শুক্রবার ,১৪ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 335

ভোজ্যতেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিকল্প চিন্তা

ভোজ্যতেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিকল্প চিন্তা করছে সরকার। পাম অয়েলের পরিবর্তে সূর্যমুখী, সরিষা, রাইস বার্ন অয়েল, ক্যানোলাসহ অন্যান্য তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এগুলো আমদানিতে ব্যয় যাতে কম পড়ে সেজন্য কর কাঠামোও কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, ইন্দোনেশিয়া গত শনিবার পাম অয়েল রপ্তানি বন্ধ করার ঘোষণা দেয়। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বৃহস্পতিবার থেকে। এতেই দেশের বাজারসহ আন্তর্জাতিক বাজারে হু হু করে বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম।

কেননা ইন্দোনেশিয়া থেকে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি পাম অয়েল রপ্তানি হয়। এর পরেই রয়েছে মালয়েশিয়ার অবস্থান। দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদার ৬৭ শতাংশই পাম অয়েল দিয়ে মেটানো হয়। এ জন্য পাম অয়েল রপ্তানি বন্ধ করায় দেশের বাজারে তেলের দাম অস্থির হয়ে উঠেছে।

এদিকে ইন্দোনেশিয়া থেকে জানানো হয় গত শনিবারের ঘোষণার একটি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে মঙ্গলবার। এতে তারা জানিয়েছে, পরিশোধিত পাম অয়েল ও আংশিক পরিশোধিত পাম অয়েল রপ্তানি অব্যাহত থাকবে। শুধু অপরিশোধিত পাম অয়েল রপ্তানি বন্ধ থাকবে।

ইন্দোনেশিয়া থেকে ওই তিন ধরনের পাম অয়েলের পাশাপাশি পাম গাছের ফলও তারা রপ্তানি করে। নতুন ঘোষণার ফলে এখন তারা পাম ফল ও অপরিশোধিত পাম অয়েল রপ্তানি বন্ধ থাকবে।

বুধবার রাতে অপর এক ঘোষণায় ইন্দোনেশিয়া জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের পাম অয়েল রপ্তানি বন্ধ থাকবে। এদিকে বাংলাদেশ প্রতিবছর গড়ে ১৬ লাখ টন অপরিশোধিত পাম অয়েল আমদানি করে। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে ৯ লাখ টনের বেশি, বাকি ৭ লাখ টন অন্যান্য দেশ থেকে।

বাংলাদেশ পরিশোধিত পাম অয়েল আমদানি করে না। অপরিশোধিত পাম অয়েল এনে দেশে সেগুলো পরিশোধন করে খাদ্য ও শিল্প খাতে জোগান দেওয়া হয়। এখন অপরিশোধিত পাম অয়েল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় বাংলাদেশকে আংশিক পরিশোধিত বা পরিশোধিতটা আমদানি করতে হবে। এতে খরচ বাড়বে।

এছাড়া দেশের তেল পরিশোধন কারখানাগুলো অপরিশোধন থেকে পরিশোধন করার প্রযুক্তি নিয়ে গড়ে উঠেছে। এ অবস্থায় আংশিক পরিশোধিত পাম অয়েল আমদানি করে সেগুলো পরিশোধন করতে গেলে কারখানার একটি ইউনিটকে অকেজো রাখতে হবে। ফলে খরচ আরও বাড়বে। পরিশোধিত পাম অয়েল এনে বাজারে চাহিদা মেটাতে গেলে সয়াবিন তেলের মতোই খরচ পড়বে।

এসব বিবেচনায় নিয়ে সরকার বিকল্প হিসাবে দেশে উৎপাদিত সরিষা থেকে তেল উৎপাদন করে বাজারে ছাড়া। এছাড়া রাইস বার্ন অয়েল দেশে উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

এর উৎপাদন বাড়িয়ে বাজারে ছাড়া। এসব তেলের পাশাপাশি সূর্যমুখী তেল বিদেশ থেকে আমদানি করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেননা বর্তমানে সয়াবিন তেলের কাছাকাছি দরেই এসব তেল বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।

বিদেশ থেকেও আমদানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ভোজ্যতেলের ওপর যে করকাঠামো রয়েছে সেগুলো কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এনবিআরের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ইন্দোনেশিয়া থেকে দেড় হাজার টন পাম অয়েল আমদানি এখনো অনিষ্পন্ন রয়েছে। এগুলো আমদানি করার জন্য উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ হচ্ছে। এছাড়া সরকারি পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

ঈদের পরে নয়, আন্দোলন চলছে: গয়েশ্বর

আঘাতের জবাবে পাল্টা আঘাত দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

তিনি বলেন, ‘শুধু সরকার পতন আন্দোলন বা সরকার গঠন নয়, কিছু সংস্কারের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। ঈদের পরে নয়, আন্দোলন চলমান, আন্দোলন হবে। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশে জনগণের বিজয় হবে, কোনো দলের নয়। আন্দোলনে জীবন গেলে যাক, তবু বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবে।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

‘নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ও ছাত্রদের সংঘর্ষের ঘটনায় চক্রান্তমূলকভাবে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের নামে মিথ্যা মামলা এবং গ্রেফতারের প্রতিবাদে’ সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতারা।

ঢাকা কলেজের সাবেক ভিপি ও বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপুর সভাপতিত্বে ও সাবেক ভিপি হারুনুর রশিদের পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন- ঢাকা কলেজের সাবেক ভিপি মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, সাবেক জিএস জাকির হোসেন, বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, যুবদলের নূরুল ইসলাম নয়ন, মৎস্যজীবী দলের ওমর ফারুক পাটোয়ারী প্রমুখ।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগের জন্য, কখনো জনগণের জন্য নয়। হেলমেট বাহিনী গঠিত হয়েছে। এখন শুনছি যে হেলমেট (পরা হয়) আত্মরক্ষার জন্য। কিন্তু হেলমেট বাহিনী মারামারি করতে গেছে বলেই তো হেলমেট নিয়ে গেছে। নিউমার্কেটের দোকানদারেরা তো হেলমেট নিয়ে যাননি। হেলমেট বাহিনী নতুন কিছু নয়, অনেক পুরোনো ঘটনা। তাদের (সরকার) যেমন হেলমেট বাহিনী আছে, জনগণ যখন হাতুড়ি বাহিনী গড়ে তুলতে পারবে, তখনই তাদের পরাজিত করা যাবে।’

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘নিউমার্কেটের ঘটনায় যাদের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে, তাদের একজন ২০ বছর ধরে বিদেশে। এই দেশে মৃত মানুষের নামেও অনেক মামলা আছে। খুনখারাবি, চাঁদাবাজি, নারীদের ইজ্জত নিয়ে টানাটানি ইত্যাদি প্রতিদিন ঘটছে। তারপরও পুলিশ মামলা করে না।নিউমার্কেট এলাকায় যে ঘটনা ঘটেছে, তাতে ঢাকা কলেজের অগ্রজরা কষ্ট পান। দোষটা ছাত্রদের নয়, দোষ এই সরকারব্যবস্থা ও সরকারপ্রধানের চাওয়ার। খুনখারাবি, চাঁদাবাজি, নারীদের ইজ্জত নিয়ে টানাটানি ইত্যাদি প্রতিদিন ঘটছে। তারপরও পুলিশ মামলা করে না।’

সুপ্রিমকোর্ট বার নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে যা বললেন ফখরুল

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের অঘোষিত ফলাফল ‘ক্ষমতাসীনদের একতরফা’ ঘোষণার ঘটনা ‘ভয়াবহ অন্যায়’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘সুপ্রিমকোর্ট বারেও গতকাল (বুধবার) সন্ত্রাসী কায়দায় প্রবেশ করল আওয়ামী লীগ।’

রাজধানীর লেডিস ক্লাবে এক ইফতার মাহফিলপূর্ব আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। পেশাজীবীদের সম্মানে বিএনপি বৃহস্পতিবার এ ইফতারের আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, এ দেশের অবস্থা কোথায় গেছে? আমরা এখনো যেখানে কিছু আশা করতাম- এ প্রতিষ্ঠানটি (সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি) এখন পর্যন্ত ভাঙা সম্ভব হয়নি। কিন্তু সেখানেও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা বুধবার রাতে তালাবন্ধ ঘর ভেঙে ফলাফল খুলে নিয়ে ঘোষণা করল। আমি শ্রদ্ধেয় আইনজীবীদের কাছে আহ্বান রাখতে চাই- এ বিষয়ে আপনাদের প্রতিবাদ করা দরকার। এ ভয়াবহ অন্যায় সহ্য করা যাবে না। আজকে উচিত ছিল আইনজীবীদের প্রধান বিচারপতির কাছে যাওয়া এবং সারা দেশে সব আইনজীবীর প্রতিবাদ করা। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, ফ্যাসিবাদ এভাবে সব প্রতিবাদকে রুদ্ধ করে ফেলে।

কলাবাগান খেলার মাঠে থানার অবকাঠামো নির্মাণের প্রচেষ্টা এবং নিউমার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজ ছাত্রদের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ ও সরকারের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব। ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন ও গণমাধ্যম সুরক্ষা আইনসহ বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ইফতার অনুষ্ঠানের আলোচনায় ইন্টারনেটের মাধ্যমে লন্ডন থেকে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলের প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরীর পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ ও অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, আইনজীবী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, কবি আবদুল হাই শিকদার, সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজী ও ইলিয়াস খান।

ইফতারে উপস্থিত ছিলেন- নজরুল ইসলাম খান, অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) ফখরুল আজম, প্রকৌশলী আনহ আখতার হোসেইন, অধ্যাপক হারুন অর রশিদ, অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, সাংবাদিক এম আবদুল্লাহ, কাদের গনি চৌধুরীসহ পেশাজীবী নেতারা।

শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ দেবে শক্তি ফাউন্ডেশন ও অকুলীন টেক বিডি

শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ দেবে শক্তি ফাউন্ডেশন ও অকুলীন টেক বিডি।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন ও দক্ষ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার প্রয়াসে ‘কোডিং ফর গার্লস’ শিরোনামে এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

এর মাধ্যমে স্কুল ও কলেজ স্তরে ছাত্রীদের প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ পাইথনসহ বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং কার্যক্রমের ওপর বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে অকুলীন টেক বিডির কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি চুক্তি সই হয়েছে।

এ সময় শক্তি ফাউন্ডেশনের উপ-নির্বাহী পরিচালক ইমরান আহমেদ ও অকুলীন টেক বিডির ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাদাব সাজিদ উপস্থিত ছিলেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও কুমিল্লার তিতাসের চারটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ১০০ ছাত্রীকে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ কার্যক্রমে স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশাপাশি স্থানীয় আইটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটগুলোকে সম্পৃক্ত করা হবে।

যাতে পরবর্তীতে অন্যরা রোবোটিক্সবিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারে। প্রশিক্ষণ কোর্সে বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন ও প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

অবশেষে মাস্কই পাচ্ছেন টুইটারের মালিকানা

জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের কাছেই জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটার বিক্রি করে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ। ৪ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলারে মাস্কের কাছে প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। সোমবার এক বৈঠক থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছুদিন আগে টুইটারের ৯ দশমিক ২ শতাংশ শেয়ার কিনেছেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। তখন থেকেই তিনি পুরো টুইটার কিনে নেবেন বলে কানাঘুষা শোনা যাচ্ছিল। এবার সেই জল্পনারই অবসান ঘটল।

এর আগে, মাস্ক টুইটারের পূর্ণাঙ্গ মালিকানা কিনে নিতে ৪ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এ নিয়ে টুইটারের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে মাস্কের বৈঠক বসে। যদিও টুইটারের পর্ষদ এর আগে মাস্কের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল।

এদিকে, টুইটার বিক্রির খবরে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ইতিমধ্যে ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ দশমিক ৬২ ডলারে। তবে ইলন মাস্ক শেয়ারপ্রতি ৫৪ দশমিক ২০ ডলার দিতে চেয়েছেন।

টুইটার কেনার বিষয়টির সূত্রপাত হয় এপ্রিলের শুরুর দিকে। মাস্ক প্রথমে টুইটারের ৯ দশমিক ২ শতাংশ শেয়ার কেনেন।

রীতিমাফিক তখন তাকে পরিচালনা পর্ষদে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর ১৪ এপ্রিল মাস্ক হঠাৎই পুরো টুইটার কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে বলেন, সামাজিক মাধ্যমে যে অমিত সম্ভাবনা আছে, তার দ্বার খুলে দিতে চান তিনি।

তবে ইলন মাস্ক টুইটার কেনার পরিকল্পনার করছেন সম্পূর্ণ নিজে। এর সঙ্গে টেসলার কোনো কিছু জড়িত নয়। মাস্ক তার ব্যক্তিগত অর্থ থেকে টুইটার কিনছেন।

টুইটার কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার পরই ইলন মাস্ক বলে আসছেন, আরও উন্নয়নের জন্য এবং বাকস্বাধীনতার প্রকৃত প্ল্যাটফর্ম হওয়ার জন্য ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হতে হবে টুইটারকে।

টুইটার কিনে মাস্ক এই প্লাটফর্মটিতে আমূল পরিবর্তন আনতে পারেন বলেই মনে করা হচ্ছে।

লাইলাতুল কদরের ফজিলত ও আমলসমূহ

‘শবে কদর’ কথাটি ফারসি। শব মানে রাত বা রজনী আর কদর মানে সম্মান, মর্যাদা, গুণাগুণ, সম্ভাবনা, ভাগ্য ইত্যাদি। তাই এই রাতটি মুসলমানদের জন্য ভাগ্য রজনী হিসেবে সম্মানিত।

শবে কদর অর্থ হলো মর্যাদাপূর্ণ রাত বা ভাগ্যরজনী। শবে কদরের আরবি হলো লাইলাতুল কদর তথা সম্মানিত রাত। লাইলাতুল কদরের রাত হচ্ছে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রাত।

পবিত্র কুরআনুল কারিম নাযিলের মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই রাতকে হাজারের মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ উত্তম ও মহা সম্মানিত রাত হিসেবে আমারদের জন্য দান করেছেন। প্রতিবছর রমজান মাসের শেষ দশকের রাতগুলোর মধ্যে কোনো এক বিজোড় রাত হলো ভাগ্য নির্ধারণ বা লাইলাতুল কদরের রাত।

যে রাতে পবিত্র কুরআন নাজিল হয়েছে, সে রাতই লাইলাতুল কদর। আল্লাহতায়ালা বলেন: ‘নিশ্চয়ই আমি কুরআন নাজিল করেছি মর্যাদাপূর্ণ কদর রজনীতে। আপনি কি জানেন, মহিমাময় কদর রজনী কী? মহিমান্বিত কদর রজনী হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। সে রাতে ফেরেশতাগণ হজরত জিবরাইল আলাইহিস সালামকে সমভিব্যহারে অবতরণ করেন; তাঁদের প্রভু মহান আল্লাহর নির্দেশ ও অনুমতিক্রমে, সব বিষয়ে শান্তির বার্তা নিয়ে। এই শান্তির ধারা চলতে থাকে উষা বা ফজর পর্যন্ত। (আল কুরআন, সুরা-৯৭ [২৫] আল কদর)

রমজান মাস পবিত্র কুরআন নাযিলের মাস। শবে কদর কুরআন নাযিলের রাত। এ রাতেই প্রথম পবিত্র মক্কা মুকাররমার হেরা পর্বতের গুহায় মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে ফেরেশতাদের সরদার হজরত জিবরাইল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে রাহমতুল্লিল আলামিন প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি মহাগ্রন্থ আল কুরআন নাযিল করেন।

এ কারণে আল্লাহ তায়ালা এ রাতের মর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছেন। এ রাতে মহান আল্লাহ উম্মতে মুহাম্মাদিকে হাজার মাসের ইবাদত-বন্দেগি ও আমলের সমান সাওয়াব দান করে। কুরআনুল কারিমের অন্য স্থানে এ রাতটিকে বরকতময় রাত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন- হা-মীম। শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের। আমি একে (কুরআন) এক বরকতময় রাতে নাজিল করেছি। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরকৃত হয়। আমার পক্ষ থেকে আদেশক্রমে, আমিই প্রেরণকারী। আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’ (সুরা দুখান : আয়াত ১-৬)

কুরআন নাযিলের কারণে মর্যাদার এ রাতের কথা উল্লেখ করার পর যে মাসে কুরআন নাযিল হয়েছে সে মাসের কথাও আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে উল্লেখ করেছেন এভাবে-

আল্লাহ তায়ালা বলেন: ‘রমজান মাস! এমন একটি মাস যে মাসে কোরআন নাযিল হয়েছে মানবের মুক্তির দিশারি ও হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনরূপে। ’ (সুরা-২ আল বাকারা, আয়াত: ১৮৫)।

সুতরাং লাইলাতুল ক্বদরের রাতে আল্লাহর ওইসব বান্দারা সবচেয়ে বেশি সম্মানিত ও মর্যাদার অধিকারী হবেন, যাদের সঙ্গে কুরআনের সম্পর্ক বেশি। যিনি কুরআন-সুন্নাহর আলোকেই নিজের জীবন পরিচালিত করবেন। বাস্তবজীবনে কোরআন-সুন্নাহর আমলে সাজাবেন জীবন। আর তারাই হবেন সফল।

রমজানের শেষ দশদিনের যেকোনো বেজোড় রাতে লাইলাতুলকদর তালাশ করা যায়, অর্থাৎ ২১,২৩,২৫,২৭,২৯ রমজান দিবাগত রাতগুলো। তবে অনেক আলেমদের গবেষণা ও ব্যাখ্যায় এবং বুজুর্গানেদ্বীনের মতে ২৬ তারিখ দিবাগত রাত অর্থাৎ সাতাশ তারিখে পবিত্র শবে কদরের অন্যতম সম্ভাব্য রাত।

মর্যাদার এ রাত পেলে মুমিন বান্দা আল্লাহর কাছে কী প্রার্থনা করবেন? কী চাইবেন? এ সম্পর্কে হাদিসের একটি বর্ণনা এভাবে এসেছে- হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, একবার আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম- হে আল্লাহর রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি বলে দিন, আমি লাইলাতুল কদর কোন রাতে হবে তা জানতে পারি, তাতে আমি কী (দোয়া) পড়বো?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি বলবে-

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আ’ফুয়্যুন; তুহিব্বুল আ’ফওয়া; ফা’ফু আ’ন্নী।’

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন। (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)

লাইলাতুল কদরের মর্যাদা

লাইলাতুল কদরের মর্যাদা এত বেশি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ রাতটি পাওয়ার জন্য শেষ দশকে আজীবন ইতেকাফ করেছেন।

উম্মতে মুহাম্মদীর উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমি কদরের রাতের সন্ধানে (রমজানের) প্রথম ১০ দিন ইতিকাফ করলাম। এরপর ইতিকাফ করলাম মধ্যবর্তী ১০ দিন। তারপর আমার প্রতি ওহি নাযিল করে জানানো হলো যে, তা শেষ ১০ দিনে রয়েছে। সুতরাং তোমাদের যে ইতিকাফ পছন্দ করবে, সে যেন ইতিকাফ করে। তারপর মানুষ (সাহাবায়ে কেরাম) তাঁর সঙ্গে ইতেকাফে শরিক হয়।’ (মুসলিম শরীফ)

কদর রাতের ফজিলত

মহাগ্রন্থ আল কুরআন নাযিল হওয়ার কারণে অন্যসব মাসের চেয়ে রমজান মাস বেশি ফজিলত ও বরকতময় হয়েছে। আর রমজানের রাতগুলোর মধ্যে কোরআন নাযিলের রাত লাইলাতুল ক্বদর সবচেয়ে তাৎপর্যমণ্ডিত একটি রাত।

এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি একে নাযিল করেছি কদরের রাতে। তুমি কি জান ক্বদরের রাত কি? কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। (সূরা: কদর, আয়াত: ১-৩)।

এ আয়াতের ব্যাখায় মুফাসসিরকুল শিরোমণি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, ‘এ রাতের ইবাদত অন্য হাজার মাসের ইবাদতের চেয়ে উত্তম’। (তানবিরুল মিকবাস মিন তাফসিরে ইবনে আব্বাসঃ ৬৫৪ পৃষ্ঠা)।

তাবেয়ি মুজাহিদ (র.) বলেন, এর ভাবার্থ হলো, ‘এ রাতের ইবাদত, তেলাওয়াত, দরুদ কিয়াম ও অন্যান্য আমল হাজার মাস ইবাদতের চেয়েও উত্তম। ’

মুফাসসিররা এমনই ব্যাখ্যা করেছেন। আর এটিই সঠিক ব্যাখ্যা। (ইবনে কাসির: ১৮ খণ্ড, ২২৩ পৃষ্ঠা)।

শবে কদরের আমল

সুতরাং লাইলাতুল কদর পেলে এ আমল ও দোয়া রাত অতিবাহিত করা জরুরি। তা হলো-

১. নফল নামাজ পড়া।

২. মসজিদে ঢুকেই ২ রাকাত (দুখুলিল মাসজিদ) নামাজ পড়া।

৩. দুই দুই রাকাত করে (মাগরিবের পর ৬ রাকাত) আউওয়াবিনের নামাজ পড়া।

৪. রাতে তারাবির নামাজ পড়া।

৫. শেষ রাতে সাহরির আগে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া।

৬. সম্ভব হলে সালাতুত তাসবিহ পড়া।

৬. সম্ভব হলে তাওবার নামাজ পড়া।

৭. সম্ভব হলে সালাতুল হাজাত পড়া।

৮. সম্ভব হলে সালাতুশ শোকর ও অন্যান্য নফল নামাজ বেশি বেশি পড়া।

৯. কুরআন তেলাওয়াত করা। সুরা কদর, সুরা দুখান, সুরা মুয্যাম্মিল, সুরা মুদ্দাসির, সুরা ইয়াসিন, সুরা ত্বহা, সুরা আর-রাহমান, সুরা ওয়াকিয়া, সুরা মুলক, সুরা কুরাইশ এবং ৪ কুল পড়া।

১০. দরূদ শরিফ পড়া।

১১. তাওবাহ-ইসতেগফার পড়া। সাইয়্যেদুল ইসতেগফার পড়া।

১১. জিকির-আজকার করা।

১২. কুরআন-সুন্নায় বর্ণিত দোয়াপড়া।

১৩. পরিবার পরিজন, বাবা-মা ও মৃতদের জন্য দোয়া করা, কবর জেয়ারত করা।

১৪. বেশি বেশি দান-সদকা করা।

অভিবাসনের সুখ-বিড়ম্বনা! (পর্ব-৮)

ঢাকা থেকে দুবাই এবং দুবাই থেকে হিথ্রো যাত্রায় দেশীয় সংস্কৃতির উপস্থিতি ব্যাপক হলেও, লন্ডন থেকে কেলগেরীর যাত্রাটি যেন একেবারেই অন্যরকম! আমার মতো বাদামিদের সংখ্যা একেবারেই হাতে গুণা, আর যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ, এয়ার হোস্টেজদের খাতির যত্নটাও যেন তাদের দিকেই একটু বেশি। সংখ্যালঘু বা গায়ের রঙের কারণে কিনা জানিনা, আমাদের দিকে বিমানবালাদের কর্কশ চাহনি মোটেও আমার দৃষ্টি এড়ায়নি। গত পর্বে উল্লেখ করেছিলাম, আমার তিন বছরের শিশু সন্তান হালকা গরম দুধে আসক্ত। যখনি তার বিরক্তির মাত্রাটি চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়, হালকা গরম দুধই যেন তার প্রশান্তি এনে দেয়। কোন বিধিবিধান আর নিরাপত্তা কৌশল জানিনা, এয়ার কানাডা গরম দুধতো নয়ই, গরম পানি সরবরাহেও তাদের চরম আপত্তি!

দীর্ঘ প্রায় দশ ঘন্টার যাত্রায় দু’বার কোমল পানীয়, আর চা,কফি বাদে একবার ডিনার সরবরাহ হবে। এর বাহিরে এয়ার কানাডার কাছ থেকে আর কোন খাদ্য সেবা পাওয়া যাবে না, এটি বুঝতে খুব বেশি সময় লাগেনি। আকাশ পথে যাত্রী সেবার এমন কসরত, এর আগে কখনো চোখে পড়েনি। যাত্রা শুরু হওয়ার ঘন্টা খানেকের মধ্যে স্ন্যাকসের সাথে কোমল পানীয়, ক্ষুধার্ত পেটে মন্দ যায়নি। এয়ারক্রাফটটি যতই এগিয়ে চলছে, ফেলে আসা অতীত কখনো আমায় বিষন্ন করে তুলছে আবার কখনো নতুন দেশ, নতুন সংস্কৃতি আর নতুন সমাজের ভাবনায় কিছুটা উত্তেজনাও কাজ করছে।

সময় জানান দিচ্ছে, অর্ধেকের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছি। এয়ার হোস্টেজরা খাবার পরিবেশনে ব্যস্ত। বিফ,চিকেন আর ভেজিটেবল এর কোন একটা বেঁচে নিতে হবে, সাথে নাকি অন্নও আছে। শিশু সন্তানটি ক্ষুধায় চটপট করছে, এমিরেটসের মতো এয়ার কানাডায় শিশুদের জন্য কোন বাড়তি খাতির যত্ন নেই, বরং নানারকম বিরক্তিকর অনুশাসন আছে। এয়ার হোস্টেজ খাবার নিয়ে হাজির, জানালেন আমাদের জন্য কোন অপশন নেই। তিনজনের জন্যই হালাল খাবার বরাদ্ধ আছে। মনে মনে ট্রাভেল এজেন্সির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্যাকেটগুলো খুলতে শুরু করি।

তিনটি আলাদা আলাদা ট্রে পরিপাটি করে সাজানো। ফয়েল মুড়ানো প্যাকেটগুলো খুলেই বুঝতে পারি, এগুলো আমার খাদ্য নয়। স্বাস্থ্যসম্মত ও হালাল তাতে কোন সন্দেহ নেই, তবে আমার জন্য তা মোটেও উপাদেয় নয়। লবন,মসলা ছাড়া তেল বিহীন সিদ্ধ সবজি আর মাংস, আমার পাকস্থলীতে যাওয়ার কোন উপায় নেই। দেখতে পছন্দ না হলে, সে খাবারে আমার পাকস্থলী গরম হয়ে যায়, তাই সমূহ বিপদ থেকে রক্ষা পেতে সরবরাহকৃত খাবার বর্জনেরই সিদ্ধান্ত নিলাম। দুটো ছোট প্লাস্টিকের বাটিতে অল্প কিছু গাজরের হালুয়া ছিল, এ দিয়ে ছেলে আর আমার আপাত ক্ষুধা নিবারন করতে হলো। স্ত্রীর আবার এসব নিয়ে কোন বালাই নেই, খাদ্য যেমনই হোক, ভূরিভোজনে তার কোন সমস্যা নেই।

দীর্ঘ পথের ক্লান্তিতে অবসন্ন হলেও কখন কাঙ্খিত গন্তব্যে পৌঁছাবো এ নিয়ে এক ধরনের টানটান উত্তেজনা কাজ করছে। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর বড় ভাই, ভাবী আর আমাদের পরিবারের একমাত্র আদুরে মেয়ে অর্পার সংগে দেখা হবে, এ যেন শেকরের সন্ধানে এক অন্যরকম অনুভূতি। একমাত্র বোন নিউইয়র্ক প্রবাসী লিমা ও তার স্বামী রিংকু, আমাদেরকে অভিবাদন জানাতে কেলগেরীতে অপেক্ষা করছে, আর মাত্র ঘন্টা দু’য়েকের মধ্যেই তাদের সাথেও দেখা হবে। পেছনের বিষন্নতার চেয়ে সামনের আনন্দ শিহরণের মুহূর্তগুলোই যেন এখন আমায় টানছে বেশি।

জুন ২৭, ২০০৬ এর রৌদ্রস্নাত বিকেল সাড়ে চারটা, আর মাত্র পনেরো মিনিটের মধ্যেই কেলগেরী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে এয়ার কানাডার বোয়িং। জানালা দিয়ে মনে হচ্ছে, স্বচ্ছ আকাশটি যেন ন্যুয়ে পড়েছে। এয়ারক্রাফটটি ল্যান্ড করার সাথে সাথেই আমার শিশু সন্তানটির মুখেও হাসির ঝিলিক। সে যেন আর এক মুহূর্তও এয়ার কানাডার বদ্ধ ঘরে থাকতে নারাজ। মাইক্রোফোনে পাইলট সবাইকে ধন্যবাদ জানানোর সাথে সাথেই যাত্রীরা সবাই একে একে হ্যান্ড লাগেজ নিয়ে সামনের দিকে এগুচ্ছে। ইমিগ্রেশনের সাইন অনুসরণ করে আমরাও এগিয়ে চলছি। সামনেই সুশৃঙ্খল সারিবদ্ধ লাইন।

কোন ভিআইপি, ভিভিআইপি ব্যবস্থা নেই, আমলা,মন্ত্রী বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি আর আমার মতো সাধারণের জন্য একই ব্যবস্থা। কেউ কাউকে ডিঙিয়ে সামনে যাবে, এমন প্রবণতাও চোখে পড়েনি। যেখানটায় আমরা দাঁড়িয়েছি, তা থেকে সামনে শতাধিক মানুষ অপেক্ষমান। কারো মাঝে উদ্বেগ উৎকন্ঠা আর তাড়াহুড়োর বালাই নেই। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, সবাই একে একে আমাদের কে সামনের দিকে এগিয়ে দিচ্ছে। প্রাথমিক অবস্থায় বিষয়টি বুঝতে একটু দেরী হলেও, পরক্ষণেই বুঝতে পারি, সংগে থাকা শিশু সন্তানের জন্য সবার দৃষ্টিতেই আমরা প্রাধিকার পাচ্ছি। সিনিয়র সিটিজেন বা বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরাও এভাবেই ইমিগ্রেশন কাউন্টারের দিকে এগিয়ে যায়। আশ্চর্যজনক হলো, এ প্রাধিকার ব্যবস্থার জন্য কোন পূর্ব ঘোষণা বা নির্দেশনার প্রয়োজন পড়েনি। বয়োজ্যেষ্ঠ, শিশুসন্তান, সন্তানসম্ভবা নারীদের প্রতি এখানকার নাগরিকদের দায়িত্ববোধ দেখে বিস্মিত না হয়ে উপায় নেই। শিশু সন্তানের কল্যাণে কিছুক্ষণের জন্য আমরাও যেন ভিআইপি হয়ে উঠলাম!

পাসপোর্টগুলো এগিয়ে দিতেই হাস্যবদনে ইমিগ্রেশন অফিসার অনেকগুলো ফর্ম বাড়িয়ে দিয়ে স্বাক্ষরের স্থানগুলো দেখিয়ে দিলেন, সেই সাথে বর্তমান ঠিকানা আর ফোন নম্বরের গুরুত্বটিও ব্যাখ্যা করলেন। প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো লিপিবদ্ধ করে ফর্মগুলো জমা দিলে এমনভাবে কনগ্রেচুলেশন বললেন, মনে হলো আমাদেরকে অভিবাদন জানাতেই যেন তিনি সেখানে বসেছিলেন। ইমিগ্রেশনে অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রমাণ নিয়ে,ঢাকা থেকে রওয়ানা হওয়ার আগেই,মনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিলো। আবেদনের আগেই জানতাম, ইমিগ্রেশনে তিনজনের পরিবারে সতেরো হাজার কানাডিয়ান ডলারের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হবে। তাই ট্রাভেল চেক আর ক্যাশ মিলিয়ে, সেভাবেই প্রস্তুতি নেয়া ছিল।

ইমিগ্রেশন অফিসার শুধু জানতে চাইলেন, ‘দশ হাজারের বেশি ক্যাশ আছি কিনা?’ বাকী দু’জনের কাছে কোন নগদ ডলার নেই, সেটি জানার পর, আমার ফরমটিতেও ‘না’ বোধক মার্ক দিয়ে দিলেন। ‘দু’সপ্তাহ পর তিনজনের পারমানেন্ট রেসিডেন্সি কার্ড ঠিকানা অনুযায়ী পৌঁছে যাবে’ সেটি জানিয়ে বাড়তি কোন সাহায্যের প্রয়োজন আছে কিনা জিজ্ঞেস করলেন। ‘ওয়েলকাম টু কানাডা’ বলে ল্যান্ডিং পেপারগুলো ধরিয়ে দিলেন। এক্সিট ফলো করে এরাইভ্যাল এরিয়াতে লাগেজ পিকআপের নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে যাই। সেখানে গিয়ে ভাই, ভাবী, লিমা, রিংকুসহ অনেক স্বজনের দেখা, মনে এক ভিন্ন রকম আবেগ অনুভূতির জন্ম দেয়। কয়েক মিনিট অপেক্ষা করতেই চারটি লাগেজ চলে আসে, তবে শেষ অবধি অপেক্ষা করেও বাকি দু’টোর কোন হদিস নেই।

কিছুটা দুশ্চিন্তা নিয়ে পাশে থাকা লাগেজ ম্যানেজমেন্ট অফিসে যাই। বিষয়টি খুলে বলতেই, আমাদের টিকেটগুলো চেক করে বললেন, আজকের ফ্লাইটে আসেনি, কাল আমার দেয়া নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছে যাবে। দুঃখ প্রকাশ আর বিনয়ের এমন নজির আমার চোখে এমনটি আর পড়েনি। ধন্যবাদ জানিয়ে সদলবলে পার্কিং লটের দিকে এগিয়ে যাই। গাড়ির কাছাকাছি যেতেই লাস্যবদনে জড়িয়ে ধরে ভূতাত্ত্বিক অগ্রজসম রওশন ভাই, শৈশবকাল থেকেই যিনি আমাদের অতি আপনজন। কোলাকুলি করে হ্রদয়ের উষ্ণ বন্ধনের বহিঃপ্রকাশ ঘটায় বড় ভাবীর অনুজ সদ্য ইমিগ্র্যানট হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্সের শিক্ষক তপন ভাই, যার সংগে একসময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার অফিসে আমার নিয়ত বৈকালিক আড্ডা ছিল।

কয়েক মিনিটের কুশলাদি আর শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর গাড়িতে আরোহন করি। বরফের দেশ কানাডা, জুনের রৌদ্রোজ্জ্বল বিকেলে এটি বুঝার ঝো নেই। এয়ারপোর্ট থেকে মাত্র পনেরো মিনিটের দুরত্বে কেলগেরী শহরের উত্তর পূর্ব জোনের আবাসিক এলাকা মার্টিনডেল। যতই মার্টিনডেলের দিকে এগিয়ে চলছি, ততই যেন বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে যাচ্ছি! প্রকৃতির প্রতি কোন দেশের মানুষ, সিটি কাউন্সিল আর সরকারের এমন ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা আর সযত্নে লালনের দৃষ্টিান্ত স্বচক্ষে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। রাস্তার দু’ধারে সমদূরত্বে একই প্রজাতির একই সমান সবুজ বৃক্ষরাজী যেন শিল্পী জয়নুল আবেদীনের শস্য শ্যামল বাংলার কল্পিত কোন চিত্রকর্ম!! সড়ক আর আবাসিক এলাকার পরিচ্ছন্নতা দেখলে মনে হয়, এ যেন বাস্তবের নয় স্বপ্নের কল্পিত কোন রুপনগর। আর নান্দনিক শৈলকর্মে তৈরী প্রায় একই রকম নকশার বাড়ীগুলো যেন স্থাপত্য কলার অপুর্ব নৈসর্গিক নিদর্শন!!

অর্থ-বিত্তের মোহ আর যান্ত্রিকতার চাপে বাঙালি সমাজের ঐতিহ্য যখন নানারকম চ্যালেঞ্জের মুখে, সেই সময়ে প্রবাসের ব্যস্ততম জীবনে আতিথেয়তার সংস্কৃতি দেখে বিমোহিত হয়ে যাই। আত্নীয় পরিজন থেকে শুরু করে আমার ন্যুনতম চেনাজানা সবারই মিলনমেলা বসেছে আমার বড় ভাইয়ের বাসায়। সবার সমন্বিত অংশগ্রহণে মুখরোচক রুচিসম্মত খাবারের আয়োজন দেখে শৈশবের স্মৃতি বিজড়িত গ্রামীণ আতিথেয়তার কথা মনে পড়ে যায়। জেনে আনন্দিত হই, নানা উছিলায় এভাবে প্রবাসের বাঙালি কমিউনিটি একত্রিত হয়, সুখ-দুঃখ, ভালোবাসা বিনিময়ের মাধ্যমে বাঙালির সামাজিক, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ করার প্রাণপণ চেষ্টা চালায়। এরই মধ্যে জেনে গেলাম, এদেশে দুটো দলিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এর একটি ছাড়াও জীবন চলে না!!

আমি তোমারই আশায়

হে নতুন কুঁড়ি!
তোমাকেই বলছি শোনো।
আমি শুধু স্বপ্ন দেখিয়ে গেলাম,
তুমি সেটাকে বাস্তবে রূপান্তর কর।
আমি শুধু আশার বাণী শুনিয়ে গেলাম,
তুমি তাকে বাস্তবায়ন কর।
আমি অনেক কথা রেখে গেলাম,
তুমি তার প্রতিফলন কর।
আমি শুধু ভালোবাসার কথা বলে গেলাম,
তুমি ভালোবেসো।
আমি তোমার সাথে থাকতে চেয়েছিলাম,
তুমি সাথে থেকো।
আমি সোনার বাংলা গড়তে স্বপ্ন দেখেছি,
তুমি সোনার বাংলা গড়।
আমি ভালো থাকতে চেয়েছিলাম,
তুমি ভালো থেকো।
আমি যা করতে পারিনি,
তুমি তা কর।
আমি আমার দেশকে শত্রুর হাত থেকে ফিরিয়ে এনেছিলাম,
তুমি তাকে ধরে রেখো।
আমি তোমাকে বিশ্বাস করি,
তুমি আমাকে হতাশ কর না।
আমি এখনো আশাবাদী তোমাকে নিয়ে,
তুমি পারবে তাকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে।
তোমার প্রতি যে বিশ্বাস আমার ছিল,
সে বিশ্বাস আমার আজও আছে।
আমি তোমাকে সত্যিই ভালোবাসি,
তাইতো বারবার তোমার মাঝে ফিরে আসি।
ইনশাআল্লাহ্, তুমিই পারবে!

হিট স্ট্রোক কেন হয়, কী করবেন?

এই ঋতুতে হিট স্ট্রোকের ঘটনা ঘটে। প্রচন্ড গরমে অনেকেই এই সমস্যায় ভোগেন। প্রতিকারের উপায় জানা থাকলে হিট স্ট্রোক থেকে বেচে থাকা যায়।

হিট স্ট্রোক কী, কেন হয় এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ডা. তানভীর আহমেদ।

হিট স্ট্রোক এক ধরনের হাইপারথার্মিয়া। হাইপার হচ্ছে অধিক মাত্রা, আর থার্মিয়া মানে তাপ। শরীরে অধিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিকেই বলা হয় হিট স্ট্রোক।

আমাদের শরীরের ভেতরে নানা রাসায়নিক ক্রিয়ার কারণে সব সময় তাপ সৃষ্টি হতে থাকে। ঘামের সাহায্যে সেই তাপ শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু একটানা রোদে থাকলে গরমে ঘামের সঙ্গে শরীরের অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যায়।

শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে যাওয়ায় ডিহাইড্রেশন সৃষ্টি হয়। ঘামের সঙ্গে লবণ বেরিয়ে যাওয়াতে লবণের ঘাটতি দেখা দেয়। যার ফলে শরীরকে করে তোলে অবসন্ন ও পরিশ্রান্ত।

এতে মাথাঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে পড়তে পারেন অনেকেই। তৎক্ষণাৎ চিকিৎসার ব্যবস্থা না করলে মৃত্যুও হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বাচ্চা, বয়স্ক ও যারা ওবেসিটিতে ভুগছে তারা হিট স্ট্রোকে সহজেই আক্রান্ত হয়।

প্রতিকারে কী করবেন

যতটুকু সম্ভব এই গরমে রোদে কম বের হতে হবে। একান্তই বের হতে হলে সঙ্গে পানির বোতল রাখা দরকার ও মাঝে মাঝে পানি পান করা উচিত। তা না হলে শরীর অবসন্ন মনে হওয়া মাত্রই ছায়াযুক্ত বা শীতল কোনো স্থানে বিশ্রাম করতে হবে।

যদি অবস্থা খারাপ মনে হয় তাহলে ঠান্ডা পানিতে ভেজানো কাপড় শরীর মুছে দিতে হবে। খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে, যাতে শরীরের লবণ ও জলের শূন্যতা দূর করতে পারে। অজ্ঞান হয়ে গেলে বা মাথা ঘোরালে মাথায় পানি ঢালতে হবে। তাতেও যদি অবস্থার উন্নতি না হয়, তাহলে হিট স্ট্রোকে আক্রান্তকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

বয়ঃসন্ধি দেরিতে হয় কেন, চিকিৎসা

বয়ঃসন্ধি প্রত্যেকের জীবনে স্বাভাবিক বাস্তবতা। সাধারণত মেয়েদের বয়স ১৩ বছর হলে আর ছেলেদের ১৪ হলে বয়ঃসন্ধির লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়। তবে কারো কারো দেরি করে বয়ঃসন্ধি হয়।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম।

কোনো বালকের যদি ১৪ বছর বয়সেও অণ্ডকোষের আয়তন ৪ মিলিমিটারের বেশি না হয়, অথবা অণ্ডকোষের অনুপস্থিতি থাকে; কোনো বালিকার ১৩ বছর বয়সেও যদি স্তন বৃদ্ধিপ্রাপ্ত না হয় এবং উভয়ের ক্ষেত্রে বয়োঃসন্ধিকালীন পরিবর্তন অনুপস্থিত থাকে, তাহলে বালকের ক্ষেত্রে ১৪ বছরের পর এবং বালিকার ক্ষেত্রে ১৩ বছর পর বিলম্বিত বয়োঃসন্ধি বলা হবে। এ সময়ের মধ্যেই ৯৫ শতাংশ বালক-বালিকার যৌবন প্রাপ্তিসম্পন্ন হয়।

প্রাইমারি হায়পারগোনাডোট্রপিক হায়পোগোনাডিজম : অণ্ডকোষ বা ডিম্বাশয়ের সমস্যা এর মূল কারণ।

এ ক্ষেত্রে গোনাড (অণ্ডকোষ বা ডিম্বাশয়) প্রয়োজনীয় যৌন হরমোন তৈরিতে ব্যর্থ হয়। এর পেছনে ক্রমোজোমাল ত্রুটি (টার্নারসিনড্রোম, ক্লিনেফিল্টারসিনড্রোম ইত্যাদি) এর হাত থাকতে পারে। আবার টেস্টোস্টেরন হরমোনের ত্রুটিও থাকতে পারে।

খুব কম করে হলেও, কিছু কিছু বালক-বালিকার গোনাড় ঠিকমতো এ ক্ষেত্রে তৈরিই হয় না। আবার শৈশবে কোনো বালক যদি অণ্ডকোষে বড় ধরনের কোনো আঘাত পায় বা অণ্ডকোষটি ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে তাহলেও যৌবনপ্রাপ্তি প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। শৈশবে ছেলেদের অণ্ডকোষের প্রদাহ বা মেয়েদের ডিম্বাশয়ের প্রদাহ যৌবনপ্রাপ্তিতে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। ক্যান্সার ক্যামোথ্যারাপি বা রেডিও থ্যারাপি অনুরূপ সমস্যা তৈরি করতে পারে। থ্যালাসেমিয়া বা অন্য কোনো কারণে যাদের ঘনঘন রক্ত নিতে হয়, তাদের গোনার্ডে অতিরিক্ত আয়রন জমে কার্যকারিতা হ্রাস পেতে পারে। এরপরও কিছু কিছু কারণ অজানা থেকে যায়।

হায়পোগোনাডোট্রপিক হায়পোগোনাডিজম : হায়পোথ্যালামাস বা পিটুইটারিতে প্রধান সমস্যাটি থাকে।

সাময়িক বা কিছু মাস বা বছরের জন্য এ ঘটনা বিরাজ করতে পারে। এর মধ্যে পারিবারিক বা বংশধারা একটি প্রভাব প্রকটভাবে বিরাজ করতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে অপুষ্টিজনিত দৈহিক বৃদ্ধিহীনতাও এর একটি কারণ হতে পারে। তাছাড়া বাড়ন্ত বয়সে অসংক্রামক রোগ ও দীর্ঘ স্থায়ী সংক্রামক রোগের কারণেও এরকম সমস্যা হতে পারে। শৈশবকালে মাত্রাতিরিক্ত শারীরিক শ্রম বা ব্যয়াম করলে বিলম্বিত বয়োঃসন্ধি হতে পারে।

আবার এ সমস্যাটি স্থায়ীও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রজনন হরমোনের ঘাটতি প্রধান কারণ। কলমেনসিনড্রোম, প্র্যাডারউইলিসিনড্রোম, প্যানহায়পোপিটুইটারিজম ইত্যাদি। আবার কুসিংসিনড্রোমও কারও কারও থাকতে পারে।

বিলম্বিত বয়োঃসন্ধিকালে বালক-বালিকারা প্রধানত তাদের বাবা-মার সঙ্গে হরমোন বিশেষজ্ঞ বা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে হাজির হন। অভিভাবকরা তাদের ছেলেমেয়েদের যৌবনপ্রাপ্তি না হওয়ায় দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত হন এবং চিকিৎসককে তা জানান। এ ছেলেমেয়েদের অধিকাংশেরই দৈহিক উচ্চতা কাঙ্ক্ষিত মাত্রার চেয়ে অনেক কম থাকে। রোগী নিজে বা অভিভাবকরা সুনির্দিষ্টভাবে কোনো সমস্যা উপস্থাপন নাও করতে পারেন; বিশেষ করে ছেলেদের ক্ষেত্রে। মেয়েদের ক্ষেত্রে শারীরিক অন্যান্য পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ঋতুস্রাব শুরু না হওয়া টান জরে পড়তে পারে। বালক-বালিকা উভয়ের ক্ষেত্রে বয়োঃসন্ধিকালে প্রবেশে সব পরিবর্তন অনুপস্থিত থাকে। ছেলেদের দাড়ি-গোঁফগজায় না, দৈহিক গঠনের পুরুষালি ভাব হয় না, লিঙ্গের আকার ছোট থাকে, লোম ও ঘামের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনও অনুপস্থিত থাকে। অণ্ডকোষ মাপলে ৪ মিলিমিটারের কম পাওয়া যায়। বালিকাদের ক্ষেত্রেও স্তনের বৃদ্ধি হয় না, দেহের নারীসুলভ অন্যান্য পরিবর্তন অনুপস্থিত থাকে, যেমন- নিতম্বের আকার পরিবর্তন, কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন ইত্যাদি। উভয় ক্ষেত্রেই বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণের ঘাটতি থাকবে।

চিকিৎসা

রোগ শনাক্ত করে, সে অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হবে। পারিবারিক ধীরগতির বৃদ্ধি সম্বলিত ছেলেমেয়েদের একটু পরে হলেও বয়োঃসন্ধিকাল অতিক্রম করার বা যৌবনপ্রাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট। দীর্ঘ স্থায়ী রোগ যাদের আছে, তাদের ক্ষেত্রেও যথাপোযুক্ত চিকিৎসায় যৌবনপ্রাপ্তির সহায়ক হবে। কিন্তু ক্রমোজোমাল ত্রুটি থাকলে, সে ক্ষেত্রে ফলাফল খুব আশা ব্যঞ্জক হবে না। তাদের জন্য সাপোর্টিভ বিভিন্ন রকম ব্যবস্থা নিতে হবে।