সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় মহান বিজয় দিবসে ফুল হাতে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে জনতার ঢল নেমেছে। শুক্রবার, ১৬ ডিসেম্বর প্রথম প্রহর থেকেই এ ঢল নামতে শুরু করে।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ফুল হাতে শহীদদের জন্য তৈরি বেদিতে শ্রদ্ধা জানাতে যান হাজারো মানুষ। আনন্দ উচ্ছ্বাসে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে স্মৃতিসৌধ এলাকা। বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে ভোর থেকেই শিশু-ছেলে-বুড়োসহ সব বয়সী মানুষ ছুটে আসেন সাভারে। শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারাও। তাদের অনেকের হাতে শোভা পাচ্ছে লাল-সবুজের পতাকা। পোশাকে লাল-সবুজের বাহারি উপস্থিতি, কণ্ঠে দেশের গান।
ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে শুরু হয় বিজয় দিবসের কর্মসূচি। সাড়ে ছয়টার পর রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তাদের চলে যাওয়ার পর স্মৃতিসৌধ এলাকা সর্বস্তরের মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এরপর ফুল হাতে জনতার ঢল নামে। ফুলে ফুলে ভরে ওঠে শহীদের স্মৃতির মিনার।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি দেশে ও দেশের বাইরে বসবাসকারী বাংলাদেশের সব নাগরিককে শুভেচ্ছা জানান।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি স্মরণ করেন জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামারুজ্জামানকে। শ্রদ্ধা জানান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদ এবং ২ লাখ নির্যাতিত মা-বোনের প্রতি। সালাম জানান অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যারা জীবনের মায়া ত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন।
একই সঙ্গে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকদের নির্মম বুলেটের আঘাতে নিহত বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবসহ সেই রাতের সকল শহিদকে গভীর বেদনার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিজয়ের এই দিনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাদানকারী বিভিন্ন দেশ ও সেসব দেশের জনগণ, ব্যক্তি এবং সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বীর সদস্য আমাদের মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হয়েছেন। তাদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি ভারতের তৎকালীন সরকার, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সর্বোপরি সাধারণ জনগণকে, যারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন জানিয়েছিলেন, শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছিলেন এবং নানাভাবে সহযোগিতা করেছিলেন।’
এবারের বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে সম্মিলিতভাবে সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেছেন, ‘সুখী-সমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন পূরণ করব।
সয়াবিন তেলের দাম লিটার প্রতি ৫ টাকা কমেছে। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮৭ টাকা। আগের দাম ছিল ১৯২ টাকা। তবে এই দাম ১৮ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি, মজুদ ও মূল্য পর্যালোচার পর দাম কমানোর বিষয়ে এই সিদ্বান্ত নেওয়া হয়।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬৭ টাকা। বর্তমানে বাজারে খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার ১৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৯২৫ টাকা থেকে ১৯ টাকা কমিয়ে করা হয়েছে ৯০৬ টাকা। খোলা পাম সুপার তেল লিটার প্রতি ৪ টাকা কমে ১২১ টাকা থেকে হয়েছে ১১৭ টাকা।