শনিবার ,১৩ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 328

ঋণ শোধে বাংলাদেশের অস্বস্তি হবে দুবছর পর

বর্তমানে দেশের মোট ঋণ ১৫৬ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। স্থানীয় মুদ্রায় যা সাড়ে ১৩ লাখ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮৬ টাকা হিসাবে)। এই অর্থ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪৪ দশমিক ১ শতাংশ। গত কয়েক বছরে এটা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। যদিও ঋণ পরিশোধে আপাতত স্বস্তিতেই রয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু ২০২৪-২৫ সালের পর হলুদ জোনে (অস্বস্তিতে) পড়বে। সোমবার এক ভার্চুয়াল আলোচনায় বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এসব কথা বলেন। তার মতে, বর্তমানে ঋণ বৃদ্ধির হার জিডিপি বৃদ্ধির হারের চেয়ে বেশি। আর নির্বাচনি বছরে ঋণ বাড়ে। সাধারণত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ঘাটতি থাকলে ঋণের অর্থ দিয়ে দৃশ্যমান অর্থনৈতিক প্রকল্প হাতে নিয়ে, তা পূরণের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এ ধরনের প্রকল্প অর্থনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয় না। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সিপিডির আরেকজন বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, বর্তমানে দেশের মোট ঋণের স্থিতি ১৫৬ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বিদেশ থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে ৬০ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ ৬৯ দশমিক ০৪ বিলিয়ন, বিদেশ থেকে বেসরকারি খাতে ঋণ ১৮ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন এবং বিদেশ থেকে শর্তসাপেক্ষে ঋণ (সাপ্লাইয়ার্স ক্রেডিট ও অন্যান্য) ৮ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার। তিনি বলেন, সরকার যে দায়-দেনার হিসাব করে, সেখানে শুধু সরাসরি সরকারের নেওয়া বিদেশি ঋণ ধরা হয়। কিন্তু অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেওয়া ঋণ, বিদেশ থেকে বেসরকারি খাতের ঋণ এবং শর্তসাপেক্ষে ঋণ হিসাবে নেওয়া হয় না। এটি সঠিক নয়। কারণ সরকারের দায়দেনা বলতে সবকিছু বোঝাবে। এর কোনো ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সরকারকেই দায় নিতে হবে। তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি ঋণ বাড়ছে। গত তিন বছরে গড়ে ৭ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ বেড়েছে। কিন্তু প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার অনুদান পাইপলাইনে রয়েছে। সক্ষমতা ও সংস্কারের অভাবে সেগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

এসডিজিবিষয়ক নাগরিক প্ল্যাটফরমের এই আহ্বায়ক বলেন, দায়দেনার কারণে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে-এমন কয়েকটি দেশ হলো গ্রিস, ঘানা, জিম্বাবুয়ে, শ্রীলংকা, পাকিস্তান ও নেপাল। মূলত তিনটি কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ রাজস্ব আদায় করতে না পারা, বিশ্বের সঙ্গে লেনদেনের ভারসাম্যে দুর্বলতা এবং অপরিকল্পিতভাবে বিদেশ থেকে ঋণ নেওয়া। তার মতে, বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সম্পদ আহরণ একেবারে কম। কারণ ১৭ কোটি মানুষের দেশে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) রয়েছে ৭৩ লাখ। এর মধ্যে ২৩ লাখ মানুষ আয়কর দেয়। আর মোট কর আদায় জিডিপির ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে যা সবচেয়ে কম। ফলে এখানে অনেক বেশি নজর দিতে হবে। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে কারেন্ট ব্যালেন্স বা চলতি হিসাবের ভারসাম্য নেতিবাচক। রেমিট্যান্স এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই কমছে। এটি উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, কোনো দেশে দায়দেনা বাড়লে ৭টি সমস্যা দেখা দেয়। এর মধ্যে রয়েছে ঋণ পরিশোধে অক্ষমতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রিজার্ভ কমে, মুদ্রার মান কমে, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমবে এবং নিম্নমুখী হবে ক্রেডিট রেটিং। ড. দেবপ্রিয় আরও বলেন, বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুসারে কোনো দেশের দায়দেনা জিডিপির ৭৭ শতাংশের ওপরে গেলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমিয়ে দেয়। তবে একক কোনো সূচক দিয়ে অর্থনৈতিক সক্ষমতা মূল্যায়ন করা যায় না। ফলে এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, রাষ্ট্রীয় এক প্রতিষ্ঠানের কাছে অন্য প্রতিষ্ঠানের ঋণ রয়েছে। সাধারণত এগুলো দায়দেনার হিসাবে আনা হয় না। উদাহরণস্বরূপ সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বলেছে, তারা বাংলাদেশ বিমানের কাছে ২শ কোটি টাকা পাবে। এই টাকা পরিশোধ না করলে ভবিষ্যতে তাদের কোনো সহায়তা দেবে না।

সিপিডির বিশেষ ফেলো বলেন, পরিসংখ্যান বলছে, নির্বাচনের বছর সরকারের দায়দেনা বাড়ে। এক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ঘাটতি থাকলে বিভিন্ন দেশের সরকার ঋণ নিয়ে বড় বড় প্রকল্প গ্রহণ করে। এই প্রকল্প মানুষকে দেখিয়ে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু অর্থনৈতিক বিবেচনায় এসব প্রকল্প যৌক্তিক নয়। শ্রীলংকাসহ সমস্যাগ্রস্ত বিভিন্ন দেশে এই চিত্র দেখা গেছে। গত কয়েক বছরে বেসরকারি খাতও সরাসরি বিদেশ থেকে ঋণ নিয়েছে। বর্তমানে এই ঋণের স্থিতি ১৮ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার। এই ঋণের দায় সরকারের। কোনো কারণে তারা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তা বাংলাদেশের ভাবমূর্তিতে আঘাত হানবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে শর্তসাপেক্ষে যেসব ঋণ রয়েছে সেগুলো হিসাবে আসে না। যেমন, বাংলাদেশে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার কথা বলা হলেও সাপ্লাইয়ার্স ক্রেডিট হিসাবে চীন থেকে ২ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার নেওয়া হয়েছে। এই ঋণের মেয়াদ ১৫ বছর। এক্ষেত্রে গ্রেস পিরিয়ড ৫ বছর। অর্থাৎ প্রথম ৫ বছরে কোনো সুদ ঋণ পরিশোধ করতে হবে না। তবে এই ৫ বছর ইতোমধ্যে শেষ হতে চলেছে। এছাড়াও মেগা প্রকল্পে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ে দ্বিপাক্ষিক ঋণ গ্রহণ বাড়ছে। এই দ্বিপাক্ষিক ঋণের সুদ অত্যন্ত বেশি।

এছাড়াও বিদেশ থেকে উচ্চমূল্যে কিছু ঋণ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে রাশিয়া থেকে ১১ বিলিয়ন ডলার, ভারত থেকে সাড়ে ৬ বিলিয়ন, জাপান থেকে ১ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ভারত থেকে নেওয়া ঋণের গ্রেস পিরিয়ড ৫ বছর এবং রাশিয়া ও জাপান থেকে নেওয়া ঋণে ১০ বছর। অর্থাৎ শিগগিরই কিছু ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হবে। সবকিছু মিলে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার যেভাবে বাড়ছে, এর চেয়ে জাতীয় দায়দেনার হার বেশি ।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে। বর্তমানে এগুলো অটো-পাইলটের মতো (চালকবিহীনভাবে) চলছে। এক্ষেত্রে তথ্য-উপাত্ত ও ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি, নীতিনির্ধারণী দুর্বলতা এবং সমন্বয়হীনতা রয়েছে। ফলে দেশীয় উৎস থেকে দায়দেনা বেশি বাড়ছে। কিন্তু বিদেশি ঋণ পরিশোধে ব্যয় বাড়ছে। শ্রীলংকার অর্থনৈতিক সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের তুলনা করা যৌক্তিক নয়। তবে শ্রীলংকার ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষণীয় রয়েছে।

এটা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে চূড়ান্তভাবে ধ্বংস করবে’

ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় যুক্তরাজ্যের সঙ্গে মস্কোর সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। এবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে যুক্তরাজ্যের প্রতি কড়া হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছে মস্কো। এই ঘটনা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে চূড়ান্তভাবে ধ্বংস করবে বলে জানিয়েছে রাশিয়া। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার পর মস্কোতে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ডেবোরা ব্রনার্টকে শুক্রবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়।

ফ্রান্সে তুর্কি মসজিদে ককটেল হামলা

তুরস্কের অর্থায়নে পরিচালিত ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ মেটজে অবস্থিত একটি মসজিদে ককটেল হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা।

তার্কিশ ইসলামিক ইউনিয়ন ফর রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার (ডিআইটিআইবি) মসজিদটি পারিচালনা করছে। খবর আনাদোলুর।

সয়াবিনের দাম বৃদ্ধিতে অভিনব প্রতিবাদ

ঢাকার ধামরাইয়ে ব্যতিক্রমধর্মী সয়াবিন তেলগাছ খেলায় মেতেছে গ্রামবাসী। কৃত্তিম সয়াবিন তেলের গাছে ঝুলানো তেলের বোতলে লাথি মেরে ফুটবল লাগিয়ে তেলের বোতল জিতে নিয়ে উল্লাস করেন প্রতিযোগিরা।

তিনশতাধিক প্রতিযোগি এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শতাধিক প্রতিযোগ ২লিটার করে তেলের বোতল জিতে নেন।

দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, ভাইবোনসহ নিহত ৭

নাটোরের বড়াইগ্রামে যাত্রীবাহী দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ভাইবোনসহ অন্তত ৭ জন নিহত ও আরও ৩০ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাটিকুমরুল-বনপাড়া-ঢাকা মহাসড়কের উপজেলার মহিষভাঙা এলাকায় গাজী অটো রাইস মিলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তারা হলেন— নাটোর সদরের পাইকের দোল গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী কাওসার আহমেদ (২০) ও তার ছোট বোন সাদিয়া খাতুন (১৫)।

নিহতের চাচা আলমগীর হোসেন দুর্ঘটনাস্থলে এসে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী ন্যাশনাল পরিবহণের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা সিয়াম পরিবহণের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।

এ সময় ন্যাশনাল পরিবহণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাজী অটো রাইস মিলের সামনে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অপর একটি ট্রাকের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। এ সময় ট্রাকটিও উল্টে যায়।

এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন ও পাশের ক্লিনিকে নেওয়ার পর আরও এক যাত্রী নিহত হন।

খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও বনপাড়া ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের লাশ উদ্ধার করেন। একই সঙ্গে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতাল ভর্তি করা হয়েছে।

রোজা ও ঈদ আমাদের যে বার্তা দেয়

রমজান মাস শেষ হওয়ার পরপরই আসে ঈদের দিন। এই ক্রমপর্যায় খুবই অর্থবহ। এটি একজন মুমিনের জীবনের দুই স্তরের প্রতীক।

রোজা আমাদের পার্থিব জীবনের প্রতীক, আর ঈদ আমাদের আখেরাতের প্রতীক। রোজা একটি পরীক্ষার মতো, এবং ঈদ তার সমাপ্তি। রোজা হলো বিধিনিষেধের পর্যায়, আর ঈদ হলো মুক্তির পর্যায়। রোজা হলো পরিশ্রম ও ধৈর্যের সময়, আর ঈদ হলো বিশ্রাম ও আনন্দের সময়।

হাদিসে উল্লেখ আছে যে, রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে। প্রথম খুশি ইফতারের সময়, আর দ্বিতীয় খুশি যখন সে তার সৃষ্টিকর্তার সাথে সাক্ষাৎ করবে (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৯০৪, সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১১৫১) ।

রোজা রেখে একজন ব্যক্তি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করে। সূর্য ডুবে যাওয়ার পর সে তার রোজা ভাঙ্গে এবং পানাহার পান করে। তখন তার অবস্থা হাদিসে নিম্নোক্ত শব্দে উল্লেখ করা হয়েছে : তৃষ্ণা মিটে গেছে এবং শিরা-উপশিরা ভিজে গেছে এবং অগণিত সওয়াব প্রাপ্ত হয়েছে, ইনশাআল্লাহ (সুনান আবু দাউদ, হাদিস নং ২৩৫৭) ।

রোজা রাখা এবং রোজা ভঙ্গ করা দুটি ভিন্ন অভিজ্ঞতা। মুমিনের জন্য রোজা হলো দুনিয়ার জীবনের অভিজ্ঞতা আর ইফতার হলো আখেরাতের জীবনের অভিজ্ঞতা। আখেরাতে সে সুখ এবং স্বাদ ভোগের জন্য মুক্ত হবে।

এভাবে রোজার সময় হলো দুনিয়ার প্রতীক, আর ইফতারের সময় হলো আখেরাতের প্রতীক। রমজান মাস পার্থিব জীবনের প্রতীক, এবং ঈদ, যা বৃহত্তর ইফতারের দিন, আখেরাতের জীবনের পরিচয় দেয়।

যখন মানুষ রমজানের দিনগুলিতে রোজা রাখে, তখন রোজা তার জন্য পার্থিব জীবনের নিদর্শন হয়ে ওঠে। রোজা অবস্থায় তার মানসিকতা এমন হয় যে, ‘আমি যেমন খাওয়া-দাওয়া থেকে নিজেকে সংযত রেখেছি, তেমনি আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা থেকেও বিরত থাকতে হবে। এই পৃথিবীতে আমাকে সারাজীবন রোজা রেখে জীবনযাপন করতে হবে।’

অতঃপর যখন সন্ধ্যা হয়ে যায় এবং সে ইফতার করে তখন তার মনে হয়, সে যেন আখিরাতের দুনিয়ায় পৌঁছে গেছে এবং মহান আল্লাহ তাকে আপ্যায়ন করছেন।

দু’চোখ ভরে অঝোর নয়নে সে চিৎকার করে বলে: ‘হে আল্লাহ, আমি আপনার জন্য রোজা রেখেছি, এখন আমার জন্য ‘ইফতার’ করছি।। আমি আপনার জন্য রমজানের রোজা সম্পন্ন করেছি, এখন আমার উপর অনন্ত ঈদের অসীম বরকতের দরজা খুলে দিন।’

রোজায় সকাল থেকে সন্ধ্যা এবং সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত নানা বিধিনিষেধের মধ্যে দিন অতিবাহিত হয়। এটা করো, ওটা করো না, তারপর এখন খাও তখন খাবে না, কখন ঘুমাতে হবে আর কখন বিছানা থেকে উঠতে হবে, পুরো একটি মাস এমনভাবে কাটে যেন তার পুরোজীবনটা অন্যের অধিকারে।

মানুষকে অন্যের ইচ্ছা অনুসরণ করতে হবে, নিজের ইচ্ছা নয়। এভাবে, রোজা মানুষকে এমনভাবে জীবনযাপন করতে শেখায় যে, সে আল্লাহর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকে, সমস্ত বিষয়ে আল্লাহর আদেশ পালন করে।

এইভাবে পুরো মাস নিয়মানুবর্তিতার মধ্য দিয়ে চলার পর ঈদের দিন আসে। ঈদের দিনে হঠাৎ করেই সব নিয়ম পাল্টে যায়। আগে রোজা ফরজ ছিল, এখন (ঈদের দিন) রোজা রাখা হারাম। আগে এমনকি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসও নিষিদ্ধ ছিল, এখন বলা হচ্ছে অবাধে ঘুরে বেড়াতে এবং ঈদ উদযাপন করতে।

এমনকি গরীবদের জন্যও দান-খয়রাত নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে তারাও আজকের আনন্দ উপভোগ থেকে বঞ্চিত না হয়। এ যেন পরকালের ছবি। এটা সেই দিনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় যেদিন আল্লাহর প্রকৃত বান্দাদের উপর থেকে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। তারা চিরন্তন আরাম ও অনন্ত সুখের স্বর্গে প্রবেশ করবে, যদিও তারা আজ অন্যদের নিকট দুর্বল এবং মূল্যহীন মনে হতে পারে।

আসল কথা হল, রোজা এবং ঈদ মানেই আমাদের জীবনের দুটি পর্যায়কে স্মরণ করিয়ে দেওয়া। রোজা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমাদের এই পৃথিবীতে কীভাবে জীবনযাপন করা উচিত এবং ঈদ আমাদেরকে বলে যে আমাদের আখেরাতের জীবন কেমন হবে। একটি হল দুনিয়ার জীবনের প্রাথমিক নিদর্শন, আর অন্যটি পরকালের জীবনের প্রাথমিক নিদর্শন।

শিশুর মলের সঙ্গে রক্ত গেলে কী করবেন

শিশুর নানা আন্ত্রিক রোগে মলে রক্ত দেখা যায়। আন্ত্রিক রক্তপাত নালির উপরের অংশে বা নিচের অংশ যে কোনোটা থেকে হতে পারে। কালো পায়খানা, দেখতে তারপিন এর মতো (মেলোনা) দেখা গেলে তা- পাকস্থলিতে অল্প পরিমাণ (৫০-১০০ মিলি) রক্তপাতের ফলে হতে পারে, যা ৩-৫ দিন স্থায়ী হয়।

শিশুর মলের সঙ্গে রক্তপাত দেখা দিলে করণীয় নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী

* যেসব দ্রব্য বা খাবার লাল রঙের যেমন জেলি, টমেটো বা স্টবেরি, তা শিশুর বমিতে বা মলে রক্তরঙ নিয়ে আসতে পারে, তাই মেলেনাতে মলের ‘ওবিটি ল্যাব পরীক্ষা’ করিয়ে সুনিশ্চিত হতে হয়।

* শিশুর নাক থেকে রক্তপাত, নবজাতক বয়সে জরায়ুতে থাকাকালীন সময়ে রক্ত গিলে ফেলা, কফ কাশিতে রক্ত, মুখগহ্বরের রক্তপাত গিলে ফেলার কারণে আন্ত্রিক নালি হতে রক্তপাত বলে ভ্রম হতে পারে। সেজন্য দ্রুততার সঙ্গে নাক, গলা ও মুখগহ্বর পরীক্ষা করার প্রয়োজন রয়েছে।

যেসব সচরাচর কারণে শিশু বয়সে আন্ত্রিক রক্তপাত হয়

* মলদ্বারের ফিসারস * ইন্টা-সাসেপশামস-টেলিস্কোপের মতো অন্ত্রনালির এক অংশ নিচের অংশে ঢুকে যাওয়া * অ্যামিবা পরজীবী সংক্রমণ * মিকেলস ডাইভারটিকুলাম * কোলনের পলিপ * আন্ত্রিক প্রদাহ রোগ (আইবিডি) * পায়ুমুখের আলসার।

অসচরাচর কারণ হল : পাইলস্ (হিমোরইডস), রক্তনালির স্থানিক টিউমার ইত্যাদি।

ব্যবস্থাপনা : সিবিসি, মল পরীক্ষা, আলসনোগ্রাফি, প্রয়োজনমাফিক

প্রকটোসিগময়ডোসকোপি ও অন্যান্য ল্যাব পরীক্ষা- সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে চিকিৎসা।

নবজাতক শিশুর শ্বাসকষ্ট

নবজাতক শিশুর শ্বাসকষ্ট নিুোক্ত তিন লক্ষণের যে কোনোটা বা একাধিক চিহ্ন নিয়ে প্রকাশ পায়।

১. প্রতি মিনিটে শ্বাস এর হার ৬০ বা তার বেশি ২. বুকের নিচের অংশ গভীরভাবে দেবে যাওয়া ৩. গ্রান্টিং- শ্বাসপ্রশ্বাসের কষ্টকর শব্দ।

প্রধান কারণ

* শ্বাসতন্ত্রের অসুখ : আরডিএস, টিটিএন, গর্ভকালীন নিউমোনিয়া, মিকোনিয়াম এসপিরেশন সিনড্রোম, নিউমোনিয়া, এসপিরেশন নিউমোনিয়া, সার্জিক্যাল কারণ

* হার্টফেলিওর : কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের অসুখ : ভূমিষ্ঠকালীন শ্বাসরোধ জটিলতা, মস্তিষ্ক অভ্যন্তরে রক্তপাত

* মেটাবলিক, রক্তে গ্লুকোজ মাত্রা নেমে গেলে, রক্তে অম্লতা

* অন্যান্য : অত্যধিক শীতলতা, রক্তে বেশি মাত্রার হিমোগ্লোবিন প্রভৃতি।

ব্যবস্থাপনা

* তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজনে রেডিয়েন্ট ওয়ার্মার এর ব্যবহার

* শিরায় স্যালাইন, যদি বুকের দুধ চুষে খেতে না পারে

* অক্সিজেন ৮৮-৯৫ শতাংশে বজায় রাখা

* প্রয়োজনে সিপেপ, মেকানিকেল ভেনটিলেশন

* সারফেকটেন্ট থেরাপি (উপসর্গ দেখা দেয়ার ২ ঘণ্টার মধ্যে)

* আরডিএস প্রতিরোধে গর্ভবতী মাকে ২৪ ও ৩৪ সপ্তাহের মধ্যে স্টেরয়েড প্রদান।

ঈদের রান্না: রূপচাঁদা মাছের কারি

একমাস সিয়াম সাধনা শেষে দেখতে দেখতে চলে এলো খুশির ঈদ। ঈদে প্রিয়জনদের পাতে মজার খাবার তুলে দিয়ে চমকে দিতে চান অনেকেই। তবে সবাই পোলাও মাংসের মতো ভারি খাবার পছন্দ করেন না। তারা তৈরি করতে পারেন রূপচাঁদা মাছের কারি। রূপচাঁদা মাছের কারির এই রেসিপি দিয়েছেন মারজানা ইসলাম মেধা।

উপকরণ: রূপচাঁদা মাছ ১ কেজি, পেঁয়াজ কুচি ১/২ কাপ, আদা বাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১/২ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, টমেটো কুচি ২টি, লবণ পরিমাণ মতো, ধনেপাতা কুচি ১/২ কাপ, তেল ১ কাপ।

প্রস্তুত প্রণালি
রূপচাঁদা মাছ ধুয়ে মাছে ছুরি দিয়ে দাগ কেটে নিন। মাছে হলুদ, লবণ ও লেবুর রস মাখিয়ে রাখুন। কড়াইয়ে তেল গরম করে লাল করে ভেজে নিন। তেলে পেঁয়াজ কুচি লাল করে ভেজে জিরা গুঁড়া ও ধনেপাতা কুচি ছাড়া সব উপকরণ একে একে দিয়ে কষিয়ে সামান্য পানি দিয়ে আবার কষিয়ে নিন। ১ কাপ পানি দিয়ে ফুটতে দিন। ফুটে উঠলে ভাজা মাছ, ধনেপাতা কুচি দিয়ে ১৫ মিনিট রান্না করুন। ঝোল শুকিয়ে এলে জিরা গুঁড়া দিয়ে মৃদু আঁচে রাখুন। ঝোল শুকিয়ে তেল উপরে উঠলে নামিয়ে নিন।

তরমুজ ফ্রিজে রাখবেন না যে কারণে

গরমে তরমুজের জুড়ি নেই। শরীরের ক্লান্তি দূর করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পুষ্টি সরবরাহ করে এই ফল। গ্রীষ্মের গরমে এক ফালা তরমুজ প্রশান্তি এনে দিতে পারে মুহূর্তেই।

তরমুজ স্বাভাবিক তাপামায় দুই তিন সপ্তাহ ভালো থাকে। ঠান্ডা করে খাওয়ার জন্য কিংবা বেশিদিন সংরক্ষণ করার জন্য আমরা অনেক সময় ফ্রিজে তরমুজ রাখি। কিন্তু স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বলছে এটি ঠিক না।

পুষ্টিবিজ্ঞানের তথ্যানুসারে তরমুজে ৯২ শতাংশ পানি রয়েছে, যা গ্রীষ্মকালের খরতা থেকে শরীরকে রক্ষা করে।

এছাড়া এটি লাইকোপিন, বিটা-ক্যারোটিন এবং ভিটামিন সি-সহ বেশ কয়েকটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল ওয়াটারমেলন প্রোমোশন বোর্ড’য়ের উদ্ধৃতি দিয়ে টেস্টিংটেবল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেফ্রিজারেইটরে তরমুজ দুটি শর্তের ভিত্তিতে রাখা যায়। একটি হল, এটা শুরু থেকেই রেফ্রিজারেইটরে ছিল অথবা এটা কেটে রাখা হয়েছে।

গোটা তরমুজ রেফ্রিজাইরেটরে সংরক্ষণ করলে এর স্বাদ, আকার ও রংয়ে পরিবর্তন আসে।

তরমুজ সংরক্ষণ করার সঠিক তাপমাত্রা হল- ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমনকি ঘরের সাধারণ তাপমাত্রায় তরমুজ দশ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে।

‘ইউএসডিএ এগ্রিকালচার রিসার্চ সার্ভিস’য়ের করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ঘরের সাধারণ তাপমাত্রায় তরমুজে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বেশি থাকে।

গবেষণার সূত্র ধরে ‘মেডিকেল নিউজ টুডে’তে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, রেফ্রিজারেইটরে রাখা তরমুজের তুলনায় সাধারণ তাপমাত্রায় রাখা তরমুজে লাইকোপিন ২০ শতাংশ বেশি থাকে এবং বিটা-ক্যারোটিনের মাত্রা দ্বিগুণ থাকে।

তাই দেখা যাচ্ছে, ঘরে তরমুজ আনা হলে তা কেটে খাওয়ার আগ পর্যন্ত সাধারণ তাপমাত্রাতে রাখাই ভালো।

৮ ঘণ্টা কাজ করে ৫০০ টাকা পেয়েছিলাম: সামান্থা

ভারতের দক্ষিণী সিনেমার নায়িকা সামান্থা রুথ প্রভু নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। গ্লামার, চেহারা আর অভিনয়গুণে দর্শক হৃদয় জয় করে নিয়েছেন এই নায়িকা।

সামান্থা বৃহস্পতি এখন তুঙ্গে। তার ছবি মানেই প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের ভিড়। বক্স অফিসে তোলপাড় সৃষ্টি করা এই নায়িকা নিজের পারিশ্রমিকের বিষয়ে সচেতন। ছবিপ্রতি কোটি টাকা আয় করেন তিনি। এমনকি ‘পুষ্পা: দ্য রাইজ’ছবির একটা আইটেম গানের জন্য পাঁচ কোটি রুপি নিয়ে তিনি সবার চোখ ছানাবড়া করে দিয়েছিলেন।

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে সামান্থার আয় কেমন ছিল? এই প্রশ্ন তার ভক্তদের মুখে মুখে।

ভক্তদের এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন সামান্থা।

এই দক্ষিণী রূপসী সম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে অনুরাগীদের কাছে তার প্রথম আয় সম্পর্কে খোলাসা করেছেন। সামান্থা জানিয়েছেন যে তার প্রথম রোজগার ছিল মাত্র ৫০০ টাকা।

আর এই টাকা তিনি হোটেলে এক কনফারেন্সের সময় হোস্টেস হিসেবে কাজ করার জন্য পেয়েছিলেন।

‘এক হোটেলে হোস্টেস হিসেবে কাজ করে আমি প্রথম রোজগার করেছিলাম। ৮ ঘণ্টা কাজ করে আমি ৫০০ টাকা আয় করেছিলাম। আর তখন আমি দশম বা দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করি।’

প্রসঙ্গত রঙ্গিলা জগতে সামান্থা এক যুগ পার করে ফেলেছেন। ২০১০ সালে নাগা চৈতন্যর সঙ্গে জুটি বেঁধে ‘ইয়ে মায়া চেসাওয়’ ছবিটি করেছিলেন তিনি। এরপর তাকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক হিট সিনেমা দিয়ে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।