সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের দাবিও করেছে শাখা ছাত্রদলের শীর্ষপদপ্রত্যাশী একটি অংশ। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কর্মসূচির অংশ হিসেবে কর্মসূচিটি পালন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জানান, দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বাসস্ট্যান্ডের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। এরপর শাঁখারী বাজার মোড়, ঢাকা জেলা জজ আদালত এবং ঢাকা মহানগর আদালতের সামনের সড়ক দিয়ে এসে রায় সাহেব বাজার মোড়ে শেষ হয়।
মিছিলে নেতৃত্ব দানকারী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক প্রার্থী মেহেদী হাসান হিমেল জানান, দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ এখন সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। শাবিপ্রবির ঘটনা অন্যতম দৃষ্টান্ত।
এসময় কর্মসূচিতে অংশ নেন ছাত্রনেতা সাইফুল হক, নাহিদ চৌধুরী, রফিকুল ইসলাম, নাছিম উদ্দিন, ওয়াহিদুজ্জামান তুহিন, শাহরিয়ার হোসেন, জামাল সাগর, নূরনবী, জাহিদ, তৌহিদ চৌধুরী, হাসিব, রাকিব হাসান, শরিফ, মনির হোসেন প্রমুখ।
এদিকে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনরত সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন সিলেটের বিএনপি নেতারা।
বিকালে মহানগর বিএনপির আহবায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকীর নেতৃত্বে সংহতি প্রকাশ করতে যান নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মিফতাহ সিদ্দিকী, যুগ্ম আহবায়ক এমদাদ হোসেন, সালেহ আহমদ খসরু, রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ কয়েকজন। তারা সেখানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন।
এদিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে সিলেট নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করে মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রদল। বৃহস্পতিবার নগরীর সুবিদবাজার এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে বক্তব্য রাখেন- কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক মোক্তার আহমদ মোক্তার, সদস্য সচিব মকসুদুল করিম, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক কামরান উদ্দিন অপু, নাজিব আহমদ ও বেলাল আহমদ, ফাহিম আহমদ শাকিল, কাজী ইমরান তালুকদার, ইমামুল হক হোসেন, মো. সুহেল আহমদ ও সদস্য মো. রায়হান আহমেদ, জিবরান আহমদ ও ফাহিম উদ্দিন।
এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি রাত থেকে সিরাজুন্নেছা ছাত্রী হলের প্রভোস্টের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে ছাত্রীরা আন্দোলন শুরু করেন। এর এক পর্যায় ১৬ জানুয়ারি দাবি আদায়ে ছাত্রীরা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে। এরপর পুলিশ উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। শিক্ষার্থীরাও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।


