নতুন রপ্তানি নীতিতে আট হাজার কোটি (৮০ বিলিয়ন) ডলার পণ্য রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২১-২০২৪-এই তিন অর্থবছরের রপ্তানি নীতিমালায় এ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
এর আগের রপ্তানি নীতিমালায় এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার কোটি ডলার। এখনো সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি।
বুধবার অর্থনৈতিক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়া পৃথক বৈঠকে ১০ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩টি ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
ভার্চুয়াল দুটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন আর বেশি হওয়ার আশঙ্কা নেই। জ্বালানি তেলের দাম কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করবে সরকার।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৪ সাল পর্যন্ত রপ্তানির একটি নীতিমালা আমরা অনুমোদন দিয়েছি। রপ্তানি লক্ষ্য বাড়ানোর পাশাপাশি বেশকিছু নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন নীতিতে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের কৌশল গ্রহণ করে রপ্তানি বাণিজ্য কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কর্মকৌশল নিয়েও বিস্তারিত পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া রপ্তানি পণ্য উৎপাদনে টেকসই নীতিকৌশল গ্রহণে উৎসাহিতকরণ, আইসিটি ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজসহ অন্যান্য সেবা খাতসহ রপ্তানিমুখী সব খাতে একইভাবে নীতিসুবিধা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নারী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের রপ্তানিতে সম্পৃক্ততা বাড়ানো, ব্যবসা ও বিনিয়োগ সহজীকরণে বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
ওই বৈঠকে জ্বালানি তেলের দাম কমানো প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে। আমার বিশ্বাস, যখন যা করা দরকার, সরকার অবশ্যই করবে। আপনারা জানেন, জ্বালানি তেলের দাম কতটা ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এখন আমরা নিুমুখী দেখতে পাচ্ছি। আমার বিশ্বাস, সরকার সেটি বিবেচনা করবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, এ মুহূর্তে মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ট্র্যাপের মধ্যে পড়াটা আমাদের জন্য কার্যকর নয়। ২০৪১ সাল পর্যন্ত আমরা যে পরিকল্পনা করেছি, সেখানে বাৎসরিক আমাদের প্রক্ষেপণ এবং বাস্তবায়ন সবকিছু উল্লেখ করা আছে। আমি মনে করি, অন্যদের সঙ্গে আমাদের মেলানো যাবে না।
মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধিসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের কিছু ডিফারেন্স (পার্থক্য) আছে, সেটি আমরা স্বীকার করি। যেহেতু রপ্তানি বাড়ছে, আমদানিও বাড়ছে। আমদানির জন্য সেখানে ফিন্যান্সিং করা লাগে। তাই মার্কেট ওঠানামা করবেই। সেটা অনেক বেশি ওঠানামা দেখতে পারব না। আমাদের এখানে ডলারের রেট বেশি বাড়ার আশঙ্কা নেই।’
সভা শেষে অনুমোদিত ক্রয়প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আরেফিন। তিনি বলেন, ২০২২ সালের (জানুয়ারি-জুন) সময়ের জন্য পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির একটি ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এর মধ্যে ১৪ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল প্রিমিয়াম ও রেফারেন্স মূল্যসহ ৮ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে ৯০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হবে। ব্যয় হবে ৫১২ কোটি টাকা। এছাড়া রংপুর, নাটোর, জামালপুর, ময়মনসিংহ এবং ঢাকা, খুলনা, গোপালগঞ্জ, বরিশালে আইটি/হাইটেক পার্ক স্থাপন করা হবে, এতে মোট ব্যয় হবে ১২০৫ কোটি টাকা।
‘বাপবিবোর বৈদ্যুতিক বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও ক্ষমতাবর্ধন (খুলনা বিভাগ)’ প্রকল্পের আওতায় ৩২ হাজার ৪০০টি এসপিসি পোল কেনা হবে। এতে ব্যয় হবে ৩১ কোটি টাকা। একই প্রকল্পের আওতায় ৩২ হাজার ৩৯৬টি এসপিসি পোল কেনার আরও ক্রয়প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এতে ব্যয় হবে ৩১ কোটি টাকা। এছাড়া ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩ হাজার ৪০টি ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
পুরোনো ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তুলাই এবং পুনর্ভবা নদীর নাব্যতা উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার’ প্রকল্পের নদী খননকাজের অনুমোদন দেওয়া হয়। মোট ব্যয় হবে ১১৪ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য দুইটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাগবোট ক্রয় করা হবে। এতে ব্যয় হবে ১৮৮ কোটি টাকা। আর মোংলা বন্দরের জন্য ২টি টাগবোট ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সেবা ক্রয় করা হবে। ব্যয় হবে প্রায় ২২৩ কোটি টাকা।


