দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দৃপ্ত শপথে নারায়ণগঞ্জ জেলায় রূপগঞ্জ উপজেলায় আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালন করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে আজ শুক্রবার(০৯ ডিসেম্বর) সকাল ১২ টায় রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। দেশের এই অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে দূর্নীতি রোধ করতেই হবে। শুধু আর্থিক অনিয়মই নয়, দায়িত্বে অবহেলাও দুর্নীতি। আমাদের সবাইকে দুর্নীতির বিরদ্ধে সেচ্চার হতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) কামরুল হাসান মারুফ সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শাহজাহান ভূঁইয়া।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দা ফেরদৌস আলম নীলা,দুনীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য আসমা আক্তারসহ আরো অনেকে।
আলোচনা সভার পড়ে উপজেলা ভবন চত্বরে রেলি করে থাকে।
কুয়াকাটায় দুর্ভোগে-শীতে কষ্ট করে দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে সাগরপারের উচ্ছেদে ক্ষতিগ্রস্থ প্রায় ৬ শতাধিক পরিবার। কনকনে ঠান্ডা বাতাসে এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশুসহ বৃদ্ধরা। মাত্র কয়েকদিন আগে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে দুই কিলোমিটার পুর্বদিকে বেরিবাঁধের বাহিরে এসব পরিবারের বসত ভিটা উচ্ছেদ করেন জেলা প্রশাসন। এর ফলে তাদের মাথা গোজার ঠাইটুকু হারিয়ে তারা অসহয় দূর্বিসহ জীবন যাপন করছেন। এসব ক্ষতিগ্রস্থরা দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানান।
শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে ঘুরে দেখা যায়, কারো ভিটের উপর শুধু একটি চকি পাতা রয়েছে। এর উপর একটুকরো পলিথিন দিয়ে মাথা গোজার ঠাঁই তৈরী করেছে অনেকে। আবার কেউ পুরানো ছিরা কাঁথা টাঁঙিয়ে ছাপরা দিয়েছেন। এমন দৃশ্য দেখে মনে হয়েছে কুয়াকাটার পাঞ্জুপাড়া গ্রামে বড় কোন দূর্যোগে এদের সবকিছু কেড়ে নিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানা যায়, প্রতিবছর বর্ষায় , উত্তাল ঢেউ আর ঝড় জলেচ্ছ¡াসে ভাঙ্গে সৈকত ও ঝাউ বন। এ ভাঙ্গন থেকে কুয়াকাটাকে রক্ষা করতে নির্মান হচ্ছে উপকূলীয় বাঁধ। তাই সৈকত ও বাঁধ মূল অংশে এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করেছেন প্রশাসন। এদিকে গেছে, অবৈধ নির্মান দোকানপাটসহ স্থাপনা সরিয়ে নিতে আগে-ভাগেই নোটিশ দেয়া হয়েছে।
৭৫ বছর বয়সি আনোয়ারা বেগমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বাবারে রাইতে নিশিরে ভিজি আর দিনে রৌদে পুড়ি। এই পোড়া কপাল, মোগো জাগা জমি নাই, এইয়ার মধ্যেই থাহি। কয়দিন আগে ঘর দুয়ার ভাইঙ্গা দেছে। একই এলাকার জেলে বধু তিন সন্তানের জননী সালমা বেগম বলেন, তার স্বামী বাচ্চু কাজী। সাগরে অন্য জেলেদের সাথে জাল বায়। উচ্ছেদের কবলে তার স্বপ্নের সাজানো ঘরটি ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। এরপর থেকেই সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। ওগো ঠান্ডা লাইগ্যা গ্যাছে।
সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলর মো. আর্শাব শিকদার বলেন, উচ্ছেদে ক্ষতিগ্রস্থরা খুবই কষ্টে রয়েছে। এদের দিকে সরকারের জরুরীভাবে নজর দেয়া উচিত।
কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হাওলাদার বলেন, যাদের উচ্ছেদ করেছে তারা বেশীরভাগই ভূমিহীন। এরা জেলে, দিনমজুর। কারো ঘর নেই, রান্না করার জায়গা নেই। তারা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে। এ উচ্ছেদে সবচেয়ে বড় বিপদে রয়েছে নারী ও শিশুরা। তিনি ব্যক্তিগত ভাবে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে সহায়তা করেছেন এবং তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে রান্না করা খাবার পৌঁছে দিয়েছেন বলে জানান।
পটুয়াখালী-৪(কলাপাড়া-মহিপুর-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মহিবুর রহমন মহিব এমপি জানান, এসব মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে এরই মধ্যে ভূমিহীনদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। প্রকৃত ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। তিনি নিজে ও এক ব্যবসায়ি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর মঝে কম্বল বিতরন ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেছে এবং উচ্ছেদে এসব ক্ষতিগ্রস্থদের আরো সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, একটা সময় ছিল ঘুসখোর, সুদখোর ও দুর্নীতিবাজদের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ছিল না বললেই চলে। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই মূল্যবোধ হারিয়ে যেতে বসেছে। এখন শহর, নগর ও গ্রামসহ সব জায়গায় যেন টাকাওয়ালাদের জয়জয়কার। অথচ সেই টাকা কীভাবে এলো, সৎ পথে নাকি অসৎ পথে এসব নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই।
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা অডিটোরিয়ামে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের রেকর্ড করা বক্তব্য প্রচার করা হয়।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দুর্নীতি বাংলাদেশের নয়, এটা বৈশ্বিক সমস্যা। দুর্নীতি সমাজে বৈষম্য তৈরি করে। বিকাশ ও উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে। আমি মনে করি, মানুষের মধ্যে দুর্নীতিবিষয়ক সচেতনতা তৈরি ও দুর্নীতিগ্রস্তদের শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে দুর্নীতি কমিয়ে আনা সম্ভব। এজন্য সামাজিক আন্দোলনের বিকল্প নেই।
টাকা সামাজিক মর্যাদার মাপকাঠি হয়ে ওঠেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনীতিবিদ, চাকরিজীবী, পেশাজীবী, কৃষক ও শ্রমিকরা সবাই যেন টাকার পেছনে দৌড়াচ্ছে। টাকা কীভাবে এলো সৎ পথে নাকি অসৎ পথে এসব নিয়ে ভাববার কারও ফুসরত নেই।
আবদুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশ সব সময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের শূন্য সহিষ্ণুতা বাস্তবায়ন দেশের সমৃদ্ধি এনে দেবে। দুর্নীতিবাজকে সহায়তা করাও দুর্নীতি। দুর্নীতি দূর করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
ছোট বা বড় সব দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে একই শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি করলে শাস্তি পেতে হয়, সমাজে এটা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দুর্নীতি দমনে দুদক কর্মকর্তা- কর্মচারীদের সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা অবলম্বন করতে হবে। সর্সের ভিতর ভূত যেন না থাকে, তাহলে দুদক জনগণের কাছে আস্থা হারাবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, দুর্নীতি হচ্ছে সামগ্রিক উন্নয়নের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ, যা একটি জাতির আর্থসামাজিক উন্নয়নসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে।
প্রধান বিচারপতি বলেন, পৃথিবীতে মানুষের অনেক চাহিদা থাকতে পারে, ধনের লোভ-লালসা মানুষকে অমানুষে পরিণত করে। আবার জ্ঞানের প্রতি লোভ-লালসা অমানুষকে মানুষে পরিণত করে। কোনো ব্যক্তি দুর্নীতিবাজ হয়ে জন্মায় না, পরবর্তীকালে তিনি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে পারে যুব সমাজ। দুর্নীতিবিরোধী আইনের যথাযথ ও নিরপেক্ষ ব্যবহার এবং প্রয়োগ, একই সঙ্গে অপরাধীদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক সময়োপযোগী আইনি ব্যবস্থায় দুর্নীতিমুক্ত হতে পারে দেশ। যত কঠিনই হোক দুর্নীতিকে শনাক্ত করতে হবে, প্রতিরোধ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনুউদ্দীন আবদুল্লাহ বলেন, জীবনযাত্রার মান উন্নত হলেও সমাজ-রাষ্ট্রে দুর্নীতি বিরাজমান। এতে প্রতীয়মান হয় যে, মানুষ অভাবে নয় বরং লোভ ও স্বভাগতভাবেই দুর্নীতি করে থাকে। যারা দুর্নীতি করে তাদের মধ্যে কোনো দেশপ্রেম আছে বলে দুদক মনে করে না। সামান্যতম দেশপ্রেম থাকলে কোনো ব্যক্তির পক্ষে দুর্নীতি করা সম্ভব নয়।
দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়া যায় না, দেশকে পিছিয়ে নেওয়া যায়। যারা দেশকে পিছিয়ে নেওয়ার কাজে জড়িত তারা কীভাবে দেশপ্রেমিক হতে পারেন। একজন দুর্নীতিবাজের পরিচয় শুধুই দুর্নীতিবাজ। একসময় দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে সমাজে বয়কট করা হতো। কিন্তু এখন মানুষের মর্যাদা নিরূপন হয় অর্থের মাপকাঠিতে। এ অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে এসে ‘দুর্নীতি করলে শাস্তি পেতে হবে এবং দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না’- এমন ধারণা সৃষ্টি করতে হবে।
এ লক্ষ্যে দুদক দেশের সব বিভাগ, জেলা, উপজেলায় সমাজের সর্বস্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ৫০২টি কমিটি করে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
দুর্নীতিবাজরা কৌশলী হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, তাদের আইনের আওতায় আনতে দুদক প্রশিক্ষত জনবল ও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তে গুরুত্ব আরোপ করেছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব
রাজধানীর বাইরে এসে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে গণশুনানির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে ৮নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম-এ গণশুনানির আয়োজন করা হয়। অনলাইন প্ল্যাটফরম জুমেও অনুষ্ঠানটিতে অংশ নেন অনেকে। অনুষ্ঠানে সরাসরি ৮ জন এবং অনলাইনে ৫ জন অভিযোগকারী কথা বলার সুযোগ পান। কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা অভিযোগকারীর প্রশ্নের উত্তর দেন।
গত ১৫ নভেম্বর থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে শুনানিতে অংশ নিতে বিটিআরসির ওয়েবসাইটে অভিযোগ নেওয়া হয়। গণশুনানিতে অংশে নিতে অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন ৮৪৮ জন, এর মধ্যে স্বশরীরে ১৮২ জন, অনলাইনে ৯৪ জন এবং অন্যান্য ১৭ জন অংশ নেন। তবে প্রশ্নোত্তর পর্বে মাত্র ১৩ জনকে সুযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগের বেশিরভাগই ছিল মোবাইল অপারেটরদের সেবার নানা দুর্বলতা নিয়ে।
প্রশ্নোত্তর পর্বে জাওয়াদুল করিম নামে বেসরকারি চাকরিজীবী গ্রাহক বলেন, তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানে একজন তথ্য কর্মকর্তা থাকার কথা। কিন্তু মোবাইল অপারেটরদের ওয়েবসাইটে এমন কোনো কর্মকর্তার তথ্য নেই। যার কারণে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। তাছাড়া তিনি সর্বনি¤œ মোবাইল রিচার্জ ২০ টাকার স্থলে পূর্বের নিয়মে ১০ টাকা করার দাবি জানান।
জবাবে বিটিআরসি’র সিস্টেমস এন্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ বলেন, নিজের তথ্য অপারেটরের কাছে জানা যাবে। তবে অপরের তথ্য দিতে অপারেটর বাধ্য নয়। রিচার্জ এর বিষয়ে বিটিআরসি পুনরায় বিশ্লেষণ করে যদি ১০ টাকা রিচার্জে গ্রাহক সাড়া মেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আবদুল্লাহ আল কায়সার নামের এক গ্রাহক নেটওয়ার্ক সমস্যা এবং ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ে নিয়মিত সমস্যার কথা জানান।
জবাবে ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড অপারেশন্স বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. এহসানুল কবীর বলেন, ইতোমধ্যে সকল অপারেটরদের বেশকিছু টাওয়ারের নেটওয়ার্ক দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং অপারেটরদেরকে সে সব টাওয়ারে নেটওয়ার্কের গতি বাড়াতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এসকে আবিদ হোসেন নামের এক গ্রাহক ফিশিং ট্রলারের লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে অনলাইনে আবেদন ও লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে ভোগান্তির কথা জানান। জবাবে বিটিআরসির পক্ষ থেকে এটি আরো সহজতর করার পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়।
মোহাম্মদ সায়েম নামে আরেক গ্রাহক বলেন, নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা রিচার্জ করলে অটোমেটিক ডাটা ও বান্ডেল ক্রয় হয়ে যায়। জবাবে সিস্টেম এন্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ এমন সার্ভিস চালুর আগে অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি কিভাবে যুক্ত করা যায় সেটা নিয়ে চিন্তা করা হচ্ছে বলে জানান।
আশিক চৌধুরী নামে এক শিক্ষার্থী টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন নতুন সেবা চালুর মাধ্যমে চাকরির ক্ষেত্র বাড়ানোর উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চান। জবাবে লিগ্যাল এন্ড লাইসেন্সিং বিভাগের কমিশনার আবু সৈয়দ দিলজার হোসেইন বলেন, বিশ্বে প্রতিনিয়তই নতুন নতুন প্রযুক্তি ও সেবা চালু হচ্ছে এবং বিটিআরসি’র লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান ও টেলিযোগাযোগ খাতের স্টেকহোল্ডার বাড়ার ফলে এ খাতে চাকরির সুযোগও বাড়ছে।
আইটি বিশেষজ্ঞ তৌহিদুল আলম চৌধুরী অ্যামেচার রেডিও লাইসেন্স চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে জবাবে স্পেকট্রাম বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল আউয়াল উদ্দীন আহমেদ নতুন করে অ্যামেচার রেডিও চালুর কথা জানান।
নাসিমুল হক নামে এক শিক্ষার্থী ডাটা শেষ হলে পে ফর ইউজ চালু হলে সাধারণ রেটে ইন্টারনেট সেবা চালুর বিষয়ে জানতে চান। জবাবে সিস্টেম এন্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ বলেন, গ্রাহকের স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই পে ফর ইউজ সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা করা হয়েছে। গ্রাহক চাইলে পে ফর ইউজ বন্ধ করার বিষয়টি নিয়ে পরিক্ষা করে দেখা হবে।
মুঠোফোন কাস্টমার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মহিউদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর শিকদার বলেন, মোবাইল অপারেটর ও গ্রাহকের বাইরেও পেছনে অনেকে কাজ করে। মাঝখান থেকে যারা সেবা দিচ্ছে তাদেরকেও আমরা জবাবদিহিতিার আওতায় আনছি।
অনুষ্ঠানে অনলাইনে জুমে কানেক্ট হয়ে প্রশ্ন করেন ওয়াসিফ বিল্লাহ, কামরান মুস্তফা, আমিনুল ইসলাম, তানিম খান ও ডা. ইমরান। ফাইভ জি চালু, এমএনপি সিম তিনমাস বন্ধ থাকলে পূর্বের অপারেটরে চলে যাওয়াতে সমস্যা, দুর্বল নেটওয়ার্ক, প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নোটিফিকেশন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।
গ্রাকদের প্রশ্নের জবাবে ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড অপারেশন্স বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. এহসানুল কবীর বলেন, সকল অপারেটর ফাইভজি চালুর কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু করেছে।
বন্ধ থাকা সিম বিক্রির ফলে নিরাপত্তা সমস্যার জবাবে সিস্টেমস এন্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ বলেন, সিম একটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ। রিপ্লেসমেন্ট এর আগে পত্রিকায় দিয়ে, ওয়েবসাইটে নোটিশ দিয়ে গ্রাহককে এ বিষয়ে অবগত করা হয় এবং সিম চালুর কথা জানানো হয়। গ্রাহক সাড়া না দিলে সেটি বন্ধ রিপ্লেস করা হয়।
বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর শিকদার বলেন, গণশুনানিতে যেসব অভিযোগ পাওয়া যায়, সেগুলো আমাদের পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণে সহায়ক হয়। ভুল ধরিয়ে দিলে কাজের সুযোগ হয়। বিটিআরসি সরাসরি কোনো সেবা দেয় না, রেগুলেট করে। রেগুলেটর হিসাবে আমাদেরও দায় আছে। গ্রাহকের সমস্যা জানার জন্য আমরা আজকে চট্টগ্রামে এসেছি। ২০৪১ সালের স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষমাত্রা নিয়ে বিটিআরসি কাজ করে যাচ্ছে। এ দেশ গঠনে সকলকে সহযোগিতা করতে হবে।
স্বাগত বক্তব্যে কমিশনের ভাইস-চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রতিটি গণশুনানি যেকোনা প্রতিষ্ঠানের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ায়। গ্রাহকদের অভিযোগ আমলে নিয়ে টেলিযোগাযোগ খাতে আরো কতটুকু উন্নয়ন করা যায় সে বিষয়ে কাজ করবে বিটিআরসি।
তিনি জানান, চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ইন্টারনেট গ্রাহক ১২ কোটি ৬২ লাখ, মোবাইল সিম গ্রাহক সংখ্যা ১৮ কোটি ১৬ লাখ এবং ইন্টারনেট ডেনসিটি ১০৪.১৭ ভাগ এবং নভেম্বর ২০২২ সাল ব্যান্ডউইথ তথা ডাটার ব্যবহার হয়েছে ৪,৪১৯ জিবিবিএস।
সিস্টেম এন্ড সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল এস এম রেজাউর রহমান এর সঞ্চলনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে কমিশনের লিগ্যাল এন্ড লাইসেন্সিং বিভাগের কমিশনার আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন, স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার প্রকৌশলী শেখ রিয়াজ আহমেদ, প্রশাসন বিভাগের মহাপরিচালক মো. দেলোয়ার হোসাইন, ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড অপারেশন্স বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. এহসানুল কবীর, লিগ্যাল এন্ড লাইসেন্সিং বিভাগের মহাপরিচালক আশীষ কুমার কুন্ডু, স্পেকট্রাম বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল আউয়ালউদ্দীন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব

সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় এ বছর পাঁচ জন বেগম রোকেয়া পদক পেয়েছেন। শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের হাতে পদক তুলে দেন। বেগম রোকেয়া দিবস ও বেগম রোকেয়া পদক প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রধান অতিথি হিসেবে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী পদক তুলে দেন।
নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রাখায় এ বছর বেগম রোকেয়া পদক বিজয়ী হলেন চট্টগ্রাম জেলার প্রফেসর কামরুন নাহার বেগম (অ্যাডভোকেট)। নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় বেগম রোকেয়া পদক বিজয়ী হলেন সাতক্ষীরা জেলার ফরিদা ইয়াসমিন (জন্মস্থান খুলনা), নড়াইল জেলার ড. আফরোজা পারভীন সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে নারী জাগরণের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় বেগম রোকেয়া পদক পেয়েছেন। পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় বেগম রোকেয়া পদক পেলেন ঝিনাইদহ জেলার নাছিমা বেগম। নারী শিক্ষায় বিশেষ অবদান রাখায় বেগম রোকেয়া পদক পেলেন ফরিদপুর জেলার রহিমা খাতুন।
পদক প্রাপ্তদের প্রত্যেককে আঠারো ক্যারেট মানের পঁচিশ গ্রাম স্বর্ণ নির্মিত একটি পদক, পদকের রেপ্লিকা, চার লাখ টাকার চেক ও সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব
শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস। ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ বিশ্ব’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে আনকাকভুক্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০ তম আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবসটি পালনের প্রস্তুতি নিয়েছে।
শুক্রবার সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটি উদ্বোধন করবেন দুদক চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন আব্দুল্লাহ। সকাল ৯টায় সেগুন বাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন আয়োজন করেছে সংস্থাটি।
মানববন্ধনে দুদকের কর্মকর্তা কর্মচারীদের পাশাপাশি সরকারি বেসরকারি পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারী, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন। বেলা ১০টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে দুদক, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
আর বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের ৮টি বিভাগ, ৬৪টি জেলা ও দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ৪৯৫ টি উপজেলায় বড় পরিসরে উদযাপন করা হবে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস।
জাতিসংঘ ২০০৩ সালে ৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস ঘোষণা করে। ইউনাইটেড ন্যাশনস কনভেনশন অ্যাগেইনেস্ট করাপশনের (আনকাক) মাধ্যমে দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। বাংলাদেশ ২০০৭ সাল থেকে সংস্থাটির সদস্য। তবে আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি উদযাপন শুরু করে ২০১৭ সাল থেকে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব