শনিবার ,১৬ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 218

১০ হাজার কোটি টাকা কমছে বিক্রির লক্ষ্য

সাধারণ মানুষের কাছে সঞ্চয়পত্র বিক্রি পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছে অর্থ বিভাগ। আগামী তিন বছরে কমপক্ষে ১০ হাজার কোটি টাকা বিক্রি কাটছাঁট করা হবে। এ খাতে সুদহারও হ্রাস করা হচ্ছে। সঞ্চয়পত্রের সুদ পরিশোধ ব্যয় কমাতে এ সিদ্ধান্তের দিকে যাচ্ছে সরকার। তবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন মধ্যবিত্তরা। কারণ নিরাপদ বিনিয়োগ ও মুনাফার জন্য অধিকাংশ মধ্যবিত্ত পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ও ব্যাংকে রাখার পরিবর্তে সঞ্চয়পত্র কিনে থাকেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কবে নাগাদ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে, সেটি অনিশ্চিত। অব্যাহত আছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। বিনিয়োগের উৎস ব্যাংক থাকলেও সেখানে আমানতের সুদহার কম। অনিরাপদ হয়ে উঠছে অস্থিতিশীল পুঁজিবাজারও। এর মধ্যে মধ্যবিত্তদের একমাত্র ভরসা হচ্ছে সঞ্চয়পত্র খাত। বৃহত্তম একটি জনগোষ্ঠী উপকৃত হচ্ছে এখানে বিনিয়োগ করে। সামাজিক সুরক্ষার আওতা হিসাবে এটি কাজ করছে। কিন্তু এখানে বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আনলে বড় একটি শ্রেণি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণের অঙ্ক বেড়েই চলছে। ব্যাংকগুলো নিজেই স্বীকার করে নিচ্ছে খেলাপি ঋণই এখন তাদের গলার কাঁটা। এ ঋণের কারণে ব্যাংকের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। তবে এই খেলাপি ঋণ রাষ্ট্রের যেভাবে ব্যয় বাড়াচ্ছে, সেটি সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে সাধারণ মানুষকে দেওয়া সুদের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু খেলাপি ঋণ আদায়ের হার খুব বেশি নয়। চলতি অর্থবছরে যেখানে সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে সুদ দিতে সরকারের ব্যয় হবে ৩৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। অপরদিকে গত জুন পর্যন্ত দেশে খেলাপি ঋণের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণসংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে গত জানুয়ারি থেকে মার্চ-এই তিন মাসে রাষ্ট্রের খেলাপি ঋণের অঙ্ক বেড়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। ঋণখেলাপিরা হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করছে খুব অল্প সময়ে। এসব অর্থ জনগণের।

সাবেক সিনিয়র অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার সীমা কমানো হলে বিক্রি কমবে। এতে মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য সমস্যা হবে। কারণ মধ্যবিত্ত মানুষগুলো এই সঞ্চয়পত্রের মুনাফা দিয়ে অনেকে সংসার পরিচালনা করছেন।

জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, মোট বাজেটের ১১ থেকে ১২ শতাংশ সুদ পরিশোধে যাচ্ছে। এই সুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যাচ্ছে সঞ্চয়পত্র সুদ পরিশোধে। আবার সঞ্চয়পত্র মধ্যবিত্তদের আয়ের একটি উৎস। তাদের আয়ের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এখন সুদ কমানোর যে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সেটি আমলাতান্ত্রিক সুদ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি। এক্ষেত্রে সঞ্চয়পত্রের ভলিউম না কমিয়ে সুদহার বাজারের অন্যান্য সঞ্চয়ের সঙ্গে লিঙ্ক করে দিতে পারে। যেটি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে করেছে। সুদহার বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, শুধু সঞ্চয়পত্র ভলিউম কমালে এর ব্যত্যয় ঘটবে।

যাদের হাতে পুরোনো সঞ্চয়পত্র থাকবে, তারা উচ্চ সুদ পাবে, নতুনরা কিনতেও পারবে না। অর্থ বিভাগের মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা মতে, আগামী ২০২২-২৩ থেকে ২০২৪-২৫ পর্যন্ত এই তিন অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র খাত থেকে ঋণ নেওয়া ৯ হাজার ৭২০ কোটি টাকা কমিয়ে আনবে সরকার। ঋণ গ্রহণ কমানোর অর্থ সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা কমবে। এর মধ্যে ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ খাত থেকে ঋণ (সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি) নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এরপর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমিয়ে ২৭ হাজার ৫শ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হবে। অর্থাৎ দ্বিতীয় বছরে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আরও ২ হাজার ২২০ কোটি টাকা কমিয়ে ২৫ হাজার ২৮০ কোটি টাকা সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

সুদহার প্রসঙ্গে বলা হয়, আগামী অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ ঋণের (ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র খাত) গড় অন্তর্নিহিত সুদহার ৭ দশমিক ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রাক্কলন করা হয়েছে। মধ্যমেয়াদে সার্বিক সুদহার ৬ শতাংশের নিচে আনা হবে। এতে সঞ্চয়পত্র খাতে বড় ধরনের সুদহার কমানো হবে।

সূত্রমতে, আগামী অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রির পর সুদ পরিশোধ ব্যয় হবে ৪২ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা। তবে এ সুদ পরিশোধের মধ্যে আগের সুদ অন্তর্ভুক্ত থাকছে। চলতি অর্থবছরে সুদ পরিশোধ ব্যয় হবে ৩৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং এর আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছরে ব্যয় হয়েছে ৩৪ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা।

সাধারণত প্রতিবছর সরকার বাজেটের ঘাটতি মেটাতে দেশের ভেতর থেকে ব্যাংকিং খাত এবং সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নিয়ে থাকে। এ বছরও সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। কিন্তু মধ্যবিত্তদের কাছে এ খাতে বিনিয়োগ অনেকটা নিরাপদ হয়ে উঠছে। অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার মতে, ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র উভয় খাতেই সরকারকে ঋণের বিপরীতে সুদ পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু এখন সঞ্চয়পত্রের সুদহার ব্যাংকের সুদের চেয়ে বেশি। ফলে ভবিষ্যতে ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নেওয়া হবে। এতে সরকারের সুদ পরিশোধ ব্যয় কমে আসবে। এমনিতে কৃচ্ছ সাধন করা হচ্ছে। নানা দিক থেকে ব্যয় কমানো হচ্ছে। ওই কর্মসূচির আওতায় এখন থেকেও ব্যয় কমানো হবে।

রিজার্ভে টান পড়েছে বলেই লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত: টুকু

শতভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদন সত্বেও কেন এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্তে আসতে হলো সরকারকে এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বিদ্যুত প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

তিনি দাবি করেন, বিদ্যুৎ সঙ্কট মোকাবেলা করার জন্য এলাকাভিত্তিক লোকশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়নি। রিজার্ভে টান পড়েছে বলে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন তেল, গ্যাস আমদানি করতে পারছে না। যার ফলে কম বিদ্যুৎ খরচ হলে আমদানিও কম লাগবে।

সোমবার বিকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

টুকু বলেন, সরকার এতো ঢোল পেটালো সিঙ্গাপুর, ব্যাংককে ছাড়িয়ে গেছি। সেই রিজার্ভ এখন কোথায়? হঠাৎ করে নাই হয়ে গেলো কেন? আজকে দেশ অর্থনৈতিক ক্রাইসিসে দাঁড়িয়ে গেছে। আর এজন্য পুরোপুরি সরকার দায়ী।

তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনায় বলা ছিলো ৬৪ভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদন থাকবে সরকারের হাতে, আর ৩৬ভাগ থাকবে বেসরকারি হাতে। সরকার তড়িঘড়ি করে বেজ প্লান্টগুলো বেসরকারি সেক্টরে দিয়ে দিলো। সবকিছু মিলিয়ে আমি মনে করি এই পরিকল্পনা খারাপ, দূরভীসন্ধিমূলক এবং দুর্নীতিগ্রস্থ ছিলো। যার ফলে বিদ্যুতের যে আইন তা জলাঞ্জলি দিয়ে সংসদে আইন পাশ করে যাকে ইচ্ছে তাকে পাওয়ার স্টেশন দিয়েছে। শতভাগ বিদ্যুতের দেশ বলে হাতিরঝিলে অনেক ফানুস উড়লো, কিন্তু আজকে এসে আমরা বিদ্যুৎ পাচ্ছি না।

টুকু বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন সরকারের হাতে রাখার দরকার ছিল, সরকার যদি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতো তাহলে আজকের পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না। অন্ধকারে থেকে পেমেন্ট করতে হচ্ছে, যেটি অতীতে দিতে হয়নি। দুর্নীতিপুষ্ট প্রকল্পগুলো করে, আনন্দ-ফূর্তি করে সরকার সবাইকে দেখানোর চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, এটা সরকারের প্রচারই প্রসার মনে হয়। যার ফলে আজ আমরা দুর্ভোগে পড়েছি। আমাদের সরকারি কোষাগার থেকে টাকা যাবে পাওয়ার স্টেশন মালিকদের কাছে, তারা পাওয়ার স্টেশন না চালিয়ে টাকা নিয়ে যাবে। আর শতভাগ ক্ষতিগ্রস্থ হবে দেশের জনগণ। এই যে সরকার অনিয়ম করে গেলো, এটা আমাদের দেশ ও জাতিকে অনেকদিন বহন করতে হবে।

টুকু বলেন, আমরা বলেছিলাম, কিন্তু আমাদের কথার কোনও পাত্তাই দেয়া হয়নি। বিদ্যুৎ এমন একটি খাত যা সংরক্ষণ করা যায় না, উৎপাদন করলে খরচ হয়ে যাবে। এই খাতকে জনগণের সেবামূলক খাতে দিতে হবে, কিন্তু আবার বাণিজ্যিকভাবেও চালাতে হবে। না চালালে খরচ উঠবে না। সেকারণে সরকারের হাতে রাখলে যা হয়, সরকার অনেক সাশ্রয় করতে পারে, অনেক জিনিসের দাম কমিয়ে রাখতে পারে। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ কমার্শিয়ালি চলে গেলো।

তিনি বলেন, আমাদের সরকারের পরিকল্পনা ছিলো, ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন আমরা প্রাইভেটকে দিয়ে দিবো। সরকারের কাজ বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিদ্যুতের বিল তোলা না। কিন্তু এর উল্টোটা করেছে, বিদুতের প্লান্ট দিয়ে দেয়া হয়েছে প্রাইভেট সেক্টরকে। এখন এর ফল ভোগ করে। লস এসেসম্যান্ট না করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে এখন সেই ফল ভোগ করতে হচ্ছে।

‘এটি বড় ধরনের কূটচাল’ মন্তব্য করে টুকু বলেন, জনগণের টাকা অন্যের পকেটে দিয়ে দেওয়া বড় ধরনের কূটচাল। যেটি দুর্নীতিগ্রস্থ,ফ্যাসিস্ট সরকারই করে।’

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির মিডিয়া সেলের আহবায়ক জহির উদ্দিন স্বপন, সদস্য সচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সদস্য ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও শায়রুল কবির খান।

অপপ্রচারকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে: ডা. দিপু মনি

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, দুর্যোগে, দুর্দিনে, দুর্বিপাকে গণমানুষের সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সবসময় মানুষের পাশে ছিল, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন ইনশাল্লাহ।

তিনি আরও বলেন এক শ্রেণির দুর্বৃত্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে অপব্যবহার করে দেশ, সরকার ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত নানারকম অপপ্রচার চালিয়ে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন শিক্ষামন্ত্রী।

সোমবার সকালে সিলেট সার্কিট হাউসে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এই পরামর্শ দেন।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) শফিকুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. নাসির উদ্দিন খানের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা জেবুন্নেছা হক।

এ সময় নেতৃবৃন্দ বলেন, এবারের ভয়াবহ বন্যায় সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় স্থাপিত বহুতল বিদ্যালয় ভবন সমূহ বানভাসি মানুষের জীবন রক্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এক একটি বিদ্যালয় ভবন বানভাসি মানুষদের রক্ষার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু বিদ্যালয় ভবনে নিচতলায় থাকা নলকূপ ও শৌচাগার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় আশ্রিত লোকজন চরম দুর্ভোগের শিকার হন। ভবিষ্যতে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে এ বিষয়টি বিবেচনার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের চলমান ভবন নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখার দাবি জানান।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের দাবির প্রেক্ষিতে আগামীতে দেশের বন্যাপ্রবণ এলাকায় বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে শুধু নিচ তলায় শৌচাগার ও নলকূপ স্থাপন না করে ওপরের তলা সমূহে শৌচাগার ও নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি সিলেট অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজমল আলী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্বাছ উদ্দিন, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক এমাদ উদ্দিন মানিক, শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক বুরহান উদ্দিন আহমদ, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ সাকির আহমদ (শাহীন), উপ-দফতর সম্পাদক মো. মজির উদ্দিন, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নিজাম উদ্দিন চেয়ারম্যান, আখলাকুর রহমান চৌধুরী সেলিম, আবু হেনা মো. ফিরোজ আলী, আমাতোজ জোহরা রওশন জেবিন, ওসমানীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান চৌধুরী নাজলু, সিলেট জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি এজাজুল হক এজাজ, সিলেট জেলা মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সালমা সুলতানা, সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন কয়েছ, সিলেট জেলা তাঁতী লীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সুজন দেব নাথ, সিলেট জেলা সিলেট জেলা মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক মৃদুল কান্তি দাস প্রমুখ।

৭৫ লাখ মানুষ করোনার টিকা পাবে আজ

কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে আজ দেশব্যাপী বুস্টার ডোজ দিবস পালন করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

আজ পৌনে এক কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। বুস্টার ও দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে।

এদিন ১৮ বছরের বেশি যে কেউ দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার চার মাস পূর্ণ হলে বুস্টার ডোজ নিতে পারবেন। বুস্টার ডোজ হিসেবে ফাইজার টিকা দেওয়া হবে।

এর আগে সোমবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

ওই দিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছিলেন, এ ক্যাম্পেইন চলাকালে দেশের সব সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশাপাশি সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলাসমূহের ওয়ার্ড পর্যায়েও কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। একদিনে প্রায় ৭৫ লাখ মানুষকে সুষ্ঠুভাবে ভ্যাকসিন দেওয়ার লক্ষ্যে সারা দেশে ৬২৩টি স্থায়ী ও ১৫ হাজার ৫৫৮টি অস্থায়ী কেন্দ্রে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতাল, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট, ঢাকা ডেন্টাল কলেজসহ ১৬টি কেন্দ্রে আটটি করে টিম ও ১১টি কেন্দ্রে চারটি টিম কাজ করবে।

এ ছাড়া দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ১০টি কেন্দ্রে আটটি করে টিম এবং চারটি কেন্দ্রে চারটি করে টিম কাজ করবে।

আদালতে ডা. সাবরিনা

কোভিড ১৯-এর নমুনা পরীক্ষা নিয়ে প্রতারণার মামলায় জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী ও তার স্বামী প্রতিষ্ঠানটির সিইও আরিফুল হক চৌধুরীসহ আটজনের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় আজ।

রায় ঘোষণা কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাদের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়েছে। আসামিদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা সিএমএম আদালতের হাজতখানার ইনচার্জ নাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ডা. সাবরিনাসহ নারী আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। একই সময় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আরিফসহ পুরুষ আসামিদের প্রিজনভ্যানে করে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের রাখা হয়েছে আদালতের হাজতখানায়।

ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেনের আদালত এ রায় ঘোষণা করবেন। দুপুর ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণার কথা রয়েছে।

গত ২৯ জুন ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ১১ মে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।

এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৪০ সাক্ষীর মধ্যে ২৬ জন বিভিন্ন সময়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় করোনা শনাক্তের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা না করেই জেকেজি হেলথকেয়ার ২৭ হাজার মানুষকে রিপোর্ট দেয়। এর বেশিরভাগই ভুয়া বলে ধরা পড়ে। এ অভিযোগে ২০২০ সালের ২৩ জুন অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা করা হয় এবং দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে গত ৫ আগস্ট ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে দুপুরে সাবরিনা ও আরিফসহ আটজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক লিয়াকত আলী। চার্জশিটভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন— আবু সাঈদ চৌধুরী, হুমায়ূন কবির হিমু, তানজিলা পাটোয়ারী, বিপ্লব দাস, শফিকুল ইসলাম রোমিও ও জেবুন্নেসা। চার্জশিটে সাবরিনা ও আরিফকে প্রতারণার মূলহোতা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকিরা প্রতারণা ও জালিয়াতি করতে তাদের সহযোগিতা করেছেন।

গত বছরের ২০ আগস্ট ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনসারী আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এ সময় তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। বর্তমানে মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের অবস্থায় রয়েছে।

সুখের নামটা নীল

কোন সাগরে ডুব দিয়েছো চোখ

কোন শ্রাবণে ভিজলে সারা বেলা

কোন অতীতে ভাঙলে সুখের বুক,

কোন নিয়মে খেললে তুমি খেলা।

কোন উঠোনে ডাকলে চাঁদের বাণ

কোন জোছনায় পুড়লো সুখের ঘর,

কোন কথাতে করলে অভিমান

কোন বিরাগে করলে আমায় পর।

কোন সুরেতে বাধলে তুমি গান

কোন তালেতে ভাঙলো ছন্দ লয়,

কোন সা তে করলে শুরু তান

কোন সাহসে করলে তুমি জয়।

কোন তুলিতে আঁকলে এমন মিল

কোন রংয়েতে জীবন পেল প্রাণ,

কোন বিষেতে সুখটা হলো নীল

কোন প্রেমটায় বাঁধলেনা আর গান।

কোন আঁধারে একলা হাঁটো তুমি

কোন বরষায় বৃষ্টি নূপুর পাঁয়ে,

কোন নদীতে দুকূল ভাঙা ভূমি

কোন স্বপ্ন ডাকে অচিন গাঁয়ে।

হজ থেকে ফেরার পর করণীয়

হাজি সাহেবগণ হজ করে যখন দেশে ফিরে আসেন, তোমরা তাদেরকে অভ্যর্থনা জানানো, তাদেরকে সম্মান জানানোর বিষয়ে হাদীসে রাসূলে করিম (স) আমাদের নির্দেশনা রয়েছে।

অপরদিকে যিনি হজ করে আসলেন তারও কর্তব্য হলো-তার আপনজন, প্রিয়জন, বন্ধু ও প্রতিবেশিদের খোঁজখবর নেওয়া, তাদের কাছে যাওয়া, তাদের জন্য দোয়া করা।

হাদীসে আসছে, যাদের হজ কবুল হয় হজ থেকে ফিরে আসার ৪০ দিন পর্যন্ত তার দোয়া আল্লাহর কাছে কবুল হয়। আমরা আশা করব, আল্লাহ সবার হজই কবুল করেছেন।

একজন মানুষ যখন হজ করে ফেরেন তখন তিনি আল্লাহর কাছে একজন মর্যাদাবান ব্যক্তি হন, তার দোয়া যেহেতু কবুল হবে সেহেতু তারও কিছু করণীয় রয়েছে।

হজ থেকে ফেরা আল্লাহর সেই প্রিয় বান্দাদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মিজানুর রহমান।

হজ থেকে ফেরার পর করণীয়

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) রেজিস্ট্রার হিসেবে প্রকৌশলী মো. আনিছুর রহমান ভূঞা যোগদান করেছেন। রোববার তিনি রেজিস্ট্রার পদে যোগদান করেন।

প্রকৌশলী মো. আনিছুর রহমান ভূঞা ২০২১ সালের ৫ মার্চ গত ১৬ জুলাই পর্যন্ত কুয়েটের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০১ সালে বিআইটি কাউন্সিলের উপ-প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

পরবর্তীতে বিআইটিসমূহ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হলে ২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর অবধি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে উপ-প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া প্রকৌশলী মো. আনিছুর রহমান ভূঞা কুয়েটে পরিচালকের (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) কার্যালয়ে উপ-পরিচালক এবং ২০১৭ সালের ২৫ মে থেকে ২০২১ সালের ৪ মার্চ পর্যন্ত অতিরিক্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

কুয়েটের পাবলিক রিলেশনস অফিসার মো. রবিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কুয়েটে ‘স্মার্ট হুইল চেয়ার’ উদ্ভাবন

হাত দিয়ে চাকা ঘুরিয়ে অথবা জয়স্টিকের মাধ্যমে হুইল চেয়ার ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন অনেক। কিন্তু বাংলাদেশে এমন অনেক মানুষ আছে যারা এই দু’ভাবেও হুইল চেয়ার ব্যবহার করতে পারেন না। তাদের জন্য আঙুলের ইশারায় হুইল চেয়ার চলতে সক্ষম এমন ‘স্মার্ট হুইল চেয়ার’ আবিষ্কার করা হয়েছে। খুবই স্বল্পমূল্যে এই হুইল চেয়ার পাওয়া সম্ভব বলে দাবি করেছে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) একটি টিম। ২০২০ সালের জুন থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তারা এই স্মার্ট হুইল চেয়ার নিয়ে গবেষণা করেন।

এমনকি এই হুইল চেয়ারটির সামনে বা পেছনে চলাচলের সময় কোনো বাধা-বিপত্তি এলে তা ব্যবহারকারীকে আগে থেকেই সতর্ক করবে। কোনো কারণে যদি হুইল চেয়ারটি পড়ে যায় সে ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বরে খুদে বার্তার মাধ্যমে চেয়ার পড়ে যাওয়ার বিষয়টি অবগত করা হবে। যাতে দ্রুত চেয়ার ব্যবহারকারীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শেখ সাদীর তত্ত্বাবধানে, সিএসই শেষবর্ষের শিক্ষার্থী মো. রিপন ইসলাম ও মো. সাইফুল ইসলাম আঙুলের ইশারায় নিয়ন্ত্রিত স্মার্ট হুইল চেয়ারটি উদ্ভাবন করেছেন।

উদ্ভাবক টিমের সদস্যরা জানান, বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বেই হুইল চেয়ার ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। ম্যানুয়াল পদ্ধতির হুইল চেয়ার অনেকের পক্ষে নিজে থেকে চালানো সম্ভব হয় না, এমনকি জয়স্টিক কন্ট্রোলড হুইল চেয়ারও অনেকেই চালাতে পারেন না। তবে আমদানি করা কিছু হুইল চেয়ার আছে, যার দাম অনেক বেশি। যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। বাংলাদেশি লোকাল প্রোডাক্ট যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি কন্ট্রোলড ব্যবস্থা সীমিত এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও কম। তাই এ সমস্যাগুলো সমাধানের কথা চিন্তা করে স্মার্ট হুইল চেয়ার আবিষ্কার করা হয়েছে যা শুধু আঙুলের ইশারায় সেন্সর পরিধান বা স্পর্শ ছাড়াই নিরাপদে চেয়ারের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।

তারা আরও জানান, বাজারজাত হলে এই হুইল চেয়ার সধারণ মানুষ স্বল্পমূল্যে কিনতে পারবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসাবে রয়েছে ব্যবহারকারীর পড়ে যাওয়া শনাক্তকরণ এবং এসএমএসের মাধ্যমে সতর্ক করার ব্যবস্থা। এ ছাড়াও অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য হিসাবে থাকছে কোনো দিকে কোনো বাধা আছে কিনা, তা শনাক্তকরণ। যাতে কোনো বাধা সম্পর্কে ব্যবহারকারী পূর্ব থেকেই সতর্ক হয়ে যেতে পারে। এই হুইল চেয়ারটি আঙুলের ইশারা ছাড়াও যাতে জয়স্টিকসহ একাধিক উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং প্রয়োজনে দূরবর্তী স্থান থেকে আইওটি প্রযুক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেজন্য উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। ভবিষ্যতে হেলথ মনিটরিং, ভয়েস, চোখের ইশারা, মাথার নড়াচড়া বা মস্তিষ্ক দ্বারা নিয়ন্ত্রণের মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফিচার এতে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সম্প্রতি কুয়েটের সিএসই ডিপার্টমেন্টের খণ্ডকালীন শিক্ষক (সাবেক শিক্ষার্থী) মো. রিপন ইসলাম জানান, প্রায় ৫০ জন সাধারণ মানুষ ও সাতজন চলাচলে অক্ষম ব্যক্তিকে নিয়ে পণ্যটি পরীক্ষা করা হয়েছে। তারা এ পণ্য ব্যবহারের মাধ্যমে সহজে চলাচল করতে পেরেছেন শুধু আঙুলের ইশারার মাধ্যমে। এ ধরনের পণ্য এশিয়া উপমহাদেশে অপ্রতুল হওয়ায় এবং এর প্রয়োজনীয়তা ও ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় আমাদের প্রত্যাশা, পণ্যটি বাংলাদেশসহ আশপাশের দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাবে। সর্বোপরি আমরা বিশ্বের যেকোনো দেশে আমাদের পণ্য সরবরাহ করতে সক্ষম হব। বর্তমান বাজারে আমাদের পণ্যের প্রতিযোগী হিসাবে আছে সাধারণ ইলেকট্রিক হুইল চেয়ার এবং বাইরে থেকে আমদানি করা হুইল চেয়ার। আমাদের লোকাল ইলেকট্রিক হুইল চেয়ারগুলো ব্যয়বহুল, গুণগত মানেও পিছিয়ে। আর আমদানি করা হুইল চেয়ারও অত্যন্ত চড়া দামের। আমরা আমাদের প্রোডাক্টের বাজার মূল্য ঠিক করেছি প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। তবে আমরা খরচ আরও কমানোর চেষ্টা করছি। ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে উৎপাদন খরচ কমাতে পারব বলে আশা করি।

কুয়েটের রেজিস্ট্রার হলেন আনিছুর রহমান

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) রেজিস্ট্রার হিসেবে প্রকৌশলী মো. আনিছুর রহমান ভূঞা যোগদান করেছেন। রোববার তিনি রেজিস্ট্রার পদে যোগদান করেন।

প্রকৌশলী মো. আনিছুর রহমান ভূঞা ২০২১ সালের ৫ মার্চ গত ১৬ জুলাই পর্যন্ত কুয়েটের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০১ সালে বিআইটি কাউন্সিলের উপ-প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

পরবর্তীতে বিআইটিসমূহ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হলে ২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর অবধি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে উপ-প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া প্রকৌশলী মো. আনিছুর রহমান ভূঞা কুয়েটে পরিচালকের (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) কার্যালয়ে উপ-পরিচালক এবং ২০১৭ সালের ২৫ মে থেকে ২০২১ সালের ৪ মার্চ পর্যন্ত অতিরিক্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

কুয়েটের পাবলিক রিলেশনস অফিসার মো. রবিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।