শুক্রবার ,১২ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 322

শিয়ালের উপদ্রবে আতঙ্কে এলাকাবাসী, স্কুল-কলেজে যাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা

ঢাকার ধামরাইয়ের বাড়িগাঁও এলাকায় বন্য শিয়ালের উপদ্রব বেড়ে গেছে আশঙ্কাজনক হারে। দলবেঁধে লোকালয়ে এসে পথচারী ও গ্রামবাসীদের এলাপাতাড়ি কামড়িয়ে আহত করছে শিয়ালগুলো।

বৃহস্পতিবার দুপুরে শিশুসহ ১৫ জনকে কামড়িয়ে গুরুতর জখম করেছে শিয়াল। এই ভয়ে স্কুল-কলেজে যাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা।

আহতদের উদ্ধার করে ধামরাই সরকারি আবাসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে আলীমুদ্দিনের স্ত্রী দুলিমন বেগম, আব্দুল আউয়ালের স্ত্রী রংমালা বেগম, সুরত আলীর স্ত্রী কাজুলী আক্তার, মো. সাহাজুদ্দিন, দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. হৃদয় হাসান, আব্দুস সালাম মোল্লার ছেলে মো. মনির হোসেন মোল্লা, মো. সোহেল রানা, মো. রেদুয়ান হোসেন ও মো. সুমন আহাম্মেদের অবস্থা গুরুতর।

এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে শিয়ালগুলোতে হামলা করে একটি শিয়ালকে মারতে সক্ষম হয়েছে। এক সপ্তাহে ৪০ জনেরও বেশি মানুষকে শিয়ালে কামড়িয়েছে। ফলে শিয়াল আতঙ্কে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজ ও মক্তব-মাদ্রাসায় যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। রাজধানী ঢাকার মনির হোসেনের পুকুর, পরিত্যক্ত খামার, স্থানীয় কবরস্থান, পরিত্যক্ত ভিটা ঝোঁপঝাড় ও বংশী নদীর অববাহিকার কাশবন থেকে এ শিয়াল লোকালয়ে এসে হামলা করছে বলে নিশ্চিত করেছেন এলাকাবাসী।

খবর পেয়ে পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শিয়ালের কবল থেকে এলাকাবাসীর রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, মাঠে ময়দানে কাজ করা তো দূরের কথা আমরা ঘর থেকে বের হলেই শিয়াল আমাদের কামড়াচ্ছে। দলবেঁধে লাঠিসোটা নিয়ে পাহারা দিয়েও শিয়ালের আক্রমণ প্রতিহত করা মোটেও সম্ভব হচ্ছে না। এ সপ্তাহে ৪০ জনেরও বেশি মানুষকে কামড়িয়ে জখম করেছে শিয়াল। বিষয়টি থানা পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করলেও তারা এলাকাবাসীর রক্ষায় বা শিয়ালের আক্রমণ প্রতিহত করতে এগিয়ে আসেননি। ফলে আমাদের কোমলমতি ছেলেমেয়েরা ভয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে।

মো. নজরুল ইসলাম নামে এক গ্রামবাসী বলেন, শিয়ালগুলো বেশ বড় বড়। মনিরের পুকুর ও পরিত্যক্ত খামার, বংশী নদীর তীরে কাশবন ও পরিত্যক্ত ভিটার ঝোঁপঝাড়ে রয়েছে শিয়ালের আস্তানা। এরা এতটাই সাহসী যে ২-৪ জন লাঠিসোটা নিয়ে তাড়া করলেও বিন্দুমাত্র ভয় পায় না। আমরা এলাকাবাসী খুবই আতঙ্কের মধ্যে আছি।

উত্তর কোরিয়ায় ওমিক্রনের ভয়াবহ সংক্রমণ, ৬ জনের মৃত্যু

উত্তর কোরিয়ায় গত বুধবার সরকারিভাবে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হওয়ার কথা স্বীকার করার পর দেশজুড়ে লকডাউনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দেশটিতে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন। এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। খবর নিউইয়র্ক টাইমসের।

দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম কেসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

দেশটির শীর্ষ নেতা কিম জং উন এক টিভি ভাষণে বলেছেন, এ পর্যন্ত এক লাখ ৮৭ হাজার ৮০০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোয়ারেন্টিনে আছেন। এ সময় তাকে প্রথমবারের মতো মাস্ক পরতে দেখা যায়।

কিম জং উন করোনার এ প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে জরুরি বৈঠক করছেন।

তবে উত্তর কোরিয়ার সরকারি ভাষ্যে বুধবার প্রথমবারের মতো কোভিড রোগী শনাক্তের কথা বলা হলেও দেশটিতে অনেক দিন থেকেই করোনাভাইরাসের উপস্থিতি আছে বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের।

উত্তর কোরিয়া সরকারিভাবে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হওয়া কথা নিশ্চিত করার পর বৃহস্পতিবার থেকে দেশজুড়ে লকডাউনের নির্দেশ দিয়েছে।

নিজেদের জনগণকে উত্তর কোরিয়া কোনো কোভিড-১৯ টিকা দেয়নি। চীনের তৈরি সিনোভ্যাক টিকা এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকার ডোজ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও দেশটি উভয়ই প্রত্যাখ্যান করেছে।

করোনাভাইরাস মহামারি শুরু হওয়ার পরই নিজেদের সব সীমান্ত বন্ধ করে দেয় উত্তর কোরিয়া। এ পদক্ষেপের মাধ্যমেই দেশে ভাইরাসটির প্রবেশ বন্ধ করতে চেয়েছেন তারা।

কিন্তু সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ায় দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করে এবং জরুরি পণ্য আমদানিও হ্রাস পায়, এতে দেশজুড়ে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়।

উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী চীনেই প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় আর দেশটি এখন ওমিক্রন ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের জন্য সংগ্রাম করছে। উত্তর কোরিয়ার অপর প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়াও করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখেছে।

সিভারস্কিতে দুটি রাশিয়ান সেতু উড়িয়ে দিয়েছে ইউক্রেন, চলছে তীব্র লড়াই

ইউক্রেনীয়রা বিলোহোরিভকার কাছে সিভারস্কি ডোনেটস নদীতে রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রাকে প্রতিহত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ইউক্রেনীয়রা, একটি উপগ্রহ চিত্রে দেখা যাচ্ছে।

এই লড়াইটি নদীর একই পাশ বরাবর চলছে, যেখানে রাশিয়ানরা দুটি পন্টুন সেতু তৈরি করেছিল, যা ইউক্রেনীয়রা উড়িয়ে দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে স্যাটেলাইটে তোলা ছবিতে এমনটিই দেখা যাচ্ছে। খবর সিএনএনের।

স্যাটেলাইটে দেখা গেছে, নদীর ঠিক পশ্চিমে একটি ঘন জঙ্গল থেকে ধোঁয়া উড়ছে। রাশিয়ান পন্টুন সেতু দুটি যে এলাকায় তৈরি করা হয়েছে, সেখানেও লড়াই চলছে বলে মনে হচ্ছে।

আরও দেখা যায়, ধোঁয়া ওই অঞ্চলের বেশিরভাগ অংশ ঢেকে ফেলছে, কিন্তু এর মধ্য দিয়ে একটি বস্তু— একটি সম্ভাব্য তৃতীয় রাশিয়ান পন্টুন সেতু তৈরির চেষ্টা করছে রুশ বাহিনী।

লুহানস্কের আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসক সেরহি হেইডে বুধবার বলেছেন, রাশিয়ানরা সিভারস্কি ডোনেটস নদীর ওপর সেতু নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনীয়রা বারবার তাদের উড়িয়ে দিয়েছেন।

ঋণের সুদ নিচ্ছে ৩২ শতাংশ!

নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে যেন চলছে ‘মহাজনি ব্যবসা’। আইপিডিসি ফাইন্যান্স ‘ডানা’ নামক একটি পণ্যে ঋণের সুদ আরোপ করেছে দৈনিক ভিত্তিতে। এক্ষেত্রে গ্রাহক দিনে ১ হাজার টাকা খাটালে আইপিডিসি সুদ কাটে ০.৮৯ পয়সা। যা বছর শেষে গিয়ে ঠেকে ৩২ শতাংশে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

এখন আইপিডিসিকে অনুসরণ করে অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানও দৈনিক ভিত্তিতে সুদ আরোপ করার চেষ্টা করছে। ভুক্তভোগীদের আশঙ্কা-এটি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে ঋণগ্রহীতার ‘গলায় দড়ি প্যাঁচানোর’ নামান্তর হবে। শুধু তাই নয়, দৈনিক ভিত্তি ছাড়াও ইতোমধ্যেই আরও কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণের সর্বোচ্চ সুদ ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ আরোপ করেছে।

এক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা বলছেন, এত উচ্চসুদে ঋণ নিয়ে কেউ টিকে থাকতে পারবে না। এটা এক ধরনের ডাকাতি। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এই স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ করা জরুরি।

এ প্রসঙ্গে ভুক্তভোগী এবং নিট পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম যুগান্তরকে বলেন, ৩২ শতাংশ সুদ! এটা কী করে সম্ভব? এছাড়া ১৭-১৮ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে কেউ ব্যবসায় টিকে থাকতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও বিপদে আছি। একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে যে সুদে ঋণ নিয়েছি, কাটা হয়েছে তার থেকে বেশি। ফলে নির্ধারিত সব কিস্তি দেওয়ার পরও কিস্তি শেষ হয়নি।’ তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন-প্রকৃত ব্যবসায় মুনাফা কত শতাংশ হয়? বর্তমানে কোনো ব্যবসায় ১৭-১৮ শতাংশ লাভ হয় না। তাহলে এ ধরনের উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসায়ীরা কী করবে।

তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে-শুধু উচ্চ সুদের কারণেই বছরের পর বছর কিস্তি পরিশোধ করেও মূল ঋণ পরিশোধ হয় না। এতে এক পর্যায়ে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হয়। এমনকি শেষ পর্যন্ত আর ভিটেমাটিও থাকে না। সাধারণত যারা ঠেকায় পড়ে তারা উচ্চ সুদে ঋণ নেয়। বিশেষ করে গ্রামের গরিব মানুষ। তাদের ওপর এতদিন গ্রামীণ ব্যাংক ও এনজিওগুলো শোষণ করত। এখন কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানও সে পথে হাঁটছে। এটা দুঃখজনক। উচ্চ সুদের এই কারবার জরুরি ভিত্তিতে বন্ধ করার পরামর্শ দেন তিনি।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড বিভিন্ন ঋণের সর্বোচ্চ সুদ কেটেছে ১৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। ব্যবসা-বাণিজ্য ও গৃহনির্মাণ ঋণেও সর্বোচ্চ ১৭ শতাংশ সুদ কেটেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এছাড়া ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবসা-বাণিজ্য ঋণে সর্বোচ্চ সুদ কাটা হয়েছে ১৮ শতাংশ। একইভাবে প্রতিষ্ঠানটি শিল্প ঋণে ১৮ শতাংশ এবং গৃহনির্মাণ ঋণেও কেটেছে ১৭ শতাংশ। এফএএস (ফাস) ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প এবং গৃহনির্মাণ ঋণে যথাক্রমে সর্বোচ্চ সুদ কাটা হয়েছে ১৮ শতাংশ। ফার্স্ট ফাইন্যান্সেরও বিভিন্ন ঋণে সর্বোচ্চ সুদ ১৮ শতাংশ।

ইউনিয়ন ক্যাপিটাল ব্যবসা-বাণিজ্য ঋণের সর্বোচ্চ সুদ কেটেছে ১৮ শতাংশ। বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফসিএল) ব্যবসা-বাণিজ্য ঋণে ১৭ শতাংশ এবং অন্যান্য ঋণেও কাটা হয়েছে ১৭ শতাংশ। পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, কৃষি, গৃহনির্মাণসহ বিভিন্ন ঋণের সর্বোচ্চ সুদ ১৭ শতাংশ।

একইভাবে ফিনিক্স ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, কৃষি, গৃহনির্মাণসহ বিভিন্ন ঋণের সর্বোচ্চ ১৭ শতাংশ পর্যন্ত সুদ কেটেছে। মাইডাস ফাইন্যান্স ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ঋণের সর্বোচ্চ সুদ কেটেছে ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ। এছাড়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ঋণে সর্বোচ্চ সুদ কেটেছে ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে সুদহার বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ১ জুলাই থেকে এসব প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহ করতে পারবে। আর ঋণ দেবে সর্বোচ্চ ১১ শতাংশ সুদে। এই সীমা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবশ্যই তার আগে পরিদর্শন করে দেখা হবে যে, কোন কোন প্রতিষ্ঠান উল্লিখিত সীমা অতিক্রম করেছে। এরপর ব্যবস্থা।

রেমিট্যান্সে ধাক্কা লাগার ইঙ্গিত বিশ্বব্যাংকের

দেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের ধারায় ধাক্কা লাগার ইঙ্গিত দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। টানা আট মাস ধারাবাহিকভাবে এ খাতে আয় কমেছে। চলতি বছর এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোর প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধির গতি আগের বছরের অর্ধেকে নেমে আসতে পারে।

সংস্থাটির তথ্য মতে, প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশে গত বছর রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হয়েছে অনেক কম। ২০২১ সালে বাংলাদেশে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ২ দশমিক ২ শতাংশ, যা চলতি বছর আরও কমতে পারে।

ভারত ও পাকিস্তানে ২০২১ সালে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ৮ ও ২০ শতাংশ। বিশ্বজুড়ে গত বছর রেমিট্যান্সের জোরালো প্রবাহের কারণে প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ৬ শতাংশ, যা এবার কমে ৪ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, চলতি বছর বাংলাদেশে প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ হতে পারে। অন্যদিকে ভারতে প্রবৃদ্ধি হবে ৫ শতাংশ ও পাকিস্তানে ৮ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংক ও নোম্যাডের এক যৌথ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘মহামারিকালে এক যুদ্ধ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় অভিবাসনের সম্ভাব্য অবস্থা পর্যালোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের প্রবাসী আয়ের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এটি গত বুধবার ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত হয়।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, করোনার মধ্যে দেশে বৈধ পথে প্রবাসী আয় উল্লম্ফন হয়েছিল, যার বড় একটি অংশ আগে মূলত অবৈধ পথে আসত। যোগাযোগ ও অবৈধ পথ বন্ধ থাকার ফলে সব রেমিট্যান্স ওই সময় ব্যাংকিং চ্যানেলে এসেছে।

এখন যোগাযোগ শুরু হওয়ায় বৈধ পথে প্রবাসী আয় আসা কমে গেছে। তবে বর্তমানে যে হারে বিদেশে কর্মী যাচ্ছে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রবাসী আয়ের ধারা ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

প্রতিবেদেনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে ভারতে রেমিট্যান্স এসেছে ৮ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। প্রবাসী পাকিস্তানিরা দেশে পাঠিয়েছে ৩ হাজার ১০০ কোটি ডলার। বাংলাদেশে গত বছর এসেছে ২ হাজার ২০০ কোটি ডলার। এ সময় নেপালে প্রবাসী আয় হয়েছে ৮২০ কোটি ডলার।

দক্ষিণ এশিয়ায় ২০২১ সালে প্রবাসী আয় সবচেয়ে বেশি ২৩ শতাংশ কমেছে চরম অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে থাকায় শ্রীলংকায়। এ সময় দেশটিতে এসেছে মাত্র ৫৫০ কোটি ডলার।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, প্রবাসী আয় প্রাপ্তিতে ২০২১ সালে বাংলাদেশ বিশ্বে সপ্তম হয়েছে। ২০২০ সালে বাংলাদেশ একই স্থানে ছিল। গত বছর সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় পেয়েছে ভারত ৮ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। এরপর ৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল মেক্সিকো।

৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলার প্রবাসী আয় নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিল চীন। এরপর রয়েছে ফিলিপাইন, পাকিস্তান ও মিসর। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবাসী আয়ে বাংলাদেশ তৃতীয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২০ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী সোয়া কোটির মতো প্রবাসী ২ হাজার ১৭৪ কোটি ১৮ লাখ (২১ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন) ডলার প্রবাসী আয় পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি। ২০১৯ সালে পাঠিয়েছিলেন ১৮ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে টানা প্রবাসী আয়ের প্রবাহ কমেছে।

বাংলাদেশ থেকে মূলত অদক্ষ শ্রমিকরা বিদেশে কাজ করতে যান। সে কারণে তাদের মজুরিও কম। প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে বাংলাদেশি কায়িক শ্রমিকদের গড় মাসিক মজুরি ২০৩ ডলার। অথচ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পাকিস্তানি শ্রমিকদের মজুরি ২৭৬ ডলার, ভারতীয়দের ৩৯৬ ডলার, ফিলিপাইনের শ্রমিকদের ৫৬৪ ডলার ও চীনা শ্রমিকদের মজুরি ৫৩৩ ডলার।

সবুজ সংকেত মিললেই রাজনীতিতে সম্রাট

জামিনে মুক্তির পরও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) আছেন তিনি।

তার চিকিৎসা চলছে বিশেষ মেডিকেল বোর্ডের অধীনে। সম্রাটের অনুসারীদের দাবি, তাদের নেতা শারীরিক সুস্থতা ও দলের উপর মহলের সবুজ সংকেত মিললেই রাজনীতির মাঠে পুরোপুরি সক্রিয় হবেন।

তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসকরা সম্রাটকে হাসপাতালে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

বিএসএমএমইউয়ের পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, তাকে এখনই হাসপাতাল থেকে ছাড়া যাবে কিনা সে সিদ্ধান্ত নেবে মেডিকেল বোর্ড।

এদিকে সম্রাটের জামিন ঠেকাতে হাইকোর্টে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেন।

জামিনে কারামুক্তির পর থেকেই সব বাধা পেরিয়ে হাসপাতালেই ফুলেল শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তার অনুসারীরা। তাদের অনেকেই বলেছেন, সম্রাটকে দল থেকে বহিষ্কারের দালিলিক কোনো প্রমাণপত্র নেই।

ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেফতারের পর যুবলীগের তখনকার কেন্দ্রীয় নেতাদের কেউ কেউ সম্রাটকে বহিষ্কারের তথ্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু এর কোনো দালিলিক ভিত্তি নেই।

দলের পক্ষ থেকে তার বহিষ্কারাদেশের ব্যাপারে কোনো বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়নি। সম্রাটের অনুসারীদের দাবি, তাদের ‘নেতা’ ফের রাজনীতিতে ফিরছেন। শারীরিক সুস্থতা ও দলের উপর মহলের সবুজ সংকেত মিললেই রাজনীতির মাঠে পুরোপুরি সক্রিয় হবেন তিনি।

সম্রাটের বহিষ্কারাদেশের বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ যুগান্তরকে বলেন, ‘ওই সময়ে অনেক কিছু অগোছালো ছিল। তখন সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন তৎকালীন চেয়ারম্যান।’ সম্রাটের বহিষ্কারাদেশ নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সংগঠনের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান খান নিখিলের কাছে সম্রাটের বহিষ্কারাদেশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনিও কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

তিনি বলেন, ‘আপনারাই তো তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের কথা লিখেছেন।’ দলীয় কার্যালয়ের অফিস ফাইলে সম্রাটকে বহিষ্কারের কোনো দালিলিক প্রমাণপত্র রক্ষিত আছে কিনা সে সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, আড়াই বছরের বেশি সময় কারাবাসের পর জামিনে মুক্ত হতেই সম্রাটকে নিয়ে সুর পালটে ফেলেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এটাকেই সম্রাটের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত হিসাবে দেখছেন তার অনুসারীরা।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম মাসুদ যুগান্তরকে বলেন, ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়নি। তাকে বহিষ্কারাদেশের কোনো দালিলিক প্রমাণপত্র নেই। তিনি এখনো দলের মহানগর দক্ষিণের সভাপতি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সম্রাটের সঙ্গে দেখা করেন ছাত্রলীগের সাবেক শীর্ষ এক নেতা। যুগান্তরকে তিনি বলেন, মুক্তি পাওয়ায় তার মধ্যে উচ্ছ্বাস ছিল। ছিলেন ফুরফুরে মেজাজে।

বিপদের দিনে তার পাশে যারা ছিলেন তাদেরকে পেলেই জড়িয়ে ধরছিলেন। অনেকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগাল্পুত হয়ে পড়েন।

তার কথায় রাজনীতিতে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে। তবে দলের সর্বোচ্চ ব্যক্তির ‘গ্রিন সিগন্যাল’-এর আগে তিনি সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

জামিনে মুক্তির খবর পেয়েই হাসপাতালে গিয়ে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন-এমন বেশ কয়েকজন অনুসারীর সঙ্গে কথা বলেছেন এ প্রতিবেদক। তারা জানিয়েছেন, সম্রাটের রাজনীতিতে ফেরা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

মাঠকর্মীদের মধ্যে এখনো তার প্রভাব ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। দলীয় প্রধানের অনুমতি পেলেই তিনি সক্রিয় হবেন। শারীরিকভাবে সুস্থ হওয়ার পর তিনি রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হতে দলীয় প্রধানের নির্দেশনাও চাইবেন।

সেখান থেকে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ মিললেই তিনি আবার আগের মতো চষে বেড়াবেন রাজনীতির ময়দান। দলীয় প্রধানের ইতিবাচক মনোভাব না থাকলে আপাতত রাজনীতি থেকে দূরেই থাকবেন তিনি।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেও সম্রাটের রাজনীতিতে ফেরার ইঙ্গিত মিলেছে। সম্রাটের ভাই রাসেল আহমেদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, আপাতত আরও বেশ কিছু দিন তিনি হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিয়ে পুরোপুরি সুস্থ হতে চান।

তবে তার চিকিৎসার ব্যাপারে মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা কাজ করবেন। মেডিকেল বোর্ড বিদেশে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিলে দ্রুতই তাকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার সব প্রস্তুতি নেবেন।

মেডিকেল বোর্ড দেশে চিকিৎসার পরামর্শ দিলে সেটাই করা হবে। সম্রাটের রাজনীতিতে ফেরার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভাই রাজনীতি থেকে তো কখনো বিদায় নেননি। তিনি কর্মীবান্ধব নেতা হিসাবে সর্বত্র পরিচিত। এখন দলীয় প্রধান যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটাই চূড়ান্ত বলে আমরা মেনে নেব।’

সম্রাটকে হাসপাতালে থাকার পরামর্শ : বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএমইউয়ের পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নজরুল ইসলাম খান বলেন, সম্রাটকে এ অবস্থায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া যাবে কিনা সে সিদ্ধান্ত নেবে মেডিকেল বোর্ড।

এতদিন তার অন্যত্র চিকিৎসা নেওয়ার ব্যাপারে সীমাবদ্ধতা ছিল। এখন পরিবার চাইলে যেকোনো হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিতে পারে।

বিএসএমএমইউয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. রায়হান মাসুম মণ্ডল বলেন, তিনি কিছু সময় স্থিতিশীল থাকেন, আবার কিছু সময় অস্থিতিশীল। তার ‘সাডেন কার্ডিয়াক ডেথ’ সিনড্রোম আছে।

এর সঙ্গে ভাল্ব রিপ্লেসমেন্ট (হার্টের ভাল্ব প্রতিস্থাপন) আছে। যখন প্রথম এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন, তার হৃদস্পন্দন এলোমেলো ছিল। যতক্ষণ তার জটিলতাগুলো ঠিক না হচ্ছে, তার এমন জায়গায় থাকতে হবে যাতে, দ্রুত সিসিইউ কিংবা কার্ডিওলজিস্টের শরণাপন্ন হওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, তার শরীরে একটি ধাতব বস্তু আছে সেখানে কারেন্ট দিয়ে দিয়ে ইলেকট্রোফিজিও স্টাডি করব। এতে আরেকটা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এ জন্য হাইলি ইকুপমেন্ট (উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম) আছে এমন জায়গায় যাওয়া ভালো। ঢাকায় আমরা এমন জায়গা এখনো ডেভেলপড (উন্নতি) করতে পারিনি।

তিনি সিঙ্গাপুরের কথা বলেছেন, সেটা অবশ্যই ভালো জায়গা। তিনি চাইলে তার চেয়েও ভালো জায়গায় যেতে পারেন। আমরা আসলে ইলেকট্রোফিজিওলজি স্টাডিতে অতটা সক্ষম নই।

প্রসঙ্গত, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের এক সময়ের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী নেতা সম্রাট ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িয়ে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর গ্রেফতার হন।

তার বিরুদ্ধে এখন অস্ত্র, মাদক, অর্থ পাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের চারটি মামলা বিচারাধীন। আড়াই বছর কারাবাসের পর সব মামলায় জামিন পেলে বুধবার তিনি মুক্তি পান। এর পর থেকে গুঞ্জন শুরু হয় সম্রাট কি তাহলে আবার রাজনীতিতে ফিরছেন।

জামিন ঠেকাতে হাইকোর্টে যাচ্ছে দুদক : ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের জামিন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, জামিন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

আশা করছি, আগামী সোমবার আদালতে এ আবেদন দাখিল করতে পারব। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে মামলার কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। আদালত বন্ধ থাকায় আবেদন করতে বিলম্ব হচ্ছে।

হুংকার দিয়ে লাভ নেই: ফখরুলকে কাদের

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপি মহাসচিবকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, হুংকার দিয়ে লাভ নেই, দেশের জনগণকে দেখানোর মতো আপনাদের এমন কোনো উন্নয়ন নেই, তাই সরকারের পদত্যাগ দাবি না করে নিজেরা পদত্যাগ করুন।

তিনি বৃহস্পতিবার সকালে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে তার রাজধানীর বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে উদ্বোধনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ নয়, জনগণ মনে করে আন্দোলন ও নির্বাচনে ব্যর্থতার দায়ে মির্জা ফখরুলসহ বিএনপির টপ টু বটম নেতাদের পদত্যাগ করা উচিত।

বিএনপির শাসনামলে দেশে ২৪ ঘণ্টাই লোডশেডিং ছিল বিএনপি নেতাদের স্মরণ করে দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বর্তমান বাংলাদেশ শেখ হাসিনা সারা দেশে আলোয় আলোকিত করেছেন,বিএনপি নেতারা চোখে ঠুলি পড়েছেন।

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহার সভাপতিত্বে সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ, ফারুক খান, আবদুর রাজ্জাক, শাহজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ডক্টর আবদুস সোবহান গোলাপ এবং ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন

কিউকমের সিইও রিপন মিয়াকে আদালতে হাজির হওয়ার আদেশ

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউকমের সিইও রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ‘চেক ডিজঅনারের’ মামলায় সমন জারি করেছে আদালত।

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক আফনান সুমী এ সমন জারির আদেশ প্রদান করেন।

গত ২৭ এপ্রিল আদালত রিপন মিয়াকে আগামী ২৯ মে আদালতে হাজির হওয়ার আদেশ দেয়।

জানা যায়, বাংলাদেশি অন ডিমান্ড রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান পিকমি লিমিটেডের শেয়ার ক্রয়ের বিপরীতে মামলার বাদী ওমর আলীকে নির্দিষ্ট অংকের চেক প্রদান করেন রিপন মিয়া।

কিন্তু বাদী চেকটি নগদায়নের জন্য বিগত ২৭ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকে উপস্থাপন করলে চেকটি পরদিন ২৮ ফ্রেব্রুয়ারি তৃতীয় বারের মতো ডিজঅনার হয়।

এরপর বাদী তার আইনজীবীর মাধ্যমে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে ২১ মার্চ তারিখে আসামি রিপন মিয়াকে নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১ এর ১৩৮(১) (খ) ধারায় লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।

প্রসঙ্গত, গ্রাহকের টাকা আত্মসাত ও লোভনীয় অফারে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গতবছর ই-কমার্স প্ল্যাটফরম কিউকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রিপন মিয়াকে গ্রেফতার করেছিল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ফিলিস্তিনিদের সংবাদ সংগ্রহে জীবনের অর্ধেক সময় পার করেছেন শিরিন

জেনিন শরণার্থী শিবিরে ইসরাইলি অভিযানের সংবাদ কভার করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত শিরিন আবু আকলেহ তার জীবনের অর্ধেকেরও বেশি সময় কাটিয়েছেন ফিলিস্তিনে সাংবাদিকতা করে।

৫১ বছর বয়সি এ ফিলিস্তিন বংশোদ্ভূত এ মার্কিন নাগরিক কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরায় গত ২৬ বছর ধরে সাংবাদিকতা করে আসছেন। খবর ডেইলি সাবাহর।

ফিলিস্তিনিদের কাছে তিনি ছিলেন এক নির্ভরতার প্রতীক। যখনই ইহুদিবাদীরা অভিযানের নামে বর্বরতা চালাত অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনে, তখনই ক্যামেরা নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন শিরিন।

তার কারণেই খুব বেশি নির্যাতন চালাতে পারত না ইসরাইলি বাহিনী। এ কারণেই মূলত পরিকল্পিতভাবে গত বুধবার ফিলিস্তিনের জেনিনে মাথায় গুলি করে হত্যা করেন ইসরাইলি সেনারা।

এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইসরাইল এখন শিরিন হত্যার কথা অস্বীকার করছে।

শিরিনের জন্ম জেরুজালেমে ১৯৭১ সালে। জর্ডানের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতার ওপর পড়াশোনা শেষ করে ১৯৯৭ সালে আলজাজিরায় সাংবাদিকতা শুরু করেন তিনি।

মার্কিন নাগরিকত্ব পেলেও শিরিনের মন পড়ে থাকত জন্মভূমি জেরুজালেমে। এখানকার নির্যাতিত মানুষগুলোর মুক্তি-সংগ্রামে তিনি ছিলেন তাদের নীরব সঙ্গী।

দিন কিংবা রাত, যখনই ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানের খবর পেতেন, তখনই ক্যামেরা কাঁধে ছুটে যেতেন শিরিন।

তার সহকর্মী লিন্ডা বলেন, ফিলিস্তিনে সাংবাদিকতা মানেই মৃত্যুকে সঙ্গী করে দায়িত্ব পালন করা। আমি গত ৯ বছর ধরে ফিলিস্তিনে অত্যন্ত ভয়ে সাংবাদিকতা করে আসছি।

অথচ শিরিন গত দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে অসীম সাহসিকতা নিয়ে আলজাজিরার হয়ে ফিলিস্তিনে সাংবাকিতা করে আসছিলেন।

এদিকে ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে শিরিন আবু আকলেহের নিহতের ঘটনায় শোকাহত ফিলিস্তিন। দেশটির পশ্চিমতীরে নিহতের একদিন পর বৃহস্পতিবার জন্মভূমি রামাল্লায় আনা হয় তার লাশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রপতি ভবনের সামনে জানানো হয় শেষ শ্রদ্ধা। এতে অংশ নেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি।

শিরিন আবু আকলেহ বুধবার ভোরে জেনিন শহরে সংবাদ সংগ্রহের সময় ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হন। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ভবনের সামনে শিরিন আবু আকলেহকে শেষ শ্রদ্ধা জানান প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।

এ সময় প্রেসিডেন্ট আব্বাস বলেন, ‘আবু আকলেহের মৃত্যুর জন্য ইসরাইল সম্পূর্ণ দায়ী।’

মাহমুদ আব্বাস শিরিন আবু আকলেহ হত্যার বিষয়ে ইসরাইলের সঙ্গে যৌথ তদন্ত প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বিচার চাইতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) যাবেন।’

দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শতায়েহ শিরিনকে ‘জাতীয় বীর’ ও ‘তারকা সাংবাদিক’ বলে অভিহিত করেন।

শিরিন আবু আকলেহের হত্যাকাণ্ডে ফিলিস্তিন ও আরব বিশ্বে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আলজাজিরা চালু হওয়ার মাত্র এক বছর পরে ১৯৯৭ সালে তিনি সেখানে যোগদান করেন।

২০০০ সালে শুরু হওয়া দ্বিতীয় ইন্তিফাদা বা বিদ্রোহের সময় পশ্চিমতীরের প্রধান শহরগুলোতে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর বড় আকারের হামলা ও অভিযানের সংবাদ প্রকাশের জন্য ফিলিস্তিনিদের হৃদয়ে গেঁথে আছেন তিনি।

ছাত্রলীগ নেত্রী কক্ষ দখল করায় রাতভর হলের বাইরে ছাত্রীরা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শাখা ছাত্রলীগের এক নেত্রীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হলের একটি কক্ষ দখলের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে মধ্যরাতে ওই কক্ষের আবাসিক ছাত্রীসহ প্রায় ২০ জন ছাত্রী হলের বাইরে অবস্থান নেয় এবং রাতভর আন্দোলন করে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত হলের বাইরে গেটের সামনে বসে এ আন্দোলন চালিয়ে যান তারা।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মহির উদ্দীন, ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. খান মো. সাইফুল ইসলাম, বেগম রোকেয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম এসে আন্দোলনরত ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। পরবর্তীতে ওই হলের প্রভোস্ট এসে কক্ষটি তালাবদ্ধ করে দেয় এবং তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি সমাধান করবে বলে আন্দোলনকারী ছাত্রীদের আশ্বাস দেয়। এ আশ্বাসে পরে ছাত্রীরা আন্দোলন থামিয়ে নিজ নিজ কক্ষে চলে যায়।

হলসূত্রে জানা যায়, দখলকৃত কক্ষটি বেগম রোকেয়া হলের মূল ভবনের ৩০৩নং কক্ষ। এটি মূলত চারটি সিটের একটি কক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সুরাইয়া আঁখি নামের এক ছাত্রী ওই কক্ষে থাকেন। বাকৃবি ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই বেগম রোকেয়া হল নিজের আয়ত্তে আনার চেষ্টা করতে থাকে নতুন কমিটিতে পদপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহান রিজা এবং তানজিনা শিকদার প্রিয়া। এরপর থেকে দুইজনের সমর্থকদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝামেলা শুরু হয়।

অভিযোগকারী ছাত্রী সুরাইয়া আঁখি বলেন, ছুটিতে বেশ কিছুদিন বাড়িতে ছিলাম। হলে এসে দেখি আমার কক্ষটি ছাত্রলীগের নেত্রী রিজা ও তার সমর্থক দখল করে নিয়েছে এবং আমাকে ওই কক্ষে ঢুকতে দিচ্ছে না। গত রোববার রাত থেকে ওই কক্ষের বাইরে অবস্থান করছি। হল প্রশাসনকে অবহিত করলে তারা বিষয়টি প্রথমে আমলে নেয়নি। পরে কোনো সুরাহা না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান অভিযোগকারী ওই ছাত্রী।

আন্দোলনের সময় ওই ছাত্রীর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন আরেক ছাত্রলীগ নেত্রী তানজিলা শিকদার প্রিয়া।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগ নেত্রী ইসরাত জাহান রিজা বলেন, হল প্রশাসনের সম্মতিতে অনেকদিন তালা বদ্ধ থাকা ওই কক্ষে আমরা উঠেছি। চারটি সিটের মধ্যে তিনটি খালি ছিল, সেগুলোতে আমরা উঠেছি। কাউকেই কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়নি বা কোনো রকম হয়রানি করা হয়নি। আমাদের বিরুদ্ধে করা সবগুলো অভিযোগ মিথ্যা। আমরা কক্ষে ওঠার পর উল্টো আমাদের তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল।

প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা কক্ষটি হল প্রশাসনের আয়ত্তে নিয়েছি। কক্ষটি তালাবদ্ধ করে সিলগালা করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করব। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।