পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) নিয়োগ বিতর্কে ৬০তম রিজেন্ট বোর্ডের সভা পণ্ড হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১১টার দিকে এ সভার আয়োজন করা হয়। পরে সভা শুরু হলে নিয়োগসহ বেশ কিছু বিষয়ে জটিলতা দেখা দিলে উপাচার্য প্রফেসর ড. এম রোস্তম আলী সভা স্থগিত ঘোষণা করেন।
এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপাচার্যকে তার কক্ষে আটকে রাখেন। এমতাবস্থায় আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি রিজেন্ট বোর্ড সভার নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় উপাচার্যের কক্ষে ৬০তম রিজেন্ট বোর্ডের সভা শুরু হয়। এ সভায় কিছু রুটিন বিষয় ছাড়াও ২০-৩০ জন নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনুমোদনসহ প্রায় একই সংখ্যক শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর আপগ্রেডেশন অনুমোদন হওয়ার কথা ছিল। কিন্ত নতুন নিয়োগ নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় উপাচার্য দুপুর ১২টার দিকে সভা বাতিল ঘোষণা করেন।
বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. আ. আলিম গণমাধ্যমকে বলেন, সভা বাতিল হওয়ায় শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপাচার্যকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
পাবিপ্রবির প্রক্টর ড. হাসিবুর রহমান বলেন, কিছু বিষয় নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় সভা বাতিল করা হয়। উপাচার্য অবরুদ্ধ হওয়ার মত কোনো ঘটনা ঘটেনি। একটি চক্র আগে থেকেই উপাচার্যের বিরুদ্ধে লেগে আছে। তারা এটিকে অতিরঞ্জিত করছে। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি পুনারায় সভার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. বিজন কুমার বহ্ম জানান, অর্ধশতাধিক নিয়োগ, আপগ্রেডেশন ও শিক্ষকদের এমফিল পিএইচডি অনুমোদনের দাবি ছিল কর্মকর্তা-কর্মচারিদের। উপাচার্য নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি। সভা স্থগিত হওয়ায় আপগ্রেডেশন প্রত্যাশি কিছু শিক্ষক-কর্মচারী ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। তারা দাবি আদায়ের জন্য উপাচার্য কক্ষের সামনে সমবেত হন।
তিনি জানান, বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত আলাপ আলোচনা চলছিল।
রিজেন্ট বোর্ড সদস্য ও পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু জানান, রিজেন্ট বোর্ড সভায় বেশ কয়েকজন সদস্য ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন। উপাচার্য সভা বাতিল ঘোষণার পর তিনি সভাস্থল থেকে চলে আসেন। কিন্ত পরে হট্টগোলের খবর পেয়ে ক্যাস্পাসে যান এবং উপাচার্য সঙ্গে আলোচনা করার পর ২৪ ফেব্রুয়ারি রিজেন্ট বোর্ডের নতুন সভার তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) উপাচার্য ড.এম রোস্তম আলী জানান, রিজেন্ট বোর্ডের ৬০তম এ সভায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক তিনি রুটিন কাজ করেছেন। নিয়োগ বা অন্যান্য কোনো বিষয়ে আলাপ আলোচনা হয়নি।
তিনি আরও জানান, তাকে অবরুদ্ধ করা হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই কাজকর্ম করছেন।


