কারা পরিকল্পনাকারী, অর্থ ও অস্ত্রের জোগানদাতা

0
282

কুমিল্লায় কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেলসহ দুজনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার নেপথ্যে কারা অর্থ ও অস্ত্রের জোগানদাতা। কারা চালিয়ে গেলেন এই কিলিং মিশন। খুনিরা তো এত অর্থবিত্তের মালিক না। তাহলে কোথায় পেল এত অস্ত্র এবং কিলিং মিশন সম্পন্ন করার অর্থ। কাদের ইন্ধনে তারা দলবেঁধে সংগঠিত হলো-এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে। এসব প্রশ্ন সামনে রেখে তদন্তকাজ চালিয়ে যাচ্ছে মামলার তদন্ত সংস্থা জেলা গোয়েন্দা বিভাগ। আসামিদের রিমান্ড চলাবস্থায় নগরীর ১৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন বাবুলকে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। যদিও শুরু থেকে পুলিশ জানিয়ে আসছে, আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে সোহেলকে হত্যার পরিকল্পনা করে প্রধান আসামি শাহ আলম।

অনুসন্ধানে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের তিন দিন আগে মামলার প্রধান আসামি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত শাহ আলম সাব্বির, সাজেন এবং রিমান্ডে থাকা ১০ নম্বর আসামি সায়মন হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে। এরই মধ্যে পরিকল্পনার বিষয়গুলো জেল সোহেলকে জানানো হয়। কারণ জেল সোহেল দেড় বছর আগে শাহ আলমের সঙ্গে কারাগারে থাকা অবস্থায় কাউন্সিলর সোহেলকে হত্যার মিশন চালালে প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও অর্থ জোগানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন। পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার পর অস্ত্রের জন্য জেল সোহেলের কাছে ধরনা দেন শাহ আলম। এ সময় তার কাছে আগের একটি অস্ত্র থাকলেও কিলিং মিশন সফল করতে আরও তিনটি অস্ত্র লাগবে বলে জানান শাহ আলম। অস্ত্র সংগ্রহ করতে শাহ আলমকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা এনে দেয় জেল সোহেল। শাহ আলম তার বন্ধু ফেনীর নিশাতের মাধ্যমে খাগড়াছড়ি থেকে আরও তিনটি অস্ত্র সংগ্রহ করেন।

হত্যাকাণ্ডে একটি রিভলবার ও তিনটি পিস্তল ব্যবহার করা হয়। তিনটি অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। কিলিং মিশন সম্পন্ন করতে কে এই অর্থ এবং অস্ত্রের জোগানদাতা-এ নিয়ে চলছে গোয়েন্দা বিভাগের তদন্ত। মঙ্গলবার মামলার তদন্তভার পেয়ে ১৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসে ডিবি। বাবুলের ছোট ভাই জুয়েল জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ডিবি পুলিশের কয়েকজন এসে আমার ভাইকে নিয়ে যায়। তবে কী কারণে তাকে নিয়ে গেছে, তা আমাদের জানানো হয়নি। সন্ধ্যায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে সেখানে তাকে ঠিক কী জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, এ সম্পর্কে মুখ খুলছে না কাউন্সিলর বাবুল ও তার পরিবার।

মামলার বাদী ও নিহত কাউন্সিলর সোহেলের ছোট ভাই সৈয়দ মো. রুমন বলেন, যারা ধরা পড়েছে, তারা ভাড়াটে খুনি, ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে প্রভাবশালী চক্র। তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। ঘটনার মাস্টারমাইন্ড অস্ত্র ও অর্থের জোগানদাতাকে শনাক্ত এবং গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

কুমিল্লা ডিবির এক কর্মকর্তা জানান, প্রধান ঘাতক শাহ আলমকে অস্ত্রের জোগানদাতা হিসাবে একজনের নাম এবং মোবাইল নম্বর আমাদের হাতে এসেছে। যে কোনো সময় ওই অস্ত্রের জোগানদাতা গ্রেফতার হতে পারে বলে জানান ডিবির ওই কর্মকর্তা। এছাড়া আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে অন্য কোনো নাম এলেও গ্রেফতারের আওতায় আনা হবে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, কাউন্সিলর হত্যা মামলায় এজাহারের বাইরে আর কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গুরুত্বসহকারে মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। রিমান্ডে থাকা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। কোনো ব্যক্তি বা মহলের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেলে অবশ্যই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এজাহারনামীয় ৬ জন এবং তদন্তে প্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট আরও ২ জন আসামিকে গ্রেফতার হয়েছে। এছাড়া বন্দুকযুদ্ধে আরও ৩ আসামি নিহত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, তদন্তের স্বার্থে কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ মামলায় আসামিদের কাছ থেকে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করার জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

২২ নভেম্বর সন্ত্রাসীদের অতর্কিত গুলিতে নিহত হন কাউন্সিলর সৈয়দ সোহেল ও তার সহযোগী হরিপদ সাহা। এছাড়া আরও পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here