বুধবার ,৬ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 668

গান নিয়ে আশাহত আগুন

কণ্ঠশিল্পী আগুন গানে বরাবরই সক্রিয়। করোনাকালেও নিয়মিত নতুন গান প্রকাশ করে যাচ্ছেন তিনি। গত প্রায় এক বছরে এ সংগীতশিল্পীর হাফডজন নতুন গান প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু কোনো গানেই প্রত্যাশা অনুযায়ী সাড়া পাননি। এ নিয়ে যুগান্তরের কাছে আশাহত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আগুন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কিছুদিন ধরে বেশ কিছু ভালো মানের গানে কণ্ঠ দিয়েছি। প্রায় প্রতিটি গানই ছিল মানের দিক থেকে উন্নত। কিন্তু কোনো গানেরই তেমন সাড়া পেলাম না। কেন এমন হলো তা জানি না। বিশেষ করে ‘কালো পাথর’ শিরোনামে একটি গানের জন্য ভালো কিছুই প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু এটি নিয়েও স্বপ্ন পূরণ হলো না। কেন এমন হলো তা আমার জানা নেই। হয়তো প্রকাশনা সংস্থাগুলোর প্রচারের কমতির কারণেও এমন হতে পারে। তবে সম্প্রতি নতুন একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছি। আশা করছি এ গানটি শ্রোতাদের কাছে উপভোগ্য হবে।’

লজ্জার হারের জন্য আইপিএলকে দুষলেন পেসার বুমরা

পর পর দুই ম্যাচে নাস্তানাবুদ ভারত। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগে চরম ব্যর্থ বিরাট কোহলির দল।

প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বোলারদের তোপে ১৫১ রানে থেমে যায় বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইনআপ। পরের ম্যাচে যেন আগের ম্যাচের পুনারবৃত্তি। রোববার ভারত থামল ১১০ রানে।

ফলে যথাক্রমে ১০ ও ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারল বিরাট কোহলির দল।

সমালোচকদের প্রশ্ন— একই ভেন্যুতে এই তো কদিন আগেই মাসব্যাপী আইপিএল খেলেছেন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ভারতীয় দলের ক্রিকেটাররা। চার-ছক্কার পসরা মিলিয়ে বসেছিলেন কোহলি-রোহিত ও রাহুলরা। ক্ষুরধার বোলিং করেছিলেন, বরুণ-বুমরা-শামিরা।

এখন সেসব তারকা বিশ্বকাপ মঞ্চে নেমেই অচেনা হয়ে গেলেন কেন?

সমালোচকদের সেই প্রশ্নের জেরেই নিজেদের ব্যর্থতার দায় আইপিএলের কাঁধেই চাপাতে চাইলেন ভারতীয় পেসার জাসপ্রিত বুমরা।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শোচনীয় পরাজয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে কোহলির বদলে বুমরা হাজির হন।

টানা দুই লজ্জার হারের কারণ জানাতে গিয়ে বুমরা জানালেন আইপিএল খেলতে খেলতে দলের সবাই ক্লান্ত। দীর্ঘসময় পরিবারের পাশে না থাকতে পেরে মানসিক অবসাদেও ভুগছেন তারা। যার প্রভাব খেলায় পড়েছে।

ভারতীয় পেস আক্রমণের মূল বোলার বলেন, ‘খেলোয়াড়দের বিশ্রামের দরকার হয়। (আইপিএল ও অন্যান্য সূচির কারণে) টানা ছয় মাস খেলতে থাকা সহজ কথা নয়। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর প্রয়োজন হয়। সেটি মনের মধ্যে চলতে থাকে। যদিও মাঠে নামলে সেটি ভাবা উচিত নয়, চলেও না। বিসিসিআই চেষ্টা করেছে আমাদের সাহায্য করতে। কিন্তু সূচি কী হবে সেটি আমাদের হাতে থাকে না। জৈব সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে থাকলে মানসিক ক্লান্তি আসবেই। কিছু করার নেই আমাদের।

সেই অজুহাতের পর উইকেট ও টসভাগ্যকেও দায়ী করলেন বুমরা।

বললেন, ‘আগের ম্যাচে আমরা দেখেছিলাম যে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করা সহজ হয়ে গিয়েছিল। আজ বল করার সময় আমাদের লেংথ বলগুলো সেভাবে কাজে লাগেনি। কিন্তু ওরা বল করার সময় সেই বল ঠিকমতো ব্যাটে আসছিল না। সে কারণেই আমরা আগে ব্যাট করতে নেমে বেশি রান করার চেষ্টায় আক্রমণাত্মক ব্যাট করছিলাম। আর একের পর এক উইকেট দিয়ে এসেছি। টস খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে নিল।’

নামিবিয়ার নিচে ভারত, সেমিফাইনালে উঠতে কোহলিদের সামনে যে সমীকরণ

সুপার টুয়েলভে টানা দুই ম্যাচে হরে সেমিফাইনালের টিকিট প্রায় অনিশ্চিত করে ফেলেছে ভারত। আনন্দবাজার পত্রিকা, হিন্দুস্তান টাইসমসহ ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর মতে, সেমিফাইনালের আশা কার্যত শেষ ভারতের।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে হেরেছে ভারত-নিউজিল্যান্ড দুই দলই। যে কারণে অলিখিত ‘কোয়ার্টার ফাইনাল’ ছিল আজকের ম্যাচটি। সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে তাই জয়ের বিকল্প ছিল না কারওরই। এমন সমীকরণে বিশাল ব্যবধানে জিতেছে নিউজিল্যান্ড।

প্রশ্ন উঠেছে সেমিফাইনালে যাওয়ার আশা কি তবে এখানেই শেষ কোহলিদের? কারণ টানা দুই ম্যাচ হেরে ‘গ্রুপ-২’ -এ পয়েন্ট টেবিলে একেবারে তলানিতে ভারত। নামিবিয়ারও নিচে তারা।

পয়েন্ট টেবিল বলছে – তিন ম্যাচ জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পাকিস্তান ইতিমধ্যে সেমির রাস্তা প্রায় পাকা করে ফেলেছে। তিন ম্যাচে দুটিতে জিতে দ্বিতীয় অবস্থানে আফগানিস্তান, তাদের পয়েন্ট ৪। দুটি খেলে একটিতে জিতে তৃতীয় অবস্থানে নিউজিল্যান্ড। চারে রয়েছে নবাগত নামিবিয়া। তারা দুটি ম্যাচের মধ্য়ে একটিতে জয় পেয়েছে এবং একটিতে হেরেছে। এ দুই দলের সমান পয়েন্ট ২। তবে নেট রানরেটে এগিয়ে নিউজিল্যান্ড। পাঁচ এবং ছয়ে থাকা দুই দল যথাক্রমে ভারত এবং স্কটল্যান্ড ২টি করে ম্যাচ খেলে দু’টিতেই হেরেছে। তাদের খাতা শূণ্য।

চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে ২ জনের মৃত্যু

চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে দুজনের।

সোমবার সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৬০০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নতুন আক্রান্ত দুজন মহানগর এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া মারা যাওয়া দুজন উপজেলার বাসিন্দা।

চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ২ হাজার ২২৯ জন। এর মধ্যে মহানগর এলাকায় ৭৩ হাজার ৯৬৯ জন এবং উপজেলায় ২৮ হাজার ২৬০ জন।

আর মারা যাওয়া ১ হাজার ৩২৭ জনের মধ্যে ৭২৩ জন মহানগর এবং ৬০৪ বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।

মামাকে কুপিয়ে গাছের ডালে গলায় ফাঁস দিলেন তরুণ

বরগুনার তালতলী উপজেলায় মামাকে কুপিয়ে গাছের ডালে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক তরুণ।

রোববার রাত ১০টার দিকে ছোটবগী ইউনিয়নের গাবতলী গ্রামে থেকে ওই তরুণের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

বুড়িরচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফারুক হোসেন বলেন, মামির বোনকে বিয়ে করতে না পেরে গত ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় মামাকে কুপিয়ে আহত করে ওই তরুণ। এরপর সে পালিয়ে থাকার জন্য পশ্চিম গাবতলী এলাকায় তার বাবার মামাতো ভাইয়ের বাড়িতে যায়।

কাল রাতে তাকে বসত ঘরের পাশে এক রেইনট্রি গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে আত্মীয়রা পুলিশের খবর দেয়।

বিয়ে করতে না পারার লজ্জা আর মামাকে কোপানোর মামলায় ফেঁসে যাবার ভয়ে ওই তরুণ আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তালতলী থানার ওসি কামরুজ্জামান জানান, রাতেই নিহতের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ক্ষুধার জ্বালায় ২ নাতনিকে বিক্রি করতে চান আফগান বৃদ্ধা

আফগানিস্তানের পার্বত্য হিন্দুকোষ প্রদেশের পাশে ঘোরপ্রদেশে রুহসানা সামিমি (৫৪) নামে এক বৃদ্ধা তার দুই নাতনিকে বিক্রি করে দিতে চান।

শিশু দুটির বয়স মাত্র চার ও ছয় বছর। জেনেত ও জিবা নামে দুই নাতনিকে বিক্রি করে ছেলের চিকিৎসা ও পরিবারের সদস্যদের জন্য খাবার জুটাতে চান। খবর আনাদোলুর।

এদের মধ্যে জেনেতকে ২ লাখ আফগানি (২২০০ মার্কিন ডলার) এবং জিবাকে ১ লাখ আফগানির (১১০০ মার্কিন ডলার) বিনিময়ে বিক্রি করতে চান।

গত দুই সপ্তাহ ধরে তাদের বিক্রির চেষ্টা করছেন কিন্তু এখন পর্যন্ত একজন ক্রেতাও আসেনি তাদের কিনতে।

চরম হতাশা নিয়ে রুহসানা সামিমি গণমাধ্যমকে বলেন, পরিবার-পরিজন নিয়ে ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন তিনি। কিন্তু আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে সরকারি লোকজন কেউ তাদের এক মুঠো চাল বা খাবার দিয়ে সাহায্য করতে আসেনি।

এ অবস্থায় অনাহারে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে তাদের পরিবার। তার অসুস্থ ছেলেটি তার ধুঁকে ধুঁকে বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে।

এ অবস্থায় দুই নাতনিকে বিক্রি করা ছাড়া তার কাছে আর কোনো উপায় নেই। দুর্ভিক্ষের কবলে এখন গোটা আফগানিস্তানের অধিবাসীরা। কয়েক বছরের নজিরবিহীন খরায় সৃষ্টি হয়েছে এ দুর্ভিক্ষ। পরিবারের সদস্যদের দু’বেলা দু’মুঠো খাবারের ব্যবস্থা করতে পারছে না পরিবারগুলো।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, আফগানিস্তানের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি অর্থাৎ ২ কোটি ২৮ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়তে যাচ্ছে।

খাবার কেনার জন্য নিজের সন্তান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে বাবা-মায়েরা। জাতিসংঘের মতে, তীব্র খরায় ২০১৮ সালেই ঘরবাড়ি ছেড়েছেন অন্তত ২ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ।

এ বছর দেশটিতে চলমান সহিংসতায়ও এত মানুষ ঘরহারা হয়নি। টানা চার বছর অনাবৃষ্টির কারণে এই অঞ্চলগুলোর কৃষি খাত চরম সংকটে পড়েছে।

এর মধ্যে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের ৯৫০ কোটি ডলার জব্দ করেছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফসহ আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ায় ধীরে ধীরে দুর্ভিক্ষের দিকে এগোচ্ছে আফগানিস্তান।

চীনে যে পণ্য রপ্তানি করছে আফগানিস্তান

সাবেক সরকারের পতনের পর থেকে এই প্রথমবারের মতো চীনে পণ্য রপ্তানি শুরু করেছে আফগানিস্তান। উড়োজাহাজে করে আফগানিস্তান থেকে চীনে পাঠানো হয়েছে পাইন বাদাম। প্রথম চালানে বাদাম পাঠানো হয়েছে ৪৫ মেট্রিক টন।

আফগানিস্তানের গণমাধ্যম টোলো নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

১৫ আগস্ট তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর থেকে দেশটির সঙ্গে বিভিন্ন দেশ স্থলসীমান্ত ও আকাশপথ বন্ধ করে দেয়। এতে আমদানি-রপ্তানি উভয়ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে চীনে পাইন বাদাম রপ্তানি শুরু তালেবান সরকারের জন্য সুখবর বটে।

রোববার কাবুলে ইসলামিক আমিরাতের কর্মকর্তা, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের সদস্য এবং ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে এয়ার করিডোর পুনরায় চালু করা হয়।

চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান ইউনুস মুমান্দ বলেন, আমরা ৪৫ টন পাইন বাদাম রপ্তানি করতে যাচ্ছি। প্রতিদিন এভাবে রপ্তানি করা হবে। এ প্রক্রিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি এবং বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের যৌথ কমিশন দেখভাল করবে।

আফগানিস্তানের তথ্য এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, চোরাই পথে পাইন বাদাম পাচার রোধে কাজ করবে ইসলামিক আমিরাত।

তিনি বলেন, পাইন বাদাম পাচার রোধ এবং পাকতিয়া ও অন্যান্য প্রদেশে পাইন বাদাম প্রক্রিয়াজাত কারখানাকে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া ইসলামিক আমিরাতের দায়িত্ব।

এদিকে উপপ্রধানমন্ত্রী আব্দুস সালাম হানাফি বলেন, আমরা তুর্কমেনিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছি। আমরা টিএপিআই এবং টিএপি প্রজেক্ট নিয়ে একটি সমাধানে পৌঁছেছি।

কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তান থেকে চীনে পাইন বাদাম রপ্তানি পাঁচ মাসের মতো বন্ধ ছিল। এয়ার করিডোর বন্ধ থাকায় নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা।

বাধাগ্রস্ত হবে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার: ড. জাহিদ হোসেন

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় দেশেও দাম বাড়ানোর চাপ বাড়ছে। এই মুহূর্তে দাম বাড়ানো হলে প্রায় সব খাতেই এর প্রভাব পড়বে। ফলে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হবে।

শনিবার বিকালে জ্বালানির দাম বাড়ানোর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে যুগান্তরের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. জাহিদ বলেন, পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেনের দাম বাড়বে। পাশাপাশি সার ও কয়লার দাম বাড়বে। এগুলোর সঙ্গে বলতে গেলে সবকিছুরই সম্পর্ক আছে। বিশেষ করে সার বাংলাদেশে অনেকটা উৎপাদন হলেও অন্যগুলো সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর। এগুলোর দাম আবার সরকার নির্ধারিত। শোনা যাচ্ছে, সরকার এগুলোর দামের সমন্বয় করবে। ইতোমধ্যে অনেক পক্ষ থেকে দাম বাড়ানোর প্রস্তাবও করা হয়েছে। যদি দাম বাড়ানো হয় তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। আন্তর্জাতিক বাজারে এর দাম বাড়ায় বৈদেশিক বাণিজ্য ভারসাম্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আমদানি খরচ বড়ে যাবে। এরই মধ্যে জুলাই-আগস্ট দুই মাসে ১ হাজার কোটি ডলারের মতো আমদানি ব্যয় হয়েছে। শুধু দাম বৃদ্ধির কারণে এমনটি হয়েছে। এদিকে ডলারের দাম বেড়েছে জোগানের তুলনায় চাহিদা বৃদ্ধির কারণে। ফলে মুদ্রা বিনিময় হারের ওপর এর প্রভাব পড়েছে। এসব কারণে সব পণ্যের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকার যদি ডিজেল, এলএনজি ও কয়লার দাম বাড়ায়, তাহলে বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাবে। ফলে ডিজেলনির্ভর বোরো আবাদে খরচ বাড়বে। বিদ্যুতের দাম বাড়ার সঙ্গে সারের দামও বাড়বে। সার্বিকভাবে সব ধরনের শস্যের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে গম ও ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। খরচ বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি ঝুঁকিতে রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব মতে, মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতিও বাড়ছে। সবকিছু মিলে বলা যায়, মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়বে।

জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রশ্নটা হচ্ছে-আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে দেশে পেট্রোলিয়ামজাতীয় পদার্থের দাম বাড়ানো উচিত কি না? সাধারণভাবে মনে হবে হ্যাঁ, বাড়ানো দরকার। সেটি না হলে যারা বা সরকারি যেসব সংস্থা আমদানি করে, তারা লোকসান করবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, ৭-৮ বছর ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কম ছিল। অর্থাৎ ৪০-৪৫ ডলারের আশাপাশে ঘোরাঘুরি করছিল। তখন তো দেশের বাজারে দাম সমন্বয় করে কমানো হয়নি। তখন অবশ্য বলা হয়েছিল, কোম্পানিগুলোর আগের যে লোকসান দিয়েছিল এখন সেটি পুষিয়ে নিচ্ছে। তাহলে আগের বছরগুলোয় যে মোটা অঙ্কের লাভ হলো, সেগুলো কোথায় গেল? এখন আবার দাম বাড়াতে হবে কেন?

এখানে আরও একটি কথা বলে রাখা দরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে যে কোনো সময় আবার দাম কমে যেতে পারে। এখন বিশ্বব্যাপী চলাচল বেড়ে গেছে। গত বছর করোনার কারণে মানুষের চাহিদা থাকার পরও সেটি পূরণ করা যায়নি। কিন্তু এখন সেই চাহিদা পূরণ করতেই মানুষ এদিক-সেদিক ছুটছে। এটা সাময়িক। কেননা এই চাহিদা অস্বাভাবিক হচ্ছে আগের চাহিদাসহ এখনকারগুলো পূরণ করা হচ্ছে বলেই। বছরখানেক পরই আবার সবকিছুই স্বাভাবিক হতে পারে। তখন জ্বালানি তেলের দামও কমে আসতে পারে। এছাড়া করোনা মহামারির কারণে এখনো অনেক বন্দর পুরোপুরি কার্যক্রম করতে পারছে না। বন্দরগুলোয় কনটেইনার জট লেগেই আছে। ফলে সরবরাহব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই অবস্থা যখন স্বাভাবিক হবে, তখন জ্বালানি তেলের দামও কমতে পারে। তখন কি সরকার আবার দাম কমাবে? সেটি তো অতীতে কখনো দেখা যায়নি। তাহলে এখন বাড়ানোর তোড়জোড় কেন?

ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ডিজেল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব আছে। এই মুহূর্তে দেশের অর্থনীতি যেখানে পুনরুদ্ধারের পথে, সেখানে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো যৌক্তিক হবে না। এতে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে। কেননা যারা অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত ছিলেন, করোনার কারণে কাজ হারিয়েছিলেন। তারা কেবল তাদের কাজ ফিরে পেতে শুরু করেছেন। তবে মজুরি করোনার আগের পর্যায়ে এখনো যায়নি। এই মুহূর্তে সেসব মানুষের জীবনযাত্রার মানের ক্ষেত্রে খারাপ প্রভাব পড়বে। নিম্ন আয়ের মানুষের মূল্যস্ফীতির ধাক্কা সামাল দেওয়াটা কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি বলেন, সাময়িকভাবে হলেও সরকারের উচিত ভর্তুকি দিয়ে চালানো। জটিলতা এড়াতে মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া সংস্কার জরুরি। যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের দাম বাড়লে দেশেও বাড়ানো যায়, আবার কমলে দেশেও কমানো যায়। তাহলে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে পড়বে। এছাড়া একটু দেখাও দরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতেও পারে। অন্তত ডিসেম্বর পর্যন্ত দেখে তারপরই দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

কঠোর নজরদারিতে সারের বাজার

এবার সারের বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে। এক শ্রেণির ডিলারের কারসাজির কারণে নির্ধারিত মূল্যে পর্যাপ্ত সার পাচ্ছে না কৃষক। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সারের পর্যাপ্ত মজুত আছে। কোনো সংকট সৃষ্টির সুযোগ নেই। বিষয়টি কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। অপরদিকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) জরুরি বৈঠক করেছে। এতে ডিলার পর্যায়ে নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

জানতে চাইলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল আলম রোববার রাতে যুগান্তরকে বলেন, সরকারের কাছে সারের পর্যাপ্ত মজুত আছে। কোনো ডিলার সার নেই বললে হবে না। আমরা প্রত্যেক ডিলারকে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিয়েছি। এক্ষেত্রে কোনো ডিলার সার দেরিতে উত্তোলন করে সার সংকট বলে চালিয়ে দেবে সেটি হতে দেওয়া হবে না। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় থেকে কঠোর মনিটরিং করা হচ্ছে। বিশেষ করে বরাদ্দ পাওয়া পর কোনো ডিলার দেরিতে উত্তোলন করছে কিনা, ফেলে রাখছে কিনা সেটি দেখা হচ্ছে। তবে শেষ কথা হচ্ছে সারের কোনো ঘাটতি নেই। জানতে চাইলে বিএফএর প্রেসিডেন্ট কামরুল আশরাফ খান পুটন রোববার যুগান্তরকে বলেন, মাঠপর্যায়ে সারের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত মজুত আছে। এরপরও কিছু ডিলার মূল্য বেশি নিচ্ছে এমন সংবাদ আসছে। ডিলার পর্যায়ে সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে আজ অ্যাসোসিয়েশন থেকে নির্দেশ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, সার পরিস্থিতি নিয়ে কিছু দিন আগে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সেখানেও দেখা গেছে সারের মজুত গত বছর এই সময় যা ছিল এবারও একই পর্যায়ে আছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, দেশের ১৭ জেলায় বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) গুদামে এক লাখ ১১ হাজার ৮৮৬ টন সার মজুত আছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক কাফকো বাংলাদেশ থেকে ৩০ হাজার টন ইউরিয়া সার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয় ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে। এতে ব্যয় হবে ১৮৬ কোটি টাকা। এছাড়া বিসিআইসি কাতারের মুনতাজাত থেকে ৩০ হাজার টন ইউরিয়া সার এবং এসএবিআইসি সৌদি আরব থেকে ৩০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কিনবে। দাম হবে ২৮০ কোটি টাকা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, মজুতের পাশাপাশি বিদেশ থেকে সার কেনা অব্যাহত আছে। এর আগের সপ্তাহে ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে।

এদিকে রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, মানিকগঞ্জ, লক্ষ্মীপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শীতকালীন সবজি, ভুট্টা ও বোরো আবাদের এ সময়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এর ফলে এ বছর উৎপাদন কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষিবিদরা। রবিশস্যের বীজ বপনের সময়কাল ১৬ অক্টোবর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ে মূলত অ-ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়। চারা গজানোর পর ব্যবহার করা হয় ইউরিয়া সার। অ-ইউরিয়া সারগুলোর একটি হচ্ছে টিএসপি।

কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এ দেশের কৃষকেরা তিউনিসিয়ার কালো টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) সার বেশি পছন্দ করেন। মাঠপর্যায়ে টিএসপি সার ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হলেও তাতে এখনও সেভাবে সাড়া মেলেনি। সরকার কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী ভর্তুকি দিয়ে এই সার আমদানি করছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা কৌশলে বেশি দাম নিচ্ছেন। কুড়িগ্রামের আমিন বাজার ক্রেতার মোড় বেলগাছার কৃষক নিজাম উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, এখন ধান পেকেছে। সারের চাহিদা কিছুটা কম।

তবে অন্যান্য অঞ্চলে অভিযোগ থাকলেও তাদের এলাকাতে সার নিয়ে সংকটের অভিযোগ এখনও পায়নি।

কৃষক পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত খুচরা মূল্য প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) টিএসপি ১ হাজার ১০০ টাকা (প্রতি কেজি ২২ টাকা), এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) ৭৫০ টাকা (১৫ টাকা কেজি) এবং ডিএপি (ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট) ৮০০ টাকা (১৬ টাকা কেজি)। কৃষকরা বলছেন, প্রকারভেদে বস্তায় এবার তাদের সারের জন্য ১০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেশি খরচ করতে হচ্ছে।

রংপুরের বদরগঞ্জের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের জন্য ১০ জন সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হলেও কেউই ইউনিয়নে গিয়ে সার বিক্রি করছেন না। সবাই বদরগঞ্জ পৌর শহরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে সার বিক্রি করছেন। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে সার নিতে পৌরসভায় আসতে হচ্ছে কৃষকদের। পাশাপাশি প্রতি বস্তায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। রাজশাহীতে ইউরিয়া, টিএসপি, পটাশসহ সব ধরনের সারের দাম বস্তাপ্রতি বেড়েছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা।

লালমনিরহাটের পাটগ্রামের কৃষক সোহেল রানা বলেন, এখনও পুরোদমে ভুট্টার চাষ শুরু হয়নি, তাতেই বেশি দাম ছাড়া সার পাওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সারের দাম বেশি রাখার বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা নিয়মিত সারের বাজার মনিটর না করায় এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করছে সরকার: মির্জা ফখরুল

সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ঘটনা ঘটিয়ে একে বিএনপি দমনে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার এক আলোচনাসভায় বিএনপি মহাসচিব এমন অভিযোগ করে বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যারা বিনষ্ট করছে, তারা অত্যন্ত সুচতুরভাবে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে একটি দলকে স্থায়ীভাবে রাখার জন্য কাজ করছে।

এই পর্যন্ত যত ঘটনা ঘটেছে, প্রত্যেকটি ঘটনায় দেখবেন আওয়ামী লীগের কোনো না কোনো সংগঠনের বা নেতৃবৃন্দ ওই সব ঘটনার সূত্রপাত করেছে। আজ পর্যন্ত তার কোনো বিচার হয়নি। হবে না এই জন্য যে, অস্ত্রটা তাদের দরকার। এই অস্ত্র দিয়ে তারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের জন্য যারা লড়াই করছে, ভোটের অধিকারের জন্য যারা লড়াই করছে, তাদেরকে তারা রুখে দিতে চায়, তাদেরকে তারা স্তব্ধ করতে চায়।

কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের নানা ঘটনা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে, সেটার একটিই উদ্দেশ্য, সেটা হচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। সেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হচ্ছে-বর্তমানে যারা বেআইনিভাবে জোর করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছেন তাদের ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করা এবং সামনে আবার নির্বাচনি নির্বাচনি খেলা আসছে, সেই খেলায় আবার জয়লাভ করা। এটা হচ্ছে মূল লক্ষ্য। ঘটনাগুলো ঘটার সঙ্গে সঙ্গে আমরা প্রথম থেকে বলে আসছি যে, সরকার এসব ঘটনার সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে দায়ী। এ ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে তারা। উদ্দেশ্য বিএনপিকে আবার জড়িয়ে দিয়ে জনগণের যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তার অধিকার আদায়ের জন্য, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে, তার নিরাপত্তার দাবিতে তা থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্নদিকে সরিয়ে দেওয়া।

সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের উদ্যোগে ‘অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ও আজকের প্রেক্ষাপট, আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এই আলোচনাসভা হয়। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সংগঠনের সদস্য সচিব নিপুণ রায় চৌধুরী। সংগঠনের আহ্বায়ক সেলিমা রহমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য আজিজুল বারী হেলালের সঞ্চালনায় আলোচনাসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের নেতা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন তালুকদার, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায় চৌধুরী, শওকত মাহমুদ, হাবিবুর রহমান হাবিব, সুকোমল বড়ুয়া, রুহুল কবির রিজভী, গৌতম চক্রবর্তী, এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, আসাদুজ্জামান আসাদ, মীর সরাফত আলী সপু, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, জহির উদ্দিন স্বপন, খন্দকার আবু আশফাক, আফরোজা আব্বাস, মাইনরিটি জনতা পার্টির সুকুতি কুমার মণ্ডল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নুরুল আমিন রোকন প্রমুখ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকার, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা ডা. রফিকুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, আমিনুল হক, রবিউল ইসলাম রবি, মশিউর রহমান বিপ্লব, একরামুল হক বিপ্লব, রমেশ দত্ত, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, শেখ শামীম, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, আরিফা সুলতানা রুমা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা সবাই পরিবর্তন চাই, এই মুহূর্তে পরিবর্তন চাই। এই পরিবর্তন ঘটাতে হলে সবার আগে তরুণ ও যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলো অবশ্যই তাদের ভূমিকা পালন করবে। সেই রাজনৈতিক দলগুলোয় যাদের ভ্যানগার্ড হিসাবে কাজ করবে তারা হচ্ছে তরুণ-যুবক।

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আজ যেরকম এই আলোচনাসভায় বেশকিছু রাজনৈতিক দলের নেতাদের দেখছি, আমরা যদি একটু একসঙ্গে হই, যদি একবার একসঙ্গে হুংকার দিই, এই সরকার কিন্তু থাকবে না। এই সরকার এখন কাগুজে বাঘ। ছোট একটা টোকা দিলে তারা পড়ে যাবে। আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এই হামলা কোনো সাম্প্রদায়িক নয়। এটা রাজনৈতিক হামলা। সাম্প্রদায়িক বলে এটাকে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এই সরকার সাম্প্রদায়িকতাকে ঘরের মধ্যে পুষে রাখে। যখন দরকার, তখন সেটাকে কাজে লাগায়, যখন যখন যেই কৌশল নিলে তাদের ক্ষমতাকে পোক্ত করার মতো ব্যাপার হয় সেটা করে।

গণফোরামের নেতা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, ঘটনাপরমপরায় আমরা একটা ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে গেছি। পুরো দেশটা একটা ভন্ডামির মধ্যে এসে গেছে প্রতিটা ক্ষেত্রে। আজ যদি সত্যজিত রায় বেঁচে থাকতেন তাহলে আরেকটা নতুন ঐতিহাসিক ছবি পেতাম, সেটা হলো হীরক রানির দেশ।