বৃহস্পতিবার ,১১ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 289

রিং লাইগেশনে পাইলসের চিকিৎসা

লদ্বারের জটিল রোগ পাইলস। রোগীরা পাইলস, ফিস্টুলা ও এনাল ফিশারকে অনেক সময় গুলিয়ে ফেলেন। এ তিনটির আলাদা আলাদা উপসর্গ ও লক্ষণ রয়েছে।

পাইলসের চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে নানা জনে নানা মত রয়েছে। তবে রিং লাইগেশন পাইলসের আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে একটি।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বৃহদন্ত্র ও পায়ুপথ সার্জারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. একেএম ফজলুল হক।

পাইলস রোগে মলদ্বার থেকে মাঝে মধ্যে রক্ত যায়। মলত্যাগের সময় অনেকের মলদ্বার ফুলে ওঠে আবার কারও কারও মাংস পিণ্ড ঝুলে পড়ে যা আবার আপনা আপনি ভেতরে ঢুকে যায় অথবা চাপ দিয়ে ঢুকিয়ে দিতে হয়।

যুগ যুগ ধরে এ জাতীয় রোগীরা প্রতারণার শিকার হয়ে আসছেন। অনেক হাতুড়ে চিকিৎসক আছেন যারা বিনা অপারেশনে চিকিৎসার নামে জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন। তারা অনেকে মলদ্বারে বিষাক্ত কেমিকেল ইনজেকশন দিচ্ছেন যাতে মলদ্বারে মারাত্মক ব্যথা হয় এবং মলদ্বারের আশপাশে পচন ধরে এবং এ জন্য রোগী অবর্ণনীয় দুঃখ দুর্দশা ভোগ করেন।

পরিণামে কারও কারও মলদ্বার সরু হয় এবং বন্ধ হয়ে যায়। তখন পেটে মলত্যাগের বিকল্প পথ করে দিয়ে ব্যাগ লাগিয়ে দিতে হয়। আবার কোনো কোনো হাতুড়ে চিকিৎসক বিষাক্ত কেমিকেল পাউডার দেন যা মলদ্বারে লাগালেও মলদ্বার পচে ঘা হয়ে যায় এবং রোগীর একই পরিণতি হয়।

লেজার সার্জারির মাধ্যমে ধন্বন্তরি পাইলস চিকিৎসা হচ্ছে। বিষয়টি মোটেই সত্য নয়। কারণ এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যে লেজারের মাধ্যমে পাইলস চিকিৎসায় কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নেই। রিং লাইগেশন এবং লংগো অপারেশনের মাধ্যমে প্রায় ১০০ ভাগ রোগীর মলদ্বারে কোনো রূপ কাটাছেঁড়া ছাড়া চিকিৎসা করা সম্ভব। প্রচলিত অপারেশনে মলদ্বারের তিনটি মাংস পিণ্ড কাটতে হয়। যা আজকাল আমরা শুধু তাদের জন্যই করি যারা রিং লাইগেশনের জন্য উপযুক্ত নয় এবং লংগো অপারেশনের যন্ত্র কিনতে অক্ষম।

লেজার দিয়ে পাইলস অপারেশন প্রচলিত অপারেশনের মতোই। পার্থক্য শুধু এতটুকু যে এ ক্ষেত্রে লেজার বিম দিয়ে কাটা হয় এবং প্রচলিত অপারেশনে সার্জিক্যাল নাইফ দিয়ে কাটা হয়। প্রচলিত অপারেশনের মতো লেজার অপারেশনেও তিনটি ক্ষত স্থান হবে। লেজার অপারেশনের পর সাধারণত অপারেশনের মতোই ব্যথা হয় ঘা শুকাতে ১-২ মাস সময় লাগে। এবং প্রচলিত অপারেশনের মতোই একই ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে।

পাইলস চিকিৎসার জন্য বহু ধরনের পদ্ধতি রয়েছে। যেমন ইনজেকশন, রিংলাইগেশন, ইলেকট্রোকোয়াগুলেশন, আল্ট্রয়েড, ক্রায়োথেরাপি ইনক্রারেড ফটোকোয়াগুলেশন, এনাল ডাইলেটেশন, লেজার থেরাপি, প্রচলিত অপারেশন এবং লংগো অপারেশন।

সব ধরনের পদ্ধতির মেরিট এবং ডিমেরিট বিবেচনা করলে এবং বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সার্জনদের প্র্যাকটিস বিবেচনা করলে তিনটি পদ্ধতি বেশি প্রচলিত আর তা হচ্ছে রিংলাইগেশন, লংগো অপারেশন ও প্রচলিত অপারেশন।

স্কুলের মূল্যায়ন নিয়ে বড় উদ্বেগ অভিভাবকদের

আগামী বছর প্রবর্তিত হচ্ছে নতুন শিক্ষাক্রম। দেশের ইতিহাসে এটা চতুর্থ। এর আগে তিনটি শিক্ষাক্রম প্রবর্তন করা হলেও এবারই প্রথম খোলনলচে বদলানো হচ্ছে।

পাঠ্যবই, পাঠদান, তদারকি আর মূল্যায়নসহ সবকিছুতেই আসছে আমূল পরিবর্তন। এই শিক্ষাক্রম চালু হলে থাকবে না সৃজনশীল পদ্ধতি।

তবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তারও শেষ নেই অভিভাবকদের। বিশেষ করে স্কুলের শিক্ষকের কাছে মূল্যায়ন রাখায় শিক্ষার্থীদের জিম্মি হয়ে পড়ার আশঙ্কা করেছেন তারা।

শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ানোর চাপ এবং কোচিং বাণিজ্য আরও রমরমা হবে কি না-এমন প্রশ্নও বড় হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে নোটগাইড ব্যবসাও জমজমাট হবে। এমন আশঙ্কা সংশ্লিষ্ট অনেকের।

যুগান্তরকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে আছে অনেক চ্যালেঞ্জ। উপযুক্ত পাঠ্যবই তৈরি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, নতুন ধারার পাঠদান এবং সঠিক মূল্যায়ন হবে অন্যতম ইস্যু। এছাড়া বিদ্যমান সৃজনশীল ও এমসিকিউ পদ্ধতির স্থলে লিখিত পরীক্ষার নতুন রূপ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের কাছে পরিচিত করানোও কম চ্যালেঞ্জ নয় বলে মনে করেন তারা।

প্রসঙ্গত, স্বাধীনতার পর থেকে একটি শিক্ষাক্রম চলে আসছিল। পরে ১৯৯৫ ও ২০১৩ সালে আরও দুটি শিক্ষাক্রম প্রবর্তন করা হয়। এর মাঝখানে মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশে যুক্ত হয় আরও দুটি দিক। এর মধ্যে ১৯৯২ সালে এমসিকিউ ও ২০০৮ সালে সৃজনশীল চালু এবং ২০০১ সালে নম্বরের পরিবর্তে চালু করা হয় গ্রেডিং পদ্ধতিতে ফল তৈরি। এসব পরিবর্তন করা হলেও ছাত্রছাত্রীদের মূলত মুখস্থ করেই উত্তর লিখতে হতো। কিন্তু এবার মুখস্থের পরিবর্তে শিক্ষার্থীর হাতেকলমে শেখার অভিজ্ঞতা থেকে লিখতে হবে। শিক্ষার্থী তার পারিপার্শ্বিক জগৎ থেকে শিখবে এবং সেই জ্ঞান কাজে লাগিয়ে উত্তর লিখবে। এ পদ্ধতির মধ্য দিয়ে পাঠদানে আসছে নতুন ধারা। এটি বাস্তবায়নে শিক্ষকের ভূমিকাই মুখ্য।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, ‘খসড়ায় যতটা দেখেছি, নতুন শিক্ষাক্রমে ইতিবাচক অনেক দিক আছে। আবার তা বাস্তবায়নেও কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। এর মধ্যে স্কুলে মূল্যায়ন অন্যতম। আমরা যখন শিক্ষাক্রমের ওপর তৃণমূলে অভিভাবকদের মতামতের জন্য যাই, তখন তারা এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। অভিভাবকরা বলেছেন, এর আগে ‘এসবিএ’ (স্কুল বেজড অ্যাসেসমেন্ট) চালু হয়েছিল। সেটির কারণে একশ্রেণির শিক্ষক প্রাইভেট-টিউশনে জড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি নোট-গাইড ব্যবসাও রমরমা হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘ভালো কিছু থেকে সুফল পেতে হলে তার যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরি। ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। অথচ সংসদে এটি পাশ করা একটি দলিল। আবার এ দলিলে নেই-এমন জিনিসও শিক্ষাব্যবস্থায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা এর বড় দৃষ্টান্ত।’

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘ইতোমধ্যে দুই মন্ত্রণালয়ের কাজের মধ্যে সমন্বয়হীনতার চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। জনগণের মধ্যে এমনিতেই ধারণা আছে যে, তাদের বাচ্চাদের ‘গিনিপিগ’ করা হচ্ছে।’ তিনি মনে করেন, ‘যদি আন্তঃমন্ত্রণালয় একই মতে কাজ করে একই ধারার শিক্ষাক্রম চালু করতে না পারে, তাহলে যেমন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হবে না, তেমনই জনগণের মধ্যেও অসন্তোষ থাকবে।’

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষাক্রমের রূপরেখায় বলা হচ্ছে, ‘এক্সপেরিয়েন্সিয়াল’ বা অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষাক্রম আসছে। ছাত্রছাত্রীরা পুথিগত বিদ্যার খোলস থেকে বেরিয়ে হাতেকলমে প্রাত্যহিক জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে শিখবে। বিদ্যমান শিক্ষাক্রম অনেকটাই পরীক্ষাকেন্দ্রিক। এর ফলে শিক্ষার্থী জ্ঞান অর্জন ও মানবিক গুণাবলি অর্জনের চেয়ে পরীক্ষায় ভালো করার দিকে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।’

গত সোমবার শিক্ষাক্রমের রূপরেখা চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয়ের জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)। এরপর থেকেই এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সচেতন অভিভাবকরা তাদের মতামত পেশ করছেন। আমিনুল ইসলাম সোহাগ নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক ছাত্র ফেসবুকে লেখেন, ‘নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মূল্যায়ন! ছাত্রছাত্রীদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলবে শিক্ষকরা। এক প্র্যাকটিক্যালে যে খেলা দেখান তারা…শিক্ষকের সুদৃষ্টি…ধরে রাখতে হলে সব বিষয়েই প্রাইভেট/কোচিং বাধ্যতামূলক হবে।’ তিনি আরও লেখেন, ‘শিক্ষকবৃন্দ স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করাতে পারবেন না…এই নিয়ম চালু হওয়া উচিত।’

এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শিক্ষাক্রম প্রণয়ন সংক্রান্ত কোর কমিটির সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম তারিক আহসান যুগান্তরকে বলেন, ‘নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়িত হলে শুধু কোচিং বা প্রাইভেটই নয়, নোট-গাইড ব্যবসারও সুযোগ থাকবে না। সেক্ষেত্রে স্কুলে ছেড়ে দেওয়া মূল্যায়ন নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বিগ্ন হওয়া অযৌক্তিক নয়। কেননা এর আগে ‘এসবিএ’ চালুর পর শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছিল বলে অভিযোগ আছে। এর নাম হয়ে গিয়েছিল ‘স্যারের বাসায় এসো’। ভালো নম্বর পেতে শিক্ষকের কাছে কোচিং-প্রাইভেট পড়তে হয়েছিল।’ তবে তিনি মনে করেন, ‘প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় শিক্ষকের হাতে সর্বময় ক্ষমতা চলে যাওয়ার সুযোগ নেই। এমনকি শিক্ষকের ‘পড়ানো’র চিরাচরিত ভূমিকায় পরিবর্তন আসবে। শিক্ষক থাকবেন কেবল ‘ফ্যাসিলিটেটর’ (সমন্বয়কারীর ভূমিকায়) হিসাবে। শিক্ষকের পাশাপাশি শিক্ষার্থী নিজেকে মূল্যায়ন করবে। এছাড়া তার সহপাঠী এবং স্কুলের বাইরে সমাজে যার কাছ শিখবে তিনি বা তারা মূল্যায়ন করবেন। মূল্যায়নে নম্বরের পরিবর্তে ‘মন্তব্য’ দেওয়া হবে। ‘ভালো’, ‘খুব ভালো’, ‘আরও শেখা প্রয়োজন’ ধরনের মন্তব্য যখন দেওয়া হবে, তখন শিক্ষার্থীর আর জিম্মি হওয়ার সুযোগ থাকবে না।’

অধ্যাপক আহসান আরও বলেন, উল্লিখিত ব্যবস্থায় পাঠ্যবই হবে অনেকটা নির্দেশনাকেন্দ্রিক। আর পাঠ হবে ‘কার্যক্রম’ভিত্তিক। ফলে শিক্ষকের যেমন পড়ানো ও মুখস্থ করানোর কিছু থাকবে না, তেমনই নোট-গাইড ব্যবসায়ীদের পাঠ বা উত্তর তৈরির সুযোগ থাকবে না। ফলে কোচিং আর গাইডের ধারেকাছে শিক্ষার্থীকে যেতে হবে না। পাবলিক পরীক্ষার বাইরে যে পরীক্ষাগুলো থাকবে স্কুল-মাদ্রাসায়, সেখানে কাগজ-কলমের দরকার খুব কম হবে। মুখস্থ কিছু লেখার পরিবর্তে সৃজনশীল সমস্যা সমাধানের কাজ দেওয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই নতুন পদ্ধতিতে শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং মনিটরিংয়ের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই তিনটি গ্রুপকেই তৈরি করার প্রয়োজন আছে। যে কারণে গোটা শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে ৫টি বছর নেওয়া হচ্ছে। আগামী বছর প্রথম ও দ্বিতীয় এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে বাস্তবায়ন হচ্ছে। এর মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পুরোপুরি চালু করা হবে। প্রাথমিকে যাচ্ছে পরীক্ষামূলক ভার্সন। তিনি বলেন, শিক্ষকদের প্রস্তুতের জন্য অবশ্যই প্রশিক্ষণের দরকার আছে। তবে ডিজিটাল বাংলাদেশে প্রশিক্ষণে ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। অনলাইনে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের জন্য পোর্টালে ও অ্যাপে কনটেন্ট (পাঠ) রাখা হবে।

নতুন শিক্ষাক্রমে দশম শ্রেণির আগে পাবলিক পরীক্ষা নেই। দশম শ্রেণিতে এসএসসি আর একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে এইচএসসি পরীক্ষা দুটি হবে। আর ফল হবে দুই পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর যোগ করে। এই অবস্থায় পাবলিক পরীক্ষা কীভাবে হবে। এই প্রশ্নের জবাবে ড. আহসান বলেন, বিদ্যমান সৃজনশীল প্রশ্ন থাকবে না। শিক্ষাক্রম যেহেতু অভিজ্ঞতাভিত্তিক হবে। অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশ্ন হবে। তাই এখনকার মতো বেশি বেশি উদ্দীপক পড়ার জন্য একাধিক গাইড কেনার প্রয়োজন হবে না। পরীক্ষায় এখনকার মতো এমসিকিউ থাকবে কি না, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকরা আরও পরে এটি নির্ধারণ করবেন।

ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আজ, প্রতি আসনে লড়বেন ৩৩ জন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকের বাণিজ্য অনুষদভুক্ত ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আজ। বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাতটি বিভাগীয় পর্যায়ের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদ ভবনে পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাড়াও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি), শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি), বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি), বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এবার ৯৩০ আসনের বিপরীতে পরীক্ষায় বসার আবেদন করেছেন ৩০ হাজার ৭১৯ শিক্ষার্থী। সে হিসাবে প্রতি আসনের বিপরীতে গড়ে প্রার্থী আছেন ৩৩ জন।

ক, খ, গ ও ঘ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা হবে ১০০ নম্বরের মধ্যে। এর মধ্যে বহুনির্বাচনির জন্য ৬০ নম্বর এবং বাকি ৪০ নম্বরের লিখিত অংশ থাকবে। দুই অংশের উত্তর দেওয়ার জন্য আলাদা ৪৫ মিনিট করে মোট ৯০ মিনিট সময় পাবেন পরীক্ষার্থীরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন নেওয়া শুরু হয় ২০ এপ্রিল, ওই কার্যক্রম চলে ১০ মে পর্যন্ত। বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা নেওয়ার যুক্তি দেখিয়ে এবার ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফি সাড়ে তিনশ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করা হয়েছে।

এবার পাঁচটি ইউনিটে ৬ হাজার ৩৫টি আসনের জন্য দুই লাখ ৯০ হাজার ৪৮৪ শিক্ষার্থী আবেদন করেছে। এর মধ্যে ‘ক’ ইউনিটের এক হাজার ৮৫১ আসনের জন্য এক লাখ ১৫ হাজার ৭১০ জন, ‘খ’ ইউনিটের এক হাজার ৭৮৮ আসনের বিপরীতে ৫৮ হাজার ৫৫১ জন, ‘ঘ’ ইউনিটে এক হাজার ৩৩৬ আসনের জন্য ৭৮ হাজার ২৯ জন এবং ‘চ’ ইউনিটে ১৩০ আসনে ভর্তি হতে আবেদন করেছেন সাত হাজার ৩৫৭ জন।

এদিকে পরীক্ষার দিন কেন্দ্রে ভিড় না করতে অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে আসা ও অংশগ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, জনসমাগম ও পরিবেশ দূষণ না করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে পরীক্ষার দিন ক্যাম্পাসে যানবাহন চলাচল সীমিত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সব মহলের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।

কেকের পর চলে গেলেন আরও এক সংগীতশিল্পী

জনপ্রিয় গায়ক কেকের অকাল মৃত্যুতে স্তব্ধ অনুরাগীরা। এরই মধ্যে আরও এক দুঃসংবাদ। মাত্র ২২ বছরে মৃত্যু হলো দিল্লির সংগীতশিল্পী শেইল সাগরের। তবে মৃত্যুর কারণ এখনো স্পষ্ট হয়নি।

তরুণের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার মিউজিশিয়ান বন্ধুরাই।

দিল্লির অন্য এক শিল্পী টুইট করেছেন, আজ একটা দুঃখের দিন। প্রথমে কেকে আর তার পর এই দারুণ মিউজিশন যিনি আমাদের অবাক করেছিল উইকেড গেমস গানে। শেইল সাগর তোমার আত্মার শান্তি কামনা করি। আমি ওকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতাম না; কিন্তু একবার ওর শো দেখতে গিয়েছিলাম। ওর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পেরেছিলাম। ও যেভাবে সংগীতচর্চা করত, গান বানাত আমার তা ভালো লাগত। আমরা এক গুণি মানুষকে হারালাম। দয়া করে সব স্বাধীন শিল্পীকে সমর্থন করুন।

ইনডিপেনডেন্ট মিউজিকের জগতে শেইল পরিচিতি পেয়েছিল ইফ আই ট্রাইড এ গানের জন্য। স্পটিফাই থেকে শুরু করে বিভিন্ন মিউজিক প্ল্যাটফরমে তিনি নাম করেছিলেন। একই সঙ্গে পিয়ানো, গিটার, স্যাক্সোফোন বাজাতে পারতেন শেইল। তার গানের কণ্ঠও প্রশংসাও পেয়েছেন। হংসরাজ কলেজে মিউজিক সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্টও ছিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার রাতে কলকাতায় অনুষ্ঠান সেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন জনপ্রিয় গায়ক কেকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়। তার কিছু দিন আগেই মৃত্যু হয় পঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসে ওয়ালার। সব মিলিয়ে এখন সংগীত জগতে যেন শোকের ছায়া।

‘তাহাদের গল্প’ নিয়ে আসছেন তারিন

জনপ্রিয় টিভি অভিনেত্রী তারিন জাহান আবারও দর্শকদের কাছে ধরা দিচ্ছেন। দীর্ঘ বিরতির পর একক নাটক তাহাদের গল্পে অভিনয় করেছেন তিনি। নাটকটি দর্শক সাড়া পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নাটকের গল্প অনেকটা এমন—২০ বছরের সংসার রূপকথা আর সাগরের। তাদের ১৮ বছরের একটা মেয়ে আছে, যার নাম রোদেলা।

সুখেই যাচ্ছিল তাদের দিনকাল। তবে রূপকথার মনে একটা চাপা কষ্ট আছে, যে কষ্টটা সে কাউকে বুঝতে দেয়নি।

রুপকথা একসময় ভালো নাচত, রূপকথার নাচ দেখেই সাগর ওকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু অদ্ভুতভাবে বিয়ের পরে রূপকথার প্রতি সাগরের প্রথম দাবি ছিলে নাচটা ছেড়ে দিতে হবে। রূপকথা সাগরের কথা মেনে নিয়েছিল।

কিন্তু খুব বৃষ্টির দিনে রূপকথার ছোটবেলাটা মনে করিয়ে দেয়। তখন সে ঘরের দরজা বন্ধ করে সাজগোজ করে নিজের মতো করে নাচে। এভাবেই এগিয়ে যায় নাটকের গল্প।

জহির করিমের রচনা ও চিত্রনাট্যে নাটকটি পরিচালনা করেছেন অমিতাভ আহমেদ রানা ও সুব্রত মিত্র। এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তারিন জাহান, নাবিলা ইসলাম, গোলাম কিবরিয়া তানভীর ও টাপুর।

বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভিতে আজ রাত সাড়ে ৯টায় প্রচার হবে নাটকটি।

নেইমারের আর ৪ গোল হলেই…

রাশিয়া বিশ্বকাপটা ভালো যায়নি ব্রাজিলের। তবে বাছাইপর্ব দিয়েই সেলেকাওরা জানিয়ে দিয়েছেন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আবারও জ্বলে উঠবেন তারা।

বৃহস্পতিবার ঝলমলে পারফরম্যান্স দিয়ে ফুটবলবিশ্বকে সে কথা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল তিতের দল।

এদিন সিউলে প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিল ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে স্বাগতিক দক্ষিণ কোরিয়াকে।

৫ গোলের মধ্যে দুটি গোলই করেছেন ব্রাজিলের প্রাণভোমরা নেইমার জুনিয়র। পেনাল্টিতে দুটি গোল করেন তিনি, যা ব্রাজিলের জার্সি গায়ে নেইমারের ৭২ ও ৭৩তম গোল।

আর দুটি গোলের পর স্বদেশি কিংবদন্তি পেলের রেকর্ডের আরও কাছে চলে গেলেন নেইমার।

ব্রাজিলের হয়ে ৭৭ গোল করেছেন পেলে। আর মাত্র ৪ গোল করলে সেই রেকর্ডে ভাগ বসাবেন পিএসজির ফরোয়ার্ড নেইমার। পাঁচটি করলে ছাড়িয়ে যাবেন তার পূর্বসূরিকে।

ম্যাচে নেইমার ছাড়া বাকি তিনটি গোল রিচার্লিসন, ফিলিপ্পে কুতিনহো ও গ্যাব্রিয়েল জেসুস। ছয়টি গোলও হতে পারত ব্রাজিলের পক্ষে।

থিয়াগো সিলভার গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। এর আগে সাত মিনিটে ব্রাজিলের লেফট-ব্যাক অ্যালেক্স সান্দ্রো কোরিয়ার পেনাল্টি বক্সে ঢুকে কাটব্যাক করেন। সেখান থেকে ফ্রেড গোল না করতে পারলেও ফিরতি বলে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন রিচার্লিসন।

এরপর থিয়াগো সিলভার গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। হঠাৎ ম্যাচের গতির বিরুদ্ধে সমতায় ফেরে দক্ষিণ কোরিয়া। হুয়াং হুই-জো ৩১ মিনিটে গোল করেন।

ভিএআরের সহায়তায় ৪২ মিনিটে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। স্পটকিকে নেইমার ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন। ৫৭ মিনিটে আবারও পেনাল্টি থেকে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন নেইমার। শেষের ১০ মিনিটে ফিলিপ্পে কুতিনহো ও গ্যাব্রিয়েল জেসুস গোল করে স্কোরলাইন ৫-১ করেন।

সোমবার টোকিওতে ব্রাজিল তাদের পরবর্তী প্রীতি ম্যাচ খেলবে জাপানের বিপক্ষে। একই দিন দক্ষিণ কোরিয়া আতিথ্য দেবে চিলিকে।

কিউদের বিপক্ষে ইংল্যান্ড দলে বাংলাদেশের ছেলে

লর্ডসে চলছে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড টেস্ট। আর বৃহস্পতিবার মাঠে নেমেই ইংল্যান্ডের দুই নবীন-প্রবীণ পেসারের তোপে ১৩২ রানেই অলআউট নিউজিল্যান্ড।

অভিষিক্ত ম্যাথিউ পটস এবং নিজের ১৭০তম টেস্ট ম্যাচ খেলা জেমস অ্যান্ডারসন মিলে আট উইকেট সমান ভাগ করে নেন।

পটস ১৩ রানে চার উইকেট। তবে পটস ও অ্যান্ডারসনকে রেখে বাংলাদেশিদের মাঝে আলোচনায় ইংল্যান্ড দলের অন্য এক ক্রিকেটার।

৩৮তম ওভারে ম্যাথিউ পটসের জায়গায় বদলি হিসেবে ফিল্ডিং করতে নামলেন এক তরুণ। তাতেই ইতিহাস গড়া হয়ে গেল একটি।

ইংল্যান্ডের জার্সিতে ক্রিকেটে নাম লেখালেন বাংলাদেশি বংশদ্ভূত রবিন জেমস দাস! রবিনের জন্ম ইংল্যান্ডের লেটনস্টোনে। তবে তার শিকড় বাংলাদেশে। রবিনের বাবার জন্ম সিলেটের সুনামগঞ্জে।

২০ বছর বয়সি ক্রিকেটার ইংল্যান্ডের ব্রেন্টউড স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। এসেক্সের হয়ে ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেট খেলেন তিনি।

দারুণ ব্যাট করতে পারেন রবিন। বয়সভিত্তিক দলে তার ব্যাটিং নৈপূণ্য মুগ্ধ করেছে ইংল্যান্ডের কর্মকর্তাদের।

২০১৮ সালে এসেক্সের অনূর্ধ্ব-১৬ দলের হয়ে ২০০ রান করেছিলেন রবিন। এসেক্সের দ্বিতীয় একাদশের হয়েও খেলেছেন তিনি।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের জন্য ১৩ সদস্যের স্কোয়াডে ছিল না রবিনের নাম। এরপরও লর্ডসের মাটিতে বৃহস্পতিবার ‘টুয়েলফ্থ ম্যান ডিউটি’ হিসেবে নামানো হয় তাকে।

গতকাল পেসার পটস চোট পেলে রবিনকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় মাঠে। ইংল্যান্ড দলের হয়ে ঘটে যায় ‘অভিষেক’।
তবে এ অভিষেক স্থায়ী ছিল মাত্র ৪ বল। ৩৮তম ওভারের দ্বিতীয় বলে মাঠে নামেন রবিন। সেই ওভার শেষ হতেই অতিরিক্ত ফিল্ডার হিসাবে বাইরে থাকা স্টুয়ার্ট ব্রড ফেরেন মাঠে, ফলে উঠে যেতে হয় রবিনকে।

তবে অভিষেক তো ঘটেই গেল। তাই তাকে শুভেচ্ছা জানাতে কার্পণ্য করেননি এসেক্স কাউন্টি দল।

টুইটারে কাউন্টির পক্ষ থেকে ইংল্যান্ডের হয়ে ‘টুয়েলফ্থ ম্যান ডিউটি’ করার জন্য রবিন এবং তার সতীর্থ নিখিল গোরান্টলাকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।

ভোর থেকে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে প্রার্থীরা

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে, মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তারা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন। গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, পথসভাসহ নানাভাবে তাদের প্রচার কার্যক্রম চলছে।

ভোটারদের সামনে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সম্পর্কে প্রার্থীরা নানা অনিয়ম তুলে ধরছেন। বক্তব্য ও পালটা বক্তব্যের মাধ্যমে তারা পরস্পরকে আক্রমণও করছেন। বৃহস্পতিবার দিনভর প্রচারাভিযানে হেভিওয়েট তিন মেয়র প্রার্থী উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতিও দেন।

সদ্য সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর নানা অনিয়মের দিক তুলে ধরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত পরিচ্ছন্ন, দালাল ও হয়রানিমুক্ত নাগরিক সেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। সকালে নগরীর কান্দিরপাড়, নিউ মার্কেট এবং বাদুড়তলা এলাকায় গণসংযোগকালে নৌকার প্রার্থী রিফাত নানা প্রতিশ্রুতি দেন।

আর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সাক্কু ভোটারদের কাছে আরেকবার সুযোগ চাইছেন। দুপুরে রাজগঞ্জ ও চকবাজার, বিকালে দক্ষিণ সিটি এলাকায় তিনি গণসংযোগ করেন।

অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার ভোটারদের নিজের দিকে আনার চেষ্টা করছেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীর ২৫নং ওয়ার্ডের চৌয়ারা বাজার, হরিপুর, রাজেশপুর এলাকায় এবং বিকালে ঝাউতলা ও কান্দিপাড় এলাকায় তিনি গণসংযোগ করেন।

এদিকে বুধবার বিকালে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুর (টেবিল ঘড়ি) প্রচারকর্মীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে সাক্কু লিখিত অভিযোগ করেন। বলা হয়, নগরীর ঝাউতলা এলাকায় এক প্রচারকর্মীকে একই এলাকার বখাটে প্রিতম মারধর করেছে। টেবিল ঘড়ির প্রচার কার্যক্রমে বাধাও দেওয়া হয়েছে।

হয়রানিমুক্ত নাগরিক সেবার প্রতিশ্রুতি রিফাতের : নগরীর কান্দিরপাড় ও নিউমার্কেট এলাকায় পথসভায় নৌকার প্রার্থী রিফাত বলেন, আমি নির্বাচিত হলে সিটি করপোরেশনকে গণমানুষের কার্যালয়ে রূপান্তর করব, সেখানে মানুষ তাদের মনের কথা প্রাণ খুলে বলতে পারবে, দুর্নীতি কখনো আমাকে স্পর্শ করতে পারবে না। আপনারা আমাকে বিজয়ী করলে আমি আপনাদের সব সমস্যা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরব। তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে দুর্নীতি, দালাল ও হয়রানিমুক্ত নগরভবন গড়ে তুলব। আমি কথা দিচ্ছি-নগরভবনকে আমি কখনো দলীয় কার্যালয় হতে দেব না।

অসমাপ্ত কাজ শেষ করার সুযোগ চাই : সকালে দক্ষিণ সিটি এলাকার ২৭নং ওয়ার্ডের চৌয়ারা বাজার হাইস্কুলের সামনে থেকে টেবিল ঘড়ির প্রার্থী সাক্কু গণসংযোগ শুরু করেন। দুপুরে একই ওয়ার্ডের ধনাইতরী জামতলা প্রাঙ্গণে উঠান বৈঠকে তিনি বলেন, নগরবাসী ভালো করেই জানেন কাকে ভোট দিলে তারা শান্তিতে থাকতে পারবেন। আমাকে কুমিল্লাবাসী শান্তিপ্রিয় মানুষ হিসাবেই চেনে, আমার কাছে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অবাধে আসতে পারেন। আমার কাছে আসতে কোনো দালাল ধরতে হয় না। সাক্কু বলেন, অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য ভোটারদের কাছে আরেকবার সুযোগ চাই। তিনি বলেন, আমি কথা দিচ্ছি আগামী মেয়াদে নগরের সব মৌলিক সমস্যার সমাধান করে কুমিল্লাকে আধুনিক সিটিতে রূপান্তর করব।

ভোটারদের নিজের দিকে আনার চেষ্টা : ২৫নং ওয়ার্ডের রাজেশপুর এলাকায় গণসংযোগকালে ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, সরকারের কর্মকাণ্ডে নাখোশ ভোটাররা এবার পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দেবেন। গত দুই মেয়াদে সাক্কু ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে আঁতাত করে নগরভবন পরিচালনা করেছেন। এতে তার প্রতিও নগরবাসী নাখোশ। সরকারের নানা ব্যর্থতার দিক তুলে ধরে তিনি সরকারবিরোধী ভোটারদের নিজের দিকে আনার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতিতে দিনদিন মানুষ অসহায় হয়ে পড়ছে।

সাবেক এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে কায়সার আরও বলেন, আমার জানামতে তিনি (মনিরুল) এমন কোনো কথা বলেননি, যার ফলে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হবে। এটি নির্বাচনের পরিবেশকে বিঘ্নিত করবে। অবিলম্বে এ মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

কুসিক নির্বাচন মনিটরিংয়ে আ.লীগের টিম যাচ্ছে আজ : কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচন মনিটরিংয়ের জন্য আজ শুক্রবার কুমিল্লা যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের সদস্য এবং আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এ ছাড়াও এই প্রতিনিধি দলে আছেন কৃষিবিষয়ক সম্পাদক বেগম ফরিদুন্নাহার লাইলী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুনুর রশীদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ এবং উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। এদিকে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ মাহবুবউল আলম হানিফ ৬ জুন কুমিল্লা যাবেন।

সহপাঠীকে বিয়ের দাবিতে কলেজ ছাত্রীর অনশন

সহপাঠীকে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসেছে দ্বাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রী। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হওয়ায় অবশেষে পুলিশ থানায় নিয়েছে গেছে সেই ছাত্রীকে।

বরিশাল সদর উপজেলার ২নং কাশীপুর ইউনিয়নের কলশ গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেট্রোপলিটন এয়ারপোর্ট থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) শফিক।

তিনি জানান, খবর পেয়ে ওই ছাত্রীকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া ছাত্রীর পরিবারের লোকজনকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, যে ছেলেকে বিয়ের দাবি জানিয়েছে, তাকে পরিবারের জিম্মায় রাখা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বুধবার বিকালে কলশ গ্রামের বাসিন্দা সরকারি বরিশাল কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র নাঈমের বাসায় গিয়ে অবস্থান নেন তারই এক ক্লাসমেট।ওই ছাত্রীর বাড়ি পটুয়াখালী।

ছাত্রীর দাবি, নাঈমের সঙ্গে তার প্রায় এক বছরের প্রেমের সর্ম্পক। কিন্তু কিছুদিন ধরে নাঈম তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।এতে বাধ্য হয়ে তার বাড়িতে এসে অবস্থান নিয়েছে।

ছাত্রী আরও বলেছে, নাঈম আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আমি সেই আশ্বাসে এসেছি।

তবে নাঈম বলছে, ক্লাসমেট হিসেবে তার সঙ্গে ভালো সর্ম্পক। কিন্তু তার সঙ্গে আমার কোন প্রেমের সর্ম্পক নেই। সে আমার জাস্ট ফ্রেন্ড। কিন্ত কেন সে এই কাজটি করলো আমি বুঝতে পারছি না। পুরো ঘটনা নিয়ে আমি এবং আমার পরিবার বিপাকে পড়েছি।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ১০০ দিনের আলোচিত যত ঘটনা

রাশিয়ার সামরিক বাহিনী গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোর থেকে ইউক্রেন আক্রমণ শুরু করেছিল। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ১০০ দিনে প্রবেশ করেছে আজ।

গত ১০০ দিনের যুদ্ধে কয়েক হাজার বেসামরিক লোকের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েক হাজার। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে অনেক ঘরবাড়ি, হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থাপনা। গত ১০০ দিনের আলোচিত যত ঘটনা—

২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের রক্ষায় এবং ইউক্রেনকে নিরস্ত্রীকরণ ও নাৎসিমুক্ত করতে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিশেষ সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন। ইউক্রেনের কয়েকটি শহরে বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে এ আক্রমণ শুরু হয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কিয়েভে থেকেই আক্রমণ প্রতিরোধের ঘোষণা দেন।

এর পর ২৬ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলো নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা দিতে শুরু করে। বিভিন্ন দেশে রাশিয়ার জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাশিয়াকে বিভিন্ন খেলা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে বের করে দেওয়া হয়।

২৭ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তিকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দেন পুতিন। পশ্চিমারা যেন ইউক্রেন যুদ্ধে না জড়ায়, তার সতর্কবার্তা হিসেবেই পুতিন এ ঘোষণা দেন।

২৮ ফেব্রুয়ারি মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে প্রথম শান্তি আলোচনা শুরু হয়। রাশিয়া ক্রিমিয়ায় তাদের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব দাবি করে। ইউক্রেন কখনো পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগ দেবে না, এমন শর্ত দেয় রাশিয়া।

৩ মার্চ ইউক্রেনের দক্ষিণ উপকূলে হামলা চালিয়ে রুশ সেনারা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে এ অঞ্চলকে যুক্ত করার চেষ্টা চালায়। রুশ সেনারা এদিন খেরসন শহরটি দখল করে নেয়। এদিন থেকেই মারিউপোলে হামলা শুরু করে রুশ বাহিনী।

১৬ মার্চ রুশ সেনারা এদিন মারিউপোলের একটি থিয়েটারে বোমা হামলা চালায়। সেখানে আশ্রয় নেওয়া কমপক্ষে ৩০০ ব্যক্তি নিহত হওয়ার দাবি করে কিয়েভ।

এপ্রিল ২-৩ প্রায় এক মাসের যুদ্ধের পর মস্কো উত্তর ইউক্রেন থেকে সরে এসে দক্ষিণাঞ্চল জয়ের দিকে মনোনিবেশ করার ঘোষণা দেয়। এ সময় বুচা শহরে গণকবর পাওয়ার দাবি করে কিয়েভ।

এপ্রিল ৮ ক্রামাতোরস্কের একটি রেলস্টেশনে হামলায় ৫৭ জন নিহত হন।

এপ্রিল ১৪ ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রবাহী মস্কোভা রণতরীতে আঘাত হানে। এতে কৃষ্ণসাগরে রণতরীটি ডুবে যায়।

মে ১৮ সুইডেন, ফিনল্যান্ড পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে যুক্ত হওয়ার আবেদন জানায়।

মে ২১ রাশিয়া মারিউপোল শহরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করে।

মে ৩১ গুরুত্বপূর্ণ শহর সেভেরোদোনেৎস্কের কিছু এলাকা দখলে নেয় রুশ বাহিনী।

১ জুন ইউক্রেনকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির রকেট-ব্যবস্থা সরবরাহ করতে সম্মত হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এ রকেট-ব্যবস্থা ব্যবহার করে দীর্ঘ দূরত্বে রকেট ছোড়া যাবে।

২ জুন ইউক্রেনের মোট ভূমির ২০ শতাংশ বা পাঁচ ভাগের এক ভাগ রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর দখলে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার দখল করা এলাকার আয়তন বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ ও নেদারল্যান্ডসের মোট ভূখণ্ডের চেয়ে অনেক বেশি।

৩ জুন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কূটনীতির মাধ্যমেই সমাপ্তির আশা করছেন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তবে শান্তি আলোচনায় বসার আগে ইউক্রেনীয়দের অবস্থান শক্তিশালী করতে হবে বলে মনে করছেন ন্যাটো প্রধান ও মার্কিন কর্মকর্তারা।

সূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স, সিএনএন।