সোমবার ,১৮ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 513

অর্থ বুঝে কুরআন পড়াই কুরআনের দাবি

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে- কেউ যদি অর্থ না বুঝেও কুরআন তেলাওয়াত করে, তার বিনিময়ে আল্লাহতায়ালা তাকে সওয়াব দান করবেন।

আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ পড়বে, সে একটি নেকি পাবে, আর প্রতিটি নেকি দশ গুণ করে বৃদ্ধি করে দেওয়া হবে। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মিম মিলে একটি হরফ; বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ, এবং মিম আরেকটি হরফ।’ (তিরমিজি, হাদিস ২৯১০)

তবে এই হাদিসের মর্ম এই নয়— অর্থ না বুঝে কুরআন পড়ার ওপর স্থির হয়ে বসে থাকতে হবে অথবা অর্থ বোঝার চেষ্টাপ্রচেষ্টা করা লাগবে না। কুরআন যেহেতু আল্লাহর পয়গাম, প্রত্যেক বান্দার জন্য ফরজ হচ্ছে পয়গামকে বুঝে কার্যত বাস্তবায়ন করা।

কুরআন শিক্ষার প্রথম ধাপে অথবা যার জন্য অর্থ বুঝে পড়া সম্ভব নয়, তার জন্য হতে পারে অন্তত আল্লাহর কালামের নুরানিয়াত ও রুহানিয়াত উপলব্ধির জন্য হলেও না বুঝে পাঠ করা।

মানুষ যেন কোনো আপত্তিতে কুরআন থেকে দূরে না সরে যায়, এই জন্য প্রথম ধাপে না বুঝে হলেও তাকে কুরআন পড়তে হবে। কিন্তু কেবল কুরআন তেলাওয়াত শিখেই বসে থাকলে চলবে না, বরং তাকে আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় বুঝে কুরআন পাঠ করাও জরুরি। কেননা অর্থ বুঝে কুরআন পড়াই কোরআনের দাবি।

আল্লাহ পাক নিজেই তার কিতাবে বলেন: এটি একটি অত্যন্ত বরকতময় কিতাব, যা আমি তোমার ওপর নাজিল করেছি, যাতে এরা তার আয়াত সম্পর্কে চিন্তা-ফিকির করে এবং জ্ঞানী ও চিন্তাশীলরা তা থেকে শিক্ষা নেয়। (সুরা সোয়াদ : আয়াত ২৯)

তারা কি কুরআন সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করে না? (সুরা নিসা : আয়াত ৮২)

আমি এ কুরআনকে উপদেশ লাভের সহজ উৎস বানিয়ে দিয়েছি। তো উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি? (সুরা কমার: আয়াত ১৭)

হে লোকসকল! আমি তোমাদের প্রতি এমন একটি কিতাব অবতীর্ণ করেছি যার মধ্যে তোমাদেরই কথা আছে, তোমরা কি তারপরও বুঝো না? (সুরা আম্বিয়া : আয়াত ১০)

এভাবে আমি বিশদভাবে আয়াতের বর্ণনা করে থাকি তাদের জন্য যারা চিন্তাভাবনা করে। (সুরা ইউনুস: আয়াত ২৪)

আর আমি মানুষদের বোঝানোর জন্যে এ কুরআনে সব ধরনের উদাহরণই পেশ করেছি। (সুরা রূম: আয়াত ৫৮)

আর এ কুরআনকে আমি অল্প অল্প করে নাজিল করেছি, যাতে করে তুমি যথাসময়ে তা লোকদেরকে পড়ে শোনাও এবং (এই কারণেই) তাকে পর্যায়ক্রমে নাজিল করেছি। (সুরা বনি ইসরাইল : আয়াত ১০৬)

তুমি এ কাহিনি তাদেরকে শোনাতে থাকো, হয়তো তারা কিছু চিন্তা-ফিকির করবে। (সুরা আ’রাফ: আয়াত ১৭৬)

এসব আয়াত প্রমাণ করে কুরআন কেবল সওয়াব অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং তা পাঠ করে বোঝে-সমঝে কার্যত বাস্তবায়ন করাই কুরআন পাঠের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ।

এই আয়াতগুলো উল্লেখ করে মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সিন্ধি বলেন, আল্লাহর ভাষ্য থেকে আমরা কুরআন পাঠের তিনটি দিকনির্দেশনা পাই-

(এক) কুরআন মনোযোগ সহকারে ও ধীরেধীরে পড়তে হবে। এবং তা নিয়ে চিন্তা-ফিকির ও প্রায়োগিক গবেষণা করতে হবে।

(দুই) যা পড়বে, সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে। কেননা মানুষকে সৃষ্টিই করা হয়েছে উত্তম কাজের জন্যে।

(তিন) কুরআনি শিক্ষা ব্যক্তিজীবনে প্রয়োগের ক্ষেত্রে আল্লাহর রাসুলের (সা.) জীবন ও কর্ম অনুসরণ করতে হবে। কোনো শিক্ষা বাস্তবায়ন তখনই খুব সহজ হয় যখন তার কোনো বাস্তব নমুনা থাকে। এর ফলে বিভিন্ন লোকের মতের বিভিন্নতার কারণে অনৈক্য হয় না, এবং বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি থেকে নিরাপদ থাকা যায়। কুরআনে আল্লাহ কুরআন শিক্ষার যে নিয়ম বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর রাসুলও (সা.) সেই নিয়ম অনুসরণ করেছেন এবং কামিয়াব হয়েছেন।

আল্লাহর রাসুল (সা.) কুরআনের প্রত্যেকটি আয়াত নিয়ে চিন্তা-ফিকির করতেন। একই আয়াত বারবার বারবার পড়তেন। এমনও হয়েছে, একটি আয়াত পড়ছেন তো পড়ছেন, রাত পার হয়ে সকাল হয়ে গেছে।

ইমাম ইবন কাইয়িম তার ‘যাদুল মাআদ’ কিতাবে লিখেন— ‘আল্লাহর রাসুল (সা.) খুব থেমে থেমে সুরা পড়তেন। এমনকি একটি ছোট সুরা পড়তে দীর্ঘ সুরার চেয়ে বেশি সময় লাগাতেন। কখনো কখনো একটি আয়াত বারবার পড়তে পড়তে সকাল বানিয়ে ফেলতেন।’

হজরত ইবন মাসউদ (রা.) বলেন, ‘কুরআন আস্তে আস্তে ও চিন্তা-ফিকির করে পড়া, যদিও অল্প পড়া হয় তবু দ্রুত পড়ার চেয়ে উত্তম। কেননা কুরআন পড়ার উদ্দেশ্য তা বোঝা ও কার্যত বাস্তবায়নের চিন্তাভাবনা করা— ওই পড়া ও মুখস্তকরণ যেন অর্থোদ্ধার পর্যন্ত পৌঁছায়। এই জন্যই আমাদের কতক মুরুব্বি বলেন, কুরআন নাজিল হয়েছে কুরআন কার্যত বাস্তবায়নের জন্য, কিন্তু লোকজন কুরআন তেলাওয়াতকে আমল বানিয়ে নিয়েছে।

আমাদের অগ্রসূরীদের মধ্যে ‘কুরআনওয়ালা’ তাদের বলা হতো যারা কুরআন সম্পর্কে জ্ঞান রাখতেন, একই সঙ্গে তা কার্যত বাস্তবায়ন করতেন। যদিও তাদের কারো কারো কুরআন মুখস্ত ছিল না।

যে লোকের কুরআন মুখস্ত আছে কিন্তু সে তার অর্থ বুঝে না এবং কার্যত বাস্তবায়নের উপায়ও জানে না, সে ‘কুরআনওয়ালা’ নয়, যদিও প্রত্যেকটা হরফ সম্পর্কে তার জ্ঞান সোজা তীরের মতো ঠিকঠাক হয়।

সাধারণ তেলাওয়াত, যেখানে কুরআন বোঝা ও চিন্তা-ফিকির করার বিষয়টি অনুপস্থিত থাকে, এমন তেলাওয়াত তো ভালো খারাপ মুমিন মোনাফেক— যে কেউ করতে পারে। আল্লাহর রসুল (স) একারণেই বলেন, যে মোনাফেক কুরআন তেলাওয়াত করে তার উদাহরণ ‘রায়হান’ (নামক) সুগন্ধির মতো, তার ঘ্রাণ খুব সুন্দর কিন্তু স্বাদ তিতকুটে।’ (কুরআন পড়ার মূলনীতি, প্রথম অধ্যায়, পৃষ্ঠা ৩৩)

একইরকম বক্তব্য হিকমতে কোরআন ইনস্টিটিউটের প্রধান হজরত আবুল ফজল নুর আহমদ সিন্ধিও দেন। তিনি জোরালো কণ্ঠে বলেন, কুরআন না বোঝার ফলে এই বিশ্বজগত সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্যের প্রতিফলন আমাদের চালচলনে পড়ে না।

কুরআনে বারবার বিশ্বজগত ও মানব জাতিকে সৃষ্টির উদ্দেশ্য সবিস্তারে বর্ণনা করা হয়েছে। কুরআন না বোঝার কারণে মানুষ যে আল্লাহর খলিফা, এই জমিনে যে তাকে খলিফার দায়িত্ব আঞ্জাম দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে, এসব ধারণা তার চিন্তাভাবনার কেন্দ্র হতে পারে না।

ফলে আমাদের এই ধর্ম একটি পরিপূর্ণ জীবনবিধান হওয়ার বদলে হিন্দুমত, খ্রিষ্টমত ও বুদ্ধমতের কেবল কিছু আধ্যাত্মিক নিয়মকানুনে পরিণত হয়েছে। আমরা ইসলামকে জীবনের সামগ্রিক ক্ষেত্রে না এনে অন্য ধর্মের মতো কেবল কিছু নিয়মসর্বস্ব ইবাদত মনে করি।
‘সকল ধর্মের ওপর শ্রেষ্ঠ’ হওয়ার জন্য পবিত্র কুরআন আমাদের যে পথ ও পদ্ধতি বাৎলিয়েছে, আমরা সেটা ভাবতেও ভীরুতার শিকার হই, কেননা সেই পথ বড় কঠিন ও কুরবানির দাবি রাখে। এরপর আমরা ‘কম খরচে ধর্ম’ পালন করে ‘ধার্মিক’ দাবি নিয়ে নিজের স্বার্থসিদ্ধি আদায়ে উঠেপড়ে লাগি।

ওই সময় আমরা ধর্মের মূলমন্ত্র ও হেকমতের তাগাদা কী— তা জানারও চেষ্টা করি না। আমরা দুর্বোধ্য মন্ত্রবাক্যের মতো কুরআনের শব্দের হাফেজ হয়ে, তারপর কিছু ইবাদত ও রুসুম-রেওয়াজ অনুসরণ করে নিজেদের কেবল দীনদার নই, দীনের ঠিকাদার ভেবে বসি। এবং উদ্দেশ্যহীন কিছু ইবাদত করেই আমরা আল্লাহর নির্দেশিত ইবাদত বা আল্লাহকে পাওয়ার জন্য ইবাদতের দাবিদার হয়ে যাই।

আমরা প্রত্যেকদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি, দিনে পঞ্চাশ বারের বেশি সুরা ফাতিহা তেলাওয়াত করি। সুরা ফাতিহা যেমন আমাদের জন্য দোয়া, তেমনই আল্লাহর পক্ষ ওয়াদা পূরণের ঘোষণাও। আবার আমাদের কাজের পথ ও গতি বাছাইয়ের মাধ্যমও বটে। কিন্তু আমাদের কয়জনের মনে ‘আল হামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামিন’ বলার সময় ‘রব কাকে বলে’ এই প্রশ্ন জাগে? অথবা রবের চিন্তা আমাদের মনোজগতে ভেসে ওঠে কী?

রবুবিইয়াত কাকে বলে অথবা রবুবিইয়াতকে ধারণ করতে দুনিয়ায় আমাদের কোন পথ ও পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে? ‘আলামিন’ অর্থ সমস্ত জগত, তো এই ‘আলামিন’ বলে কী উদ্দেশ্য?

রবুবিইয়াতের সম্পর্ক যেহেতু আলামিনের সাথে, মানে আল্লাহ তাআলা যেহেতু সমস্ত জগতের প্রভু, তো এই ‘সমস্ত জগত’ কতগুলো জগতের সমষ্টি? কতজন লোক ‘আর রহমানির রহিম’ বলার সময় আল্লাহর গুণাবলি কল্পলোকে উপলব্ধি করে এবং কার্যত বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সেই গুণাবলিকে রাহবার মানে?

নামাজে কি কেউ আল্লাহর দরবারে সৃষ্টির প্রতি তার অনুগ্রহ ও দয়ার রিপোর্ট পেশ করে? ‘মালিকি ইয়াওমিদ্দিন’ তেলাওয়াতের সময় কয়জন নিজের আমলের হিসাব করে বিচার দিবসের মালিকের সামনে উপস্থাপন করে?

কেবল আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগির দাবিদার তার দাবির ভিত্তিতে সেই পবিত্র সত্তার কাছে কী কী সাহায্য চায় এবং কোন কোন মহান উদ্দেশ্য পূরণের মদদ প্রার্থনা করে? যখন তার কাছে ‘সরল সঠিক পূণ্যপন্থা’ বলে দেওয়ার আবদার করে, তখন কাকে সে আদর্শ মানে, ‘আইডিয়াল’ কে থাকে?

যদি হজরত আবু বকর বা ওমর (রা.) তার আইডিয়াল হয়, তাহলে সেই মহামানবদের জীবনাদর্শের কতটুকু তারা নিজ জীবনে প্রতিফলিত করে— এই প্রশ্ন আসে।

‘গইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওলাদ দ-ল্লিন’ বলার সময় কয়জন লোক এই জমানার ‘অভিশপ্ত’ ও ‘পথভ্রষ্ট’ দল থেকে নিজেকে বাঁচানোর কাজ করে? পবিত্র কোরআন যখন হক ও বাতিলকে আলাদা করার পর হকের বিজয় ও বাতিলের বিনাশের ঘোষণা দিয়েছে, তখন এই কিতাবের অনুসরণকারী প্রত্যেককে এই নির্দেশনা দেয় যে, তার যুগের ‘অভিশপ্ত’ ও ‘পথভ্রষ্টদের’ চিহ্নিত করে তাদের বিপরীতে সরল সঠিক পূণ্যপন্থায় একনিষ্ঠভাবে চলতে হবে।

যদি কুরআন পড়ার সময় পাঠকারীর মনে এসব আমল কার্যত বাস্তবায়নের স্পৃহা না জাগে, তাহলে একথাই প্রমাণিত হয় যে তার কোরআন পাঠ যথাযথভাবে হচ্ছে না, সে একদিকে কোরআন তেলাওয়াত করে অন্যদিকে কুরআনবিরোধী কাজ অনায়াসে করার যোগ্যতা রাখে। (নাউজু বিল্লাহ)

মোদ্দাকথা হলো কুরআন বুঝে পড়া জরুরি। কোরআন না বুঝে পড়লেও সওয়াব হবে— এই বক্তব্য একথা প্রমাণ করে না যে সারা জীবন না বুঝে পড়তে হবে। বরং কুরআন বুঝে পড়া ও কুরআনের ওপর চিন্তাভাবনা করা স্বয়ং আল্লাহ পাকের নির্দেশ, এই নির্দেশ বিশেষ কারও জন্য নয়, প্রত্যেক বান্দার জন্য।

সুরা জুমুআর ২ নং আয়াতে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন: তিনিই মহান সত্তা যিনি নিরক্ষরদের মধ্যে তাদেরই একজনকে রাসুল করে পাঠিয়েছেন, যিনি তাদেরকে তার আয়াত পাঠ করে শোনান, তাদের জীবনকে সজ্জিত ও সুন্দর করে এবং তাদেরকে কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দেন। অথচ ইতোপূর্বে তারা স্পষ্ট গোমরাহিতে নিমজ্জিত ছিল।

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে নিরক্ষরতা ও গোমরাহিতে নিমজ্জিত জাতিকেও কুরআনের শিক্ষা দেওয়া ও তাদের জীবন সজ্জিত করা নবীওয়ালা কাজ।

আর এই নবীওয়ালা কাজের দায়িত্ব যেহেতু উম্মতের প্রত্যেক সদস্যের ওপর, তাই আমাদের প্রত্যেকেরই কুরআন বুঝে পড়া উচিৎ। এবং যতক্ষণ না কুরআন বুঝে পড়ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কুরআন অন্তরে প্রভাব ফেলবে না।

আল্লাহ আমাদের কুরআন বুঝে পড়ার দান তাওফিক করুন। আমিন।

দেওবন্দের ফতোয়ার ওয়েবসাইট বন্ধ করতে চিঠি

বিশ্বখ্যাত ইসলামি বিদ্যাপীঠ ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া বিভাগের ওয়েবসাইট ব্লক করে দেওয়ার জন্য উত্তরপ্রদেশের মুখ্যসচিবের কাছে আবেদন করেছে দেশটির জাতীয় শিশু সুরক্ষা ও অধিকার কমিশন। তাদের দাবি, দেওবন্দের ফতোয়া শিশুরা অবাধে দেখতে থাকায় তা তাদের ক্ষতি করছে।

জাতীয় শিশু সুরক্ষা ও অধিকার কমিশন বা এনসিপিসিআর অভিযোগ করেছে, দারুল উলুম দেওবন্দের ওয়েবসাইটে ফতোয়ার একটি তালিকা রয়েছে যেখানে আইনবহির্ভূত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

সম্প্রতি দারুল উলুম দেওবন্দ তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সন্তান দত্তক নেওয়ার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফতোয়া প্রকাশ করেছে।

দেওবন্দের বিরুদ্ধে জারিকৃত নোটিশে ভারতের শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন সাহারানপুর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে ওয়েবসাইট চেক করে এ বিষয়বস্তু মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় সংবিধান, ভারতীয় দণ্ডবিধি, শিশু অধিকার আইন ২০১৫ ও শিক্ষাঅধিকার বিধান লঙ্ঘনের দায়ে উপযুক্ত ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে।

রাজ্যের মুখ্যসচিবকে লেখা চিঠিতে এনসিপিসিআর বলেছে, শিশু সুরক্ষা ও অধিকার কমিশনের ১৩ (১) (জে) অভিযোগের বিষয়টি বিবেচনা করে অভিযোগটি অনুসরণ করে এবং ওয়েবসাইটটি পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে ব্যক্তিদের উত্থাপিত বিষয়গুলোর প্রতিক্রিয়ায় প্রদত্ত ব্যাখ্যা এবং উত্তরগুলো দেশের আইন এবং কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

আগামী ১০ দিনের মধ্যে উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে এ বিষয়ে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে এনসিপিসিআর।

তবে, কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন জাতীয় শিশু সুরক্ষা ও অধিকার কমিশনের এই পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্র সংগঠন স্টুডেন্টস ইসলামিক অর্গানাইজেশন অফ ইন্ডিয়া বা এসআইও।

এসআইও-র জাতীয় সম্পাদক ফাওয়াজ শাহীন এক বিবৃতিতে বলেছেন, এনসিপিসিআর-এর চিঠিটি কিছু ফতোয়া তুলে ধরে মাদ্রাসাকে টার্গেট করাই জাতীয় শিশু সুরক্ষা ও অধিকার কমিশনের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কি রয়েছে সেই ফতোয়াতে

সম্প্রতি সন্তান দত্তক নেওয়ার বিষয়ে একটি প্রশ্ন আসে দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া বিভাগে। প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়েছে, ইসলামে সন্তান দত্তক নেওয়ার হুকুম কী?

উত্তরে মুফতিরা বলেছেন, সন্তান দত্তক নেওয়া জায়েজ। তবে সে, প্রকৃত সন্তান হিসেবে গণ্য হবে না। তার পিতৃপরিচয়ও পরিবর্তন করা যাবে না বরং প্রকৃত পিতার দিকেই তার সম্বন্ধ হবে। আর প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত তাকে লালনপালন করতে পারবে।

নিজেদের সঙ্গে একই ঘরে থাকতে পারবে। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক হতেই তার সঙ্গে পর্দা করা ফরজ হয়ে যাবে। এমনিভাবে পালিত পিতা-মাতার কেউ মৃত্যু বরণ করলে, দত্তক নেওয়া সন্তান তাদের ওয়ারিশ হবে না। তাদের সম্পত্তিতে কোনো অংশ পাবে না।

একদিন খোকা

আকাশে কালো মেঘের খেলা
সাগরে উত্তাল জোয়ার নেশা,
তাই দেখে ভাসালে কেন ভেলা
আর কতদিন রইবে তুই বোকা?
——–খোকা
তোর কথা ভাবনায় আসে যখন
চোখের পলক দূরে হারায় তখন,
অজানা চিন্তার ভাঁজ নানা দলন
মনের ভিতর দানা বাঁধে এখন।
———খোকা
ছোট্টবেলা হারা বাবা ছিলাম যখন
মুখের ভাসন্ত চাপ লাগতো আপন,
চিলেকোঠের উল্টো নীলে পেখম
মনের ভিতর এতো আগুন জখম।
———খোকা
কিসের নেশায় কিসের আশায়
স্বপ্নগুলো পুড়িয়ে দিয়ে কাঁদায়,
দুদিনে বদলি গিয়ে নি:স্ব বেলায়
ভ্রষ্ট মৃত্তিকায় নিজ অস্তিত্ব ডুবায়।
———খোকা
আয় ফিরে মোর অবুঝ খোকা
বুকের ভিতর আগলে স্বর্গ রাখা,
জানতে যদি চাইতে ব্যথা মাখা
চোখের জলে পুড়ানো শত বাধা।
———খোকা
খোকারে তোর মনন জোড়া কেমন
ক্ষমার চোখে মোদের এক-ই মিলন,
মরে গেলে কবর দিবে আমায় যখন
স্মৃতি আঁকড়ে সেথায় খুঁজবি তখন!
———-খোকা
দুনিয়া মোহমায়া বুঝবে তুমি সেদিন
নি:স্ব হয়ে ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হবে যেদিন,
কবরেতে বাবার দেহ আছে শতদিন
আমিও বাবার মতো হারাবো একদিন।

কী কারণে ওজন কমে, ঠিক রাখতে কী করবেন?

হঠাৎ ওজন কমে গেলেও নানা ঝুঁকি থাকতে পারে। ওজন কমে যাওয়াও হতে পারে বিপদের লক্ষণ।

এ ব্যাপারে বারডেম জেনারেল হাসপাতালের ডায়াবেটিস ও হরমোন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফারিয়া আফসানা জানিয়েছেন বিস্তারিত তথ্য।

ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকার কারণে কি ওজন কমে যাচ্ছে? না-কি অন্য কোনো হরমোনের সমস্যা আছে? না-কি অন্য অসুস্থতা আছে যেটার জন্য ওজন কমে যাচ্ছে?

অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ওজন কমে গেলে সেটার কারণটা বের করতে হবে। সেই মতো চিকিৎসা নিতে হবে।

ওজন কমার সঙ্গে সঙ্গে আমরা একটু মনে করতে পারি, থাইরয়েডের সমস্যায় ওজন কমে যেতে পারে। যেখানে খাওয়াটা ঠিক আছে, খাবার রুচি ঠিক আছে বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেশি আছে কিন্তু ওজন কমে যাচ্ছে।

সেই ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার অন্য কোনো অসুস্থতা আছে কি-না অবশ্যই পরীক্ষা করে নিতে হবে।

এমন কোনো মেডিসিন আছে যেটা খেলে ওজন বাড়বে? সাধারণত আমরা কোনো ওষুধ দিয়ে কিন্তু ওজন বাড়ানোর চেষ্টা করি না। কী কারণে ওজন কমছে সেটা বের করতে হবে। যদি ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকার কারণে ওজন কমে, তাহলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসলে ওজন আবার স্বাভাবিকভাবেই আপনার স্বাভাবিক রেঞ্জের মধ্যে চলে আসা উচিত।

সুতরাং কোনো ওষুধ দিয়ে ওজন বাড়ানোর চেষ্টা করা যাবে না। ওজন কমানোর কারণটা বের করবো। যদি কারণটা বের করতে পারি, তাহলে অবশ্যই ওজন আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরত আসবে।

ডায়াবেটিস হলে ওজন কমে গেলে পরে ওজন বাড়ে কি? আসলে ডায়াবেটিস হলে ওজন কমে যায় এটা একদিক থেকে সঠিক। ডায়াবেটিসের মাত্রা যখন অনেক বেশি থাকে, তখন ওজন কমতে থাকে। শুধু ওজন কমে যাওয়া নয়, ক্ষুধা বেশি লাগা, পানির পিপাসা বেশি লাগা ও ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া এসব লক্ষণ দেখা যায়।

সুতরাং ডায়াবেটিস যখন আমরা ট্রিটমেন্ট করতে শুরু করি, তখন দেখা যায় রক্তে গ্লুকোজের উচ্চমাত্রাটা কমে আসে তখন আর ওজন কমাটা কিন্তু থাকে না। দ্বিতীয় ধাপে যখন ডায়াবেটিসটা সুনিয়ন্ত্রিত থাকে, তখন ওজন কমে যাচ্ছিল এটা থিতু অবস্থায় থাকে।

খাওয়া-দাওয়া যদি স্বাভাবিক মাত্রায় থাকে, কিছুটা ওজন আবারও এমনিতেই চলে আসে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা দেখে থাকি যে, টাইপ-টু ডায়াবেটিস রোগীদের ওজনাধিক্য থাকে। তাদের ক্ষেত্রে আমার খুব বেশি ওজন বাড়ানোর চেষ্টা করি না। কারণ ওজন বাড়লে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়।

আপনার ডায়াবেটিসটা নিয়ন্ত্রণ হওয়ার পরে আপনার খাওয়া-দাওয়াটা যদি নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় যদি আপনি খান, একটা ব্যালেন্স ডায়েট মেনে চলেন, তাহলে ওজন স্বাভাবিক হয়ে আসার কথা। সেখানে আমরা ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বিভিন্ন রকম ডায়েট চার্ট তৈরি করে থাকি।

যাদের ওজন বেশি তাদেরকে ওজন কমানোর জন্য, যাদের ওজন স্বাভাবিক তাদের ওজন মেইনটেইন করার জন্য এবং যাদের ওজন যেমন আপনার ওজন কম আছে তাদেরকে ওজনটা একটু বাড়ানোর জন্য কিন্তু আমরা প্রোটিন এই জাতীয় খাবারগুলো একটু বেশি দিয়ে থাকি। সুতরাং ডায়াবেটিস হলে ওজন কমে গেলেও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে আবার ওজন স্বাভাবিক আসা সম্ভব।

সূত্র: ডক্টর টিভি

বিসিএসের ফল ঘোষণা হতে পারে বিকালে

৪৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল ঘোষণা হতে পারে আজ। বিকালেই চার লক্ষাধিক পরীক্ষার্থীর ফলের প্রতীক্ষা শেষ হতে পারে। বাংলাদেশ কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ওই সূত্রটি বলছে, বিকালে ফল ঘোষণার জন্য পিএসসির সংশ্লিষ্ট বিভাগ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ জন্য প্রায় সব প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে।

আজ ফল ঘোষণার জন্য গত কয়েক দিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে পিএসসির সংশ্লিষ্ট বিভাগ। কমিশনের সভায় ফল প্রকাশের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে তা পিএসসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

গত বছরের ২৯ অক্টোবর ৪৩তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়।
৪৩তম বিসিএসে আবেদন জমা পড়েছিল ৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯০টি, যা বিসিএসের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আবেদনের রেকর্ড।

এবার বিভিন্ন ক্যাডারে ১ হাজার ৮১৪ জন কর্মকর্তা নেওয়া হবে। এর মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারে ৩০০ জন, পুলিশ ক্যাডারে ১০০ জন, পররাষ্ট্র ক্যাডারে ২৫ জন, শিক্ষা ক্যাডারের জন্য ৮৪৩ জন, অডিটে ৩৫ জন, তথ্যে ২২ জন, ট্যাক্সে ১৯ জন, কাস্টমসে ১৪ জন ও সমবায়ে ১৯ জন নিয়োগ দেওয়া হবে।

শাবি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে সারারাত অনশনকারীরা

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনার প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছেন ২৪ শিক্ষার্থী। দাবি আদায়ে শীতের রাতে সারারাত উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান করেন অনশনকারীরা।

বুধবার উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে বিকাল ৩টা থেকে অনশনে বসেন ৯ ছাত্রী এবং ১৫ ছাত্রসহ মোট ২৪ শিক্ষার্থী।

এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাহস জোগাতে সারারাত তাদের পাশে ছিলেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা একই স্থানে অবস্থান করেন।

এর মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থতা বোধ করলে মেডিকেল টিম এসে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।

এর আগে রাত সাড়ে ৮টায় শিক্ষকবৃন্দ আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হলে এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগানে উত্তপ্ত করে তোলেন এর আশপাশের পরিবেশ। এ সময় তারা শিক্ষকদের কাছে শিক্ষার্থীদের এই এক দফা দাবির সঙ্গে একমত কিনা তা ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ এ দুই উত্তরের মধ্যে জানতে চান।

শিক্ষার্থীরা বলেন, যদি আপনারা শিক্ষকবৃন্দ আমাদের একদফা দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেন, তা হলে আমরা আপনাদের সঙ্গে কথা বলব। এ ছাড়া আমরা আপনাদের সঙ্গে কোনো ধরনের কথা বলতে রাজি নই।

এ সময় শিক্ষকবৃন্দ তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে বিভিন্ন স্লোগানে তাদের কথা বলতে বাধা দেন। একপর্যায়ে শিক্ষকবৃন্দ ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান।

নোবেলের সঙ্গে কী নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল শিমুর?

ঢাকাই সিনেমার নায়িকা রাইমা ইসলাম শিমু হত্যাকাণ্ড নিয়ে তোলপাড় বইছে বলিউডপাড়ায়। স্বামী সাখাওয়াত আলীম নোবেলের সঙ্গে কলহের জেরেই খুন হন নায়িকা। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নোবেলের দেওয়া তথ্য এবং স্বজনদের বক্তব্যে বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

কী নিয়ে এই দম্পতির মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল সেটি নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। শিমুর কী এমন ‘ভুল’ ছিল যে, তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে হবে? শিমুর ভাইবোন ও স্বজনরা এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন। সেই সঙ্গে নোবেলের বিচার দাবি করেছেন।

শিমুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে নাকি শ্বাসরোধে খুন করা হয়েছে, সেটি নিয়ে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, দাম্পত্য কলহের জেরে নোবেল নিজ বাসায় শিমুকে হত্যা করেন। এ ময় পাশের কক্ষে তাদের দুই সন্তান ছিল। হত্যার পর মরদেহ দুটি বস্তায় ভরে ফেলে আসা হয় কেরানীগঞ্জে।

রাজধানীর সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে শিমুর লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক সুহেল মাহমুদ যুগান্তরকে জানান, শিমুর গলায় দাগ পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে— তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ডিএনএ নমুনাসহ অন্যসব নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে তিনি ধর্ষিত হয়েছেন কিনা, তা যাচাই করার জন্যও আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

কেরানীগঞ্জ থেকে লাশ উদ্ধারের পর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ শিমুর লাশ শনাক্ত করে। এর পর ঘটনাস্থল ও শিমুর গ্রিন রোডের বাসা থেকে অন্যসব আলামতের পাশাপাশি সাদা রঙের কিছু সুতা জব্দ করে পুলিশ। শিমুর লাশ মোড়ানো বস্তাটির সেলাইয়ের সুতার সঙ্গে বাসায় পাওয়া সুতার মিল খুঁজে পেয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয়— নিজ বাসাতেই শিমু খুন হয়েছেন। এর পরই পুলিশ শিমুর স্বামী নোবেল এবং তার বন্ধু ফরহাদকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে নোবেল খুনের দায় স্বীকার করে।

নোবেলের বরাত দিয়ে পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র যুগান্তরকে জানায়, ফরহাদের মালিকানাধীন ৩৪ গ্রিন রোডের ভবনের একটি ফ্ল্যাটে নোবেল ও শিমু থাকতেন। দীর্ঘদিন ধরে বেকার থাকার পর কিছু দিন আগে শিমু একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের মার্কেটিং বিভাগে চাকরি নেন। নোবেলের সন্দেহ সেখানকার এক কর্মকর্তার সঙ্গে শিমুর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকত।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, নোবেল জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা নেশা করায় তিনি শারীরিকভাবে কিছুটা অক্ষম। শনিবার মধ্যরাতে তাদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়। দুজনের মধ্যে হাতাহাতির একপর্যায়ে শিমুর গলা চেপে ধরেন নোবেল। এতে শিমু নিস্তেজ হয়ে পড়েন।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নোবেল জানান, এ সময় পাশের রুমে তার ছোট সন্তান ঘুমাচ্ছিল। নোবেল জানান, শিমু যে মারা যাবেন তা তিনি বুঝতে পারেননি। তিনি বলেন, যখন তার গলা ছেড়ে দিই, তখন দেখি তিনি নিস্তেজ হয়ে গেছেন। এর পর সারা রাত লাশের পাশে বসে থাকি। পরে সকালে বন্ধু ফরহাদকে নিয়ে লাশ ফেলে রেখে আসি।
নোবেলের বন্ধু ফরহাদ সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তিনিও নেশাগ্রস্ত। নোবেল ও ফরহাদ একসঙ্গে নেশা করেন। শাহবাগ এলাকায় বাসা হলেও বেশিরভাগ সময়ই নোবেলের সঙ্গে ফরহাদ সময় কাটান। ফরহাদের স্ত্রী তাকে ডিভোর্স দিয়ে চলে গেছেন। নোবেলকে শিমুর লাশ গুম করার পরামর্শ ফরহাদই দেন এবং লাশ ফেলতে সহায়তা করেন।
প্রসঙ্গত কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘বর্তমান’ সিনেমা দিয়ে ১৯৯৮ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে শিমুর। পরের বছর দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, চাষি নজরুল ইসলাম, শরিফ উদ্দিন খান দিপুসহ আরও বেশ কিছু পরিচালকের প্রায় ২৫টি সিনেমায় পার্শ্বচরিত্রে দেখা যায় তাকে। শাকিব খান, অমিত হাসানসহ কয়েকজন তারকার সঙ্গেও কাজ করেছেন শিমু।

শিমু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সহযোগী সদস্য ছিলেন। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি কয়েকটি টিভি নাটকে অভিনয় এবং প্রযোজনায়ও করেছেন।

‘সালমানকে আমি একটি ফোন করলেই সে ছুটে আসবে’

বলিউডের ভাইজান খ্যাত সালমান খানের বিপরীতে ‘বীর’ ছবির সুবাদে বলিউডে পা রেখেছিলেন জেরিন খান। দেখতে দেখতে ১২ বছর কাটিয়ে ফেললেন এই বলিউড অভিনেত্রী।

তবে বলিউডে একযুগ কাটিয়ে দেওয়ার পরেও প্রথম সারির নায়িকার তালিকায় নিজের নাম লেখাতে পারেনি জেরিন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্যা হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট ভাষায় সালমানের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছেন। জেরিন জানান, ‘ভাইজান’ এর কাছে কৃতজ্ঞ তিনি। সালমান তার হাত না ধরলে তার পক্ষে ইন্ডাস্ট্রিতে সুযোগ পাওয়া যে বেশ মুশকিল ছিল সেকথা স্বীকার করেন তিনি। তবে হ্যাঁ, তার ক্যারিয়ারের সবটুকু সালমানের দান বলে যাদের মনে হয় তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এ কথা একেবারেই ঠিক নয়। পুরোপুরি গুজব। হ্যাঁ, সালমান দুর্দান্ত একজন মানুষ। অত্যন্ত পরোপকারীও। কিন্তু মনে রাখতে হবে একইসঙ্গে তিনি প্রচণ্ড ব্যস্তও থাকেন।

অভিনেত্রী আরও বলেন, আমি সালমানের পোষা বাঁদর হয়ে থাকতে নারাজ। সবসময় ওর কাঁধে চড়ে ঘুরে বেড়াব, ওকে জ্বালাব, এই বিষয়টাতেই বড্ড আপত্তি রয়েছে আমার।

জেরিন খান বলেন, আমি জানি, সালমানকে একটি ফোন করলেই সে ছুটে আসবে। কিন্তু সেই সুযোগ নিয়ে তাকে আমি জ্বালাব কেন? আর একটা কথা, আমার ক্যারিয়ারে সবকিছুর সঙ্গে যদি সালমানের নাম জড়ানো হয়, তবে তো তা আমার বহু দিনের পরিশ্রমকেও একভাবে ছোট করা হয়।

আইসিসি বর্ষসেরা ওয়ানডে দলে সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় বাংলাদেশের

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভরাডুবি হলেও এই সংস্করণে গত বছর বৈচিত্র্যময় বুদ্বিদীপ্ত বোলিংয়ে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। তারই স্বীকৃতি মিলল বুধবার।

বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার হিসাবে আইসিসির বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা করে নেন এই বাঁ-হাতি পেসার।

কিন্তু একদিন পরই দেখা গেল, শুধু মোস্তাফিজুরই নন, বর্ষসেরা তালিকায় নাম রয়েছে আরও দুই বাংলাদেশি তারকা।

তারা হলেন—সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম।

এমন সুসংবাদের আনন্দে বাড়তি মাত্র যোগ করতে পারে যে বিষয়টি তাহলো বর্ষসেরা ওয়ানডে দলের এই একাদশে বাংলাদেশ থেকেই সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় জায়গা পেয়েছেন।

বিস্ময়করভাবে এবার ভারত ও নিউজিল্যান্ডের একজন ক্রিকেটারও জায়গা পাননি বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি দলে।

দলে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার দুই প্রতিনিধি অলরাউন্ডার মিচেল মার্শ ও পেসার জশ হ্যাজলউড থাকলেও একাদশে ঠাঁই হয়নি তাদের।

পাকিস্তান ও শ্রীলংকা দলের দুজন করে জায়গা পেয়েছেন বর্ষসেরা দলে।

টি-টোয়েন্টিতে এক বছরে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়া পাকিস্তানের কিপার-ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান নেই এই তালিকায়।

পাকিস্তানের আরেক প্রতিনিধি পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদিও দলে থাকলেও তার নাম আসেনি একাদশে।

তবে দুর্দান্ত ফর্মে থেকে এই একাদশের নেতৃত্ব পেয়েছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম। রিজওয়ানের বদলে পাকিস্তান থেকে ঠাঁই পেয়েছেন ফখর জামান।

ওপেনিংয়ে রাখা হয়েছে আয়ারল্যান্ডের অধিনায়ক পল স্টার্লিং ও ইংল্যান্ডের মারকুটে ব্যাটার জানেমান মালানকে।

বাংলাদেশের দুই তারকা ব্যাটার সাকিব ও মুশফিককে রাখা হয়েছে মিডলঅর্ডারে।

পল স্টার্লিংয়ের দেশের আরেক তারকা সিমি সিং চমক দেখিয়ে ঢুকে পড়েছেন একাদশে।

শ্রীলংকার থেমে জায়গা পেয়েছেন দুজন – ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও দশমন্ত চামীরা।

২০২১ সালে আন্তর্জাতিক টি ২০তে ২০ ম্যাচে ১৭.৩৯ গড়ে ২৮ উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজ। প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের নাভিশ্বাস তুলে ওভারপ্রতি দিয়েছেন মাত্র সাত রান। বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি একাদশের পেসারের মধ্যে মোস্তাফিজেরই উইকেট সর্বোচ্চ।

আর্জেন্টিনা স্কোয়াড থেকে বাদ পড়লেন মেসি

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের বাকি দুই ম্যাচের জন্য স্কোয়াড ঘোষণা করেছে আর্জেন্টিনা।

চিলি এবং কলম্বিয়ার বিপক্ষের এই ম্যাচে স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন লিওনেল মেসি।

বিষয়টি আগেই অনুমেয় ছিল। সে বিষয়ে ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছিলেন আলবিসেলেস্তেদের কোচ লিওনেল স্কালোনি।

এবার তাই ঘটল। করোনা থেকে সেরে উঠলেও শারীরিকভাবে এখনও পুরোপুরি ফিট নন লিওনেল মেসি। তাই তাকে স্কোয়াডে রাখা হয়নি।

গত বড়দিনের ছুটিতে দেশে গিয়েই করোনায় আক্রান্ত হন মেসি। তাই মেসিকে ফের বিমান ভ্রমণসহ আর্জেন্টিনায় আপাতত আনতে চাননি স্কালোনি। দল যেহেতু কাতার বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে ফেলেছে আগেই। তাই আনুষ্ঠানিকতা দুই ম্যাচে মেসিকে দলে রাখার ঝুঁকিটা নেয়নি তার দল।

সর্বশেষ ২২ ডিসেম্বর লরিয়েন্তের সঙ্গে পিএসজির ১-১ ড্রয়ের ম্যাচে খেলেছিলেন মেসি। এরপর আর কোনো ম্যাচই তিনি খেলতে পারেননি।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে এখনও পর্যন্ত হওয়া ১৩ ম্যাচের সবগুলোতেই অংশ নিয়েছেন মেসি। এরমধ্যে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে তারা রয়েছে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। সমান ম্যাচে ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে রয়েছে ব্রাজিল।

মেসিবিহীন স্কোয়াডে ফিরেছেন গোলরক্ষক এমি. মার্টিনেজ ও এমি বুয়েন্দিয়া।

আগামী ২৭ জানুয়ারি চিলি এবং ফেব্রুয়ারি ১ তারিখে কলম্বিয়াকে মোকাবেলা করবে আর্জেন্টিনা।

তথ্যসূত্র: ফুটবল ইস্পানা, মার্কা