সোমবার ,১৮ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 273

ইউক্রেনের আরও ৩ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে রাশিয়া

ইউক্রেনের আরও তিনটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। দেশটির দুটি শহরে স্থানীয় সময় শনিবার দুপুরে এসব বিমান ভূপাতিত করার ঘটনা ঘটেছে।

রুশ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিকোলায়িভ অঞ্চলে দুটি মিগ-২৯ বিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। আর খারকিভ অঞ্চলে ভূপাতিত করা হয়েছে একটি এসইউ-২৫ যুদ্ধবিমান। খবর রয়টার্সের।

তবে এ বিষয়ে ইউক্রেনের তাৎক্ষণিক বক্তব্য জানা যায়নি। ইউক্রেনে রাশিয়ার দখলে থাকা খেরসন ও মারিউপোল শহরের বাসিন্দাদের পাসপোর্ট দিচ্ছে রুশ সরকার।
শনিবার এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো খেরসনের ২৩ বাসিন্দার হাতে পাসপোর্ট তুলে দেওয়া হয়।

রুশ সংবাদ সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, খেরসনের হাজারো বাসিন্দা রাশিয়ার পাসপোর্ট পেতে আবেদন করেছিলেন। খেরসনে রাশিয়ার নিযুক্ত সামরিক গভর্নর ভলোদিমির সালদো বলেছেন, শহরটির বাসিন্দারা যত দ্রুত সম্ভব রাশিয়ার নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট পেতে আগ্রহ দেখিয়েছেন।

পাসপোর্ট সরবরাহে রাশিয়ার পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির ভাষ্য, রুশ পাসপোর্ট দেওয়ার মাধ্যমে ইউক্রেনের বাসিন্দাদের রাশিয়ার নাগরিক বানানো হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতার ‘প্রকাশ্য লঙ্ঘন’ করা হয়েছে।

রাশিয়া গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা শুরু করে। এ যুদ্ধে রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি ইউরোপের দেশগুলো।

ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ সেনাদের হাতে সবার আগে পতন হয়েছিল দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরনগরী খেরসনের। শহরটিকে যত দ্রুত সম্ভব নিজের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে মস্কো।

যুক্তরাষ্ট্রের শহরে শহরে বিক্ষোভ

অস্ত্র আইন কঠোর করার দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের শহরে শহরে বিক্ষোভ হয়েছে।

‘বন্দুক হামলা থেকে মুক্তি চাই’- এ স্লোগানকে সামনে রেখে অস্ত্র আইন কঠোর করার দাবিতে রাজপথে নেমেছেন যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ মানুষ। খবর বিবিসির।

ওয়াশিংটন ডিসিসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে শনিবার রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন লাখো মানুষ। বিক্ষোভকারীদের দাবি, আর দেরি নয়, এখনই আইনটি বাস্তবায়নের সময়।

সম্প্রতি টেক্সাস ও নিউইয়র্কে বড় দুটি বন্দুক হামলায় হতাহতের ঘটনায় অস্ত্র আইন কঠোরের দাবি উঠেছে দেশজুড়ে।

রাজপথের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে কংগ্রেসকে বন্দুক সুরক্ষা আইন পাসের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক বন্দুক হামলার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে দেশটির সাধারণ মানুষ। তারা বলেন, এবার অস্ত্র আইন কঠোর করার সময় এসেছে।

গত ২৪ মে টেক্সাসের এক প্রাইমারী স্কুলে বন্দুকধারীর গুলিতে ১৯ শিক্ষার্থী নিহত হয়। এর আগে নিউইয়র্কে গুলিতে ১০ জন নিহত হন। আরও কয়েকটি রাজ্য বিচ্ছিন্ন বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে।

সম্প্রতি বন্দুক হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় আন্দোলনে নেমেছেন সাধারণ মানুষ।

এ ধরনের হামলা বন্ধে মার্চ ফর আওয়ার লাইভস নামের একটি সংগঠন ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলস এবং শিকাগোসহ ৪৫০টি স্থানে সমাবেশ করার কথা জানিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় ২৪ সংস্থার ঋণ ৪৮ হাজার কোটি টাকা

রাষ্ট্রীয় ৩০টি করপোরেশনের মধ্যে ২৪টির কাছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ ৪৮ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছে। আলোচ্য সময়ে প্রতিষ্ঠানটির ঋণ ৮৯৭৫ কোটি টাকা। বিভিন্ন বিদ্যুৎ প্রকল্পে ঋণ নেওয়ায় এ অবস্থায় দাঁড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঋণী প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ৮০৫৬ কোটি টাকা। এসব ঋণের উল্লেখযোগ্য অংশই খেলাপি। অর্থাৎ ঋণ নিয়ে তারা বছরের পর বছর পরিশোধ করতে পারছে না। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরে (২০২১-২২) ১২টি প্রতিষ্ঠানের লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০০৪ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয় প্রকাশিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিভিন্ন কারণে সরকারি করপোরেশনগুলোর ঋণ ব্যবহারে বড় ধরনের দুর্নীতি রয়েছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত রাজনৈতিক প্রভাব, কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় ট্রেড ইউনিয়নের হস্তক্ষেপ, অধিক জনবল নিয়োগ, ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা, মানসম্মত পণ্য উৎপাদনে ব্যর্থতা এবং মাত্রাতিরিক্ত ব্যয় অন্যতম। তবে তাদের মতে, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করেও এখানে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফলে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের পক্ষে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।

জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দেশের অর্থনীতিতে রাষ্ট্রীয় করপোরেশনগুলোর দায়দেনা ও লোকসানের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কখনোই বিষয়টিকে জোরালোভাবে দেখা হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, সংস্থাগুলোর লোকসান অব্যাহতভাবে বাড়ছে। তারা ঋণ নিয়ে আর পরিশোধ করে না। এদের রাজস্ব দায়বদ্ধতা লাখ লাখ কোটি টাকা। সংস্থাগুলো কীভাবে লাভজনক করা যায়, এ বিষয়ে বাজেটে দিকনির্দেশনা থাকা উচিত। তিনি বলেন, এ খাতে এত বেশি লোকসান না দিলে টাকাগুলো উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার করা যেত।

কোন প্রতিষ্ঠানের কত ঋণ : অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্যে দেখা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ২৪ কোম্পানির ঋণ ৪৮ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ৮৯৭৫ কোটি টাকা, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের ৮৩৫৬ কোটি, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ ৭৯৯৮ কোটি, চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন ৭৪৭৮ কোটি, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ৫২৫৫ কোটি, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের ৫০৬৬ কোটি, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ ১০৪৭ কোটি এবং বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের ১০৪৭ কোটি টাকা । এছাড়াও যেসব প্রতিষ্ঠানের কাছে ঋণ রয়েছে সেগুলো হলো বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ৬৭৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশন ৯৭ কোটি, বাংলাদেশ চা বোর্ড ৯ কোটি ৬৩ লাখ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ৫৬৭ কোটি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ৪৬৬ কোটি, বিআরসিটি ৫৭ লাখ, বিআইডব্লিউটিসি ৫৮৩ কোটি, ঢাকা ওয়াসা ১৫ কোটি, বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন ৮৭৭ কোটি, বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন ২০০ কোটি এবং টেক্সটাইল মিল করপোরেশনের ২৪ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আবার ১৪টি ঋণখেলাপি। এগুলো হলো বিটিএমসি, চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন, বিসিআইসি, বিজেএমসি, বিআরটিসি, বিপিসি, টিসিবি, বিএডিসি, বাংলাদেশ চা বোর্ড এবং পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১২টি প্রতিষ্ঠানের লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে পিডিবির লোকসান ১৮৯৫ কোটি টাকা, টিসিবি ১১৫৮ কোটি, চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন ৮৮২ কোটি, বিসিআইসি ৫৫২ কোটি, বিআরসিটি ১০০ কোটি, বিআইডব্লিউসিটি ১২ কোটি, বিআইডব্লিউটিএ ৪৬ কোটি এবং বিএফডিসির লোকসান ২২ কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিভিন্ন কারণে সরকারি শিল্প করপোরেশন লোকসান দেয়। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব, ট্রেড ইউনিয়নের অযাচিত হস্তক্ষেপ, অধিক জনবল নিয়োগ, ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা, পেশাদারত্বের অভাব, মানসম্মত পণ্য উৎপাদনে ব্যর্থতা ও অধিক উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য। এ ব্যাপারে মির্জ্জা আজিজ আরও বলেন, কোম্পানি লাভজনক হওয়ার জন্য উন্নত ব্যবস্থাপনা দরকার। আর ব্যবস্থাপনায় সংকট থাকলে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার পরও কোম্পানি লাভজনক হতে পারবে না। তিনি বলেন, কোনো কোম্পানির হিসাবেও ঝামেলা রয়েছে। কিন্তু কোম্পানি লিস্টেড হলে তার হিসাব স্বচ্ছ থাকে। অন্যদিকে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা উন্নয়ন অন্বেষণ বলছে, এ ধরনের করপোরেশনের ব্যাপারে মানুষের আস্থা নেই। ফলে আস্থা পুনরুদ্ধার ছাড়া কোম্পানি লাভজনক হওয়ার সম্ভাবনা কম। সংস্থাটি মনে করছে, সরকারি প্রতিষ্ঠান লাভজনক করতে সরকারের মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিচালনা করা হবে।

কমছে ৩৫০০ কোটি টাকা

কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসাবে সরকারি চাকরিজীবীরা আগামী অর্থবছরে গৃহনির্মাণ ঋণ কম পাবেন। একইভাবে হাত দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন সম্মানি ও বিশেষ ব্যয়ের ক্ষেত্রে। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে যে অনুদান দেওয়া হতো, আগামী বছর তা কমানো হবে। যে কারণে অর্থবছরের শুরুতেই এ খাতে ব্যয় কর্তন করে নতুন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এভাবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বের ১৩টি খাত থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করবে সরকার। এজন্য ওইসব খাতে নতুন অর্থবছরে বরাদ্দ কমানো হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেট (২০২২-২৩) বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

সরকারের সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈশ্বিক সংকটের কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে কয়েকটি পণ্যে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও কৃষকের সার। এই চারটি পণ্যে আগামী অর্থবছরে ভর্তুকি ব্যয় অনেক বেশি বাড়বে। চলতি অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় করা হচ্ছে ৬৬ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা, যা আগামী অর্থবছরে এসব খাতে ভর্তুকি গুনতে হবে ৮২ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ বেশি ভর্তুকি ব্যয় করতে হবে ১৪ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। তবে আগামী অর্থবছরের শেষদিকে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ভর্তুকি বাড়তে পারে-এমন আশঙ্কা করছে অর্থ বিভাগ। কারণ ভর্তুকি নির্ধারণ করা হয়েছে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারের পণ্যের মূল্যকে ভিত্তি ধরে। কিন্তু এই মূল্য অর্থবছরের শেষদিকে ঠিক নাও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে আরও বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে। এই ভর্তুকি ব্যয় মেটাতে সরকার অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে কৃচ্ছ্রসাধনের পথে হাঁটছে। এতে কম গুরুত্বপূর্ণ খাতে অর্থ সাশ্রয় করে ভর্তুকিতে সংস্থান করা যাবে।

সূত্র আরও জানায়, কৃচ্ছ্রসাধন ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেওয়া হবে। বিশেষ করে যেসব প্রকল্প থেকে রাজস্ব আহরণ হবে এবং রাজস্ব আহরণে কাজে আসবে, সে প্রকল্পগুলোয় অর্থায়ন বাড়ানো হবে। পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ বা রাজস্ব আয়ে কাজে আসবে না এমন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেওয়া হবে। এমন সিদ্ধান্ত আগামী অর্থবছরের প্রথম জুলাই থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়েছে অর্থ বিভাগ।

জানা যায়, আগামী অর্থবছরে উল্লিখিত খাত ছাড়া আরও যেসব অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ খাত থেকে ব্যয় সাশ্রয় করার হবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার আওতায় ফি ও চার্জ প্রদান, মুদ্রণ ও মনিহারি ক্রয়, বিশেষ ব্যয়, পরিবহণ ও যন্ত্রপাতি কেনাকাটা, অন্যান্য যন্ত্রপাতি ক্রয়, চাষকৃত জৈব সম্পদ, উইপেন সিস্টেম, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাসামগ্রী সরবরাহ, মূল্যবান দ্রব্যাদি, রেলওয়ে কন্টিনেন্টাল সাসপেন্ট স্টোর। আগামী বছরের কৃচ্ছ্রসাধন প্রসঙ্গে অর্থ সচিব (সিনিয়র) আবদুর তালুকদার বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আগামী অর্থবছরে কৃচ্ছ্রসাধন করা হবে। সরকারি পর্যায়ে এরই মধ্যে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী পহেলা জুলাইয়ের পর আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা হবে। স্বল্পগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এ বছর না হয়ে পরবর্তী বছরে পিছিয়ে দেওয়া হবে।

সূত্রমতে, প্রতিবছর সরকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সাধারণ অনুদান দেয়। চলতি বছর অনুদানের অঙ্ক ৪৮ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে এ খাতে বড় ধরনের বরাদ্দ কমানো হচ্ছে। এ খাতে ১ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা কমিয়ে বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে ৪৬ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকা।

একইভাবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার জন্য পরিবহণ কেনাকাটায় বরাদ্দ কমছে ১৩৫ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৮ হাজার ৮০ কোটি টাকা। বর্তমানে এ খাতে বরাদ্দ আছে ৮ হাজার ২১৫ কোটি টাকা।

এছাড়া বরাদ্দ কমানো হয়েছে পরিবহণ যন্ত্রপাতি কেনাকাটায়। এ খাতে ৩৫৪ কোটি টাকা কমানো হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে। বর্তমানে অন্যান্য যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় বরাদ্দ আছে ২ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা, যা আগামী অর্থবছরে এ খাতে রাখা হয়েছে ২ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা। যন্ত্রপাতির বড় একটি অংশ আমদানি হয় বিদেশ থেকে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে এ খাতে কম আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ বিভাগ।

মুদ্রণ ও মনিহারি পণ্য সব মন্ত্রণালয়কে কেনাকাটা করতে হয়। তবে এটি আগামী বছর কম কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে মুদ্রণ ও মনিহারি পণ্য কেনাকাটায় ৮৩ কোটি টাকা কম দেওয়া হয়েছে। নতুন অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয় ২ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা, যা বর্তমান বরাদ্দ আছে ২ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা।

সরকারি প্রশিক্ষণ, সেমিনার, ওয়ার্কশপ, বিদেশ ভ্রমণ ও কর্মশালাসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে সম্মানি দেওয়া হয়। আগামী দিনে এ খাতে ব্যয় কমানো হবে প্রায় ২৩৩ কোটি টাকা। এমন সিদ্ধান্ত থেকে সম্মানিতে ৬১৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ আছে ৮৫২ কোটি টাকা।

এছাড়া বিশেষ ব্যয় খাত রয়েছে। প্রতিটি মন্ত্রণালয় এ খাত থেকে বিশেষ প্রয়োজনে ব্যয় করতে পারবে। এমন খাত থেকে আগামী দিনে ২৫৪ কোটি টাকা কমানোর লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরে আছে ১ হাজার ৭১১ কোটি টাকা।

বিভিন্ন ধরনের ফি ও চার্জ বাবদ ৯৭ কোটি টাকা ব্যয় কম করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে আগামী বছরে। ওই হিসাব মাথায় রেখে আগামী দিনে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয় ১ হাজার ৪৫৬ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরে আছে ১ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা।

আরও যেসব খাত থেকে সাশ্রয় করা হবে এর মধ্যে রয়েছে ইউপেন সিস্টেম থেকে ১২৫ কোটি টাকা, রেলওয়ে কন্টিনেন্টাল সাসপেন্ট স্টোর থেকে ৭৫ কোটি, সরকারি চাকরিজীবীদের গৃহনির্মাণ ঋণ থেকে ৬৩ কোটি, মূল্যবান দ্রব্যাদি থেকে ২৭ কোটি, চাষকৃত জৈব সম্পদ থেকে ১৩ কোটি, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাসামগ্রী সংগ্রহ থেকে ১৭ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, বৈশ্বিক সংকট (রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বিশ্ববাজারে পণ্যের বর্ধিত মূল্য) এবং দেশের ভেতর মূল্যস্ফীতি চাপ অর্থনীতিকে ঝাঁকুনি দিয়েছে। ফলে অর্থনীতি এখন অগ্রাধিকার দেওয়া হবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানুষের আয় বৃদ্ধি অব্যাহত রেখে প্রণোদনার কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়ন করা। এর মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি ভর্তুকির বর্ধিত মূল্য সংস্থান করতে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে আরও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাস করা হবে।

ন্যাপের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক আজ

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার অংশ হিসেবে বিএনপি আজ বসবে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ভাসানী (ন্যাপ ভাসানী) নেতাদের সঙ্গে।

সন্ধ্যা ৭টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এ আলোচনায় উপস্থিত থাকবেন।

বিএনপি নেতা আলালকে বিমানবন্দর থেকে ফেরত

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে মেডিকেল চেকআপের জন্য বিদেশ যেতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার সকালে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে তাকে কোনো কারণ না দেখিয়েই আটকে দেওয়া হয় বলে যুগান্তরকে জানান মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

গত বছর ভারতের একটি হাসপাতালে কিডনির টিউমার অপারেশন শেষে গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন আলাল। নিয়মিত মেডিকেল চেকআপের জন্য আজ সকালে ভারতে যাওয়ার কথা ছিল তার।

এ বিষয়ে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, হাইকোর্টের কাগজপত্র ও চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও আমাকে যেতে দেওয়া হয়নি। আমি একজন অসুস্থ রোগী বলার পরও উপরের নির্দেশ আছে জানিয়ে আমাকে তারা যেতে দেননি। কেন যেতে দেওয়া হবে না—ইমিগ্রেশন থেকে কোনো কারণও বলা হয়নি, কোন লিখিত কাগজও দেওয়া হয়নি। বরং আমি সব কাগজপত্র ইমিগ্রেশনে জমা দিলেও সোয়া দুই ঘণ্টা বসিয়ে রেখে বিমানবন্দর থেকে বিদায় দেওয়া হয়েছে।

সীতাকুণ্ডের আগুনে আরও একজনের মৃত্যু

সীতাকুণ্ডের ডিপোতে আগুন নেভাতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে আট দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন ফায়ারম্যান গাউসুল আজম (২৩)।

শনিবার রাত ৩টা ১৩ মিনিটে রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

গাউসুল আজম যশোরের মনিরামপুরের খাটুয়াডাঙ্গা গ্রামের আজগর আলীর ছেলে।

গত ৪ জুন রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ডিপোতে আগুন নেভাতে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি অগ্নিদগ্ধ হন। তার শরীরের ৭৫ ভাগ পুড়ে যায়। নেওয়া হয় শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে। সেখানে লাইফসাপোর্টে রাখা হয়।

ইনস্টিটিউট প্রধান সামন্ত লাল সেনের তত্ত্বাবধায়নে চলতে থাকে চিকিৎসা। অবশেষে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান গাউসুল আজম।

হাসপাতালে সার্বক্ষণিক সঙ্গে থাকা গাউসুল আজমের ভগ্নিপতি মিজানুর রহমান জানান, অবস্থার অবনতির খবর পেয়ে তিনি ভেতরে যাওয়ার ১০-১৫ সেকেন্ড পর তার শ্যালক মারা যান।

সীতাকুণ্ডে বিএম ডিপোতে ৪ জুন রাত ১০টার দিকে আগুন লাগে। চার দিন পর আগুন নেভে। এ ঘটনায় গাউসুল আজমকে নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০ কর্মীর মৃত্যু হলো। আর নিহতের সংখ্যা প্রায় অর্ধশত।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন: ২৫ জুনের এসএসসি পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আগামী ২৫ জুনের এসএসসি পরীক্ষা (ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র) ২৪ জুন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় মনিটরিং ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির সভা শেষে এ কথা জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী ওই দিন সাধারণ ৯ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসির ইংরেজি (আবশ্যিক) দ্বিতীয় পত্র, মাদ্রাসা বোর্ডের দাখিলের বাংলা দ্বিতীয় পত্র এবং কারিগরি বোর্ডের ভোকেশনালের এসএসসি ও দাখিলের গণিত পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। সেটি আগের দিন অর্থাৎ ২৪ জুন আয়োজন করা হবে।

তিনি বলেন, শুধু একটি পরীক্ষার সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। অন্য সব পরীক্ষা নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী আয়োজন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের প্রবেশ করতে হবে। যদি কেউ পরে প্রবেশ করে তবে গেটে রেজিস্ট্রার খাতায় দেরির কারণ উল্লেখ করে ভেতরে প্রবেশ করতে হবে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ মিনিট বাড়তি সময় দেওয়া হবে।

দীপু মনি বলেন, ২০২২ সালের সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে এ পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষার সময় তিন ঘণ্টার বদলে দুই ঘণ্টা (এমসিকিউ ২০ মিনিট ও সিকিউ ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট) করা হয়েছে। পরীক্ষা শেষে ৬০ দিনের মধ্যে এ পরীক্ষা ফল প্রকাশ করা হবে।

সরকারের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন হবে।

অভিবাসনের সুখ-বিড়ম্বনা!

সময়ের কর্মসূচি সময়ে শুরু হয়, এটি দেখে আমরা মোটেও অভ্যস্ত নই। অফিস সময় ৮টায় হলে যেমন আমাদের অফিস পৌঁছতে দেরি হয়, আবার ১০টা হলেও একই দশা হয়। দুটোর মিটিং দুটো বাজেই শুরু করা আমার দেশে স্বাভাবিক ঘটনা নয়। অগত্যা কোন দুর্বিপাকে প্রশ্নের মুখে পড়লে অনুযোগ-অজুহাতের তো কোনো ঘাটতিই নেই। কখনো যানজট, কখনো অপ্রত্যাশিত কারণে যানবাহন নাই, এমন নানা বাহানার তো কোন অভাব নেই। এভাবে যুগ যুগ কাটিয়ে, নিয়ম নীতির দেশে এসে সময়ের সাথে পাল্লা দেয়া নিতান্তই কঠিন। এ দেশে কাজের ধরন ভেদে, বিনা এপয়েন্টমেন্টে অফিস, আদালত, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় কাজে সংশ্লিষ্টদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ এর সুযোগ যেমন আছে আবার পূর্ব থেকে এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে দেখা-সাক্ষাৎ এর বিধান ও আছে। তবে সর্ব ক্ষেত্রেই জরুরি প্রয়োজন ব্যতিরেকে এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে দেখা সাক্ষাতকেই উৎসাহিত করা হয়।

এ দেশে দর্শনার্থীদের বেশ সম্মানের সাথে দেখা হয়। তাই কাজের রকমফেরে, এপয়েন্টমেন্ট এর সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। দায়িত্ব প্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ( কর্মকর্তা শব্দটির পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম ব্যবহৃত হয়) দর্শনার্থীকে সন্তুষ্ট করতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যান। মনে হয় সেবা গ্রহীতার সন্তুষ্টির উপরই চাকরির ভাগ্য নির্ভরশীল, সেটি কোন সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হোক আর ব্যবসা, বানিজ্যের প্রতিষ্ঠান ই হোক। গ্রাহক সেবায় এখানে কার্পণ্যের কোন সুযোগ নেই। কোন সেবা গ্রহীতা অনিবার্য কারণ ছাড়া এপয়েন্টমেন্ট এ গড় হাজির হলে বিষয়টি তাদের খুব অপছন্দ হয়। কাকুতি মিনতি আর তদ্বিরের কোন সুযোগ এখানে নেই। ছেলের ভ্যাক্সিনেশন এর এপয়েন্টমেন্টে গড় হাজির হওয়া থেকে বিষয়টি অনুধাবনের সুযোগ হলো।

আগের পর্বে দুটো অতি গুরুত্বপূর্ণ দলিল নিয়ে আলোচনা করেছিলাম, যার একটি সিন (SIN) কার্ড আর অপরটি হেলথ কার্ড। এ দেশে হেলথ্ কার্ডধারী প্রত্যেকেই ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান বা পারিবারিক চিকিৎসক পাওয়ার অধিকার রাখেন। এক্ষেত্রে ব্যাক্তি তার পছন্দ অনুযায়ী ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান হিসেবে যে কোন লাইসেন্সধারী প্রফেশনাল চিকিৎসককে বেছে নিতে পারেন। তবে চিকিৎসকরা একটা নির্ধারিত সংখ্যার বেশি মানুষের ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান হতে পারেন না। তাই পছন্দসই চিকিৎসকের কোটা না থাকলে পরবর্তী পছন্দক্রমে যেতে হয়। তবে প্রত্যেক ফিজিশিয়ান বা চিকিৎসক-ই স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃক আরোপিত বিধিমালা কে কঠোরভাবে অনুসরণ করেন। ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান তার অফিসে রেজিষ্ট্রিকৃত সকল রোগীর স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য উপাত্ত সংরক্ষণ করেন। তবে যে কোন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সমস্যায় পারিবারিক চিকিৎসকের কাছেই যেতে হবে বিষয়টি মোটেও এমন নয়।

এ দেশে প্রতিটি কমিউনিটিতেই ওয়াক-ইন ক্লিনিক থাকে। এসব ক্লিনিকগুলো অনেকটা ছোট আকারের হাসপাতালের মতো। আকার ও কমিনিউনিটি ভেদে কোথাও চার পাঁচজন আবার কোথাও দশ/বারোজন চিকিৎসকও দায়িত্ব পালন করেন। এ সমস্ত ক্লিনিকগুলো প্রাইভেট ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হলেও হেলথ্ কার্ডধারী কোন সেবাগ্রহীতাকে সেখানে কোন অর্থ পরিশোধ করতে হয় না। অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লাইসেন্স প্রাপ্ত চিকিৎসকরা নিয়মিত রোগী দেখে চিকিৎসা দেন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নীরিক্ষার জন্য বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা ল্যাবে পাঠান, প্রয়োজন মনে করলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে রেফার করেন। মজার ব্যাপার হলো, এই পুরো প্রক্রিয়াটিতেই ধনী, গরিব নির্বিশেষে কাউকেই কোন অর্থ পরিশোধ করতে হয় না।

প্রশ্ন থেকে যায়, তাহলে প্রাইভেট ব্যবস্থাপনার এ সমস্ত হেলথ সেন্টার বা ক্লিনিকে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের বেতন ভাতা ও ব্যবস্থাপনা ব্যয় নির্বাহের উপায় কি? প্রভিন্সিয়াল সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের বিধিবিধান অনুযায়ী পার্টনারশিপ চুক্তিতে প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এ সমস্ত সেবা কেন্দ্রগুলো পরিচালিত হয়। হেলথ্ কার্ডধারী প্রত্যেকেই মূলত সরকারের হেলথ ইন্স্যুরেন্স কর্মসুচির আওতাভুক্ত। কল্যাণমুখী এই বিমা কর্মসূচির আওতায় হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বিভিন্ন রকম স্বাস্থ্য পরীক্ষার ল্যাবে সেবাগ্রহীতা জনগণকে কোন অর্থ পরিশোধ করতে হয় না, প্রতিটি প্রভিন্সিয়াল সরকার তাদের বার্ষিক বাজেটের মাধ্যমে এ সমস্ত সেবা কর্মসূচির ব্যয় নির্বাহ করেন।

আমাদের দেশে অর্থ, বিত্ত, ক্ষমতা অনুযায়ী যেমন দেশ সেরা চিকিৎসকের সেবা নেয়ার সুযোগ আছে, এ দেশে এ পদ্ধতিটি একেবারেই অনুপস্থিত। যে যত পদধারী ক্ষমতাবান-ই হোক না কেন, ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান বা ওয়াক-ইন ক্লিনিকে দায়িত্বরত চিকিৎসকের রেফারেন্স ছাড়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার সুযোগ নেই। তবে যে কোন ইমারজেন্সি সিচুয়েশনে, হাসপাতালে ভর্তি হলে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সবকিছুই তত্ত্বাবধান করেন। এক্ষেত্রেও ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান কে রোগীর বিস্তারিত তথ্য অবহিত করা হয়। উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডায়, প্রত্যেক নাগরিকের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্যকে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত গোপনীয় তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই অনুমতি প্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগন ব্যতিত অন্য কোন তৃতীয় পক্ষ এ সমস্ত স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

নতুন অভিবাসী হিসেবে, ফ্যামিলি ফিজিশিয়ানের গুরুত্বকে অনুধাবন করে দ্রুতই একজন ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান ঠিক করতে তথ্য সংগ্রহে নেমে পড়ি। ভাষা, কৃষ্টি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক বিবেচনায় নিয়ে একজন বাংলাভাষী চিকিৎসক প্রাধিকার বিবেচনায় থাকলেও, কেলগরি শহরে ফ্যামিলি ফিজিশিয়ানদের তালিকায় কোন বাংলাভাষী কে না পেয়ে ভারতীয় বংশোদ্ভূত অপেক্ষাকৃত সিনিয়র চিকিৎসক ডাক্তার সুরিনদার কর উবি কে ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান হিসেবে ঠিক করার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। বাসার অনতিদূরে হাঁটার দুরত্বে পাইনরিজ মেডিকেল সেন্টার, যেটি ডক্টর উবির ক্লিনিক নামেই সমধিক পরিচিত। ফোন ডিরেক্টরি থেকে তথ্য নিয়ে ফোন করে উদ্দেশ্য বর্ণনা করতেই, অপর প্রান্ত থেকে মেডিকেল অফিস সহকারী পরদিন সকাল ১০টায় হেলথ্ কার্ডসহ দুটি আইডি নিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ যেতে বললেন।

৩০ জুন ২০০৬, সকাল ১০টার অব্যবহিত পূর্বেই হাজির হই পাইনরিজ হেলথ্ সেন্টারে। অভ্যর্থনা কক্ষে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসগুলো জমা দিলে, রিসেপশনিস্ট ওয়েটিং লাউঞ্জে অপেক্ষা করতে বললেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভিতর থেকে বেরিয়ে আসেন ডক্টর সুরিনদার কর উবি। নাম ধরে ডাকতেই, এগিয়ে গেলে পরিবার সমেত উনাকে ফলো করতে অনুরোধ করলেন। প্রথম দর্শনে মনে হলো, বয়স ষাটের কাছাকাছি। আমার দেশের ডাক্তারদের মতো ভাব গাম্ভীর্য আর তাড়াহুড়ো নেই, তবে বেশভূষায় বাঙালীয়ানা আছে, যদিও তিনি ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ। পরিচয় আর কুশল বিনিময়ের পর এক এক করে আমাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করলেন। সর্বশেষ মেডিকেল চেকআপ, জটিল কোন স্বাস্থ্যগত সমস্যা, নিয়মিত কোন ওষুধ সেবন, পারিবারিক কোন জটিল রোগ ব্যাধির ইতিহাসসহ আরও কত কী! তারপর শুরু করলেন নানাবিধ চেকআপ।

রক্তচাপ, ওজন, উচ্চতা আর সংগে রোগ-শোকের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করে পূর্ণ শারিরীক পরীক্ষা-নিরীক্ষার নিমিত্তে প্রত্যেকের জন্য রেফারেন্সসহ একটি ফর্দ তুলে দিলেন। এসব পরীক্ষা নীরিক্ষার জন্য কোন ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা ল্যাবে যেতে হবে, কিভাবে এপয়েন্টমেন্ট করতে হবে সেটিও বুঝিয়ে দিলেন। এসব কাজে আমাদের কোন অর্থ পরিশোধ করতে হবে না, সেটি বলতেও ভুল করেননি। কোন তাড়াহুড়ো নেই, হম্বিতম্বি নেই, মনে হলো আমাদের শরীর স্বাস্থ্যের দায়িত্বভার তুলে নিয়ে তিনি যেন এক অন্যরকম অভিভাবক হয়ে উঠলেন। নতুন অভিবাসী হিসেবে কাজ কর্মসহ কোন রকম সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি কিনা, সে-সব বিষয় নিয়েও কথা বললেন। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ভিন্নতার কারণে সৃষ্ট সমস্যাগুলো সাময়িক, দ্রুতই তা কেটে যাবে বলে আশাবাদও ব্যক্ত করলেন।

ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান শব্দটির সাথে পরিচিত হলেও এর বাস্তবতাকে পর্যবেক্ষণ করে এক রকম মানসিক প্রশান্তির জন্ম নিল। তবে নতুন চাকুরির সাথে মানসিক প্রশান্তির অমিলে দগ্ধ হচ্ছি প্রতিনিয়ত, সেই সাথে আবহাওয়ার বিমাতা সূলভ আচরণে নিজেকে মানিয়ে নেয়া বড় বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। মানুষের মনের মতোই কেলগেরিতে আকাশের রং বদলায়। সকালের রৌদ্রময় উষ্ণ প্রকৃতি দুপুরের আগেই হিমাংকের বিপরীতে চলে যায়, ঘড়িতে ঘণ্টার কাটা না ঘুরতেই আবারো তাপদাহ শুরু হয়। প্রকৃতি আর পরিবেশের এমন এলোমেলো আচরণে ক্রমান্বয়েই যেন বেসামাল হয়ে উঠছি।

চাকরির আজ তৃতীয় দিন। ফ্যামিলি ফিজিশিয়ানের অফিসে প্রয়োজনীয় কাজ শেষে দ্রুতই রওনা হলাম কর্মস্থলের উদ্দেশে। যাতায়াতে কেলগেরি ট্রানজিটের বাস ট্রেনই আমার ভরসা। আজ যানবাহনে সব সহযাত্রীদের মধ্যে এক গভীর মিল খোঁজে পেলাম। প্রায় সবার কাছেই একটি ব্যাকপ্যাক বা ছোট আকারের ব্যাগ! কারওটা কাঁধে ঝুলানো, কারো বা পিঠে, কেউ বা হাতে বহন করছে। গত দুই দিনও দেখেছি, তবে এতটা গভীর অন্তদৃষ্টিতে নয়। ব্যাগ বহনের এ দৃশ্যটি বড়ই রহস্যময় লাগছে!!

সীতাকুণ্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইউরোপ বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের শোক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে ইউরোপ বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব। সেই সঙ্গে শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং অগ্নিদগ্ধ ও আহতদের সবার দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।

সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ মুবিন খান কর্তৃক পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউরোপ বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব সভাপতি জমির হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক কবির আল মাহমুদ এক যৌথ শোকবার্তায় বলেন, আমরা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত ফায়ারসার্ভিস কর্মী সহ সেখানে কাজে থাকা শ্রমিকদের হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছি। আমরা পরম করুণাময় আল্লাহতায়লার নিকট নিহতদের রুহের শান্তি এবং আহতদের দ্রুততম আরোগ্যের জন্য প্রার্থনা করছি। সেই সাথে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি দেশের সব সামাজিক, রাজনৈতিক ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি; যারা এই চরম সংকটময় অবস্থায় সেবার জন্য এগিয়ে এসেছেন।

সর্বোপরি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ উদঘাটন হোক। আমাদের দাবি- সীতাকুণ্ডর অগ্নিট্র্যাজেডির জন্য দায়ীদের যেন কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হয়। একইসঙ্গে কনটেইনার ডিপো, বাস, ট্রেন, লঞ্চ, শিল্প-কারখানাসহ দেশের সব স্থাপনা এবং যানবাহনে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা আর যাতে না ঘটে, সেজন্য টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।