সারা বিশ্বে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ও সংক্রমণ দুটোই বেড়েছে। এ সময়ে ৮০১ জন মৃত্যুর পাশাপাশি সংক্রমিত হয়েছেন তিন লাখ ৭১ হাজার ৯৯৫ জন। এ নিয়ে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬ লাখ ৩৫ হাজার ৭২ জনে। একই সঙ্গে শনাক্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ কোটি ৫৫ লাখ ৪২ হাজার ২৬২ জনে।
শনিবার ২৬ নভেম্বর সকালে বৈশ্বিক পর্যায়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার আপডেট দেওয়া ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় সবচেয়ে বেশি মারা গেছেন ব্রাজিলে। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে জাপানে। দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় জাপান দ্বিতীয়। এর পরেই রয়েছে ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো।
২৪ ঘণ্টায় জাপানে সংক্রমিত হয়েছেন এক লাখ ১৭ হাজার ৮৪০ জন এবং মারা গেছেন ১০০ জন। করোনা মহামারির শুরু থেকে পূর্ব এশিয়ার এ দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২ কোটি ৪২ লাখ ৪৬ হাজার ৭৫৪ জন শনাক্ত এবং মারা গেছেন ৪৮ হাজার ৮৭২ জন।
করোনা শনাক্তের দিক থেকে পঞ্চম ও মৃত্যুর সংখ্যায় তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় সংক্রমিত হয়ে মারা গেছেন ১০৪ জন। এ সময়ে নতুন শনাক্ত হয়েছেন ৫৬ হাজার ৮৮৯ জন। দেশটিতে এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত ৩ কোটি ৫২ লাখ ৩ হাজার ৯৮০ জন এবং মারা গেছেন ৬ লাখ ৮৯ হাজার ৫০০ জন।
একদিনে যুক্তরাষ্ট্রে মারা গেছেন ৫৮ জন এবং শনাক্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৫১৩ জন। করোনাভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এ দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১০ কোটি ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৫৩ জন শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মারা গেছেন ১১ লাখ ৪ হাজার ৭৪৩ জন।
রাশিয়ায় ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমিত হয়েছেন ৫ হাজার ৯৯২ জন এবং মারা গেছেন ৫৬ জন। এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত ২ কোটি ১৫ লাখ ৬২ হাজার ৭৫৮ জন এবং মারা গেছেন ৩ লাখ ৯১ হাজার ৭৩৬ জন।
ফ্রান্সে এখন পর্যন্ত সংক্রমিত ৩ কোটি ৭৫ লাখ ৯১ হাজার ২৯৩ জন এবং মারা গেছেন ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩৯ জন। অন্যদিকে জার্মানিতে এ পর্যন্ত মোট সংক্রমিত ৩ কোটি ৬৩ লাখ ৪৮ হাজার ৪৭৭ জন এবং মারা গেছেন এক লাখ ৫৭ হাজার ৩৮৮ জন।
দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন শনাক্ত ৫৩ হাজার ৬৯৮ জন এবং মারা গেছেন ৫৫ জন। দেশটিতে এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত ২ কোটি ৬৮ লাখ ৩৭ হাজার ৮৪০ জন এবং মারা গেছেন ৩০ হাজার ২৭৮ জন।
তাইওয়ানে একদিনে সংক্রমিত ১৪ হাজার ১৯৫ জন এবং মারা গেছেন ৫৬ জন। দেশটিতে এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত ৮২ লাখ ৪১ হাজার ১৭৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৪ হাজার ১৮১ জনের।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব

বিশ্বজুড়ে ব্রাজিল সমর্থকসহ ফুটবল প্রেমীদের মনে সারাদিন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল, নেইমার মাঠে নামতে পারবেন তো? বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলো ঠিকঠাক ভাবে খেলতে পারবেন তো? দিন শেষে সংবাদ এলো গ্রুপ পর্বে আর মাঠে নামতে পারছেন না ব্রাজিলের প্রাণভোমরা । আর ছিটকে পড়ার পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়েছেন এক বার্তা।
সেখানে তারকা এই ফুটবলার জানান ব্রাজিলের জার্সি গায়ে গর্ব এবং ভালোবাসা অনুভব করেন। নেইমার বলেন, ‘ব্রাজিলের জার্সি গায়ে দিতে আমি যে পরিমাণ গর্ব ও ভালোবাসা অনুভব করি তা বলে বোঝানো যাবে না। যদি ঈশ্বর আমাকে কোনো দেশে জন্মানোর সুযোগ দিতেন, সেটা ব্রাজিলই হতো।’
নেইমার আরো বলেন, ‘আমার জীবনে কিছুই এমনিতে বা সহজে হয়নি। আমাকে সবসময় লক্ষ্য ও স্বপ্নের পেছনে ছুটতে হয়েছে। কখনও কারো ক্ষতি না করে সাহায্য করতে চেয়েছি।’
ইনজুরি থাকলেও আবার ফিরে আসার কথা বলে নেইমার বললেন, ‘আজ ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন এক মুহূর্তে এসে দাঁড়িয়েছি, আবারও একটা বিশ্বকাপে। হ্যাঁ, আমার ইনজুরি আছে এটা বিরক্তিকর, জানি, এটা কষ্টও দেবে। কিন্তু আমি নিশ্চিত ফিরে আসার সুযোগ আছে। কারণ দেশকে সাহায্য করতে সেরা চেষ্টা করবো। আমার আস্থা অনিঃশ্বেষ।’
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব
The post “নেইমারের আবেগঘন বার্তা” appeared first on বিজনেস বাংলাদেশ.

দেশে এখন যে পরিমাণ রিজার্ভ আছে তা দিয়ে ৩ মাস নয়, ৫ মাসের আমদানি করতে পারব বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, দেশে পর্যাপ্ত রিজার্ভ রয়েছে এবং রিজার্ভ জনসাধারণের কল্যাণে ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকার জনগণের কল্যাণে সম্ভাব্য সবকিছু করবে, কাউকে ভোগান্তি পোহাতে হবে না।
আজ শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের রিজার্ভ থেকে দেশবাসীর কল্যাণে খরচ করতে হবে। আমাদের কাছে এত পরিমাণ রিজার্ভ মানি আছে যে, আমরা পাঁচ মাসের জন্য খাদ্য আমদানি করতে পারি, যদিও যেকোনো দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে তিন মাসের জন্য খাদ্য আমদানির জন্য রিজার্ভ থাকতে হয়।
চাল, গম, ভোজ্যতেল, জ্বালানি তেল এবং ভ্যাকসিন আমদানিসহ জনগণের কল্যাণে এই রিজার্ভ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ রিজার্ভের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠছে এবং তারা চা-স্টলে ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় রিজার্ভ নিয়ে আলোচনা করছে। কভিড-১৯, ভর্তুকি দেওয়া, কিছু প্রকল্পে বিনিয়োগ এবং বিদেশি ঋণ পরিশোধ করায় এই টাকা ব্যয় হয়েছে।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া যে রিজার্ভ রেখে গিয়েছিল তা থেকে আওয়ামী লীগ ২০০৮ এ নির্বাচিত হয়ে ২০০৯ সালে যখন সরকার গঠন করে তখন সেই রিজার্ভ ছিল ৫ বিলিয়নের কিছু ওপরে। করোনাকালে যেহেতু আমদানি বন্ধ ছিল, রেমিট্যান্স সরকারিভাবে এসেছে, কোন হুন্ডি ব্যবসা ছিল না, কোনোরকম খরচ ছিল না তাই আমাদের রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছিল। তবে, বাংলাদেশ তাদের সকল ঋণ সবসময় সঠিকভাবে পরিশোধ করে এসেছে এবং এক বারের জন্যও ঋণ খেলাপি হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কভিড কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের আমদানি-রপ্তানি বেড়েছে। দেশের কাজ বেড়েছে তাছাড়া ভ্যাকসিন ক্রয় এবং করোনা মোকাবিলার আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটাতে হয়েছে। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে হয়েছে এগুলোর জন্য টাকা খরচ হয়েছে। পানির মতো টাকা খরচ করতে হয়েছে। তারপরে এখন আমাদের খাদ্য আমদানি করতে হচ্ছে তার জন্য অধিক দামে আমদানিতে অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
সরকার প্রধান বলেন, যতই দাম বাড়ুক সরকার ইউক্রেন-রাশিয়া, কানাডা থেকে এই যুদ্ধকালীন সময়ে গম কিনে আনছে। এজন্য ২০০ ডলারের গম ৬০০ ডলারে কিনতে হচ্ছে। ভোজ্যতেল সেই ব্রাজিল থেকে শুরু করে পৃথিবীর যে দেশে পাওয়া যায় আমরা নিয়ে আসছি। মানুষের ভোগ্যপণ্য প্রাপ্তিতে যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছি। মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার।
রিজার্ভ শুধু আমাদের দেশে নয় পৃথিবীর অনেক দেশের রিজার্ভ কমে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার শ্রীলংকাকে কিছু সহযোগিতা করেছে এবং আরো অনেক দেশ বাংলাদেশের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে উল্লেখ করে তিনি সেসব দেশের নাম উল্লেখ করেননি।
সরকার প্রধান বলেন, রিজার্ভ রাখা লাগে কেননা যদি কোনো দৈব দুর্বিপাক হয় সে সময় ৩ সাসের খাবার যেন আমদানি করা যায়। আর সেজন্য আমাদের খাদ্য পণ্য যাতে মোটেই আমদানি করতে না হয় তারজন্য তিনি দেশবাসী প্রত্যেককে যার যেখানে এতটুকু জমি আছে তাতে ফসল ফলিয়ে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর আহবান জানিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বাচিপের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান ও মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বক্তৃতা করেন। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা: আ ফ ম রুহুল হক এমপি।

কাতার বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক কাতারকে ৩-১ গোলে হারিয়ে নক আউট পর্বের আশা বাঁচিয়ে রাখলো সেনেগাল। শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যে ৭ টায় মাঠে নামে কাতার ও সেনেগাল। ম্যাচের ৪১ মিনিটে বউলিয়া ডিয়া করা গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় সেনেগাল। বিরতি থেকে ফিরে আরও দুই গোল করে সেনেগাল। এই ম্যাচে হারের ফলে বিশ্বকাপ থেকে অনেকটায় ছিটকে গেলো স্বাগতিক কাতার।
ম্যাচের শুরুতেই স্বাগতিকদের চাপে রাখে সেনেগাল। ম্যাচের ৮ মিনিটে ডান দিক থেকে আক্রমণ রচনা করে সেনেগাল। তবে তা প্রতিহিত করে দেন কাতারের ডিফেন্ডাররা। সেনেগালের আক্রমণের বিপরীতে কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর খেলতে থাকে কাতার। ম্যাচের ১৫ মিনিটে সাজানো আক্রমণে করে কাতার। ডি বক্সের বাইরে থেকে ভলি করেন আফিফ। তবে তা চলে যায় ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে। অন্যদিকে ১৬ মিনিটে সেনেগালের কর্নার থেকে নেওয়া হেড চলে যায় গোলপোস্টের বাইর দিয়ে।
ম্যাচের ২৩ মিনিটে কাতারের ডি বক্সের বাইর থেকে কোনাকোনি শট করেন গানা। তবে তা অল্পের জন্য চলে যায় সাইডপোস্টের বাইর দিয়ে। ম্যাচের ২৭ মিনিটে কাতার গুছিয়ে আক্রমণে গেলেও তা কোন বিপদ ঘটাতে পারেনি। ম্যাচের ২৯ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে যায় সেনেগাল। গোলরক্ষক জায়গা ছেড়ে বেড়িয়ে এলে গোলের সম্ভাবনা জাগিয়েও গোল করতে ব্যর্থ হয় তারা।
ম্যাচের ৩৩ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে যায় কাতার। বাম প্রান্ত ধরে বল নিয়ে সেনেগালের ডি বক্সে ঢুকে যায় আফিফ। এসময় তাকে বাঁধা দেয় সেনেগাল ডিফেন্ডার। পেনল্টির আবেদন করলেও তাতে সাড়া দেননি রেফারি। ম্যাচের ৪১ মিনিটে গোলের দেখা পায় সেনেগাল। কাতার ডিফেন্ডারের ভুলে ডি বক্সের ভেতর থেকে প্লেসিং শটে গোল করে সেনেগালকে এগিয়ে দেন বউলিয়া ডিয়া।
এরপর দু’দল কয়েকটি আক্রমণ করলেও তা থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত স্বাগতিক কাতারের বিপক্ষে এক গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় সেনেগাল।
বিরতি থেকে ফিরেই আবারও গোলের দেখা পায় সেনেগাল। ম্যাচের ৪৭ মিনিটে কর্নার আদায় করে সেনেগাল। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে সেই কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে হেড করে কাতারের জালে জড়ান ফামারা ডিইধিউ। সেনেগালের লিড বাড়িয়ে দেন তিনি। দুই গোলের লিড নিয়ে স্বাগতিকদের ওপর আরও চড়াও হয়ে খেলতে থাকে সেনেগাল।
ম্যাচের ৫৫ মিনিটে সুযোগ পায় কাতার। ফ্রি কিক থেকে বল ভাসিয়ে দেয় আফিফ। সেখানে জটলার মধ্যে বল পেয়ে শট করে কাতারের স্ট্রাইকার। তবে তা সেনেগালের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে প্রতিহত হয়। ম্যাচের ৬১ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে সেনেগালের গোলমুখে থেকে আচমকা শট করেন আব্দিল করিম হাসান। তবে তা চলে যায় গোলপোস্টের বাইর দিয়ে। এরপর ৬৩ মিনিটে আফিফের পাস থেকে শট করেন আলমোয়েজ আলি। কিন্তু তা রুখে দেন সেনেগালের গোলরক্ষক মেন্ডি।
ম্যাচের ৬৬ মিনিটে ডান দিক থেকে বাড়ানো বলে হেড করেন ইসমাইল মোহাম্মদ। তবে মেন্ডির অসাধারণ সেভে গোল বঞ্চিত হয় কাতার। তবে ম্যাচের ৭৮ মিনিটে গোলের বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম গোলের দেখা পায় কাতার। ডান দিক ইসমাইল মোহাম্মদের বাড়ানো বলে হেড করে বল জালে জড়ান মোহাম্মদ মুন্তারি। এক গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় গোল শোধে মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে কাতার।
কিন্তু ম্যাচের ৮৩ মিনিটে উলটো গোল খেয়ে বসে কাতার। ডান দিক থেকে সাজানো আক্রমণে ডিয়াংয়ের গোলে ফের দুই গোলের লিড ফিরে পায় সেনেগাল।
এরপর একাধিক আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চালায় দু’দল। শেষ পর্যন্ত আর কোন গোল না হলে ৩-১ গোলের ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সেনেগাল।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার নবুখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হৃদয় মন্ডল। আগে স্কুলে গেলে ক্লাস করেই বাড়ি ফিরতে হতো তাকে।
সে বললো, ‘বন্ধুদের নিয়ে খেলার মত মাঠ ছিল না। মাঠ না থাকায় বন্ধুদের সাথে খেলতেও পারতাম না। এখন আমাদের খেলার মাঠ হওয়ায় বন্ধুদের সাথে মোড়গ লড়াই, ফুটবল, গোল্লাছুট, কানামাছি খেলতে পারি। তাই স্কুলে এসে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা করতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত।’
শুধু হৃদয়ই না পড়াশোনার পাশাপাশি খেলার পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় আনন্দিত উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের ৩৩টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার অনেক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ ছিল না। আর যেসব বিদ্যালয়ে মাঠ ছিল, সেগুলোও ছিল খেলাধুলার অনুপযোগী। খেলাধুলার মাঠ ও পরিবেশ না থাকায় শারীরিক ও মানসিক বিকাশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল উপজেলার কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। কিন্তু শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ২০২০-২১ অর্থবছরে উপজেলার ২০টি প্রাথমিক ও ১৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ তৈরি ও সম্প্রসারণ করা হয়। ৩ কোটি ১১ লাখ ৪২ হাজার টাকা ব্যয়ে এসব মাঠ বালু দিয়ে ভরাট ও সম্প্রসারণ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। বালু ভরাটের পরে ওপরে মাটি দিয়ে খেলাধুলার উপযোগী করে তোলা হয়েছে।
গোপালপুর ইউনিয়নের রাখিলাবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্র আকাশ মন্ডল বলেন, আগে আমাদের বিদ্যালয়ে কোন মাঠই ছিল না। এর ফলে আমরা খেলাধুলা করতে পারতাম না। এখন মাঠ তৈরি হওয়ায় আমরা বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা করতে পারছি। এতে আমরা খুবই আনন্দিত।
গোপালপুর রাখিলাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হরিদাস বিশ্বাস বলেন, বিদ্যালয়টি নিচু জায়গায় হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয়ে পানি উঠে যেতো। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মাঠ না থাকায় খেলাধুলা করতে পারতো না। এ অবস্থায় পাঠদান করা গেলেও শিক্ষার্থীদের শারীরিক বিকাশ ঘটতো না। মাঠ তৈরির পর এখন শিক্ষার্থীরা খেলাধুলাও করতে পারছে। এতে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটবে।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় সফরে টুঙ্গিপাড়া এসে জানতে পারেন অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার কোন পরিবেশ নেই। তখন তিনি দ্রুত মাঠ তৈরি করে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার উপযোগী করে তুলতে নির্দেশ দেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দের টাকা দিয়ে ৩৩টি বিদ্যালয়ের মাঠ তৈরি ও সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়। খেলাধুলার মাঠ পেয়ে প্রতিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ব্যাপক আনন্দিত।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন বলেন, মানসম্মত শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক বিকাশ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে বিদ্যালয়ের মাঠ তৈরি ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতে দৈনন্দিন পাঠক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলার মাঠ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

১০ দিন আগে মুক্তি পণ আদায় করতে অপহরণ করা হয় সাত বছরের শিশু আলিনা ইসলাম আয়ানকে। এ সময় চিৎকার করায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় তাকে। পরে তার লাশ গুম করতে ছয় টুকরো করে ফেলে দেয়া হয় বেড়িবাঁধে।
এ ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে ঘটনার অভিযুক্ত আবির আলীকে গ্রেফতার করে খুনের রহস্য উম্মোচন করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার ইপিজেড এলাকার আলী রোডের বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার নাঈমা সুলতানা বলেন, মুক্তি পণ আদায় করতে গত ১৫ নভেম্বর শিশু আয়ানকে অপহরণ করে আবির। তবে আয়ান চিৎকার করায় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে লাশকে ছয় টুকরো করে দুটি ব্যাগ ভর্তি করে বেড়িবাঁধ এলাকায় নদীর পাশে ফেলে রাখ হয়। ওই শিশুর নিখোঁজের পর আশপাশের সিসিটিভি’র ফুটেজ পর্যালোচনা করে আবিরকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই শিশুর খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা বটি এবং এন্টিকাটার।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ নভেম্বর ইপিজেড থানাধীন বন্দরটিলা এলাকায় আরবি পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হন আয়ান। এ ঘটনার পর ইপিজেড থানায় সাধারণ ডায়েরী করে তার বাবা সোহেল রানা।
মনে হচ্ছিল আরেকটি ম্যাড়ম্যাড়ে ম্যাচ। নব্বই মিনিটের বেশি সময় ধরে একের পর এক গোলের চেষ্টা করে গেছে দুই দল। কোনোটি পোস্টে লেগে ফিরেছে, কোনোটি অফসাইডে বাতিল। কিন্তু সব রোমাঞ্চ জমা হয়েছিল যেন শেষমুহূর্তের জন্য। যোগ করা সময়ে ওয়েলসের জালে ঝড় তুলল ইরান, তিন মিনিটের ব্যবধানে এলো ২ গোল। ৯৭ মিনিট পর্যন্ত ০–০ স্কোরলাইনের ম্যাচ শেষের নাটকীয়তায় শেষ হলো এশিয়ান দলটির অনুকূলে– ইরান ২, ওয়েলস ০।
বিশ্বকাপে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে এটিই ইরানের প্রথম জয়।
এ জয়ে শেষ ষোলোয় ওঠার আশা টিকে রইল ইরানের। আগের ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ড্র করা ওয়েলস ইরানের কাছে হেরে অনেকটাই বিদায়ের পথে।
আহমেদ আলী বিন স্টেডিয়ামের ম্যাচটি দুই দলের জন্যই ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর। গ্যারেথ বেলের পেনাল্টি গোলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনোমতে ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল ওয়েলস। আর ইরান তো ইংল্যান্ডের কাছে ৬-২ গোল বিধ্বস্তই হয়েছে। শেষ ষোলোর আশা টিকিয়ে রাখতে দ্বিতীয় ম্যাচে জয় দরকার ছিল দুই দলেরই।
তবে বেশি তেতে ছিল যেন ইরানই। একে তো প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়ার দুঃস্মৃতি। তার ওপর ইরানজুড়ে চলা নারী অধিকার আন্দোলনের পক্ষে নিয়ে প্রথম দিন জাতীয় সঙ্গীতে কণ্ঠ না মেলানো নিয়ে নানামুখী চাপ।
ওয়েলসের বিপক্ষে আজ যেন সবই ভুলে যেতে নেমেছিল ইরান। প্রথম ম্যাচের শুরুর একাদশ থেকে পাঁচ বদল আনেন কোচ কার্লোস কুইরোজ। চোটাক্রান্ত গোলকিপার আলীরেজা বেইরানভন্দের বদলি নিশ্চিতই ছিল, তবে কুইরোজ পরিবর্তন আনেন রক্ষণ আর আক্রমণভাগেও। আলী গলিজাদেহ, মেহদি তারেমির সঙ্গে আক্রমণভাগে শুরু করেন সরদার আজমুন। প্রথম দুজন শুরু থেকেই ওয়েলস ডি বক্সে বারবার হানা দিতে থাকেন বারবার।
গোলের সেরা সুযোগটি প্রথম তৈরি করে অবশ্য ওয়েলস। ১২ মিনিটে ডান দিক থেকে কনর রবার্টসের ক্রস নাগালে পেয়ে গিয়েছিলেন কেইফার মুর। পা-ও ছোঁয়ান সময়মতো। তবে ঠিক সামনেই দেয়াল হয়ে দাঁড়ান ইরান গোলকিপার হোসেইন হোসেইনি। চার মিনিট পরই পাল্টা আক্রমণে ওয়েলসের জালে বল জাড়িয়ে দেন গলিজাদেহ। তবে ভিএআর চেকে সেটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। এরপর কিছুটা সময় বল দখলে রাখার মন্ত্রে খেলে যায় দুই দল।
প্রথমার্ধের শেষদিকে আবারও গা-ঝাড়া দিয়ে ওঠে ইরান। আজমুন, গলিজাদেহ, আহমেদ নুরুল্লাহিরা ভীতি ছড়াতে থাকেন ওয়েলস রক্ষণে। নুরুল্লাহির ক্রস থেকে দারুণ এক সুযোগও পেয়ে গিয়েছিলেলন আজমুন। তবে ওয়েলস ডিফেন্ডারদের কড়া পাহারায় কয়েক ইঞ্চির জন্য বলে পাঁ ছোঁয়াতে পারেননি লেভারকুসেন ফরোয়ার্ড।
প্রথমার্ধের এই ছন্দটাই দ্বিতীয়ার্ধেও ধরে রাখে ইরান। বিরতির পর সপ্তম মিনিটে আধা মিনিটের মধ্যে দুইবার গোলের সুযোগ তৈরি করে এশিয়ান দলটি। প্রতি-আক্রমণে উঠে ওয়েলস ডি বক্সের বাইরে থেকে শট নিয়েছিলেন আজমুন। জোরালো গতির শটটি ডান পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বল নিয়ে ওয়েলস ডি বক্সের আশপাশে ঘোরাঘুরির কিছুক্ষণ পর আবার গোলমুখে শট নেন গলিজাদেহ। এবার বল লাগে বাম পোস্টে। দুটির যে কোনো একটিও সামান্য ভেতরে থাকলেই চলে যেত জালে।
পরের সেরা সুযোগটি আসে ৭৩ মিনিটে। জটলার মাঝ দিয়ে পাঠানো সাইয়িদ এজতোলাহির শটটিও ছিল জালে ঢোকার পথে। প্রতিহত করতে ওয়েলস গোলরক্ষক ঝাঁপ দেন বা দিকে। বল তার হাতে লাগার পরও পোস্টের সামান্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়।
তখন মনে হচ্ছিল দিনটি আজ ইরানের নয়। ৮৬ মিনিটের মাথায় লাল কার্ড দেখেন ওয়েলস গোলকিপার হেনেসি। আক্রমণে ছুটে আসা তারেমিকে থামাতে গিয়ে পা তুলে দেন ইরান ফরোয়ার্ডের গায়ের উপরে। প্রথমে হলুদ কার্ড দেখালেও রিপ্লে দেখে লাল কার্ড দেখান রেফারি।
কাতার বিশ্বকাপে এটিই প্রথম লাল কার্ড। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের পর এই প্রথম সবগুলো দল প্রথম ম্যাচ খেলে ফেলার পর লাল কার্ড দেখলেন কেউ।
দশ জনে পরিণত হওয়ার পর রক্ষণে মনোযোগী হয়ে পড়ে ওয়েলস। তবে গোল পোস্ট অক্ষত রাখতে পারেনি।
যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে জটলার ভেতর দিয়ে নিচু শট নেন ইরান ডিফেন্ডার রুজবেহ চেশমি। ঝাঁপিয়ে পড়েও নাগাল পাননি বদলি গোলরক্ষক ড্যানি ওয়ার্ড। অনেক চেষ্টার পর একবার গোলমুখ খোলার পর দ্বিতীয় গোলটিও পেয়ে যায় ইরান। তারেমির কাছ থেকে পাওয়া বলে এবার বল জালে জড়ান ডিফেন্ডার রামিন রেজাইয়ান।
গ্রুপের শেষ ম্যাচে ইরানের প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র, ওয়েলস খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
কাতার বিশ্বকাপের ১৭তম ম্যাচে এসে প্রথম লাল কার্ড দেখা গেল। ইরান এবং ওয়েলসের মধ্যকার আজকের (২৫ নভেম্বর) ম্যাচে এসে লাল কার্ড দেখাতে বাধ্য হলেন রেফারি। লাল কার্ড হজম করেছেন ওয়েলসের গোলরক্ষক ওয়েইন হেনেসি।
ইরানের বিপক্ষে দারুণ স্নায়ুক্ষয়ী এক ম্যাচ খেলেছে ইউরোপের দেশ ওয়েলস। দুই দলই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দারুণভাবে লড়ছে পুরো ম্যাচজুড়ে।
এই ম্যাচের শেষ দিকে খেলার ৮৬তম মিনিটে কাতার বিশ্বকাপের প্রথম লাল কার্ড বের করতে বাধ্য হয় রেফারি। এই সময় ইরানের একটা আক্রমণ ঠেকাতে ডি-বক্স থেকে বেরিয়ে আসেন ওয়েলসের গোলরক্ষক হেনেসি। এই সময় ইরানের স্ট্রাইকার তারেমির সঙ্গে সংঘর্ষ হয় এই গোলরক্ষকের।
পরবর্তীতে ভিএআর দেখে রেফারি এই গোলরক্ষককে লাল কার্ড দেখাতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে আরেক গোলরক্ষক ড্যানি ওয়ার্ডকে নামান ওয়েলস কোচ। উঠিয়ে দেওয়া হয় অ্যারন রামসেকে।