শনিবার ,৯ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 559

বড়দিনের কেক

ভ্যানিলা পেস্ট্রি ক্রিমসহ মিনি ফ্রুট টার্টস

৫ ডিমের কুসুম, ৩/৮ চা চামচ লবণ, ২/৩ কাপ, ১/৪ কাপ বেদানা জেলি, ১/৪ কাপ কর্নস্টার্চ, ১/২ কাপ ময়দা, ১/৩ কাপ গুঁড়া চিনি যোগ করুন, ১ চা চামচ ভ্যানিলা নির্যাস, ২ কাপ মাখন, ১ টেবিল চামচ হেভি ক্রিম, ৩/৪ কাপ দুধ দিয়ে ভালো করে বিট করে ছাঁচে ঢেলে দিন। এরপর ফ্রুর্টস দিয়ে বেক করুন।

সৌজন্যে- বেস্ট ওয়েস্টার্ন প্লাস মায়া

কাবা শরীফের গিলাফ সেলাই করছেন সানা খান

বলিউডের ঝলমলে দুনিয়াকে বিদায় দিয়ে অভিনেত্রী সানা খান জানিয়েছিলেন, ইসলামের পথে চলতে চান তিনি। এই ঘোষণার মাস না পেরোতেই গত বছরের ২১ নভেম্বর মুফতি আনাস সায়েদের সঙ্গে প্রণয়ে বাঁধা পড়েন সানা।

এর পর ধর্মেকর্মেই মন দিয়েছেন সাবেক এই অভিনেত্রী। বিয়ের পর প্রথমবারের মতো স্বামীকে নিয়ে ওমরাহ করতে গেছেন তিনি।

ওমরাহ পালনের ফাঁকে কাবা শরীফের কালো গিলাফ সেলাইয়ের কাজে অংশ নেওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন সানা খান।

নিজের ভ্যারিফাইড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এই তথ্য জানিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন তিনি।

ভিডিওর ক্যাপশনে সানা খান লিখেন, ‘আমি স্বপ্নেও কখনও ভাবিনি যে, আল্লাহতায়ালা আমার জন্য এতবড় সৌভাগ্য লিখে রেখেছেন যে, আমি কাবা শরীফের গিলাফ সেলাইয়ের মহান কাজে অংশ নিতে পারবো। আল্লাহ অনেক দয়ালু।’

বিরল এ কাজের সুযোগ করে দেওয়ায় সৌদি সরকারকেও ধন্যবাদ জানান তিনি। এছাড়া স্বামী মুফতি আনাসকেও স্মরণ করেন সানা খান।

প্রসঙ্গত সানা খান ‘ওয়াজাহ তুম হো’, ‘জয় হো’সহ একাধিক বলিউড সিনেমায় অভিনয় করে সিনেপ্রেমীদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। অনেক আঞ্চলিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন সানা।

টেলিভিশনে বেশ কিছু রিয়ালিটি শোতে অংশ নিয়েছেন। বিগ বস ৬-এ জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছেছিলেন এই অভিনেত্রী। কিন্তু হঠাৎ ১৫ বছরের ক্যারিয়ারের ইতি টেনে বাকি জীবন আল্লাহের পথে চলার ও সমাজসেবা করার কথা জানিয়েছিলেন সানা। সেই সঙ্গে সবাইকে কাজের জন্য জোরাজুরি না করতে ও অভিনয়ের প্রস্তাব না দিতে অনুরোধ করেছিলেন তিনি।

 

সালমানের নতুন ছবিতে শাহরুখ খান

কিছু দিন আগেও বলিপাড়ায় সবচেয়ে আলোচিত খবর ছিল শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খানের মাদককাণ্ডে গ্রেফতার হওয়ার ঘটনা। আর এর পর থেকেই অভিনয় বন্ধ রাখেন বলিউড কিংখ্যাত শাহরুখ খান। এমনকি এ ঘটনার পর বাড়ির বাইরেও তেমন বের হতে দেখা যায়নি বলিউড বাদশাহকে।

তবে আরিয়ানের মুক্তির পর অনেকটাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন খান পরিবার। আরিয়ান ঘটনার পরে বুধবার প্রথমবারের মতো শুটিং স্পটে দেখা যায় কিং খানকে। খবর এই সময়ের।

বলি কিংকে শুটিংয়ে দেখে প্রথমে মনে করা হয়েছিল শাহরুখ হয়তো ‘পাঠান’ ছবির মুটিং শুরু করেছেন। কিন্তু পরে জানা যায়, ‘পাঠান’-এর জন্য নয়, এটি ছিল সালমানের টাইগার ৩ ছবির শুটিং।

খবরটি শোনার পর থেকেই ভক্তদের মধ্যে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে যে কোনো চরিত্রে থাকবে শাহরুখ! এদিকে টাইগার ৩ ছবিতে সালমান থাকায় প্রশ্ন উঠছে দুই খান এক ছবিতে থাকলে কার দিকে পাল্লা ভারি হবে?

ভারতীয় ওই গণমাধ্যমে বলা হয়, ইতোমধ্যে প্রায় দুই সপ্তাহ শুটিং করেছেন শাহরুখ। আর খুব শিগগির তার সঙ্গে দেখা যাবে সালমানকেও।

টাইগার ৩ ছবিটির শুটিং শেষ করেই শাহরুখ চলে যাবেন স্পেনে। সেখানে ‘পাঠান’ ছবির বাকি কাজ শেষ করবেন তিনি। আর সেই ছবিতে শাহরুখের সঙ্গে অভিনয় করছেন দীপিকা পাড়ুকোন ও জন আব্রাহাম।

১৮৫ রানে অলআউট ইংল্যান্ড

অ্যাশেজে ব্যাটিং ব্যর্থতায় প্রথম দুই ম্যাচে হারের পর বক্সিং ডে টেস্টেও প্রথম ইনিংসে ধরাশায়ী সফরকারী ইংল্যান্ড।

কামিন্স, স্টার্কদের গতিমেয় বোলিংয়ে মেলবোর্নে টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১৮৫ রানেই গুটিয়ে গেছে জো রুটের দল। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান এসেছে অধিনায়ক জো রুটের ব্যাট থেকে। ৮২ বলে ৪ বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৫০ রান করেছেন তিনি।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান এসেছে জনি বেয়ারস্টোর ব্যাট থেকে, ৩৫।

আর বাকিরা উল্লেখ করার মতো কিছুই করতে পারেননি।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৩ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে হারিয়ে বিপাকে পড়ে ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় ওভারেই কামিন্সের বলে ডাক মেরে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার হাসিব হামিদ। কামিন্সের দারুণ এক ডেলিভারিকে সমীহ করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন হামিদ।

অষ্টম ওভারে জ্যাক ক্রলিকে (১২) গালিতে ক্যাচ বানান কামিন্স। এরপর ডেভিড মালানকে সঙ্গে নিয়ে ৪৮ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক জো রুট।

মালান কামিন্সের তৃতীয় শিকারে পরিণত হয়ে ১৪ রানেই সমাপ্তি ঘটে ডেভিড মালানের ইনিংসের।

কাটায় কাটায় ৫০ করে দলীয় ৮২ রানের মাথায় মিচেল স্টার্কের বলে উইকেটরক্ষককে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রুট।

এরপর জনি বেয়ারস্টো একটা প্রান্ত ধরে রাখলেও এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ইংল্যান্ড। বেন স্টোকস করেন ২৫ রান।

শেষদিকে ওলি রবিনসনের ২২ রান করলে ৬৫.১ ওভারে ১৮৫ রান করে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ডের ইনিংস।

অসি বোলারদের মধ্যে প্যাট কামিন্স আর নাথান লিয়ন পান ৩টি করে উইকেট। মিচেল স্টার্কের শিকার ২টি।

নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে দিয়েছে স্বাগতিকরা। এ রিপোর্ট লেখার সময় ১ উইকেট হারিয়ে ৬১ রান জমা করেছেন ইতোমধ্যে। ১২৪ রানের লিড নিয়ে এগিয়ে ইংল্যান্ড।

৪২ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৩৮ রান করে ক্রাউলির বলে আউট হয়ে ফিরেছেন ওয়ার্নার। ৫১ বলে ২০ রানে অপরাজিত ওপেনার মার্কাস হ্যারিস।

মেসি মাদাগাস্কারে গেলেও এরকমই খেলবে: স্প্যানিশ মিডফিল্ডার

পিএসজিতে গিয়ে বার্সেলোনার মতো করে খেলতে পারছেন না লিওনেল মেসি।

মেসিভক্তদের মধ্যেও অনেকেই বলছেন, মেসি এখনও পিএসজিতে ‘বার্সেলোনার মেসি’ হয়ে দেখা দিতে পারেননি। এখন পর্যন্ত ১৬ ম্যাচে গোল করেছেন ৬টি, করিয়েছেন ৫টি।

তবে কি মেসি ফুরিয়ে যাচ্ছেন? নাকি প্যারিসে এসে চেনা ছন্দে ফিরতে সময় নিচ্ছেন তিনি! এখনও পিএসজিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেননি মেসি।

তবে পিএসজিরই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার আন্দের এরেরার দাবি, মেসি ঠিকভাবে এগোচ্ছেন। এই সময়ে এসে মেসি যেখানেই যাবেন, সেখানেই এভাবেই খেলবেন তা পিএসজি হোক বা বার্সা।

স্প্যানিশ সংবাদপত্র মুন্দো দেপোর্তিভোর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এরেরা বলেন, ‘মেসির মানের খেলোয়াড়দের মানিয়ে নিতে সময় কম লাগে। ফ্রান্সে হোক, স্পেনে হোক বা জাপান কিংবা মাদাগাস্কারেই হোক— ও এ রকমই খেলতে পারবে। মাত্রই মেসি সপ্তম ব্যালন ডি’অর জিতল। কিন্তু এখনও তিনি যেভাবে অনুশীলন করেন, সেটি উপভোগ্য। দেখে মনে হয় তার ক্যারিয়ার মাত্রই শুরু হয়েছে! অনুশীলনকে হালকাভাবে নেন না তিনি কখনও।’

তবে সতীর্থদের সহযোগিতা পেলে মেসি আরও ভালো পারফরম করতে পারবেন বলে জানালেন এরেরা।

স্প্যানিশ মিডফিল্ডার বলেন, ‘মাঝে মাঝে মেসির সেরা ফর্ম আমরা দেখেছি। ধরুন ম্যানসিটির বিপক্ষে ঘরের মাঠের ম্যাচটিতে। আমার মনে হয়, মেসি থেকে সেরাটা বের করে আনতে হলে আমাদের তার চাওয়া বুঝতে হবে। তাকে ভালোভাবে খেলার সুযোগ করে দিতে হবে।’

ভোটকেন্দ্রে টাকার খাম, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারকে প্রত্যাহার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর এজেন্টের কাছে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের নাম লেখা টাকার খাম উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার সকাল ১০টায় মনিয়ন্দ উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ওই কেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার অলোক কুমার চক্রবর্তীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া হাবিবুল বাশার (৩৮) নামে ওই এজেন্টকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বাশার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী লুৎফুর রহমান ভূঁইয়ার (ঘোড়া প্রতীক) এজেন্ট ছিলেন।

মনিয়ন্দ উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. ইফতেখার রসুল সিদ্দিক যুগান্তরকে জানান, ওই এজেন্ট কেন্দ্রে বসে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন।

পরে তার কাছ থেকে আরও একটি মোবাইল ফোন এবং সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার অলোক কুমার চক্রবর্তীর নাম লেখা একটি খাম উদ্ধার করা হয়। খামে ১৭ হাজার টাকা ছিল। এর পর বাশারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তোলা হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন।

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আক্তার জানান, টাকার খাম উদ্ধারের ঘটনায় সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারকে কেন্দ্র থেকে প্রত্যাহার করে এজেন্টকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

লঞ্চে অগ্নিকাণ্ড: মালিকসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

এমভি অভিযান-১০ এ অগ্নিকাণ্ডে ৪১ যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় লঞ্চ মালিক মো. হাম জালাল শেখের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এতে আরও ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

রোববার সকালে বরগুনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন বরগুনা বারের সদস্য আইনজীবী ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাজমুল ইসলাম। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ মাহবুব আলম মামলাটি গ্রহণ করে বরগুনা থানার ওসিকে এজাহার গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। লঞ্চের মালিকের ঠিকানা দেখানো হয়েছে সূত্রাপুর, পুরাতন ঢাকা।

এ মামলায় ছয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ আল মুজাহিদ ও অ্যাডভোকেট এমডি আনিসুর রহমান। তারা ওই লঞ্চে ছিলেন।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার সময় ঝালকাঠির সুগন্ধার সন্নিকটে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে আগুন লাগে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৪১ জন মৃত্যুবরণ করেন। অসংখ্য যাত্রী আগুনে পুরে বরিশাল ও ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বরগুনায় ৩৭ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়।

শুক্রবার বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান ঝালকাঠি থেকে পোড়া লাশ গ্রহণ করেন। এরপর ১০টি লাশ শনাক্ত করে তাদের স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করেন। বাকি ২৩টি বেওয়ারিশ লাশ বরগুনার পোটকাখালী গণকবরে দাফন করেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, বৃহস্পতিবার ঘটনার দিন লঞ্চটিতে আগুন লাগার পরে ভাসতে ভাসতে ঝালকাঠি জেলার কলাবাগান এলাকার কিনারায় পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিস ও ঝালকাঠি প্রশাসনের লোকজন আসিয়া কতিপয় যাত্রীদের দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করিয়া ঝালকাঠি জেনারেল হাসপাতালে এবং বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়। প্রায় অর্ধশতাধিক মৃতদেহ উদ্ধারের পর শনাক্তকৃত কিছু লাশ স্বজনদের নিকট বুঝিয়ে দেন বাকি লাশ বরগুনা জেলা প্রশাসক বরাবরে হস্তান্তর করেন।

ঘটনার সময় হতে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও আসামি স্বয়ং অথবা তার কোনো প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে স্বজন হারানো অভিভাবকদের শান্তনা পর্যন্ত প্রদান করেননি। আসামিপক্ষ বেপরোয়াভাবে লঞ্চ চালায়, ভাড়ার জন্য নিরাপত্তাহীন, অতিরিক্ত বোঝাইকৃত লঞ্চ জলপথে লোক বহন করে, অগ্নি বা দাহ্য বস্তু সম্পর্কে ত্রুটি রেখে, বিস্ফোরক পদার্থ ও যন্ত্রপাতি সম্পর্কে ত্রুটি রেখে অবহেলা ও বেপরোয়া যান চালানোর মাধ্যমে শত শত যাত্রীদের মৃত্যু ঘটানোর অপরাধ করেছেন। এ মৃত্যুর জন্য লঞ্চ মালিক নিজে দায়ী।

মামলার বাদী যুগান্তরকে বলেন, মালিক যদি লঞ্চের ইঞ্জিন ত্রুটি সেরে এবং আগুন নেভানোর যন্ত্রপাতি রাখতেন; তাহলে এত মানুষের মৃত্যু আহত ও যান মালের ক্ষতি হত না। লঞ্চের অধিকাংশ যাত্রী বরগুনার। এ কারণে আমি একজন জনপ্রতিনিধি হিসাবে জনস্বার্থে মামলা করেছি।

মামলার আইনজীবী সাইফুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, কোর্টে যখন মামলা করি তখন বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট বলেছেন লঞ্চ চালকরা দ্রুত যে কোনো কিনারে ভিড়াতে পারতেন। যদি লঞ্চ কিনারে ভিড়াতো তাহলে এত লোকের প্রাণহানি হত না। আদালতে আদেশে বরগুনাবাসী খুশি হয়েছেন।

করোনায় মারা গেলেন টিকাকে ‘না বলা’ বেলজিয়ামের সেই বক্সার

করোনার টিকা সংক্রমণ ও মৃত্যুকে একেবারে শূন্যের কোটায় নিয়ে আসতে পারবে না এখনই, তবে বাঁচার ও সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেবে।— এমনটিই বক্তব্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার।

তবে প্রথম দিন থেকেই টিকাকে অবজ্ঞা করে আসছিলেন তিনবারের বিশ্ব কিক বক্সিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রেদেরিক সিনিস্ত্রা। কখনও টিকা দেবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন।

আর সেই রেসলারই প্রাণ হারালেন করোনায়। টিকা না নেওয়াটাই কাল হয়েছে বেলজিয়ামে ‘সবচেয়ে শক্তিশালী পুরুষ’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া সিনিস্ত্রার, জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

৪১ বছর বয়সে সিনিস্ত্রা গত ১৫ ডিসেম্বর মারা গেছেন বলে খবর প্রকাশ করেছে দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকা।

গত নভেম্বরে করোনায় আক্রান্ত হন সিনিস্ত্রা। শেষ দিকে অবস্থার অবনতি ঘটলে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয় তাকে।

সেই সময় হাসপাতালের বেডে শুয়ে সিনিস্ত্রা লিখেছিলেন— ‘পাশে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। আমি বাসায় থেকে সুস্থ হচ্ছি, যেভাবে সুস্থ হওয়ার কথা। আরও হাজারগুণ শক্তিশালী হয়ে আমি সবার মাঝে ফিরব।’

কিন্তু ফিরতে পারলেন না, বেলজিয়ামের লিয়েজে মারা গেলেন এই কিক বক্সার।

এদিকে টিকা না নেওয়া স্বামীর করোনার মৃত্যু হয়েছে তা স্বীকার করতে নারাজ সিনিস্ত্রার স্ত্রী।

দিনের শুরুতেই সূচকের বড় পতনে চলছে লেনদেন

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্যসূচকের বড় পতনে লেনদেন চলছে।

 

ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

এদিন বেলা ১১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ডিএসইর প্রধান সূচক বা ডিএসইএক্স সূচক ৪৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৬ হাজার ৬৫৪ পয়েন্টে। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৪১৫ পয়েন্টে এবং ডিএস৩০ সূচক ১৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২৪৯৩ পয়েন্টে।

এদিনে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ৬৫টির, কমেছে ২৬৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪০ কোম্পানির শেয়ারের।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সিএএসপিআই সূচক ১৬০ পয়েন্ট কমে ১৯ হাজার ৩৬৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

শীতের অর্থনীতিতে বইছে গরম হাওয়া

করোনার ধকল কাটিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে। এ লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হচ্ছে। শীতের সঙ্গে জড়িত খাতগুলোও ফিরছে সেই আগের রমরমা অবস্থায়। সারা দেশের শপিংমল, বিপণিবিতান, মার্কেটসহ ফুটপাতে শীতকেন্দ্রিক বিভিন্ন পণ্যের বেচাকেনা এখন তুঙ্গে। এসব স্থানে গড়ে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার শীতবস্ত্র বিক্রি হবে। গ্রামে কম্বলের লেনদেন হবে হাজার কোটি টাকা। কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থাও বেশ ভালো। কৃষিতে শীতকালীন সবজি কৃষক পর্যায়ে হাতবদল হবে প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা। পর্যটনের পালে লেগেছে গরম হওয়া। এ খাতে আয় হবে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। শীতের পিঠাপুলির ব্যবসা জমজমাট। স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ। চাকরিজীবীদের অনেকেই বছর শেষে ছুটি নিয়ে ঘুরতে বের হন। সাগর বা পাহাড়ে ভ্রমণের পাশাপাশি শহর থেকে গ্রামেও ফেরেন অনেকে। এ সময় ব্যাংকের চেয়ে মানুষের হাতে নগদ টাকা বেশি। সব মিলে শীতকেন্দ্রিক অর্থনীতি চাঙা হয়ে উঠেছে।

 

এদিকে করোনার নতুন ভাইরাস ওমিক্রনে সংক্রমণ ইউরোপের দেশগুলোয় দ্রুত ছড়াচ্ছে। এর প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতির মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ ব্যাংক।

সরকারি নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, শীতকালকে কেন্দ্র করে অর্থনীতিকে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে নিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শীতের পরও যাতে অর্থনীতির গতি স্বাভাবিক থাকে, সে লক্ষ্যেও কাজ চলছে। করোনার আর কোনো বড় আঘাত না এলে অর্থনীতির চাকা গতিশীলই থাকবে বলে তারা আশা করছেন।

অর্থনীতির সূচকগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অপ্রত্যাশিত কোনো আঘাত না এলে অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় শীতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি সচল থাকে। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে থাকে শীত। এ সময়ে সরকারি-বেসরকারি প্রকল্পগুলো বেশি বাস্তবায়ন হয়। পর্যটন শিল্প থাকে দারুণ চাঙা। শীতবস্ত্রের ব্যবসা থাকে জমজমাট। এ মৌসুমের অন্যতম উপকরণ খেজুর রস, পিঠা-পায়েস, মুড়িমুড়কির দোকান বসে ফুটপাতে। জমে ওঠে কৃষি অর্থনীতিও। এসব মিলে খণ্ডকালীন কর্মসংস্থানের হার বেড়ে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারিতে মানুষের হাতে টাকার প্রবাহ বেড়ে যায়। তবে ডিসেম্বরের শেষদিকে ব্যাংকগুলো তাদের আমানতের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে আমানত সংগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। এ কারণে ডিসেম্বরের শেষদিকে ব্যাংকবহির্ভূত মুদ্রা কমে যায়। অক্টোবর থেকে মধ্য ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকবহির্ভূত মুদ্রা বাড়ে ১১ শতাংশের কাছাকাছি। ডিসেম্বরের শেষদিক থেকে জানুয়ারির প্রথম ২-৩ দিন এটি কম থাকে। পরে আবার তা বেড়ে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহের পর থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ হার ১০ শতাংশের নিচে নেমে আসে।

শীতের অর্থনীতির বড় একটি উপকরণ হচ্ছে পর্যটন। পর্যটকদের পদভারে মুখর থাকে কুয়াকাটা, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটনসমৃদ্ধ এলাকা। এ খাত থেকে শীত মৌসুমেই প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা আয় হয়। শুধু কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্পটে ছুটির দিনগুলোয় প্রতিদিন গড়ে ৪ লাখ পর্যটন অবস্থান করেন। প্রায় ৫০০ আবাসিক হোটেল ও ৪০০ রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এগুলোর ওপর ৮০-৮৫ ভাগের অধিক পর্যটক নির্ভরশীল। অন্য সময়ে ১ লাখের মতো পর্যটক অবস্থান করেন। ১৫ থেকে ১৮ ডিসেম্বর ৪ দিনে কক্সবাজারে ৫০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। একই অবস্থা কুয়াকাটার। এ দুই এলাকার এটিএম বুথগুলোয়ও টাকা তোলার চাপ বাড়ে। সেন্টমার্টিন দ্বীপে প্রতিদিন ৬টি জাহাজ চলাচল করে। এগুলোয় ৩ হাজার পর্যটক যেতে পারেন। আবাসন ব্যবস্থা আছে ৩ হাজারের মতো। ফলে দ্বীপের অর্থনীতিও এখন চাঙা।

ঢাকা থেকে বাসের পাশাপাশি বিমানেও পর্যটকরা কক্সবাজার যাচ্ছেন। ঢাকা থেকে তিনটি বিমান সংস্থার প্রতিদিন ২০ থেকে ২৪টি ফ্লাইট চলে। এগুলোয় ৪ হাজারের বেশি যাত্রী আসা-যাওয়া করতে পারেন। গত সাড়ে ১০ মাসে কক্সবাজারের পর্যটন খাত থেকে আয় হয়েছে হাজার কোটি টাকারও বেশি। পর্যটন মৌসুমকে কেন্দ্র করে এ আয় আরও বেড়ে যায়। এদিকে কক্সবাজার কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে (২০২১-২২) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪০৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ইতঃপূর্বে অক্টোবর পর্যন্ত আদায় হয়েছে ৭৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। গেল বছর করোনাকালীন সময়ে আদায় হয়েছে ২৯৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

কক্সবাজার কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সুমন কান্তি বিশ্বাস জানান, কক্সবাজারে ভ্যাটের তালিকাভুক্ত আবাসিক হোটেল রয়েছে ৩০৯টি, রেস্টুরেন্ট ২১৫টি।

কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল ও রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে পর্যটন খাত থেকে শীত মৌসুমে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি আয় করা সম্ভব।

এদিকে কক্সবাজারের পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পার্শ্ববর্তী জেলা রাঙামাটি ও বান্দরবানেও বেড়েছে পর্যটনসংশ্লিষ্ট আয়।

রাঙামাটি আবাসিক হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির নেতা ইমতিয়াজ সিদ্দিক জানান, করোনার কারণে পর্যটনের সব সেক্টর মিলে ২৫-৩০ কোটি টাকার ক্ষতি হলেও বর্তমানে শুধু রাঙামাটি থেকেই কয়েকশ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব।

পাহাড়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পর্যটক যাচ্ছেন বান্দরবানে। নীলাচল, নীলগিরি, দামতুয়া ঝরনাসহ বিভিন্ন এলাকায় পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে। পাহাড়ের প্রায় সব উপজেলায়ই থাকা-খাওয়ার ভালো ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। শুধু বান্দরবান শহরে দিনে গড়ে দেড় হাজার পর্যটক থাকেন। ছুটির দিনে এ সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়ে যায়। ৩ দিনের ছুটি পড়লে ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। সিলেট শহরেও পর্যটকদের কমতি নেই।

শীত মৌসুম সামনে রেখে সারা দেশে জমে উঠেছে শীতবস্ত্রের ব্যবসা। রাজধানীর ও এর আশপাশের পাইকারি ও খুচরা দোকানগুলোয় বেচাকেনা জমে উঠেছে। ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর ওপারে কেরানীগঞ্জের পোশাক কারখানাগুলোয় বেচাকেনা এখনো জমজমাট। শিশুদের জন্য বাহারি রঙের সোয়েটার, ছেলেদের জন্য জ্যাকেট থেকে শুরু করে ব্লেজার, মেয়েদের জন্য হাল ফ্যাশনের শীত পোশাক-সবই তৈরি হচ্ছে সেখানে।

কেরানীগঞ্জ গার্মেন্ট ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুসলিম ঢালী বলেন, করোনাকালে দেড় বছরে ব্যবসায়ীদের হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে ব্যবসায়ীরা কাজ করছেন। করোনা পরিস্থিতি ভালো থাকলে এ শীতে দেড় হাজার কোটি টাকার পোশাক বিক্রি হবে বলে তিনি আশাবাদী।

এ ব্যবসায় কেরানীগঞ্জের পরেই রয়েছে বঙ্গবাজার। এখানে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পোশাকের পাশাপাশি আমদানি করা পোশাকও পাওয়া যায়। পাইকারি ও খুচরা দুভাবেই বিক্রি হয়। এমনকি নেপাল ও ভুটানের ব্যবসায়ীরাও এখান থেকে শীতবস্ত্র কিনে নিজ দেশে বিক্রি করছেন। বিদেশিদের কাছেও শীতবস্ত্রের জন্য বঙ্গবাজারের বেশ খ্যাতি রয়েছে। তাদের কাছে এটি ‘চিপেস্ট মার্কেট’ বলে পরিচিত। অর্থাৎ এখানে সবচেয়ে কম দামে পণ্য পাওয়া যায়। এ বাজারও জমে উঠেছে। দেশের সবচেয়ে অভিজাত ও বৃহত্তম শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্কের বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও শোরুমগুলোয়ও রয়েছে শীতের হরেক রকমের পোশাক। ক্রেতা আকর্ষণে অনেকে বিশেষ ছাড়ে পণ্য বিক্রি করছেন। এখানে স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্যের পাশাপাশি আমদানি করা বিলাসবহুল পোশাকও মিলছে।

বগুড়ার আদমদীঘি ‘কম্বলের গ্রাম’ খ্যাত। এখানে নশরতপুরের শাঁওইল ও আশপাশের এলাকায় ঝুট কাপড় থেকে সুতা, শাল, চাদরসহ বিভিন্ন শীতবস্ত্রের ব্যবসা চাঙা। বছরে এ শিল্পে সুতা ও শীতবস্ত্র থেকে আয় হয় হাজার কোটি টাকার বেশি। সেখানে অর্ধেক নারীসহ কাজের সুযোগ হয়েছে লক্ষাধিক মানুষের। প্রতিদিন এ বাজারে এক কোটি ৮০ লাখ টাকার ঝুট কাপড় বা সুতা আসে। মাসে বিক্রি হয় ৫৪ কোটি টাকা। বছরের হিসাব দাঁড়ায় ৬৪৮ কোটি টাকা। ঝুট থেকে উৎপাদিত সুতা বিক্রি হয় ৬৩০ কোটি টাকা। মোট লেনদেন এক হাজার ২৭৮ কোটি টাকা। এসব মিলে এ এলাকায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। শীতের বিভিন্ন ধরনের লোশন ও পারফিউমের ব্যবসাও থাকে চাঙা। ইতোমধ্যে কোম্পানিগুলো নানা নামে নতুন নতুন ক্রিম, লোশন ও পারফিউম বাজারে ছেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এসব পণ্যের আমদানিও বেড়েছে। প্রতিবছর গড়ে ১০৫ থেকে ১২০ কোটি টাকার পারফিউম আমদানি হয়। এর মধ্যে ৭০ শতাংশই আমদানি হয় শীতকে কেন্দ্র করে।

শীতের অর্থনীতির অন্যতম উপকরণ খেজুরের রস। এটি দিয়ে নানা রকমের পিঠা ও খাবার তৈরি করে বিক্রি হয়। গ্রামের পাশাপাশি শহরেও এগুলোর পসরা মেলে। যশোর, কুষ্টিয়া, নড়াইল, রাজশাহী অঞ্চল খেজুরের রসের জন্য বিখ্যাত। খেজুরের রস থেকে তৈরি গুড়ের চাহিদা ব্যাপক। কৃষিবিদদের মতে, সাধারণত অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন পর্যন্ত খেজুরের রস সংগ্রহ করা যায়। একজন গাছি প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৫০টি গাছ কাটতে পারেন, যা থেকে ৩০-৩৫ মন গুড় তৈরি হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, শুধু রাজশাহীতে ২০০ কোটি টাকার খেজুরের গুড় উৎপাদন হয়। যশোর ও সাতক্ষীরায় এক মৌসুমে খেজুরের রসকেন্দ্রিক প্রায় হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হয়। এটি চলে মার্চ পর্যন্ত। কুষ্টিয়া, নড়াইল, ঝিনাইদহ, পাবনা, নাটোরেও খেজুরের রসকেন্দ্রিক ভালো বাণিজ্য হয়।

সবজি উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয় স্থানে বাংলাদেশ। বর্তমানে দেশে ৫ লাখ ৮২ হাজার হেক্টর জমিতে ৯৫ ধরনের প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ টন সবজি উৎপাদন হয়। ৩০-৩৫টি সবজিই বেশি উৎপাদন হয়। এর অধিকাংশই শীতে। কৃষক পর্যায়ে এগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ৬ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। পাইকারি ও খচরা পর্যায়ে আরও ৩-৪ গুণ বেড়ে যায়।

শীতের সবজির ওপর নির্ভরশীল দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রায় ১০ লাখের বেশি মানুষ। এছাড়া নরসিংদী, ময়মনসিংহ এলাকায়ও ব্যাপক সবজি উৎপাদন হয়। শীতকালে সবজিকে কেন্দ্র করে এসব অঞ্চলের অর্থনীতিও চাঙা হয়ে ওঠে। আউশ ও আমন দুটি ধানই শীতের সঙ্গে যুক্ত। আমন ধান শীতের শুরুতে বাজারে আসে। বোরো শীতের শেষদিকে রোপণ করা হয়, যা গ্রীষ্মের শুরুতে বাজারে ওঠে। চলতি অর্থবছরে ৪ কোটি ৪ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩ কোটি টনই উৎপাদন হবে আমন ও বোরো। ধানচাষ, কাটাকে কেন্দ্র করে চলে বিশাল কর্মযজ্ঞ। এছাড়াও শীতে গম ও ভুট্টার আবাদ হয়। চলতি অর্থবছরে ১৩ লাখ টন গম ও ৪৯ লাখ টন ভুট্টা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে দেখা যায়-শীতে ধান, গম ভুট্টা, সবজির উৎপাদন, বিপণন, পাইকারি ও খুচরা বিক্রিকে কেন্দ্র করে প্রায় ২ কোটি ৫৮ লাখ লোকের খণ্ডকালীন কর্মসংস্থান হয়। দেশের মোট শ্রমশক্তির মধ্যে আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত ৪৪ দশমিক ৩ শতাংশ। এর মধ্যে কৃষি খাতে ৪০ দশমিক ৬, নির্মাণ খাতে ৫ দশমিক ৫৮ ও পর্যটন খাতে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। শীতে এসব খাতের কর্মীরা কাজের ব্যস্ততার মধ্যে থাকেন। ফলে তাদের আয় বাড়ে।

শীতে আবহাওয়া ভালো থাকে। তাই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ে। এই সময়ে সরকারি-বেসরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন বেড়ে যায়। বিভিন্ন মেলা হয়, মানুষ ভ্রমণ করে, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ে। বৃদ্ধি পায় উৎপাদন, বাড়ে চাহিদাও। বাজারে নতুন চাল ও শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ার কারণে দামও কিছুটা কমে। ফলে মূল্যস্ফীতির হারও জুলাই থেকে অক্টোবর সময়ের তুলনায় নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক অর্থবছরের শুরুতে খুব ভালো অবস্থায় থাকে না। ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে। পরিকল্পনা কমিশনের হিসাবে দেখা যায়, শীতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের হার বেশি। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অর্থব্যয় বাড়ে ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশ। অন্য সময়ে ঝড়-বৃষ্টির কারণে উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়। যে কারণে অর্থছাড়ও ব্যাহত হয়। গত বছরের নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি সময়ে ৫৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এর বিপরীতে জুলাই থেকে অক্টোবরে ২৭ হাজার কেটি টাকা খরচ হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা বিভাগের সাবেক সচিব নূরুল আমিন বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মূল মৌসুমই হচ্ছে শীতকাল। অর্থাৎ নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে এই সময় কোনো বৃষ্টিপাত থাকে না। কোথাও পানি জমে থাকে না। এছাড়া উন্নয়ন কাজের অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে ইট। শীতকালে ভাটা থেকে নতুন ইট বের হয়। দামও কিছুটা কম থাকে। ফলে রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো সংক্রান্ত প্রকল্পের বাস্তবায়ন সহজ হয়। সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, পুরো অর্থবছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাকা খরচ হয় এ শীতকালেই। এডিপির ব্যাপক অগ্রগতি হয় এ সময়টিতেই।