এইচএসসিতেও উপজেলায় একমাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে প্রতিবন্ধী দীপা

0
318

২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলাকে একমাত্র জিপিএ-৫ উপহার দিয়েছিল শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী দীপা নন্দী। পিইসি এবং জেএসসি পরীক্ষাতেও তার ঝুলিতে জমা পড়েছিল জিপিএ-৫। ২০১৯ সালে পানছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেয় সে।

মাধ্যমিকের পর উচ্চ মাধ্যমিকেও ফের ঈর্ষান্বিত সাফল্য পেয়েছে শারীরিক প্রতিবন্ধী দীপা নন্দী। সব বাধা ছাপিয়ে আবারো বাজিমাৎ করেছে শারীরিক প্রতিবন্ধী দীপা নন্দী। সে ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় পানছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজের ব্যবসায়িক শিক্ষা শাখা থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। উপজেলায় সেই একমাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আর অভাব যেন কোনোভাবেই দমাতে পারেনি দীপা নন্দীকে। মামা-মামির অভাবের সংসারে আবারো জিপিএ-৫ এনে দিয়েছে অদম্য এ তরুণী। এসএসসির পর এবারো পুরো উপজেলায় এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পাওয়া একমাত্র শিক্ষার্থী দীপা নন্দী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মা মানসিক ভারসাম্যহীন। জন্মদাতা বাবা থেকেও না থাকার মতো। রাখেন না কোনো খোঁজখবর। ছোটবেলা থেকেই মামা-মামির অভাবের সংসারে বড় হয়েছেন। তাদের অনুপ্রেরণা ও উৎসাহে এ পর্যন্ত এসেছেন দীপা। সব বাধা ঠেলে স্বপ্নের পথ ধরেই ছুটে চলেছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী দীপা নন্দী। অভাবে পিছুটান থাকলেও চালিয়ে গেছেন পড়ালেখা। আর অধ্যবসায়ের ফলে বারবার ঈর্ষান্বিত সাফল্যও পেয়েছেন অদম্য এ শিক্ষার্থী।

দীপা নন্দীর এমন সাফল্যে উচ্ছ্বসিত তার মামি চুমকি বিশ্বাস বলেন, অদম্য অভিপ্রায় আর কঠোর অধ্যবসায়ই দীপার সাফল্যের নেপথ্য রহস্য। ভালো রেজাল্টের পর হতাশা বেড়েছে। যেখানে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা সেখানে তাকে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর মতো সামর্থ্য আমাদের কোথায়। তবে দীপাকে ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর জন্য বিত্তবানদের পাশে চান চুমকি বিশ্বাস।

কারো সহায়তা ছাড়া দীপার স্বপ্ন অধরাই রয়ে যাবে এমন শঙ্কা প্রকাশ করে মামা সঞ্জয় দাশ বলেন, স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে দীপা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পা বাড়াবে। দীপার ইচ্ছে ব্যাংকার হওয়ার। তবে তার স্বপ্ন পূরণে বড় বাধা আর্থিক অনটন।

পানছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সমীর দত্ত চাকমা জানান, দীপা নন্দী অত্যন্ত মেধাবী। শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও অত্যন্ত পরিশ্রমী। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর অধ্যবসায়ের ফলে সে বারবার সাফল্য ছুঁয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

দীপার উচ্চশিক্ষার জন্য সমাজের সুহৃদদের এগিয়ে আসার আহবান জানান জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান। তিনি বলেন, দীপার এমন সাফল্য একইসাথে আনন্দের, অনুকরণীয় এবং ঈর্ষান্বিত। সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে সে। আমরা সবসময় তার পাশে থাকব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here