শুক্রবার ,১৫ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 212

ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের কি স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি?

ডায়াবেটিস রোগীর উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার হার রোগীর কত দিনের ডায়াবেটিস, তার বয়স, লিঙ্গ, দৈহিক স্থূলতা, রোগের পারিবারিক ইতিহাস, শারীরিক শ্রম, খাদ্যাভ্যাস (বিশেষত লবণ খাওয়া) অন্যান্য সংশ্লিষ্ট রোগের উপস্থিতি, বর্ণ, ওষুধ সেবন ইত্যাদির ওপর নির্ভরশীল।

বস্তুত যারা ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ দুটিতেই আক্রান্ত তাদের হৃদরোগ, স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে; কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, চোখের রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া এবং সর্বোপরি মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। বিপুলসংখ্যক ডায়াবেটিস রোগী এ দলভুক্ত। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য উচ্চ রক্তচাপ বলতে ১৪০/৯০ মি.মি পারদ।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. শাহজাদা সেলিম।

ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ পরস্পর সম্পর্কিত কোনো সমস্যা নাকি স্বতন্ত্র স্বাস্থ্য সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস রোগীর উচ্চ রক্তচাপ একটি আলাদা শারীরিক সমস্যা। বিশেষত যারা উচ্চ রক্তচাপ থাকা অবস্থাতেই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েছেন। ২০০৮ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রর ২০ বছরের বেশি বয়সী ডায়াবেটিস রোগীর ৭৩ শতাংশই উচ্চ রক্তচাপেও ভুগছিল। বাংলাদেশি ডায়াবেটিস রোগীদের মাঝে উচ্চ রক্তচাপে ভোগার হার সুনিশ্চিতভাবে জানা না গেলেও এটি যে অনেক বেশি হবে তা অনুমান করা যায়।

ডায়াবেটিস শরীরের সব অংশেই হানা দেয়। এতে স্বল্পস্থায়ী এবং দীর্ঘ মেয়াদি বিভিন্ন রকম ক্ষতি সাধিত হতে থাকে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় হৃদপিণ্ড ও রক্তনালিসহ রক্ত সংবহনতন্ত্রের সব অংশ। রক্ত নালির দেয়ালের ইলাস্টিসিটি হ্রাস পেতে থাকে। এতে হৃদরোগের ঝুঁকি যেমন বাড়ে তেমনি উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ডায়াবেটিস না থাকলে এ ঝুঁকি অনেক কম থাকতে পারত।

ডায়াবেটিস রোগীর মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, বৃক্ক, রেটিনা, প্রজনন তন্ত্র, ত্বক অতি ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা। যেসব মহিলা ডায়াবেটিস নিয়েই গর্ভধারণ করেন অথবা গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তাদের ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞও প্রসূতিবিদ যেমন খুবই সতর্কতার সঙ্গে এগোতে চান তেমনি গর্ভবতী ও তার পরিবারকেও গভীরভাবে অনুধাবন করে চিকিৎসায় অংশগ্রহণ করতে হবে। কেননা, এসব গর্ভবতী নারীর প্রি-একলামশিয়া ও একলামশিয়া নামক মারাত্মক গর্ভকালীন জটিলতায় ভোগার ঝুঁকি অনেক বেশি।

উচ্চ রক্তচাপ প্রধানত একটি লক্ষণ বিহীন স্বাস্থ্য সমস্যা। তাই অন্য মানুষদের মতই ডায়াবেটিসেও রক্ত চাপ মেপে তা শনাক্ত করার চেষ্টা করতে হবে। যাদের রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকছে তাদেরও বছরে কমপক্ষে চারবার আদর্শ পদ্ধতিতে রক্তচাপ মেপে তিনি উচ্চ রক্তচাপে ভোগছেন কিনা সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যদি সিদ্ধান্ত না নেয়া যায় পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতি দিনের বিভিন্ন সময়ের রক্তচাপের গড় হিসেব করে সিদ্ধান্ত নেয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। আর ডায়াবেটিসের রোগীরা যখন নিয়মিত ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞের কাছে যান তখন তিনি সব ডায়াবেটিসের রোগীকেই রক্তচাপ মেপে রোগ শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

ডায়াবেটিস এখন মহামারী আকারে বিরাজ করছে। উচ্চ রক্তচাপ পৃথিবী ব্যাপী একটি নীরব ঘাতক এবং দুটোই বর্তমানের চেয়ে রোগীর জন্য ভবিষ্যতে বেশি ঝুঁকি তৈরি করে। অতএব, রোগীর চিকিৎসা তো করতে হবেই বরং রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে যতটা বেশি উদ্যোগ নেয়া যায় ততটা লাভজনক হবে। ডায়াবেটিসের সব রোগীর সব অবস্থাতেই প্রথম ও প্রধানতম কাজ হল- কাক্সিক্ষত মাত্রায় রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ। যদিও এটি রোগীভেদে বিভিন্ন রকম হবে। আর উচ্চ রক্তচাপকে বিবেচনায় নিয়ে নিন্মোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে হবে :

-নিয়মিত রক্তচাপের রের্কড সংগ্রহ করুন

-উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন করা

-যাদের এখনও রক্তচাপ স্বাভাবিক আছে সেসব ডায়াবেটিসের রোগীর জন্য আনন্দের বার্তা হল- সতর্কতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করলে আপনি দীর্ঘদিন রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সমর্থ হবেন।

প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ

-লবণ খাওয়া কমাতে হবে [আলগা লবণ বর্জন করুন, তরকারি-ভাজি-ভর্তাতে লবণ সীমিত করুন, অতিরিক্ত লবণ দেয়া খাদ্য বর্জন করুন (সল্টেট বিস্কুট, ফাস্ট ফুড জাতীয় খাবার ইত্যাদি)]

-দৈহিক উচ্চতা অনুসারে কাক্সিক্ষত দৈহিক ওজন অর্জন করুন ও বজায় রাখুন

-শারীরিক শ্রমময় জীবনযাপন করুন। যাদের জীবনযাপন প্রধানত শারীরিক শ্রমহীন, তাদের শারীরিক শ্রম বৃদ্ধির প্রয়াশ নিতে হবে

-সপ্তাহের অধিকাংশ দিন (পারলে প্রতিদিন) ৩০ মিনিট করে হাঁটুন। যাদের পক্ষে তা সম্ভব নয় তারা সপ্তাহে ১ দিন একটানা ১৫০ মিনিট হাঁটতে পারেন।

-অতিরিক্ত শর্করা জাতীয় খাদ্য, প্রাণিজ চর্বি জাতীয় খাদ্য সীমিত করুন।

-প্রচুর শাক-সবজি (আলু বাদে) খাওয়ার অভ্যাস করুন

-তাজা ফল-মূল খাবেন (কলা, আম ইত্যাদি যত কম খাওয়া যায় ততই ভালো)

-মাছ খুব ভালো খাদ্য

-মাংস খাওয়া যাবে তবে তা চর্র্বিমুক্ত হলে ভালো

-রান্নায় তেল ব্যবহার যতটা সম্ভব কমাতে হবে

চিকিৎসার ক্ষেত্রে লাইফস্টাইলের অপটিমাইজেশন মূল ভিত্তি।

বিয়ে করবেন শাকিব খান, যা বললেন অপু বিশ্বাস

দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খান। এবার দেশে ফিরে বিয়ে করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন এ সুপারস্টার।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শাকিব জানান, তার পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়ে দেখা হচ্ছে। সব ঠিকঠাক হলে আগামী বছরই বিয়েটা সেরে ফেলবেন।

এমন খবরে সিনেপাড়ায় যখন তোলপাড় তখন বিয়ে করবেন ঘোষণা দিয়েছেন শাকিবের সন্তানের মা অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস।

শাকিবের নতুন বিয়ে প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেছেন অপু।

গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অপু বলেছেন, ‘এটা তো অবশ্যই সুখবর! সে বিয়ে করবে আর আমরা সবাই তার বিয়ের আনন্দ নিয়ে মেতে উঠব। এটাই তো চাই। শাকিবের বিয়েতে আমি আর জয় (শাকিব-অপুর সন্তান) মহাআনন্দ করব।’’

শুধু শাকিবের বিয়েতে আনন্দই নয়, তিনিও বিয়ে করবেন বলে জানালেন শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ-২ খ্যাত নায়িকা।

তবে বিশেষ কিছু দায়িত্ব পালনের পর জীবনসঙ্গী বেছে নেবেন।

অপু আরও বলেন, ‘আমিও বিয়ে করব, জীবন তো আর একাকী চলে না। তবে এখনই নয়, হাতে অনেক কাজ জমা আছে। সব দায়িত্ব শেষ করে, আদর্শবান ও যত্নশীল একজন মানুষ খুঁজে নিয়ে তার গলায় ভালোবাসার মালা পরাতে চাই। আজীবন সুখ আর শান্তির বন্ধনে আবদ্ধ হতে চাই।’

অপুর সেসব দায়িত্বের একটি হচ্ছে ‘লালশাড়ি’ সিনেমা। এ সিনেমার মাধ্য প্রযোজক হিসেবে নাম লেখাচ্ছেন তিনি। সিনেমাটি নির্মাণের জন্য ৬৫ লাখ টাকা সরকারি অনুদানও পেয়েছেন। তাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিনেমা নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

অনুদান নিয়ে সে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন আশ্বাস দিয়ে অপু বলেছিলেন, ‘এটা আমার জন্য নতুন একটা জার্নি, নতুন জীবন। এ নিয়ে আমি একটি স্ট্যাটাসও দিয়েছি। আশা করছি গুছিয়ে কাজ করার। আমি স্ট্যাটাসে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিয়েছি। তিনি সব সময় চলচ্চিত্রের সঙ্গে ছিলেন, আশা করি আগামীতেও থাকবেন।’

প্রসঙ্গত, চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসকে বিয়ে করেছিলেন শাকিব খান। একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তারা প্রেমে পড়েন। এরপর ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল বিয়ে করেন এই তারকা জুটি। তবে সে সময় বিয়ের বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন তারা।

২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে ছয় মাসের সন্তান আব্রাম খান জয়কে নিয়ে অপু বিশ্বাস হাজির হলে ওই জুটির বিয়ের খবর সামনে এসে। সে সময় বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনাও হয়। অবশ্য সব স্বীকার করে নেন শাকিব খান।

তবে কিছুদিন পরই ভেঙে যায় শাকিব-অপুর সংসার। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাদের বিচ্ছেদ কার্যকর হয়। বর্তমানে ছেলে আব্রাম রয়েছেন অপুর কাছে।

এদিকে অপুর সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার পর চিত্রনায়িকা বুবলীর সঙ্গে শাকিবের প্রেমের গুঞ্জন ওঠে। এক পর্যায়ে তাদের বিয়ের গুঞ্জনও শোনা যায়। তবে তারা দুজনই বিষয়টি অস্বীকার করে আসছেন।

প্রেসিডেন্টসহ একযোগে পদত্যাগ করলেন স্কটল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের সব সদস্য

অবিশ্বাস্য এক কাণ্ড ঘটিয়েছে স্কটল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড। সব সদস্যকে নিয়ে একযোগে পদত্যাগ করেছেন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট।

ইএসপিএন ক্রিক ইনফো ও দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গত বছর স্কটল্যান্ড বোর্ডের বিরুদ্ধে দেশটির সাবেক ক্রিকেটার মজিদ হক প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদের অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন আজ প্রকাশিত হওয়ার কথা।

আর প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই বোর্ডের সবাই একসঙ্গে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে এ পদত্যাগের ঘোষণা দেন তারা।

পদত্যাগের বিবৃতিতে অবশ্য বর্ণবাদের অভিযোগের সত্যতা পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নিয়েছে স্কটল্যান্ড বোর্ড।

বোর্ডের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী গর্ডন আর্থুরকে দেওয়া পদত্যাগপত্রে তারা লিখেছেন, ‘এই প্রতিবেদন থেকে যা আসবে, সেসব কার্যকরী করতে বোর্ড বদ্ধপরিকর ছিল। যারাই ক্রিকেট স্কটল্যান্ডে বর্ণবাদ অথবা যে কোনো ধরনের বৈষম্যের শিকার হয়েছেন, তাদের কাছে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি এবং এর আগেই প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছি। আমাদের বিশ্বাস, সামনের দিনগুলোতে প্রয়োজনীয় উন্নতির জন্যই আমাদের সরে দাঁড়ানো উচিত।’

২০১৫ সালের বিশ্বকাপ থেকে হুট করেই মজিদ হককে দেশে পাঠায় স্কটিশ টিম ম্যানেজমেন্ট। এর পর আর জাতীয় দলে নিজেকে যুক্ত করতে পারেননি মজিদ। গত বছর মজিদ বোর্ডের বর্ণবৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তোলেন।

৫৪ ওয়ানডে ও ২১ টি-টোয়েন্টিতে থেমে যায় তার ক্যারিয়ার। এ দুই ফরম্যাটে যথাক্রমে ৬০ ও ২৮ উইকেটে রয়েছে তার।

নবাব সাকিব এবার হকার রূপে!

হঠাৎ নবাব রূপে ও যোদ্ধার সমরাস্ত্রে সেজে ফেসবুকে হাজির হয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। এর পাঁচ দিন পর নতুন সাজে সবাইকে চমকে দিয়েছেন এ বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

এবার বাসে ওঠা হকারের রূপে নিজেকে হাজির করলেন সাকিব। তার নতুন লুক দেখে অনেকের চোখ ছানাবড়া।

রোববার রাতে সাকিবের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আপলোড করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, তার মাথায় ছাই রঙের কোকড়ানো চুল, নাকের নিচে গোফ, মুখে ক্রুর হাসি। গলায় ঝোলানো আবার একটি রূপার চেইন। পরিধেয় শার্টও এই লুকের সঙ্গে মানানসই। যেখানে ভেতরের স্যান্ডো গেঞ্জি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ওয়ানডে সিরিজের আগেই ছুটি নেওয়ায় অফুরন্ত সময় পেয়েছেন সাকিব। সময়টা বেশ উপভোগও করছেন। আর তা বোঝাই যাচ্ছে তার ফেসবুক পেজে ঢু মেরে।

কিন্তু সাকিবের এই নিত্যনতুন লুকে হাজির হওয়ার রহস্যটা কি?

এ বিষয়ে সাকিব এখানো মুখ খোলেননি।

তবে বলা হচ্ছে, সবই বিজ্ঞাপনের খেলা। এর আগের নবাব, বাদশা ও যোদ্ধা লুকের ছবিগুলো হয়েছে দুবাইভিত্তিক কোনো টেলিকম গ্রুপ সংশ্লিষ্ট।

এবার হকাররূপে সাকিবের উপস্থাপনের বিষয়ে জানা গেছে, কোনো একটি বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ের ফাঁকে এ ছবি তুলেছেন সাকিব। বিজ্ঞাপনচিত্রটি করা হয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি)।

সাকিবের এই লুক অবশ্য বেশ আলোড়ন তুলেছে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে।

মাত্র এক ঘণ্টায় প্রায় আড়াই লাখ ভক্ত রিঅ্যাকশন জানিয়েছে ফেসবুকে পোস্ট করা সেই ছবিতে। প্রায় ২০ হাজার মানুষ মন্তব্য করেছেন এবং প্রায় ২ হাজার মানুষ ছবিটা নিজেদের টাইমলাইনে শেয়ার করেছেন।

আর এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অর্থাৎ পোস্টের পর ১৭ ঘণ্টায় রিঅ্যাক্টের সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ! ৪০ হাজারের বেশি মন্তব্যের পাশাপাশি ছবিটি শেয়ার হয়েছে ৩ হাজার ১০০ বার!
মন্তব্যের ঘরে ভক্তদের অনেকেই মজার সব কথা লিখেছেন।

কেউ সাকিবকে ট্রাক ড্রাইভার বানিয়ে দিয়েছেন, তো কেউ বাস কন্ডাক্টর। কেউ বলছেন, বাসের হকার হিসেবে দারুণ লুক সাকিবের।

কেউ আবার বলছেন, ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক আল্লু অর্জুনের বেশ ধরার চেষ্টা করেছেন সাকিব।

অনেকেই মজার ছলে বলেছেন, দুদিন আগের নবাব আজ বাসের হকার!

বেশিরভাগই নেটিজেন জানতে চেয়েছেন, কোনো বিজ্ঞাপনচিত্রে নাকি সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন সাকিব?

সে জবাব মিলবে সাকিবের এই হকার লুকের ভিডিওচিত্র সম্প্রচার হলেই। ততদিন পর্যন্ত এ ছবি রহস্যই হয়ে থাকবে ভক্ত-সমর্থকদের কাছে।

হাট ইজারা নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৫

হাট ইজারা কেন্দ্র করে ঈশ্বরদীতে দুপক্ষের তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় গোলাগুলিতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার প্রত্যন্ত ইউনিয়ন লক্ষ্মীকুণ্ডার চরকুড়–লিয়া গ্রামের নাছিরের ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার চরগড়গড়ি আলহাজ মোড়ের দৈনিক হাটের ইজারা পান চরকুড় লিয়ার আবদুল্লাহ আল কাফি। অন্যদিকে চরগড়গড়ি মাদ্রাসা মোড় হাটের ইজারা পান একই গ্রামের গোলাম সারোয়ার। দৈনিক হাট ও সাপ্তাহিক হাটের ইজারা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বেশ কিছু দিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। এর জের ধরে রোববার সন্ধ্যায় চরকুরড় লিয়ার নাছিরের ঘাটে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের পাবনা জেনারেল হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মারামারির সময় বন্দুকের গুলির শব্দ শুনেছেন আশপাশের অনেক মানুষ।

ঈশ্বরদীর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাদিউল ইসলাম জানান, হাট নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষের সময় গোলাগুলি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিএম ইমরুল কায়েস জানান, হাটের ইজারা নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সন্ধ্যায় দুপক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়েছি।
ঘটনার পর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী থানার এসআই নুরুন্নবী।

ইজিবাইকের দখলে সড়ক-মহাসড়ক, যানজটে ভোগান্তি

রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন উপজেলার মহাসড়ক ও সড়কে ইজিবাইক ও রিকশার রাজত্ব চলছে। এসব বাহনের দাপটে যানজটে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই।

মহাসড়ক হয়ে সড়কের বিভিন্ন অলিগলিতে দ্রুতগতিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব ছোট তিন চাকার যানবাহন।

স্থানীয়দের মত, লোডশেডিং কমাতে ইজিবাইক ও রিকশার চার্জ দেওয়া বন্ধ করতে হবে। তা না হলে বিদ্যুতের ঘাটতি কমানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

হাইওয়ে থানা পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, মহাসড়ক ও সরু সড়ক দিয়ে অলিগলি দিয়ে তিন চাকার ইজিবাইক ও রিকশাসহ অন্যান্য যানবহন চলাচল করায় মানুষের ভোগান্তি ও দুর্ঘটনা ঘটছে। কোনোক্রমেই এগুলো মহাসড়কে চলতে দেওয়া হবে না বলে জানান তারা।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, রাজবাড়ী সদর উপজেলা, পৌরসভা ও গ্রামের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পৌর এলাকায় ইজিবাইকগুলো যত্রতত্রভাবে দ্রুতগতিতে চলাচল করছে। এর সঙ্গে গ্রাম থেকে আসা অবৈধ ইজিবাইকগুলো শহরে প্রবেশ করে যানজটের সৃষ্টি করছে। ফলে পথে চলাচলকারী মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে দেখা গেছে।

রাজবাড়ী পৌরসভার কর্মকর্তারা বলছেন, পৌর শহরে ইজিবাইক ও রিকশার কোনো লাইসেন্স পৌরসভা থেকে দেওয়া হয় না। এগুলো কী পরিমাণ আছে সেটিও ইজিবাইক সমিতির লোকজন হয়তো বলতে পারবেন। তবে পৌরসভার মধ্যে চলাচলরত ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো পৌরসভার নিদিষ্ট নিয়ম কানুন মেনে চলতে আদেশ দেওয়া হয়েছে।

সদর উপজেলার চন্দনী থেকে আসা ইজিবাইকচালক জব্বার মোল্লা বলেন, আমরা আমাদের বাড়িতেই ইজিবাইকগুলো বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দিই। সরকারকে সময়মতো বিলও পরিশোধ করছি। এখন মানুষের মুখে শুনছি ইজিবাইকওয়ালারাই নাকি বেশি বিদ্যুৎ পোড়াচ্ছে। যার ফলে বার লোডশেডিং হচ্ছে।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় অবস্থিত আহলাদীপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, রোববার জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে আমাদের নির্দেশনা দিয়ে হেড অফিসের কর্মকর্তারা বলেছেন— কোনোক্রমেই মহাসড়ক হয়ে সরু সড়কে তিন চাকার কোনো অবৈধ যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া যাবে না। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালনে কঠোর হয়ে হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি। ইজিবাইকচালকরা কথা না শুনলে নিয়মানুযায়ী তাদের নিয়মিত মামলা দিচ্ছি বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে রাজবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎয়ের জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মফিজুর রহমান খান যুগান্তরকে বলেন, রাজবাড়ীতে আমাদের বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৫১ মেগাওয়াট। সেখানে আমরা বর্তমানে পাচ্ছি-৩৫ মেগাওয়াট, ১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ইজিবাইকে বিদ্যুতের ব্যয় কমাতে ইজিবাইকগুলোর চার্জ কমাতে হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

‘লৌহ ত্রিভুজে আটকে আছে দেশ’

দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা বড় ধরনের লৌহ ত্রিভুজে আটকে আছে। এই ত্রিভুজের তিনটি রেখা হলো-এক মাত্রিক উন্নয়নের চিন্তা, স্বার্থভিত্তিক নীতি তৈরি ও বাস্তবায়ন এবং নিম্ন আয়ের মানুষের প্রতি অর্থনৈতিক অবিচার। বড় কোনো ধাক্কা ছাড়া এই ত্রিভুজ ভাঙ্গা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক উপলব্ধি, সদিচ্ছা এবং সিদ্ধান্ত জরুরি।

বেসরকারি গবেষনা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত রোববার এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন। তাদের মতে, মধ্যমেয়াদী অর্থনৈতিক সংকটে দেশ। খুব শিগগিরই এই সংকট কাটছে না। এছাড়াও সরকারের পলিসি গ্রহনের ক্ষেত্রে মানুষের অংশগ্রহন নেই।

সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিংখাত ও আর্থিকখাতে আগে থেকেই বিশৃঙ্খলা ছিল। রাজস্ব আদায় কম। প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় দুর্নীতি ও বেপরোয়া অর্থ পাচার হয়েছে। আর নতুন করে যোগ হয়েছে বৈশ্বিক পরিস্থিতি। এ অবস্থা বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বাড়াতে অর্থ পাচার বন্ধের ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করতে হবে।

সিপিডির কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাবেক তত্তাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা-ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, ড. হোসেন জিল্লুর রহমান ও অধ্যাপক ম. তামিম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, গবেষনা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এবং ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, এই মুহুর্তে অর্থনীতিতে সংকট রয়েছে। তবে স্বল্পমেয়াদীভাবে এই সংকট মোকাবেলার চিন্তা করলে হবে না। এজন্য সংকটের নেপথ্যে যেতে হবে।

তিনি বলেন, কোনো ধরনের রাগ-ঢাক না করে পরিস্কারভাবে একটি জিনিষ দেখানো দরকার। আমার দৃষ্টিতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অর্থনীতির ব্যবস্থাপনা লৌহ ত্রিভুজে আটকে আছে। এই ত্রিভুজের প্রথম অংশটি হলো একমাত্রিক উন্নয়ন দর্শন। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে এক মাত্রিক উন্নয়ন দর্শনে আটকে গেছে দেশ। দ্বিতীয়ত স্বার্থের দ্বন্দ্বভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা। প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা দেখছি, আইনগতভাবে অনিয়ম তৈরি করা হচ্ছে। এরমধ্যে বিদ্যুৎখাত অন্যতম। অর্থাৎ সেখানে যাদের স্বার্থ আছে, সেখানে তাদেরকে যুক্ত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে, সাময়িক সময়ের জন্য কুইক রেন্টার তৈরি করা হয়েছিল। সেটি কেন দীর্ঘমেয়াদী করা হলো তা ভাবা দরকার। অর্থনৈতিক দিক থেকে এর কোনো ব্যাখা নেই। দ্বিতীয়ত পরিবহনখাত। কেন বছরের পর বছর বিআরটিএ’কে অচল করে রাখা হয়েছে। সড়ক নিরাপত্তায় দীর্ঘদিন থেকে অব্যবস্থাপনা। মন্ত্রীদের সম্পৃক্ততায় এখাতের জন্য ১০১টি সুপারিশ তৈরি করা হয়েছে। এগুলো- বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

তৃতীয়ত সমস্যা রয়েছে ব্যাংক ও আর্থিকখাতে। এরপরে রয়েছে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প। সামগ্রিকভাবে এসব অবিচারের খড়ক জনগনের উপর পড়ছে। তিনি বলেন, বড় কোনো ধাক্কা ছাড়া এই ত্রিভুজ ভাঙ্গা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক উপলব্দি, সদিচ্ছা এবং সিদ্ধান্ত জরুরি।
ড. হোসেন জিল্লুর বলেন, আর এক্ষেত্রে শুধু সামষ্টিক অর্থনীতি নয়, এর সঙ্গে বেষ্টিক অর্থনীতি ও মধ্যমেয়াদী সংস্কার যোগ করতে হবে।
তিনি বলেন, করোনার ধাক্কা এখনও আমরা সামলে উঠতে পারিনি। আর বেষ্টিক বা ক্ষুদ্র পর্যায়ে অবিচারের একটি বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। তিনটি জায়গায় এই অবিচারের ফলাফল দেখা গেছে। এর একটি হলো নতুন দরিদ্র। বিভিন্ন কর্মসূচীর পরেও ৩ কোটি মানুষ নতুন দরিদ্রের আওতায় পড়েছে। দ্বিতীয়ত পুষ্টিহীনতা ও শিক্ষা থেকে মানুষ ঝড়ে পড়ছে। তৃতীয়ত যে ধরনের অর্থনৈতিক পলিসি নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, তাতে কর্মসংস্থান সংকট সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের চাহিদা পূরণে কতটা আগাচ্ছি তা দেখতে হবে।

মিয়ানমারে সু চির দলের এমপিসহ চারজনের ফাঁসি কার্যকর

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) সাবেক এক এমপিসহ চারজনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির সামরিক জান্তা সরকার।

সোমবার এ রায় কার্যকর করা হয় বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

অনেক বছর ধরেই দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নজির ছিল না। তবে চারজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকরের মধ্য দিয়ে কয়েক দশক পর সেই দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া আবার ফিরে এলো।

‘নৃশংস ও অমানবিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য এই চারজনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে একজন বিশিষ্ট গণতন্ত্র কর্মীও রয়েছেন।

কারা প্রথা অনুযায়ী এ দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তবে কোথায় এ দণ্ড কার্যকর হয়েছে তা নিয়ে ক্ষমতাসীন সামরিক সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে গত বছর ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মিয়ানমারের শীর্ষ নেতাসহ অনেককে গ্রেফতার করে সামরিক জান্তা। বেশ কজনকে দেওয়া হয় মৃত্যুদণ্ড।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া সাবেক এমপি ফিও জেয়া থাও গ্রেফতার হয়েছিলেন গত নভেম্বরে। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারিতে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রায় ঘোষণা করা হয়। সামরিক আদালতের রায়ে গণতন্ত্রীকর্মী কাউ মিন উকেও দেওয়া হয় একই দণ্ড।

বাকি দুজনকে দণ্ড দেওয়া হয়েছিল এক নারীকে হত্যার মামলায়। গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির সেনাবাহিনী।

এ সময় আটক করে শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ অনেককে।

এরপর থেকেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে নজিরবিহীন বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে মিয়ানমার। বিক্ষোভ দমনে কঠোর হয় সেনাবাহিনী। গ্রেফতার করা হয় বহু বিক্ষোভকারীকে।

শপথ নিলেন ভারতের প্রথম আদিবাসী প্রেসিডেন্ট

ভারতের ১৫তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন দ্রৌপদী মুর্মু। দ্রৌপদী মুর্মু ভারতের প্রথম আদিবাসী প্রেসিডেন্ট।

সোমবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে নয়াদিল্লিতে পার্লামেন্টের সেন্ট্রাল হলে শুরু হয় শপথ অনুষ্ঠান। দ্রৌপদী মুর্মুকে শপথবাক্য পাঠ করান দেশটির সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এন ভি রমানা। খবর এনডিটিভির।

ঝাড়খণ্ডের সাবেক গভর্নর দ্রৌপদী মুর্মু গত ১৮ জুলাই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন এনডিএর প্রার্থী ছিলেন।

নির্বাচনে দ্রৌপদী মুর্মু ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিরোধীদলীয় প্রার্থী যশবন্ত সিনহা।

শপথ নেওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতিকে গান স্যালুট দেওয়া হবে। এর পর সেন্ট্রাল হলে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন দ্রৌপদী মুর্মু।

এ সময় বিদায়ী রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, উপ-রাষ্ট্রপতি এম ভেঙ্কাইয়া নাইডু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাসহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সব সদস্য উপস্থিত থাকবেন।

সাঁওতালি শাড়ি পরেই দ্রৌপদী মুর্মু রাইসিনা হিলসে পা রাখেন। বিশেষ শাড়ি নিয়ে দিল্লি পৌঁছেছেন তার নিকট আত্মীয় সুকরি টুডু।

তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দিদির জন্য ঐতিহ্যবাহী সাঁওতালি শাড়ি নিয়ে এসেছি। ওই শাড়ি পরেই দিদি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন। দ্রৌপদী মুর্মুর ভাইয়ের স্ত্রী সুকরি।

শুধু শাড়ি নয় দ্রৌপদীর আত্মীয়রা তার জন্য বিশেষ মিষ্টি আরিসা পিঠাও নিয়ে গেছেন দিল্লিতে।

তারা আরও জানিয়েছেন, দ্রৌপদীর এ জয় আদিবাসী সমাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

ভারতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৬৪ শতাংশ ভোট পেয়েছেন দ্রৌপদী। উত্তর প্রদেশ ও মহারাষ্ট্র থেকে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ভোট পেয়েছেন দ্রৌপদী।

রিজার্ভ-মূল্যস্ফীতি নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না

বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রার রির্জাভ দিয়ে ৫ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। কিন্তু বিশ্বব্যাপী পণ্যের বাজার অস্থিরতার কারণে কমপক্ষে ৭ মাসের ব্যয় মেটানোর রিজার্ভ থাকা দরকার। আর মূল্যস্ফীতি ‘গড় বা মাসিক’ যে কোনো হিসাবে অতীতের তুলনায় এর হার অনেক বেশি। রিজার্ভ ও মূল্যস্ফীতির সংকট এখন দৃশ্যমান।

তবে বিশ্ববাজারে কমতে শুরু করছে বিভিন্ন পণ্যের দাম। সর্বশেষ কৃষ্ণ সাগরের বন্দর দিয়ে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি করতে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে রাশিয়া-ইউক্রেন। এতে দাম আরও কমে আসবে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে মূল্যস্ফীতিতে। তবে লোডশেডিং ছাড়া সরকারের ব্যয় সংকোচনসহ অন্যসব পদক্ষেপ রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। কিন্তু লোডশেডিং মোকাবিলায় উৎপাদনমুখী শিল্প, মাঠের কৃষক ও শহরের বড় অ্যাপার্টমেন্টগুলোর জেনারেটের জ্বালানি তেলের ব্যবহার অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এই তেলের ব্যবহারের পরিমাণ লোডশেডিংয়ে সাশ্রয়কৃত তেলের পরিমাণের চেয়ে বেশি হলে হিতে বিপরীতে চলে যাবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত-এমনটি মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

এরই মধ্যে ডলারের রিজার্ভ যা আছে, তাতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। রিজার্ভ নিয়ে অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, নেই বলেও রিজার্ভ এখন ৩৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি। তবে তিনি স্বীকার করে বলেছেন, বিশ্ব অর্থনীতির অঞ্চলগুলোতে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। আমাদের সে পরিস্থিতি মোকাবিলায় যে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার সেগুলো নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকার আবাসিক মিশনের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, দুটি সংকট দৃশ্যমান। প্রথম, বৈদেশিক মুদ্রা এবং দ্বিতীয় মূল্যস্ফীতি। মুদ্রার বিনিময় হারের আচরণ দেখলে বোঝা যায় চাহিদার তুলনায় জোগানের ঘাটতি আছে। বাণিজ্য ঘাটতি ২৩ বিলিয়নে ঠেকেছে। মোট ডলারের আয় ও ব্যয়ের ভারসাম্যে যেখানে উদ্ধৃত্ত থাকত এখন আর নেই। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বারো মাসের গড় এবং মাসিক মূল্যস্ফীতির হার যেটিই বলা হোক বাস্তবতা হচ্ছে, মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে। অতীতের তুলনায় মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবিকায় চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন আরও বলেন, সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে বছরের শুরুতে ব্যয়ের ক্ষেত্রে কৃচ্ছ সাধন করছে। ঘোষিত পদক্ষেপ মানা হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বাণিজ্য ঘাটতি ও আমদানি ব্যয় কমাতে এটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে। দ্বিতীয়, আমদানি নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এতে আমদানি ব্যয় কমবে। কিন্তু তৃতীয় পদক্ষেপ রির্জাভের ওপর চাপ কমাতে জ্বালানি সাশ্রয় করতে লোডশেডিং করা হচ্ছে। এ সিদ্ধান্ত কার্যকরের সুফল ও কুফল অর্থাৎ দুধরনের ফলাফল হতে পারে। কারণ এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কতটা হিসাব করে নিয়েছে সরকার এটি জানা নেই। তিনি বলেন, লোডশেডিংকালীন উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানা চালু রাখা হয়। সেটি ডিজেল, ফার্নেস ওয়েল চালিত জেনারেটর দিয়ে। এছাড়া শহরের বড় বড় অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের জেনারেটর চালু করে দেওয়া হয়। এছাড়া এখন আমন উৎপাদনের মৌসুম। এ বছর বৃষ্টি কম হয়েছে। আমন বৃষ্টিনির্ভর শস্য। বৃষ্টির পানির বিকল্প সেচ দিয়ে পূরণ করছে কৃষক। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ মেশিন চালানো হচ্ছে ডিজেল দিয়ে। এই অর্থনীতিবিদ বলেন, একদিকে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য লোডশেডিংয়ের পথ বেছে নিয়েছে সরকার। অপরদিকে লোডশেডিং মোকাবিলায় উৎপাদনমুখী শিল্প, কৃষক ও অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে জ্বালানি তেলের ব্যবহার বেড়ে যাচ্ছে। যদি এমন হয় লোডশেডিংয়ে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল সাশ্রয় হচ্ছে তারচেয়ে বেশি চলে যাচ্ছে লোডশেডিং মোকাবিলায়। সেক্ষেত্রে সরকারের এ সিদ্ধান্ত হিতে বিপরীত হবে। ড. জাহিদ হোসেন উদাহরণ দিয়ে বলেন, শ্রীলংকা ডলার সাশ্রয় করতে সার আমদানি বন্ধ করে চারশ কোটি ডলার সাশ্রয় করেছিল। কিন্তু এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় খাদ্য ঘাটতি মেটাতে সাড়ে চারশ কোটি ডলারের চাল আমদানি করতে হয়। লোডশেডিংয়ের বিষয়টি যেন সেরকম না হয়।

রপ্তানি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের তুলনায় আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কয়েক মাস ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলারের মজুতে চাপ বাড়ছে। তবে সরকার এই পরিস্থিতিকে এখনও আশঙ্কাজনক মনে করছে না। যদিও রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে বিদ্যুতের লোডশেডিং করাসহ সাশ্রয়ী বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যাতে জ্বলানি আমদানির খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক সংকট স্বল্পমেয়াদি নয়। এ সংকট মধ্যমেয়াদি হবে-এমনটি মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

রিজার্ভে চাপ বাড়ছে : বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে গড়ে প্রতিমাসে আমদানি ব্যয় হচ্ছে ৭৫০ কোটি ডলারের বেশি। ওই হিসাবে আগামী ৭ মাসের আমদানি ব্যয় মেটাতে প্রয়োজন ৫ হাজার ২৫০ কোটি মার্কিন ডলার। বর্তমান রিজার্ভ আছে ৩ হাজার ৯৭০ কোটি ডলারের উপরে। তা দিয়ে ৭ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব নয়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় দুই বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ৪০ বিলিয়ন বা চার হাজার কোটি ডলারের নিচে নেমে এসেছে। এক বছর আগেই অর্থাৎ গত বছরের জুলাইয়ে সব রেকর্ড ভেঙে ৪৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি রিজার্ভ হয়েছিল। আন্তর্জাতিক নিরাপদ মান অনুযায়ী স্বাভাবিক সময়ে কমপক্ষে তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান রিজার্ভ থাকতে হয়। যদি খাদ্যপণ্য আমদানি করতে হয় তাহলে থাকতে হবে কমপক্ষে ৫ মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান। বিশ্বব্যাপী অপরিহার্য পণ্যের বাজারে অস্থিরতা থাকলে কমপক্ষে ৭ মাসের সমান আমদানি ব্যয়ের রিজার্ভ থাকতে হয়।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাজারে ডলার সংকট প্রকট। আমদানি ব্যয় মেটাতে গিয়েই এখন রিজার্ভ ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ব্যাংকগুলো নিয়মিত এলসি খুলতেও পারছে না। এই অবস্থায় রেমিট্যান্স বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। রপ্তানি আয় বাড়ানো এখন চ্যালেঞ্জিং। কেননা রপ্তানির বড় বাজার ইউরোপ ও আমেরিকা এখন মন্দায় আক্রান্ত। ফলে ওইসব দেশে রপ্তানি কমে যাবে। এদিকে আমদানি বেড়েই যাচ্ছে। এটি কমানো কঠিন। বেশি কমানো হলে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

নানা পদক্ষেপ আমদানিতে : এরই মধ্যে বিলাসী পণ্য আমদানিতে সরকার নিরুৎসাহিত করেছে। তবে ডলার সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতেও সমস্যা পড়ছেন আমদানিকারকরা। এমনকি বেসরকারি খাতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি এবং সরকারিভাবে বিপিসির জ্বালানি তেল আমদানিতেও অনেক ব্যাংক ঋণপত্র বা এলসি খুলছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

রপ্তানি আয় নিয়ে শঙ্কা : এ বছর রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৭শ কোটি মার্কিন ডলারের। তবে ইউরোপ-আমেরিকায় অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বছর শেষে রপ্তানি আয় নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

রপ্তানি আয় অর্জন না হলে বাণিজ্য ঘাটতি আরও বৃদ্ধি পাবে। চাপ সৃষ্টি হবে রিজার্ভের ওপর। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রত্যাশা করছে সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে যা অর্জন সম্ভব। আর রপ্তানি আয় ঠিক থাকলে রিজার্ভের ওপর চাপও কমে আসবে। যদিও সদ্যবিদায়ি অর্থবছরে রপ্তানি আয় অর্জন হয় ৫ হাজার ২০৮ কোটি মার্কিন ডলারের।

রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির আশা : প্রবাসীদের পাঠানো প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স নিম্নমুখী ধারায় শেষ হয়েছে সদ্যবিদায়ি অর্থবছর (২০২১-২২)। এই অর্থবছরে ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৬ লাখ (২১.০৩ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা আগের বছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ কম। চলতি অর্থবছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৫ শতাংশ। এ বছর ২ হাজার ৪১৮ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স আসবে এমনটি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে, হুন্ডির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া, প্রণোদনা বাড়ানো, বিনিময় হারে বাড়তি দাম পাওয়া ও ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো সহজ করায় এ খাতে প্রবাহ বাড়বে।

বিশ্ববাজারে কমছে দ্রব্যমূল্য : কৃষ্ণ সাগরের বন্দর দিয়ে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি করতে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে রাশিয়া-ইউক্রেন। এই চুক্তির ফলে রাশিয়া কৃষ্ণসাগরে তাদের অবরোধ শিথিল করবে, যাতে ইউক্রেন থেকে জাহাজে খাদ্য রপ্তানি হতে পারে। জানা গেছে, রপ্তানির জন্য প্রস্তুত থাকা প্রায় বিশ মিলিয়ন টন খাদ্যশস্য আটকা পড়েছে ইউক্রেনে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, চলতি বছরের ফসল তোলার পর এর পরিমাণ দাঁড়াবে ৭৫ মিলিয়ন টন। দেশটি বছরে প্রায় ৮৬ মিলিয়ন টনের মতো খাদ্যশস্য উৎপাদন করে যার ৩০ ভাগ তোলাই হয় না বলে জানিয়েছেন খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ লরা ওয়েলেসলি। এই খাদ্যশস্য বিশ্ববাজারে সরবরাহের ফলে মূল্য কমবে এমনটি ধারণা করছে আমদানিকারক দেশগুলো। এদিকে বিশ্ববাজারে সয়াবিন ও পাম তেলের দাম কমছে। দেড় থেকে দুই মাসের ব্যবধানে সয়াবিনের দাম কমেছে ৩২ শতাংশ আর পাম তেলের দাম কমেছে ৪৮ শতাংশ। বিশ্ববাজারের প্রভাবে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে খোলা তেলের দাম এখনো সেভাবে কমেনি। এর হ্রাসকৃত মূল্যে দেশের বাজারে প্রতি লিটারে ১৪ টাকা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে ভোজ্যতেল পরিশোধন মালিক সমিতি। এটি বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুচরা বাজারে আগের মূল্যেই বিক্রি হচ্ছে।

জ্বালানি ও বিদ্যুতে প্রভাব : রিজার্ভ ধরে রাখতে আমদানিসহ সামগ্রিকভাবে ব্যয় কমানোর জন্য সরকার সাশ্রয়ী যেসব ব্যবস্থা নিয়েছে এর প্রভাব পড়েছে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে। আন্তর্জাতিক বাজারে চড়া দামের কারণে ডিজেলসহ জ্বালানি তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানি কমিয়ে আনা হয়েছে। গ্যাস এবং ডিজেলভিত্তিক সব বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে সারা দেশে লোডশেডিং করা হচ্ছে। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বাড়লেও জ্বালানি তেলের অভাবে এখন উৎপাদন কমিয়ে দিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতির উন্নতি আগামী শীতের আগে হবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বব্যাপী মাঝারি মেয়াদের জ্বালানি সংকট রয়েছে। এটি অব্যাহত থাকতে পারে অনেকদিন। বাংলাদেশ অপরিশোধিত ও পরিশোধিত তেল এবং এলএনজি জ্বালানি আমদানিতে যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে। সরকার ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক, আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক এবং দ্বিপাক্ষিক উৎস যেমন-সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার থেকে ঋণ নিতে পারে এমনটি পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় শুধু আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভর করা কঠিন হবে। অভ্যন্তরীণ শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। অবিলম্বে পুরোনো গ্যাস অনুসন্ধান সাইটগুলোতে গ্যাস অনুসন্ধানের ব্যবস্থা প্রয়োজন। সরকারকে উপলব্ধি করা উচিত যে, নবায়নযোগ্য শক্তি বর্তমান জীবাশ্ম-জ্বালানি ভিত্তিক শক্তি সংকটে শক্তি বৈচিত্র্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

সরকারের যত পদক্ষেপ : বর্তমান বৈশ্বিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ সাধন এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকার বেশকিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই অংশ হিসাবে সরকারি চাকরিজীবীদের গাড়ির জ্বালানি খরচ ২০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতের বরাদ্দের ২৫ শতাংশ কম ব্যয় করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তে চলতি বাজেটে ৬ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। এছাড়া অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ ৫০ প্রকল্পে (সি-ক্যাটাগরি) অর্থ ছাড় স্থগিত, বি-ক্যাটাগরির প্রায় ৫০০ প্রকল্পের মোট ব্যয়ের ২৫ শতাংশ অর্থ ছাড় স্থগিত এবং মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থায় সব ধরনের মোটরযান ও জলযান কেনাকাটায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ, অ্যাপায়ন ও ভ্রমণ ব্যয়সহ মনিহারি, কম্পিউটার-আনুষঙ্গিক, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও আসবাত্র কেনাকাটায় ৫০ শতাংশ বন্ধ করা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন কমিটির সম্মানি ব্যয়ও পুরোপুরি স্থগিত করা হয়। সব মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য সরকারি ব্যয়ে সাশ্রয় হবে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা।