বুধবার ,১০ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 505

আর্মেনিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ

আর্মেনিয়ার প্রেসিডেন্ট আরমেন সার্কসিয়ান রোববার পদত্যাগ করেছেন। সাংবিধানিক ক্ষমতার অভাব অনুভব করায় প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

সার্কসিয়ান সাংবাদিকদের বলেন, আমি আবেগতাড়িত হয়ে এ সিদ্ধান্ত নেইনি বরং সুনির্দিষ্ট কারণে পদত্যাগ করেছিন। খবর রয়টার্সের।

আরমেন সার্কসিয়ান বলেন, বিভিন্ন কাজ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়ে প্রায় চার বছর ধরে চিন্তাভাবনা করার পর আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি বলেন, আর্মেনিয়ার সংবিধান দেশের প্রেসিডেন্টকে কাজ করার যথেষ্ট ক্ষমতা ও স্বাধীনতা দেয়নি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংবিধান সংশোধন করে দেশের জন্য এমন আইন প্রণয়ন করা হবে যাতে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ও তার প্রশাসন আরো বেশি ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে পারবে।

২০১৮ সালে আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে সার্কসিয়ান দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং সংবিধান অনুযায়ী তার ২০২৫ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার কথা ছিল।

কিন্তু তার আগেই তিনি সরে দাঁড়ালেন। আর্মেনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব প্রতিষ্ঠান প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং প্রেসিডেন্টের পদটি অনেকটা আলঙ্কারিক।

রপ্তানি আদেশ কমছে, ব্যবসায় অস্থিরতা

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পাশাপাশি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যেও ফের অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। ধরনটির সংক্রমণ কমাতে দেশে বিধিনিষেধ চালু হয়েছে। প্রতিবেশী ভারতসহ অনেক দেশে লকডাউন দেওয়া হয়েছে। এসবের প্রভাব পড়েছে দেশের রপ্তানি খাতে। নতুন রপ্তানি আদেশ কমেছে। রপ্তানি পণ্যের কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক টু ব্যাক এলসি খোলা কমেছে। একই ভাবে কাঁচামাল আমদানিও হ্রাস পেয়েছে। সার্বিকভাবে পণ্য আমদানির এলসি খোলা কমেছে।

এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, ওমিক্রনের কারণে দেশের প্রধান রপ্তানির বাজার ইউরোপ, আমেরিকার অনেক দেশে লকডাউন চলছে। ফলে ওইসব দেশ থেকে এখন নতুন রপ্তানির আদেশ কমে গেছে। এ কারণে তারা রপ্তানি পণ্যের কাঁচামাল আমদানি করতে ব্যাক টু ব্যাক এলসির খোলাও কমিয়ে দিয়েছে। অন্যান্য আমদানিও কমেছে। কারণ ওমিক্রনের প্রভাব কোথায় গিয়ে ঠেকে তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। যে কারণে ব্যবসায়ীরা একটু ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করেছেন। কেননা এর আগে করোনার দুদফা আঘাতে ক্ষতি এখনও কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়নি।

এদিকে সরকার বিধিনিষেধ আরোপের পর প্রথম ধাক্কা লেগেছে পর্যটন শিল্পে। পর্যটন এলাকাগুলোতে পর্যটকদের আগমন কমে গেছে। যে জন্য মোটেল ভাড়ায় ৫০ শতাংশ ছাড় দিয়েও অর্ধেক লোক পাচ্ছে না। পাশাপাশি পর্যটন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শিল্পেও নেতিবাচক অবস্থা দেখা দিয়েছে।

এদিকে ওমিক্রনের সংক্রমণে বিশ্বব্যাপী লকডাউন শুরু হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রপ্তানির বিপরীতে চারটি প্রণোদনা প্যাকেজের মেয়াদ জুন পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঋণ পরিশোধের সময় আগামী জুন পর্যন্ত বাড়াতে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পক্ষ থেকে সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারা ঋণ পরিশোধের মেয়াদ বাড়ানোসহ ডলারের বিপরীতে টাকার আরও অবমূল্যায়ন করার দাবি করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, নভেম্বর পর্যন্ত আমদানি বেড়েছে। কিন্তু ওমিক্রনের প্রভাবে ডিসেম্বর থেকে এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার কমতে শুরু করেছে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক টু ব্যাক এলসি খোলা হয় ২০ কোটি ডলারের। শেষ সপ্তাহে তা কমে মাত্র ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্রথম সপ্তাহের তুলনায় পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম সপ্তাহেও ব্যাক টু ব্যাক এলসি খোলা কমেছে।

এদিকে ব্যাক টু ব্যাক এলসির আওতায় রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল আমদানিও কমতে শুরু করেছে। নভেম্বর পর্যন্ত এ খাতে আমদানি বেড়েছিল। কিন্তু ডিসেম্বর থেকে কমতে শুরু করেছে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ব্যাক টু ব্যাক এলসির আওতায় আমদানি হয়েছিল ১৫ কোটি ডলার। শেষ সপ্তাহে হয়েছে ৭ কোটি ৬৪ লাখ ডলার।

রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক টু ব্যাক এলসি খুলতে হয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তত কারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহ-সভাপতি শহিদুল্লাহ আজিমের সঙ্গে যুগান্তরের কথা হয়। তিনি বলেন, কয়েক মাস আগেও যেভাবে অর্ডার এসেছে, ওমিক্রনের সংক্রমণ বৃদ্ধিতে তা কমতে শুরু করেছে। পুরোনো অর্ডার নিয়ে এখন গার্মেন্ট মালিকরা চিন্তিত। তবে আশার কথা হচ্ছে, এখনো অর্ডার বাতিল করার কোনো খবর আসেনি। বিদেশি ক্রেতারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে মনে হয়।

তিনি আরও বলেন, ওমিক্রনের ভীতির কারণে কারখানায় পোশাক শ্রমিকদের উপস্থিতির সংখ্যা কমে গেছে। এ কারণে পোশাক তৈরিতে ধীর গতি দেখা দিয়েছে। রপ্তানিতে এটিও একটা সতর্ক সংকেত হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, রপ্তানির কাঁচামাল ছাড়াও সার্বিকভাবে আমদানির এলসি খোলাও কমেছে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এলসি খোলা হয়েছিল ১৩৬ কোটি ডলার। শেষ সপ্তাহে খোলা হয়েছে ৪৩ কোটি ডলারের এলসি। একই সময়ে আমদানি ১১৪ কোটি ডলার থেকে কমে ৫৭ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়াও সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকার আমদানির জন্য ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এলসি খোলা হয়েছিল ২ কোটি ২১ লাখ ডলারের এবং আমদানি হয়েছিল ৯৬ লাখ ডলারের। শেষ সপ্তাহে এলসি খোলা হয়েছে ৮২ লাখ ডলারের এবং আমদানি হয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ডলারের। বিপি শিট আমদানির জন্য ডিসেম্বরের সপ্তাহে এলসি খোলা হয়েছিল ৩৩ লাখ ৫০ হাজার ডলারের। শেষ সপ্তাহে খোলা হয়েছে ২ লাখ ডলারের। রড তৈরির কাঁচামাল স্ক্র্যাপ ভেসেল বা পুরোনো জাহাজ আমদানির জন্য ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এলসি খোলা হয়েছিল ১ কোটি ৯০ লাখ ডলারের। শেষ সপ্তাহে এ খাতে কোনো এলসি খোলা হয়নি।

একই সময়ে তুলা আমদানির এলসি ৬ কোটি ৪৫ লাখ ডলার থেকে ৩ কোটি ২৩ লাখ ডলারে নেমেছে। সিনথেটিক বা মিক্সড ইয়ার্ন আমদানির এলসি ১ কোটি ৭৪ লাখ ডলার থেকে কমে ১ কোটি ১৩ লাখ ডলার হয়েছে। সুতা আমদানির এলসি ৬ কোটি ৫১ লাখ ডলার থেকে কমে ২ কোটি ৯৩ লাখ ডলার হয়েছে।

টেক্সটাইলের কাপড় আমদানির এলসি ২ কোটি ৭৫ লাখ ডলার থেকে কমে ৪ লাখ ডলারে নেমেছে। ২ কোটি ডলার থেকে কমে ৫৫ লাখ ডলারে নেমেছে টেক্সটাইল এক্সেসরিজের এলসি খোলা।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ওমিক্রনের প্রভাবে রপ্তানির আদেশ আগের চেয়ে কমেছে। তবে আগের যেসব আদেশ আছে সেগুলো কেউ বাতিল করেনি। ওইসব অর্ডার দিয়ে এখন কারখানা চলছে। বিদেশ থেকে আগের রপ্তানির মূল্য দেশে আসা এখন কমেছে। কারণ অমিক্রনের প্রভাবে অনেক দেশে আবার লকডাউন দিয়েছে। এ কারণে নেতিবাচক অবস্থা দেখা দিয়েছে।

এদিকে শনিবার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতির ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) ভবনে ব্যবসায়ীদের এক সভা হয়েছে। এতে সংগঠনের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেছেন, করোনা মহামারির মধ্যে এখনো দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এর মধ্যে ওমিক্রনের প্রভাবে আবারও ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এমন অবস্থায় ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময় কমপক্ষে জুন পর্যন্ত না বাড়ালে ৫০ শতাংশ ব্যবসায়ী খেলাপি হয়ে যাবেন। ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখার স্বার্থে জুন পর্যন্ত ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সভায় ব্যবসায়ীরা বলেন, করোনার দ্বিতীয় ধাক্কার পর এখন ওমিক্রনের সংক্রমণে আবারও ব্যবসা-বাণিজ্যে নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এমন অবস্থায় অনেক ব্যবসায়ীর ঋণের কিস্তি পরিশোধের সক্ষমতা নেই। ঋণ পরিশোধের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক সময় না বাড়ালে ঋণগ্রহীতাদের অনেকেই খেলাপি হবেন, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হবে।

ওমিক্রনের সংক্রমণ ঠেকাতে বিধিনিষধ আরোপের প্রথম ধাক্কা এসেছে পর্যটন খাতে। কক্সবাজারসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকাগুলোতে পর্যটকদের আগমন কমে গেছে। এর প্রভাবে ওইসব এলাকায় হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্ট, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ব্যবসায় নেতিবাচক অবস্থা দেখা দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড. আকবর উদ্দিন আহমেদ বলেন, ওমিক্রণের সংক্রমণ এখনও ইউরোপ, আমেরিকা, থাইল্যান্ড, ভারতসহ অনেক দেশে বাড়ছে। এ কারণে বিদেশে পর্যটক যাওয়া ও বিদেশ থেকে আসা অনেক কমে গেছে। দেশের পর্যটকও কমেছে। সরকার নতুন আইন করেছে হোটেলে থাকতে ও খেতে টিকার সনদ দেখাতে হবে। বাস্তবে এ সনদ অনেকেরই নেই। সনদ ছাড়া হোটেলে খাওয়ার কারণে চট্টগ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালত কয়েকটি হোটেলকে জরিমানা করেছেন। ফলে এখন পর্যটক আরও কমবে।

তিনি বলেন, স্বাভাবিকের তুলনায় এখন ১০ শতাংশ পর্যটকও পাওয়া যাচ্ছে না। দ্রুত অমিক্রনের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি করেন তিনি। তা না না হলে এ খাতে বড় বিপর্যয় নেমে আসবে।

নকল ব্যান্ডরোলের বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান

নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেটের বিস্তার রোধে শিগগিরই সাঁড়াশি অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চলতি সপ্তাহে সব ভ্যাট কমিশনারেটকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে। নকল (জাল) ব্যান্ডরোলের বড় দুটি চালান চট্টগ্রাম কাস্টমসে ধরা পড়ায় এ নিয়ে এনবিআর নড়েচড়ে বসেছে।

সূত্র জানায়, বুধবার এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম জাল ব্যান্ডরোলের ব্যবহার রোধে ভ্যাট কমিশনারদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন। সংস্থার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উৎপাদনে থাকা সিগারেট কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম কঠোরভাবে মনিটরিংয়ের নির্দেশ দেন তিনি।

একইসঙ্গে গ্রামে-গঞ্জে বিক্রি হওয়া সিগারেটের ব্যান্ডরোলের নমুনা সংগ্রহ করে সেগুলো সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন থেকে মুদ্রিত ব্যান্ডরোল কি না তা খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কারা, কোথায় ও কীভাবে ব্যান্ডরোল উৎপাদন করছে সে ব্যাপারে খোঁজ নিতে বলা হয়।

সূত্র জানায়, ডিসেম্বরে এক সপ্তাহের মধ্যে নকল ব্যান্ডরোলের বড় দুটি চালান চট্টগ্রাম কাস্টমস জব্দ করে। ১৪ ডিসেম্বর জব্দ চালানটি বাপ্পু এন্টারপ্রাইজের। চীন থেকে বাপ্পু এন্টারপ্রাইজ আর্ট পেপারের আড়ালে ৩ কোটি ১৯ লাখ ৮০ হাজার পিস জাল ব্যান্ডরোল আমদানি করে।

এ চালান খালাস হলে সর্বনিম্ন ৯০ কোটি টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৪৩ কোটি টাকার রাজস্ব হারাত সরকার। ২২ ডিসেম্বর আরাফাত এন্টারপ্রাইজ নামের অপর একটি প্রতিষ্ঠান অফসেট পেপারের (এ৪ সাইজের কাগজ) ভেতরে লুকিয়ে এক কোটি ৬২ লাখ সিগারেটের জাল ব্যান্ডরোল আনে। এ চালান খালাস হলে ৮০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাত সরকার।

চালান দুটি জব্দ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম কাস্টমস জাল ব্যান্ডরোলের ব্যবহার রোধে সমন্বিত অভিযান চালানোর অনুরোধ জানিয়ে এনবিআরে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়- আমদানি নকল সিগারেট ব্যান্ডরোলের (স্ট্যাম্প) স্টক শেষ হওয়ার আগেই সব জেলার ডিলার, খুচরা বিক্রেতা ও সন্দেহজনক প্রতিষ্ঠানের গুদাম থেকে সিগারেটের নমুনা যাচাই করা প্রয়োজন।

এসব নমুনা সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনে পাঠানো হলে জালিয়াতির সঙ্গে কোন প্রতিষ্ঠান জড়িত তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এছাড়া জালিয়াতি রোধে করণীয় নির্ধারণে শুল্ক গোয়েন্দা, ভাট গোয়েন্দা, সব ভ্যাট কমিশনারেটের সমন্বয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।

এনবিআর চেয়ারম্যানের নির্দেশে জাল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট উৎপাদনকারী কারখানা খুঁজে বের করতে চলতি সপ্তাহে সব ভ্যাট কমিশনারেটকে চিঠি দেওয়া হবে। একইসঙ্গে উৎপাদনরত প্রতিষ্ঠানগুলোকেও কঠোর মনিটরিং করতে নির্দেশ দেওয়া হবে। জাল ব্যান্ডরোলের ব্যবহার নিয়ে তদন্ত করছে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর।

জাল ব্যান্ডরোলের তদন্ত সম্পর্কে ভ্যাট গোয়েন্দার মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বলেন, জাল ব্যান্ডরোল ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান শনাক্তে ভ্যাট গোয়েন্দা কাজ শুরু করেছে। বেশ অগ্রগতিও আছে।

প্রাথমিকভাবে ঢাকাসহ সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সিগারেট ব্যান্ডরোলের নমুনা সংগ্রহ করে সেগুলো পরীক্ষার জন্য সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আরও কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য সেগুলো সিআইডিতে পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে সিগারেট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়কারী শেখ শাবাব আহমেদ বলেন, শুধু নকল ব্যান্ডরোলই ব্যবহৃত হচ্ছে, তা নয়। আসল ব্যান্ডরোলও পুনর্ব্যবহৃত হচ্ছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এসব ব্যান্ডরোল সংগ্রহ করে পুনরায় তা প্যাকেটে বসানো হচ্ছে।

এসব বন্ধের পাশাপাশি মিথ্যা ঘোষণায় বিদেশ থেকে সিগারেট আমদানি বন্ধ করতে পারলে সরকারের বাড়তি তিন হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব।

দেশে বর্তমানে ২০টি সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সচল আছে। এগুলো হলো-ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, জাপান টোব্যাকো, আবুল খায়ের টোব্যাকো, তারা ইন্টারন্যাশনাল টোব্যাকো, হেরিটেজ টোব্যাকো, ব্লাক টোব্যাকো, মেঘনা টোব্যাকো, বিজয় ইন্টারন্যাশনাল টোব্যাকো, ভার্গো টোব্যাকো, বিউটি টোব্যাকো, ওয়ান সিগারেট কোম্পানি, এসএম টোব্যাকো, যমুনা টোব্যাকো, সামির টোব্যাকো, এবি টোব্যাকো, আলভী টোব্যাকো, মনমোহন টোব্যাকো, নাসির টোব্যাকো, ভারগন টোব্যাকো ও ফরিদপুর টোব্যাকো। এছাড়া ১৩টি প্রতিষ্ঠানের সিগারেট উৎপাদন বন্ধ আছে।

জাল ব্যান্ডরোলের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন : সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকে জাল ব্যান্ডরোলে ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব ব্যান্ডরোল ব্যবহারের জন্য কারা, কীভাবে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছে সে ব্যাপারে জোরালো তদন্ত করা উচিত। এক্ষেত্রে এনবিআরের সমন্বিত অভিযানের বিকল্প নেই।

জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী-সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে মাসিক চাহিদারভিত্তিতে নিজ নিজ ভ্যাট কমিশনারেটে ব্যান্ডরোলের আবেদন করতে হয়। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভ্যাট কমিশনারেটগুলো ব্যান্ডরোল সরবরাহের জন্য সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনকে চিঠি দেয়। সে অনুযায়ী সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন ব্যান্ডরোল সরবরাহ করে।

প্রতিষ্ঠানগুলো স্ট্যাম্প ব্যবহারের পরিমাণের ভিত্তিতে ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক ও সারচার্জ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়। প্যাকেটে সঠিকভাবে ব্যান্ডরোল লাগানো হয়েছে কিনা তা সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা সার্বক্ষণিকভাবে মনিটরিং করেন। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই কার্যক্রম মনিটরিং করা হয়।

প্রশ্ন ওঠেছে, সব উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পদমর্যাদার কর্মকর্তা মনিটরিং করলে জাল ব্যান্ডরোল ব্যবহার করছে কারা? ২০টি প্রতিষ্ঠানের বাইরেও কী আরও প্রতিষ্ঠান সিগারেট উৎপাদন করছে? এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে এ খাত থেকে অন্তত বাড়তি ৩ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় সম্ভব।

নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে ‘এন্টি তারেক’ আধিপত্য

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির রাজনীতিতে চলছে তুঘলকি কর্মকাণ্ড। ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের নাম ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জেলার ৫ থানা ও ৫ পৌরসভার বিএনপির নতুন কমিটির অনুমোদন করা হয়েছে। এমনকি জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন একটি পৌরসভা কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন। তিনি নিজেই সই করে সেই কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন। তৃণমূল নেতাকর্মীরা এই কমিটি গঠনকে ‘সুপার সনিক গতির কমিটি’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কই একটি পৌর কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন। এটি দেশে বিরল। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোনো সভা বা মতামত না নিয়েই টেবিল কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। অপরদিকে জেলা ও মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের অভিযোগ, জেলা বিএনপির রাজনীতি এখন এন্টি তারেক রহমান গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। তারা বলছেন, আড়াইহাজারের কেন্দ্রীয় এক নেতার নেপথ্য কারসাজিতে এসব অগঠনতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যায় জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসাবে ঘোষণা করা হয় রূপগঞ্জের নাছির উদ্দিনের নাম। পরদিন বৃহস্পতিবার বিকালে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন ও সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহামুদ ৫টি থানা ও ৫টি পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেন। এরমধ্যে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন নিজেকে আহ্বায়ক করে জেলার অধীনে থাকা তারাব পৌরসভা কমিটি অনুমোদন করেছেন। যা নিয়ে চলছে চরম বিতর্ক। বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর পৌরসভা কমিটির কাগজ তিনি গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে নিষেধ করেন। তবে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব গত ২১ জানুয়ারি ওই ১০টি ইউনিট কমিটি অনুমোদনের বিষয়টি স্বীকার করেন। দলের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, এখানে ব্যক্তি উদ্দেশ্য চরিতার্থ হয়েছে এবং দলীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দেওয়া হয়েছে। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে। কারণ কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দলের এক নেতার এক পদ নীতি এখানে মানা হয়নি। বরং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি সব যুগ্ম-আহ্বায়ককে থানা ও পৌরসভা ইউনিট কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে দলের থানা ও পৌরসভা পর্যায়ের নেতাকর্মী ও তৃণমূলে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। নেতারা জানান, যার নেপথ্য ইশারা ও নির্দেশে এসব করা হচ্ছে মূলত তিনি আড়াইহাজারের এক কেন্দ্রীয় নেতা। তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানবিরোধী হিসাবে পরিচিত। আড়াইহাজার থানা বিএনপির নতুন কমিটির শীর্ষ নেতারা এই কেন্দ্রীয় নেতার অনুসারী।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ হয়নি। এতে বিতর্কের যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। কারণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাত্র কয়েকদিন আগে বহিষ্কার হয়েছেন। এরপর যিনি ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হলেন তিনিও কারাগারে। এরপরে যিনি দায়িত্ব পেলেন (নাছির উদ্দিন) তিনি দুদিনের মাথায় গোপনে ১০টি ইউনিট কমিটির অনুমোদন দিয়ে দিলেন। আরও হাস্যকর বিষয় হলো জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হয়ে তিনি নিজেই রূপগঞ্জ তারাব পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হয়েছেন। রাজীব বলেন, কমিটি করার আগে আমাদের প্রতিটি থানায় টিম করা হয়েছিল; আমি কাঞ্চন পৌরসভার দায়িত্বে ছিলাম। সবার সঙ্গে আলোচনা করে যে লিখিত তথ্য দেওয়ার কথা ছিল সেটা না নিয়েই তারা কমিটি দিয়েছে। এতে প্রতীয়মান হয়, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনা এখানে বাস্তবায়ন হয়নি। টিমের সুপারিশে কমিটি হওয়ার কথা থাকলেও নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি। জেলা বিএনপির অপর সদস্য প্রবীণ নেতা নজরুল ইসলাম টিটু জানান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সারা দেশে দলকে পুনর্গঠন করতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বলেছেন। সে প্রক্রিয়া এখানে অনুসরণ করা হয়নি। তারেক রহমানের নির্দেশনা ছিল সার্চ কমিটি ও মূল্যায়ন কমিটিতে যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাদের মতামতের ভিত্তিতে ও সবার সঙ্গে আলোচনা করে কমিটিগুলো স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় করতে হবে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন জানান, আমরা দায়িত্ব পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় নির্দেশে দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিটি অনুমোদন করতে পেরেছি। এটা আমাদের সফলতা। আশা করছি, কমিটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। তারাব পৌরসভা কমিটি নিয়ে কিছুটা সমস্যা আছে, তাই এটার কাগজ আমরা গণমাধ্যমে দেইনি। তবে তৃণমূলের সঙ্গে সভা না করে বা জেলা আহ্বায়ক কমিটির সব সদস্য নিয়ে কোনো আলোচনা না করে কেন কমিটি দেওয়া হলো-এমন প্রশ্নের জবাবে কোনো উত্তর দেননি তিনি।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপির চিকিৎসক প্রতিনিধি দল

সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনশনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে বিএনপি। রোববার সকালে বিএনপির একটি চিকিৎসক প্রতিনিধি দল শিক্ষার্থীদের দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যান। তারা শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন।

প্রতিনিধি দলের প্রধান বিএনপির স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

ডা. রফিক যুগান্তরকে বলেন, তারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং রাগিব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অনশনরত চিকিৎসাধীনদের দেখতে যান। তারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ত্বতা পোষণ করেন।

এ সময় ডা. জাহাঙ্গীর হোসেন, ডা. আশরাফুল হাসান মানিক, ডা. সাকিব আবদুল্লাহ চৌধুরী ও ডা. মেহেদি হাসান অনিক উপস্থিত ছিলেন।

আজ থেকে অর্ধেক জনবল নিয়ে চলবে অফিস

মহামারি করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আজ থেকে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস অর্ধেক জনবল দিয়ে চালাতে হবে।

রোববার আদেশ জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতি বিবেচনায় সোমবার থেকে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শর্ত সাপেক্ষে সার্বিক কার্যাবলি ও চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিসগুলো স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে অর্ধেকসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে পরিচালনা করতে হবে।

অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থলে অবস্থান করবেন এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম ভার্চুয়ালি (ই-নথি, ই-টেন্ডারিং, ই-মেইল, এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপসহ অন্যান্য মাধ্যমে) সম্পন্ন করবেন।

এর আগে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, গণপরিবহণে যাতে ভোগান্তি না হয়, সে জন্য অর্ধেক লোক দিয়ে অফিস করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এবার করোনা বেড়ে যাওয়ায় ১১ দফা বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। তা সবাইকেই মেনে চলতে হবে। পরিবার, দেশ ও নিজের সুরক্ষার জন্য আমাদের নিয়মগুলো মানতে হবে।’

দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস

দেশের বিভিন্ন স্থানে আজ অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।

রোববার সকাল ৯টা থেকে আগামী তিন দিনে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। এ ছাড়া শেষের দিকে বৃষ্টিপাত কমতে পারে। খবর বাসসের।

আবহাওয়া অফিস জানায়, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের অনেক স্থানে এবং ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

রোববার সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে— সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা ২-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, পশ্চিমা লঘুচাপের বাড়তি অংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

রোববার সাতাকুণ্ড ও শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

রোববার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ঢাকায় ১৫ দশমিক ৬, ময়মনসিংহে ১৩ দশমিক ৮, চট্টগ্রামে ১৬ দশমিক ৬, সিলেটে ১৩ দশমিক ৫, রাজশাহী ১৩ দশমিক ৭, রংপুরে ১৩ দশমিক ৪, খুলনায় ১৪ দশমিক ৮ এবং বরিশালে ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

প্রবাসী সেলিম ভূঁইয়ার মৃতদেহ পড়ে আছে লাশঘরে

প্রবাসে বাংলাদেশিদের মৃত্যু অনেকটাই নিয়তিতে পরিণত হয়েছে। ভাগ্য বদলাতে দূর দেশে যান প্রবাসীরা; কিন্তু সবার ভাগ্য কি বদলায়! অনেকে যান স্বপ্ন পরিবর্তনের আশায় শার্ট-প্যান্ট পরে কিন্তু ফিরে আসেন কফিনবন্দি হয়ে নিথর দেহ নিয়ে।

প্রবাসে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর বড় একটি কারণ হতাশায় কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা, অন্য আরেকটি বড় কারণ হৃদরোগ বা হার্টঅ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মহামারি করোনাভাইরাস হানা দেওয়ার পর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি এ রোগে মারা গেছেন।

মালদ্বীপ প্রবাসী মো. সেলিম ভূঁইয়া গত ১৮ জানুয়ারি কর্মরত অবস্থায় হঠাৎ করেই অসুস্থ হলে বাসায় ফিরে যান কিন্তু বাসায় তার অবস্থার আরও অবনতি হলে রুমে থাকা সহকর্মীদের সহযোগিতায় হুলেমালে থ্রি-টপ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্মরত চিকিৎসক প্রথমিক চেকআপ শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বিগত পাঁচ বছরে ধরে অনিয়মিত ডকুমেন্টারি হয়ে দ্বীপরাষ্ট্রের হুলেমালে সিটিতে একটি রেস্তোরাঁয় কর্মরত ছিলেন।

মৃত সেলিম ভূঁইয়া নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার সেকেরহাট গ্ৰামের মোহাম্মদ আলী ভূঁইয়ার ২য় সন্তান। মৃত সেলিম ভূঁইয়ার স্ত্রী এবং দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

তার পারিবারিক অবস্থা তেমন সচ্ছল না থাকার কারণে মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনার এবং প্রবাসীদের সহযোগিতায় লাশ দেশে পাঠানোর সার্বিক প্রচেষ্টা চলছে। বর্তমানে তার মৃতদেহ মালদ্বীপের মালে সিটির (IGMH) হাসপাতাল মর্গে আছে।

পরিবারের সদস্যরা মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের সহযোগিতায়, বাংলাদেশ প্রবাস কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির লাশ দেশে পাঠানোসহ তার পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা কামনা করেন।

নবীজি (সা.) যেভাবে পানি পান করতে বলেছেন

মহান রাব্বুল আলামিনের নিয়ামতসমূহের মধ্যে পানি অন্যতম। পানি ছাড়া মানুষের জীবনধারণ অসম্ভব। কেননা পৃথিবীর সব প্রাণের উৎস পানি এবং আমরা সবাই পানির ওপর নির্ভরশীল।

আল্লাহতায়ালা পানিকে শুধুমাত্র মানুষের পান করার চাহিদা মেটানোর জন্যই তৈরি করেননি। পানিকে করেছেন সৃষ্টির বিভিন্ন কাজের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। এছাড়া খাওয়া-দাওয়া, চলাফেরা, চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য সব কিছুই মানুষের জন্য ইবাদত হবে যখন এসব কাজ ইসলামি পদ্ধতিতে করা হবে।

যেমন মানুষের বেঁচে থাকার জন্য খাবার ও পানীয় গ্রহণ করা অত্যন্ত আবশ্যক। আবার জীবনধারণে পানি পান করাও আবশ্যক। পানির অপর নাম জীবন। জীবন বাঁচাতে পানি পানের বিকল্প নেই। সব সৃষ্টিরই বেঁচে থাকার তাগিদে পানি পান করতে হয়।

আর মানুষের পানি পানে রয়েছে কিছু ইসলামি নিয়ম ও পদ্ধতি। কাজটি ছোট হলেও প্রতিদিন অনেকবার মানুষকে পানি পান করতে হয়। পানি পানের সময় স্বয়ং বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুনির্দিষ্ট কিছু আমল করতেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাস্তব জীবনের এ আমলগুলো উঠে এসেছে হাদিসের বর্ণনায়।

পানি পান করার সুন্নতসমূহ:

১.ডান হাতে পান করা। কেননা শয়তান বাম হাত দিয়ে পানি পান করে। (সহিহ মুসলিম ২/১৭২)

২.বসে পান করা, দাঁড়িয়ে পান করা নিষেধ। (সহিহ মুসলিম ২/১৭৩)

৩. শুরুতে (বিছমিল্লাহ) পড়া এবং শেষে (আলহামদু লিল্লাহ) পড়া। (সুনানে তিরমিযী ২/১০)

৪. তিন নিঃশ্বাসে পানি পান করা, নিঃশ্বাস ফেলার সময় গ্লাস থেকে মুখ আলাদা করা। (সহিহ মুসলিম ২/১৭৪)

৫. গ্লাসের ভাঙা অংশের দিক দিয়ে পান না করা। (সুনানে আবু দাউদ ২/১৬৭)

৬. জগ ইত্যাদি বড় পাত্রে মুখ লাগিয়ে পান করবেন না। কেননা এতে বেশি পানি চলে আসার বা সাপ-বিচ্ছু থাকার সম্ভাবনা থাকে। (বুখারী ২/৮৪১, মুসলিম ২/১৭৩)

৭. পানি পান করার পর অন্যজনকে দিতে হলে প্রথমে ডান পাশের জনকে দিবেন। সেও তার ডান পাশের জনকে দিবেন, এভাবেই চলবে। চা ও অন্যান্য পানীয়ের ক্ষেত্রে এটাই নিয়ম। (বুখারী ২/৮৪০ ও মুসলিম ২/১৭৪)

৮. ওজু করার পর যে পাত্রে হাত দিয়ে পানি নেয়া হয়, সে পাত্রের অবশিষ্ট পানি কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে পান করা। এতে বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি হতে আরোগ্য লাভ হয়। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং- ৫৬১৬)

৯. পানীয় দ্রব্য পান করে কাউকে দিতে হলে ডান দিকের ব্যক্তিকে আগে দেয়া এবং এই ধারাবাহিকতা অনুযায়ীই শেষ করা। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং- ৫৬১৯)

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, ‘আর আমি প্রাণবান সবকিছু সৃষ্টি করলাম পানি হতে, তবুও কি তারা ঈমান আনবে না? (আম্বিয়া ৩০)।

আল্লাহ তায়ালা আরো ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা যে পানি পান কর, সে সম্পর্কে কি তোমরা চিন্তা করেছ? তোমরাই কি তা মেঘ হতে নামিয়ে আন, না আমি তা বর্ষণ করি? আমি ইচ্ছা করলে তা লবণাক্ত করে দিতে পারি। তবুও কেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর না? (ওয়াক্বিয়াহ ৬৮-৭০)।

আল্লাহ তায়ালা মাখলুক সৃষ্টিতে পানি ব্যবহার করেছেন। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন, আল্লাহ সমস্ত জীব সৃষ্টি করেছেন পানি হতে, ওদের কতেক পেটে ভর দিয়ে চলে (সাপ), কতেক দুই পায়ে চলে (মানুষ) এবং কতেক চলে চার পায়ে (জন্তু-জানোয়ার) আল্লাহ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন, আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান।’ (সুরা: নুর : আয়াত : ৪৫)।

আল্লাহ অন্যত্র বলেন, অবিশ্বাসীরা কি ভেবে দেখেনা যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম, এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না। (সুরা: আম্বিয়া, আয়াত : ৩০)।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষের জীবিকা তথা ফলমূল তৈরিতে পরিমাণ মতো পানি দান করে থাকেন। যা ছাড়া কোনো ফলমূল উৎপন্ন হতো না।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, যে পবিত্রসত্তা তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ স্থাপন করে দিয়েছেন, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তোমাদের জন্য ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন তোমাদের খাদ্য হিসেবে। অতএব, আল্লাহর সঙ্গে তোমরা অন্য কাউকে সমকক্ষ করো না। বস্তুতঃ এসব তোমরা জান।’ (সুরা: বাকারা, আয়াত : ২২)।

হজরত সাহল ইবনু সা‘দ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে একটি পেয়ালা আনা হল। তিনি তা হতে পান করলেন। তখন তার ডান দিকে ছিল একজন বয়ঃকনিষ্ঠ বালক আর বয়স্ক লোকেরা ছিলেন তার বাম দিকে।

তিনি বললেন, হে বালক! তুমি কি আমাকে অবশিষ্ট (পানিটুকু) বয়স্কদেরকে দেওয়ার অনুমতি দিবে? সে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আপনার নিকট থেকে ফজিলত পাওয়ার ব্যাপারে আমি আমার চেয়ে অন্য কাউকে প্রাধান্য দিব না। অতঃপর তিনি তা তাকে প্রদান করলেন। (২৩৬৬, ২৪৫১, ২৬০২, ২৬০৫, ৫৬২০, মুসলিম ৩৬/১৭, হাদিস ২০৩০, আহমাদ ২২৮৮৭)।

আল্লাহতায়ালা সবাইকে নিত্যদিনের প্রত্যেকটি কাজে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সুন্নাহ সমুহ অনুসরণ ও অনুকরণ করার তাওফিক দান করুক। আমিন।

যেভাবে এক আইফোনে দুটি হোয়াটসঅ্যাপ চলবে

বর্তমান সময়ে প্রায় সব স্মার্টফোনেই ডুয়াল সিম সাপোর্ট থাকে। ডুয়েল সিম সাপোর্ট থাকায় ব্যবহারকারীরা একসঙ্গে দুটি সিম কার্ড ব্যবহার করতে পারেন। তবে একই ফোন থেকে একসঙ্গে দুটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে দেয় না হোয়াটসঅ্যাপ। অ্যানড্রয়েড ব্যবহারকারীরা ‘ডুয়েল হোয়াটসঅ্যাপ’-এর অ্যাপ ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে ফিচারটি ব্যবহার করলেও আইফোন ব্যবহারকারীরা এক ফোন থেকে একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারবেন না। যেভাবে আইফোন ব্যবহারকারীরা একসঙ্গে দুটি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করবেন তাই নিয়ে আজকের টিপস।

হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেসের সাহায্যে আইফোনে দুটি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট চালানো সম্ভব। হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস অ্যাপটি তার রেগুলার ভার্সনের মতো অনেকটাই এক। কিন্তু ব্যবসায়ীদের জন্য তৈরি করা এই হোয়াটসঅ্যাপ তার ব্যবহারকারীদের এমন কিছু ফিচার দিয়েছে, যা ব্যবসার ক্ষেত্রে খুবই সুখকর।

একটা আইফোনে দুটি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট যেভাবে চালাবেন-

১. আপনার আইফোন থেকে প্রথমেই অ্যাপ স্টোর খুলে হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস সার্চ করুন।

২. গেট আইকনে ট্যাপ করে অ্যাপটি আপনার আইফোনে ইনস্টল করে নিন।

৩. অ্যাপটি একবার ইনস্টল হয়ে গেলে তা খুলুন এবং ‘অ্যাগ্রি অ্যান্ড কন্টিনিউ’ বাটনে ট্যাপ করুন।

৪. একটি নতুন উইন্ডো খুলে যাবে এবার, যেখানে আপনাকে দুটি অপশন দেখানো হবে। প্রথম অপশনে আপনার এগজিস্টিং হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টটি দিয়ে দিন। দ্বিতীয় অপশনে একটি অন্য নম্বর দিয়ে আপনার বিজনেস অ্যাকাউন্টটি সেটআপ করুন।

৫. দ্বিতীয় হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের জন্য যে নম্বরটি দিতে চান, সেটি দিয়ে দিন। আপনার নম্বরে একটি ওটিপি আসবে। সেটি দিয়ে নম্বরটি একবার ভেরিফাই করে নিন।

৬. আপনার নাম দিয়ে দিন এবং নিচে ‘নট আ বিজনেস’ অপশনটি বাছাই করে নিন।

৭. সবশেষে ডান অপশনে ট্যাপ করুন।

এ সাতটি পদ্ধতি মেনে চলতে পারলেই আপনার একটা আইফোনে দুটি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট চালাতে পারবেন।