শুক্রবার ,১৪ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 347

দিনাজপুরে হঠাৎ করেই সব রুটে যান চলাচল বন্ধ

দিনাজপুরের সব রুটে হঠাৎ করেই বাস-ট্রাকসহ অন্যান্য যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন পরিবহণ শ্রমিকরা। একজন শ্রমিক নেতার ওপর হামলা এবং কয়েকজন অ্যাম্বুলেন্সচালককে গ্রেফতারের প্রতিবাদে এ ধর্মঘট শুরু করেছেন তারা। হঠাৎ এ ধর্মঘটে বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা।

দিনাজপুর মোটর পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী জানান, দিনাজপুর শহরের বালুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে বুধবার বিকালে এক যাত্রীকে অটোরিকশা থেকে বাসে নেওয়ার ঘটনায় অটোরিকশাচালকরা হেলপারকে মারধর করে।

বিষয়টি নিরসনের জন্য বালুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড শাখা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু এগিয়ে এলে তার ওপর হামলা ও মারধর করেন অটোরিকশাচালকরা। ফজলে রাব্বী অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা দিতে গেলে মামলা নেয়নি পুলিশ।

পাশাপাশি দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকার পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা মাইনুদ্দিনসহ সাত শ্রমিককে গ্রেফতার করে পুলিশ।

দুটি ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পরিবহণ ধর্মঘট শুরু করা হয়েছে। তিনি জানান, দুটি ঘটনার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।

এ ব্যাপারে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মোজাফ্ফর হোসেন জানান, বালুয়াডাঙ্গা শ্রমিক নেতা ডাবলুর ওপর হামলার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকার রোগী ও তাদের স্বজনদের জিম্মি করে বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগে সাত শ্রমিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

লুহানস্কের ৮০ শতাংশই এখন রুশ বাহিনীর দখলে

রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় লুহানস্কের ৮০ শতাংশ দখলে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মেয়র সেরহি হাইদাই।

তিনি বলেছেন, রাশিয়ান সেনারা এ সপ্তাহে পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনে নতুন করে আক্রমণ শুরু করেছে। লুহানস্ক অঞ্চলেও তারা হামলা ব্যাপকভাবে জোরদার করেছে।

এর আগে রুশ বাহিনী ক্রিমিন্না শহর দখলে নেওয়ার পর মেয়র হাইদাই বলেছিলেন, রাশিয়ানরা এখন রুবিঝনে এবং পোপাসনা নগরীকে হুমকি দিচ্ছে। সেই সময় তিনি সেখানকার সকল বাসিন্দাকে অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, লুহানস্ক হচ্ছে দোনবাসের একটি অঞ্চল। দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে একত্রে দোনবাস বলা হয়। গত ২১ ফেব্রুয়ারি এ দুই অঞ্চলকে আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর পর এ অঞ্চলকে নিরস্ত্রীকরণ করতে ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া।

তথ্যসূত্র: আলজাজিরা

ন্যাটোর হুমকি বন্ধ হলেই ইউক্রেন অভিযানের সমাপ্তি: রাশিয়া

ইউক্রেনের ভূখণ্ড ব্যবহার করে মস্কোর প্রতি ন্যাটোর হুমকি বন্ধ হলেই সামরিক অভিযানের ইতি টানা হবে বলে জানিয়েছে রাশিয়া।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলেক্সি পোলিশচুক এ কথা বলেছেন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘তাস’ এর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

তিনি বলেন, ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শেষ হলে রাশিয়ার কাজগুলো সম্পন্ন হবে। এর মধ্যে রয়েছে দোনবাসের জনগণের শান্তিপূর্ণ সুরক্ষা, ইউক্রেনের নিরস্ত্রীকরণ ও নাৎসিবাদ মুক্তকরণ। সেই সঙ্গে ইউক্রেনের ভূখণ্ড থেকে ন্যাটো থেকে রাশিয়ার প্রতি যে হুমকি আসছে তা বন্ধ হওয়া।

তবে ইউক্রেনের ভূখণ্ড থেকে ন্যাটো কীভাবে রাশিয়াকে হুমকি দিচ্ছে সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাননি এ কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় অধ্যুষিত দোনবাস অঞ্চলকে বেসামরিকীকরণের লক্ষ্যে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করেন। এই যুদ্ধে প্রায় ৪৫ লা

বাজেট ৯ জুন, বাড়বে না করের বোঝা: অর্থমন্ত্রী

আসন্ন ২০২২-’২৩ অর্থবছরের বাজেট আগামী ৯ জুন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে আগামী বাজেটে জনগণের ওপর নতুন করে করের বোঝা চাপানো হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

বুধবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী এ আশ্বাস দেন।

জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে সেটি তুলে ধরে একজন সাংবাদিক জানতে চেয়েছিলেন, আগামী বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা তিন লাখ টাকা থেকে বাড়ানো হবে কিনা।

জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের কষ্ট বা ভোগান্তি যাতে করে না বাড়ে এবং তাদের ওপরে যেন বোঝা বেশি না বাড়ে সেগুলোর জন্য আমরা কাজ করছি। আশা করছি এগুলো কমবেশি বিবেচনায় নেব।

নতুন বাজেট কেমন হবে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বছরের বাজেট অন্যান্য বছরের মত না। এবার আরও স্বচ্ছ উপায়ে বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে।

১৯ হাজার কোটি টাকার জোগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

সংকটে পড়া ব্যাংকগুলোকে নগদ টাকার জোগান দিতে তারল্য সহায়তার আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত ১৬ দিনে ১৯ হাজার কোটি টাকার জোগান দিয়েছে।

৩ এপ্রিল থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে ব্যাংকগুলোকে ওই সহায়তা দেওয়া হয়। তবে ব্যাংকগুলোতে এখনও তারল্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করেনি। সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতে ২ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে। এগুলোর একটি অংশ বিভিন্ন বন্ডে বিনিয়োগ করা। আর কিছু ব্যাংক তারল্য ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে সংকটে পড়েছে।

সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক থেকে মানুষের টাকা তোলার প্রবণতা বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে নতুন আমানত রাখার হার কমায় সঞ্চয়ের হার কমে গেছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সও কমেছে। এদিকে আমদানি ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়েছে। আমদানি ব্যয় মেটাতে ব্যাংকগুলোর কাছে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা না থাকায় তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ডলার কিনছে। এতেও ব্যাংকগুলোর টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আটকে পড়েছে। বেড়েছে ঋণের প্রবাহও। এসব কারণে কিছু ব্যাংকে তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে।

এছাড়া আসন্ন রোজার ঈদে ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার চাহিদা বাড়ে। এই সময়ে গ্রাহকরা বেশি মাত্রায় নগদ টাকা তুলে নেন। করোনার সংকট মোকাবিলায় টাকার প্রবাহও বাড়ানোর পক্ষে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে চাহিদা অনুযায়ী টাকার জোগান দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংকগুলো যে টাকা চাচ্ছে, তাতে কোনো কাটছাঁট করছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চাহিদা অনুযায়ীই টাকার জোগান দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র জানায়, ১৮ এপ্রিল দুটি উপকরণের মাধ্যমে ১৯টি ব্যাংককে ৪ হাজার ৩৫ কোটি ১৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। ১৭ এপ্রিল ৪ হাজার ৯৩১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, ১৩ এপ্রিল ৩ হাজার ৪৩৯ কোটি ৪ লাখ টাকা, ১০ এপ্রিল ৫৫১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এর আগে ৭ এপ্রিল ৬৯৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, ৬ এপ্রিল ৯২৪ কোটি টাকা, ৫ এপ্রিল ১ হাজার ৯০০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, ৪ এপ্রিল ১ হাজার ৭৭৮ কোটি টাকা এবং ৩ এপ্রিল ৯৭৭ কোটি টাকা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই ফেব্রুয়ারিতে ঋণ প্রবাহ বেড়েছে ৮৭ শতাংশ। এর বিপরীতে আমানত প্রবাহ কমেছে ৫০ শতাংশ। ঋণ ও আমানতের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হলে ঋণের চেয়ে আমানত বাড়তে হয় বেশি। কেননা আমানতের পুরো অর্থ ঋণ বিতরণ করা যায় না। ১৫ থেকে ১২ শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গ্রাহকদের নিরাপত্তার জন্য জমা রাখতে হয়।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংকিং খাতে আমানত কমেছে ৫০ শতাংশ। এদিকে ঋণ প্রবাহ বেড়েছে ৮৭ শতাংশ। ফলে এখানে বড় অঙ্কের ঘাটতি রয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দিয়ে তারল্য বাড়ে ব্যাংকে। কিন্তু রেমিট্যান্স কমায় তারল্য কমেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চে রেমিট্যান্স কমেছে ১৮ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জুলাই ফেব্রুয়ারিতে আমদানি বেড়েছে ৪৭ শতাংশ। এলসি খোলা বেড়েছে ৫০ শতাংশ। রেমিট্যান্স কমায় আমদানির দেনা শোধ করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে পর্যাপ্ত ডলার নেই। ফলে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ডলার কিনছে। চলতি অর্থবছরের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৮০০ কোটি ডলার কিনেছে বাণিজ্যক ব্যাংক থেকে। এর বিপরীতে প্রায় ৬৮ হাজার কোটি টাকা আটকে গেছে বাংলাদেশ ব্যাংকে।

এদিকে নানা প্রয়োজনে গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে নগদ টাকা তুলে নিচ্ছেন। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪১ শতাংশ বেশি নগদ অর্থ তুলেছেন। মার্চ ও এপ্রিলে রোজা ও ঈদের কারণে টাকা তোলার হার আরও বাড়বে। কেননা ঈদের সময়ে গ্রাহকের নগদ টাকার বেশি প্রয়োজন হয়। এদিকে ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার চাহিদা বাড়ায় কলমানির সুদের হারও বেড়ে গেছে। এক বছর আগে এ হার দেড় শতাংশের নিচে ছিল। ৬ মাস আগে ২ শতাংশের মধ্যে ছিল তা বেড়ে প্রায় ৭ শতাংশে উঠেছে।

অপশাসনে সমাজ ধ্বংসের মুখোমুখি: জেএসডি

দুটি ফাস্টফুড দোকানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে নিউ মার্কেট এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সংঘর্ষে ব্যবসায়ী, দোকানকর্মী, শিক্ষার্থী, পুলিশ ও সাংবাদিকসহ শতাধিক মানুষ আহত ও কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মী নাহিদ মারা যান।সংঘর্ষে দুই পক্ষকেই পেট্রোলবোমা ব্যবহার করতে দেখা যায়।পুলিশের বুলেটে ৫ জন ছাত্র আহত হয়েছে।

ঘটনাস্থলের একদিকে নীলক্ষেত পুলিশ বক্স. অন্যদিকে সাইন্সল্যাব পুলিশ বক্স আর নিউমার্কেট থানা। তারপরও সংঘর্ষের কয়েক ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি ও ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশের অনুপস্থিতিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে তাণ্ডব চালায় দু’পক্ষ। পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করার পরেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মাঠে নামেনি।

এর মাধ্যমে প্রমাণ হয় অপশাসনে সমাজ ধ্বংসের মুখোমুখি। অবৈধ সরকারের ভয়ঙ্কর সংস্কৃতি সমগ্র সমাজকে গ্রাস করে ফেলেছে।
সরকার জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। সমাজে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকার অক্ষম হয়ে পড়েছে। এখন এ সরকারকে অপসারণ করা জরুরি রাজনৈতিক কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দেশের বিদ্যমান সঙ্কট নিরসনে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে এবং রাষ্ট্র মেরামতের প্রয়োজনে ‘জাতীয় সরকার’ গঠন অনিবার্য হয়ে পড়েছে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি সাভার উপজেলা শাখা আয়োজিত প্রতিনিধি সভায় জেএসডি কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো সিরাজ মিয়া ও কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বুধবার উপরোক্ত বক্তব্য প্রদান করেন।

সাভার উপজেলা জেএসডি নেত্রী বেগম ইলোরা খাতুনের সভাপতিত্বে (পল্লি বিদুৎ এলাকায় কাশফুল রেষ্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত) সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা জেলা জেএসডি সভাপতি অধ্যাপক ইউসুফ সিরাজ খান মিন্টু, জাতীয় যুবপরিষদের সভাপতি এস এম সামছুল আলম নিক্সন, জাতীয় শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন মন্টু, স্থানীয় নেতা আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, মোহাম্মদ মনির হোসেন, পারভেজ হোসেন, সাহেরা বেগম,নুরজাহান বেগম প্রমুখ।

দেশ নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে: চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেন, বাংলাদেশে একটি মহল বিভিন্নভাবে দেশ ও ইসলামকে নিয়ে গভীর চক্রান্তে লিপ্ত। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করে তিনি এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, সরকার একদিকে মদের উন্মুক্ত বৈধতা দেয়ার অপচেষ্টা করছে অপর দিকে শিক্ষা সিলেবাস থেকে ধর্মীয় শিক্ষা বাদ দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে। সেই সাথে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। সব মিলিয়ে দেশের সাধারণ মানুষ চরম উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করছে। এমতাবস্থায় সরকারের অযৌক্তিক ও ভুল কাজে সমালোচনা করা নাগরিক দায়িত্ব। কিন্তু বাংলাদেশে এ অধিকার চরমভাবে খর্ব করা হচ্ছে।

বুধবার রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ ভোজন রেস্তোরাঁয় ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত “সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা ও বন্ধুপ্রতীম ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সম্মানে ইফতার মাহফিল”-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন তিনি।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, দেশে ক্ষমতা ও রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লড়াই দৃশ্যমান। যার বলি হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ঠুনকো ইস্যুকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের উপর প্রশাসনের বর্বরোচিত হামলা দুঃখজনক। তিনি ঢাকা কলেজ ও নিউমার্কেট ব্যবসায়ীদের মধ্যে চলমান ঘটনার তদন্ত চেয়ে দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছাত্র নেতা নূরুল করীম আকরাম বলেন, শিক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে নামাজের জায়গা চেয়ে আবেদন যৌক্তিক। কিন্তু নামাজের জায়গা বন্ধ করে তাদের বিরুদ্ধে হুমকি-ধমকি দেয়া অসাংবিধানিক আচরণ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল মত ও পথের সমান সুযোগ সৃষ্টিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যকরী পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন।

ইফতার মাহফিলে অন্যান্যদের মাঝে আরোও বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সহকারী মহাসচিব ইমতিয়াজ আলম, শেখ ফজলে বারী মাসউদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুস সবুর, উর্দু বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. রশিদ আহমাদ, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক মুফতি জহির ইবনে মুসলিমসহ প্রমুখ।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল করীম আকরামের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি জেনারেল শেখ মুহাম্মাদ আল-আমিনের সঞ্চালনায় ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র অধিকার পরিষদ সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, নাগরিক ছাত্র ঐক্য সভাপতি মোশাররফ হোসেন, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ সভাপতি নিজাম উদ্দিন আদনান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস সভাপতি তারেক হাবিব, ইসলামী ছাত্র খেলাফত বাংলাদেশ সভাপতি আবুল হাশিম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসমাজ সভাপতি আতিকুর রহমান, জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়া সভাপতি জহিরুল ইসলাম, মুসলিম ছাত্রলীগ সভাপতি নুর আলম, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক ছাত্র আন্দোলন সভাপতি মাসুদ রানা জুয়েল, ছাত্র মিশন সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস সাধারণ সম্পাদক বেলাল চৌধুরী প্রমুখ।

নেশার ইনজেকশনসহ ৫৫ জনকে গ্রেফতার

বিপুল পরিমাণ ইয়াবা এবং নেশাজাতীয় ইনজেকশনসহ অন্তত ৫৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক সেবন ও বেচাকেনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাদেরকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

বুধবার ভোর ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার একই সময় পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ৩২৭১ পিস ইয়াবা বড়ি, ৩৯ কেজি ৪০ গ্রাম গাঁজা, ১৯৮ গ্রাম ৫০ পুরিয়া হেরোইন, ৬ বোতল ফেনসিডিল ও ১৬ টি ইনজেকশন জব্দ করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩৬টি মামলা করা হয়েছে।

সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র হচ্ছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ যখন উন্নয়নের রোল মডেল, তখন কিছু মানুষ অপপ্রচার চালিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ব্যস্ত।

তারাই সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছে। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে, এটা ভালো লাগেনি বলেই কি আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাত করতে চাওয়া হচ্ছে? আসলে দেশের অগ্রযাত্রা রুখে দিতে এবং সাধারণ মানুষের উন্নয়ন ব্যাহত করতেই এই ষড়যন্ত্র।

মানুষকে এই সরকার যেসব সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে, সেটা থেকে তারা তাদের বঞ্চিত করতে চায়। দেশের উন্নয়ন ও এগিয়ে যাওয়া যাদের ভালো লাগছে না, তারাই সরকার হটানোর আন্দোলনে জোটবদ্ধ হয়েছে।

কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বুধবার রাজধানীর কৃষক লীগের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বলতে চাই-আমাদের দেশের কিছু নেতা আছে, দুঃসময়ে মানুষের পাশে কতটুকু দাঁড়িয়েছে জানি না। করোনার সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সাহায্য করেছে কি না, সেটারও কোনো লক্ষণ আমরা দেখি না। তবে তারা আন্দোলনের জন্য খুব ব্যস্ত। কেন? কারণ এ সরকারকে হটাতে হবে। কোন সরকার? আওয়ামী লীগ সরকার। বিএনপি-জামায়াত জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন মান্না ও ড. কামাল হোসেনসহ তাদের একটি গ্রুপ। সেই সঙ্গে আবার তাদের সঙ্গে যুক্ত কমিউনিস্ট পার্টি, আমাদের বাম দল, বাসদ-টাসদ আরও কারা কারা। তারা সবাই এক হয়ে আন্দোলন করে আওয়ামী লীগ সরকার হটাবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমার প্রশ্ন-আওয়ামী লীগের অপরাধটা কী? আমরা ২০০৮ সালের নির্বাচনে আমরা যে রূপকল্প ঘোষণা দিয়েছিলাম। দেশের মানুষকে আমরা ধন্যবাদ জানাই, তারা বারবার আমাদের ভোট দিয়েছে। ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকারে এসেছি। নির্বাচনি ইশতাহারে ঘোষিত লক্ষ্য আমরা অর্জন করেছি। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালন। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন করেছি। সেই সময়ে আমরা উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছি। আমার প্রশ্ন-এটা কি তাদের ভালো লাগেনি? সেজন্য কি তারা এই সরকারকে হটাতে চায়? তিনি বলেন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে, শতভাগ বিদ্যুৎ হয়েছে, ভূমিহীন ও গৃহহীনদের বাড়ি-জমি দিচ্ছি বিনামূল্যে। এটি কি আওয়ামী লীগের অপরাধ? এজন্য এই সরকার হটাতে হবে? শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনি ইশতাহার অনুযায়ী জাতীয় লক্ষ্য বাস্তবায়ন করেছে আওয়ামী লীগ। দেশের উন্নয়ন তাদের ভালো লাগেনি বলেই কি তারা আমাদের বিরুদ্ধে নেমেছে। মানুষ এখন একটু সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বাঁচতে পারছে, এটাই আমাদের অপরাধ।

এ সময় কৃষকের উন্নয়নে তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছিয়ানব্বইয়ে ক্ষমতায় এসে আমরা হাতে নিয়েছিলাম কীভাবে ফসল বাড়ানো যায়। আমরা কারও কাছে ভিক্ষা করে চলব না। বাংলাদেশকে আমরা আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসাবে গড়তে চেয়েছিলাম। তিনি বলেন, আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ হচ্ছে তৃণমূলের মানুষের জন্য। যার সুফল প্রত্যেক মানুষ পাচ্ছে। বর্গাচাষিরা ব্যাংকে ঋণ পায় না। কারণ তারা জামানত দিতে পারেন না। আমি চেয়েছি ব্যাংক কৃষকের কাছে যাবে, কৃষক ব্যাংকের কাছে যাবে না। আজ বর্গাচাষিরা স্বল্প সুদে ঋণ পাচ্ছেন। বাংলাদেশ যাতে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়, সেজন্য সবজি-ফসল বাড়ানোর তাগিদে গবেষণায় জোর দিই, এর সুফল আমরা পাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি মানুষ, যার জমি নেই, ঘর নেই, কিছু নেই-একটি ঘর পাওয়ার পর জীবন-জীবিকার পথ খুঁজে পাচ্ছে। নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারছে। এটা কি আওয়ামী লীগের অপরাধ? এজন্যই কি এই সরকার হটাতে হবে। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্ধারিত সময়ের আট মাস আগেই নির্মাণ করায় সরকারের ১৫০ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেকই প্রশ্ন করেন এত টাকার, এত বড় বড় প্রজেক্টের প্রয়োজনটা কী? শতভাগ বিদ্যুৎ দিতে গেলে বিদ্যুৎ তো আমাদের তৈরি করতেই হবে। আমরা যে ৯০০ কোটি টাকার মতো বাঁচাতে পারলাম, এই কথা তো কেউ বলেন না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা গ্রাম পর্যায়ে রাস্তা, ব্রিজ, সেতু নির্মাণ করে দিচ্ছি। প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষকে যেখানে কাদা পায়ে হাঁটতে হতো, এখন তা হয় না। সেই রাস্তাঘাট করে দিচ্ছি। বোধহয় এটাও তাদের কাছে অপরাধ। সাধারণ মানুষের জন্য সরকার গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিনামূল্যে বই দিচ্ছি। ২ কোটি ৩০ লাখের মতো ছেলে-মেয়ে বৃত্তি ও উপবৃত্তি পাচ্ছে। মায়ের নামে মোবাইলের মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা পৌঁছে যাচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তার টাকাও মোবাইল ফোনের মাধ্যমের পৌঁছে যাচ্ছে। দারিদ্র্য বিমোচনে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাকালীনও আমাদের দেশের দারিদ্র্যের হার হ্রাস পেয়েছে। বহুকাজ আমরা করে যাচ্ছি। আমার প্রশ্নটা হচ্ছে-আমরা যে কাজগুলো করে যাচ্ছি, এতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছে। গ্রামের মানুষ উপকার পাচ্ছে। তারা যে সরকার উৎখাত করতে চায়, তাদের উদ্দেশ্যটা কী? মানুষগুলোকে এসব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে দেওয়া? এটাই তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। সেজন্যই তাদের শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাত করতে হবে। বিরোধীদের কাছে প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপরাধটা কী করেছি এখানে? তারা লুটপাট করে খেয়েছে, মানুষ খুন করেছে; তাদের হাতে আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী খুন হয়েছে। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে পুড়িয়ে জীবন্ত মানুষকে হত্যা করেছে। ২০১৩ সালের কথা সবার মনে আছে। ২০১৫ সালে কীভাবে মানুষকে হত্যা করেছে। কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি, কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি ড. এমএ জলিল ও মোতাহার হোসেন মোল্লা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মানু, হারুন অর রশিদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কৃষক লীগের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে একটি অডিও-ভিজুয়াল তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

আমার গুনাহ মাফ করিয়ে নিতে পেরেছি

দেখতে দেখতে রমজানের দিনগুলো অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছে। কামাই ও অর্জনের এ মাসে আমরা কতটুকু নিতে পেরেছি, ভেবে দেখা দরকার। আমরা কি নিজেদের সব গুনাহ ক্ষমা করিয়ে নিতে পেরেছি?

জাহান্নাম থেকে নিজেদের বাঁচাতে পেরেছি? নিজেকে জান্নাতে যাওয়ার উপযুক্ত করতে পেরেছি? আল্লাহর সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের উন্নতি কতটুকু হয়েছে এতদিনে?

হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, একবার রমজান মাস এলো, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, এ মাস তোমাদের কাছে এসেছে, এতে একটি রাত রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে ব্যক্তি তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে সে সব ধরনের কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হয়েছে। মূলত এর কল্যাণ থেকে চিরবঞ্চিত ব্যক্তিরাই বঞ্চিত ব্যক্তি। (ইবনে মাজাহ)। এ মাসে আল্লাহর জন্য নিজেকে সঁপে দিয়ে আমাদের প্রস্তুত হতে হবে। নিজের পাপরাশি ক্ষমার জন্য কি এখন আমার অশ্রু ঝরে?

মালিকের সান্নিধ্য লাভের জন্য কদিন বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছি? কিয়ামূল লাইলে রবের সঙ্গে মধুর আলাপচারিতার স্বাদ কতটুকু অর্জন করেছি? কুরআনুল কারিম তেলাওয়াতে কতটুকু সময় বরাদ্দ করেছি? কুরআন বোঝার জন্য অনুবাদ বা তাফসির অধ্যয়ন কী পরিমাণ করেছি? সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহর দেওয়া সম্পদ থেকে দান-সদকা কী পরিমাণ করেছি? গরিব-অসহায়ের ইফতারি বা দু’মুঠো খাবারের জন্য সামর্থ্যরে কতটুকু ব্যয় করতে পেরেছি? সুদ, ঘুস, হারাম ও দুর্নীতি থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছি কতটুকু?

প্রতিদিন হিসাব করা দরকার। নেক আমলের পাল্লা বাড়ানো দরকার। বেশি থেকে বেশি দোয়া করা দরকার। দোয়া ইবাদতে সাহায্য করে। দোয়ার মাধ্যমে বান্দার সঙ্গে রবের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়। দোয়ার মাধ্যমে অপরাধপ্রবণতা কমে আসে। নেক আমলের আগ্রহ বাড়ে। সুন্দর ও সৎ হওয়া যায়। নৈতিকতা সৃষ্টি হয়। রোজাদারের দোয়া আল্লাহ যখন-তখন কবুল করেন।

নবিজি (সা.) ইরশাদ করেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া আল্লাহতায়ালা ফেরত দেন না। এক. ন্যায়পরায়ণ শাসকের দোয়া। দুই. সিয়াম আদায়কারীর দোয়া, যতক্ষণ না সে ইফতার করে। তিন. মজলুম ব্যক্তির দোয়া। (মুসনাদে আহমাদ : ৯৭০৪)।

রোজাদার ব্যক্তির দোয়া আল্লাহতায়ালা ফেরত দেন না, রোজার উসিলায় দোয়া কবুল করেন। হাদিসে বিশেষভাবে ইফতারের সময়ের দোয়ার কথা বলা হয়েছে। যে কোনোভাবে দোয়া করলেই হলো। আল্লাহ তার বান্দার প্রকাশ্য ও মনে মনে দোয়া সবই কবুল করেন।

রমজান আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে সাধারণ ক্ষমা ও অশেষ প্রাপ্তির মাস হয়ে। রমজানের রোজা, তারাবিহ, সেহরি, ইফতার, এতেকাফ, সদকাহসহ সব ধরনের আমলের মাধ্যমে আল্লাহ বান্দাকে ক্ষমা করে আঁচল ভরে রহমত দান করেন।

তাই রমজানের এ শেষ সময়ে আমাদের দৃঢ়সংকল্প করতে হবে যে, আমরা রমজানের অফুরন্ত কল্যাণ থেকে অবশ্যই উপকৃত হব। বাকি আর যে কয়টি দিন আছে, একটি মুহূর্তও অবহেলায় নষ্ট করব না। পবিত্র এ মাসে গুনাহমুক্ত জীবন গড়ার শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক প্রশিক্ষণ কাজে লাগাব।

লেখক : তরুণ আলেম ও ধর্মীয় গবেষক