শুক্রবার ,১৪ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 361

বিদেশে বিলাসী জীবনের রসদ কোত্থেকে তার হিসাব দিন: ফখরুলকে কাদের

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপি মহাসচিবের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেছেন, নিজ দলের অপরাধী, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আপনাদের অবস্থান কী? সাহস থাকলে তাদের তালিকা দিন। বিদেশে বিলাসী জীবনের রসদ কোত্থেকে আসছে তার হিসাব জমা দিন।

মঙ্গলবার সকালে তার বাসভবনে ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, শর্ষের মধ্যে ভুত রেখে ভুত তাড়ানোর এসব লোকদেখানো অপপ্রয়াস অপরাজনীতিরই ধারাবাহিকতা মাত্র।

তিনি বলেন, যে দলের চেয়ারপারসন দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি এবং দলীয় গঠনতন্ত্র থেকে যে দল দুর্নীতিবিরোধী ৭ ধারা অপসারণ করে, যারা আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ দল হিসেবে নিজেদের পরিচিত করেছে, যাদের শাসনামলে দেশকে পর পর ৫ বার দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার কলঙ্ক তিলক পরতে হয়েছিল, সেই আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত বিএনপি যখন দুর্নীতি নিয়ে কথা বলে তখন মানুষের হাসি পায়।

তিনি বলেন, আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ দলের এমন মুখরোচক কথার নৈতিক মানদণ্ড নিয়েও মানুষ পরিহাস করে।

ওবায়দুল কাদের জানান, তারেক রহমান ও তার ব্যবসায়িক পার্টনার গিয়াসউদ্দিন আল মামুন সিটিএনএ ব্যাংকে ২১ কোটি টাকা পাচার করে। এফবিআই এ ব্যাপারে তদন্ত করেছে এবং বাংলাদেশের আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছে, শুধু তাই নয় লন্ডনের একটি ব্যাংকে প্রায় ৬ কোটি টাকা পাওয়া যায় তার ব্যাংক হিসাবে। বেলজিয়ামে ৭৫০ মিলিয়ন ডলার, মালয়েশিয়ায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার পাচার করেছেন, দুবাইয়ের এমিরিটাস হিলস-এ স্প্রিং-১৪ নামের কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের বাড়ির মালিক হয়েছিল জিয়া পরিবার। ভাঙ্গা সুটকেসের গল্প ততদিনে লঞ্চ, টেক্সটাইল মিল, বিদেশে বাড়ি আর ব্যাংক-ব্যালেন্সের নিচে চাপা পড়ে গেছে। অথচ তারাই এখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে বড় বড় কথা বলে!

তিনি বলেন, যে যত বড় নেতাই হোক, অনিয়মের অভিযোগ পেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হয়নি। সরকারি দলের অনেক নেতা, এমপি— এমনকি মন্ত্রী পর্যন্ত ছাড় পায়নি।
দুদক স্বাধীনভাবে কাজ করছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন সরকারি দলের বিরুদ্ধেও দুদকের কাজ করতে কোনো বাধা ছিল না এবং এখনও নেই।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানসহ তাদের অনেক নেতার বিরুদ্ধে দুদকে যে তথ্য বা অভিযোগ আছে সে ব্যাপারেও দুদক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করেন ওবায়দুল কাদের।

‘সাহস থাকলে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন’

সরকার ভীতু মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সাহস থাকলে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এ কথা বলেন।

‘দেশে শক্তিশালী বিরোধী দল নেই’ প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলছেন, দেশে শক্তিশালী বিরোধী দল নেই। আসলে বনের নেকড়ে সব প্রাণী খেয়ে ফেলার পর বলছে যে আর প্রাণি নেই। আরে বিরোধীদল শক্তিশালী বলেই তো তাদেরকে আপনি কারাগারের ভয় দেখিয়ে ক্ষমতায় আছেন। তাদেরকে গোরস্থানে পাঠিয়েছেন। আসলে বিএনপি ও বিরোধী দল আপনি ভয় পান বলেই তো দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও তরুণ নেতা ইশরাককে বন্দি করেছেন। শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, রফিকুল আলম মজনু ও সুমন ভুঁইয়াকে বন্দি করেছেন। আসলে প্রধানমন্ত্রী ভীতু।

তিনি বলেন, সরকার পাতানো সংসদ করেছে। যেখানে বিরোধী দল নেই। সেখানে মমতাজের গান হয় কিন্তু বিরোধী দলের বিতর্ক নেই। আর বলেন দেশে বিরোধী দল নেই। অন্যদিকে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নির্যাতন করছেন, কারাগারে বন্দি করেছেন। বিরোধী দল দমনের সব ব্যবস্থা আপনি করেছেন। এভাবে পৃথিবীর কেউ কেউ গদি রক্ষা করতে পারেনি। আসলে আপনি আতংকের মধ্যে আছেন আর রাতের অন্ধকারে ফাঁকা বুলি দিচ্ছেন। আপনার সাহস থাকলে খালেদা জিয়া সহ সকল নেতাকর্মীদের মুক্তি দেন।

দেখবেন প্রবল স্রোত কীভাবে আপনার সিংহাসনের দিকে ধেয়ে যায়। শত নিপীড়ন নির্যাতনের মাধ্যমে জনগণ কাতারবন্দি হয়ে আপনার সিংহাসন থেকে টেনে রাজপথে ধুলার মধ্যে নামানোর সাহস যোগার করে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

‘দুদকে সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপির অভিযোগ নাটক’ তথ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের উত্তরে রিজভী বলেন, বিএনপি নাটক করছে। আরে আপনি বলেননি কীসের নাটক? এই নাটক তো বিখ্যাত লেখক বানার্ড শ’র নাটক। শেক্সপিয়ারের নাটক। সেখানে বিএনপির মতের প্রতিফলন ঘটেছে। আপনারা তো ক্ষমতায় আসার পর ১১ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছেন। আর আমাদের কাজকে বলছেন নাটক। ওটা তো বাস্তব জীবনের নাটক। আপনারা পদ্মা সেতু, ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রকল্প থেকে লুট করে টাকা পাচার করেছেন। আপনারা মহাদুর্নীতি করেছেন। এজন্য আপনাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে। জনগণ এখন চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আপনাদেরকে অবশ্যই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে হবে।

এ সময় আবদুস সালাম আজাদ বলেন, দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন অনুপস্থিত। ক্ষমতাসীন সরকার অবৈধভাবে দেশ পরিচালনা করছে। তারা দেশকে নরকে পরিণত করেছে। বাকশাল প্রতিষ্ঠার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।

সংগঠনের সভাপতি আ ন ম খলিলুর রহমান ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, কাজী মনিরুজ্জামান মনির, ওলামা দলের আহ্বায়ক শাহ মোহাম্মদ নেছারুল হক প্রমুখ।

‘বন্ধুরাষ্ট্রের তথ্যে এবার বর্ষবরণে বাড়তি নিরাপত্তা’

এবার পহেলা বৈশাখে বর্ণিল আয়োজনে রাজধানীসহ সারা দেশে বাঙালির সার্বজনীন উৎসব বাংলা নববর্ষ-১৪২৯ উদযাপন করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।করোনার কারণে গত দুই বছর বৈশাখ উদযাপন করতে পারেনি বাঙালি। এরমধ্যে গত বছর পহেলা বৈশাখে প্রতীকী আয়োজনে কেবল মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়েছিল।

কিন্তু এবার পুরোদমে বর্ষবরণের প্রস্তুতি চললেও ‘জঙ্গি তৎপরতার বার্তা’ পাওয়ায় রমনা বটমূলে অনুষ্ঠান ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম।

মঙ্গলবার রমনা বটমূলে নিরাপত্তা প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘কিছু বন্ধুরাষ্ট্র জঙ্গিদের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ (বার্তা) দিচ্ছে। উপমহাদেশে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে ধারণা করছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও কিছু রেডিক্যালাইজড সংগঠনের তৎপরতা লক্ষ্য করছি। সেকারণেই আমাদের বাড়তি নিরাপত্তা।’

তাছাড়া ২০০১ সালে রমনা বটমূলে জঙ্গি হামলার কথা মাথায় রেখে প্রতিবারই বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো হামলার আশঙ্কা আমরা করছি না। যেহেতু নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিচ্ছি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতে কোনো কিছুই উড়িয়ে দিচ্ছি না। তবে ডিএমপি কমিশনার এও বলেন, ‘লোন উলফ (একাকী নিজে থেকে প্ল্যান) কেউ একটা ছুরি বা ব্লেড নিয়ে যদি হামলা করে, এটাতো একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’

ডিএমপি কমিশনার বলেন, এবার রমজানের মধ্যে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান হবে। তাই কোনো খাবার দোকান খোলা থাকবে না। রমজান চলমান থাকায় এবার ২টার মধ্যে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে। দুপুর ১টার পর কাউকে এ এলাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান চলাকালে রমনা বটমূল ও এর আশপাশের এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ করা হবে। প্রতিটি প্রবেশ গেটে তল্লাশি করা হবে। সিসিটিভি ক্যামেরায় সম্পূর্ণ এলাকা নজরদারিতে থাকবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, রমনা এলাকায় সকালে প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড দিয়ে ‘সুইপিং’ করেছে, সন্ধ্যায় এবং বুধবারও করা হবে। পুরো এলাকা সিসিটিভির মাধ্যমে নজরদারির আওতায় থাকবে।

কেরানীগঞ্জে হচ্ছে হাইটেক পার্ক, যা বললেন নসরুল হামিদ

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, প্রযুক্তিবান্ধব দক্ষ জনশক্তি গঠনে হাইটেক পার্ক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুফল ঘরে তুলতে দক্ষ জনশক্তির বিকল্প নেই। আইসিটি খাতে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃজন ও বিকাশে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারলে আগামীর চ্যালেঞ্জ দ্রুত মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

প্রতিমন্ত্রী মঙ্গলবার কেরানীগঞ্জ ঝিলমিল প্রকল্পে হাইটেক পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, কেরানীগঞ্জ খুবই ঐতিহ্যবাহী একটি জনপদ। মেড ইন জিনজিরার হাত ধরে হালকা প্রকৌশল ও শিল্পখাত মেড ইন বাংলাদেশের বৈশ্বিক স্বপ্ন দেখাচ্ছে। এখানে ছোট ছোট শিল্প কলকারখানা সারা বাংলাদেশের মধ্যে কেরানীগঞ্জকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণে কেরানীগঞ্জ হবে অন্যতম চালিকাশক্তি। আর এই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার মূল কারিগর হিসেবে নেপথ্যে ভূমিকা রেখে চলেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয়। তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল হয়েছে এবং আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবিলার স্বপ্ন দেখছি।

কেরানীগঞ্জে হাইটেক পার্ক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ১৭টি খাল উদ্ধারের মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ, শুভাঢ্যা খাল খনন, ৫টি প্রশস্ত রাস্তা, অধ্যাপক হামিদুর রহমান স্পোর্টস কমপ্লেক্সসহ বাংলাদেশ পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট, ভোকেশনারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট নির্মাণ আগামীতে কেরানীগঞ্জকে পরিণত করবে দেশের শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, উন্নত যোগাযোগ অবকাঠামো সমৃদ্ধ একটি আধুনিক নগরীতে।

আজকে ৭তলা বিশিষ্ট ১৫ হাজার বর্গফুটের বিশালায়তনের হাইটেক পার্ক স্থাপনের কাজ শুরু হচ্ছে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। এখান থেকে প্রতিবছর প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবে ১ হাজার জন এবং এখানে স্থায়ীভাবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে ৩ হাজার মানুষের।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল দেশের প্রতিটি মানুষ ভোগ করছে উল্লেখ করে বলেন, আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সততা-সাহসিকতা ও দূরদর্শিতা দিয়ে একটি প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত করেছেন। যিনি বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরকে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত করেছেন এবং ১৩ কোটি মানুষকে ইন্টারনেটে সংযুক্ত করেছেন।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, মেধা ও প্রযুক্তির শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের তরুণরা চাকরি করবে না চাকরির ক্ষেত্র তৈরি করবে। দেশের তরুণরা যেন উদ্যোক্তা ও আত্মনির্ভরশীল হতে পারে সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ব্রেন চাইল্ড আইটি/হাইটেক পার্ক, শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার, স্কুল অব ফিউচার, ডিজিটাল এডুটেইনমেন্ট সেন্টারসহ দেশে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ২০৪১ সালের ভিশন, জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি, উদ্ভাবনী ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করতে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী ও প্রকল্প পরিচালক একেএএম ফজলুল হক বক্তব্য দেন।

বক্তব্য শেষে আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত কেরানীগঞ্জ লাল মসজিদের (দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদ) শৈল্পিক সৌন্দর্য পরিদর্শন করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী ও ভারতের হাইকমিশনার।

পাপাচার বর্জন করতে না পারলে রোজা অর্থহীন

সাধারণ অর্থে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়তসহকারে পানাহার ও কামাচার পরিহার করার নাম সিয়াম। তবে সিয়ামের তাৎপর্য এর চেয়েও অনেক গভীর ও বিস্তৃত। শুধু দৈহিক চাহিদা পূরণ থেকে সংযমী হলেই সিয়াম পালনের উদ্দেশ্য পুরোপুরি সফল হয় না। সিয়ামের পূর্ণতার প্রধান উপাদান হচ্ছে পাপাচার থেকে বিরত থাকা। এ প্রসঙ্গে হজরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর বরাতে একটি হাদিস সংকলন করেছেন ইমাম তিরমিজি (রহ.)। মহানবি (সা.) ইরশাদ করেন, রোজা রেখে যে ব্যক্তি মিথ্যাচার ও অন্যায় আচরণ পরিহার করল না, তার পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ এমন রোজা আল্লাহর কাছে পছন্দনীয় নয়। সুতরাং পবিত্র রমজানের সিয়াম সাধনার পূর্ণাঙ্গ সুফল পেতে হলে অন্যায় কার্যকলাপ থেকেও বিরত থাকতে হবে। হাদিসটির আলোকে রোজার জন্য পানাহারের সঙ্গে গুনাহের কাজগুলো বর্জনের গুরুত্ব পরিষ্কার হয়। পাপাচার বর্জন করতে না পারলে রোজা রাখা অর্থহীন হয়ে যায়। যেমন গিবত বা পরচর্চা একটি পাপাচার। কুরআন মজিদে এটিকে মরা ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সমতুল্য বলা হয়েছে। কোনো রোজাদার যদি গিবতের পাপে লিপ্ত হয়, তাহলে তার রোজা নষ্ট হয়ে যাবে কি? প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ফকিহ আধ্যাত্মিক সাধক হজরত সুফিয়ান সওরী (রহ.)-এর অভিমত ছিল গিবতের কারণে রোজা নষ্ট হয়ে যায়। তেমনি ইমাম গাজালি (রহ.) তার অমর গ্রন্থ এহয়াউল উলুমে প্রসিদ্ধ তাবেয়ি হজরত মুজাহিদ ও হজরত ইবনে শিরিনের উক্তি উদ্ধৃত করেছেন যে, গিবত রোজা নষ্ট হওয়ার কারণ।

এসব মনীষী প্রথমত হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস দলিল হিসাবে উল্লেখ করেন। দ্বিতীয়ত তারা যুক্তি দেন, পানাহার মৌলিকভাবে হালাল। অথচ রোজার কারণে তা নিষিদ্ধ হয়ে যায়। কিন্তু মিথ্যাচার, গিবত প্রভৃতি কখনো বৈধ নয়। রোজায় এসবের কদর্যতা আরও বেড়ে যায়। রোজা রেখে এগুলোয় লিপ্ত হওয়া আরও গুরুতর অন্যায়। সুতরাং মৌলিকভাবে হালাল ও বৈধ পানাহার যদি রোজা নষ্টের কারণ হয়, তা হলে যেসব কাজ কোনো অবস্থাতেই বৈধ নয়, তাতে লিপ্ত হওয়ার কারণে রোজা নষ্ট হওয়া খুবই যুক্তিসঙ্গত।

অন্যান্য মনীষী বলতে চান, অন্যায় কর্ম ও পাপাচারের কারণে সিয়াম সাধনার সুফল কমে যায়। কিন্তু রোজা নষ্ট হয়ে যাওয়ার রায় দেওয়া সমীচীন হবে না। হাকীমুল উম্মত হজরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) এ ব্যাপারে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, রোজার একটি কাঠামোগত স্বরূপ রয়েছে। তেমনি রয়েছে একটি উদ্দেশ্যগত স্বরূপ। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়তসহকারে পানাহার ও কামাচার বর্জন রোজার কাঠামোগত স্বরূপ। সেমতে রোজায় পানাহার যদিও লঘু অন্যায়; কিন্তু তা কাঠামোগত স্বরূপের পরিপন্থি। আর পাপাচার যদিও গুরুতর অন্যায়। কিন্তু তা রোজার কাঠামোগত স্বরূপের পরিপন্থি নয়। রোজার উদ্দেশ্যগত স্বরূপ হলো পানাহারের পাশাপাশি পাপাচার বর্জন করা। সুতরাং গুনাহের কাজ রোজার উদ্দেশ্যগত স্বরূপের বিরোধী। এ অন্যায় কাজ ও আচরণের কারণে রোজার উল্লেখযোগ্য সুফল থেকে বঞ্চিত থাকতে হবে।

তবে এমন বিভ্রান্তিতে পড়া যাবে না যে, পাপাচার বর্জনে অক্ষম ব্যক্তির রোজা রাখা অনর্থক। শরিয়তের অন্যান্য ইবাদতের বেলায়ও একই নিয়ম প্রযোজ্য। সালাত আদায়ের জন্য একাগ্রচিত্ত হওয়া জরুরি। নিজের পুরো সত্তা যখন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সমীপে নিবেদনের অনুভূতি নিয়ে কেউ সালাতে মশগুল হয়, তখন তার প্রতি বর্ষিত হতে থাকে আল্লাহর বিশেষ রহমতের ধারা। আর এটিই কাম্য।

ইহসান কাকে বলে হজরত জিবরাইল আলাইহিস সাল্লামের এ প্রশ্নের জবাবে মহানবি (সা.) ইরশাদ করেছিলেন, তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি তাকে প্রত্যক্ষ করছ। যদি তুমি তাকে প্রত্যক্ষ করার মনোভাব আনতে না পারো, তা হলে ভাববে তিনি তোমাকে প্রত্যক্ষ করছেন। কিন্তু কারও পক্ষে এমন মনোভাব সৃষ্টি সম্ভব না হলে তাকেও সালাত আদায় থেকে বিরত থাকার অনুমতি দেওয়া যায় না। তেমনি পাপাচার ছাড়তে না পারলেও রোজা রেখে যেতে হবে। কেননা এতেও আল্লাহর হুকুম নামমাত্র হলেও পালন করা হবে। আর শরিয়তের প্রতিটি ইবাদতের রয়েছে বিশেষ কল্যাণ ও প্রভাব। এভাবে রোজা রাখতে রাখতে একসময় তার মধ্যে পাপাচার বর্জনের প্রেরণা জাগতে পারে।

লেখক : চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মুফাসসির সোসাইটি

গভীরভাবে চিন্তা করার মাস রমজান

৬১০ খ্রিস্টাব্দে কুরআন অবতীর্ণ হওয়া শুরু হয়েছিল। এটি ছিল চান্দ্র বর্ষপঞ্জি অনুসারে রমজান মাস। হেরা নামক একটি গুহায় অবস্থানকালে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে প্রথম ওহি এসেছিল। কুরআন হেরা গুহায় অবতীর্ণ হতে শুরু করে এবং ২৩ বছর ধরে ধীরে ধীরে ওহি প্রকাশের মাধ্যমে এটি মদিনায় সমাপ্ত হয়।

কুরআনের মতো গাইডের অবতীর্ণ হওয়াই মানুষের উপর আল্লাহর সর্বাধিক পুরস্কার। কারণ, কুরআন মানুষকে সর্বাধিক সাফল্যের পথ দেখায়। কুরআন বলে কীভাবে মানুষ তার বর্তমান জীবনকে অর্থবহ করে তুলতে পারে যাতে মৃত্যুর পরে চিরন্তন জীবনে সে জান্নাত নামের অনন্ত সুখময় জীবনের পৃথিবীতে প্রবেশ করতে পারে। জান্নাত মানুষের গন্তব্য এবং রোজা এই জান্নাতে পৌঁছানোর পথ।

রমজান মাস এই নিয়ামতের বার্ষিক স্মরণীয় অনুষ্ঠান। কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার স্মারক হিসাবে উদযাপিত হয় না তবে তাকওয়া ও কৃতজ্ঞতার পরিবেশে উদযাপিত হয়। এই মাসে রোজা রাখা একটি আশীর্বাদ, এটা আল্লাহর একটি গুরুতর স্বীকৃতি। সেটা আমলের ভাষায় হবে, ‘হে আল্লাহ! আমি শুনেছি এবং আমি স্বীকার করেছি’।

রোজার নির্দেশ দেওয়ার সময় কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় যে রোজা এবং কুরআনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে।

কুরআনে বলা হয়েছে, যার অর্থ: রমজান মাসে কুরআন নাজিল হয়েছিল যা মানুষের জন্য পথনির্দেশ এবং সঠিক ও ভুলের মধ্যে বিচারকের জন্য সুস্পষ্ট লক্ষণ বা মানদণ্ড। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই মাস পাবে, সে যেন রোজা রাখে (২ : ১৮৫)।

এই আয়াতে হেদায়েতের বাণী (পথ দেখানোর জন্য, সরল পথ প্রদর্শন করার জন্য) এবং ফুরকান (সত্য এবং মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকারী) শব্দের উল্লেখ হয়েছে। যেনো গাইডেন্স দেওয়া হচ্ছে যে রমজান মাস হচ্ছে কুরআনকে বুঝে পড়ার মাস যাতে মানুষ জানতে পারে যে হেদায়েত ও মানদণ্ড কী।

সাধারণত এই মাসে বিশেষ করে কুরআন তেলাওয়াত করা হয়। রাতে তারাবিতে কুরআন আদব ও শ্রদ্ধার সাথে শোনা হয়। তবে কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে প্রকৃত কৃতজ্ঞতা হলো এই মাসের মধ্যে যতটা সম্ভব কুরআন সম্পর্কে গভীর চিন্তা করা। আল্লাহর সর্বাধিক নেয়ামত বোঝার উদ্দেশ্যে এই মাসটি বিশেষ মর্যাদা রাখে।

কুরআন নাজিলের মাসে কুরআন তেলাওয়াত করার সময় এক মুমিনের সেই মুহুর্তের কথা মনে পড়ে, যখন আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে একটি আলোকিত সংযোগ স্থাপন করা হয়েছিল, এটি মনে করে সে চিৎকার করে ওঠে বলে, ‘হে আল্লাহ! আপনার স্বরূপ প্রকাশের দ্বারা আমার হৃদয় আলোকিত করুন।’

কুরআনে সে সেই আশীর্বাদপ্রাপ্ত আত্মাদের সম্পর্কে পড়েছে যারা বিভিন্ন সময়ে আল্লাহ কেন্দ্রিক জীবনযাপন করেছিল। সে বলে, হে আল্লাহ! আমাকে আপনার প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত করুন। কুরআনে সে স্বর্গ ও নরকের কথা পড়ে। সেই মুহুর্তে, তার আত্মা চিৎকার করে বলে, হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচান এবং বেহেস্তে প্রবেশ করান।

এইভাবে, কুরআন তার জন্য এমন একটি গ্রন্থ হয়ে যায় যাতে তার জীবন, যা থেকে সে নিজের জন্য আহার পায়, যার আলোকিত সাগরে স্নান করে সে সম্পূর্ণ পবিত্র হয়।

কুরআন হলো বান্দার উপর আল্লাহর প্রতিদান এবং রোজা বান্দার দ্বারা এই পুরস্কারের ব্যবহারিক স্বীকৃতি। রোজার মাধ্যমে বান্দা নিজেকে কৃতজ্ঞতার যোগ্য করে তোলে। সে একটি অসাধারণ ঐশ্বরিক আদেশ পালন করে নিজের মধ্যে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের অনুভূতি জাগ্রত করে।

রোজার ক্রম ধরে সে নিজের মধ্যে এই ক্ষমতা বিকাশ করে যে সে কুরআন দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসারে বিশ্বের মধ্যে ধার্মিকতাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারে।

রোজা একটি নির্দিষ্ট আমল। এটি মানুষের হৃদয়ে স্নিগ্ধতা এবং বিনয় নিয়ে আসে। এইভাবে, রোজা একজন ব্যক্তির মধ্যে ঐশ্বরিক মানসিকতা জাগ্রত করার ক্ষমতা তৈরি করে। সে এই চেতনাকে এক বিশেষ অনুভূতির স্তরে নিয়ে যেতে পারে যা আল্লাহ এই দুনিয়াতে তার বান্দামাত্রের কাছে দাবি করেন।

রোজার কষ্টকর অভিজ্ঞতা একজন ব্যক্তিকে বৈষয়িক স্তর থেকে আধ্যাত্মিক স্তরে নিয়ে যায়। রোজা এক ধরনের প্রশিক্ষণ যা একজন ব্যক্তির মধ্যে আকাঙ্ক্ষার স্তরে আল্লাহর উপাসক হওয়ার ক্ষমতা বিকাশ লাভ করে। রোজা একজন ব্যক্তিকে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে সক্ষম করে। আল্লাহর নিকট জবাবদিহি করার ভয় তাকে কাঁপিয়ে তোলে।

তালিমুল কুরআন বাহরাইনের আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বাহরাইনে বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতাদের নিয়ে ইফতার মাহফিল ও সুধী সমাবেশ করেছে তালিমুল কুরআন বাহরাইন শাখা।

শুক্রবার দেশটির মোহাররক শহরের আল ইসলাহ হলরুমে পবিত্র কুরআন তেলোওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। সংগঠনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে ও মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার বদরুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্কুল বাহরাইনের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মুইজ চৌধুরী।

বিশেষ অতিথি ছিলেন- বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা তছির উদ্দিন, প্রধান আলোচক ছিলেন মো. সেলিম। উপস্থিত ছিলেন- ইঞ্জিনিয়ার মনজুর আহমেদ, মো. সালাউদ্দিন, জয়নাল আবেদীনসহ বাহরাইন বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতা এবং রাজনৈতিক অরাজনৈতিক ও বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট বাহরাইন শাখার নেতাসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারা।

পরিশেষে দেশ জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনা ও মহামারি করোনায় আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

রোজায় সুস্থ থাকতে যেভাবে খাবার খাবেন

রোজায় টানা ১২-১৪ ঘণ্টা না খেয়ে থাকতে হয়। তাই ইফতার, রাতের খাবার ও সেহেরিতে খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। নিয়ম মেনে খাবার খেলে ও সঠিক লাইফস্টাইল মেনে চলছে পুরো রমজান মাসে সুস্থ থাকা যায়।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বারডেম হাসপাতালের মেডিসিন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. খাজা নাজিমউদ্দিন।

ইফতার

স্বাস্থ্যসম্মত হতে হবে ইফতার, ভূরিভোজ করা যাবে না। খাওয়াকে উপভোগ করতে হবে। ইফতারিতে প্রয়োজনীয় সবজি, ফল, মাছ/মাংস, দুধ/দুগ্ধজাত দ্রব্য থাকা বাঞ্ছনীয়। ধীরে সুস্থে মুখের খাবার চিবুতে হবে, শেষ করতে হবে। বেশি লবণ, বেশি সুগার, বেশি ভাজি খাওয়া যাবে না। বেশি ভাজা মানে বেশি তেল, তাই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। খেজুর ভালো খাবার। এতে আছে ফাইবার, আছে ধর্মীয় অনুভূতি।

দুই রকম সবজি, দুই রকম ফল খেলে মিলবে ভিটামিন মিনারেল। ডাব, তরমুজ, শসায় থাকবে পানি যেটা ডিহাইড্রেশন ঠেকাবে। আপেল নাশপাতি আখরোট ভালো। ভাত রুটি, নুডলস, বুট ছোলা ভালো, কারণ ফাইবার বেশি পেট ভালো রাখে।

পানি পান করতে হবে যথেষ্ট ডিহাইড্রেশন ঠেকানোর জন্য। একবার বেশি না নিয়ে বারবার রাতভর সেবনের অভ্যাস করতে হবে। গরমের রোজায় ২.৫ থেকে তিন লিটার পানি লাগবে যা রাতভর পান করা বাঞ্ছনীয়।

কী খাবেন সেহরিতে

সেহরিতে এমন খাবার খেতে হবে যেটা সারা দিন আপনাকে ধরে রাখবে। ক্ষুধা লাগবে না বা খাবার তাগাদা আসবে না। ভাজি বা গ্রিল খাবেন না। কারণ পিপাসা বাড়াবে। তালিকায় সবজি, শাক রাখতে হবে। থাকবে শসা টমেটো বা ফ্রুট সালাদ। এগুলো জোগাবে শক্তি, সতেজতায় ভিটামিন মিনারেলস। আপেল, কমলার ফ্রুট সালাদের সঙ্গে বাদাম বা দই/দুধ শুধু স্বাদই বাড়াবে না, খাবারকে করবে উপাদেয় পুষ্টিপূর্ণ। ডিম ফালি করে সালাদে দেওয়া যায়, সবজি মিশিয়ে মোটা করে মামলেটও করা যায়; ডিম হলো প্রোটিনের আধার, ভিটামিন মিনারেলের ভাণ্ডার। মাছ/মুরগি দুটিই চলতে পারে তবে ভোজ নয়। দুধ অনেকভাবেই খাওয়া যায়, দই বা দুধ মিশিয়ে কিছু দিয়ে, দুধ কলা ভাত বা ওটস মিশিয়ে। সেহরি না খেয়ে রোজা রাখা ঠিক নয়। আবার পরবর্তী দিনটির হিসাব করে ভূরিভোজে লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি। সেহরি খেয়ে অতিরিক্ত পানি পান করা ঠিক। তাহলে বমি হওয়ার আশঙ্কা বেশি। ২৪ ঘণ্টার বরাদ্দ ২.৫ থেকে ৩ লিটার পানি সারা রাতে কিছুক্ষণ পরপর পান করতে হবে। প্রতিদিন একটা ডিম, এক গ্লাস দুধ ও একটা মিষ্টি ফল রাতের মধ্যে খেতে হবে। খেজুর থেকে শুরু সব ফলই খাওয়া যেতে পারে রাতভর।

রোগীর রোজা

কোনো রোগেই রোজা নিষেধ নয়। রোজা রাখলে রোগ বাড়বে এটাও নয়। কোনো ডাক্তারই রোজা রাখতে না করবে না। ডাক্তার অসুখের তাৎপর্য আর ঝুঁকির কথা বলবেন/বোঝাবেন। ডায়ালাইসিস লাগে এমন কিডনি রোগী বা নিয়ম করে অনেকগুলো ওষুধ লাগে এমন অ্যাডভান্সড হার্টের রোগী রোজা বাদ দিতে পারে, তবুও সবক্ষেত্রেই রোগীর ইচ্ছাই বড়। কিছু কিছু রোগের ক্ষেত্রে রোজা রেখেই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। সর্বক্ষেত্রেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া বাঞ্চনীয়। রোজা রেখে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি/জীবনের ঝুঁকি দেখা গেলে ইসলামের বিধান মেনে রোজা পরিহার করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই শ্রেয়।

রোজাদারের জন্য বিশেষ সতর্কতা

ইনসুলিন, সালফোনুরিয়া জাতীয় ওষুধে হাইপগ্লাইসেমিয়া হওয়ার ভয় থাকে; এখন বাজারে অনেক ভালো ওষুধ পাওয়া যায়, তাই সম্ভব হলে বিকল্প ওষুধ নিতে হবে। সন্ধ্যা বেলায় এক ডোজ নিয়ে চলে এমন ওষুধ নেওয়া যেতে পারে; নাহলে সন্ধ্যায় বেশি নিয়ে অর্ধেকাংশ শেষ রাতে নিতে হবে। সকাল দশটায় আঙ্গুলের মাথা থেকে রক্ত পরীক্ষা করতে হবে-১০(২০০)র বেশি থাকলে শেষ রাতের ডোজ বাড়াতে হবে। যে ওষুধই চলুক খারাপ লাগলে রক্ত পরীক্ষা করলে চার (৭০ মিগ্রাম) কম হলে রোজা ভাঙতে হবে। ১৬(৩০০ মিগ্রাম)র বেশি হলে রোজা না রাখার পরামর্শ থাকবে। গ্লিফলোজেন ওষুধ চললে ডিহাইড্রেশন ঠেকানোর জন্য পানি বেশি পান করা জরুরি। বমি হওয়ার ভয় থাকলে ৮০০ মি. গ্রামের বদলে ৫০০ মি. গ্রামের ছোট ট্যাবলেট খেতে হবে। ডায়াবেটিস রোগীর খাবার অন্যসময়ের মতোই ক্যালরি ঠিক রেখে আগের অভ্যাস মতো নাশতাটা সন্ধ্যায়, মধ্যাহ্ন ভোজ তারাবির পর রাতের খাবারটা শেষ রাতে খেতে হবে।

কলেজশিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

বরগুনা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অমর চন্দ্রের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানিসহ নানা অভিযোগ এসে কলেজ অধ্যক্ষের কাছে বিচার চেয়ে লিখিত দিয়েছেন এক ছাত্র।

শিক্ষার্থীর অভিযোগ, বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অমর চন্দ্রের হাতে ইনকোর্স ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর থাকায় তিনি শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে প্রাইভেট পড়াতে বাধ্য করেন, শ্রেণিকক্ষ ও প্রাইভেটে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি এবং ছাত্রদের দিয়ে বাজার করিয়ে নিচ্ছেন।

বুধবার ওই কলেজের বাংলা বিভাগের চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্র এনামুল হক শিক্ষক অমর চন্দ্রের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন অধ্যক্ষ।

অধ্যক্ষের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে এনামুল হক উল্লেখ করেছেন, বাংলা বিভাগের শিক্ষক অমর দাসের কাছে আমরা গোটা ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীর এক প্রকার জিম্মিদশায় আছি। তার হাতে থাকা ভাইভা ও ইনকোর্সের মার্কসের সুবিধা নিয়ে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে নানা প্রকার অনৈতিক আবদার করেন।

বিশেষ করে ভাইভায় মার্কস দেওয়ার জন্য তিনি অর্থ দাবি করেন। গরিব অসহায় শিক্ষার্থীরা কেউ টাকা না দিলে তাদের সর্বনিম্ন মার্কস দেওয়ার ভীতি প্রদর্শন করেন। একইভাবে ফুল মার্কস দেওয়ার বিনিময়ে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাজার সওদা করানো, পোশাকাদি কিনে দেওয়ার আবদার করেন।

এনামুল বলেন, স্যার আমাদের বিভিন্ন সময়ে তার ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে থাকেন। ভাইভার ও ইনকোর্স মার্কসের দোহাই দিয়ে আমার কাছ থেকেও অমর স্যার একাধিকবার ইলিশ মাছ, কৈ মাছ, দেশি মুরগিসহ বাজার-সওদা করিয়ে নিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি কলেজের ভেতরে যে কক্ষটিতে থাকেন, ওই কক্ষের খাট ভেঙে যাওয়ায় গভীর রাতে ডেকে নিয়ে খাট মেরামত পর্যন্ত করিয়েছেন। একইভাবে তিনি আমাদের ডিপার্টমেন্টে প্রায় সব ছাত্রকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, বাজার-সওদা করে খাওয়ানোসহ নানা কাজে বাধ্য করছেন।

এ ছাড়া গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, শিক্ষক অমর চন্দ্র কলেজের বিপরীতে একটি বাসায় প্রাইভেট পড়ানোর সময় এক ছাত্রীর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ অবস্থায় ওই শিক্ষার্থী বেঞ্চ থেকে উঠে গিয়ে পেছনের দিকে বসেন। এ ছাড়া ক্লাস চলাকালীন একজন ছাত্রীর শরীর স্পর্শ করার চেষ্টা করছেন শিক্ষক অমর চন্দ্র। একইভাবে একজন ছাত্রী স্যারের এমন আচরণের বিষয়ে সহপাঠীর সঙ্গে কথোপথনেরও একটি কল রেকর্ড, একজন ছাত্রকে মাছ ও খাসির মাংস কিনে নিয়ে আসার কয়েকটি কল রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সরবরাহ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

ভিডিও দেখানোর পর ওই কলেজেরই বাংলা বিভাগের সরকারি অধ্যাপক শিরীন সুলতানা নিশ্চিত করেন ওই ভিডিওর ব্যক্তিটি বিভাগীয় প্রধান অমর চন্দ্র।

শিরীন সুলতানা বলেন, আমার কাছেও স্যারের এমন আপত্তিকর আচরণের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অভিযোগ এসেছিল। কিন্তু ছাত্রীদের ডেকে জিজ্ঞেস করলে তারা অস্বীকার করেছিল।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বাংলা বিভাগের চূড়ান্ত বর্ষেও এক ছাত্রী জানান, তিন-চার মাস আগে বৃষ্টির মধ্যে একদিন প্রাইভেট পড়তে গিয়েছিলেন তিনি। এ সময় পেছনের বেঞ্চে বসায় স্যার তাকে ডেকে সামনে সারিতে নিয়ে বসিয়ে শরীর স্পর্শ করে আপত্তিকর আচরণ শুরু করেন। ক্ষোভে ও ঘৃণায় তিনি চলে আসেন এবং তার পর থেকে আর প্রাইভেট পড়তে যাননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা বিভাগের বেশ কিছু শিক্ষার্থী জানান, অমর স্যার শিক্ষার্থীদের মার্কসে জিম্মি করে প্রাইভেট পড়ানোয় বাধ্য করেন। তিনি কলেজে যোগদানের পর থেকে এভাবেই বছরের পর বছর শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে আসছেন। স্যারের হাতে মার্কস জিম্মিদশার কারণে কেউ কিছু মুখ খুলে বলছে না। তার বিরুদ্ধে মুখ খুললে সর্বনিম্ন মার্কস দেওয়া এমনকি ফেল করানোর পর্যন্ত হুমকি দিয়ে থাকেন।

কয়েকজন ছাত্রী পরিচয় গোপন রাখার শর্তে মোবাইলে জানান, শিক্ষক অমর চন্দ্র ইনকোর্স ও ভাইভায় ফুল মার্কস দেয়ার বিনিময়ে তাকে ‘বিশেষ সময়’ দেয়ার প্রস্তাব পর্যন্ত দিয়েছেন। এছাড়া প্রাইভেট পড়ানোর সময় তিনি একাধিক ছাত্রীকে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়ার মত যৌন হয়রানি করে আসছেন। ছাত্রীরা লজ্জা ও মার্কস না পাওয়ার ভয়ে কেউ মুখ খুলে না।

একজন ছাত্রী বলেন, শুধু প্রাইভেটেই না শ্রেণিকক্ষেও তিনি আমাদের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করেন এবং গায়ে হাত দেন। আমরা খুবই বিব্রতবোধ করি। কিন্তু লজ্জায় কাউকে বলতে পর্যন্ত পারি না।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অমর চন্দ্র বলেন, এসব মিথ্যা অভিযোগ। অনিয়মিত কিছু ছাত্র ভাইভা ও ইনকোর্সে ফুল মার্কস দেওয়ার জন্য আমায় চাপ প্রয়োগ করেছিল। কিন্তু ফল অনুসারে আমি মার্কস দেয়ায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যে বিষোদগার করছে। আমি বিষয়টি অধ্যক্ষ স্যারকে জানিয়েছি।

তদন্তকারি কর্মকর্তা বরগুনা সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক (ইংরেজি) মো. আবদুস সালাম বলেন, এ ঘটনায় অধ্যক্ষ আমাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বরগুনা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। সহযোগী অধ্যাপক মো. আবদুস সালামকে প্রধান করে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রশাসনের আশ্বাসে হলে ফিরলেন বেরোবির ছাত্রীরা

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছাত্রী হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

শনিবার রাতে হলের সামনে বিদ্যুতের দাবিতে আন্দোলন শুরু করলেও পরে ডাইনিংয়ের খাবারের মান বৃদ্ধিসহ বেশ কয়েকটি দাবি তোলেন তারা।

এদিকে আন্দোলন শুরুর পরপরই প্রক্টরিয়াল বডি, প্রভোস্ট বডিসহ ছাত্র পরামর্শ দপ্তরের পরিচালক, বহিরাঙ্গন কার্যক্রম দপ্তরের পরিচালক এবং বেরোবি বঙ্গবন্ধু পরিষদের এক নেতা ঘটনাস্থলে এসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন।

দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় হলে ফিরে যায় আন্দোলনকারী ছাত্রীরা।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, হলের মধ্যে বিদ্যুৎ সমস্যা লেগেই আছে। রমজান মাস আসার পর থেকে বিকাল বেলা বিদ্যুৎ থাকে না। বিষয়টি নিয়ে হলের অফিসে বারবার জানানো হলেও কোন সমাধান আসেনি। পরে বাধ্য হয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রভোস্ট তানিয়া তোফাজকে ফোন দেয় তারা। ফোন পেয়ে হল প্রভোস্ট শিক্ষার্থীদের সাথে রূঢ় আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

হল ও প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রত্যেক রুমে দুই থেকে তিনটি বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা। সে হিসেবে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০টি বৈদ্যুতিক হিটার একটি হলে ব্যবহৃত হচ্ছে। রমজান মাসে সবাই বিকেলের পর প্রায় একই সময়ে রান্নার জন্য বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহার করায় ওভারলোডের কারণে লোডশেডিং হয়। হল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহারে নিষেধাঙ্গা আরোপের পরেও হিটার ব্যবহার বন্ধ হচ্ছে না। ফলে বারবার চেষ্টা করেও এ সমস্যার কোন সমাধান করতে পারিনি কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে হল প্রভোস্ট তানিয়া তোফাজ বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিগুলো লিখিতভাবে জানালে আমরা কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রব্বানী বলেন, আন্দোলনের কথা শুনে আমি প্রথমে সহকারী প্রক্টরকে পাঠিয়েছি। পরে আমি নিজেও সেখানে যাই। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো সব যৌক্তিক ছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সব সমস্যার সমাধান করা হবে। বিদ্যুতের যে সমস্যা ছিল সেটার সমাধান ইতোমধ্যে করা হয়েছে। আশা করি বাকিগুলো খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান করা হবে।