বুধবার ,১০ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 280

অবশেষে বিয়েরপিঁড়িতে নয়নতারা

দীর্ঘ সাত বছর প্রেমের পর বিয়েরপিঁড়িতে বসছেন ভারতের দক্ষিণী সিনেমার ‘লেডি সুপারস্টার’ নয়নতারা ও নির্মাতা বিগনেশ শিবান।

গত কয়েক মাস ধরে এই জুটির বিয়ের একাধিক তারিখ পাওয়া গেছে। তবে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের তারিখ জানালেন নির্মাতা বিগনেশ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিংকভিলা ও ইন্ডিয়া টিভি জানায়, সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিয়ের তারিখ ঘোষণা করেছেন নয়নতারার প্রেমিক বিগনেশ।

এতদিন খবরটি গুঞ্জনে সীমাবদ্ধ থাকলেও মঙ্গলবার চেন্নাইয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্মাতা জানান, আগামী ৯ জুন সাতপাকে বাঁধা পড়বেন এ জুটি। এদিন তামিলনাড়ুর মহবালিপুরামে পরিবার ও কাছের মানুষদের উপস্থিতিতে চার হাত এক হবে বলেও জানা গেছে। পরবর্তী সময়ে চেন্নাইয়ে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির বন্ধুদের নিয়ে বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

২০১৫ সালে ‘নানুম রাউডি ধান’ সিনেমার শুটিং সেটে নয়নতারা ও বিগনেশ শিবান প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। গেল বছর এই জুটির বাগদান সারার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়।

বর্তমানে নয়নতারা বলিউড কিং খান শাহরুখ খানের বিপরীতে ‘জওয়ান’ সিনেমায় অভিনয় করছেন; যেটি পরিচালনা করছেন তামিল সিনেমার খ্যাতিমান পরিচালক অ্যাটলি কুমার।

২০০৩ সালে মালয়ালাম ‘মানসসিনাক্কার’র মাধ্যমে ১৯ বছরে সিনে পর্দায় পা রাখেন নয়নতারা। ২০১৮ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনের সেলিব্রেটি ১০০ তালিকায় একমাত্র দক্ষিণী অভিনেত্রী হিসেবে ছিলেন তিনি।

বলিউড অভিনেতার সঙ্গে প্রেম স্বীকার করলেন সোনাক্ষী

কয়েক বছর ধরেই গুঞ্জন চলছিল বলিউড তারকা সোনাক্ষী সিনহা প্রেমে পড়েছেন বলিউড অভিনেতা জাহির ইকবালের।

অবশেষে এ কথা সত্যি হয়ে ধরা দিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। জন্মদিনে ভালোবাসার কথা জানালেন সোনাক্ষীর প্রেমিক বলিউড অভিনেতা জাহির ইকবাল। খবর ইন্ডিয়ার এক্সপ্রেসের।

এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ‘দাবাং’অভিনেত্রীর সঙ্গে একটি ভিডিও পোস্ট করে জাহির ভালোবাসার কথা লিখেছেন। এর উত্তরে জাহিরকেও ভালোবাসা জানিয়েছেন সোনাক্ষী সিনহা।

৩৩ বছর বয়সি বলিউডের তরুণ অভিনেতা জাহির ইকবালের সঙ্গে কয়েক বছর ধরেই সোনাক্ষীর প্রেমের গুঞ্জন চলছিল, বিভিন্ন জায়গায় একসঙ্গে দেখা যেত তাদের।
তবে সম্পর্ক নিয়ে দুজনই মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন এতদিন, অবশেষে জন্মদিনে এসে নীরবতা ভাঙলেন তারা।

ভিডিওতে মাথায় কালো ক্যাপ ও পরনে কালো-কালো প্রিন্টের জ্যাকেট দেখা গেছে সোনাক্ষী সিনহাকে। বার্গার খাওয়ার ফাঁকে জাহিরের সঙ্গে খুনসুটিতে মেতেছেন।

ভিডিওটি পোস্ট করার পর বলিউড তারকা তারা সুতারিয়া, পত্রলেখা, বরুণ শর্মাসহ আরও অনেকে এ জুটিতে শুভকামনা জানিয়েছেন।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে এসেছে, ৩৫ বছর বয়সি সোনাক্ষীর সঙ্গে এ বছরই গাঁটছড়া বাঁধছেন জাহির।

জাহির ইকবাল তার বাবার বন্ধু সালমান খানের হাত ধরে ২০১৯ সালে বলিউডে নাম লেখান।

‘নোটবুক’ সিনেমার মধ্য দিয়ে বলিউডে আত্মপ্রকাশের পর একই বছর ‘ভ্রুমরো’ চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি।

মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘ডাবল এক্স এল’ সিনেমায় সোনাক্ষী সিনহার সঙ্গে অভিনয় করছেন তিনি।

সালমান খানের প্রযোজনায় ‘কাভি ঈদ কাভি দিওয়ালি’ সিনেমায়ও কাজ করছেন জাহির।

হ্যারির শেষ মুহূর্তের গোলে জয়বঞ্চিত জার্মানি

উয়েফা নেশনস লিগে ‘সি’ গ্রুপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে হ্যারি কেইনের শেষ মুহূর্তের গোলে জার্মানিকে জয়বঞ্চিত করেছে গ্যারেথ সাউথগেটের ইংল্যান্ড। পুরো ম্যাচে ইংলিশদের রক্ষণের কাজে ব্যস্ত রেখেও ১-১ গোলে ড্র করেছে জার্মানি। গ্রুপের আরেক ম্যাচে হাঙ্গেরিকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ইতালি।

টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয়বঞ্চিত ছিল জার্মানি-ইংল্যান্ড দুই পাওয়ার হাউস। তাই আলিয়াঞ্জ অ্যারেনার এই ম্যাচে জয়ের জন্য মরিয়া ছিল হান্সি ফ্লিক ও গ্যারেথগেটের দল। ম্যাচের শুরু থেকে আধিপত্য ছিল স্বাগতিক জার্মানির। মুসিয়ালা, মুলার, হ্যাভার্জরা ইংলিশ রক্ষণে আক্রমণের ঢেউ বইয়ে দিলেও আসেনি গোল।

কাঙ্ক্ষিত গোলের জন্য দ্বিতীয়ার্ধ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় হ্যান্সি ফ্লিক শিষ্যদের। ৫০ মিনিটে জশুয়া কিমিখের অ্যাসিস্টে জার্মানিকে এগিয়ে দেন বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের মিডফিল্ডার ইয়োনাস হফমান। পিছিয়ে পড়ে কিছুটা ছন্দ ফিরে পায় ইংল্যান্ড। ম্যাসন মাউন্ট ও সাক্র বদলে জ্যাক গ্রিলিশ ও বেলিংহাম নেমে বাড়ান আক্রমণের গতি।

ম্যাচের শেষ দিকে ভুল করে বসে জার্মানি। ডি বক্সে পেনাল্টি আদায় করে নেন হ্যারি কেইন। ৮৮ মিনিটে স্পট কিক থেকে ইংলিশ অধিনায়ক গোল করে দলের এক পয়েন্ট নিশ্চিত করেন।

বিশ্বকাপের ট্রফি এখন ঢাকায়

বিশ্বকাপের ট্রফি এখন ঢাকায়

গত মার্চে দুবাই থেকে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ঘুরছে। গন্তব্য বিশ্বের ৫১ দেশের শহর। নানা দেশ নানা শহর ঘুরে কাতার পৌঁছবে ট্রফি।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে বিশ্বকাপের ট্রফি।

বাণিজ্যিক কোনো ফ্লাইটে নয়, চার্টার্ড বিমানে আসবে ক্রীড়া বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় এ সোনায় মোড়ানো ট্রফিটি।

চার্টার্ড বিমানে ট্রফির সঙ্গে থাকবেন ফিফার সাত কর্মকর্তার মধ্যে একজন ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ক্রিশ্চিয়ান কারেম্বু। সঙ্গে থাকবেন ফিফার অফিসিয়াল পার্টনার কোকা-কোলার কয়েকজন কর্তাব্যক্তি।

মঙ্গলবার বিশ্বকাপের ট্রফিটি পাকিস্তান পৌঁছেছে। পাকিস্তান থেকে বুধবার সকালে বাংলাদেশে আসবে। ঢাকা থেকে ট্রফিটি পূর্ব তিমুরের উদ্দেশে রওনা হবে। এটি কখন ঢাকা ছাড়বে সেটি এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ বলেন, বাংলাদেশ থেকে কোন সময় ট্রফি পূর্ব তিমুরের উদ্দেশে রওনা হবে, এটি বুধবারই জানা যাবে।

তিনি আরও বলেন, ৮ জুন ট্রফি প্রদর্শনী নেই। এদিন শুধু বঙ্গভবন ও গণভবনে ট্রফি যাবে। পর দিন বিকালে আর্মি স্টেডিয়ামে কনসার্ট হবে। সেই কনসার্টে জনসাধারণের প্রবেশ থাকলেও ছবি তোলার সুযোগ থাকবে সীমিত।

বুধবার রাতে একটি বিশেষ নৈশভোজ থাকবে। সেখানে দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা আমন্ত্রিত। পর দিন সকালে হোটেল র‌্যাডিসনে একটি বিশেষ সেশন থাকবে ফুটবলাঙ্গনের জন্য। সেই সেশনের পর বিকালে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে কনসার্টে ট্রফি উন্মুক্ত থাকবে।

অটো স্ট্যান্ডের দখল নিয়ে আ.লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডের দখল নিয়ে আওয়ামী লীগের দুগ্রুপের সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে বুড়িচং উপজেলার রোডে একটি সিএনজি স্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, এলাকার অধিপত্য ও সিএনজি অটোরিকশা স্টেশনের চাঁদা নিয়ে সহিংসতার জের ধরে দীর্ঘদিন ধরে বুড়িচং উপজেলার দুগ্রুপে দ্বন্দ্ব চলছিল।

বুড়িচং থানার ওসি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় আহত জালালের ছোট ভাই সাজেদুল আলম বাদী হয়ে বাছির খানসহ ২০-২৫ জনের নাম উল্লেখ করে বুড়িচং থানায় মামলা করেছেন।

মাঙ্কিপক্স নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ সতর্কতা জারি

মাঙ্কিপক্স নিয়ে লেভেল-২ মাত্রার ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিকার বিভাগ (সিডিসি) মঙ্গলবার ইউরোপ, দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন দেশে এ ভ্রমণ নিষেজ্ঞা আরোপ করে।

এতে বলা হয়েছে, ভ্রমণকালে মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত কোনো রোগী বা অন্য কোনো সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।

সিডিসির লেভেল-৩ মাত্রার সতর্কতা হচ্ছে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা। এটি এখনো জারি করা হয়নি।

মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত ব্যক্তির ঠাণ্ডার উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ২১ দিন পর রোগীর সারা দেগ ফোসকায় ভরে যেতে পারে।

মাঙ্কিপক্স সংক্রমণের পেছনে রয়েছে মাঙ্কিপক্স নামে ভাইরাস। এটি স্মলপক্স ভাইরাস শ্রেণির। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঙ্কিপক্স এখন পর্যন্ত কম গুরুতর ও এটির সংক্রমণের সক্ষমতা তুলনামূলক কম বলেই ধারণা করছেন তারা।

নতুন রোগটি ক্রান্তীয় রেইনফরেস্ট অঞ্চলের কাছাকাছি মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার প্রত্যন্ত অংশে বেশি দেখা যাচ্ছে।

মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের প্রধান দুটি ধরন—পশ্চিম আফ্রিকান ও মধ্য আফ্রিকান।

মাঙ্কিপক্সের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, ঘেমে যাওয়া, পিঠে ব্যথা, মাংসপেশির টান ও অবসাদ। জ্বর কমলে শরীরে দেখা দেয় ফুসকুড়ি। অধিকাংশ ঘটনায় শুরুতে মুখে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। পরে অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে; বিশেষ করে হাতের তালু ও পায়ের তলায়।

মার্কিন অর্থ ও জ্বালানিমন্ত্রীসহ ৬১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা

অর্থ ও জ্বালানিমন্ত্রীসহ নতুন করে আরও ৬১ মার্কিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাশিয়া।

দেশটির অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন এবং জ্বালানিমন্ত্রী জেনিফার গ্রানহোম ছাড়াও প্রথম সারির মার্কিন প্রতিরক্ষা এবং গণমাধ্যম কর্মকর্তাদের টার্গেট করে নতুন এ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে মস্কো। খবর রয়টার্স ও রিপাবলিক ওর্য়াল্ডের।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সোমবার নতুন এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসে। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার ফলে তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা রাশিয়ায় প্রবেশ করতে পারবেন না।

রাশিয়ার রাজনৈতিক এবং বিখ্যাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জবাব দিতেই পাল্টা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। যেসব মার্কিনি রুশ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে, তাদের বেশিরভাগই গণমাধ্যম, বিমান তৈরি এবং সামরিক শিল্পের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা।

রাশিয়া সম্পর্কে ভুয়া তথ্য প্রচারের অভিযোগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেনে সংঘাত কেন্দ্র করে মস্কো এবং ওয়াশিংটন মাঝেমধ্যেই পরস্পরের বিরুদ্ধে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যাচ্ছে।

সব রপ্তানি খাতে একই কর হার

বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় (২০২২-২৩ অর্থবছর) বাজেটে বিনিয়োগকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসাবে রপ্তানি খাতের কর বৈষম্য দূর করে একই হারে করারোপ করা হচ্ছে।

পাশাপাশি কোম্পানির করপোরেট কর হ্রাস, এক ব্যক্তির কোম্পানিতে কর ছাড়, স্টার্ট-আপ কোম্পানির কর হ্রাসের উদ্যোগ থাকছে। এছাড়াও উদীয়মান শিল্পকে ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি চলমান সুবিধার মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে তৈরি পোশাক খাতে করপোরেট কর সাধারণ গার্মেন্টসের জন্য ১২ শতাংশ এবং সবুজ কারখানার জন্য ১০ শতাংশ। অথচ পশ্চাৎপদ শিল্প হিসাবে অ্যাক্সেসরিজ শিল্প বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও তাদের নিয়মিত হারে (৩০ শতাংশ) আয়কর দিতে হয়। পাট, হিমায়িত মাছ, প্লাস্টিক, চামড়া খাতে বৈষম্য আছে।

আগামী বাজেটে রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্যকরণকে উৎসাহ দিতে সব ধরনের রপ্তানিমুখী শিল্পের করপোরেট কর তৈরি পোশাক শিল্পের মতো ধার্য করা হচ্ছে। এতে বাণিজ্য ঘাটতি নিুমুখী হবে। ফলে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যের পার্থক্য হ্রাস পাবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমপিএমইএ) সাবেক সভাপতি আব্দুল কাদের খান বলেন, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে অ্যাক্সেসরিজ শিল্প অবদার রাখলেও কর বৈষম্যের শিকার হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে আমরা কর হ্রাসের দাবি জানিয়ে আসছি। বাজেটে সব রপ্তানি খাতের কর সমান করলে তা বিনিয়োগকে আরও উৎসাহিত করবে।

বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি সামিম আহমেদ বলেন, প্লাস্টিক শিল্পের করপোরেট কর কমলে তা বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

একজন উদ্যোক্তা দেশি হোক বা বিদেশি, বিনিয়োগের আগে সবাই ওই খাতের করপোরেট কর কত সেটি খোঁজ-খবর নেন। প্লাস্টিক খাতে উচ্চ কর হার থাকায় এ খাতে অনেক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অনেকে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখায়নি। বাজেটে কর কমানো হলে এ খাতে নতুন বিনিয়োগ আসবে। পাশাপাশি রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণে সরকারের সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে।

সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান সরকার আইসিটি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে স্টার্ট-আপ উদ্যোগকে বাজেটে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হবে। বাজেটে স্টার্ট-আপ উদ্যোক্তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল ব্যতীত অন্য সব ধরনের রিপোর্টিংয়ের বাধ্যবাধকতা হতে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্টার্ট-আপ কোম্পানির লোকসান ৯ বছর পর্যন্ত সমন্বয়ের প্রস্তাব থাকছে। এছাড়াও স্টার্ট-আপ উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে ব্যয়সংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার ও টার্নওভার কর দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ১০ শতাংশ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে স্টার্ট-আপ উদ্যোক্তা সারওয়ার কামাল বলেন, ব্যবসার শুরুতে স্টার্ট-আপ উদ্যোগকে টিকে থাকার সংগ্রাম করতে হয়। এর মধ্যেও ট্যাক্স-ভ্যাট সম্পর্কে সঠিকভাবে না জানায় অনেক প্রতিষ্ঠানকে হয়রানির শিকার হতে হয়। যদি বাজেটে স্টার্ট-আপদের রিটার্ন জমা ছাড়া রিপোর্টিংয়ের বাধ্যবাধকতা হতে অব্যাহতি দেওয়া হয়, তাহলে উদ্যোক্তাদের জন্য অবশ্যই সেটা সুখবর। এর ফলে আরও অনেকেই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হতে চাইবে।

এছাড়া বাজেটে মোটরগাড়ি উৎপাদন শিল্পে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান ফ্রিজ, এসি, টিভি, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, মোবাইল সংযোজন, লিফট সংযোজন শিল্পে এ সুবিধা দেওয়া আছে। তবে ফ্রিজ উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধার মেয়াদ ৩০ জুন শেষ হওয়ায় বাজেটে ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে খেলাপি ঋণের ওপর করারোপ করা হচ্ছে। বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ মওকুফ করলে তা করমুক্ত রয়েছে। বাজেটে ব্যক্তি করদাতা ছাড়া প্রতিষ্ঠানিক করদাতাদের খেলাপি ঋণ মওকুফ করা হলে তা করযোগ্য আয় হিসাবে গণ্য করার প্রস্তাব করা হচ্ছে। মন্দ ঋণের প্রবণতা হ্রাস করতেই বাজেটে এ পদক্ষেপ থাকছে। এ বিধান কার্যকর হলে মওকুফ করা খেলাপি ঋণের ওপর প্রতিষ্ঠানকে করপোরেট কর দিতে হবে।

অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে না পেরে খেলাপি হলেন। বর্তমানে আয়কর রিটার্নে সেই ঋণের সুদকে ব্যয় হিসাবে দেখানোর সুযোগ রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ সুযোগ আর থাকছে না। প্রতিষ্ঠানের আবেদনের প্রেক্ষিতে ব্যাংক খেলাপি ঋণ বা ঋণের সুদ মাফ করলেও সেই ঋণ বা সুদকে ব্যয়ের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানের আয় হিসাবে গণ্য করা হবে। এবং সেই ঋণ বা সুদের ওপর করপোরেট কর দিতে হবে।

এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি এক্সচেঞ্জের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ বলেন, আয়ের ওপর কর আদায় করাই হচ্ছে আয়করের মূল নীতি। ব্যাংক ঋণ বা ঋণের সুদ মওকুফ করলে সেখান থেকে কর আদায় কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। এটি আয়করের মূলনীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এ ধরনের আইন করা হলে চাপে পড়ে হয়তো ব্যবসায়ীরা কর দেবেন। কিন্তু কর কমপ্লায়েন্স গড়ে উঠবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ২৯ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে মার্চ পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা। যা ডিসেম্বরে ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৩ মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১০ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা। প্রকৃতপক্ষে গত দুই বছর করোনার কারণে ঋণ পরিশোধ না করলেও কাউকে খেলাপি করা হয়নি। এ বছর থেকে সেই সুবিধা তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে ঋণ বা ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করলে গ্রাহককে খেলাপি করা হচ্ছে। ঋণের কিস্তি ৬ মাস বকেয়া থাকলে ঋণকে খেলাপি করার নিয়ম রয়েছে।

পুড়ল দেড়শ কোটি টাকার রপ্তানি পোশাক

সীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বিএম ডিপোতে ৪৪ প্রতিষ্ঠানের প্রায় দেড়শ কোটি টাকার তৈরি পোশাক তথা রপ্তানি পণ্য ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের নামিদামি ব্র্যান্ডের কাপড়ও ছিল সেখানে।

সব আগুনে পুড়ে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) মঙ্গলবার পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণ পণ্য থাকার তথ্য পেয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বিজিএমইএ বলছে, বিএম ডিপোতে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণে তৈরি পোশাক শিল্পেরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও এ ঘটনায় দেশের রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় খাতটি ইমেজ সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিজিএমইএ।

তারা বলছে, তৈরি পোশাক শিল্প ও এই শিল্পের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে কমপ্লায়েন্স নিয়ে অতীতে ওঠা প্রশ্ন নতুন করে তুলতে পারে ইউরোপ-আমেরিকার ক্রেতা দেশগুলো। সেক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে, যা পুড়ে যাওয়া পোশাকের আর্থিক ক্ষতির চেয়ে অনেক বেশি। প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরণে এ শিল্পের প্রায় এক হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কোনো প্রতিষ্ঠানের কী পরিমাণ পোশাক নষ্ট হয়েছে, তার একটি তালিকা তৈরি করছে বিজিএমইএ। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, ডিপোতে ৪৪টি প্রতিষ্ঠানের পোশাক ছিল। এই তালিকা আরও অনেক দীর্ঘ হবে। কারণ প্রতিদিনই রপ্তানিকারকরা তাদের ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ জানাচ্ছেন বিজিএমইএকে। এর মধ্যে কোনো কোনো রপ্তানিকারকের ১০-১২ কোটি টাকার পোশাকও ছিল। ৪৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চট্টগ্রামের রয়েছে ১০টি। বাকিগুলো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার।

বিএম ডিপোয় থাকা বেশিরভাগ রপ্তানি চালানই যাওয়ার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রে। এছাড়া যুক্তরাজ্য, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, চীনসহ বিভিন্ন দেশেও রপ্তানির কথা ছিল। সবচেয়ে বেশি চালান ছিলে বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘এইচঅ্যান্ডএম’এর। ‘এইচঅ্যান্ডএম’ বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় একটি ব্র্যান্ড।

বিজিএমইএ সূত্র জানায়, বিএম ডিপোতে যেসব পোশাক কারখানার রপ্তানিমুখী পণ্য ছিল তার মধ্যে রয়েছে-শিন শিন অ্যাপারেলস, কেএ ডিজাইন, জেএফকে ফ্যাশন, একেএইচ নিটিং অ্যান্ড ডায়িং, ভার্সেটাইল টেক্সটাইলস, রিও ফ্যাশন ওয়্যার, ভিশন অ্যাপারেলস, ইমপ্রেস-নিউটেক্স কম্পোজিট টেক্সটাইলস, আমান টেক্স, আয়েশা ক্লথিং কোম্পানি, আসওয়াদ কম্পোজিট মিলস, আরকেই নিট ডায়িং মিলস, টিআরজেড গার্মেন্টস, রেমি হোল্ডিংস, তারাসিমা অ্যাপারেলস, কেসি বটম অ্যান্ড শার্ট ওয়্যার, ভ্যানগার্ড গার্মেন্টস, মাসিহাতা সোয়েটার, মোশারফ অ্যাপারেলস স্টুডিও, চৈতি কম্পোজিট লি, স্টারলিং ডেনিমস, নিউএজ অ্যাপারেলস, কেইলক নিউএজ বাংলাদেশ, আরাবি ফ্যাশন, দিগন্ত সোয়েটারস, হপ ইনক বাংলাদেশ, তাকওয়া ফেব্রিকস, ফাউন্টেইন গার্মেন্টস,ম্যাগপাই কম্পোজিট, স্মি অ্যাপারেলস, পিমকি অ্যাপারেলস, ভিনটেজ ডেনিম অ্যাপারেলস, সিব্ল–অ্যান্ডসি টেক্স টেক্সটাইলস, অ্যারো ফেব্রিকস,ক্লিফটন টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলস, ভেনচুরা বাংলাদেশ, ক্লিফটন কটন মিলস, সুজি ফ্যাশনস, ইবালন ফ্যাশনস, সেনটেক্স অ্যাপারেলস, ডিভাইন ইনটিমেটস, ডিভাইন ডিজাইন, বিলামি টেক্সটাইলস, পেসিফিক জিন্স।

তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৩ সালে সাভারের রানা প্লাজার মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর এ শিল্পে বড় ধরনের ধাক্কা আসে। অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সের কমপ্লায়েন্স বিষয়ক নানা শর্তে একের পর এক বন্ধ হতে থাকে গার্মেন্টস কারখানা। তবে অনেক কারখানা শতভাগ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করে শেষ পর্যন্ত সেই কঠিন পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হয়। সেফটি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে আস্থা ফিরে আসে বিদেশি ক্রেতাদের। এরপর আসে করোনার ধাক্কা। বৈশ্বিক এ মহামারির কারণে কমে যায় তৈরি পোশাক রপ্তানি।

সেই অবস্থা থেকেও ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে শিল্পটি। এরইমধ্যে শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এই যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, তার ঢেউ এসে লাগে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পেও। বিশ্ববাজারে পণ্যের মূল্য কমে যায়। কোভিড ও যুদ্ধের প্রভাব অনেকটা কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল খাতটি। এমন পরিস্থিতিতে ঘটল বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণ, যাতে গার্মেন্টস শিল্পের ক্ষতিই হয়েছে সবচেয়ে বেশি।

বিকডার তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় প্রায় ৮০০ কোটি টাকা রপ্তানি খাতের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমদানি খাতের ক্ষতি ৪০০ কোটি টাকা। বাকি ক্ষতি খালি কনটেইনার ও ডিপোর অবকাঠামোগত। বিকডার হিসাব মতে, ডিপোটিতে মোট ৪ হাজার ৩০০ কনটেইনার ছিল। এর মধ্যে রপ্তানিমুখী ৮০০ ও আমদানিমুখী ৫০০। খালি কনটেইনার ছিল ৩ হাজার। প্রায় ৮৫ ভাগ কনটেইনারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুর্ঘটনায়।

বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বিএম ডিপো’র ঘটনায় আমাদের যে শুধু আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা নয়। ইমেজও নষ্ট হয়েছে। বহির্বিশ্বে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন্ন হয়েছে। এ ঘটনা বিদেশি ক্রেতাদের এমন বার্তা দিতে পারে যে, বন্দর ও এর সঙ্গে সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর সেফটি ও নিরাপত্তা সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। এটা অশনিসংকেত। এর প্রভাব হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি। করোনা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরও তৈরি পোশাক শিল্প ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। এ অবস্থায় সীতাকুণ্ডের ঘটনাটি একটি বড় আঘাত। এখনো ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র পাইনি। প্রতিদিনই গার্মেন্টস মালিকরা তাদের ক্ষতির তথ্য পাঠাচ্ছেন।

বিএনপির সঙ্গে একত্রে আন্দোলনে একমত মুসলিম লীগও

সরকার বিরোধী আন্দোলনে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে এবার ২০ দলীয় জোটের আরেক শরিক বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সঙ্গে সংলাপ করেছে বিএনপি।

মঙ্গলবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঘণ্টাব্যাপী সংলাপে একত্রে আন্দোলনের বিষয়ে উভয় দলের নেতারা একমত পোষণ করেন।

বাংলাদেশ মুসলিম লীগ একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল।‌ সংলাপে বিএনপির পক্ষে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে মুসলিম লীগের মহাসচিব অ্যডভোকেট শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরীর নেতৃত্বে ৯ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেন।

অন্যরা হলেন- দলটির সহ-সভাপতি আজিজুল রহমান লিটন, নির্বাহী মহাসচিব নজরুল ইসলাম, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক অ্যডভোকেট সৈয়দ মিনহাজ উদ্দিন, শিল্প বিষয়ক সম্পাদক অ্যডভোকেট আলমগীর হোসেন, দপ্তর সম্পাদক অ্যডভোকেট এমদাদুল হক প্রমুখ।

বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসন প্রতিরোধের জন্য, দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আমরা সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আন্দোলনের বিষয়ে কথা বলতে শুরু করেছি। ইতোমধ্যে ৫টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায়‌ ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সঙ্গেও সংলাপ হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা একমত হয়েছি-এই অনির্বাচিত সরকারকে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরিয়ে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই সরকারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করব। সেই সঙ্গে সংসদ বিলুপ্ত করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একসঙ্গে কাজ করব। সেটা যুগপৎভাবেই করা হবে বলে আলোচনা হয়েছে। যুগপৎভাবে শুরু করে আন্দোলনের ধারা অনুযায়ি সেটা বদলাতে পারে।

মুসলিম লীগের মহাসচিব অ্যডভোকেট শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী বলেন, এই ফ্যাসিষ্ট সরকারের পদত্যাগের দাবিতে যুগপৎ কিংবা জোটবদ্ধ যেভাবেই হোক না কেন সেখানে মুসলিম লীগ থাকবে। আগামীতে বিএনপির নেতৃত্বেই সেই আন্দোলন হবে। খালেদা জিয়ার সকল মামলা প্রত্যাহার করে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। তারেক রহমানের সব মামলা প্রত্যাহার করে দেশে ফিরে আসার পথ করে দিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ দিতে হবে। এছাড়া সব রাজনৈতিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলাও প্রত্যাহার করতে হবে।