কয়েক দিনের শৈত্যপ্রবাহের পর আজ বুধবার দেশের একাধিক অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে গতকালই অনেক জেলায় কমেছে শৈত্যপ্রবাহের মাত্রা, যা আজ থেকে আরো কমবে।
আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম গত রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কিছু জায়গায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী দুই দিনে এই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরো বাড়বে।
বিজ্ঞাপন
তবে শীত আগের চেয়ে কমবে। ’
গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা অথবা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকা ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, নওগাঁ ও মৌলভীবাজার জেলা, রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা কিছু জায়গায় প্রশমিত হতে পারে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে এবং সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
আগামী দুই দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়ার কথা বলা হয়েছে। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৭.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে কুড়িগ্রামে অত্যধিক ঠাণ্ডায় কাজ করতে পারছেন না কৃষি শ্রমিকরা। গতকাল সদর উপজেলার পলাশবাড়ী, রাজারহাটের পূর্ব দেবোত্তর ও দেবালয় গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, বোরো চাষের উপযোগী অনেক জমি এখনো খালি পড়ে আছে। কোথাও কোথাও সেচ দেওয়া হচ্ছে। কেউ জমির আল কেটে প্রস্তুতি নিচ্ছেন চাষের। বীজতলা থেকে চারা তুলছেন কেউ কেউ। নিচু এলাকায় চারা লাগানো হলেও চারার বৃদ্ধি নেই।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পলাশবাড়ী গ্রামের কৃষি শ্রমিক আকবর আলী বলেন, ‘ঠাণ্ডাতে বিজন তোলা যায় না। হাত-পাও টাটায়। থিতে পায়না হাত। জ্বর আইসে। দুই দিন কাম করলে চার দিন করা যায় না। তার পরও কষ্ট করি কাম করি। ’
বরগুনার আমতলীতে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের প্রভাব পড়েছে পান চাষে। এরই মধ্যে পানের বরজে বিভিন্ন ছত্রাকজাতীয় রোগ দেখা দিয়েছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন উপজেলার হাজারো পান চাষি।
সরেজমিনে উপজেলার গুলিশাখালী, কুকুয়া, আঠারোগাছিয়া, হলদিয়া, চাওড়া, আমতলী ও আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বেশ কয়েকটি পানের বরজে ঘুরে দেখা গেছে, ঘন কুয়াশায় পানপাতা হলুদ বর্ণ হয়ে পচন ধরে তা ঝরে পড়েছে।
পান ব্যবসায়ী নির্মল চন্দ্র জানান, পান পাতা হলুদ বর্ণের হয়ে যাওয়ার কারণে পাইকাররা পান কিনতে চান না। এ কারণে বাধ্য হয়ে চাষিরা কম দামে পান বিক্রি করছেন। কৃষি বিভাগ ছত্রাকনাশক ওষুধ ব্যবহারের জন্য পান চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছে।


