রবিবার ,১০ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 635

ব্রিজের নিচে টাকার বস্তা, মিলল ৬৬ বান্ডিল!

লালমনিরহাটে একটি ব্রিজের নিচ থেকে ৬৬ লাখ জাল টাকার একটি বস্তা উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই বস্তায় ৬৬ বান্ডিলে এক হাজার টাকার ১০০টি করে নোট ছিল বলে জানা গেছে।

বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের জেলখানা রোডের খোর্দ্দসাপটানা এলাকার একটি ব্রিজের নিজ থেকে ওই টাকা উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, জেলখানা রোডের খোর্দ্দসাপটানা এলাকার একটি ব্রিজের নিচে মাছ ধরতে যান এক ব্যক্তি। এ সময় সেখানে তিনি কিছু ছেঁড়া টাকা দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।

তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্রিজের নিচ থেকে এক হাজার টাকার ৬৬টি বান্ডিল উদ্ধার করে। প্রত্যেক বান্ডিলে এক হাজার টাকার ১০০টি করে নোট ছিল।

স্থানীয় আব্দুস সালাম বলেন, পানির নিচ থেকে আমি টাকার বস্তুটি তুলেছি। উদ্ধার হওয়া সব টাকা আমি হাত দিয়ে নেড়ে দেখেছি। সবই জালনোট।

লালমনিরহাট সদর থানার ওসি শাহ আলম জানান, আমরা এক হাজার টাকার ৬৬টি বান্ডিল উদ্ধার করেছি। টাকাগুলোর পেছনে লেখা ছিল— ‘সাথী সংঘ, লাকি কুপন, ভাগ্য পরিবর্তন।’ ধারণা করা হচ্ছে— উদ্ধারকৃত সব নোট জাল।

শরণার্থীদের দেশে ফিরে আসতে বলল সিরিয়া

নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে বিভিন্ন দেশে শরণার্থী হিসেবে বসবাস করা সিরিয়ার নাগরিকদের ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

শরণার্থীদের ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে মঙ্গলবার রাশিয়া এবং সিরিয়ার মন্ত্রী পর্যায়ের একটি সম্মেলন রাজধানী দামেস্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে। খবর প্রেসটিভি ও সানার।

দামেস্কে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা শরণার্থীদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় নিজেদের ঘরবাড়িতে ফিরে আসার জন্য গৃহীত ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি যুদ্ধবিধ্বস্ত আরব দেশটিতে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয়।

সিরিয়ার স্থানীয় প্রশাসন এবং পরিবেশ বিষয়কমন্ত্রী হোসেইন মাখলুফ বলেন, গতব ছর সিরিয়ার শরণার্থীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে যে আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল তার ধারাবাহিকতায় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশনা অনুসারে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো।

তিনি বলেন, মিত্রদের সহযোগিতায় এবং সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টায় লাখ লাখ শরণার্থী তাদের ঘরবাড়িতে ফিরে এসেছেন। এ জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

মন্ত্রী মাখলুফ বলেন, ফিরে আসা শরণার্থীদের জন্য সিরিয়ার সরকার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের কবল থেকে মুক্ত হওয়া স্থানগুলোতে ফিরে আসা লোকজনকে পুনর্বাসিত করার চেষ্টা করছে।

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আটক ইসরাইলের সেই দম্পতিকে ছেড়ে দিল তুরস্ক

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আটক ইসরাইলের সেই দম্পতিকে ছেড়ে দিয়েছে তুরস্ক।

বুধবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। খবর হুররিয়াত ডেইলি নিউজের।

এ দুই ইসরাইলিকে মুক্তি দেওয়ায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান ও তার সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

এর আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের বাড়ির ছবি তোলায় গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ওই দম্পতিকে আটক করা হয়।

আটকের পর তারা গুপ্তচর নয় বলে দাবি করেন ইহুদিবাদী দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট।

সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি গুপ্তচর আটক নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তুরস্কে।

অক্টোবরেও বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা। তাদের বিরুদ্ধে অন্য দেশের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়।

এ অভিযানে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে যুক্ত থাকার অপরাধে কমপক্ষে ১৫ ব্যক্তি আটক হন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দেশটির আইনানুযায়ী ১৫ থেকে ২০ বছরের জেল হতে পারে।

সূচকের ইতিবাচক ধারায় চলছে পুঁজিবাজারে লেনদেন

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের ইতিবাচক ধারায় চলছে লেনদেন।

এ সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার ডিএসই ও সিএসইসূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

এদিন বেলা ১০টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ডিএসইয়ের সাধারণ সূচক ডিএসইএক্সের লেনদেনে ১২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ৭ হাজার ৭৩ পয়েন্টে। তবে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করে ১৪৮২ পয়েন্টে। এ ছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ২৬৮৮ পয়েন্টে।

এ সময় পর্যন্ত লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৭৩টি কোম্পানির শেয়ারের। দাম কমেছে ১০১টির এবং দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৯টির।

অন্যদিকে একই সময়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সিএএসপিআই সূচক ৪৬ পয়েন্ট বেড়ে ২০ হাজার ৬৮৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সাড়ে চার বছরের মধ্যে জাপানি ইয়েনের মূল্য সর্বনিম্ন

মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানের মুদ্রা ইয়েনের মূল্য গত চার বছর আট মাসের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে।

বুধবার টোকিওতে ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রার মূল্য ১১৪ ইয়েনের আশপাশে ঘোরাফেরা করছিল। খবর এনএইচকের।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে দীর্ঘমেয়াদি সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা ইয়েন বিক্রি করে ডলার কিনে নিচ্ছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকায় খুচরা বিক্রি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে বলে মঙ্গলবার জানা যাওয়ার পর ডলার কিনে নেওয়ার হার বৃদ্ধি পায়।

ইয়েন দুর্বল হয়ে পড়ার কারণে বিদেশে জাপানি পণ্যের মূল্য কমে যাওয়ায় রপ্তানি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত জাপানি ব্যবসায়ীদের জন্য তা সুবিধা করে দেবে। তবে এর খারাপ দিকটি হলো আমদানি করে থাকা তেল এবং অন্য কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি পাবে।

অপরিশোধিত তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে ইয়েনের মূল্য আরও হ্রাস পেলে পেট্রলসহ অন্যান্য জ্বালানির মূল্য বর্তমানের তুলনায় আরও বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে বলে উদ্বেগ দেখা দিচ্ছে।

মানুষের আর্থিক অবস্থার ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে এবং ভোক্তারা ব্যয়ের পরিমাণ আরও কমিয়ে ফেলতে পারেন।

ভোটে জিতে কেন আপনি সংসদে গেলেন না: ফখরুলকে কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপি মহাসচিবের কাছে জানতে চেয়ে বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে কেন আপনি সংসদে গেলেন না? জনমতকে অসম্মান কে দেখাল, সরকার না আপনারা?

ওবায়দুল কাদের বৃহস্পতিবার সকালে তার রাজধানীর বাসভবনে এক ব্রিফিংকালে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি নিশ্চিত হয়েছে জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসতে পারবে না। সে জন্য তারা দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করে ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করতে চায়। বিএনপি উসকানি দিয়ে নানা ঘটনা ঘটিয়ে সরকারের ওপর দায় চাপাতে চায়।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, সাম্প্রতিককালের প্রতিটি অঘটনের সঙ্গে বিএনপি এবং তার সাম্প্রদায়িক দোসররা জড়িত। বিএনপিই শীর্ষ পর্যায় থেকে হত্যা, সন্ত্রাসের মদদ দেয়— আওয়ামী লীগ নয়।

বিএনপির রাজনীতি অস্থিরতাপূর্ণ উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ অস্থিরতা ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার অস্থিরতা, এ অস্থিরতার কারণে বিএনপি ক্রমশ হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে।

গণ অধিকার পরিষদ নেতাদের ওপর হামলা নিন্দনীয়: কাদের

টাঙ্গাইলে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সমাধিস্থলে নবগঠিত দল বাংলাদেশ গণ অধিকার পরিষদের নেতাদের ওপর হামলা দুঃখজনক ও নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ হামলার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

ওবায়দুল কাদের বৃহস্পতিবার সকালে তার রাজধানীর বাসভবনে এক ব্রিফিংকালে একথা জানান।

শুক্রবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়রের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলেও জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, গাজীপুরের মেয়র এবং চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিষয়ে সেখানে আলোচনা হবে।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যারা বিদ্রোহ করছে এবং বিদ্রোহীদের মদদ দিচ্ছে তাদের ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য।

সংসদকে টিকা কেনার ব্যয় জানাননি স্বাস্থ্যমন্ত্রী

করোনাভাইরাসের টিকা কিনতে সরকারের কত ব্যয় হয়েছে, জাতীয় সংসদকে তা জানাননি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেছেন, ‘নন-ক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’–এর মাধ্যমে টিকা কেনা হয়েছে। এ কারনে সংসদে টিকা কেনায় ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করা সমীচীন হবে না। সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে সততা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে করোনার ভ্যাকসিন কেনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেনের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদও টিকার ব্যয় জানতে চান। জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চীন, ভারত ও কোভ্যাক্স থেকে সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে সততা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে টিকা কেনা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, সিসিজিপি ও প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে টিকা কেনা হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘ কমিটিতে প্রস্তাব পাস

মিয়ানমার ও রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে প্রস্তাব পাস হয়েছে জাতিসংঘের একটি কমিটিতে। এতে গণতান্ত্রিকভাবে দেশটিতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের অবসানের আহ্বান জানানো হয়।

এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ জানিয়েছে, বুধবার সাধারণ পরিষদের থার্ড কমিটিতে (সোশ্যাল, হিউম্যানিটারিয়ান অ্যান্ড কালচারাল) সর্বসম্মতিক্রমে এ প্রস্তাব পাস হয়। এ প্রস্তাব আনে ওআইসি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

প্রস্তাবে রোহিঙ্গা সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করা, বাংলাদেশের সঙ্গে সই হওয়া দ্বিপক্ষীয় চুক্তির বাধ্যবাধকতাগুলো পূরণ করা এবং মিয়ানমারে নিযুক্ত জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতসহ জাতিসংঘের সব মানবাধিকার ব্যবস্থাপনাকে পূর্ণ সহযোগিতা দিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

প্রস্তাব অনুমোদনের সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বলেন, জাতিসংঘে এবারই প্রথম সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হলো রোহিঙ্গা রেজুলেশন। যা এ সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক এ প্রস্তাবে প্রাথমিকভাবে দৃষ্টি দেওয়া হয়েছে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং জরুরি অবস্থা জারির পরের পরিস্থিতি।

জাতিসংঘ জানায়, থার্ড কমিটির অনুমোদন পাওয়া প্রস্তাবে সাধারণ পরিষদকে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের নাগরিকদের গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষার প্রতি পূর্ণ সম্মান দেখাতে দেশটির নিরাপত্তা ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি যেন আহ্বান জানানো হয়। সেই সঙ্গে গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তর, আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং জরুরি অবস্থার অবসানের আহ্বান জানানোর কথা বলা হয়েছে সেখানে।

সেনা অভিযান শুরুর পর কয়েক মাসের মধ্যে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। আগে থেকে বাংলাদেশে ছিল আরও চার লাখ রোহিঙ্গা। আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ২০১৭ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও সেই প্রত্যাবাসন আজও শুরু হয়নি।

বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন জানিয়েছে, মিয়ানমার ও রোহিঙ্গা সংকাট নিয়ে এবারের প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ ১০৭ দেশ সমর্থন দিয়েছে।

মাহরাম ছাড়া নারীদের সফর করা যাবে?

ইসলামি শরিয়ত নারীদের সম্মান-মর্যাদা এবং তাদের সুরক্ষিত রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। তাই যে ক্ষেত্রে তাদের সম্মান-মর্যাদা বা সুরক্ষা বিনষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সে ক্ষেত্রে ইসলামি শরিয়ত তাদের জন্য বিশেষ বিধান দিয়েছে।

এই দৃষ্টিকোণ থেকে ইসলামি শরিয়তের সাধারণ বিধান হচ্ছে— স্বামী বা মাহরাম ছাড়া একাকী সফর করা নারীদের জন্য বৈধ নয়।

যদি ৪৮ মাইল (৭৭ কিলোমিটার) বা তার বেশি দূরত্বে সফর হয়, তবে যতক্ষণ পর্যন্ত পুরুষদের থেকে নিজের কোনো মাহরাম আত্মীয় বা স্বামী সঙ্গে না থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো নারীর জন্য সফর করা জায়েজ নেই। তা হজের সফর হোক বা উচ্চশিক্ষার জন্য সফর হোক।

হাদিস শরিফে রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণ সফর এবং হজের সফর— সবক্ষেত্রেই মাহরাম ছাড়া নারীদের একাকী সফর করতে নিষেধ করেছেন।

হজরত ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মাহরামকে সঙ্গে না নিয়ে কোনো নারী তিন দিন দূরত্বের পথে সফর করবে না। (সহিহ বুখারি, হাদিস ১০৮৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৩৩৮)

হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে নারী আল্লাহ এবং আখেরাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে, তার জন্য নিজের বাবা, ছেলে, স্বামী, ভাই বা অন্য কোনো মাহরামকে সঙ্গে না নিয়ে তিন দিন বা ততোধিক দূরত্বের পথ সফর করা বৈধ নয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৩৪০; সুনানে কুবরা, বাইহাকি ৩/১৩৮

এসব হাদিস থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, মাহরাম ছাড়া হজের মতো সফরেও বের হওয়া যাবে না। আর এত সুস্পষ্ট হাদিস থাকার পর এখানে ভিন্ন কোনো যুক্তি দাঁড় করানো বাঞ্ছনীয় নয়।

এমনিভাবে বুখারি শরিফের এক বর্ণনায় এসেছে— হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, নবীজি বলেছেন, কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সঙ্গে তার মাহরাম ব্যতিরেকে একাকী অবস্থান না করে। তখন এক ব্যক্তি উঠে বলল— ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি তো অমুক অমুক যুদ্ধের জন্য নাম লিখিয়েছি। ওদিকে আমার স্ত্রী হজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেছে। নবীজি বললেন, ফিরে যাও। তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হজ কর। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৫২৩৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৩৪১)

এসব বর্ণনায় একটু চিন্তা করলে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, নারীর জন্য মাহরাম ব্যতীত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার ওপর কতটা জোর দেওয়া হয়েছে যে, কোথাও আল্লাহ ও তার রাসুলের প্রতি ইমান আনা যেই রকম জোরের পর এ নিষেধাজ্ঞা আসে।

কোথাও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে স্বামীকে জিহাদের মতো পবিত্র দায়িত্বের পরিবর্তে স্ত্রীকে নিয়ে হজ করতে বলা হচ্ছে।

এ ছাড়া হজ ফরজ হওয়ার পরও মাহরাম ছাড়া কোনো নারীর জন্য তা আদায় করা ওয়াজিব নয়।
বরং তার জন্য হুকুম হলো— যদি মৃত্যু পর্যন্ত মাহরাম পাওয়া না যায়, তা হলে সে মৃত্যুর পূর্বে হজের অসিয়ত করে যাবে।

এখানে আরেকটি বিষয় হলো— ওমরাহ একজন ব্যক্তি ইবাদত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করে থাকে। কিন্তু মহানবীর (সা.) নির্দেশ অমান্য করে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সওয়াবের আশা করা নিরর্থক ও বোকামি।

তা ছাড়া ইসলামি শরিয়তে একজন নারীর সফরের জন্য মাহরামের শর্ত করা হয়েছে তার সম্মান ও সুরক্ষা জন্য এবং তাকে সন্দেহ, বদনাম ও অপবাদ থেকে রক্ষা করার জন্য, যা ছাড়া নারীর কোনো মূল্য নেই।

তাই নারীদের উচিত— শরিয়তের বিধিবিধান মেনে চলা এবং ইসলামি শরিয়তকে নিজের উপকারী হিসাবে বিবেচনা করা।

তাই নারীর জন্য মাহরাম ব্যতীত সফর করা জায়েজ নেই, তা হজ-ওমরাহর জন্যই হোক বা শিক্ষার জন্যই হোক এবং সে একা সফর করুক বা নারীদের কাফেলার সঙ্গে হোক, সে যুবতী হোক বা বৃদ্ধা। সাধারণভাবে নারীদের জন্য মাহরাম ছাড়া সফর করা জায়েজ নেই।

এর হেকমত হলো— সফরে স্বামী ও মাহরাম ব্যক্তি একজন নারীর যতটুকু সম্মান এবং সুরক্ষা করতে পারে, অন্য নারীরা তা রক্ষা করতে পারে না। বরং সেই নারীরা নিজেরাই তো তাদের সতীত্ব রক্ষার জন্য অন্যদের মুখাপেক্ষী।

আল্লাহ এবং রাসুল (সা.) আমাদের যে বিধান দিয়েছেন, আমরা তা মানতে বাধ্য। এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা আছে কী নেই, বদনামের ভয় আছে কী নেই— এটি আমরা বিবেচনা করব না।

বিষয়টি এমন না যে নিরাপত্তার ভয় থাকলে মাহরাম ছাড়া সফর করা জায়েজ নেই। আর যদি নিরাপত্তা পরিপূর্ণ বজায় থাকে, বদনামের কোনো ভয় না থাকে, তা হলে মাহরাম ছাড়া সফর করা জায়েজ আছে। বিষয়টি কখনই এমন না।

তবে হ্যাঁ, যদি বেশি প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন বর্তমানে এমন হয় যে কোনো নারী হজের জন্য টাকা জমা দিয়েছে বা সব কিছু রেডি তখন হঠাৎ করে স্বামী মারা গেল বা যে মাহরামের সঙ্গে হজে যাবে, সে মারা গেল তখন অন্য নিরাপদ নারীদের সঙ্গে হজে যেতে পারবে। অন্যথায় তো তার এই টাকাটা বৃথা যাবে। যেহেতু এটি অকাট্য হুকুম না, তাই এ এ ধরনের জটিল ওজরের ক্ষেত্রে মাহরাম ছাড়াও হজে যেতে পারবে।

সূত্র: আলবাহরুর রায়েক ২/৩১৪-৩১৫; আদদুররুল মুখতার ২/৪৬৪-৪৬৫; মানাসিক, মোল্লা আলী কারী পৃ. ৭৬ ও ৭৮; গুনয়াতুন নাসিক পৃষ্ঠা ২৬-২৭ ও ২৯; ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/১৫৬; বাদায়েস সানায়ে ২/১২৩