ডিজিটাল হাসপাতালে ভুতুড়ে বিল

0
200

কক্সবাজারের বেসরকারি ডিজিটাল হাসপাতালের বিরুদ্ধে ভুতুড়ে বিল বানিয়ে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে— অতিরিক্ত বিল ডাক্তারের জন্য নেওয়া হয়েছে। আর ডাক্তার বলছে— এসব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিষয় আমার বিল না। একজন অপরজনকে দুষছেন— দায় নিতে রাজি নয় কেউ।

অন্যদিকে অতিরিক্ত বিল আদায়ের একাধিক অভিযোগের পরও তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেই যেন দায় সারছেন কক্সবাজার সিভিল সার্জন।

অভিযোগ আছে, ডাক্তার ছাড়াই নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে শুধু ফোনকলের ফি হিসেবে ডাক্তারের বিল বানিয়ে ৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কক্সবাজার ডিজিটাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ঈদগড় থেকে চিকিৎসা নিতে আসা ছমিরা নামে এক ভুক্তভোগী জানান, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টায় ডেলিভারির জন্য ডিজিটাল হাসপাতালে ভর্তি হয়। সেখানে কোনো ডাক্তার না থাকায় নার্স আর ধাত্রীর মাধ্যমে স্বাভাবিক ডেলিভারি সম্পন্ন হয়। এর পর ছাড়পত্রের জন্য ক্যাশ কাউন্টারে বিল জমা দিতে গেলে হাসপাতালের চার্জ বাবদ ২ হাজার ২০০ টাকা এবং ডাক্তারের সঙ্গে ফোনে কথা বলার জন্য ১ হাজার এবং ফোনে পরামর্শের ফি ধরা হয় ৮ হাজার টাকা।

ডাক্তার ছাড়াই স্বাভাবিক বাচ্চা প্রসব করার পরও কেন এত টাকা ডাক্তারের বিল আসল জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ কোনো সদুত্তর দেয়নি। বরং টাকা না দিলে ছাড়পত্র দেবে না বলে জানান তারা। একপর্যায়ে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বললে ডাক্তার বলেন আমার বিল তো ১ হাজার, ৮ হাজার তো আমার বিল না। আপনারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।

এর পর হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিলে আমাদের কোনো হাত নেই, এগুলো সম্পূর্ণ ডাক্তারের টাকা। আপনি চাইলে দুই হাজার টাকা কম দিতে পারবেন। এর বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই।

এভাবেই কেঁদে কেঁদে বর্ণনা দিলেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিজিটাল হাসপাতালের ডা. ইফফাত সানিয়া জানান, আমি ডেলিভারির সময় ছিলাম, তার পরও আমার ফোনকল হিসেবে এক হাজার টাকা নিয়েছে। কিন্তু আট হাজার টাকার ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। হয়তো হাসপাতালের খরচ বাবদ নিয়েছে। এটি কর্তৃপক্ষের বিষয়।

অতিরিক্ত বিল আদায়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার ডিজিটাল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোয়েব ইফতেখার জানান, আমাদের হাসপাতালের বিল বাবদ ২২০০ টাকা আমরা নিয়েছি। অতিরিক্ত আট হাজার বিলটা ডাক্তারের জন্য নেওয়া হচ্ছে।

কিন্তু এই বিলের ব্যাপারে তো ডাক্তার কিছুই জানে বলেছে, এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, আপনাকে হয়তো বলেছে কিন্তু যদি এই বিলটা না দিই ডাক্তারকে ডিউটিতে যিনি ছিলেন তার বেতন থেকে কেটে নেবে।

সি সাইড হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল এবং সর্বশেষ ডিজিটাল হাসপাতালের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার সিভিল সার্জেন ডা. মাবুবুর রহমান বলেন, নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ না পেলে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব না। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here