রবিবার ,১৭ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 545

বিএনপিতে পুনর্জাগরণ নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশ পাঠানোর দাবি কেন্দ্র করে উজ্জীবিত বিএনপি। কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে সৃষ্টি হয়েছে চাঙ্গাভাব। দীর্ঘদিন ধরে হতাশায় নিমজ্জিত নিষ্ক্রিয় নেতাকর্মীরা গা-ঝাড়া দিয়ে উঠেছেন। খালেদা জিয়া ইস্যুতে নেতায় নেতায় জিইয়ে থাকা কোন্দলেরও হচ্ছে নিরসন। যারা পদবঞ্চিত তারাও যোগ দিচ্ছেন এসব কর্মসূচিতে। খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর দাবিতে আরও কঠোর কর্মসূচির দাবিও জানাচ্ছেন তারা। চলমান জেলা সমাবেশ শেষ হওয়ার পর আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। সব মিলিয়ে চেয়ারপারসনের চিকিৎসা কেন্দ্র করে বিএনপিতে সৃষ্টি হয়েছে পুনর্জাগরণ।

 

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, আমাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। শুধু বিএনপি নয়, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে বিদেশে পাঠানোর দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার এ দাবিকে তোয়াক্কাই করছে না। আমরা চাই আমাদের দাবি মেনে নিয়ে সরকার অতি দ্রুত তাকে বিদেশ পাঠানোর উদ্যোগ নেবে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া নামটি নেতাকর্মীদের কাছে অত্যন্ত আবেগের। তার এমন পরিস্থিতিতে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভও জন্ম নিয়েছে। তার চিকিৎসার দাবিতে বলতে গেলে সারা দেশের মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ। সরকারের অন্যায় কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে তারা ঘর থেকে বেরিয়ে আসছে। জেল-জুলুম-হুলিয়ার ভয় না করে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে পড়েছে। প্রতিটি সভা-সমাবেশে লাখ লাখ নেতাকর্মী সমবেত হচ্ছে। ১৪৪ ধারাকেও তারা পরোয়া করছে না। বলতে গেলে দলে নতুন করে পুনর্জাগরণ শুরু হয়েছে।

ফখরুল বলেন, সরকার দীর্ঘদিন ধরে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর স্টিমরোলার চালাচ্ছে। অনেককে হত্যা ও গুম করা হয়েছে। দেশে আইনশৃঙ্খলা বলতে কিছু নেই। পদে পদে লঙ্ঘন করা হচ্ছে মানবাধিকার। সবকিছু মিলিয়ে জনগণের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রয়োজন একটা গণঅভ্যুত্থান। আমরা সেই অভ্যুত্থানের ওয়ার্ম আপ করছি। সরকার খালেদা জিয়াকে বিদেশে না পাঠালে পরিস্থিতি সেদিকে মোড় নিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। ওই সময় সারা দেশে সরকারবিরোধী কঠোর আন্দোলন করে দলটি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দাবি আদায় করা সম্ভব হয়নি। ওই আন্দোলনে লাখ লাখ নেতাকর্মীর নামে মামলা দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় নেতাসহ গ্রেফতার হন অনেকে। সাংগঠনিকভাবে পর্যুদস্ত হয়ে পড়ে বিএনপি। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে বারবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সম্ভব হয়নি। সরকারের নানা নির্যাতন এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দলে গতি ফেরাতে ব্যর্থ হয় হাইকমান্ড। আন্দোলনের ডাক দিলেও কার্যত তা সফল হয়নি। আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা ঘর থেকে বের হননি। এতে হতাশ হয়ে পড়ে তৃণমূলও। নানা ইস্যুতে কেন্দ্র ও তৃণমূলের মধ্যে বাড়তে থাকে দূরত্ব। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চরম ভরাডুবির পর নেতাকর্মীরা আরও হতাশ হয়ে পড়েন। খালেদা জিয়া কারাগারে গেলেও এর প্রতিবাদে কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি দলটি। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর নাখোশ তৃণমূল। প্রায় একযুগ ধরে এভাবেই চলে আসছে দলটির কার্যক্রম। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশের বেশির ভাগ জেলায় নির্বাচনি জনসভা করেন। এরপর বিক্ষিপ্তভাবে মহানগর ও জেলায় সমাবেশ হলেও তা নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে পারেনি।

এ বছর ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। করোনা থেকে সুস্থ হলেও নানা অসুখে জর্জরিত হয়ে পড়েন তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার লিভার সিরোসিস ধরা পড়ে। দিন দিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তাকে বিদেশ পাঠাতে সরকারের কাছে বারবার আবেদন করা হলেও তা নাকচ করা হয়। চেয়ারপারসনকে বিদেশে পাঠানোর দাবিতে রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপির হাইকমান্ড। শুরুতে ঢাকায় সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন ও গণঅনশন পালন করা হয়। এরপর মহানগরীতেও একই কর্মসূচি পালন করে। কিন্তু নানা কর্মসূচি পালনের পরও সরকার খালেদা জিয়াকে বিদেশে না পাঠানোর সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। এমন পরিস্থিতিতে দলের করণীয় চূড়ান্তে দফায় দফায় বৈঠক করেন নীতিনির্ধারকরা। খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ইস্যুতে সারা দেশে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে নতুন উদ্যোগ নেয় হাইকমান্ড। এর অংশ হিসাবে দেশের ৩২টি জেলায় সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়। ২২ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এ কর্মসূচি। ইতোমধ্যে অনেক জেলায় সমাবেশ পালন করা হয়। এসব সমাবেশে নেতাকর্মীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও এক দশক বা একযুগ পর হচ্ছে এমন সমাবেশ। দীর্ঘদিন যারা নিষ্ক্রিয় ছিলেন, যারা পদবঞ্চিত তারাও যোগ দিচ্ছেন এসব কর্মসূচিতে। ব্যক্তিগত ক্ষোভ অসন্তোষকে বুকে চেপে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ইস্যুতে নেতাকর্মীরা আজ ঐক্যবদ্ধ।

২৪ ডিসেম্বর জয়পুরহাটের জনসভায় পদবঞ্চিত এবং নিষ্ক্রিয় নেতাকর্মীরাও যোগ দেন। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে দলটি। আন্দোলন-সংগ্রামে কোনো সময় একই মঞ্চে দাঁড়াতে পারেননি পটুয়াখালীর নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ একযুগ পর জেলার নেতারা একই মঞ্চে ওঠেন। মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে পাঠানোর দাবিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তারা এক মঞ্চে ওঠেন। একই মঞ্চে বিএনপি নেতাদের অবস্থান নেওয়াকে তৃণমূল রাজনীতিতে এক নতুন বার্তা বলে মনে করেন দলটির পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা।

জানতে চাইলে পটুয়াখালীর স্থানীয় নেতা আব্দুল বারেক মৃধা যুগান্তরকে বলেন, দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল থাকলে রাজনীতি করে ভালো লাগে না। দীর্ঘদিন পর একই মঞ্চে জেলার সব নেতাকে একসঙ্গে বসতে দেখায় মনের মধ্যে সাহস বেড়েছে। আগামীতে আন্দোলন-সংগ্রামে এটি নতুন উদ্দীপনা হিসাবে কাজ করবে।

জানতে চাইলে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু যুগান্তরকে বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী খালেদা জিয়াকে বিনা দোষে কারান্তরীণ করে রাখা হয়েছে। তার কোনো চিকিৎসা করা হয়নি। আজ তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। বারবার দাবি জানানোর পরও সরকার তাকে বিদেশ পাঠাতে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। এমতাবস্থায় কঠোর আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দাবিতে নেতাকর্মীরা যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। সারা দেশে জেলা পর্যায়ে যে সমাবেশ হচ্ছে তাতে শুধু নেতাকর্মী নয়, সাধারণ মানুষও অংশ নিচ্ছে। চেয়ারপারসনের চিকিৎসা কেন্দ্র করে বিএনপিতে নতুন করে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। সামনে তা গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেবে বলে আশা করি।

আ.লীগের ১৮ বিদ্রোহী প্রার্থী বহিষ্কার

পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ১৮ প্রার্থীকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে ফরিদপুরের মধুখালীতে ১৬ জন ও সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ২ জনকে বহিষ্কার করা হয়। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

মধুখালী (ফরিদপুর) : বহিষ্কৃৃত নেতাকর্মীরা হলেন- বাগাট ইউনিয়নের ইউসুফ হোসেন মোল্যা, আছাদুজ্জামান, মুজিবর রহমান শেখ, সুজিত বসু, জাহাঙ্গীর হোসেন বাবু ও বাচ্চু সরদার। জাহাপুর ইউনিয়নের আক্তার হোসেন, আলী আহম্মাদ, গৌতম বিশ্বাস, মিজানুর রহমান বাচ্চু, সিদ্বিশ্বর মজুমদার, আব্দুর রউফ মাতুব্বর, মনিরুল ইসলাম, সোহরাব হোসেন, শাখাওয়াত হোসেন ও সুজাদুর রহমান। উপজেলা অওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রতন কুমার বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক বকু বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) : সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় বহিষ্কৃতরা হলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম চৌধুরী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোকাররম হোসেন। উপজেলা সদরের বঙ্গবন্ধু চত্বরে রোববার উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নে এক নির্বাচনি সভায় সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবীর ইমন এই ঘোষণা দেন।

রাজধানীতে ১০ কিলোমিটার বেগে বইছে বাতাস

রাজধানীতে উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

রোববার সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। খবর বাসসের।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সারা দেশের আবহাওয়া আংশিক মেঘলাসহ শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বাড়তি অংশ পশ্চিমবঙ্গ ও এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

রোববার শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। তাপমাত্রা কম থাকায় সেখানে তীব্র শীত পড়েছে।

ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫, ময়মনসিংহে ১৪ দশমিক ৪, চট্টগ্রামে ১৬ দশমিক ৫, সিলেটে ১৪ দশমিক ৪, রাজশাহী ১২ দশমিক ১, রংপুরে ১২ দশমিক ৮, খুলনায় ১৪ এবং বরিশালে ১২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। পরবর্তী তিন দিনে রাতের তাপমাত্রা কমতে পারে।

সকাল থেকে ঢাকায় উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫-১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। সকালে ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ।

স্ত্রী হত্যা: বাবুলের মামলাতেই বাবুলকে গ্রেফতার চায় পিবিআই

স্ত্রী মিতু হত্যার ঘটনায় সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের নিজের দায়ের করা মামলায়ই তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে বাবুলকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক।আদালত আগামী ৯ জানুয়ারি বাবুলের উপস্থিতিতে এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করে দিয়েছেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, ‘স্ত্রী হত্যার সঙ্গে মামলার বাদী বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততার তথ্যপ্রমাণ ইতোমধ্যে পেয়েছি।তাই ওই মামলায় তাকে (বাবুল আক্তার) গ্রেফতার দেখাতে আবেদন করেছি।’

এদিকে মিতু হত্যার ঘটনায় তার বাবার করা এক মামলায় গ্রেফতার হয়ে বাবুল আক্তার এখন কারাবন্দি আছেন।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় মিতুকে।

পদোন্নতি পেয়ে পুলিশ সদরদপ্তরে যোগ দিতে ওই সময় ঢাকায় ছিলেন বাবুল। তার ঠিক আগেই চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশে ছিলেন তিনি।

হত্যাকাণ্ডের পর নগরীর পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়, যার বাদী ছিলেন বাবুল আক্তার নিজেই।

ওই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন গত বছরের ১২ মে আদালতে দেন তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক সন্তোষ চাকমা।বাবুলের করা হত্যা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে খোদ বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা ওই তদন্তে প্রতিবেদনে জানায় পিবিআই।এর ভিত্তিতেই বাবুলকে আসামি করে নতুন একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন।

নতুন বছরের প্রথম মাসেই দুই প্রযুক্তি মেলা

কোভিড-১৯ মহামারির তাণ্ডবের মধ্যেই শেষ হলো ইংরেজি বর্ষপঞ্জির আরেকটি বছর ২০২১। এরই মধ্যে ওমিক্রনের চোখ রাঙানিতে শুরু হলো ২০২২ সাল। তবে এখন পর্যন্ত অপেক্ষাকৃত ঝুঁকিমুক্ত অবস্থায় বাংলাদেশ। তারপরও রয়েছে শঙ্কা। তবে সতর্কতার সঙ্গে প্রযুক্তি খাতকে চাঙা রাখতে বছরের শুরুতেই আগের মতো মেলার আয়োজন করছে খাতসংশ্লিষ্টরা। সদ্য শুরু হওয়া জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে দুটি প্রযুক্তি মেলা।

জানুয়ারির ৬ তারিখে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আবার বসছে স্মার্টফোন ও ট্যাব মেলা। দুই বছর বিরতির পর তিন দিন স্থায়ী হবে এবারের আসরটি। মেকারের আয়োজনে এবারের মেলায় থাকছে ৫জি এক্সপিরিয়েন্স জোন।

এদিকে এ মাসেরই ১৫ তারিখে একই ভেন্যুতে হতে যাচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা। ব্যতিক্রমী আয়োজনে তিন দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করছে ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবি। মেলায় সবচেয়ে বড় চমক থাকবে ইন্টারনেট অব থিংকস এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ইন্টারনেটভিত্তিক ডিজিটাল সেবার জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুতি।

সৃষ্টিকর্তার স্মরণে হোক নতুন বছরের পথচলা

শুরুতেই রইল নতুন বছরের শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ। সৃষ্টিকর্তার অপার কৃপায় আমরা নতুন একটি বছরে প্রবেশ করছি, আলহামদুলিল্লাহ।

আল্লাহপাক কুরআন কারিমে ইরশাদ করেন: ‘নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর বিধানে আল্লাহর নিকট মাস গণনায় মাস বারোটি’ (সুরা তাওবা, আয়াত: ৩৬)।

আল্লাহতায়ালা আরো ঘোষণা করেন: ‘তিনিই সূর্যকে তেজস্কর ও চন্দ্রকে জ্যোতির্ময় করেছেন এবং তাদের মঞ্জিল নির্দিষ্ট করেছেন, যাতে তোমরা বছর গণনা ও সময়ের হিসাব জানতে পারো। আল্লাহ এসব নিরর্থক সৃষ্টি করেন নি। জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য তিনি এ সমস্ত নিদর্শন বিশদভাবে বিবৃত করেন’ (সুরা ইউনুস, আয়াত: ৫)।

সাধারণত দেখা যায় নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে লোকেরা হৈ-হুল্লোড় ও ক্রীড়া-কৌতুক আর জাগতিক আনন্দ উল্লাসের মাঝে সারা রাত কাটিয়ে দেয় আর এতে এমন কোন অপকর্ম নেই যা পাশ্চাত্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে না করা হয়।

আমাদের নিজেদের কর্ম নিয়ে একটু তো চিন্তা করা উচিত যে, আমরা কি করছি? যেভাবে ইসলামী জাহানের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.) একবার মিম্বরে দাঁড়িয়ে তার খুতবায় এক ঐতিহাসিক উক্তি উপস্থাপন করেছিলেন, যা ইমাম তিরমিজি (রহ.) স্বীয় গ্রন্থ তিরমিজি শরিফ এবং ইমাম ইবনে আবি শায়বা (রহ.) স্বীয় গ্রন্থ মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বায় উল্লেখ করেন।

হজরত ওমর (রা.) বলেছিলেন, ‘হিসাব চাওয়ার আগে নিজের হিসাব করে নাও, তোমার কাজ পরিমাপ করার আগে নিজেই নিজের কাজের পরিমাপ করে নাও’ (জামে তিরমিজি)।

অথচ আমরা এটি ভেবে দেখি না যে, জীবন থেকে একটি বছরের সমাপ্তি ঘটছে আর প্রবেশ করছি নতুন বছরে, যেখানে আমার করণীয় হল সৃষ্টিকর্তার দরবারে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন, নিজের ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা, নতুন বছর যেন সর্বদিক থেকে মঙ্গলময় হয় সেই দোয়া করা। অথচ তা না করে আমরা সব ধরণের বৃথা কার্যকলাপ এবং অপকর্ম করে নতুন বছরকে স্বাগত জানাচ্ছি।

নববর্ষের মতো সময়ের একটি এহেন গুরুত্বপূর্ণ পর্বে এমন কোনো কাজ করা সমীচীন হবে না, যা আমাদের আমলনামা বা জীবনপঞ্জিকে কলঙ্কিত করবে।

হজরত আলী (রা.) বলেন: তুমি রাতের আঁধারে এমন কোনো কাজ করো না, যার কারণে তোমাকে দিনের আলোয় মুখ লুকাতে হবে। আসলে আজ পৃথিবীর সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রেণির ধর্মের চোখ অন্ধ হয়ে গিয়েছে, তাই তাদের দৃষ্টি সেখানে পৌছা সম্ভব নয় যেখানে একজন মুমিনের দৃষ্টি পৌছে।

একজন মুমিনের মহিমা হল এই সমস্ত বৃথা কার্যকলাপ এড়িয়ে চলা, বরং আত্মজিজ্ঞাসা করা যে, আমাদের জীবনে একটি বছর এসেছে এবং চলে গেছে, এই বছরটি আমাদের কী দিয়ে গেল বা কি নিয়ে গেল আর আমরা কি পেলাম আর কি হারালাম?

একজন মুমিন এটাই দেখবে যে, জাগতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ বছর সে কী হারিয়েছে আর কি পেয়েছে? তার জাগতিক অবস্থা বা বৈষয়িক অবস্থায় কি ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

সে বিগত বছরে কি কি পুণ্যকর্ম করেছে আর এবছর যেন আরো বেশি পুণ্যকর্ম করতে পারে সেই চেষ্টায় সে নতুন বছরকে বরণ করবে তাহাজ্জুদ নামাজ এবং বিশেষ ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে।

আমাদের দুর্বলতার জন্য মহান আল্লাহপাকের দরবারে এই দোয়া করতে হবে, হে আল্লাহ! আমাদের আগত বছর যেন বিগত বছরের ন্যায় আধ্যাত্মিকতার ক্ষেত্রে দুর্বল না হয় বরং আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি দিন, প্রতিটি ক্ষণ ও পদচারণা যেন তোমার সন্তুষ্টির লক্ষ্যে হয়।

আমাদের প্রতিটি দিন যেন বিশ্বনবী ও শ্রেষ্ঠনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শে অতিবাহিত দিন হয়। আমরা যেন পবিত্র কোরআন এবং প্রকৃত ইসলামের শিক্ষানুসারে জীবন পরিচালনা করতে পারি।

এই দোয়া যদি আমাদের হয় আর আমরা যদি নববর্ষের সূচনায় আত্মজিজ্ঞাসা, আত্মবিশ্লেষণ করি তাহলে আমাদের পরিণতি অবশ্যই শুভ হবে।

হজরত ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর দাদা তার পিতাকে পারস্যের নওরোজের দিন অর্থাৎ নববর্ষের দিন হজরত আলী (রা.)-এর নিকট নিয়ে গিয়েছিলেন এবং কিছু হাদিয়া পেশ করেছিলেন।

তখন হজরত আলী (রা.) বললেন, ‘নওরোজুনা কুল্লা ইয়াওম’ মুমিনের প্রতিটি দিনই তো নববর্ষ। অর্থাৎ মুমিন প্রতিদিনই তার আমলের হিসাব নিকাশ করবে এবং নবউদ্যমে আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহ করবে।

আমাদের বছর যদি শুরু হয় উত্তম কাজ দ্বারা আর আল্লাহপাকের কাছে কামনাও থাকে যে, সারা বছরই যেন আমাকে ভালো কাজের তৌফিক দান করেন তাহলে অবশ্যই আমার জীবন হবে শান্তি ও কল্যাণময়।

আমাদেরকে জাগতিকতার আনন্দ উল্লাসে ডুবে না গিয়ে মহান আল্লাহর স্মরণে বছরের সূচনা করতে হবে এবং সারা বছরই যেন আমার দ্বারা কোন অন্যায় কাজ সংঘটিত না হয় তার দিকেও খেয়াল রাখতে হবে আর তবেই না আল্লাহপাক আমাদের ছোটখাট ভুল-ত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দিবেন।

আল্লাহতায়ালা নতুন বছর দেশ, জাতি এবং গোটা বিশ্বের সবার জন্য অফুরন্ত কল্যাণ বয়ে আনুক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক: ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট
masumon83@yahoo.com

তারা কী আর ফিরে আসে ধানসিঁড়ির তীরে

শন শন বাতাসের গর্জনে, কুয়াশাচ্ছন এই দীর্ঘ রাতে, শিশির ফোঁটার শব্দে, কেবল তাদের মনে পড়ে, শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের যাদের হারিয়েছি বীভৎস মহামারির এ বছরে, দুই হাজার একুশে। দুর্লঙ্ঘ পাহাড়, সমুদ্রের সীমানা পেরিয়ে হলেও যদি তাদের দেখা পাওয়া সম্ভব হতো, তবে পরিযায়ী বিপ্লবী হয়ে আমি দেখা করতাম তাদের সাথে, আত্মা দহনের সৌন্দর্য উপলব্ধির স্মৃতিসৌধে। কিন্তু না, তাদের সঙ্গে কখনোই, কোনোভাবেই দেখা করা সম্ভব নয়। যারা চলে যায়, তারা আর ফিরে আসে না ধানসিঁড়ির তীরে। যদিও জীবনানন্দ লিখেছেন, ‘আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে/জলঙ্গীর ঢেউ এ ভেজা বাংলারি সবুজ করুণ ডাঙ্গায়।’ এ বছর যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে বাংলাদেশের শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক একটি প্রদীপ হয়ে আলো ছড়িয়েছেন যারা, বছর শেষে তাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি করুণ বিলাপের সুরে, তাদের শৈল্পিক-উৎকর্ষ সম্পর্কে জানি অঞ্জলি ভরা দুঃখে।

রাবেয়া খাতুন

অর্ধ শতাধিক উপন্যাসের রচয়িতা রাবেয়া খাতুন। তিনি স্বাধীনতা পুরস্কার ও একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক। লেখালেখির পাশাপাশি রাবেয়া খাতুন শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতা করেছেন। এ ছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির কাউন্সিল মেম্বার। জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রের গঠনতন্ত্র পরিচালনা পরিষদের সদস্য, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুরিবোর্ডের বিচারক, শিশু একাডেমির কাউন্সিল মেম্বার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘নতুন কুঁড়ি’র বিচারক। তার জন্ম ১৯৩৫ সালে ২৭ ডিসেম্বর বিক্রমপুরে। ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি ৮৫ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

এ টি এম শামসুজ্জামান

জনপ্রিয় অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান ছিলেন পরিচালক, কাহিনিকার, চিত্রনাট্যকার, সংলাপকার ও গল্পকার। অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র পর্দায় তার আগমন ১৯৬৫ সালের দিকে। ১৯৭৬ সালে চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ চলচ্চিত্রে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন তিনি। ১৯৮৭ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘দায়ী কে?’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘চোরাবালি’ ছবিতে অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে পার্শ্বচরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার সম্মাননা অর্জন করেন। একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামানের জন্ম ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে। ২০২১ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

সৈয়দ আবুল মকসুদ

দেশের প্রথিতযশা গবেষক, সাংবাদিক, কলাম লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ। তার রচিত বইয়ের সংখ্যা ৪০টিরও বেশি। ‘জার্নাল অব জার্মানি’ তার লেখা ভ্রমণকাহিনি। এ ছাড়া বাংলা সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য ১৯৯৫ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান তিনি। তিনি ১৯৪৬ সালের ২৩ অক্টোবর মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার এলাচিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মারা যান রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে।

মহিউদ্দিন আহমেদ

প্রকাশনা জগতের মহিরুহ ছিলেন মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) প্রতিষ্ঠাতা। তাকে ২০১৪ সালে ‘ইমেরিটাস প্রকাশক’ সম্মাননা দেয় বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি। ২০১২ সালে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ প্রকাশ করেন। ১৯৬৬-৬৯ সময়কালে কারাগারে বন্দিদশায় বঙ্গবন্ধু দিনলিপি আকারে এই আত্মজীবনী লিখেছিলেন। বাংলাভাষায় প্রকাশনার পাশাপাশি বইটি একই সঙ্গে ভারত (পেঙ্গুইন) ও পাকিস্তানে (ওইউপি) ইংরেজি ও উর্দু ভাষায় প্রকাশের ব্যবস্থাও তিনি করেন। তিনি ১৯৪৪ সালে ফেনীর পরশুরামে জন্মগ্রহণ করেন। ২০২১ সালের ২২ জুন মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

নুরুল হক

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ইডেন মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক প্রধান ষাটের দশকের প্রতিভাবান কবি নূরুল হক। যিনি নির্লিপ্ত এবং অগোচরে থেকেছিলেন আমৃত্যু। তিনি ১৯৪৪ সালে নেত্রকোনার মদন উপজেলার বালালি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০২১ সালের ২২ জুলাই ৭৭ বছর বয়সে তিনি চলে যান না ফেরার দেশে। তার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো-‘সব আঘাত ছড়িয়ে পড়েছে রক্তদানায়’, ‘একটি গাছের পদপ্রান্তে’, ‘মুক্তিযুদ্ধের অসমাপ্ত গল্প’, ‘শাহবাগ থেকে মালোপাড়া’, ‘এ জীবন খসড়া জীবন’ এবং ‘কবিতাসমগ্র’।

শেখ আবদুল হাকিম

দেশের রহস্য রোমাঞ্চ উপন্যাসের অন্যতম প্রধান লেখক ও অনুবাদক শেখ আবদুল হাকিম। তিনি দেশের পাঠকপ্রিয় গোয়েন্দা কাহিনি ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের লেখক। তিনি ১৯৪৬ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায় জন্মগ্রহণ করলেও দেশভাগের পর ঢাকায় চলে আসেন। ২০২১ সালের ২৮ আগস্ট রাজধানীর মাদারটেকের নন্দিপাড়ায় বড় মেয়ের বাড়িতে ইন্তেকাল করেছেন। ‘কুয়াশা সিরিজ’-এর ৫০টি বই ও ‘মাসুদ রানা সিরিজ’-এর ২৬০ বইয়ের লেখকই ছিলেন তিনি। জনপ্রিয় এই লেখক সেবা প্রকাশনীর মাসিক ‘রহস্য পত্রিকা’র সহকারী সম্পাদক হিসাবেও যুক্ত ছিলেন।

বুলবুল চৌধুরী

খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক বুলবুল চৌধুরী জীবনের শুরুতে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার প্রকাশিত প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘টুকা কাহিনি’ তৎকালীন সাহিত্যাঙ্গনে বেশ আলোড়ন তুলেছিল। বুলবুল চৌধুরীর লেখা উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘পরমানুষ’, ‘মাছের রাত’, ‘চৈতার বউ গো’। উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ‘অপরূপ বিল ঝিল নদী’, ‘কহকামিনী’, ‘ইতু বৌদির ঘর’, ‘জলটুঙ্গি’ উল্লেখযোগ্য। সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক, হুমায়ূন কাদির স্মৃতি পুরস্কার, জসীমউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কারসহ অগণিত পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। ২০২১ সালের ২৮ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার জন্ম ১৯৪৮ সালে ১৬ আগস্ট গাজীপুরের দক্ষিণ বাগে।

আতাউর রহমান

বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক ও রম্যলেখক আতাউর রহমান ১৯৪২ সালে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়নের নগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আমলা, লেখক, কূটনীতিক ও অসাধারণ বক্তা ছিলেন। ২০২১ সালের ২৮ আগস্ট চলে গেছেন না ফেরার দেশে। জনপ্রিয় এই লেখকের ২৪টি বই প্রকাশিত হয়েছে।

হাসান আজিজুল হক

স্বাধীনতা পুরস্কার ও একুশে পদকজয়ী প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক ৮২ বছর বয়সে গত ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর মারা যান। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার পাশাপাশি লেখালেখি করে গেছেন। তিনি একাধারে গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধ লিখেছেন। বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ১৯৩৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার যবগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। প্রায় অর্ধশতক ধরে হাসান আজিজুল হক লিখেছেন। তার লেখা ছোটগল্প ‘আত্মজা ও একটি করবী গাছ’ ব্যাপকভাবে পাঠক সমাদৃত। ‘আগুনপাখি’ নামে হাসান আজিজুল হকের একটি উপন্যাস প্রকাশিত হয় ২০০৬ সালে। উপন্যাসটি প্রথম আলো বর্ষসেরা বইয়ের স্বীকৃতি পায়।

রফিকুল ইসলাম

একুশে পদকপ্রাপ্ত নজরুল গবেষক বাংলা একাডেমির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ১৯৩৪ সালের ১ জানুয়ারি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ফুসফুসের জটিলতায় ভুগে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর মারা যান। ২০১২ সালে সরকার তাকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে। এ ছাড়া একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, নজরুল একাডেমি পুরস্কারসহ নানা সম্মানে ভূষিত হন রফিকুল ইসলাম।

হেমন্তের ঝরাপাতার মতো এক এক করে ঝরে যাচ্ছেন শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতির দিকপালরা। কিন্তু নতুন দিগন্তে তেমন কেউ তৈরি হচ্ছে না ত্রিশ দশকের যুগের বাংলাভাষা ও সাহিত্যে মতো শিল্পমণ্ডিত হয়ে। এ জন্য যান্ত্রিক আধুনিকতার ছুঁয়ায় নিজেদের বিলীয়ে না দিয়ে, মুক্তবুদ্ধির জ্ঞানচর্চায় নিমগ্ন থেকে, প্রথাবিরোধী পথে হেঁটে হেঁটে, শোষণমুক্ত স্বনির্ভর শৈল্পিক সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে জাগ্রত হয়ে, সৃজনশীল ও মননশীল কাজের মধ্য দিয়ে শুরু করি নতুন বছর। মাথায় রাখি রবিঠাকুরের বিখ্যাত উক্তি, ‘মানুষের বিশ্বজয়ের এই একটা পালা বস্তুজগতে; ভাবের জগতে তার আছে আর একটা পালা। ব্যবহারিক বিজ্ঞানে একদিকে তার জয়স্তম্ভ, আর-একদিকে শিল্পে সাহিত্যে।’

তথ্য সংগ্রহ : প্রথম আলো ও যুগান্তরের নিউজ

সুইস এর সংসদ সদস্যকে প্যারিসে ইউরো-বাংলা প্রেসক্লাবের সম্মাননা প্রদান

সুইজারল্যান্ডের জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও ইউরো-বাংলা প্রেসক্লাবের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা সুলতানা খান।

সুইস বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি বাকি উল্লাহ খান ইংরেজি নববর্ষ ২০২২ উদযাপনের লক্ষ্যে ৩০ ডিসেম্বর রোজ শুক্রবার পারিবারিক সফরে প্যারিসে আসলে ইউরো-বাংলা প্রেসক্লাব কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে অভ্যর্থনা ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন ইউরো-বাংলা প্রেসক্লাবের কেন্দ্রীয় সভাপতি তাইজুল ইসলাম ফয়েজ,সহ সভাপতি এম আলী চৌধুরী। ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে ফ্রান্সের ইতিহাস – ঐতিহ্যের স্মারক (প্রতিকী) আইফেল টাওয়ার উপহার দেন।

ইউরোপ বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের কমিটি গঠন সভাপতি জমির সম্পাদক কবির

ইউরোপে প্রবাসীদের কল্যাণে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশি সংবাদকর্মীদের সমন্বয়ে গঠন করা হলো ইউরোপ বাংলাদেশ প্রেসক্লাব। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নবীনও প্রবীনের সমন্বয়ে নতুন এ কমিটি ২০২১ সালের সকল গ্লানি মুছে দিয়ে ২০২২ প্রথম দিন ১ জানুয়ারি স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে পাঁচটায় একটি অনলাইন প্লাটফর্মে সাধারণ সভা অ্যাড,আনিচুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও মিরন নাজমুল ও ফরিদ আহমেদ পাটওয়ারীর যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়।

অনলাইন সভায় সিনিয়র সাংবাদিক ঢাকা পোস্টের স্পেন প্রতিনিধি মিরন নাজমুল,দৈনিক যুগান্তর ইতালি প্রতিনিধি জমির হোসেনকে সভাপতি এবং বাংলা টিভির স্পেন প্রতিনিধি কবির আল মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা পোস্টের পর্তুগাল প্রতিনিধি ফরিদ আহমেদ পাটওয়ারীকে ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রস্তাব করা হলে সাধারণ সভার সভাপতি অ্যাড,আনিচুজ্জামান আনিস উপস্থিত সকলের মতামত চাইলে টুডেস ওয়ার্ল্ড নিউজ ২৪ ডটকম এর প্রধান সম্পাদক এবং সাবেক গান বাংলা টেলিভিশনের হেড অব নিউজ হুমায়ুন কবির হিমু প্রথমে সমর্থন জানান। পরে সবাই একাত্ম প্রকাশ করেন। এরপরই জেষ্ট সাংবাদিক হুমায়ুন কবিরকে সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে সকলে সমর্থন জানায়। পরে সদ্য নির্বাচিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ পাটওয়ারী পূর্ণাঙ্গ কমিটির নামের তালিকা প্রকাশ করেন সদ্য নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদকের অনুমতিক্রমে। ২২ সদস্য বিশিষ্ট নবগঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উপদেষ্টা রিয়াদ আহাদ,বাংলা কাগজ নির্বাহী সম্পাদক (যুক্তরাজ্য) সহসভাপতি হাবীবুল্লাহ আল বাহার (জার্মান),এমডি আব্দুল্লাহ ইকবাল (ফিনল্যান্ড), ওমর ফারুক হিমেল (জার্মান),যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ পাটওয়ারী(পর্তুগাল), ইসমাইল হোসাইন রায়হান(স্পেন), সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ(যুক্তরাজ্য) সৈয়দ মুনতাসির রিমন (ফ্রান্স), লায়েবুর রহমান (বার্সেলোনা), আনোয়ার এইচ খান ফাহিম (পর্তুগাল), রাকিব হাসান রাফি (স্লোভেনিয়া),অর্থ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান(পর্তুগাল) তথ্য গবেষণা ও আন্তর্জাতক বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আহমেদ রাজ (পোল্যান্ড),প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শহীদ আহমেদ প্রিন্স (পর্তুগাল) দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ মুবিন খান (স্পেন,বার্সেলোনা),ক্রীড়া ও সস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আবু সাঈদ(পর্তুগাল,লিসবন) অভিবাসন বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী মারুফ (প্যারিস), সদস্য মিরন নাজমুল (স্পেন),এড,আনিচুজ্জামান আনিচ (ইতালি), বাবু মিয়া জসিম (অস্টিয়া)। কমিটি গোষনা পরবর্তীতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সংগঠনের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির হিমু বলেন, ইউরোপ প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে যে প্রেসক্লাব গঠন করা হয়েছে। ইউরোপে এটা ইতিহাস সৃষ্টি করবে সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। আবেগবর্জিত ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে সংবাদ পরিবেশন করাই সাংবাদিকদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। ইউরোপ-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সদস্যরা সকলেই বয়সে তরুণ কিন্তু অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ।

ইউরোপ বাংলাদেশি কমিউনিটিকে বিশ্বে তথা বাংলাদেশের কাছে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। ইউরোপ বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের আরেক উপদেষ্টা ও ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য বাংলা কাগজের নির্বাহী সম্পাদক রিয়াদ আহাদ ইউরোপ বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের কমিটি গঠনে অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, ইউরোপ প্রবাসী সাংবাদিকদের সমন্বয়ে এমন সুসংগঠিত একটি কমিটি গঠন হয়েছে, যা অকল্পনীয়। তিনি নবগঠিত কমিটিকে প্রবাসীদের পাশে থাকার আহ্বান জানান। বহুল প্রতীক্ষিত ইউরোপ বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয়েছে। আগামী দুই বছর (২০২২-২৩) এ কমিটি কাজ করে যাবে। অনলাইন সভায় সদ্য প্রয়াত জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি একুশে পদকপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক,দ্য ফিন্যান্সিয়াল হেরাল্ডের সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদের জন্য নবগঠিত কমিটি এক মিনিট নীরবতা পালন ও তার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।

মলদ্বারে ক্যান্সার হয়েছে কিনা বুঝবেন যেভাবে

শীতকালে অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগেন। এর মূল কারণ ঠাণ্ডার ভয়ে পানি কম খাওয়া। বেশি বেশি গরম পানি খাওয়ার কারণেও শরীর কষে যেতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য স্থায়ী হলে অনেক সময় সেটি পাইলস-ফিস্টুলায় রূপ নিতে পারে। সঠিক চিকিৎসার অভাবে পাইলস-ফিস্টুলা ক্যান্সারেও পরিণত হতে পারে। এ বিষয়ে যুগান্তরকে বিস্তারিত জানিয়েছেন বৃহদান্ত ও পায়ুপথ সার্জারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. একেএম ফজলুল হক।

পায়ুপথের বিভিন্ন সমস্যা যেমন রক্ত যাওয়া, ব্যথা হওয়া, ফুলে যাওয়া এসবই হয় পাইলসের কারণে। আসলে এ ধারণা সঠিক নয়। এসব উপসর্গে পায়ুপথে ক্যান্সারও হলে হতে পারে।

আবার ফিস্টুলা বা ভগন্দর রোগেও উপরোক্ত উপসর্গগুলো দেখা দিতে পারে। আবার এমন হতে পারে যে, প্রথমত পায়ুপথে ক্যান্সার হয়েছে সেটিও ফিস্টুলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে, বেশিরভাগ ফিস্টুলা রোগীর ক্যান্সার থাকে না।

পায়ুপথের ক্যান্সার যখন দীর্ঘদিন চিকিৎসাবিহীন থাকে তখন এটি মলদ্বারের পাশে ছিদ্র হয়ে বের হয়ে আসে এবং সেখান থেকে পুজ যায় আবার কখনও কখনও রক্ত যায়।

রোগীরা সাধারণত মলদ্বারের ভেতর যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করাতে চান না। ব্যথা হতে পারে এই ভেবে খুব ভয় পেয়ে যান। জিজ্ঞাসা করেন যে, এই পরীক্ষা করলে আমি আগামীকাল অফিসে যেতে পারব কি না? এটি নিশ্চিত করেই বলা যায় যে, এ পরীক্ষায় সামান্য অস্বস্তি ছাড়া কোনোরূপ ব্যথা হয় না।

বেশিরভাগ রোগীই এ পরীক্ষায় কোনোরূপ ব্যথা পান না। এ পরীক্ষার জন্য খুবই সামান্য সময়ের প্রয়োজন। সারাদিন না খেয়ে থাকার প্রয়োজন হয় না। মলদ্বারে তীব্র ব্যথা আছে এমন রোগীদেরও এ পরীক্ষা করা যায়। যেসব রোগে পায়খানার সঙ্গে রক্ত যায় তার মধ্যে ক্যান্সার অন্যতম।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রক্ত যায় যেসব রোগে সেগুলো হচ্ছে- ১. এনাল ফিশার, ২. পাইলস, ৩. রেকটাল পলিপ (শিশুদের বেশি হয়), ৪. ক্যান্সার, ৫. আলসারেটিভ কেলোইটিস, ৬. ফিস্টুলা ও অন্যান্য। এসব রোগে সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিলে পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।