র‌্যাব, সিআইডি, ডিবি ও থানা পুলিশ আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর এসব হত্যা মামলার তদন্ত করেছে বা করছে। এরমধ্যে অনেক মামলার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমের গতি ফেরাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠন করা হয়েছে মনিটরিং সেল।

তারপরও এসব মামলার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমে গতি ফিরছে না। পুলিশ সদর দপ্তর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আদালত সূত্রে উল্লিখিত সব তথ্য জানা গেছে।

আইনবিদ শাহদীন মালিক যুগান্তরকে বলেন, খুনের মামলার তদন্ত ও বিচারের অবস্থা খুবই নাজুক। দুর্বল তদন্ত অনেক সময় আদালতের বিচারে টেকে না। ফলে আসামিরা সেই সুবিধায় রক্ষা পেয়ে যায়। এক পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১০ সালে দেশে সাড়ে তিন হাজার খুনের মামলার মধ্যে মাত্র ৫০০ মামলা ট্রায়ালে যায়।

এসব মামলায় শতকরা ১০ ভাগ আসামিরও শাস্তি হয়নি। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আইনে অনেক কিছু আছে। কিন্তু আইন মানার প্রবণতা কমে গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগও এ প্রবণতার বাইরে নয়।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলেছেন, পৈশাচিক! নৃশংস, নির্মম। এই শব্দগুলো কানে এলেই মানুষের বিবেককে মারাত্মকভাবে আঘাত করে। যেসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা মানুষের বিবেককে আলোড়িত করে সেগুলোই আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর মামলা হিসাবে বিবেচিত হয়।

এ ধরনের মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে গঠন করা হয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে নির্দিষ্ট কিছু মামলা অনধিক ১২০ দিনের মধ্যে বিচারের জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানেও নির্ধারিত সময়ে বিচার কাজ শেষ হচ্ছে না।

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালেও কেন দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা যাচ্ছে না? এমন প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়ে বিচারক, আইনজীবী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এ প্রতিবেদক। অনেকেরই অভিযোগ, সব সরকারের আমলেই ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক বিবেচনায় আলোচিত মামলাগুলোর তদন্ত বিচারে প্রভাব বিস্তার করে।

এক সময় ফৌজদারি মামলার প্রসিকিউশন হিসাবে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। কিন্তু এক দশকের বেশি সময়ের ব্যবধানে এটা রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া পিপি ও এপিপিদের হাতে চলে গেছে। এরপর ফৌজদারি মামলার বিচারে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের কোনো খবর মিলেনি।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লহা আবু যুগান্তরকে বলেন, মামলা নিষ্পতির দীর্ঘসূত্রতার অন্যতম কারণ হচ্ছে সাক্ষী না পাওয়া। মামলার অভিযোগপত্রে সাক্ষীদের যে ঠিকানা থাকে বাস্তবে সেখানে তাদের পাওয়া যায় না।

পুরোনো মামলাগুলোতে এই সমস্যা প্রকট। তারপরও দ্রুত বিচার নিষ্পত্তিতে প্রসিকিউটর হিসাবে আমরা সহায়তা করি। আর তদন্তাধীন অনেক মামলা ক্লুলেস অর্থাৎ সূত্র পাওয়া যায় না। বছরের পর বছর তদন্তকারী সংস্থা যেসব মামলাগুলোর রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারছে না সেইগুলো ফেলে রাখা উচিত নয়।

হয়তো মামলাগুলো ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া উচিত। নয়তো, রহস্য উদ্ঘাটন করে অভিযোগপত্র দেওয়া উচিত। মামলা ফেলে রাখা ঠিক নয়। এটা রাষ্ট্রের জন্য মঙ্গলজনক নয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চাঞ্চল্যকর যেসব হত্যাকাণ্ডের তদন্ত বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী, নারায়ণগঞ্জের কিশোর তানভীর মুহম্মদ ত্বকী, কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ড।

সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের পর আদালতের নির্দেশে বহুল আলোচিত এই মামলার তদন্ত ডিবি থেকে সরিয়ে এলিট ফোর্স হিসাবে খ্যাত র‌্যাবকে দেওয়া হয়। সাংবাদিক সমাজের বহু আন্দোলন সংগ্রামের পরও তদন্তের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি জানতে পারেনি দেশবাসী।

তদন্ত কর্মকর্তারাও নিয়মিত বিরতিতে আদালতে হাজির হয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সময় প্রার্থনা করছেন। আদালতও তাদের সময় দিচ্ছেন। এ পর্যন্ত ৮৭ বার সময় বাড়িয়েছে আদালত। এ সময়ে তদন্ত সংস্থার ব্যর্থতার দায় নিরূপণে কোনো নির্দেশ দেননি আদালত।

আবার তদন্তে ব্যর্থতার জন্য তদন্তভার অন্য কোনো সংস্থার কাছে স্থানান্তর করাও হয়নি। এ মামলাসংক্রান্ত তদন্ত সংস্থা ও আদালতের কার্যক্রম এখন সাধারণ মানুষের কাছেও প্রশ্নবিদ্ধ। আর সাগর-রুনীর পরিবারের অভিযোগ, নানামুখী প্রভাব বলয়ের কারণেই মামলাটির তদন্ত এভাবে ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জে মেধাবী ছাত্র তানভীর আহমেদ ত্বকী হত্যার বিচারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছিল পুরো নারায়ণগঞ্জ। এক সময় আন্দোলন থেমে গেছে। ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নারায়ণগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সড়ক থেকে অপহৃত হয় মেধাবী ছাত্র তানভীর আহমেদ ত্বকী।

৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর পাড় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নয় বছর পার হলেও হত্যা রহস্য উদ্ঘাটিত হয়নি। একই সঙ্গে ফাইল বন্দি হয়ে গেছে তদন্তও। ত্বকী হত্যার নেপথ্যে স্থানীয় প্রভাবশালীদের হাত থাকায় তদন্ত সংস্থা রহস্য উদ্ঘাটন হচ্ছে না-এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।

কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যার পেছনেও রাঘববোয়ালরা জড়িত থাকার অভিযোগ শুরু থেকেই। এ জন্য দেশজুড়ে তনু হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলন দানা বাঁধলেও তদন্ত পর্যায়েই আটকে আছে সব।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আরও যেসব চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটিত হয়নি তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে-রাজধানীর টিকাটুলির সিক্স মার্ডার, পরিবাগের তুর্কি অ্যাসোসিয়েটস অফিসে রমজান আলী খুন, অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম বাচ্চু হত্যাকাণ্ড, মালিবাগে সানরাইজ হোটেলের ভেতর ডিবি ইন্সপেক্টর নুরুল আলম শিকদার ও এসআই আলমগীর হোসেন তালুকদার হত্যা, পুরান ঢাকার ওয়ার্ড কমিশনার আহম্মদ হোসেন হত্যা, মিরপুরে ব্যবসায়ী আফতাব, প্রিন্স গ্রুপের মালিক কাজী শহিদুল হক, গুলশানে গৃহবধূ তাসমির হোসেন মুন্নী, পুরান ঢাকায় ব্যবসায়ী আজগর, খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী ইসলাম শিকদার, বিজয়নগরে ব্যবসায়ী নজরুল, সবুজবাগে আজিজুল, মিরপুরে আওয়ামী লীগ নেতা সামাদ খান, মিরপুরে মিসুক সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী সান্টু, মডেল তিন্নি হত্যা, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মনু ও ফকিরাপুলে ব্যবসায়ী সোহেল হোসেন টিটু হত্যা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আলোচিত যেসব হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত করে আদালতে আসামিদের নামে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে সেসব মামলার বিচার কাজও বছরের পর বছর ঝুলে আছে। সময়মতো সাক্ষীপ্রমাণ হাজির না করাসহ নানা কারণে বিচার বিলম্বিত হয়।

আবার অনেক মামলার তদন্ত করে প্রভাবশালী আসামিদের বাদ দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় তদন্ত সংস্থা। এতে মামলার বাদী নারাজি আবেদন করলে আদালত মামলার পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন। এতে তদন্ত পর্যায়েই দীর্ঘসূত্রতার ফাঁকে আসামিরা জামিনে বেরিয়ে প্রভাব বিস্তার করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০২ সালের ১০ নভেম্বর খুন হন তখনকার আলোচিত মডেল সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নি। এ মামলার একমাত্র আসামি সাবেক ছাত্রনেতা ও সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভি। বিদেশে পলাতক তিনি।

এরপরও মামলার বিচার কাজ ঝুলে আছে ২০ বছর ধরে। সবশেষ গত বছরের ১৫ নভেম্বর রায় ঘোষণার তারিখ থাকলেও তা হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ফের শুনানির দিন ঠিক করা হয়েছে।

এই মামলার রায় না হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রভাবের অভিযোগ আছে। ২০০৩ সালে দেশজুড়ে আলোচিত হয় মালিবাগের সানরাইজ হোটেলে গুলি করে দুই পুলিশ সদস্য হত্যার ঘটনা।

ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করা এই হত্যাকাণ্ডের পর বিদেশে পালিয়ে যায় শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদ মন্টি। প্রায় ২০ বছর চলে গেলেও হত্যা মামলাটি নিষ্পত্তি হয়নি। আরও জানা গেছে, যুবলীগ নেতা মিল্কী হত্যাকাণ্ডের ৮ মাসের মাথায় ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

তদন্তে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় নয়জনকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। তার মধ্যে অন্যতম হলেন অতি সম্প্রতি গুলিতে নিহত মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু।

এছাড়াও অব্যাহতির তালিকায় ছিলেন ঢাকা মহানগর যুবলীগের (দক্ষিণ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুল আলম আরিফ, ডা. দেওয়ান মো. ফরিদ উল্লাহ এবং মাহবুবুল হক হীরক।

এরা সবাই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় একটি বিশেষ মহলের তদবিরে তাদের নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়-এমন ধারণা থেকে বাদী আদালতে নারাজি দেন।

এরপর সিআইডি পুনঃতদন্ত শেষে অভিযোগপত্র জমা দিলে ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর ১৮ আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন আদালত। আসামিদের মধ্যে বর্তমানে চঞ্চল, রফিক ও ইব্রাহিম পলাতক। চঞ্চল যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

তিনি মহানগর উত্তর যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেন। বাংলাদেশ থেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা. মন্ত্রীরা আমেরিকায় গেলে তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে চলাফেরা করেন চঞ্চল।

রফিকুল ইসলামও প্রভাবশালী এক মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হওয়ায় গ্রেফতার এড়িয়ে চলছেন। আলোচিত এই মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়-আর্থিক, রাজনৈতিক, জমিজমা, দরপত্র, চাঁদাবাজি, ভর্তি বাণিজ্য ও দলে পদ পাওয়াসহ নানা বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে মিল্কীকে হত্যা করা হয়েছে।

এছাড়া ২০১৬ সালে মতিঝিলের যুবলীগকর্মী রিজভী হাসান বাবু হত্যা মামলার বিচার চলছে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে। এই মামলার আসামিরাই টিপু হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন। যথাসময়ে বাবু হত্যার বিচার নিশ্চিত করা গেলে টিপু হত্যাকাণ্ড এড়ানো যেত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিলম্বিত বিচার অনেক সময় নতুন অপরাধের জন্ম দেয় বলেও মনে করেন তারা। জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান খন্দকার ফারজানা রহমান যুগান্তরকে বলেন, মামলার আসামিরা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হলে খুব সহজেই তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করেন।

এক্ষেত্রে অনেক সময় তারা প্রভাব খাটিয়ে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করান। তাদের চাপে প্রত্যক্ষদশীরাও সবকিছু চেপে যায়। এতে প্রাথমিক স্তরেই মামলাটির মৃত্যু হয়। এক্ষেত্রে পুলিশকে এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আরও কঠোর ভূমিকা নিতে হবে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল যদিও দ্রুত বিচারের জন্য করা হয়েছে, কিন্তু নানা জটিলতায় সেটা কার্যকর হচ্ছে না। বেঁধে দেওয়া নির্ধারিত সময়ে সেখানে বিচার কমই হচ্ছে। তবে অন্য আদালতের চেয়ে ট্রাইব্যুনালে বিচার নিষ্পত্তি হতে সময় অনেকটা কম লাগে।

২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রতিবারের ন্যায় বার্ষিক এফবিআই বার্ষিক মিলন মেলা

২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রতিবারের ন্যায় বার্ষিক এফবিআই বার্ষিক মিলন মেলা-২০২২ অনুষ্ঠিত হয়। ২৬ মার্চ রোজ শনিবার বেলা ১১টা থেকে সারাদিন ব্যাপি বিভিন্ন একভিটিজ এর মাধ্যমে ( কোরআন তেলআত, জাতীয় সংগীত, সংস্কৃতিক কর্মকান্ড ও একসাথে সবাই এক বেলা দুপুরকালীন ভোঁজ) শেষ হয়। এফবিআই এনুয়াল ফেস্ট-২০২২ এর প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রলয় কুমার সাহা, অফিসার্স ইনচার্জ, কদমতলী থানা।
বিশেষ অথিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ সুজন ( ইত্তেফাক সাংবাদিক), এন.এ নাহিদ ( চেয়ারম্যান এএসসি), এমকে রানা ( কমার্স কেয়ার) , উপদেষ্ঠা-ওহায়েদুন নবী বিপ্লব (এডভোক্টে সুপ্্িরমকোড), অনুষ্ঠানটি সভাপতি¦ করেন- এ.হাসান স্যার ( চেয়ারম্যান-এফবিআই)
স্পন্সর করেন- এফবিআই এর ছাত্র-ছাত্রী, বুনাফাইড রেস্টুরেন্ট, সুপ্ত ফটোগ্রাফি- হাসান ইমাম, জেএস ক্যাটারিং,
আয়োজনে- এফবিআই ছাত্রছাত্রী- সিয়াম, তারেক, রিমন, জাফরিন, বেলা, রুরেল, মিঠুন আরও অনেকে।

এক বছরে ইউরোপের নাগরিকত্ব পেলেন ৮৬৮৫ বাংলাদেশি

এক বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ দেশ এবং সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, লিচেনস্টাইন ও আইসল্যান্ডসহ ইউরোপের দেশগুলোতে আট হাজার ৬৮৫ জন বাংলাদেশি নাগরিকত্ব পেয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০২০ সালের পরিসংখ্যানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৬৬১ জন বাংলাদেশি ২০২০ সালে ইতালিয়ান নাগরিকত্ব লাভ করেছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে ৭৬৬ জন নিয়ে রয়েছে স্পেন এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বর্তমান সময়ের অভিবাসীদের পছন্দের গন্তব্য পর্তুগাল যেখানে ৬৭৮ জন বাংলাদেশি পর্তুগিজ নাগরিকত্ব পেয়েছেন।

এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশিদের হিসেবটা এখানে যুক্ত না হওয়ার পরেও তা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় বেশি। অর্থাৎ ২০১৯ সালে সর্বমোট ৮ হাজার ৫৫ জন বাংলাদেশি নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন। এরমধ্যে যুক্তরাজ্যেই ছিল ৩৭৮০ জন।

আয়তন এবং জনসংখ্যার বিচারে প্রতিবেশী দেশ ভারতের অধিক সংখ্যক প্রবাসী ইউরোপে বসবাস করলেও তাদের নাগরিকত্ব হার খুব বেশি নয়। একই সময়ে ভারতের ১৬ হাজার ৪০০ জন এবং পাকিস্তানের ১৬ হাজার জন ইউরোপের নাগরিকত্ব পান।

ইউরোপের অন্যান্য দেশেও বাংলাদেশিরা নাগরিকত্ব পেয়েছেন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ফ্রান্সে ৪৯৭ জন, সুইডেনে ৪৩২, জার্মানিতে ২৫৫, নেদারল্যান্ডে ৯৬, ফিনল্যান্ডে ৭২, নরওয়েতে ৬৭, সুইজারল্যান্ডে ও অস্ট্রিয়াতে ৫১ জন।

ইউরোপের এই দেশগুলোতে একই সময়ে সর্বমোট ৭ লাখ ২৯ হাজার বিদেশি নাগরিকত্ব পেয়েছেন। সর্বোচ্চসংখ্যক নাগরিকত্ব অনুমোদনকারী দেশ সুইডেন, অতঃপর পর্তুগাল ও নেদারল্যান্ডস যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

মাইগ্রেনের নিস্তার খাদ্যাভ্যাসে

মাইগ্রেন- একটু একটু করে শুরু হয়, শুরুতেই ছড়িয়ে পরে আতঙ্ক। কতক্ষণ স্থায়ী হবে এই বিকট মাথা ব্যথা, কতক্ষণ থমকে থাকবে জীবনের স্বাভাবিক গতি! আমাদের মাঝে অনেকেই আছেন যারা এই রোগে আক্রান্ত। মাথা ব্যথার সঙ্গে থাকে বমি বমি ভাব এবং অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হয় আলো ও বিকট শব্দের সমন্বয়ে। কারো কারো ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েকদিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এই ব্যথা।

কারো কারো ক্ষেত্রে আবার বিশেষ কোনো খাবার, সিগারেট অথবা গাড়ির ধোঁয়া, উগ্র গন্ধ, ঘুমের ঘাটতি, অতিরিক্ত গরম অথবা ঠাণ্ডা এমনকি আবহাওয়ার পরিবর্তনেও এই মাইগ্রেন তীব্র আকার ধারণ করে।

মাইগ্রেনের প্রতিটি রোগী ভিন্ন ভিন্ন কারণের সমন্বয়ে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন এবং এই মাইগ্রেনে আক্রান্ত হওয়ার বয়সের সীমারেখা ১০-৫০ বছর পর্যন্ত হতে পারে।

মাইগ্রেনের সমস্যা হলে কী করবেন?

মাইগ্রেনের সমস্যা অত্যাধিক বেড়ে গেলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তবে মাইগ্রেনের কারণ যাই হোক না কেন, তার সঙ্গে রয়েছে খাবারের জটিল সমীকরণ। মাইগ্রেনের ব্যথা চলাকালীন সময়ে সাধারণত দুধ বা দুধ জাতীয় খাবার, অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার, চকলেট, সফট ড্রিংকস, সাইট্রাস জাতীয় টক ফল, গমের তৈরি খাবার (রুটি, নুডলস, পাস্তা) এড়িয়ে চলাই ভালো। অবশ্যই ট্যানিন এবং ক্যাফেইন যা আছে চা এবং কফিতে- তা সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে।

মাইগ্রেনে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট বা টেস্টিং সল্ট যে সব খাবারে আছে তা এড়িয়ে চলা বাঞ্ছনীয়।এ ছাড়া খাবারে অতিরিক্ত পরিমাণে কাঁচা পেঁয়াজ, রসুন ও মাইগ্রেন ট্রিগার করার একটি কারণ।

তবে এসব খাদ্য উপাদান যে, সব রোগীর জন্য ক্ষতিকারক তা নয়। রোগীর নিজেকেই চিহ্নিত করতে হবে এসব খাবারের মধ্যে কোন খাবারটি তার মাইগ্রেনের ব্যথা তৈরি হওয়া বা ব্যথার লক্ষণ বেড়ে যাওয়ার কারণ। মাইগ্রেন রোগীদের ক্ষেত্রে মাইগ্রেন চলাকালীন সময়ে নিরাপদ খাদ্য হতে পারে ব্রাউন রাইস, রঙিন শাকসবজি, হালকা মশলা ও হালকা লবণের খাবার, মধুযুক্ত খাবার, গ্রিন টি ইত্যাদি।

যারা খুব জটিল মাইগ্রেন রোগে আক্রান্ত তারা সন্দেহের তালিকায় থাকা খাবার পুরো দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ করে খুব সহজেই তৈরি করে নিতে পারবেন তাদের নিষিদ্ধ খাবারের তালিকা। শুধুমাত্র খাদ্য নয়, খাদ্য গ্রহণের সময়ও অত্যন্ত জরুরি বিষয়। যাদের মাইগ্রেন রয়েছে, তাদের কোনোভাবেই নিয়ম বাদ দেওয়া যাবে না। ব্রেকফাস্টসহ দৈনিক ৪ থেকে ৫ ভাগে সারাদিনের খাদ্যতালিকা প্রস্তুত করতে হবে। লম্বা সময় না খেয়ে থাকা অথবা একই সময়ে অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া মাইগ্রেন রোগীদের জন্য ক্ষতিকর।

নিষিদ্ধ খাবারগুলো যে কখনোই খাওয়া যাবে না ব্যাপারটা তা নয়। মাইগ্রেন চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে সপ্তাহে একবার অল্প পরিমাণে একটি একটি করে নিষিদ্ধ খাবার খাদ্য তালিকায় রাখা যেতে পারে। তাতে করে ধীরে ধীরে সেই নির্দিষ্ট খাদ্যের প্রতি শরীরের সহনশীলতা বাড়তে থাকবে।এছাড়াও আদার রস, ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ সবুজ শাকসবজি মাইগ্রেনের নিরাময়ে সহায়তা করে। পাশাপাশি অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে ভিটামিন ‘ডি’ এর ঘাটতি আছে কি না।অনেকের ক্ষেত্রে মেনোপজের সময় এস্ট্রোজেন হরমোন ভারসাম্যের অভাবেও মাইগ্রেন অ্যাটাক হতে পারে।বয়সের এই সময়ে লো ফ্যাট, হাই ফাইবার যুক্ত খাবার হরমোন ব্যালেন্স করতে যথেষ্ট সহকারী।

মাইগ্রেন সমস্যা সমাধানে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়-

দৈনিক পানি ও পানি জাতীয় খাবারের পরিমাণ। মাইগ্রেনের রোগী যে বয়সের হোক না কেন, কোনো বিশেষ রোগের কারণে যদি তরল খাদ্যের নিষেধাজ্ঞা না থাকে তাহলে অবশ্যই ওজন ও উচ্চতা অনুযায়ী ২-৩ লিটার তরল এবং তরলজাতীয় খাদ্য দৈনিক খাদ্য তালিকায় থাকা একান্ত বাঞ্ছনীয়।
খাদ্যাভ্যাসের কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেকেই কিছুটা স্বস্তি লাভ করতে পারে এই অসহ্য যন্ত্রনাদায়ক ব্যাধি থেকে।

সর্বোপরি, একজন অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করে মাইগ্রেনের ধরন এবং খাদ্যাভ্যাসের ইতিহাস অনুযায়ী একটি সঠিক খাদ্য পরিকল্পনা করাই হবে সবচেয়ে ফলপ্রসূ।

চৌধুরী তাসনীম হাসীন: প্রিন্সিপাল ডায়েটিশিয়ান, ইউনাইটেড হাসপাতাল লিমিটেড, ঢাকা।
ইমেইল- tasneemhasin@gmail.com

যেসব লক্ষণে বুঝবেন হাইপোগ্লাইসেমিয়া, কী করবেন?

ডায়াবেটিস আক্রান্তদের কাছে হাইপো (হাইপোগ্লাসেমিয়া) একটি প্রচলিত শব্দ। বিশেষ করে টাইপ-১ বা ইনসুলিন-নির্ভরশীল রোগীদের ক্ষেত্রে। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে নিচে নেমে যাওয়াকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলে। স্বাভাবিক মাত্রা হলো খালি পেটে ৬.১ মিলিমোল প্রতি লিটারে এবং খাবারের ২ ঘণ্টা পর ৭.৮ মিলিমোল প্রতি লিটারে থাকা উচিত। রক্তের শর্করা ঘন ঘন কমে গেলে বা বেশি হলে দেহ ও মনের ওপর বেশ চাপ সৃষ্টি হয়। খুব বেশি হাইপোগ্লাইসেমিয়া হলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ডায়াবেটিস নিউট্রিশনিস্ট সোসাইটি অব বাংলাদেশের চিফ নিউট্রিশন অফিসার ও বারডেমের বিভাগীয় প্রধান (অব.) আখতারুন নাহার আলো।

কারণ

* ইনসুলিন গ্রহণের মাত্রা বা ওষুধের মাত্রা বেশি এবং খাবার কম হলে, অর্থাৎ খাবার ও ওষুধের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে।

* সময় না মেনে দেরিতে খাবার খেলে।

* দীর্ঘক্ষণ কঠোর ব্যায়াম করলে।

* অসুস্থতার পর খাবার খেতে না পারলে বা খাবার কম খেলে।

* অত্যধিক মদ্যপান করলে।

লক্ষণ

অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগা, ঘাম হওয়া, মেজাজ রুক্ষ হওয়া, শরীর কাঁপতে থাকা, দুর্বল বোধ করা, মাথা ব্যথা হওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা, ঘুম ঘুম ভাব হওয়া, খুব বেশি হলে অনেক সময় রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।

চিকিৎসা

হাইপোগ্লাইসেমিয়ার প্রতিক্রিয়া সামান্য হলে তৎক্ষণাৎ তাকে চিনিযুক্ত তরল খাবার দিতে হবে। যেমন-ফলের রস, দুধ, শরবত ইত্যাদি। আর যদি মনে হয় হাইপো হতে পারে তাহলে বরাদ্দকৃত খাবারটি তখন খেয়ে ফেলতে হবে। যদি রোগী অজ্ঞান হয়ে যায় তাহলে শিরায় গ্লুকোজ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে অথবা যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিতে যেতে হবে।

প্রতিরোধ

* সারা দিনে পাঁচ থেকে ছয়বার তিন ঘণ্টা বিরতি দিয়ে খাবার খেতে হবে।

* খাবার গ্রহণের সঙ্গে ওষুধ অথবা ইনসুলিনের সমন্বয় থাকতে হবে।

* খাবারের অনেক আগে ইনসুলিন দেওয়া যাবে না। অথবা ইনসুলিন নিয়ে বাড়ির বাইরে যাওয়া যাবে না।

* খাবারের মধ্যে থাকতে হবে জটিল শর্করা যেমন-লাল মোটা চাল, ভুসিযুক্ত আটার রুটি, তন্দুর রুটি, ভুট্টা, খেজুর ইত্যাদি।

* যে ধরনের ব্যায়াম করলে খাবারের চাহিদা বেড়ে যায়, সে ধরনের ব্যায়াম না করাই ভালো।

* যদি দেখা যায় বরাদ্দকৃত খাবার গ্রহণের পরও হাইপোগ্লাইসেমিয়া হচ্ছে, তাহলে পথ্যবিদের শরণাপন্ন হয়ে আবার খাবারের তালিকা ঠিক করে নিতে হবে।

* ‘আমি একজন ডায়াবেটিস রোগী’ এ ধরনের একটি কার্ড সঙ্গে রাখলে ভালো হয়। বাড়ির বাইরে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার জন্য অজ্ঞান হয়ে গেলে অনেক সময় স্ট্রোক বা হার্টঅ্যাটাক হয়েছে মনে করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এতে রোগীর প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটতে থাকে।

মনে রাখতে হবে-হাইপারগ্লাইসেমিয়ার চেয়ে হাইপোগ্লাইসেমিয়া অধিক বিপজ্জনক।