উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী রুনা লায়লা দীর্ঘ ১৩ বছর পর আবারো ‘চ্যানেল আই সেরা কন্ঠ’র প্রধান বিচারক হিসেবে কাজ করতে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর দুপুরে চ্যানেল আইতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। জানা যায় আগামী ডিসেম্বর থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে ‘ঐক্য ডটকম ডটবিডি চ্যানেল আই সেরাকন্ঠ ২০২৩’ শুরু হতে যাচ্ছে। সপ্তম বারের মতো সেরা কন্ঠ প্রতিযোগিতা হতে যাচ্ছে।
এবারের প্রধান তিন বিচারক হিসেবে থাকছেন রুনা লায়লা, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও সামিনা চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনে রুনা লায়লা ও রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা উপস্থিত ছিলেন। সামিনা চৌধুরী উপস্থিত থাকতে পারেননি। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনা করেন অপু মাহফুজ। তিনিই মূলত সেরা কন্ঠ’র স্লোগান ‘গানে আওয়াজ তোলো প্রাণে’।
অনুষ্ঠানের প্রকল্প পরিচালক ইজাজ খান স্বপন জানান ৪০টি সেশনে এবারের সেরাকন্ঠ অনুষ্ঠিত হবে। তবে আগামী বছরের ঠিক কোন সময়টিতে চ্যানেল আইতে অনুষ্ঠানটি প্রচারে আসবে তা পরবর্তীতে জানা যাবে। ইজাজ খান স্বপন এবারের সেরাকন্ঠ নিয়ে ভীষণ উচ্ছসিত। তিনি বলেন, ‘শ্রদ্ধেয় রুনা আপার সঙ্গে আমার এই প্রথম কাজ করা হবে। তার সঙ্গে চুক্তি করার আগে যতোদিন আমি কথা বলেছি, আমার যেটা মনে হয়েছে যে আমাকে সময়ের ব্যাপারে খুউব সচেতন থাকতে হবে এবং আমার প্রাপ্তি হচ্ছে এ বছর অনুষ্ঠানকে সাজাতে এতো বড় একজন কিংবদন্তী শিল্পীর সহযাগিতা এবং নানান ভাবনা শেয়ার করেছেন তিনি আমার সঙ্গে।’
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সেরা কন্ঠ’র স্বপ্নদ্রষ্টা চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর। তিনি বলেন,‘ সম্ভবত গান বিষয়ক কোনো রিয়েলিটি শো’র সপ্তম বারের মতো সেরা কন্ঠই হতে যাচ্ছে। সেদিক বিবেচনায় আমাদের এই আয়োজনের নেপথ্যে সবার অংশগ্রহন বিরাট ভ‚মিকা রাখে। যারা অংশগ্রহন করেছেন এর আগে এবং আগামীতেও করবেন তাদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ। ধন্যবাদ আফজাল হোসেনকে চ্যানেল আই সেরাকন্ঠের লোগোটি করার জন্য। যেই লগোর মূল বিষয় আমাদের সেরা কন্ঠ বিজয়ীদের মধ্যে আমরা তা লক্ষ্য করি। তারা নিজেদেরকে প্রজন্মের সেরা শিল্পী হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করছে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যতম প্রধান বিচারক রুনা লায়লা বলেন,‘ দীর্ঘদিন পর চ্যানেল আই আয়োজিত সেরা কন্ঠ-র সাথে সম্পৃক্ত হতে পেরে ভীষণ ভালোলাগছে। ধন্যবাদ ফরিদুর রেজা সাগর ও ইজাজ খান স্বপনকে। সেইসাথে ধন্যবাদ অপু মাহফুজকেও। যারা এবারের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করবে তাদের প্রতি আমার একটাই কথা, তারা যেন গানে চর্চায় থাকে নিয়মিত। কারণ সঙ্গীত এমনই একটি বিষয় নিয়মিত চর্চায় থাকা ছাড়া ভালোভাবে গান গাওয়া সম্ভব নয়। এর আগেও আমি সেরা কন্ঠতে বিচারক হিসেবে ছিলাম। সেই সময়ের যারা তারা এখন অনেকেই ভালো করছে। কেউ কেউ আবার সুরও করছে। তাদেরকেও বলছি , তোমরা গানে চর্চাটা নিয়মিত করবে। তবেই গানে নিজেদেরকে যথাযথভাবে প্রমাণ করতে পারবে যে তুমি সত্যিকারের একজন ভালো শিল্পী। চ্যানেল আই সেরাকন্ঠ ২০২৩-এর জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা।’ উত্তর আমেরিকাতেও সরাসরি এবারের সেরাকন্ঠ’র অডিশন হবে।

The post খেলা হবে ডিসেম্বরে appeared first on বিজনেস বাংলাদেশ.
কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি পৌরসভার সাবেক সফল কমিশনার মরহুম মিলন খন্দকারের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ২০১১ সালের আজকের দিনে দাউদকান্দি দোনারচর সংলগ্ন রাস্তার পাশ্বে সন্ধা ৭:৫০ মিনিটে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত হন ।
সাবেক কমিশনার মরহুম মিলন খন্দকারের ১ ছেলে ও ২ মেয়ে । মরহুম মিলন খন্দকারের সহধর্মিনী নুরুন-নাহার বর্তমান দাউকান্দি মডেল পৌরসভার প্যানেল মেয়র । মরহুম মিলন খন্দকারের আত্মার মাগফিরাত কামনা করতে আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। মরহুম মিলন কমিশনার দাউদকান্দি উপজেলার সার্বিক সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন ।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মরহুম সাবেক কমিশনার মিলন খন্দকারের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় দাউদকান্দি তাঁর নিজ বাসভবনে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় । মরহুমের সকল আত্মীয়-স্বজন,বন্ধু-বান্ধব ও শুভানুধ্যায়ীদের তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে ।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি’র (ডিআরইউ) প্রয়াত সদস্যদের সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের জন্য ৬ লাখ টাকা প্রদান করেছে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড। ২৮ নভেম্বর, সোমবার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ফরমান আর চৌধুরী ডিআরইউ’র সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম হাবিবের নিকট এ চেক হস্তান্তর করেন।
এসময় ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক শাব্বির আহমেদ, সৈয়দ মাসুদুল বারী, মোহাম্মদ নাদিম, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জালাল আহমেদ, ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীবৃন্দ এবং ডিআরইউ’র সহসভাপতি মাহমুদুল হাসান ও কার্যনির্বাহী সদস্য সুশান্ত কুমার সাহা উপস্থিত ছিলেন।
জালাল আহমেদ
হেড অব পাবলিক রিলেশন্স
‘জাল যার, জলা তার’ এই নীতি বদলে দিয়েছিল প্রতাপশালীরা। এখানে ‘ক্ষমতা যার, জলা তার’ এমন নীতিই চলছিল। এক সময়ের প্রবহমান পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর খাল-নালাগুলো কব্জায় নিয়ে চলছিল মাছ চাষ বাণিজ্য। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল কৃষকরা।
তবে এখন দখলদারদের হাত থেকে ছুঁটছে খাল-নালাগুলো।
গত দেড় মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দখল হওয়া এরকম ৮০০ একর জমির সরকারি খাল উদ্ধার করেছে প্রশাসন। দণ্ড দেওয়া হয়েছে ১৪ জন দখলদারকে। এতেই নড়েচড়ে বসেছেন সরকারি খাল দখল করা প্রতাপশালীরা। তবে এখনও ছোট-বড় প্রায় ১০০ খাল বেদখল হয়ে আছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলছেন, খালগুলো উদ্ধারে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ অক্টোবর থেকে উপজেলার বিভিন্ন খাল-নালা উদ্ধারে অভিযান শুরু করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা ভূমি সহকারী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ইতিমধ্যে ছয়টি খালের ২৯টি বাঁধ কেটে প্রায় ৮০০ একর জমির সরকারি খাল উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি এসব খালের ১১ জন দখলদারকে চার লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া তিনজনকে দেওয়া হয়েছে কারাদণ্ড।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, এসব সরকারি খাস খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করতো প্রভাবশালীরা। এতে বর্ষা মৌসুমে ফসলি খেতে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষকরা। তারা বলছেন, শুকনো মৌসুমে প্রভাবশালীদের দখল করা খাল থেকে পানি ক্রয় করে চাষাবাদ করতে হতো। এখন যে কয়েকটি খাল দখলমুক্ত হয়েছে ওইসব খালের আশপাশের কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, দখলমুক্ত হওয়ায় খাল এলাকাগুলোতে প্রায় ৭০০ কৃষকের ৫০০ হেক্টর জমি চাষাবাদ উপযোগী হয়েছে।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের সেনের হাওলা গ্রামের কৃষক সায়েম হোসেন বলেন, ‘আমাদের এখানের বাঙরের খালটি (জায়দার খাল) দীর্ঘদিন ধরে দখল করে মাছ চাষ করা হচ্ছিল। সেই খালের বাঁধ কেটে উন্মুক্ত করায় প্রায় ২০০ একর জমির চাষি উপকৃত হয়েছে। ’
প্রশাসনের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, এখনও ছোট-বড় প্রায় এক শ’ খাল দখল করে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। এগুলো দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইকবাল আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বেশ কিছু সমস্যা ছিল তার মধ্যে অন্যতম হলো প্রকৃতির খাল (সরকারি খাস খাল) সেগুলো ব্যক্তি উদ্যোগে আটকে রাখা হয়েছিল। প্রভাবশালী ওইসব লোকজন তাদের মতো দখল করে রেখেছিল। বর্তমান জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে উপজেলা প্রশাসন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান পরিচালনা করে কাজির হাওলার খাল, সেনের হাওলা, বিষার খালসহ এরকম বড় বড় অনেকগুলো খাল ইতোমধ্যে উদ্ধার করেছে।
জানতে চাইলে সরকারি খাল উদ্ধার অভিযান পরিচালনাকারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সালেক মূহিদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালীদের দখলে থাকা সরকারি খালগুলো বাঁধ কেটে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ওইসব দখলদারদের দখলে থাকা ছয়টি খালের ২৯টি বাঁধ কেটে প্রায় ৮০০ একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে। ’
পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য মহিব্বুর রহমান মহিব বলেন, ‘রাঙ্গাবালীতে প্রচুর খাল-বিল, নদী-নালা, জলাশয় এবং স্লুইসগেট রয়েছে। এগুলো বিভিন্ন লোকজন বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটিয়ে তারা ভোগ করছিল। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে খাল নালাগুলোর ইজারা বন্ধ আছে। সম্প্রতি উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে খাল-নালা এবং স্লুইসগেট উন্মুক্ত ঘোষণা করেছি। ’
প্রায় সাড়ে সাত বছর পর জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৮ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটার জামালপুর জিলা স্কুলের মাঠে সম্মেলন শুরু হয়।
বর্তমান কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনের আলোচনাসভা শেষে দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথি ওবায়দুল কাদের সর্বসম্মতিক্রমে বর্তমান কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ কে পুনরায় সভাপতি এবং বাবু বিজন কুমার চন্দ কে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করেন। তিন বছর মেয়াদি ওই কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার নির্দেশ দেন তিনি।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাদের বলেন, বিএনপির সঙ্গে খেলা হবে, রাজপথে খেলা হবে। সেই খেলায় আওয়ামী লীগের নেতারা সামনে থাকবে। মারামারি হবে না, রাজনৈতিক খেলা হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘ফখরুল সাহেব বলেন আগামী ১০ ডিসেম্বর নাকি বাঁশিতে ফু দেবেন খালেদা জিয়া। ফখরুলের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলি, খালেদা কি হ্যামিলিয়নের বাঁশিওয়ালার মতো বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে দেশের ক্ষতি করবেন, তা হবে না।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মারুফা আক্তার পপি, রেমন্ড আরেং প্রমুখ।
২০১৫ সালের ২০ মে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন হয়। সম্মেলনে মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ্ সভাপতি এবং ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এর এক বছর পর গঠিত হয় ৭৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি।