বুধবার ,১০ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 279

ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চায় কাজী জাফরের জাতীয় পার্টি

সরকারবিরোধী জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে এবার ২০ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) নেতাদের সঙ্গে সংলাপ করেছে বিএনপি। এতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিষয়ে উভয় দলের নেতারা একমত পোষণ করেন।

বুধবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সংলাপ হয়।

দেড় ঘণ্টাব্যাপী এ সংলাপে বিএনপির পক্ষে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান অংশ নেন।

জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) পক্ষে দলটির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের নেতৃত্বে ছিলেন ৯ সদস্যের প্রতিনিধি দল।

দলের অন্যরা হলেন- ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন, প্রেসিডিয়াম সদস্য নওয়াব আলী আব্বাস খান, সেলিম মাস্টার, মজিবুর রহমান, রুহুল আমিন, যুগ্ম মহাসচিব এএসএম শামীম, কাজী মো. নজরুল ও গোলাম মোস্তফা।

বৈঠকের শেষে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা, ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন ও পরবর্তী সরকারের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা এসব বিষয়ে একমত হয়েছি।

মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, এই সরকারকে হটাতে আমরা একটা বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে যা যা করণীয় তার সম্ভাব্য বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা এই ঐক্যেমতে এসেছি যে, সব রাজনৈতিক শক্তিকে এক জায়গায় ঐক্যবদ্ধ করে একটা বৃহত্তর রাজনৈতিক প্লাটফর্ম গড়তে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।

গত ২৪ মে নাগরিক ঐক্যের সঙ্গে সংলাপ শুরু করে বিএনপি। এরপর তারা গণসংহতি আন্দোলন ও বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সঙ্গে বৈঠক করেন। পাশাপাশি বিএনপি তার ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সঙ্গেও বৈঠক করেছে।

পদ্মা সেতুকে বলতেই হয় আমাদের সোনার সেতু: রুমিন ফারহানা

বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, সংসদ অতিরিক্ত মিষ্টি হয়ে গেছে। এত বেশি মিষ্টি স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো না। তাই আমি কিছু তেতো কথা বলব, যাতে ভারসাম্যটা রক্ষা হয়। আর সেই সঙ্গে প্রদীপের নিচে অন্ধকারের দিকেও আমরা তাকাতে পারি।

তিনি বলেন, লিথুনিয়ার কৌনাস পৌরসভার মেয়র একটি শিপিং কন্টেইনারের মধ্যে দেড় কোটি টাকায় টয়লেট বানিয়েছিলেন। একই মানের একটি টয়লেট পাশের টেনিস ক্লাবে নির্মাণ করা হয় সাড়ে চার লাখ টাকায়। মানুষ মজা করে ওই টয়লেটের নাম দিয়েছিল সোনার টয়লেট। একই রকম কিংবা একটু বেশি দৈর্ঘ্যের বিশ্বের অন্যান্য সেতুর সঙ্গে পদ্মা সেতুর বর্তমান ব্যয় তুলনা করলে বলতেই হয় আমাদের সোনার সেতু। এটা কৌনাস সোনার টয়লেট মামলার মতো, বাংলাদেশ সোনার সেতু মামলা ও দুর্নীতির উদাহরণ হিসাবে থাকবে।

জাতিকে পদ্মা সেতু উপহার দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বুধবার জাতীয় সংসদে আনা প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা এসব কথা বলেন।

এ সময় পদ্মা সেতুর সঙ্গে ভারতের কয়েকটি সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের কথা তুলে ধরেন রুমিন ফারহানা। এ সেতুতে নির্মাণ ব্যয় দফায় দফায় বাড়ানো হয় বলে জানান তিনি। ভারতের ১০ কিলোমিটারের ৬ লেনের সেতু নির্মাণে ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বলে জানান তিনি।

রুমিন ফারহানা বলেন, এ টাকা দিয়ে একই দৈর্ঘ্যের ১০টি সেতু সেখানে করা যেতে পারে। লুটপাট আর কাকে বলে।

পদ্মা সেতুতে রেল যোগাযোগের অন্যতম কারণ ছিল পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের সংযোগ- উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার বহু টাকা নয়ছয় করে পায়রাকে আর গভীর সমুদ্রবন্দর করেনি। সুতরাং রেল কন্টেইনার পরিবহণের যে পরিকল্পনা হয়েছিল, সেটিও হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন, রেলসেতু আর লাভজনক নয়।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতু এমনই এক গোল্ডেন সেতু, যার পরতে পরতে কেবল দুর্নীতি আর দুর্নীতি। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের ৫৫ কিলোমিটার নির্মাণ হচ্ছে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকায়। অর্থ্যাৎ প্রতি কিলোমিটার ২০০ কোটি টাকার বেশি।

বিশ্বব্যাংকের ঋণ সরকার না নেওয়ার কারণ হিসাবে রুমিন দাবি করেন, বিশ্ব ব্যাংকের ঋণ নিলে জবাবদিহিতা থাকতে হয়। কিন্তু এই সরকার হরিলুট করেছে, সেটা তাদের থেকে ঋণ নিলে সম্ভব হতো না। যতই অস্বাভাবিক হোক, সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলার জো নেই। আজ সংসদের পরিবেশের দিকে তাকালে মনে হয়, কী বীভৎস, অসহিষ্ণু এক সংসদ।

সেলিম চেয়ারম্যানকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা

জাল নথি ও ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে ভিত্তিহীন রিট করে আদালতের সময় নষ্ট করায় চাঁদপুরের বিতর্কিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সেলিম খানকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন হাইকোর্ট।

অপর দুই রিটকারী আব্দুল কাদের ও জুয়েলকে ২৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা আগামী দুই মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করে বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নাসিম ইসলাম রাজু।

এর আগে প্রস্তাবিত চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণে অধিগ্রহণের জন্য জমির মূল্যহার পরীক্ষায় কমিটি গঠন এবং ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রায় ১৯৪ কোটি টাকার প্রাক্কলনের বৈধতা নিয়ে করা রিটের শুনানি শেষ হয়।

এদিকে প্রায় ১৯৪ কোটি টাকার প্রাক্কলন প্রস্তুত নিয়ে আপত্তি জানিয়ে জেলা প্রশাসনের প্রাক্কলন সংশোধন চেয়ে গত বছরের নভেম্বরে ভূমি মন্ত্রণালয়ে আবেদন দেন চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০ নম্বর লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সেলিম খান ও অন্যরা। পরে মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে ব্যাখ্যা জানতে চায়। চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ব্যাখ্যা দিয়ে প্রতিবেদন পাঠায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৌজা দর ধরে জমি অধিগ্রহণের দাম নির্ধারণ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়ে ৬২ একর জমির জন্য (মূল দামের তিন গুণ ধরে) সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১৯৪ কোটি টাকা। কিন্তু হঠাৎ উচ্চ মূল্য দেখিয়ে যেসব দলিল করা হয়েছে, সেটা আমলে নিলে সরকারকে ৫৫৩ কোটি টাকা দিতে হবে। অর্থাৎ সরকারকে অতিরিক্ত দিতে হবে ৩৫৯ কোটি টাকা।

এ অবস্থায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের ১৪ অক্টোবরের (মূল্যহার পরীক্ষায় কমিটি গঠন) এবং ৪ নভেম্বরের (১৯৪ কোটা টাকা প্রাক্কলন) স্মারকের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সেলিম খান ও তার ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তি হাইকোর্টে পৃথক রিট করেন। গত বছর করা পৃথক রিটে স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইনের ৯(১) (ক) ধারা অনুযায়ী প্রাক্কলন নির্ধারণের নির্দেশনাও চাওয়া হয়। সেলিম খানের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। অপর রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ৩০ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। পৃথক রিটের (রুল) ওপর একসঙ্গে শুনানি হয়।

বাজেট অধিবেশন শুরু

২০২২-২৩ অর্থবছরের ভাগ্য নির্ধারণের জাতীয় বাজেট ঘোষণা শুরু করতে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়েছে। বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাজেট অধিবেশন শুর হয়।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংসদ অধিবেশনে প্রবেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল। তিনি কিছুক্ষণ পরই বাজেট বক্তৃতা শুরু করবেন।

এটি বর্তমান সরকারের ২২তম ও বাংলাদেশের ৫১তম বাজেট। ঘোষিত বাজেটেই আগামী এক বছর রাষ্ট্র পরিচালনার সব আয়-ব্যয় চূড়ান্ত হবে।
এর আগে দুপুরে মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়। বেলা পৌনে ১২ টায় অর্থমন্ত্রী লাল ব্রিফকেস নিয়ে সংসদে প্রবেশ করেন।
‘কোভিড অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন’ শিরোনামে আজকের বাজেট। গত দুবছর করোনা মহামারির কারণে থমকে ছিল সব ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। সেখান থেকে বেরিয়ে আগামী দিনগুলোয় উন্নয়নের গতিধারা ফিরে আসবে— এমন স্বপ্ন দেখছেন অর্থমন্ত্রী। যদিও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকট এরই মধ্যে ঝুঁকিতে ফেলছে বিশ্বসহ দেশের অর্থনীতিকে। কঠিন মূল্যস্ফীতির চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। আয়ের তুলনায় ব্যয় বেড়েছে বহুগুণ। এটি এবারের বাজেটের চ্যালেঞ্জ।

নতুন বাজেটের আকার ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, যা সর্বকালের সবচেয়ে বড় বাজেট। এটি বাস্তবায়ন করতে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি (অনুদানসহ) বাজেট হবে ২ লাখ ৪১ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা, আর অনুদান ব্যতীত ঘাটতির অঙ্ক দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল নিজেও বলেছেন, ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধে তিনি চাপবোধ করছেন। তবে সবশ্রেণির মানুষ যাতে উপকৃত হন, সেভাবে তিনি বাজেট প্রণয়ন করছেন। ছোট, মাঝারি ও বড় শিল্পোদ্যোক্তারা সবাই উপকৃত হবেন। সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে থাকবে না— এমন কিছু বাজেটে চাপিয়ে দেবেন না বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

উন্নয়নের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণে থাকবে অর্থনীতি— এমন প্রত্যাশায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার রেখেছেন অর্থমন্ত্রী। গুরুত্ব দিতে ভোলেননি প্রবৃদ্ধিকে। চলতি অর্থবছর থেকে বেশি অর্জন হবে— এমন আভাস দিয়ে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরেছেন ৭.৫ শতাংশ। তবে গত মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের পূর্ভাবাসে বলা হয়েছে, আগামী অর্থবছরে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বাংলাদেশের।

যদিও অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধির হারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার সময় মনে রাখতে হবে— প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ হলো নাকি ৭ শতাংশ, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাথাব্যথা নেই। দ্রব্যমূল্য নিয়েই তারা বেশিমাত্রায় উদ্বিগ্ন। এ ছাড়া অধিক মাত্রার মূল্যস্ফীতি দারিদ্র্য ও বৈষম্য বৃদ্ধি করবে। তাই ভারসাম্য রক্ষার সময় এ বছর মূল্যস্ফীতিকে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় কৌশল নির্ধারণ ছাড়াও আটটি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বাজেটে। এগুলো হচ্ছে— ব্যাপক কর্মসৃজন ও পল্লী উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অধিক খাদ্য উৎপাদন এবং সারের ভর্তুকি অব্যাহত রাখা। এ ছাড়া স্বাস্থ্য ও শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তার আওতা বৃদ্ধি, নিম্নআয়ের মানুষকে বিনা বা স্বল্পমূল্যে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি বাড়ানো। আর কোভিড-১৯ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলো বাস্তবায়ন আরও সম্প্রসারণ করাও অগ্রাধিকার তালিকায় থাকছে।

২০২২-’২৩ অর্থবছরের ভাগ্য নির্ধারণ আজ

২০২২-’২৩ অর্থবছরের ভাগ্য নির্ধারণের জাতীয় বাজেট ঘোষণা হতে যাচ্ছে আজ। বর্তমান সরকারের ২২তম এবং বাংলাদেশের ৫১তম এ বাজেট অধিবেশন বিকাল ৩টায় শুরু হবে। জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ঘোষিত বাজেটেই আগামী এক বছর রাষ্ট্র পরিচালনার সব আয়-ব্যয় চূড়ান্ত হবে।

‘কোভিড অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন’ শিরোনামে আজকের বাজেট। গত দুবছর করোনা মহামারির কারণে থমকে ছিল সব ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। সেখান থেকে বেরিয়ে আগামী দিনগুলোয় উন্নয়নের গতিধারা ফিরে আসবে-এমন স্বপ্ন দেখছেন অর্থমন্ত্রী। যদিও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকট এরই মধ্যে ঝুঁকিতে ফেলছে বিশ্বসহ দেশের অর্থনীতিকে। কঠিন মূল্যস্ফীতির চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

৩০ বছরই বাজেট দিয়েছেন সিলেটি অর্থমন্ত্রীরা

বাংলাদেশের ৫১ তম বাজেট আজ। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল বিকালে জাতীয় সংসদে এই বাজেট পেশ করবেন। নতুন বাজেটের আকার ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। যা সর্বকালের সবচেয়ে বড় বাজেট। এটি বাস্তবায়ন করতে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি (অনুদানসহ) বাজেট হবে ২ লাখ ৪১ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা, আর অনুদান ব্যতীত ঘাটতির অঙ্ক দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা।

আওয়ামী লীগ সরকারের এটি ২২ তম বাজেট। অর্থমন্ত্রী মুস্তাফা কামালের টানা চতুর্থ বাজেট পেশ। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বাজেট পেশের রেকর্ড সাবেক দুই অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ও এম এ মুহিতের। তারা দুজনেই ১২ বার করে বাজেট দিয়েছেন।

আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে ‘ব্যাঙ্কাসুরেন্স অ্যান্ড ব্যাঙ্কাতাকাফুল’ শীর্ষক এক্সিকিউটিভ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড-এ দিনব্যাপী ‘ব্যাঙ্কাসুরেন্স অ্যান্ড ব্যাঙ্কাতাকাফুলঃ কনসেপ্টস, প্রোডাক্টস এন্ড রোল অব দ্য ব্যাংকস’ শীর্ষক এক্সিকিউটিভ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইডিপি) ৭ জুন, মঙ্গলবার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও ফরমান আর চৌধুরী ডেভলোপমেন্ট প্রোগ্রামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। উক্ত প্রোগ্রামে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট ফর প্রোফেশনাল ডেভেলপমেন্ট এর ডিরেক্টর জেনারেল কাজী মোহাম্মদ মর্তুজা আলী রিসোর্স পারসন হিসেবে বক্তব্য দেন।

আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক ট্রেনিং এন্ড রিসার্স ইনস্টিটিউট এর ডিরেক্টর জেনারেল মোঃ আব্দুল আউয়াল সরকারের সভাপতিত্বে ইডিপিতে ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম জাফর, শাব্বির আহমেদ, মোঃ শফিকুর রহমান, মোঃ মাহমুদুর রহমান, মোহাম্মদ নাদিম, আবেদ আহাম্মদ খান, আবদুল্লাহ আল মামুন এবং ঊর্ধ্বতন নির্বাহীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

তুমি অকৃপণ

বসুমতী তোমাকে জানিয়ে ছিলাম আমার মানসিক অশান্তির কারণ। নীরবতার মাঝে জানিয়েছ তুমি তোমার মতামত। তোমার নীরবতায় ইঙ্গিত পেয়েছি যে তুমি আমার কিছু সিদ্ধান্তে মনঃপূত হওনি।

বুঝতে পেরেছি কারণ তুমি সকল জটিলতার ঊর্ধ্বে, তাইতো তোমার নাম মাটির পৃথিবী। সহজ-সরলভাবে সবকিছু বোঝা, হৃদয় দিয়ে জড়িয়ে রাখা এবং সবাইকে সমানভাবে ভোগ করার সুযোগ দেয়াই তোমার কাজ।

কিন্তু তোমাকে এখন একটু অন্যরকম করে ভাবতে হবে। ফুটবল খেলায় দুটো দল থাকে। শুধু একটি দলের খেলা দেখলে বা অর্ধেক খেলা দেখলে চলবে না, পুরো খেলাই দেখতে হবে। আবার শুধু পরের ছবি দেখলেই হবে না নিজের ছবিও দেখার চেষ্টা করতে হবে।

নিজের ছবি দেখতে হলে আয়নার সামনে আসতে হবে। আয়না নিজের চেহারাকে তুলে ধরে ‘অ্যাজ ইট ইজ।’যদি আমরা একটি জাতি বা দেশের প্রতিচ্ছবি দেখতে চাই তাহলে কীভাবে তা দেখতে পারি?

নিজ পরিবারকে দেখে, পরিবারের সদস্যদের কাজকর্ম এবং আচরণ দেখে আমরা অতি সহজেই বড় পরিবার তথা পুরো দেশের প্রতিচ্ছবি দেখতে পারি।

ঘরের অবস্থা যখন কলুষতায় ভরা তখন বাইরের অবস্থাও খুব একটা ভালো হয় না। এখন আমরা যদি দেখি আমাদের নিজ নিজ পরিবারের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারগুলো। বেশিরভাগ পরিবারে রয়েছে জটিলতা। সে জটিলতা হতে পারে মিথ্যা প্রচারণা, ভোগ দখল, শিক্ষা এবং নৈতিকতার।
রয়েছে পরশ্রীকাতরতা, হিংসা, বিদ্বেষ। ভাই ভাইকে ঘৃণা করছে, বাবা-মাকে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে বা তাদেরকে অবহেলা করে দূরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবেশীর পরিচয় না দেয়া, সত্যকে গোপন করা ইত্যাদি সচারাচর নজরে পড়ছে। এই যদি নিজের পরিবারের অবস্থা হয় তাহলে ভেবে দেখ দেশের অবস্থা কী হতে পারে?

দেশে বর্তমান চলছে প্রতিহিংসাপরায়ণতার রাজনীতি। “ধরো, মারো, খাও” কনসেপ্টের মধ্যে দিয়ে পুরো অ্যাডমিনিস্ট্রেশন চলছে। শিক্ষা প্রশিক্ষণে ভণ্ডামি এবং গুণ্ডামিতে ভরা। সরকার গণতন্ত্রের নামে একনায়কতন্ত্রের পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে। নীতি এখন দুর্নীতির জালে ধরা পড়েছে বিধায় বর্তমান যে দুর্নীতি না করছে তাকে আনস্মার্ট বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।
খুন, ধর্ষণ, জেল-হাজত না খাটলে স্বনামধন্য রাজনীতিবিদ বা ফুলের মত পবিত্র চরিত্রের অধিকারী হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বড় লোক চলছে তাদের গতিতে এবং তারা তাদের স্বভাব পরিবর্তন করতে রাজি নয় বরং যেমন আছে তেমন থাকতে পছন্দ করছে।

গরিব তার দিন মজুরিতে বেশ খুশি আছে এখনকার পরিবেশে। বেচারা মধ্যবিত্তের হয়েছে মরণদশা। তারা না পারছে হাত পাততে, না পারছে কারো হাতে কিছু দিতে। চরম হতাশার মাঝে হাবুডুবু খাচ্ছে তারা।

এমতাবস্থায় তুমিই বল আমার কী করণীয় থাকতে পারে? আপন যখন পর হতে শুরু করেছে শুধুমাত্র অর্থ আর লোভের স্বার্থে তখন তাকে একমাত্র চিরতরে ভুলে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকতে পারে না। আর তাই আমার সিদ্ধান্তে আমি অটল রয়েছি।

তোমার নীরবতার মাঝে আমার জীবনের ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো তোমার সঙ্গে শেয়ার করলাম শুধু তোমার অবগতির জন্য। মানুষের অন্যায় অত্যাচার দেখেও নিঃশব্দে নীরবে তুমি দিয়ে চলেছো।
তুমি আমাদের নৈতিকতা এবং মানবতার পতন দেখেও চুপ করে রয়েছো।

বসুমতী সত্যিই তুমি বড়ই অকৃপণ।
আমি জানি তুমি মনে কিছুটা কষ্ট পেয়েছ, একইসঙ্গে তুমি আমাকে বুঝতেও পেরেছ। তোমার অকৃপণ ভালোবাসার মাঝে আমাকে দিয়েছো ঠাঁই, তাই তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।

যুক্তরাজ্যে জাবির সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সূবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ সময় গত ৬জুন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক জহির মোহাম্মদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব পারভেজ মল্লিকের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম, রানা ইসলাম, মনির মোহাম্মদ জামান।

এছাড়াও অন্যান্য জাবিয়ানদের মধ্যে সভায় উপস্থিত ছিলেন – উদযাপন কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ওয়াকারুল আমিন রনি, আসমা পারভীন মুক্তা,চৌধুরী নিয়াজ মাহমুদ লিংকন ,আলীম আল রাজী, অর্থ উপকমিটির আহ্বায়ক হাবীবে আলম চৌধুরী, দপ্তর উপকমিটির আহ্বায়ক মতিয়ার রহমান মতিন, সাংস্কৃতিক উপ কমিটির আহ্বায়ক মাহাবুবা নাজরীনা জেবিন, সদস্য সচিব ফারহানা করিম খান একা প্রমুখ।

সভায় জাবিয়ানরা প্রত্যেকে নিজস্ব মতামত প্রদানসহ অনুষ্ঠানের সার্বিক অগ্রগতির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।

সভায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো সম্বলিত কলম, চাবির রিং, কোট পিনসহ উপহার সামগ্রীর মোড়ক উন্মোচন করা হয় এবং টিশার্টের অগ্রগতি সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়।

সভায় বক্তারা ২৫শে জুন যুক্তরাজ্যের জাবিয়ানদের বৃহৎ মিলনমেলা সংগঠিত হওয়ার আশা প্রকাশ করেন এবং লন্ডনের সকল জাবিয়ানদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

রাসুলকে (সা.) ভালোবাসা ঈমানের আলামত

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন: (হে নবী) আমি তোমাকে সারা জগতের জন্য রহমত বানিয়ে পাঠিয়েছি। (সুরা আম্বিয়া, আয়াত ১০৭)

এই রহমতের নবীর প্রতি উম্মতের সবচেয়ে বড় হক হলো তাকে মন ও মনন দিয়ে ভালোবাসা। তার প্রতি ভালোবাসা যেন আর সব ভালোবাসার ঊর্ধ্বে হয়। এমনকি জান ও প্রাণের চেয়ে যেন তিনি প্রিয় হন। ভালোবাসা যেন এমন তীব্র হয়— আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর মামুলি আরামের জন্য হাজারবার জান কোরবান দিতে দ্বিধা না থাকে।

এই ভালোবাসা ঈমানের আলামত। খোদ আল্লাহর রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না তার কাছে আমি তার পিতামাতার চেয়ে, সন্তানাদির চেয়ে এবং সমস্ত মানুষের চেয়ে প্রিয় না হবো। (বুখারি, হাদিস : ১৫)

মুমিনের জন্য ভালোবাসার মূল কেন্দ্র স্বয়ং আল্লাহ পাক, তারপর হজরত মুহাম্মদ (সা.)। আর বাকি দুনিয়ার যতো প্রেমময় মানুষ আছে, যতরকমের ভালোলাগার জিনিস আছে— সবকিছুর অবস্থান দ্বিতীয়তে। এই থেকে বোঝা যায় আল্লাহর রাসুলকে ভালোবাসা আমাদের প্রত্যেকের জন্য ওয়াজিব। কেননা দুনিয়াতে ভালোবাসার যতো কিছু আছে তার সবই তার কারণে প্রেমময়।

পবিত্র কুরআনে তাই আল্লাহ পাক এরশাদ করেন, নবীর ওপর মুমিনদের জানের চেয়ে বেশি হক আছে। (সুরা আহজাব, আয়াত : ৬) অর্থাৎ যেই ব্যক্তি নিজের জান-মাল ও প্রবৃত্তির ওপর তার প্রতি ভালোবাসাকে প্রাধান্য দিতে না পারবে, বোঝা যাবে তার ঈমানে ঘাটতি আছে।

একবার হজরত ওমর ফারুক (রা.) রাসুলকে (সা.) বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আপনি আমার কাছে সবকিছুর চেয়ে বেশি প্রিয়, কেবল আমার জান ছাড়া।’ রাসুল (সা.) বলেন, ‘না (একথা সত্য নয়), আল্লাহর কসম যার হাতে আমার প্রাণ, ওইসময় পর্যন্ত (সত্য) নয়, যতক্ষণ না কারও কাছে আমি তার জানের চেয়ে বেশি প্রিয় হবো।’

রাসুল (সা.)-এর মুখ থেকে এই কথা ওমর (রা.)-এর মনে বিদ্যুতের মতো স্পর্শ করল, এবং তার মন ওই সময়ই বদলে গেল। তিনি বললেন, ‘খোদার কসম, আপনি আপনি আমার জানের চেয়ে বেশি প্রিয়।’ রাসুল (সা.) বললেন, ওমর, এক্ষণে তোমার ঈমান পরিপূর্ণ হলো। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৬৩২)

আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার ফায়দা অফুরান। এরমধ্যে সবচেয়ে বড় ফায়দা হলো— প্রেমিক মানুষ তার প্রেমাস্পদকে (রাসুলকে) খুশি করতে প্রতিনিয়ত জান কুরবান দিতে পারে, এভাবে রসুলের আনুগত্য সহজ হয়ে যায়।

দ্বিতীয় বড় ফায়দা হলো— প্রত্যেক প্রেমিকের জন্য রয়েছে সুসংবাদ, যেই সুসংবাদ স্বয়ং আল্লাহর রাসুল (সা.) দিয়ে গেছেন : মানুষের হাশর-নাশর তার সাথেই হবে যাকে সে ভালোবাসে।

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, এক সাহাবি রাসুলের দরবারে এসে জিজ্ঞেস করেন— ‘কিয়ামত কবে?’ রাসুল (সা.) জানতে চাইলেন ‘তুমি এর জন্য কী কী প্রস্তুতি নিয়েছ?’, সাহাবি বললেন, ‘আমি অধিক পরিমাণে নামাজ রোজা জাকাত সদকা আদায় করে কোনো প্রস্তুতি তো নিতে পারিনি, কিন্তু আল্লাহ ও তার রাসুলের প্রতি আমার ভালোবাসা আছে।’ রাসুল (সা.) তখন বললেন, ‘তুমি তার সাথেই থাকবে যাকে তুমি ভালোবাসো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ৬১৭১)

সাহাবি বলেন, এই সুসংবাদের পর আমি এত খুশি হয়েছি, ইসলাম গ্রহণের পর অন্যকিছুতে এত খুশি হইনি।

হজরত সফওয়ান বিন কুদামাহ (রা.) বলেন, আমি হিজরত করে আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর দরবারে হাজির হই। আমি আরজ করি— হে আল্লাহর রাসুল, আপনার হাত দিন, আমি বায়আত গ্রহণ করব। আল্লাহর রাসুল (সা.) তার হস্ত মোবারক বাড়িয়ে দিলেন। আমি বললাম, হে রাসুল, আমি আপনাকে ভালোবাসি। তখন তিনি বললেন, ‘মানুষ যাকে ভালোবাসবে, তার সাথেই সে থাকবে।’

এরকম আরও একটি হাদিস আছে। এক সাহাবি রাসুলের দরবারে হাজির হয়ে বলেন— ‘হে নবী, আপনি আমার সবচেয়ে ভালোবাসার মানুষ। আপনাকে যখন মনে পড়ে, আমি সইতে পারি না, ছুটে আসি আপনার খেদমতে। যখন আমার ও আপনার মৃত্যুর পরের কথা মনে আসে, তখন আমি ভাবি আপনি নিশ্চয় জান্নাতে সর্বোচ্চ সম্মানে সুউচ্চ আসনে অবস্থান করবেন। আমি যদি জান্নাতে যাই, তাহলে আপনাকে কীভাবে দেখব?’

এসময় আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাজিল করেন— ‘যারা আল্লাহ ও তার রসুলের আনুগত্য করবে, তারা তাদের সাথে থাকবে নবী সিদ্দিক শহীদ ও নেককারদের মধ্যে আল্লাহ যাদেরকে পুরস্কৃত করেছেন, আর সাথী হিসাবে তারা কতই-না সুন্দর।’ (সুরা নিসা, আয়াত ৬৯) এরপর আল্লাহর রাসুল (সা.) ওই সাহাবিকে ডেকে এই আয়াত শোনান।

প্রকৃত ভালোবাসার প্রথম আলামত হলো প্রেমিক আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর কাজকে নিজের সবকাজের ওপর প্রাধান্য দিবে। তার পূর্ণ আনুগত্য করবে। সুন্নতের গুরুত্ব দিবে। নিজের কুপ্রবৃত্তি রসুলের বিধানের আলোকে দমন করবে।

একবার রাসুল (সা.) হজরত আনাসকে (রা.) উদ্দেশ্য করে বলেন— বেটা, তুমি যদি পারো তাহলে অবশ্যই এমনভাবে সকাল-সন্ধ্যা পার করবে যে, তোমার মনের মধ্যে কারও প্রতি ঘৃণাবোধ থাকবে না। কেননা এটাই আমার পথে চলার নিয়ম। আর যে ব্যক্তি আমার পথকে উজ্জীবিত করে, সে (প্রকৃতপক্ষে) আমাকেই ভালোবাসে। আর যে আমাকে ভালোবাসে, জান্নাতে সে আমার সাথে থাকবে। (সুনানু তিরমিজি, হাদিস ২৮৯৪)

এটাও ভালোবাসার লক্ষণ যে রাসুল (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে বেশি বেশি আলোচনা করা, তার সাথে সাক্ষাতের আশা রাখা, এবং উঠতে-বসতে দরুদ পাঠ করা।

আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর সাথে সম্পর্ক রাখেন এমন মানুষদের ভালোবাসাও তাকে ভালোবাসার আলামত। সাহাবায়ে কেরাম, আহলে বাইত, বিশেষ করে চার খলিফা, হজরত হাসান ও হুসাইন, মুমিনদের মা (রাসুলের স্ত্রীগণ), ও রাসুল (সা.)-এর মেয়েদের প্রতি অন্তরের অন্তস্তল থেকে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রাখাও ঈমানি দায়িত্ব।

আল্লাহর রাসুল (সা.) নিজেই সাহাবিদের প্রতি ভালোবাসা রাখা ঈমানের আলামত ও শত্রুতা বা ঘৃণা রাখাকে মোনাফেকি বলেছেন।
হজরত হাসান ও হুসাইন (রা.) সম্পর্কে তিনি বলেন, ইয়া আল্লাহ, আমার এই দুইজনের প্রতি ভালোবাসা আছে, আপনিও তাদেরকে ভালোবাসুন।

হজরত আনাস (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসুলকে (সা.) দেখেছি লাউ পছন্দ করতে, তারপর থেকে আমারও লাউ ভালো লাগতে শুরু করে। এটাও ভালোবাসার আলামত যে, রসুলের সাথে সম্পর্কযুক্ত সবকিছুর প্রতি ভালোবাসা থাকা। তিনি যেই শহর ভালোবাসতেন, তার জন্যে জান উৎসর্গ করার মন থাকা, তার প্রতিটি বালুকণার প্রতি ভালোবাসা রাখা— এই সবই পারতপক্ষে রাসুলকে ভালোবাসারই নিশানা।

রাসুল (সা.)-এর প্রত্যেক উম্মতের প্রতি ভালোবাসা থাকাও তাকে ভালোবাসার নিদর্শন। তার উম্মতের প্রতি আন্তরিকতা থাকা এবং তাদের সুপথে ডাকা।

মোদ্দাকথা, রাসুলকে (সা.) ভালোবাসা ঈমানের অংশ ও ঈমানদারের আলামত। এই ভালোবাসা হৃদয়ের গহীন থেকে উৎসারিত, কেবল লোকদেখানো ভালোবাসা নয়। যারা আল্লাহর রাসুলকে (সা.) ভালোবাসে, আল্লাহ তাদের সম্পর্কে কোরআনে ঘোষণা দেন— ‘তারা আল্লাহর দল, মনে রেখো, নিশ্চয় আল্লাহর দলের লোকেরাই সফল।’ (সুরা মুজাদালাহ, আয়াত ২২)

তো আমরা যদি প্রকৃতপক্ষেই ঈমানদার হতে চাই, ইহকাল ও পরকালে কামিয়াব হতে চাই, তাহলে আমাদের উচিৎ আল্লাহর রাসুল (সা.)কে জানা, এবং সব ভালোবাসার ঊর্ধ্বে তার ভালোবাসা প্রাধান্য দেওয়া— হাদিসে পাকে খোদ আল্লাহর রাসুল (সা.) যেভাবে নির্দেশ করেছেন। আল্লাহ আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন।