শুক্রবার ,১৪ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 354

কিয়েভে ৯ শতাধিক বেসামরিক লোকের মরদেহ উদ্ধার

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের আশপাশের এলাকা থেকে রুশ বাহিনী সরে যাওয়ার পর একের পর এক মৃতদেহের সন্ধান পাচ্ছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

কিয়েভের পুলিশ প্রধান আন্দ্রি নেবিতোভ জানিয়েছেন, দুঃখের সঙ্গে আমি জানাচ্ছি- আমরা ৯ শতাধিক বেসামরিক ব্যক্তির মৃতদেহ খুঁজে পেয়েছি এবং তাদের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের কাছে স্থানান্তর করেছি। খবর দ্যা গার্ডিয়ানের।

এদের মধ্য ৯৫ লোকের দেহে বুলেটের চিহ্ন আছে। নেবিটভ আরও বলেন, এর মধ্যে ৩৫০টিরও বেশি মৃতদেহ বুচা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

যেখানে রুশ মেনারা যে নৃশংসতা চালিয়েছে, তার জন্য তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ। গণহত্যা চালানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে। যদিও মস্কো কড়া সমালোচনা করে তা অস্বীকার করেছে।

রুশ সেনারা চলে যাওয়ার পর বোরোদিয়াঙ্কা এবং মাকারভের ধ্বংসস্তুপ অপসারণের কাজ এখনও চলছে।

পুলিশ প্রধান বলেন, এখনও ধ্বংসস্তূপের নীচে অসংখ্য মানুষের মরদেহ থাকতে পারে। এজন্য উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এর আগে রাজধানী কিয়েভের পার্শ্ববর্তী বুচা শহরের মেয়র বলেছিলেন, চেচেন যোদ্ধারা এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করার সময় রাশিয়ান বাহিনীর হাতে তিনশ’র বেশি বাসিন্দা নিহত হয়েছেন।

প্রতিদিন ইউক্রেনে ফিরছেন ৩০ হাজার মানুষ

ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর হামলা ৫১তম দিন আজ। হামলা শুরুর পর থেকে প্রায় ৫০ লাখের বেশি মানুষ দেশ ত্যাগ করে। দেশ ত্যাগ করা আট লাখ ৭০ হাজারের বেশি ইউক্রেনীয় নাগরিক দেশে ফিরে এসেছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

রাষ্ট্রীয় বর্ডার গার্ড সার্ভিসের বরাত দিয়ে জাতিসংঘ সাহায্য সমন্বয় অফিস ওসিএইচএ জানিয়েছে, প্রতিদিন ৩০ হাজার মানুষ ইউক্রেনে ফিরে আসছেন। খবর ইউএনবির।

ওসিএইচএ বলছে, ‘এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয় ইউক্রেনে প্রত্যাবাসন বাড়তে পারে। এর ফলে মানবিক সাড়াদানের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। কেননা সম্প্রদায়ের সঙ্গে পুনরায় একীভূত হতে কিংবা তাদের বাড়ি ফেরা টেকসই না হলে উপযুক্ত হোস্ট সম্প্রদায় খুঁজে পেতে সহায়তার প্রয়োজন হবে।’

ইউক্রেনের এক কোটি ২০ লাখ মানুষের সহযোগিতার প্রয়োজন। তাদের মধ্যে ২১ লাখ মানুষের কাছে মানবিক সহযোগিতা পৌঁছেছে। এছাড়া জাতিসংঘ ইউক্রেনের জন্য এক দশমিক এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের যে আবেদন করেছে তার মধ্যে ৬৪ শতাংশ অর্থায়ন হয়েছে।

এদিকে ওসিএইচএ আরও জানিয়েছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় দেড় লাখ শিশুসহ প্রায় আট লাখের বেশি মানুষ ইউক্রেন থেকে রাশিয়ায় প্রবেশ করেছেন।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে চার দশমিক সাত মিলিয়নেরও বেশি মানুষ মানুষ ইউক্রেন ত্যাগ করেছেন এবং আরও সাত মিলিয়ন মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

চালের মজুতে স্বস্তি, দামে অস্বস্তি

চালের মজুতের দিক থেকে স্বস্তির সময় পার করছে বাংলাদেশ। কিন্তু দামের ক্ষেত্রে অস্বস্তি কাটছে না। গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় ১১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বেশি মজুত আছে। এর মধ্যে চাল পৌনে ১০ লাখ ও গম পৌনে এক লাখ মেট্রিক টন। শুধু তাই নয়, যে পরিমাণ খাদ্যশস্য মজুত থাকা নিরাপদ মনে করা হয়, তার চেয়ে এই মুহূর্তে বেশি খাদ্য সরকারের হাতে আছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

‘জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নীতি-২০২০’ অনুযায়ী, সাড়ে ১০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত থাকা দেশের জন্য নিরাপদ। বর্তমানে মজুত আছে ১৫ লাখ পাঁচ হাজার মেট্রিক টন। যার মধ্যে চাল ১৩ লাখ মেট্রিক টন ও গম এক লাখ ৬৬ হাজার মেট্রিক টন।

অর্থাৎ নিরাপদ মানদণ্ডের চেয়ে পাঁচ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বেশি আছে। এর পরও চালের দাম লাগামহীন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রায় সব বিষয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতি থাকলেও চালের দাম নিয়ন্ত্রণে না থাকা অস্বাভাবিক। এর পেছনে মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে খাদ্য সচিব ড. নাজমানারা খানুম বুধবার যুগান্তরকে বলেন, ‘করোনা মহামারি, পরিবহণ ব্যয় ও শ্রমিকের খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে খাদ্যশস্যের দাম বেড়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্বের যেখানেই যা হচ্ছে সব দেশের ব্যবসায়ীরা সেটা জানতে পারছেন। এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যতিক্রম, বৈশ্বিক পরিস্থিতির সুযোগে আগের কেনা পণ্যের দামও নির্মমভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হয়।’

এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সরকারের দায়িত্ব কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘হ্যাঁ এই জায়গায় সরকার ভূমিকা পালন করছে, তবে আরও জোরালো ভূমিকা নেওয়া দরকার। পর্যায়ক্রমে আমরা সেইদিকেই যাচ্ছি।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে নাজমানারা খানুম বলেন, ‘আমনের উৎপাদন ভালো হওয়ায় আমরা খুবই সুন্দর অবস্থানে আছি। এবার হাওড়ে বড় সমস্যা না হলে আশা করি সামনের বছরটাও ভালো যাবে।’

গত বছর চালের মজুত অস্বাভাবিক কমে যাওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েছিল সরকার। এ ছাড়া ২০১৯ থেকে ২০২২ পর্যন্ত খাদ্যশস্য মজুত ও আমদানিতে মোটামুটি স্বস্তির ধারায় ছিল।

খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট খাদ্যশস্য মজুতের পরিমাণ ১৫ লাখ পাঁচ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে চাল ১৩ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন, গম এক লাখ ৬৬ হাজার মেট্রিক টন ও ধান ৭২ লাখ মেট্রিক টন।

২০২১ সালের ১৩ এপ্রিল দেশে সরকারি খাদ্য মজুতের পরিমাণ ছিল চার লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টন। ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে দেশে খাদ্য মজুতের পরিমাণ ছিল ১৩ লাখ ৮২ হাজার মেট্রিক টন। যা গত বছরের তুলনায় পৌনে ১১ লাখ টন বেশি। এ ছাড়া ২০১৯ সালে একই সময়ে খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ১৩ লাখ ৮২ হাজার মেট্রিক টন।

এদিকে চলতি অর্থবছরের গত নয় মাসের বেশি সময়ে মোট ৪২ লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি খাতে চাল আমদানি হয়েছে ছয় লাখ ৫৩ হাজার মেট্রিক টন, বেসরকারি খাতে চাল আমদানি হয়েছে তিন লাখ ছয় হাজার মেট্রিক টন। একই সময়ে সরকারি এবং বেসরকারি খাতে গম আমাদানি হয়েছে যথাক্রমে চার লাখ ৪২ হাজার ও ২৮ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন।

দেশে উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক বাজার থেকে খাদ্যশস্য সংগ্রহের দিক থেকে এক ধরনের স্থিতিশীলতা থাকলেও চলতি বছরে দামের দিক থেকে সেটার প্রতিফলন নেই। ২০১৭ সালে হঠাৎ বন্যায় ধান উৎপাদনে বড় ক্ষতি হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে চালের দাম উঠেছিল ৫০ টাকা পর্যন্ত। পরের দুই বছর ভালো ফসল হওয়ার সুবাদে সেটা কমেও গিয়েছিল। কিন্তু ২০২০ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে চালের দামের ঊর্ধ্বগতি অস্বস্তির পর্যায়ে পৌঁছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে খুচরা পর্যায়ে দেশে চালের গড় দাম ছিল কেজিতে ৩০ টাকা ৬৯ পয়সা। ২০২০ সালে একই সময়ে সেটা এক লাফে বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯ টাকা ৮৯ পয়সা। ২০২১ সালে প্রতি কেজি ৪৪ টাকা ৪৬ পয়সা পর্যন্ত ছিল। আর চলতি বছর ঢাকার বাজারে চালের দাম ৫০ টাকার কম-বেশি হচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) চলতি বছর বাংলাদেশে খাদ্যশস্যে উৎপাদন, চাহিদা, আমদানি ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর চালের উপাদন ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে তিন কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার টনে দাঁড়াতে পারে।

সাবেক খাদ্য সচিব আবদুল লতিফ মন্ডল যুগান্তরকে বলেন, ‘গত দুই বছরে চালের দাম ৪৭ শতাংশ বেড়েছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দেশে খাদ্য ও আমদানি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলে বিষয়টি খুবই বেমানান। খাদ্যশস্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে এই সমস্যা হয়েছে বলে আমি মনে করি।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চালকল মালিকদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট ও নব্য করপোরেট চাল ব্যবসায়ীরা এই ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে বলে মনে হয়। এদের মধ্যে অনেকে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হওয়ায় মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তর ঠিক ভূমিকা রাখতে পারছে কিনা সন্দেহ আছে। এছাড়া দেশে জনসংখ্যার পরিসংখ্যানগত ত্রুটির বিষয়টি নিয়ে সরকারের মন্ত্রিরাও একমত।’ এসব বিষয়ে উপযুক্ত সমাধান না আনতে পারলে এই সমস্যা থেকে বের হওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করেন তিনি।

বিএনপির বুদ্ধিজীবীরা চান দেশ যেন ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়: ড. রাজ্জাক

কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, জামায়াত-বিএনপির বুদ্ধিজীবীরা চান দেশ যেন ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়। দেশে দুর্ভিক্ষ হয়ে মানুষ যেন না খেয়ে মারা যায়। তারপর আন্দোলন করে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটাবেন।

শকুনের দোয়ায় কখনো গরু মরে না। করোনা মহামারির মধ্যে একটি মানুষও না খেয়ে মারা যায়নি, কোনো কষ্ট পায়নি। দেশে বর্তমানে খাদ্য ঘাটতি নেই। খাদ্য নিয়ে কোনো হাহাকার নেই।

শুক্রবার রাজধানীর শ্যামপুর সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ঈদ বস্ত্র ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক শেখ মো. আজাহার এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আজাহারের সভাপতিত্বে এবং কদমতলী থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খান মোহাম্মদ জাহিদের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির, সহসভাপতি ডা. দিলীপ কুমার রায়, যুগ্ম সম্পাদক মিরাজ হোসেন, ৫১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী হাবিবুর রহমান হাবু, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সদস্য দিদারুল ইসলাম দিদার, শ্যামপুর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার কাজী সামিউল রহমান।

মার্কিন প্রতিবেদন নিয়ে যা বললেন রিজভী

বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের প্রতিবেদনে সামগ্রিকভাবে দেশের বাস্তব অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক কারণে বন্দি করা হয়েছে, তিনি রাজবন্দি। এখানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নেই, কথা বলার স্বাধীনতা নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমসহ নানা ধরনের নিপীড়নে জড়িত থাকলেও এর জন্য তাদের জবাবদিহি করা হয় না। প্রতিবেদনে এই সামগ্রিক বাস্তব অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু এইটা ক্ষমতাসীন দলের নেতা-মন্ত্রীদের গায়ে খুব লেগেছে।

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর বাড্ডায় এক ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পূর্ণ শারীরিক সুস্থতা কামনায় মানব সেবা সংঘের উদ্যোগে এই দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন- ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর যে প্রতিবেদন দিয়েছে তার সঙ্গে তিনি একমত নন। একটি নির্দিষ্ট সূত্র থেকে তথ্য নিয়ে তারা এই প্রতিবেদনটা দিয়েছে’। আসলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-মন্ত্রীদের বক্তব্য আমার কাছে অদ্ভুত লাগে। আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের একবার সিটি স্ক্যান করা দরকার। সিটি স্ক্যান করলে অবশ্যই দেখা যাবে, প্রত্যেকের মাথা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত। কারণ, উনারা যেটা বিশ্বাস করেন কেবল সেটাই বলতে হবে। যেমন মিষ্টি কুমড়ার বেগুনি, এটাই বলতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে মিষ্টি কুমড়া দিয়ে বেগুনি হয় না। কিন্তু যেহেতু সরকারপ্রধান বলেছেন, এটাই হলো আসল তথ্য। আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্টকেও সেটাই বলতে হবে, তাদের প্রতিবেদনের মধ্যে সেটাই রাখা উচিত ছিল।

তিনি বলেন, ওরা (সরকার) মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, কথা বলার অধিকার, নির্ভয়ে-নির্বিঘ্নে চলাচল করার অধিকার কেড়ে নিয়েছে। তারপরও আওয়ামী লীগের নেতারা বলবেন এটাই গণতন্ত্র। আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্টকেও সেটাই স্বীকার করতে হবে। দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন চলছে- কিন্তু সরকার বলছে, দেশে গণতন্ত্র রয়েছে। আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্টকেও সেটাই স্বীকার করতে হবে। অন্যথায় তারা (সরকার) বলবে, কোনো নির্দিষ্ট সূত্র থেকে তারা এই তথ্য পেয়েছে। এটাই হচ্ছে আওয়ামী লীগ।

মানব সেবা সংঘের সভাপতি সঞ্জয় দে রিপনের সভাপতিত্বে ও গোবিন্দ কুণ্ডুর সঞ্চালনায় ইফতার মাহফিলে আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, রমেশ দত্ত, স্বেচ্ছাসেবক দলের আব্দুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি কাজী আমীর খসরু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম বাদল, ছাত্রদলের মামুন খান প্রমুখ।

ঈদযাত্রায় ভোগান্তির শঙ্কা

করোনার ভয়াবহতায় গত দুই বছর ঈদে ঘরমুখী মানুষের চাপ ছিল কিছুটা কম। এবার করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। তাই নাড়ির টানে বাড়ি যাবেন অসংখ্য মানুষ। কিন্তু ঘরমুখী মানুষের জন্য নেই সুখবর। সড়ক কিংবা আকাশ, রেল কিংবা লঞ্চ সব জায়গায় চরম ভোগান্তির আশঙ্কা।

ঢাকা থেকে বেরোনোর পথগুলোয় এখনই শুরু হয়েছে যানজট। সামনের দিনে এটা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এবার ট্রেনে ৫ গুণের বেশি যাত্রী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামলানোই এবার ট্রেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

যারা আকাশ পথে বাড়ি ফিরতে চান তাদের সেই ইচ্ছাও পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ ইতোমধ্যে দেশের সব রুটের এয়ারলাইন্সগুলোর টিকিট হাওয়া। এতসব ভোগান্তিকে সঙ্গী করেই ঢাকা ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেকে। আগামী সপ্তাহে স্কুল-কলেজ বন্ধ হওয়ার পর পরই তারা ছুটবেন বাড়ি।

ঢাকা থেকে বের হওয়ার সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটের আশঙ্কা করছেন পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীদের সীমাহীন ভোগান্তি নিয়েই রওয়ানা হতে হবে। রাজধানীর গাবতলী-নবীনগর-ধামরাই, এয়ারপোর্ট-আশুলিয়া-বাইপাইল, এয়ারপোর্ট-গাজীপুর মহাসড়কের কোথাও ভাঙাচোরা, কোথাও চলছে উন্নয়ন কাজ।

এছাড়া সড়কের ফুটপাতসহ অনেক জায়গা দখল করে আছে হকার। অবাধে চলছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশাসহ ছোট যান। এসব কারণে রাজধানী থেকে বের হওয়ার দূরপাল্লার গাড়ি বার বার থমকে যাচ্ছে।

সামনের দিনগুলোতে গাড়ির গতি আরও কমে যাবে। তীব্র যানজটের সঙ্গে তীব্র ধুলা ও গরমে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে। যানজটের ভোগান্তির সঙ্গে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।

শুক্রবার থেকে দূরপাল্লার বাসের অগ্রিম টিকিট ছাড়া হয়েছে। নির্ধারিত মূল্যে টিকিট পাওয়া নিয়েও রয়েছে নানা শঙ্কা।

পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আপাতত তেমন কোনো সমস্যা নেই। তবে ঈদে গাড়ির চাপ বাড়ার সঙ্গে এসব মহাসড়কেও যানজট তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। তারা বলেন, এবারের অবস্থা অন্য বছরের চেয়ে ভালো। তবে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সমস্যা রয়েছে। মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় সংস্কার কাজও চলছে।

সম্প্রতি সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঈদ ও বর্ষা সামনে রেখে মহাসড়ক যান চলাচলের উপযোগী করতে কাজের গতি বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত থাকার কারণে যাতে যানজট না হয় সেদিকে সতর্ক থাকতে বলেছেন।

এছাড়া সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন।

এদিকে ঈদ সামনে রেখে বাসের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রথম দিন শুক্রবার টিকিট প্রত্যাশীদের চাপ কম ছিল। এদিন ২৮ থেকে ৩০ এপ্রিলের টিকিটের চাহিদা বেশি । টিকিট সংগ্রহে আসা যাত্রীরা জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণ থাকায় গত দুই বছর ওই অর্থে ঈদ আনন্দ ছিল না। এবার করোনার প্রকোপ কমে আসায় গ্রামে গিয়ে ঈদ উদ্যাপনের আনন্দ ফিরে এসেছে। এ কারণে এবার ঈদযাত্রায় গত দুই বছরের তুলনায় মানুষের চাপ বেশি থাকবে বলেও মনে করেন তারা।

ঈদযাত্রার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি ও একতা পরিবহণের মালিক মো. আবুল কালাম যুগান্তরকে বলেন, সড়কের অবস্থা অন্য বছরের চেয়ে এবার কিছুটা ভালো। তবুও উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তির শঙ্কা আছে। রাজধানীর এয়ারপোর্ট থেকে টঙ্গী কলেজ গেট পর্যন্ত রাস্তায় থেমে থেমে যানজট হচ্ছে। এয়ারপোর্ট থেকে আশুলিয়া বাইপাইল পর্যন্ত সড়কের যেন বাপ-মা নেই। গত কয়েক বছর ধরেই সড়কটির বেহাল অবস্থা। পিচ ঢালাই রাস্তায় বড় গর্ত হলে ইট দিয়ে মেরামত করা হয়। আর ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে গাড়ি চালানোই দায়। এসব কারণে এখন মাঝেমধ্যে যানজট হচ্ছে। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, ঢাকা থেকে রাজশাহী যেতে ৭-৭.৩০ ঘণ্টা সময় লাগছে। রাস্তা ভালো হলে ৫-৫.৩০ ঘণ্টা লাগত।

বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট রায় রমেশ চন্দ্র ঘোষ যুগান্তরকে বলেন, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরি পার হতে সময় বেশি লাগছে। সিরাজগঞ্জ, শেরপুর, বগুড়াসহ কয়েকটি জেলায় সড়কে উন্নয়নকাজ, ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ চলছে। ওইসব জায়গায় গাড়ি থেমে থেমে চলে। কখনো কখনো হালকা যানজট হচ্ছে, যা এখনো সহনীয়। তবে গাড়ির চাপ বাড়লে কী হয় সেটা দেখার বিষয়।

বুধবার সরেজমিন গাবতলী থেকে পাটুরিয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে, আমিনবাজার থেকে ধামরাই পর্যন্ত সড়ক প্রশস্ত করা এবং ডিভাইডার বসানোর কাজ চলছে। এতে কোথাও কোথাও সড়ক সরু হয়ে গেছে। গাবতলী থেকে নবীনগর পর্যন্ত মূল চারলেন মহাসড়ক ভালো রয়েছে। তবে পাশের সার্ভিস লেনের কাজ চলছে। যেসব স্থানে সার্ভিস লেনের কাজ চলছে সেখানে ওই চার লেন দিয়েই সব ধরনের গাড়ি চলছে।

নবীনগর থেকে ধামরাই পর্যন্ত পুরোটা সড়ক প্রশস্ত করার কাজ চলছে। ওই সড়কে মাত্র আসা-যাওয়ায় দুই লেনে গাড়ি চলছে। সার্ভিস লেনে ইট-বালুর মিশ্রণে ভরাটের কাজ চলছে। এ কারণে দুই লেনের পাশে দুই থেকে তিন ফুটের গভীরতা রয়েছে। ওই সড়কে গাড়ি চলে ধীরগতিতে।

স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, কখনো দুর্ঘটনা ঘটলে বা গাড়ি বিকল হলেই সড়কে যানজট তৈরি হয়। এ ছাড়া গার্মেন্টস ও শিল্প কারখানা ছুটি হলেও যানজট দেখা দেয়। এ মহাসড়কে দক্ষিণাঞ্চলের গাড়ি চলাচল করে।

পরিবহণ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, মাওয়ার শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি ফেরি পারাপারে বাস নেওয়া হচ্ছে না। আগে যেসব গাড়ি এ রুটে চলত সেগুলো এখন পাটুরিয়া ঘুরে যাতায়াত করছে। এতেও ভোগান্তি বেড়েছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের।

আশুলিয়া থেকে বাইপাইল পর্যন্ত সড়কে যানজট নিত্যদিনের চিত্র। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বুধবার বিকাল গড়াতেই আশুলিয়া সেতুর দুই পাশে অন্তত ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। সেতু সরু হওয়ায় এর দুই পাশে শত শত গাড়ি যানজটে আটকা পড়ে।

মহাখালী থেকে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া দ্রুতগামী বাসের চালক মো. আসলাম হোসেনের সঙ্গে কথা হয় জিরাবো বাস স্ট্যান্ডে। তিনি বলেন, এয়ারপোর্ট থেকেই থেমে থেমে যানজটে পড়তে হয়েছে। আশুলিয়া সেতুতে কে আগে পার হবে-ওই প্রতিযোগিতায় ওভারটেক করতে গিয়ে যানজট হয়। এ ছাড়া আব্দুল্লাহপুর থেকে বাইপাইল পর্যন্ত পুরো সড়কই ভাঙাচোরা ও এবড়োখেবড়ো। এ কারণে সড়কে ছোট গাড়ি ধীরগতিতে চলে। ওয়ানওয়ে হওয়ায় বড় গাড়ি ওভারটেক করতে পারে না। গাড়ির গতি কমে যাচ্ছে। গাবতলী থেকে জিরাবো আসতে তিন ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে।

তিনি বলেন, এখনই এই অবস্থা। ঈদে গাড়ির চাপ বাড়লে এ সড়কে যানজট তীব্র আকার ধারণ করবে। এ মহাসড়কে উত্তরাঞ্চলের অনেক বাস চলাচল করে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এয়ারপোর্ট থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ কাজ চলছে। এয়ারপোর্ট থেকে টঙ্গী ও গাজীপুর পর্যন্ত রাস্তা ভাঙা। টঙ্গী ব্রিজের দুই পাশেই প্রায় যানজট লেগে থাকে। আর নবীনগর থেকে ইপিজেড হয়ে চান্দুরা পর্যন্ত মহাসড়ক ভালো হলেও রিকশা ও ভ্যানের আধিক্য ও মহাসড়কের পাশে হাটবাজার বসার কারণে গাড়ি ধীরগতিতে চলছে। এতে গন্তব্যে পৌঁছতে সময় বেশি লাগছে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজের জন্য আশুলিয়া থেকে বাইপাইল সড়ক সেতু কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারাই এ সড়কটি দেখভাল করছেন। এছাড়া এয়ারপোর্ট থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত বিআরটি প্রকল্পের আওতায় থাকায় সেটিও তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। এ কারণে সড়কটিতে সংস্কার কাজ করছেন তারা।

ঈদের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু : এদিকে রোজার ঈদ সামনে রেখে রাজধানীর কলেজগেট, কল্যাণপুর, মাজার রোড, গাবতলী ও আশপাশের এলাকার বাস কাউন্টারগুলো থেকে শুক্রবার আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। এসব কাউন্টারে দেওয়া হচ্ছে ২৬ এপ্রিল থেকে ১ মে পর্যন্ত টিকিট। অন্যান্য বছর বাসের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হতেই কাউন্টারের সামনে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে।

তবে এবার ঢাকার শ্যামলী, কল্যাণপুর ও গাবতলীর কয়েকটি বাস কাউন্টার ঘুরে যাত্রীদের তেমন ভিড় দেখা যায়নি। তবে মহাখালী ও সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়নি। এ দুটি টার্মিনাল থেকে তাৎক্ষণিক টিকিট বিক্রি হয়।

বাসের টিকিট বিক্রি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট রায় রমেশ চন্দ্র ঘোষ যুগান্তরকে বলেন, আগামী ২ মে ঈদ ধরে ২৬ এপ্রিল থেকে ১ মে পর্যন্ত আগাম টিকিট বিক্রি হচ্ছে।

বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত হারের বেশি ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই। সব কাউন্টারে সরকার নির্ধারিত ভাড়া নিতে বলা হয়েছে। সারা বছর যাত্রীদের টিকিটে ডিসকাউন্ট দেওয়া হয়। ঈদে যেহেতু একমুখী যাত্রী থাকে তাই এ সময়ে ডিসকাউন্ট থাকবে না। এ কারণে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে এমনটি মনে হতে পারে। এছাড়া মালিকদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, গাড়ির শেষ গন্তব্য পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হবে। অর্থাৎ খুলনার বাসের যাত্রীরা ফরিদপুর, যশোর যেখানেই নামবেন, ভাড়া দিতে হবে খুলনা পর্যন্ত।

পরিবহণ শ্রমিকেরা জানান, ২ মে ঈদ হবে ধরে নিয়ে এবার ১ থেকে ৩ মে ছুটি ঘোষণা করা আছে। তার আগে দুদিন পড়েছে শুক্র ও শনিবার। ফলে ছুটির আগে শেষ কর্মদিবস ২৮-৩০ এপ্রিলের চাহিদা এবার বেশি।

হানিফ পরিবহণের মহাব্যবস্থাপক মোশাররফ হুসেন সাংবাদিকদের বলেন, এবার ঈদের ছুটি বেশ লম্বা। এ কারণে যাত্রীরা কোনো তাড়াহুড়ো করছে না। টিকিট বিক্রি শুরু হলেও ভিড় কম। সামনে ভিড় কিছুটা বাড়বে।

দিনাজপুরের টিকিট নিতে আসা রুহুল আমিন বলেন, কাউন্টারে আমাদের পরিচিত লোক আছে। তারাই জানিয়েছেন টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। এজন্য সকালে এসেছি। কিন্তু খুব বেশি ভিড় নেই। তিনজনের টিকিট কিনেছি। ভাড়াও খুব বেশি নেয়নি।

নিরাপদ যাতায়াতের জন্য অনেকের পছন্দ ট্রেন। কিন্তু এবার সেখানেও যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হতে পারে। কারণ সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন করোনার পর ঈদ যাত্রায় এবার ট্রেনে ৫ গুণ বেশি যাত্রী হবে। নির্ধারিত ট্রেন এবং টিকিটের বিপরীতে বিনা টিকিটে যাত্রীর চাপ থাকবে বেশি।

অভিযোগ থাকলেও অনলাইন এবং কাউন্টারে টিকিট বিক্রি হবে। আগামী ২৩ এপ্রিল থেকেই শুরু হচ্ছে ঈদ যাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি। এবার আন্তঃনগর, লোকাল, মেইল কিংবা কমিউটার ট্রেনে যাত্রীর ভিড় সামলানোই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। বিষয়টি চিন্তায় ফেলছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে।

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের বাড়ি ফেরার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে লঞ্চ। এবারের ঈদযাত্রায় নৌ-পথেও মানুষকে পোহাতে হবে নানা ভোগান্তি। টিকিটের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে গাদাগাদি করেই ছাড়বে লঞ্চ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

তাছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে লঞ্চে টিকিট কাটার ঘোষণা দেওয়ায় অনেকেই পড়তে পারেন বিপাকে। লঞ্চে যাতায়াতকারী গরিব ও ছিন্নমূল অনেকেরই জাতীয় পরিচয়পত্র নেই। তা ছাড়া এবার নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। কালবৈশাখী হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সব মিলিয়ে লঞ্চে বাড়ি ফেরায় ঝুঁকি রয়েই যাচ্ছে।

উচ্চ ও মধ্যবিত্ত অনেকেই এখন আকাশপথে ঈদে বাড়ি ফেরেন। কিন্তু সেখানেও নেই স্বস্তির খবর। ইতোমধ্যে প্রায় সব এয়ারলাইন্সের অগ্রিম টিকিট শেষ। একটি সিন্ডিকেট এসব টিকিট নিজেদের নামে বুকিং করে রাখছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে তারা বেশি টাকায় এসব টিকিট কালোবাজারে বিক্রি করবে। তাই নির্ধারিত মূল্যে আকাশপথে বাড়ি যাওয়ার স্বপ্ন হয়তো অনেকের পূরণ হবে না।

আবারও বন্ধ হচ্ছে পাথর খনির উৎপাদন

ফের বন্ধ হচ্ছে দেশের একমাত্র পাথরখনি মধ্যপাড়া গ্রানাইড মাইনিং কোম্পানি লিমিডেট। এবারও সেই একই কারণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেড (বিস্ফোরক) সংকট। ১৩ মার্চ বন্ধ হওয়ার পর জোড়াতালি দিয়ে ২৮ মার্চ খনি চালু করা হয়। কিন্তু ১৫ দিন যেতে না যেতে আবারও শেষ হওয়ার পথে খনির অপরিহার্য এই কাঁচামাল।

খনি সূত্রে জানা গেছে বর্তমানে মাত্র এক সপ্তাহের বিস্ফোরক মজুত আছে। অভিযোগ উঠেছে মধ্যপাড়া গ্রানাইড মাইনিং কোম্পানি লিমিডেটের (এমজিএমসিএল) একজন প্রভাবশালী পর্ষদ সদস্য ও একটি সিন্ডিকেটের কমিশন বাণিজ্যের কারণে এবারের এই সংকট।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে বিস্ফোরক সমস্যার সমাধান না হলে এবার দীর্ঘমেয়াদি খনি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় আজ জরুরি পর্ষদ সভার আয়োজন করা হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।

পেট্রোবাংলার একটি সূত্র জানায়, এই বিস্ফোরক আমদানির সঙ্গে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে। কিছুদিন পরপর এভাবে বিস্ফোরক আমদানির নামে তারা কোটি কোটি টাকার কমিশন হাতিয়ে নিচ্ছে। এজন্য বারবার কৃত্রিম সংকট তৈরি করে শেষ মুহূর্তে বেশি দামে বিস্ফোরক আমদানি করার জন্য সময়ক্ষেপণ করছে। সংস্থাটি এর স্থায়ী সমাধান করার জন্য এবার এমজিএমসিএলকে চাপ দিলেও সিন্ডিকেটের কারণে তা হয়ে উঠছে না।

জানা গেছে, আজ পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বিষয়টি এজেন্ডা আকারে উপস্থাপন করা হবে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের হাইড্রো কার্বন ইউনিটের ডিজি ও এমজিএমসিএলের পর্ষদ সদস্য আবুল খায়ের মো. আমিনুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, খনি যাতে বন্ধ না হয় সেজন্য এবার জরুরিভিত্তিতে বিস্ফোরক আমদানির জন্য তারা চেষ্টা করছেন।

যেহেতু বিস্ফোরক খনির একটি অপরিহার্য উপাদান সেজন্য এটি খুচরা না এনে স্থায়ীভাবে আনা হচ্ছে না কেন এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটাই আমরা চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আজ এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এর আগে বিস্ফোরক আমদানিসহ খনি পরিচালনায় ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে পেট্রোবাংলা গঠিত তদন্ত কমিটির প্রাথমিক রিপোর্টে একজন জিএমসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। প্রাথমিক তদন্ত ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী খনির জিএম আবু তালেব ফরাজী, ডিজিএম রফিজুর ইসলাম ও মতিয়ার রহমানকে অন্যত্র বদলি করা হয়। এছাড়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

বর্তমানে মধ্যপাড়া গ্রানাইড মাইনিং কোম্পানির খনি থেকে পাথর উত্তোলন করছে বেলারুশের ঠিকাদার জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)। চুক্তি অনুযায়ী পাথর উত্তোলনের জন্য যাবতীয় মেশিনারিজ, ইক্যুইপমেন্ট ও বিস্ফোরক জোগান দেবে এমজিএমসিএল। আর প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার ২০০ টন পাথর উত্তোলন করবে জিটিসি।

কিন্তু নানা কমিশন বাণিজ্যের কারণে সিন্ডিকেট প্রায়ই কৌশলে প্রয়োজনীয় মেশিনারিজ, ইক্যুইপমেন্টের জোগান বন্ধ করে দেয়। এর আগেও এই সিন্ডিকেট চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সিদ্ধান্ত না দেওয়ায় ১১ মাসের বেশি সময় ঠিকাদার কাজ না করে বসে ছিল। এরফলে ৬০০ কোটি টাকার বেশি পাথর উত্তোলন সম্ভব হয়নি। বিস্ফোরকের অভাবে ১৩ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্তও খনি বন্ধ ছিল।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) একজন শীর্ষ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, এভাবে ২-৩ মাস পরপর বিভিন্ন বিস্ফোরক দ্রব্য ও কাঁচামাল আমদানি নিয়ে পর্ষদ সভা করতে হবে কেন? যেগুলো অপরিহার্য কাঁচামাল সেগুলো আমদানির জন্য একটি স্থায়ী পরিকল্পনা করতে হবে। কমিশন বাণিজ্য ও সিন্ডিকেশন বন্ধ করতে হবে। কিছু দিন পরপর রাষ্ট্রের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বন্ধ হয়ে যাওয়া বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের আলামত। এর সঙ্গে কারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে তারা শুনেছেন বিস্ফোরক আমদানির সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেট আজকের পর্ষদ সভা বিলম্ব করার জন্যও চেষ্টা করছে।

ছাত্রীকে নিপীড়নের অভিযোগ, ঢাবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

ছাত্রীকে ‘যৌন নিপীড়নের’অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে তার নামে বরাদ্দ কক্ষটিও বাতিল করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অভিযোগকারীর সম্মতি সাপেক্ষে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

অভিযুক্ত শিক্ষক অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ বাংলা বিভাগের শিক্ষক।

গত ২৯ মার্চ অ্যাকাডেমিক কমিটির সভায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করার পর বিশ্বজিৎ ঘোষের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

বিশ্বজিৎ ঘোষসহ ১৮ জন শিক্ষক ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৭ জনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে কমিটি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় বলে সভায় উপস্থিত একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন।

অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ যৌন নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি ‘ষড়যন্ত্রের শিকার’।

ঢাবির বাংলা বিভাগের একাধিক শিক্ষক জানানন, গত মার্চ মাসে অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনেন বিভাগের এক ছাত্রী।

পরে ২৯ মার্চ অ্যাকাডেমিক কমিটির সভায় ওই অভিযোগ পড়ে শোনান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক।

সেখানে বলা হয়, বিশ্বজিৎ ঘোষ ওই ঘটনায় তার ‘ভুল হয়েছে বলে’ স্বীকার করেন। তিনি সবার কাছে ‘ক্ষমা প্রার্থনা ও করুণা ভিক্ষা’ করেন।

এ বিষয়ে অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ গণমাধ্যমকে বলেন, আমার সাফল্য এবং সুনামে ঈর্ষান্বিত হয়ে ওই শিক্ষার্থীর মাধ্যমে কোনো মহল এ কাজ করিয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্য প্রকাশের আহ্বান জানাই।

অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি নিজের বিভাগে ফিরে আসেন।

রোববার থেকে দেওয়া হবে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রবেশপত্র

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদের প্রথম ধাপের পরীক্ষার প্রবেশপত্র আগামী রোববার থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সারা দেশে ৪৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগের জন্য তিন ধাপে পরীক্ষা নেওয়া হবে। আবেদনকারী প্রার্থীরা নিজের জেলায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। প্রথম ধাপের পরীক্ষা ২২ এপ্রিল ২২টি জেলায় অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা হবে আগামী ২০ মে এবং তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা আগামী ৩ জুন অনুষ্ঠিত হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবেদনকারীদের নিজ নিজ জেলায় বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। কোন তারিখে কোন জেলা ও উপজেলায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, তা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রার্থীদের আবেদনে উল্লিখিত মোবাইল ফোন নম্বরে যথাসময়ে ০১৫৫২১৪৬০৫৬ নম্বর থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোডের বার্তা পাঠানো হবে। প্রথম ধাপের প্রার্থীরা আগামী রোববার (১৭ এপ্রিল) থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন।

২২ এপ্রিল প্রথম ধাপে যেসব জেলার সব উপজেলায় পরীক্ষা হবে সেগুলো হলো—ঢাকা, গাজীপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মাগুরা, শেরপুর, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, মাদারীপুর, মুন্সিগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার, লালমনিরহাট।

আর যেসব জেলার কিছু উপজেলায় পরীক্ষা নেওয়া হবে সেগুলো হলো—যশোর (ঝিকরগাছা, কেশবপুর, মনিরামপুর, শার্শা), সিরাজগঞ্জ (উল্লাপাড়া, বেলকুচি, চৌহালী, কামারখন্দ, কাজীপুর), ময়মনসিংহ (ভালুকা, ধোবাউড়া, ফুলবাড়িয়া, গফরগাঁও, গৌরীপুর, হালুয়াঘাট, ঈশ্বরগঞ্জ), নেত্রকোনা (আটপাড়া, বারহাট্টা, দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, কেন্দুয়া), কিশোরগঞ্জ (অষ্টগ্রাম, বাজিতপুর, ভৈরব, হোসেনপুর, ইটনা, করিমগঞ্জ, কটিয়াদী), টাঙ্গাইল (সদর, ভুয়াপুর, দেলদুয়ার, ধনবাড়ী, ঘাটাইল, গোপালপুর), কুমিল্লা (বরুড়া, ব্রাহ্মণপাড়া, বুড়িচং, চান্দিনা, চৌদ্দগ্রাম, সদর, মেঘনা, দাউদকান্দি) ও নোয়াখালী (কবিরহাট, সদর, সেনবাগ, সোনাইমুড়ী, সুবর্ণচর)।

বিয়েতে যে ‘চমক’ দেখালেন রণবীর-আলিয়া

বলিউডের হাইপ্রোফাইল বিয়ে নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ থাকে তুঙ্গে। প্রিয় তারকার বিয়ের পোশাক, সাজের স্টাইল কিংবা ভেন্যু থেকে শুরু করে মেন্যু–সবকিছু নিয়েই চলে ভক্তদের চুলচেরা বিশ্লেষণ। সদ্য নিজের ব্যাচেলর জীবনের ইতি টানা রণবীর-আলিয়া ভাটের বিয়েও তার বাইরে নয়।

অনেক দিন ঢাক ঢাক গুড় গুড়ের পর এই জুটি অবশ্য রাখডাক না রেখেই সাতপাঁকে বাঁধা পড়েছেন। তবে চমক ছিল তাদের বিয়ের সাজে।

সম্প্রতি যতগুলো বলিউডি বিয়ে হয়েছে, সবগুলোতেই বিয়ের দিন কনে বেছে নিয়েছেন লেহেঙ্গা। তবে লাল, গোলাপি, কমলা লেহঙ্গার বদলে হাতে রাঙানো আইভরি রঙের অরগ্যাঞ্জা শাড়ি বেছে নিয়েছিলেন আলিয়া। গোটাপাট্টির কারুকাজের বদলে শাড়িতে এবং হাতে বোনা টিস্যু ওড়নায় ছিল সোনালি জড়ি এবং চুমকির কাজ। আলিয়ার চুলের সাজও ছিল অন্যরকম। বিয়ের দিন কনেরা সাধারণত চুল বেঁধে রাখলেও আলিয়া সেই প্রথা ভেঙে চুল রেখেছিলেন খোলা।

তাদের বরমালাও ছিল অন্য রকম। বেল ফুল আর জিপসি দিয়ে তৈরি বরমালা যেমন অন্য রকম, তেমনই আলিয়ার কলিরে সোনালির বদলে ছিল রূপালি রঙের। আলিয়ার হাতে মেহন্দিও ছিল ছিমছাম। আলিয়ার সঙ্গে মিলিয়ে একই রঙের শেরোয়ানি পরেছিলেন রণবীর। বর-কনে একটু ছিমছাম অভিজাত সাজ চেয়েছিলেন বিয়ের জন্য। আলিয়া-রণবীরেরও পোশাকশিল্পী ছিলেন বলিউড ইন্ডাস্ট্রির প্রিয় সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়ই।

বিয়ের ভেন্যুতেও চমক দেখিয়েছেন এই জুটি। অনেক দিন পরে বলিউডের কোনো চর্চিত যুগল ডেস্টিনেশন ওয়েডিং বা পাঁচতারা হোটেলেরবদলে বিয়ে সারলেন মুম্বাইয়ে নিজেদের বাড়িতে। আলিয়া ভাট বিয়ের ছবি ইনস্টাগ্রামে দিয়ে জানিয়েছেন, যে জায়গায় গত পাঁচ বছর তাঁরা অসংখ্য মুহূর্ত কাটিয়েছেন, ঠিক সেই জায়গাতেই বিয়ে সারলেন তারা— তাদের প্রিয় বারান্দায়।