এমভি অভিযান-১০ এ অগ্নিকাণ্ডে ৪১ যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় লঞ্চ মালিক মো. হাম জালাল শেখের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এতে আরও ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
রোববার সকালে বরগুনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন বরগুনা বারের সদস্য আইনজীবী ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাজমুল ইসলাম। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ মাহবুব আলম মামলাটি গ্রহণ করে বরগুনা থানার ওসিকে এজাহার গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। লঞ্চের মালিকের ঠিকানা দেখানো হয়েছে সূত্রাপুর, পুরাতন ঢাকা।
এ মামলায় ছয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ আল মুজাহিদ ও অ্যাডভোকেট এমডি আনিসুর রহমান। তারা ওই লঞ্চে ছিলেন।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার সময় ঝালকাঠির সুগন্ধার সন্নিকটে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে আগুন লাগে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৪১ জন মৃত্যুবরণ করেন। অসংখ্য যাত্রী আগুনে পুরে বরিশাল ও ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বরগুনায় ৩৭ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়।
শুক্রবার বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান ঝালকাঠি থেকে পোড়া লাশ গ্রহণ করেন। এরপর ১০টি লাশ শনাক্ত করে তাদের স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করেন। বাকি ২৩টি বেওয়ারিশ লাশ বরগুনার পোটকাখালী গণকবরে দাফন করেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, বৃহস্পতিবার ঘটনার দিন লঞ্চটিতে আগুন লাগার পরে ভাসতে ভাসতে ঝালকাঠি জেলার কলাবাগান এলাকার কিনারায় পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিস ও ঝালকাঠি প্রশাসনের লোকজন আসিয়া কতিপয় যাত্রীদের দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করিয়া ঝালকাঠি জেনারেল হাসপাতালে এবং বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়। প্রায় অর্ধশতাধিক মৃতদেহ উদ্ধারের পর শনাক্তকৃত কিছু লাশ স্বজনদের নিকট বুঝিয়ে দেন বাকি লাশ বরগুনা জেলা প্রশাসক বরাবরে হস্তান্তর করেন।
ঘটনার সময় হতে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও আসামি স্বয়ং অথবা তার কোনো প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে স্বজন হারানো অভিভাবকদের শান্তনা পর্যন্ত প্রদান করেননি। আসামিপক্ষ বেপরোয়াভাবে লঞ্চ চালায়, ভাড়ার জন্য নিরাপত্তাহীন, অতিরিক্ত বোঝাইকৃত লঞ্চ জলপথে লোক বহন করে, অগ্নি বা দাহ্য বস্তু সম্পর্কে ত্রুটি রেখে, বিস্ফোরক পদার্থ ও যন্ত্রপাতি সম্পর্কে ত্রুটি রেখে অবহেলা ও বেপরোয়া যান চালানোর মাধ্যমে শত শত যাত্রীদের মৃত্যু ঘটানোর অপরাধ করেছেন। এ মৃত্যুর জন্য লঞ্চ মালিক নিজে দায়ী।
মামলার বাদী যুগান্তরকে বলেন, মালিক যদি লঞ্চের ইঞ্জিন ত্রুটি সেরে এবং আগুন নেভানোর যন্ত্রপাতি রাখতেন; তাহলে এত মানুষের মৃত্যু আহত ও যান মালের ক্ষতি হত না। লঞ্চের অধিকাংশ যাত্রী বরগুনার। এ কারণে আমি একজন জনপ্রতিনিধি হিসাবে জনস্বার্থে মামলা করেছি।
মামলার আইনজীবী সাইফুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, কোর্টে যখন মামলা করি তখন বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট বলেছেন লঞ্চ চালকরা দ্রুত যে কোনো কিনারে ভিড়াতে পারতেন। যদি লঞ্চ কিনারে ভিড়াতো তাহলে এত লোকের প্রাণহানি হত না। আদালতে আদেশে বরগুনাবাসী খুশি হয়েছেন।


